সন্ধ্যা কেটে রাত হল। রাতের খাওয়া সেরে কুয়োতলা থেকে প্রদীপ হাতে তুলসীতলায় এসে বচনপিসি হঠাৎ চিৎকার করে উঠল। ঘরের ভিতর বেহুলা প্রদীপের আলোয় খনার পুঁথি পড়ছিল। পিসির চিৎকার শুনে বেহুলা ছুটে দাওয়ায় বেরিয়ে এসে সেও আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল। বচনপিসি উঠোনে চিৎপাত হয়ে শুয়ে। পাশে প্রদীপ তার হাত থেকে পড়ে আগুন নিভে গেছে। প্রদীপ ভেঙে তেল ছড়িয়ে ছত্রাকার। বচনপিসি চোখ উলটে হাত-মুখ খিঁচিয়ে গোঁ গোঁ করে চলেছে।
বেহুলার চিৎকার শুনে পাখমারা গণক বেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।
বেহুলা বলল—‘মৃগী!’
‘জানি না। আগে তো কখনো এরকম দেখিনি।’
‘বদ্যিকে ডাকা উচিত,’ বেহুলা তাড়াতাড়ি পিসির পাশে বসলো।
‘কিন্তু এই রাতের বেলা বদ্যিকে কীভাবে খবর দেব?’
পিসি গোঁ গোঁ করতে করতে হঠাৎ স্থির হয়ে গেল। বেহুলা পিসির হাত ধরে দেখল, হাত কনকনে ঠাণ্ডা। বেহুলা ভয়ত্রস্ত হয়ে গণককাকাকে বলল, ‘আমি একবার ডেভিড সাহেবকে খবরটা দিই? সাহেব বলেছে সাহেবের কাছে অনেক রকম ওষুধ থাকে। সাহেব যদি একবার ওষুধের বাক্সটা নিয়ে এসে পিসিকে দেখে যায়।’
‘তুমি একলা মেয়েমানুষ এই রাতে ফিরিঙ্গি কুঠিতে যাবে?’ গণকঠাকুর এবার দ্বিধাগ্রস্ত।
‘আমি সাহেবকে বিশ্বাস করি। আমি এক্ষুনি সাহেবকে নিয়ে আসছি। তুমি পিসির পাশে থাক।’ বেহুলা শাড়ি গাছকোমরে বেঁধে বেরিয়ে এল। বাইরে কাপাসডাঙার মাঠে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আঁধারে এদিক ওদিক জোনাকির আলো জ্বলছে নিভছে। দূরে দেখা যাচ্ছে নদীর পাড়ে ফিরিঙ্গি কুঠিতে আলো জ্বলছে। বেহুলা ভাঙা ত্রিশূলটা হাতে নিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুট লাগাল। সাহেবের ওপর বেহুলার বড় ভরসা। সাহেব নিশ্চয়ই একটা উপায় বের করবে। সাহেবের কাছে নিশ্চয়ই কোনো ওষুধ আছে। হাঁফাতে হাঁফাতে ফিরিঙ্গি কুঠির দরজার কাছে এসে বেহুলা থামল। বুক হাপরের মতো ওঠা নামা করছে। হাতে সময় নেই। বেহুলা দরজা ধাক্কাতে গিয়েও থেমে গেল। ভিতরে কারা যেন জোরে জোরে কথা বলছে।
বেহুলা দরজা থেকে সরে, কানাচে জানলার কাছে এল। জানলা খোলা, ঘরের ভিতরে আলো জ্বলছে। ভিতরে ডেভিড সাহেবের সঙ্গে আরো দু’জন মানুষ। তাদের পিছন দিক দেখা যাচ্ছে, কিন্তু বেশ চেনা যাচ্ছে তাদের। পাগড়ি পরা দেওয়ান দুর্লভচাঁদ আর সত্যাচার্য।
এরা এত রাতে এখানে কী করছে? বেহুলা অবাক। খোলা জানলা দিয়ে ভেসে আসছে মদের উগ্র গন্ধ। বেহুলা শাড়ির আঁচল নাকে চেপে ধরল। দেওয়ান খুব ধমকাচ্ছে ডেভিড সাহেবকে। ডেভিড সাহেবের দু’চোখ রক্তবর্ণ, মাথার চুল উস্কোখুস্কো। হাতে মদের পাত্র!
‘ছিঃ সাহেব! তুমি এভাবে জমিদারবাবুর সঙ্গে প্রতারণা করলে?’ দেওয়ানের কণ্ঠস্বরে তিরস্কার। ‘তোমার সেই আগের বেশ্যাকে খুনের মাশুল দিয়েছে জমিদারবাবু। বিশ হাজার সিক্কা টাকা, মুখের কথা? কোথা থেকে সেই টাকা আসে, সাহেব? সেসব গ্রামবাসীদের টাকা। গরীবের রক্ত জল করে উপার্জনের খাজনার টাকা। তুমি ভেবেছটা কী? তোমরা গোরা বলে তোমরা যা খুশি তাই করে বেড়াবে?’
বেহুলা অবাক—দেওয়ানজী এ কী কথা বলছে! ডেভিড সাহেব খুনী! সেই খুনের জন্য জমিদার মাশুল গুণছে? বিশ হাজার সিক্কা টাকা দিয়েছে?’
ডেভিড সাহেব নিরুত্তর।
দেওয়ান ডেভিড সাহেবকে বলল, ‘তোমাকে ডিঙাডুবিতে পাঠানো হয়েছে দুটো উদ্দেশ্যে। বেহুলার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে ওর থেকে জেনে নাও চন্দ্ৰ ডাকাতের আস্তানা কোথায়। তারপর বেহুলাকে ভুলিয়ে কলকাতা নিয়ে গিয়ে জমিদারের বাগানবাড়িতে নিয়ে এস। ব্যাস, তোমার কাজ শেষ। বিশ হাজার সিক্কা টাকা শোধ। তারপর কোম্পানির জাহাজে চড়ে বিলেত পালাও। আর তুমি কী করছ? এতগুলো দিন হয়ে গেল, তুমি চন্দ্র ডাকাতের আস্তানার হদিশ জেনেছ?’
‘না,’ ডেভিড সাহেব বলল।
‘তাহলে?’ দেওয়ান বলল। আমি তোমার রবিন সাহেবকে কাল খবর পাঠাচ্ছি।’
‘এই গোরাদের জাতই এমন, আমি তোকে প্রথমেই সাবধান করে দিয়েছিলাম,’ বচনপিসি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল। ‘এরা হল তালপাতার ছায়া, মিছা কর তার মায়া।’
‘সাহেবকে আর কক্ষনো আমাদের বাড়িতে ঢুকতে দেবে না, পিসি, বেহুলা বলল। ‘আমার দিব্যি দিলাম।’
বচনপিসি বিড়বিড় করে বলল, ‘আমি মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না। হে ভগবান!’
জমিদারবাড়িতে দেউড়ি পেরিয়ে বেহুলা বচনপিসির সঙ্গে কাছারি-ঘরে উঠে এল। কাছারির ভিতরে মেঝেতে গদি পাতা, সেখানে বসে আছে দেওয়ান দুর্লভচাঁদ। পাশে সত্যাচার্য। এত ভোরে দু’জনে কী করছে! বেহুলা বুঝল নিশ্চয়ই দুটোতে মিলে বড় ধরনের শয়তানির মতলব এঁটেছে। তাও মুখে নম্রতা এনে বেহুলা বলল ‘আমাকে ডেকেছিলেন দেওয়ানজী?’
‘তুমি এ গ্রামে মিথ্যা পরিচয়ে কেন আছো?’ দেওয়ান খুব গম্ভীর মুখে বলল। বেহুলা নিরুত্তর।
‘মৃত স্বামীর সহমরণ থেকে তুমি পালিয়েছ? ছিঃ!’ সত্যঠাকুর বলল।
‘ধুলসা গ্রামের জমিদার আমাদের জমিদারবাবুর খুব ভালো বন্ধু। উনি জমিদারবাবুকে অনুরোধ করেছেন তোমায় ফিরিয়ে দিতে,’ দুর্লভচাঁদ বলল। ‘তোমাকে তোমার গ্রামে ফিরে যেতে হবে।’
‘অসম্ভব!’ বেহুলা বলল। ‘আমার মরার এতটুকু ইচ্ছা নেই। যদি আপনাদের গ্রামে আমায় থাকতে না দেন, তবে আমি আপনার গ্রাম ছেড়ে চলে যাব, কিন্তু ওই সহমরণের গ্রামে আমি ফিরে যাব না।’
‘তোর বাপ যাবে!’ পিছন থেকে কে খ্যানখ্যানে গলায় বলল। বেহুলা পিছন ফিরে তাকাল দরজায় দাঁড়িয়ে ধুলসা গ্রামের ভট্চায জ্যোতিষী, পাশে ন্যায়রত্ন। ন্যায়রত্ন দেওয়ান দুর্লভচাঁদকে বলল, ‘এই মেয়ে স্বামীর চিতাকে অবমাননা করে পালিয়েছিল। দেওয়ানজী, এ মেয়েকে আমরা ফেরত নিয়ে যাবই আমাদের গ্রামে।’
‘ইঃ!’ বচনপিসি এবার এগিয়ে এল। ‘তুমি কোন অক্রূর খুড়ো এলে হে? সাহস তো কম না, এ গ্রাম থেকে মেয়ে নিয়ে যাবে?’
‘ধুলসা গ্রামের জমিদার আমাদের পাঠিয়েছেন। আমি ন্যায়রত্ন
‘জমিদার পাঠিয়েছেন!’ বচনপিসি মুখ বেঁকিয়ে ভেঙিয়ে বলল। ‘ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি এলেন যেন কৃষ্ণের দূত!’
এবার ভট্চায জ্যোতিষী এগিয়ে এসে বলল, ‘এই বুড়ি, আমাদের কাজে বাধা দিসনে।’
‘তুমি কে হে আইবুড়ো বটঠাকুর!’ বচনপিসি একাই একশো। ‘ঝাঁঝ দেখিও না।’ তারপর ওপরে তাকিয়ে আক্ষেপ করে বলল, ‘এ কি বিধির লীলাখেলা, কাকের গলায় তুলসীমালা। আমাদের মেয়েকে জোর করে নিয়ে যাবে। আহ্লাদের ঢেঁকি!’
ন্যায়রত্ন অযথা সময় নষ্ট করল না। বচনপিসির কথার পরোয়া না করে গলা উঁচু করে বলল—‘বংশী—’
কপালে রক্ততিলক, মাথায় বাবরি চুল, তৈলাক্ত দেহ, রক্তিম আঁখি, তেলাবাঁশ হাতে কাছারি ঘরে ঢুকলো বিশাল কলেবরের যমদূত বংশী লেঠেল। বেহুলা বংশীকে দেখে আঁতকে উঠল। বংশী কারোর তোয়াক্কা না করে বেহুলার মাথার চুল ধরে হিড় হিড় করে টানতে টানতে বলল—‘তোকে আমি মাসের পর মাস ধরে খুঁজছি। তোর সাহস তো কম না। দেখি এবার তোকে কে বাঁচায়।’
বংশীর করাল রূপ দেখে বেহুলা ভয়ে আর্তনাদ করে উঠল। বংশীর হাতের তালু এবার বেহুলার গলায় শক্ত সাঁড়াশি হয়ে চেপে বসল। বেহুলাকে হিঁচড়ে টানতে টানতে বংশী কাছারির সিঁড়ি দিয়ে নীচের উঠোনে নেমে সদর দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
‘তবে রে হারামজাদা!’ খ্যানখ্যানে গলায় বংশীর পিছন পিছন সিঁড়ি দিয়ে ছুটে নেমে ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল বচনপিসি। বচনপিসির দু’চোখ আগুনের ফুলকি ছড়াচ্ছে। হেঁসোটা বের করে বচনপিসি বংশীর আবলুশ রঙা উন্মুক্ত পিঠে গেঁথে দিল হেঁসো। কিন্তু বংশীর যেন লোহার শরীর। ওর চোখ মুখ যন্ত্রদানবের মতো ব্যথাহীন। ডান হাতে বেহুলার গলা চেপে ধরা অবস্থায় বাঁ হাতের তেলাবাঁশের লাঠি মাটিতে ফেলে বাঁ হাত পিঠের দিকে নিয়ে পিঠে গাঁথা হেঁসোটা খুলতে খুলতে এক লাথিতে বংশী বচনপিসিকে ছিটকে ফেলল মাটিতে। পা দিয়ে বচনপিসির গলা চেপে ধরে বংশী হাত পিছনে নিয়ে হেঁসো বের করার চেষ্টা করতে লাগল। বচনপিসি যন্ত্রণায় কাতরাতে লাগল। কিন্তু হঠাৎ দেউড়িতে এসে হাজির হল ডেভিড সাহেব।
‘বেহুলার শরীর থেকে হাত সরাও!’ ডেভিড সাহেবের হাতে উঠে এসেছে তার পিস্তল।
বংশী ডেভিড সাহেবের কথায় কর্ণপাত করল না। এক ঝটকায় হেঁসোটা পিঠ থেকে টেনে খুলে আনল। হেঁসোর দিকে তাকাল বংশী। রক্ত ঝরছে। রক্ত দেখে বংশীর মাথায় যেন খুন চেপে গেল। বংশী হেঁসো উঁচু করে ডেভিড সাহেবের দিকে নিক্ষেপ করার জন্য হাত ওঠাল। কিন্তু তৎক্ষণাৎ বংশী আর্তনাদ করে উঠল। ডেভিড সাহেবের পিস্তল গর্জে উঠেছে। পিস্তলের গুলি বংশীর কপাল ফুঁড়ে ওর মাথায় ঢুকে গেছে। বংশী কাটা গাছের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। রবিন সাহেব বলেছিল খুনে ডেভিড অন্ধকারেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।
ডেভিড সাহেব বেহুলাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে দালানের দিকে তাকিয়ে উচ্চকণ্ঠে বলল, ‘আর কারোর যমের বাড়ি যাইবার সাধ জাগিয়াছে মনে?’
ধুলসার ব্রাহ্মণদ্বয় আর কোনো কথা না বলে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে বংশীর মৃতদেহটার দিকে তাকাতে তাকাতে চুপচাপ বেরিয়ে গেল। বচনপিসি ঘাড়ে হাত বোলাতে বোলাতে উঠে দাঁড়ালো। ডেভিড সাহেব বলল, ‘দেওয়ানজী আর সত্যঠাকুর, আর কক্ষনো বেহুলার ওপর যেন কোনোরকম হামলা না হয়।’ ডেভিড সাহেবের বরফ শীতল কণ্ঠস্বরে প্রচ্ছন্ন আদেশ। তারপর বেহুলার দিকে তাকিয়ে ডেভিড বলল, ‘চল বেহুলা, তোমায় ভিটেতে পৌঁছে দিয়ে আমি ফাঁড়িদারের কাছে যাব।’ তারপর দেওয়ানের দিকে তাকিয়ে ডেভিড বলল, ‘আপনারা সকলে সাক্ষী যে এই লেঠেল আমাকে মারতে এসেছিল। আত্মরক্ষার্থে আমি গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছি। আত্মরক্ষার্থে আক্রমণকারীকে আক্রমণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ নয়।’ ডেভিড সাহেব বাইরে বেরোবার জন্য পা বাড়ালো।
‘সাহেব, দাঁড়াও!’ দেওয়ান দুর্লভচাঁদ এবার কড়া গলায় বলল।
ডেভিড সাহেব থমকে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরল। তার চোখের দৃষ্টিতে বিস্ময়। ‘ছিঃ সাহেব! তুমি আবার মানুষ খুন করলে?’ দেওয়ানের কণ্ঠস্বরে তিরস্কার। ‘তুমি কি খুন না করে থাকতে পার না? সাধে তোমায় খুনে ডেভিড বলে?’
ডেভিড সাহেব বেহুলাকে বলল, ‘বেহুলা, তুমি এর কথা শুনো না। এরা ভয়ঙ্কর মানুষ।’
বেহুলা কান্না চেপে বলল, ‘সাহেব, আমি সব জানি। তুমি ডিঙাডুবিতে কেন এসেছ তাও আমি কাল রাতে তোমাদের গোপন আলোচনার সময় জেনেছি। আমি বোকা তাই তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম। তুমি এদের থেকে কিছুমাত্র মহান নও। তোমরা সব শঠ।’
ডেভিড সাহেব একটাও কথা না বলে পিস্তল কোমরে গুঁজে হনহন করে বেরিয়ে গেল।
বচনপিসি বেহুলাকে টেনে নিয়ে পথে নামল।
বেহুলা বেরিয়ে যেতেই দেওয়ান সত্যাচার্যকে বলল, ‘সত্যঠাকুর, এই ডেভিড ফিরিঙ্গিটাকে দিয়ে আমাদের কোনো উপকার হবে না। একে পাঠানো হয়েছে বেহুলাকে ফাঁসিয়ে ডাকাতদের ধরিয়ে দেবার জন্য, কিন্তু তার বদলে ও বেহুলাকে বাঁচিয়ে চলেছে। আপনি ডাকাতদের কাছে সাহেবের পরিচয় ফাঁস করে দিন। ডাকাতরাই একে মারবে।’
সত্যাচার্য বলল, ‘আমি সে সুযোগের অপেক্ষা করব
বেহুলা বাইরে বেরিয়ে দেখল সাহেব লম্বা লম্বা পা ফেলে চলেছে ফিরিঙ্গি কুঠির দিকে। বচনপিসি বেহুলাকে বলল, ‘আমি দেওয়ানের কথা বিশ্বাস করি না। ও একটা বিষাক্ত সাপ। ও চেষ্টা করেছিল তোকে ধরিয়ে দিয়ে তোর সর্বনাশ করতে। সাহেব এসে গেছে তাই পারেনি। তাই তোর মনে সাহেবের সম্বন্ধে সন্দেহ জাগিয়ে তুলছে। বেহুলা তুই সাহেবের কুঠিতে যা। গিয়ে সাহেবের মুখোমুখি দাঁড়া। জিজ্ঞাসা কর সত্যিটা কী। আমি বলছি সাহেব যদি এই গ্রাম ছেড়ে চলে যায় তবে তোর ডিঙাডুবিতে থাকাটা বিপজ্জনক হবে।’
বেহুলা বাক্যহীন। ওর সারা শরীর ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। আজ সাহেব না থাকলে বংশী লেঠেল ওর চুল ধরে টানতে টানতে নৌকায় তুলত। তারপর কী হতো ইশ্বরই জানেন। আমি পারব না, পিসি, বেহুলা বচনপিসির দু’হাত ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগল।
বচনপিসি বেহুলাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘দেখ বেহুলা, কথায় বলে লবণহীন রন্ধন আর প্রেমহীন বন্ধন। বেহুলা, আমি বলছি এ রন্ধন লবণহীন না। তুই সাহেবের কাছে যা। সাহেবকে প্রশ্ন কর। আমিই যেতাম, কিন্তু সাহেবের সঙ্গে বোঝাপড়া তোকে একাই করতে হবে।
বেহুলা চোখের জল মুছে মাথা নাড়ালো। তারপর টলতে টলতে সাহেবের কুঠির দিকে ছুটল।
