।। সাঁইত্রিশ।।
পরদিন কাছারিতে এসে বেহুলা শুনল যে সত্যাচার্য দেওয়ানের কাছে খবর পাঠিয়েছে যে তার জ্যোতিষ গণনা কলকাতায় ইংরেজ মহলে খুব জনপ্রিয় হয়ে গেছে। তাই ওর ফিরতে দেরি হবে। বেহুলা খুশি হল। এরপর থেকে বেহুলা রোজ দুপুরে খনার জ্যোতিষ-বাক্যের পুঁথি দেখতে জমিদারের কাছারিতে আসতে লাগল। একটা সপ্তাহ কেটে গেল। দুপুরের খাওয়া সেরে রোজ জমিদারবাড়ির কোষাখানা থেকে খনার পুঁথি বের করে সাহেব কাছারিতে খাতা দেখে। বেহুলা এলে তখন পুঁথি খোলে। বচনপিসি দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে পান খেয়ে বেহুলাকে পাহারা দেবার জন্য বেহুলার সঙ্গে জমিদারবাড়ি আসে। গ্রামের লোকে যাতে কুকথা না ছড়ায় সেজন্যই তাকে তার প্রিয় দিবানিদ্রাটি ত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন সাহেবের লেখাপড়ার মনোযোগ দেখে বচনপিসি ঘরের কোণে মেঝেতে একটা চটের আসন বিছিয়ে বসে, আর কিছুক্ষণের মধ্যে তার ঢুলুনি শুরু হয়। তারপর একদিন বচনপিসি নিজেই বুঝল যে তার আর আসার দরকার নেই, বচনপিসি আসা বন্ধ করে দিল। বেহুলা একলাই আসত।
বেহুলা লক্ষ করে যে তাকে দেখলেই সাহেবের মুখ খুশিতে ভরে যায়, কিন্তু সাহেব তার গাম্ভীর্যের আবরণে তার মনের ভাব ঢেকে রাখে। কিন্তু মেয়েদের চোখ এড়ানো সহজ নয়। বেহুলা পুঁথি খুলে খনার বচনের পাঠ উদ্ধার করতে করতে সাহেবকে জ্যোতিষশাস্ত্রের নানা জ্ঞান শেখায়। সাহেব সেসব মন দিয়ে শোনে, কাগজে লিখে নেয়। লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে মাস্টারনি আর তার সুবোধ ছাত্র নানা গল্পও করে। জ্যোতিষে উন্নতি না হলেও সাহেব বেহুলার গল্প শুনতে শুনতে খুব দ্রুত বাংলা ভাষা রপ্ত করতে লাগল।
গাঁয়ের মেয়ের জ্যোতিষে এত জ্ঞান দেখে সাহেব স্তম্ভিত। সাহেব একদিন বলল, ‘বেহুলা টুমি কীভাবে জ্যোতিষ শিখিলে? তোমার বাবার নিকট হইতে?’
‘না সাহেব, আমার শ্বশুর খুব ভালো জ্যোতিষ জানতেন। আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স মাত্র চোদ্দ বছর। শ্বশুর আমাকে হাতে ধরে জ্যোতিষ বিদ্যা শিখিয়েছিলেন।’
‘তোমার স্বামীও কি বড় জ্যোতিষী ছিলেন?’
‘আমার স্বামী!’ বেহুলা হাসল।
‘হাসিতেছ কেন?’ সাহেবের সরল দৃষ্টি। ‘আমি কি কোনো অন্যায় কথা বলিলাম?’
‘আমার স্বামী জ্যোতিষশাস্ত্রকে দু’চক্ষে দেখতে পারতেন না। ওর স্বপ্ন ছিল খুব ভালো তাঁতি হওয়ার। আমার স্বামীর বিয়ে হয়েছিল কেন জানো সাহেব?’
‘কেন?’
‘আমার স্বামীর জন্মলগ্নে সন্ন্যাসযোগ ছিল। মাঝে মাঝেই ঘর ছেড়ে পালাতো। ওর ঘরে মন বসাবার জন্য ওরা ধরে বেঁধে স্বামীর বিয়ে দিয়েছিল।’
‘পালাতো কেন?’
বিয়ের ফুলশয্যার রাতে আমি ভয়ে ভয়ে সোয়ামিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম—’আপনি আবার পালাবেন না তো?’
‘কী বলেছিল স্বামী?’
‘বলেছিল না পালাবো না। এমনি কী আর পালাই। আমি বলেছিলাম কেন পালান? স্বামী বলেছিল কানের কাছে কেউ জ্যোতিষের মন্ত্র বললে আমার পাগল পাগল লাগে। আমি সেজন্যই তো বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম পাগল পাগল লাগে কেন? স্বামী বলেছিল—আমি জ্যোতিষ-ফোতিষ একদম মানি না। আমার মনে হয় সব বুজরুকি। আরে ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া অত সোজা হলে লোকে কখনো এত যুদ্ধ-টুদ্ধ করত? কিন্তু আমার বাপ আমায় জ্যোতিষশাস্ত্রে পণ্ডিত করে তুলবেই এই পণ করে বসেছিল। তাই তো বারবার পালাতাম।’
‘না পড়লেই হতো, বাড়ি ছেড়ে পালাইবার কী দরকার ছিল?’ সাহেব বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা করল।
‘আমার স্বামী বলেছিল বাবা ভীষণ রাগী। জ্যোতিষের ছক এঁকে পড়া ধরত আর পড়া না পারলে রোজ বেদম পিটত। সাত পুরুষ জ্যোতিষী। সেই বংশের ছেলে জ্যোতিষের কিচ্ছুটি জানে না, আর দিনরাত তাঁত বোনে এটা ওর বাবার মাথায় আগুন জ্বালিয়ে দিত। একদিন আমার শ্বশুরের মেজাজটা ঠিক ছিল না, আমার স্বামীকে পড়তে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করল বলতো রাহু মকর রাশিতে থাকলে কী হয়? আমার স্বামী বলেছিল পূর্ণগ্রাস মকরগ্রহণ। শ্বশুরের হাতের কাছে খড়ম ছিল, সেটা ছুড়ে মেরেছিল আমার স্বামীর দিকে।’ বেহুলা সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সাহেব কিছু বুঝলে?’
বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে ডেভিড বলল, ‘না। কিন্তু, উড়ন্ত খড়মটার কী হল?’
‘কী আবার হবে। আমার সোয়ামির নাকে এসে শান্ত হল। নাক দিয়ে দরদর করে রক্ত বেরোতে লাগল, শ্বশুর রেগে বলল বেরো আমার সামনে থেকে। আমার সোয়ামি নাক চেপে ধরে বাড়ি থেকে ছুটে বেড়িয়ে গেল। কুম্ভস্নান করে ফেরার সময় একদল তাঁতি নদীর পাড়ে নৌকা বেঁধে রাঁধাবাড়া করছিল। আমার স্বামী ওদের সঙ্গে চলে গেল সোজা ওদের গ্রামে। একদিন পর রাগ শান্ত হলে আমার শাশুড়ির কান্নাকাটিতে শ্বশুর লোক পাঠালো পলাতক ছেলেকে খুঁজতে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তারপর ওকে ধরে বাড়ি নিয়ে এল। কিন্তু সেই যে একবার পালাবার রোগ দেখা দিল, তারপর থেকে বাড়ির চৌহদ্দি আর ওকে ধরে রাখতে পারত না। লোকটা মাঝে মাঝেই পালাতো।’
‘ইন্টারেস্টিং!’ ডেভিড বলল। ‘কাল আমাদের ইংলিশদের একটা বোট আমাদের কুঠির ঘাটে অল্প সময়ের জন্য থেমেছিল। ফোর্ট উইলিয়ামের আমার কয়েকজন বন্ধু ছিল। ওদের তোমার জ্যোতিষের কথা বলিলাম। ওরাও তোমার স্বামীর মত জ্যোতিষ একদম বিশ্বাস করেনা। ওরা বলে এইসব গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করিল, আর বলিল জ্যোতিষ নয়, তোর আসলে মেয়েটিকে মনে ধরিয়াছে।’
বেহুলা লজ্জায় অধোবদন। দু’গাল শাপলার মতো রাঙা হয়ে উঠল। সাহেব এত সরল যে রেখে ঢেকে কিছু বলতে পারে না। সাহেব বুঝল বেহুলা তার কথা শুনে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। সাহেব বলল, ‘টুমি কি কিছু মনে করিলে?’
বেহুলা এই লোকের প্রশ্নের কী উত্তর দেবে। সে প্রসঙ্গ পালটে বলল, ‘সাহেব, আমি বিজ্ঞান-টিজ্ঞান পড়িনি। এই শাস্ত্রকে মানো তো শালগ্রাম, না মানো তো পাথর। তবে লোকে মানুক না মানুক আকাশের গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব আমাদের বাঙালিদের প্রত্যেকের জীবনে প্রত্যেক দিন আছে।’
‘রিয়্যালি! কিন্তু কীভাবে?’
‘দেখ আমাদের যতগুলো মাস সব নক্ষত্রের নামে। বিশাখা নক্ষত্রের নামে বৈশাখ মাস, জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রের নামে জ্যৈষ্ঠ, পূর্ব্বাষাঢ়া আর উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রের থেকে আষাঢ়, শ্রবণা থেকে শ্রাবণ, পূর্ব ও উত্তর ভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র, অশ্বিনী নক্ষত্রের নামে আশ্বিন, কৃত্তিকা থেকে কার্ত্তিক, মৃগশিরা থেকে অগ্রহায়ণ। এই অগ্রহায়ণের আগেকার নাম ছিল মার্গশীর্ষ। পুষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, পূর্ব্বফল্গুনী আর উত্তরফল্গুনী নক্ষত্র থেকে ফাল্গুন, আর চিত্রা থেকে চৈত্র। এরা আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। আস্তিক নাস্তিক সকলকেই এটা মানতে হয়। আমরা কীভাবে এই নক্ষত্রদের ভুলে থাকি বল?’
সাহেব বলল, ‘ইন্টারেস্টিং!’
‘সাহেব, তোমাদের মাসের নাম কীভাবে এসেছে?’
ডেভিড এবার ভেবে বলল, ‘অনেস্টলি, আমি সব ক’টা জানি না। তবে হ্যাঁ, জুলাই মাসের নাম জুলিয়াস সিজার থেকে এসেছিল।’
‘সেটা কি ইংরাজি কোনো নক্ষত্র?’
‘স্টার, তবে হিউম্যান স্টার,’ তারপর বেহুলার অবাক চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘একজন রোমান রাজা। মস্ত বড় রাজা ছিল। তার নামেই মাসের নাম।’
‘সাহেব, রাজার নামে মাসের নাম দেওয়াটা কি বিজ্ঞানভিত্তিক?’
বেহুলার প্রশ্নে ডেভিড খুবই বিস্মিত। একজন গ্রামের মেয়ের থেকে এই প্রশ্ন উঠে আসতে পারে সে ভাবতেই পারে নি। বেহুলা বলল, ‘আমাদের মাসগুলো যেমন নক্ষত্রের নামে আমাদের সপ্তাহের বারগুলো তেমনি গ্রহের নামে। রবি, সোম, সোম হল চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি– এসব। সবক’টা নামই গ্রহের নামে। তোমাদের দেশে বারের নামগুলো কীভাবে এনেছে সাহেব?’
‘সানডে—সান হল সূর্য।’
‘সূর্য হল রবি। তোমরা বল সান্ডে আমরা বলি রবিবার।’
‘আচ্ছা, ইন্টারেস্টিং! মানডে এসেছে মুনস ডে থেকে। মুন মানে হল চন্দ্ৰ ‘সংস্কৃতে চন্দ্রকে বলে সোম। তাই তোমাদের মানডে আমাদের সোমবার। একই তো।’
‘সত্যিই তো,’ সাহেব চমৎকৃত।
এভাবে ছাত্র ও মাস্টারনির মধ্যে নানা গবেষণা চলতে চলতে বেহুলা ও সাহেবের সম্পর্কে এক আলগা বন্ধুত্বের আকর্ষণ একে অন্যকে ধীরে ধীরে মনের কাছাকাছি নিয়ে আসতে লাগল। বেহুলার আড়ষ্টতা অনেকটা কেটে গেল, কেটে গেল ভয়। সাহেব জ্যোতিষের সহজ বিষয় বুঝতে না পারলে বেহুলা চোখ পাকিয়ে দু-একবার ধমক পর্যন্ত লাগিয়ে দেয়, সাহেব গোবেচারা ছাত্রের মতো মাথা চুলকে বলে—সরি। তারপর সেটার অনুবাদ করে বলে—আমি ডুক্ষিটো বেহুলা তা শুনে হেসে ফেলে। লেখাপড়া হয়ে গেলে সাহেব বেহুলাকে ওর বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। পথে কাপাসডাঙার মাঠে হাঁটতে হাঁটতে সাহেবের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেয় বেহুলা। এত গম্ভীর লোকটা যে এত গল্প করতে পারে, বাইরে থেকে দেখে বোঝাই যায় না। রাশভারি গলায় কত গল্প। সাহেব গল্প বলে সাহেবের বিলেতের গল্প। এদেশে জাহাজে আসার গল্প। চাকরির গল্প। লন্ডন শহরের গল্প। বড় বড় চোখে সে গল্প শুনতে শুনতে বেহুলার মনে হয় সে যেন সেসব স্বপ্নের জগতে চলে গেছে। বেহুলা একদিন সাহেবকে জিজ্ঞাসা করল, ‘সাহেব তুমি আমাদের গ্রামে আসার আগে শহরে কোথায় থাকতে?’
ডেভিড সাহেব থতমত খেয়ে গেল। কী উত্তর দেবে? ফোর্ট উইলিয়ামের কয়েদখানায়? ডেভিড মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলল, ‘নানা জায়গায় আমাদের ঘুরতে হয়। সব জায়গার অত নাম মনে রাখতে পারি না।’ ডেভিডের মনে পড়ল একটা গ্রামের নাম—শুধু পুকুর, জঙ্গল আর ধানক্ষেতের ভিতরে গ্রামট ডেভিড বলল—‘চৌরঙ্গী।’
সঙ্গে সঙ্গে বেহুলা কপালে হাত ঠেকিয়ে প্রণাম করল।
‘কী হল?’ ডেভিড অবাক।
‘খুব পবিত্র জায়গা তাই না?’
‘পবিত্র জায়গা!’
‘চৌরঙ্গী গিরি সন্ন্যাসীর নামেই তো গ্রামের নাম হয়েছে চৌরঙ্গী।’
‘চৌরঙ্গী গিরি আবার কে?’
‘কালী ঠাকুরের মুখ পেয়ে উনিই আমাদের কালীঘাটের কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খুব বড় সাধক!’
ডেভিড বলল, ‘তোমাদের সামনে যার নামই বলি তার নামই দেখি তোমাদের কোনো না কোনো দেবতার সঙ্গে জোড়া।’
বেহুলা অন্যমনস্ক হয়ে বলল, ‘সাহেব, তোমাদের দেশে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীদের স্বামীর চিতার আগুনে সতী হতে হয়?’
‘পাগল! সাহেব অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকাল বেহুলার দিকে। ‘ড্যাম! রানি জানতে পারলে কারাগারে ঢুকিয়ে দেবে।’
একদিন এভাবেই লেখাপড়া সমাপ্ত করে দু’জনে হাঁটতে হাঁটতে ফিরছে, তখন সাহেব বেহুলাকে বলল, ‘বেহুলা, সত্যাচার্য ঠাকুর ফিরে এসেছেন।’
‘তাই! কবে?’
‘আজ সকালে সত্যাচার্য ঠাকুর আমাদের কুঠিতে এসেছিলেন।’
বেহুলার মনে আশঙ্কা জাগল। লোকটা নিশ্চয়ই কোনো মতলবে গেছে। ‘উনি বলিলেন উনি এবার কিছুদিনের জন্য তীর্থ করিতে যাইবেন। সুতরাং কোনো চিন্তা নেই।
‘বাঁচলাম!’ বেহুলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
কাঁচা পথের ধারে অবহেলায় বেড়ে ওঠা ঘেঁটুর ঝোপে থোকায় থোকায় অনেক ফুল। ‘বিউটিফুল!’ ডেভিড সাহেব থেমে গিয়ে তাকাল ঝোপের দিকে। ‘এত অবহেলায় বেড়ে উঠেছে অথচ সৌন্দর্যের এতটুকু ঘাটতি নেই। টুমি কি জানো এটা কোন ফুল?’
‘এটা তো ঘেঁটু,’ বেহুলা অবহেলায় ফুলের একটা থোকা ছিঁড়ে সাহেবের হাতে দিল। সাদা ফুলের ভিতর বেগুনি ঢেউ, সাহেব ফুলের হালকা সুগন্ধ নাকে টেনে বলল, ‘অপূর্ব!’
বেহুলা গ্রামে কোনোদিন কারুকে ঘেঁটু ফুলের সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে শোনেনি। এখন বেহুলার মনে হলো সাহেবের সামনে ফুলটাকে ঠিক মতো সম্মান করা হয়নি। বেহুলা বলল, ‘এমনিই বেড়ে ওঠে এরা মাঠের এদিক সেদিক। এই ফুলের আরেক নাম ভাঁটফুল। আর একটা খুব সুন্দর নাম আছে—বনজুঁই।’
‘বনজুঁই সুন্দর নাম, ঘেঁটুর চেয়ে ভালো,’ সাহেব বলল।
‘ঘণ্টাকর্ণ গাঁয়ের লোকের মুখে মুখে ঘেঁটু হয়েছে।’
‘এত সুন্দর ফুলের অত কঠিন নাম! তার চেয়ে ঘেঁটুই সোজা,’ সাহেব বলল। ‘শিবের অনুচর ঘণ্টাকর্ণকে গ্রামের লোকে ‘ঘেঁটু ঠাকুর’ নামে পুজো করে। ঘেঁটু ঠাকুর দেবী শীতলার বর। শীতলা-ঠাকুর বসন্তকালে বসন্ত রোগ নিয়ে আসেন, সেই মারাত্মক রোগের থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের লোক বসন্তকালে দেবী শীতলার পূজা করে। সেই সঙ্গে ভাঁটপূজাও দেওয়া হয় চৈত্রসংক্রান্তির দিনে। ঘেঁটু বা ভাঁট ফুল দিয়েই সে পূজা হয়।’
‘তোমাদের কি বাংলার নদী, গাছ, ফুল, পাতা সবকিছুর সঙ্গেই ঠাকুর দেবতা জড়িয়ে?’
‘ঠিক বলেছ সাহেব। আমাদের বাঙালিদের সাধারণ জীবনে এই পুজো- আচ্চা-ঠাকুর-দেব-দেবী অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকে।’
‘সত্যঠাকুর কিন্তু বাঙালিদের নিন্দা করে গেল। বলল, তোমরা বাঙালিরা নাকি বরাহমিহিরের সম্বন্ধে কুৎসা রটাও। বরাহমিহির জ্যোতিষশাস্ত্রে কত পারদর্শী ছিল তার কত গল্প করল সত্যাচার্য আমার কাছে। আচ্ছা, বরাহ কোনো মানুষের নাম হয়?’
‘কেন হবে না?’
‘বরাহ মানে তো শুয়োর। তাই না?’
বেহুলা হেসে ফেলল—‘তোমাকে কে বলল বরাহ মানে শুয়োর?’
‘ডাচরা কলকাতার কাছে এক জায়গায় অনেক শুয়োর মেরে লবণ দিয়ে জারিত করে সেই শুয়োরের মাংস ইউরোপে রপ্তানি করে, সেজন্য সেই স্থানের নাম হয়েছে বরাহ-নগর, তোমাদের বাঙালিরা বলে বরানগর। সেখান থেকেই আমি জেনেছি যে বরাহ মানে শুয়োর।’
‘সাহেব, বরাহ আমাদের হিন্দুদের তৃতীয় অবতার। মৎস, কুর্ম, বরাহ- বেহুলা থেমে গেল, সত্যাচার্য ঠাকুর এখন তাহলে ডেভিড সাহেবের মন বিষিয়ে যাচ্ছে? ‘আর কী বলল সত্যঠাকুর?’
‘বলল, বরাহমিহির নাকি উজ্জয়িনীর খুব নামকরা জ্যোতিষী ছিলেন, তোমরা বাঙালিরা নাকি তাঁর নামে অপপ্রচার করে বেড়াও।’
‘অপপ্রচার!’
‘বাঙালিরা নাকি বলে বরাহমিহির নাকি ছেলের আয়ু গুণতে ভুল করেছিলেন। সত্যঠাকুর বলিলেন বরাহমিহির অত বড় জ্যোতিষী তাহা হইলে উনি কীভাবে ওর ছেলের আয়ু গুণতে ভুল করিবেন? এসব বাঙালিদের বানানো গল্প। তারপর বলল মিহিরের জন্ম নিয়েও বাঙালি অলীক কুৎসা রটায়। দেখলাম খনার ওপর ওর খুব রাগ। আমাকে বলল আরেকদিন সব গল্প বলিবে। আমি তো এসব আগে কখনো শুনিনি, তাই চুপ ছিলাম। তুমি কি আমাকে বলিবে মিহিরের জন্মের গল্পটা কী?’
বেহুলা বলল, খনার উপকথা বলে মিহির বরাহমিহিরের পুত্র। মিহিরের জন্ম হল। আর বরাহমিহির তখন সদ্যোজাত পুত্র মিহিরকে একটা তামার পাত্রে করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিলেন। সেই তামার পাত্র জলে ভাসতে ভাসতে সুদূর সিংহলের রাক্ষসদের দেশে সমুদ্রতীরে এসে ঠেকল।’
‘ইম্পসিবল!’ সাহেব অবিশ্বাসে দু’দিকে মাথা নাড়ালো। ‘সেটা কখনো সম্ভব?’
‘এটাই প্রচলিত কাহিনি।’
সাহেব চোখ পাকিয়ে যেন বেহুলাকে পড়া ধরল— ‘উজ্জয়িনী কোথায়?’
‘আমি জানি না। আমি কখনো আমার বাপের বাড়ি, আমার শ্বশুরবাড়ি আর এই ডিঙাডুবির থেকে দূরে যাই নি।’
‘আমি একবার আর্মির কাজে উজ্জয়িনী গেছিলাম। ওখানে সমুদ্র নেই-ই। বরাহমিহির সমুদ্র কোথায় পেল?’
‘আমি কী জানি। সাহেব, তুমি আমাকে এমনভাবে জেরা করছ যেন খনার গল্প আমিই লিখেছি,’ বেহুলার গলায় প্রতিবাদের সুর।
‘আমি ডুক্ষিটো। কিন্তু, একটা সদ্যোজাত ছেলেকে তামার পাত্রে পুরে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দিল, আর সে ভেসে ভেসে সিংহল চলে গেল!’ ডেভিড সাহেব হতাশায় কপাল চাপড়াল। ‘এই গল্প আমি কিছুতেই বিশ্বাস করিব না। ইন্ডিয়া থেকে সিংহল কত্ত দূর। আমাদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ যায়। অন্তত কয়েক দিনের জলের পথ। অতটা দূর একটা সদ্যোজাত বাচ্চা খালি পেটে তামার পাত্রে ভাসতে ভাসতে চলিয়া গেল? বরাহপণ্ডিত কি তাম্রপাত্রে মধু ঠেসে দিয়েছিল যে খিদে পেলেই বেবি মিহির সেই মধু চুষিবে?’
‘আরে এগুলো তো রূপকথা।’
‘রূপকথা? নো! নট অ্যাট অল! জানো বেহুলা আমার মনে হয় ব্যাপারটা এত সিম্পল না। খনা যদি সত্যি হয় তবে কেন ওর সঙ্গে এত অ্যাবসার্ড রূপকথা জড়ানো হল? আমার মনে হচ্ছে একটা বড় রহস্য চাপা দেবার জন্য এসব গল্প ফাঁদা হয়েছে। যাক গে তারপর কী হল? মিহির হাঙর-তিমিদের ফাঁকি দিয়ে ভাসতে ভাসতে অক্ষত দেহে শ্রীলঙ্কা পৌঁছে গেল?’
‘উপকথা তো তাই বলে,’ বেহুলা এবার রাগ রাগ মুখে বলল।
‘যাক, তারপর কী হল বল।’
‘তারপর কী হল সেটা নিয়ে অনেক রকম গল্প আছে। কেউ বলে খনা নাকি তখন সিংহলে সাগরজলে কয়েকজন রাক্ষসীর সঙ্গে স্নান করছিলেন এবং খনা শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজ আবাসে নিয়ে যান এবং গণনা করে দেখেন যে সেই বালকের আয়ু একশো বছর। তখন রাক্ষস ও খনার আশ্রয়ে মিহির বড় হল। তারপর খনা মিহিরের বিয়ে হল এবং খনা বুঝতে পারলো মিহির উজ্জয়িনীর বিখ্যাত বরাহমিহিরের পুত্র। তারপর খনা ও মিহির এবার উজ্জয়িনী চলে গেল। উজ্জয়িনী গিয়ে মিহির পিতার কাছে তার পরিচয় দিলে বরাহ প্রথমে বিশ্বাস করেনি, কারণ গণনায় পুত্রের আয়ু মাত্র এক বছর ছিল। খনা তখন বরাহমিহিরকে বলল যে তার গণনা ভুল। সে একটা শ্লোকও বলে দিল।’
‘কী শ্লোক?’
‘ওটা প্রায় সব বাঙালিরই মুখস্থ। খনা বলে—
কিসের তিথি কিসের বার
জন্ম নক্ষত্র কর আর
কি কর শ্বশুর মতিহীন
পলকে জীবন বার দিন।
পুত্রবধূর যুক্তিতে বরাহর ভুল ভাঙে। তারপর—’
‘ওয়েট,’ ডেভিড বেহুলাকে থামিয়ে দিল। ‘খনা ওর থেকে এত বয়সের ছোট মিহিরকে বিয়ে করল? তোমাদের দেশে স্ত্রীর থেকে স্বামী অত ছোট হয়? সদ্যোজাত মিহিরের বিয়ের বয়স হতে হতে অনেক সময় লেগে যাওয়া উচিত। খনা কেন অতদিন অপেক্ষা করিবে? কিছু একটা মেজর গণ্ডগোল আছে।
‘তুমি ঠিক ধরেছ সাহেব। এ প্রশ্ন আমারও মনে জেগেছিল। কিন্তু এই মিহিরকে কোথায় পেল তা নিয়েই বিস্তর মতভেদ, বিভিন্ন গল্প আছে। ওগুলো আরো অবিশ্বাস্য। যাই হোক বরাহমিহির তো খনার জ্যোতির্বিদ্যার অদ্ভুত ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে পুত্র মিহির ও গুণবতী পুত্রবধূকে গৃহে স্থান দিলেন।’
‘আমার মনে খটকা লাগছে যে বরাহমিহির অত বড় জ্যোতির্বিদ, উনি এতবড় একটা ব্লান্ডার মানে ভুল করিলেন?’
‘তাহলে আসলে কী হয়েছিল বলে সাহেব তোমার মনে হয়?’
‘আমি চিন্তা করছি। তুমি বাকিটা শেষ কর। বরাহমিহির আর খনার ঝামেলা কীভাবে শুরু হল?’
‘উপকথা বলে মিহিরও মহারাজ বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় নবরত্নের আসনে স্থান লাভ করল। তার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে গেল। একদিন রাজা বিক্রমাদিত্য বরাহমিহিরকে জিজ্ঞাসা করলেন আকাশে কত নক্ষত্র খালি চোখে দেখা যায়? তখন বরাহমিহির ও তার পুত্র মিহির অনেক রকমের গণনা-টণনা করেও উত্তর খুঁজে পেলেন না। বাড়ি ফিরে মিহির এই প্রশ্ন খনাকে করাতে খনা অনায়াসে তা গণনা করে বলে দিলো। পরদিন বরাহমিহির গিয়ে রাজা বিক্রমাদিত্যকে সেই সংখ্যা বলল এবং রাজা প্রশ্ন করে জানতে পারলেন খনা এই প্রশ্নের
সমাধান করেছে। রাজা খনাকে রাজসভায় ডেকে পুরস্কৃত করলেন। দেখতে দেখতে গুণবতী খনার খ্যাতি চারদিকে এত ছড়িয়ে গেল যে বরাহমিহিরের খ্যাতিও খনার গুণের কাছে ম্লান হয়ে গেল। তখন বরাহমিহির হিংসায় পুত্র মিহিরকে বললেন খনার জিভ কেটে নিতে। তখন খনার জিভ কেটে নেওয়া হয়। রক্তপাতে খনার মৃত্যু হয়।’
‘খনার হত্যাতে বরাহমিহিরের কোনো শাস্তি হল না? অতবড় একজন বিদুষীকে হত্যা করা হল, অথচ রাজা কোনো খোঁজ করল না! না, এটা ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না।’
‘আরেকটা গল্প এই যে মিহির খনাকে এত ভালোবাসতেন যে মিহির পিতার আদেশ পালন করতে রাজি হল না। তখন খনা স্বামী ও শ্বশুরের কথা ভেবে বলল, স্বামী, আপনি আপনার পিতার আদেশ পালন করুন। পত্নীর অন্তিম অনুরোধে মিহির খনার জিভ কেটে দিলেন। কিংবদন্তি বলে এক টিকটিকি নাকি খনার সেই কাটা রক্তাক্ত জিভ খেয়ে ফেলে। তারপর থেকে কথার মাঝে টিকটিকি ডাকলে লোকে বলে সত্যি সত্যি।’
ডেভিড গুম হয়ে রইল।
‘কী হল সাহেব?’
‘অ্যাবসার্ড! মিছে কথা সব। এইসব মিথ্যা গল্প দিয়ে বরাহমিহিরের লাইফ বাঁচাবার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার পাপী মন। সব কিছুকেই পেঁচিয়ে নিই। আমার কী মনে হয় জানো?’
‘কী?’
‘বরাহমিহির ওর স্ত্রীর থেকে মুক্তি চেয়েছিল। বরাহমিহিরের স্ত্রী খনার সন্তান প্রসব করার পর বরাহমিহির তার স্ত্রী খনাকে হত্যা করে এবং তার সদ্যোজাত পুত্রকে জলে ভাসিয়ে দেয়। তারপর খনার নামে অযথা গল্পগাথা জুড়ে দেয় বরাহমিহিরের এই পাপকর্মকে ঢাকার জন্য। ব্যাস। আমার মনে হয়েছে একটা বড় রহস্য চাপা দেবার জন্য এসব গল্প ফাঁদা হয়েছে।’
কথা বলতে বলতে দু’জনে বেহুলাদের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পাখমারা গণক দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল। বেহুলা বলল, ‘সাহেব তুমি এবার যাও। আমি বাড়ি যাই।’
* * *
সত্যাচার্য ঠাকুর খুব তড়িঘড়ি তীর্থপর্যটনে বেরিয়ে গেল। এক পক্ষকাল পর ডিঙাডুবি ফিরে এসে সত্যাচার্য সোজা জমিদারবাড়ি গিয়ে দেওয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করল। উত্তেজিত হয়ে সত্যঠাকুর বলল, ‘একটা খুব গোপন সংবাদ আমার শ্রুতিগোচর হয়েছে। খবরটা শুনে আমার গা-হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।’
‘কী এমন সংবাদ সত্যঠাকুর?’
‘বেহুলা সমস্ত গ্রামবাসীদের কাছে এতদিন মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এসেছে।’
‘মিথ্যা পরিচয়!’ দেওয়ান কৌতূহলী। ‘কী ওর আসল পরিচয়?’
‘বেহুলা ওর মৃত স্বামীর সহমরণ থেকে পলাতকা।’
‘তার মানে?’ দেওয়ান অবাক।
‘বেহুলা পাখমারা-গণকের ভাইঝি না। বেহুলার শ্বশুরের গ্রাম হল ধুলসা। সেখানে ভুবন জ্যোতিষীর ছেলে লখীন্দর ছিল বেহুলার পতি। সাপের কামড়ে লখীন্দরের মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুতে বেহুলার তার স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় সহমৃতা হওয়ার কথা, কিন্তু বেহুলা সে রাতে পালায়।’
‘আপনি কীভাবে জানলেন?’
‘মাঝিরা খবর এনেছিল করিমগঞ্জের ঘাটে নাকি একজন মেয়ে পাচারকারী ওর খবর জানে। ওই লোকটাকে কিছু কড়ি দিতে হল, ও বলল মেয়েটা দক্ষিণ থেকে সালতি চালিয়ে একা এসেছে। দক্ষিণে খোঁজ খবর করতে লাগলাম। একটু সময় লাগল, কিন্তু সব খবর বেরিয়ে এল।’
‘তাহলে পাখমারা-গণক বেহুলাকে ওর ভাইঝি বলে যে পরিচয় দিয়েছে তা মিথ্যা!’ দেওয়ান স্তম্ভিত। ‘এ আপনি প্রমাণ করতে পারবেন সত্যঠাকুর?’
‘আমি আসলে তীর্থে যাওয়ার নাম করে বেহুলার ধুলসা গ্রামে গিয়ে গ্রামের জমিদারের সঙ্গে কথা বলেছি। জমিদার বেহুলাকে ওর গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের লেঠেল আর তিনজন ব্রাহ্মণকে পাঠাবে। ওরা বেহুলাকে ওদের গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ওখানে ওই পাতকীর সহমরণ হবে।’
কথাটা দেওয়ান দুর্লভচাঁদের পছন্দ হল না। সে জানে জমিদারবাবু মনে মনে স্থির করে নিয়েছে যে এই নারী কমলাবাঈয়ের কোঠায় তাঁর শয্যাসঙ্গিনী হবে। এই ভুজঙ্গিনীর সহমরণ এক বিশাল অপচয়। দেওয়ান বলল, ‘এর স্বামী যদি প্রায় এক বছর আগে মৃত হয়, তবে তার চিতা তো জ্বলে কবে নিভে গেছে। তাহলে সেই চিতায় এই নারী সহমৃতা হবে কীভাবে?’
‘মৃত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার ব্যবহৃত বস্তুর সঙ্গে তার পত্নীকে সহমরণ করানো হিন্দুধর্মে আছে। লখা মৃত কিন্তু ওর প্রিয় তাঁতঘর এখনো বিদ্যাধরীর পাড়ে রাখা আছে। বেহুলা ওখান থেকেই পালিয়েছিল। এক্ষেত্রে বেহুলাকে লখার তাঁতঘরে বন্দী করে তাঁতঘর শুদ্ধ জ্বালিয়ে দেওয়াই ওরা মনস্থ করেছে।’
‘ব্যাপারটাতে আমাদের সম্মতি আছে এটা গ্রামবাসীরা জেনে গেলে কিন্তু ঝামেলা অনেক। ওদের লেঠেলদের খুব ভোরে জমিদারবাড়িতে নিয়ে আসতে হবে। বেহুলাকেও খনার পুঁথি সমর্পণের ছলে এখানে ডাকতে হবে। তারপর ওকে সংজ্ঞাহীন করে বস্তাবন্দী করে ধুলসার জমিদারের নৌকায় ওদের লেঠেলরাই নিয়ে যাবে। আমরা হাত-গন্ধ করব না। আকাশে আলো ফুটলে আমার বিশেষ পাইক গিয়ে বেহুলাকে ডেকে আনবে।’
***
পড়তে পড়তে অনেক রাত হয়ে গেছিল। ঘুম ভাঙল বেলায়। নাছোড় সেলফোনটা বেজেই চলেছে। বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুলল নমিতা। বিদ্যাদির ফোন। আর দুঃসংবাদটা শুনে ধড়মড় করে উঠে বসল নমিতা।
