এছাড়া বুনো বা বাগদিদের বসতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। মির্জাপুর মাঠ ছাড়া নিকটবর্তী ভৈরব তীরে আর কোথাও এত বেশী বুনোদের একত্রে বসবাস দেখা যায় না।
অবশ্য একট লক্ষ্য করলে ভৈরব, মধুমতি ও কপোতাক্ষ তীরে ইংরে সরা যেখানে ব্যবসায় বা নীলকুঠি করেছিল তার পাশে দু’চার ঘর বুনোদের বাস দেখা যায় এবং এদের বুনো বলে অভিহিত করার কারণও স্পষ্ট নয়। কেউ কেউ বলেন, খুলনা পৌরসভা গঠিত হলে মির্জাপুর মাঠের জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য পৌরসভার চেয়ারম্যান ডাঃ কে, ডি, ঘোষ এদের বিহার থেকে এনেছিলেন। কিন্তু এখানে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার বহু আগে থেকেই বুনোদের বাস ছিল। মূলতঃ গঙ্গার শাখা পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী ত্রিকোনাকৃতি ভূ-খণ্ডকে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বলা হত। বৌদ্ধ আমলে এই ব-দ্বীপ অঞ্চল বাগদি নামে পরিচিত ছিল এবং সেন রাজত্বকালে এ প্রদেশের রাজনৈতিক নাম হয় বাগদি বা বাগড়ী। বাগদী বা বাগড়ীর প্রাচীন বাসিন্দাদের বাগদী নামে আখ্যাত করা হত। এতদাঞ্চলের সুন্দরবনের নিকটবর্তী সাতক্ষীরা ও পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ- হিঙ্গলগঞ্জ-সন্দেশখালী-বাসন্তি ও ক্যানিং এর গ্রামাঞ্চলে এদের অধিক বাস দেখা যায়। এই সব অঞ্চলে স্থানীয় ভাবে বাগদীরা বুনো বা আদিবাসী নামে পরিচিত। বাগদী বা বাগড়ীরা স্বতন্ত্রভাবে বনের কাছাকাছি বসবাস ও বন্য পশু শিকার করে খেতো বলে অন্যেরা এদের বুনো নামে অভিহিত করে।
বুনোরা সরল বিশ্বাসী ও পরিশ্রমী বলে ইংরেজ ব্যবসায়ীরা তাদের কুঠির বিভিন্ন কাজে এদের নিয়োগ করতো। রায়মঙ্গল লবণ এজেন্সীর সদর দফতর (১৭৮১ খ্রীঃ) খুলনায় কয়লাঘাটায়) স্থানান্তর কালে এজেন্সীর বিভিন্ন কাজের জন্য এদের নিয়ে আসা হয় ও মির্জাপুর মাঠের বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গায় এদের বসতি হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য ব্যবসা ও নীলকুঠিতে ইংরেজরা এদের নিয়োগ করত। ইংরেজ কুঠি উঠে গেলেও কুঠির পাশে তাদের আনিত আদিবাসী বুনোদের বাস উঠে যায়নি। তারা স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে মিলে মিশে রয়ে গেছে। এ কারণে পরিত্যক্ত ইংরেজ কুঠিরের পাশে এদের বিক্ষিপ্ত বাস দেখা যায়। বুনোরা বন্য পশু ও কচ্ছপ শিকার এবং মাটি কাটার কাজে খুব দক্ষ ছিল।
