1 of 2

বিদ্বান বনাম বিদুষী – ৪৯

।। ঊনপঞ্চাশ।।

লালবাজারে ঢোকার সময় নমিতা কল্পনাই করতে পারেনি যে তাদের জন্য এত বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে। ডেপুটি কমিশনার ফোনে ছিলেন। দরজায় মিস বসাককে দেখে ইশারায় ভিতরে এসে বসতে বললেন। নমিতা আর মিস বসাক চেয়ারে বসল। উনি কাউকে খুব ধমক দিচ্ছিলেন, আজ মনে হল মুড খারাপ। একটু পরে ফোন রেখে হেসে বললেন, ‘আজ সকাল থেকে একের পর এক চলছে। যাক, তাড়াতাড়ি কাজের কথায় আসি।’

মনসুর হক ড্রয়ার থেকে একটা খাম বের করে বললেন, ‘আমার ডিটেকটিভ এই ফটোগুলো পাঠিয়েছে।’

মিস বসাক ফটোগুলো দেখলেন। তিনটে ছবি। বিদ্যাদির বৌবাজারের এনজিও ‘অনিকেত’এর সাইনবোর্ডটা ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে। অফিসে ঢোকার মুখে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে বিদ্যাদি একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছেন।

‘এঁকে চিনতে পারছেন?’

‘ইনি বিদ্যাধরী দাস, আর ইনি—’  

‘মিস বিদ্যাধরী দাসের ভাইপো। ড. তথাগত দাস, আমেরিকায় থাকেন।’ মনসুর বললেন। ‘আমার গোয়েন্দারা বলছে যে দু’জনে বৌবাজারে ‘অনিকেত’ নামে একটা এনজিওর অফিসে প্রায় আধ ঘন্টা কথা বলেছেন।’

নমিতা স্তম্ভিত! তথাগত বিদ্যাদির সঙ্গে দেখা করেছে! আর বিদ্যাদি সে কথা ওদের কাছে গোপন করে গেছে!

‘স্ট্রেঞ্জ! এগুলো কবেকার তোলা ফটো?’ মিস বসাক জিজ্ঞাসা করলেন। ‘কাল বেলার দিকে।’

নমিতা হিসাব মেলাবার চেষ্টা করছিল—তাহলে কি গাড়িতে আসা ফোনটা তথাগতের ছিল? সেজন্যই কি বিদ্যাদি কাল ‘অনিকেত’-এ আসতে বারণ করেছিল? বিদ্যাদি ওঁর ভাইপোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কথা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ গোপন করে গেছে! আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না,’ নমিতা বলল।

‘দেখুন ম্যাডাম। আমরা কারোকে বিশ্বাস করি না। এই দুনিয়ায় স্বামী ঠকাচ্ছে স্ত্রীকে। ছেলে ঠকাচ্ছে বাপ-মাকে। সব সম্ভব। তবে ওদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা তো আমরা জানি না। মাধবীদের কোর্টের ভাষায় এ পার্সন ইজ ইনোসেন্ট আনটিল প্রুভেন গিষ্টি।’

বিদ্যাদি তথাগতের সঙ্গে গোপনে দেখা করেছে এটা নমিতা ভাবতেই পারছে না। বিদ্যাদি কেন দেখা করেছে? কেন ওদের এই সাক্ষাৎকারের কথা বলে নি?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *