নাজীরঘাট

নাজিরঘাট এ এলাকার বহুল প্রচলিত নাম। অনেকে নাজিরঘাটকে ঘাট- কূলও বলেন। নাজিরবাট এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সুন্দরবনের কাঠ, গোলপাতা, মধু বিক্রয়ের একটা কেন্দ্র ছিল এবং কাঠ, গোলপাতা ও মধু বোঝাই নৌকাগুলি অবস্থান করত। পূর্ব ও পশ্চিম বেনেখামারের পারাপারের খেয়াঘাট এখানেই অবস্থিত ছিল। সুন্দরবনের সাথে সম্পর্কিত ব্যবসায়ী নৌকার অনেক মাঝি শের-এ-বাংলা ও রায়পাড়া সড়কের উত্তর-পুবে বসবাস করতো। এই এলাকা মাঝিদের বসবাস হেতু মাঝিপাড়া বলে পরিচিত হয় (বর্তমান ইকবাল নগর)।

নাজিরঘাট সম্পর্কে জানা যায় যে, সময়ে বেনে খামার সহ তৎপার্শ্ববর্তী এলাকা পুনঃ জনবসতি গড়ে ওঠে তখন জনৈক নাজির এখানে সুন্দরবনের কাঠ, গোলপাতা ও মধুর ব্যবসা করতেন এবং তার কাঠ, গোলপাতা বোঝাই নৌকা- গুলো খালের এখানে বিক্রয়ার্থে অপেক্ষা করত। এ জন্যে বিক্রয় কেন্দ্রের ঘাট নাজিরঘাট বলে পরিচিত হয়। ভিন্ন মতে উক্ত নাজির ঘাটের কাছে বাস করতেন ও খেয়াঘাটের ইজারাদার ছিলেন। তিনি এখানে কাঠ, গোলপাতা, মধু বিক্রয়ের পত্তন করেন। লোকে তার নামে ঘাটকে নাজিরঘাট বলে অভিহিত করতো। পশ্চিম বেনেখামারের কবি ইউছুফ সাহেবের বাড়ীর ওখানেই নাজিরের বাড়ী ছিল বলে অনেকে মত প্রকাশ করেন। বেনেখামার গ্রামের অনেক পরি – বার সুন্দরবনের ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত ছিলেন।

নাজিরঘাট থেকে বেনেখামার গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বা গল্লামারী গাঙ পর্যন্ত কয়েকটা অবলুপ্ত জনবসতির সন্ধান পাওয়া যায়। গল্লামারী এক সময়ে গ্রাম ছিল এবং এই গাঙ গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গ্রামের নামে গাঙের নাম হয় গল্লামারী গাঙ। মূলতঃ এ গাঙ ময়ূর নদীর প্রবাহ। বসতির পাশের অংশ বসতির নামে পরিচিত হয়। গল্লামারী পোল হওয়ার বহু পূর্ব থেকেই এখানে একটা খেয়া ছিল। এ পথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমে গ্রামগুলোর সাথে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ও যাতায়াত হোত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *