শিতলাবাড়ী

বেনেখামারের একমাত্র মন্দির পূর্ব-বেনেখামারের শীতলা বাড়ী আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্মিত নয় বলে জানা যায়। ১৮৯৫/৯৬ সালের দিকে পূর্ব বেনেখামারের জনৈক তিন কড়ি শেখের ভিটা জমিতে (শীতলা বাড়ীর জায়গা) একটা প্রাচীন বট গাছের গোড়ায় ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ইট ও গাছ-গাছড়া পরিষ্কার করার সময় একখানা ছোট প্রতিমা দেখতে পান (মতান্তরে স্বপ্নপ্রাপ্ত)। বটগাছের কাছে এক ঝাড় কাঁটা সেজার গাছ ছিল (মতান্তরে সেজি গাছের গোড়ায় শীতলা প্রতিমা পাওয়া যায়)। তিনকড়ি শেখ প্রতিমা প্রাপ্তির কথা নিকটের ব্রাহ্মণ গতিদার বাবু হীরালাল রায় (মুখার্জী) কে জানান এবং তারই তত্ত্বাবধানে উক্ত বটমূলে প্রতিমা পূজার ব্যবস্থা হয়। তিনি তিনকড়ি শেখের কাছ থেকে জমিটা শীলতা বাড়ীর জন্যে নিয়ে নেন। তিন কড়ি শেখ সরল ও বোকা প্রকৃতির জন্যে গ্রামের লোক তাকে তেড়ে বলদে বলে ডাকতো। তিনকড়ি শেখ ও শীতলা বাড়ীকে কেন্দ্র করে অনেক গল্পকথা লোকমুখে শোনা যায়।

এ ভাবে কিছুদিন পূজা হওয়ার পর বটগাছের পাশে ছোট খড়ের ঘর তুলে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯২১/২২ সালের দিকে শীতলা বাড়ীর পাশের জমি খরিদ করে পুকুর কাটা ও পাকা মন্দির নির্মাণ করা হয়। হীরালাল বাবুর মৃত্যুর পর (বাংলা ১৩০৫) মাড়োয়াড়ীগণ উৎসাহী হয়ে শীতলা বাড়ীর অনেক উন্নতি করেন। শোনা যায়, প্রাপ্ত প্রতিমাটি এখন নেই। বর্তমান শীতলাবাড়ীতে অবস্থানরত হীরালাল বাবুর কন্যা বীনা রায় অনুরূপ মত প্রকাশ করেন।

প্রাচীন বটমুলে মুর্তির অবস্থিতি ও প্রাপ্তি সম্পর্কে অনুমিত হয় পূর্বে বেনেখামারের বেনেরা এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বেনেরা হয়তো কোন কারণে বিপর্যস্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন। ফলে প্রতিমা অজ্ঞাত হয়ে যায়। অবস্থার পরিবর্তন হলে উঠে যাওয়া পরিবারগুলোর অধস্তনেরা ফিরে এসে শীতল। বাড়ীর উত্তর-পুবদিকে পুনঃবসতি করেন এবং তাদের নতুন বসতি বেনেপাড়া নামে পরিচিত হয়। সমসময়ের আগেই বেনেখামার মুসলিম বসতি বিস্তার লাভ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *