1 of 2

বিদ্বান বনাম বিদুষী – ৪২

।। বিয়াল্লিশ।।

কাপাসডাঙার মাঠ যেন তেপান্তরের মাঠের মতো বড়। জনমনিষ্যি দেখা যায় না। বেহুলা জঙ্গলের পথে দ্রুত হেঁটে পৌঁছোলো পর্তুগিজদের কেল্লায়। কেল্লার ভগ্ন তোরণ। ভাঙা দেওয়ালের পাথরের পাঁজার ভগ্নাবশেষ কলকাসুন্দা, আশশেওড়ার জংলী ঝোপ-ঝাড়ে ঢাকা পড়ে গেছে। আশশেওড়ার সবুজাভ সাদা ফুল হালকা মিষ্টি গন্ধ ছড়াচ্ছে। নাকে সুঘ্রাণ টেনে বেহুলার মনে হলো প্রকৃতি পরোয়া করে না কে তার প্রশংসা করল।

কেল্লার সামনে একটা বড় পাথরে বসে ডেভিড সাহেব পরিখায় জমে থাকা বৃষ্টির জলে অন্যমনস্ক ভাবে একটার পর একটা পাথর ছুঁড়ে চলেছে। সাহেবকে দেখে বেহুলার মনে এক অদ্ভুত আনন্দ ছড়িয়ে গেল। বেহুলা মনে সেই আনন্দের আলোড়নের ওড়না জড়িয়ে সাহেবের দিকে এগিয়ে গেল। বেহুলাকে দেখে সাহেবের মুখে হালকা হাসি—‘আমি ভাবছিলাম তুমি হয়তো আসিবে না।’

‘গণককাকা এখন বিছানায় গেল, তাই দেরি হয়ে গেল।’ বেহুলা কেল্লার পাথুরে দেওয়ালের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে লাগল।

‘বেহুলা, টুমি কি আগে কখনো আসিয়াছ এই কেল্লায়?’

‘না সাহেব, এই প্রথমবার। পর্তুগিজরা বানিয়েছিল এটা?’

‘প্রতাপাদিত্য নাকি মগদের আক্রমণ হইতে নিস্তার পাইবার জন্য রডা নামে এক পর্তুগিজ নৌ-সেনাধ্যক্ষকে দিয়ে নদীর তীরে এই কেল্লা বানিয়েছিল। এক সময় এই জায়গাটার নিশ্চয়ই খুব রমরমা ছিল। কিন্তু অনেককাল কেউ আসে না।’

‘কেল্লাটা শুনেছি বারুদ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

‘হ্যাঁ। জাহাঙ্গীর সম্রাট হওয়ার পরেই পর্তুগিজদের বাংলা থেকে সমূলে উচ্ছেদ করিবার জন্য কাশিম খাঁকে বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত করে বলেছিল ওদের দোষ দেখিলেই শাস্তি দিবে। তখন কাশিম খাঁর ছেলে এনায়েৎ খাঁ বাংলায় পর্তুগিজদের অনেকগুলো কেল্লা ধ্বংস করিয়াছিল।’

‘মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়বে না তো?’ বেহুলা বলল।

‘আমি এখানে আগে এসেছি। মজবুত আছে। ছাদে চল, ছাদের থেকে দৃশ্য খুব সুন্দর।’

পাথরের ঘোরানো সিঁড়ি উপরে কেল্লার ছাদের দিকে উঠে গেছে। আর সামনে পাথরের মেঝে এগিয়ে গেছে কেল্লার ভিতরের দিকে। সামনে ভগ্ন তোরণদ্বার পেরিয়ে দেখা যাচ্ছে আরেকটা তোরণ। তোরণের ওপাশে আধো- অন্ধকার। ‘তোমাকে আরেকটা জিনিস দেখাই,’ ডেভিড সাহেব দ্বারের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু বেহুলা নিষেধ করল—‘সাহেব, ওদিকে সাপ-খোপ থাকতে পারে। ভিতরে যেও না।’

সাহেব দরজার ফাঁক দিয়ে মাথা গলিয়ে ভিতরে দেখে আবার মাথা বের করে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বেহুলাকে ইশারায় চুপ করতে বলল। তারপর ফিসফিস করে বলল, ‘খুব সাবধানে ভিতরে ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখ।’

বেহুলা সাহেবের সঙ্গে পাশাপাশি এবার দরজার ফাঁক দিয়ে মাথা গলিয়ে ছাদের দিকে তাকাল। ভিতরে ছাদের নীচে বিশাল বিশাল কড়ি বরগাতে শ’য়ে শ’য়ে বাদুড় আধো অন্ধকারে ঝুলছে। বেহুলা প্রথমে ভয়ে মাথা বাইরে বের করে দু’পা পিছিয়ে এসে বলল, ‘বাপরে! এত্ত বাদুড়!’ তারপর বেহুলা দু’হাত কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করল। সাহেবের বিস্মিত দৃষ্টি। এবার সাহেব বেহুলার পিছন পিছন বাইরে বেরিয়ে এসে বলল—‘তুমি বাদুড়দের প্রণাম করলে?’

‘আমরা গ্রামে করি তো।’

‘কেন?’ সাহেবের মুখে অবিশ্বাসের হাসি।

‘বাদুড়েরা পুণ্যাত্মা। ওরা জানে যে পাতালপুরীতে নাগরাজ থাকে, নাগরাজের সম্মানের জন্য বাদুড়েরা কক্ষনো পাতালের দিকে পা দেখায় না। মাথা হেঁট করে ঝোলে।’

‘বাপরে! ইহা তো জানা ছিল না,’ ডেভিড বলল। ‘তোমরা সব কিছুতেই প্রণাম কর। তোমাদের গ্রামে প্রতিটা বড় গাছতলাতেই দেখি লোকজন জড়ো হয়ে প্রণাম করছে আর পুজো করছে।

বেহুলা হাসল। ‘আমাদের বাঙালিদের অনেক দেবদেবী, সাহেব। গরীব মানুষ এরা, কত মন্দির বানাবে? তাই গ্রাম দেবতাদের থান হলো গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছতলায়—মনসা, শীতলা, চণ্ডী, বড়ম্, ভৈরব। সবচেয়ে জাগ্ৰত চণ্ডী। গ্রামের পশ্চিমে রক্ষাকালী আর যজ্ঞেশ্বর শিবের সকলে পুজো করে। আর তাছাড়া দুর্গা ঠাকুর, সরস্বতী ঠাকুর, ধর্ম ঠাকুর এসব তো আছেই।’

ডেভিড সাহেব এ প্রসঙ্গে আর কথা বাড়াল না। ‘আমরা চলো ছাদের দিকটা দেখি।’

কেল্লার ছাদ অনেক পরিষ্কার। উন্মুক্ত স্থানে বৃষ্টি বাদলে ছাদ ধুয়ে যাওয়ায় প্রকৃতিই এই ছাদকে পরিষ্কার রেখেছে। ছাদের কোণায় বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। ছাদে উঠে বেহুলা বিস্ময়ে চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখল। একদিকে বিদ্যাধরী নদী, নদীর খাল, অন্যদিকে বিশাল কাপাসডাঙার মাঠ, মাঠের ওপাশে ঘন জঙ্গল, দূরে ডিঙাডুবির মাটির বাড়িগুলোর পর জমিদারবাড়ি। মরা তাঁতিপাড়ার পাশে গণকঠাকুরের বাড়ি কত ছোট দেখাচ্ছে এখান থেকে। ঠিক নীচে, কেল্লার পাঁচিলের ভিতরে একপাশে একটা ভগ্ন হস্তিশাল, তার পাশে একটা পাথরের দেওয়ালের ঘর। অনেকটা প্রশস্ত জায়গা। ঘরের দরজায় তালা দেওয়া।’

‘সাহেব, ওখানে কী আছে?’

‘ওটা পর্তুগিজদের বন্দীঘর ছিল। এখন কী আছে আমি জানি না। তবে ঘরটা ব্যবহার করা হয় বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এ জায়গাটা বেশ, তাই না?’

‘হ্যাঁ শুধু বৃষ্টি হলেই অসুবিধা,’ বেহুলা আকাশের মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল।

‘হ্যাঁ, আশ্রয় বলিতে, নীচের ওই ঘরগুলি, কিন্তু ওখানে তোমার পুণ্যাত্মাদের ভিড়ে ভিতরে ঢোকাই সম্ভব নয়,’ ডেভিড সাহেবের কপালে কপট চিন্তার ভাঁজ।

বেহুলা দেখল ডেভিড সাহেবের কপালের বৃহস্পতি, মঙ্গল, বুধ রেখা লম্বা এবং অবিচ্ছিন্ন।’

‘কী দেখিতেছ হাঁ করিয়া?’

‘কপালের রেখা,’ বেহুলা লজ্জা পেল। ডেভিড সাহেব হয়তো ভেবেছে আমি হাঁ করে ওকেই দেখছিলাম। তাড়াতাড়ি ডেভিড সাহেবের ভুল ভাঙাতে তৎপর হল বেহুলা—‘কপালের রেখায় বৃহস্পতি, মঙ্গল, বুধ অবিচ্ছিন্ন। খুব সৌভাগ্যের প্রতীক। তোমার স্ত্রী খুব ভাগ্যবতী হবে সাহেব।’

‘টোমার কথা বলছিলে বেহুলা গতকাল। কিন্তু শোনা হয় নাই। আমি আর সেই অতীতের দুঃখের কথা শুনিতে চাই না। কিন্তু আমি টোমায় এটুকু আশ্বাস দিতে পারি যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ টোমায় জোর করে আর চিতায় টুলিতে পারিবে না।’

বেহুলা চুপ হয়ে বসে রইল। সাহেবও স্বল্পক্ষণ মৌন থেকে তারপর নীরবতা ভাঙল ‘বেহুলা, একটা কথা বলব?’

‘কী কথা সাহেব?’

‘টুমি এত সুন্দরী, টুমি সাজলে খুব সুন্দর লাগবে। টুমি সাজো না কেন?’

‘আমি যে বিধবা সাহেব, সমাজ বলে বিধবাদের সাজতে নেই। বিধবারা সিঁথি কেটে চুল আঁচড়াতে পারে না। মাথা কামিয়ে ফেলতে হয় আর তা না হলে সিঁথি না কেটে মাথার পিছনে চুলে একটা গিঁট দিতে হয়। আমি এসব করিনি। আমাদের সমাজে বিধবাদের নিজের সুখদুঃখকে অস্বীকার করে পরিবারে টিঁকে থাকতে হয়। আর এই অসহনীয় বেঁচে থাকা থেকে মুক্তি পেতে বিধবারা কায়মনোবাক্যে ঈশ্বরকে আঁকড়ে ধরে নিজেদের প্রতি উদাসীনতার পথ খোঁজে। আমাদের সাধ আহ্লাদ বলে কিছু থাকতে নেই।’

‘বেহুলা টুমি এত বুদ্ধিমতী, টুমি আবার বিয়ে কর।’

বেহুলা মলিন হেসে বলল, ‘একবার পালিয়ে গায়ে আগুন দেওয়া থেকে বেঁচেছি। কী দরকার সাহেব আবার নিজেকে ঝামেলায় ফেলার। আমাদের দেশে তো আর তোমাদের দেশের মতো মেয়েদের সম্মান করে না। আমাদের দেশে মেয়েরা লেখাপড়া শিখলেই পুরুষের চক্ষুশূল হয়ে যায়।’

‘আমাদের দেশেও কম না। এসব সংবাদ চাপা পড়ে যায়,’ ডেভিড বলল। ‘ইউরোপে গত তিনশো বছরে কত এরকম গুণবতী নারীকে ডাইনি আখ্যা দিয়ে বিচারের নামে গণহত্যা করা হয়েছে তার ইয়টা নেই। প্রায় পাঁচ লাখ নারীকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। যে নারী পুরুষের কাছে পোষ না মানে, সেই বিদ্রোহী নারী হয়ে যায় ডাইনি। সব দেশেই পুরুষের সূত্র আর অনুশাসনের ফাঁস নারীকে গলায় বেঁধে চলতে হয়। বেহুলা, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব, সত্যি উত্তর দেবে?’

‘বল সাহেব, আমি মিথ্যা কথা বলি না।’

‘টুমি কি জানো এই জঙ্গলে ডাকাতদের আস্তানাটা ঠিক কোথায়?’

‘না, জানি না সাহেব,’ বেহুলা সাহেবের প্রশ্নে অবাক। ‘কিন্তু কেন বলতো?’

‘আমাদের কোম্পানিকে একদম নাকানিচোবানি খাইয়ে ছাড়ছে তোমাদের এখানকার এই ডাকাতরা। আমরা বিজনেস করতে পারছি না এদের জ্বালায়। পথে ডাকাতের খুব উপদ্রব। জেলা থেকে কালেক্টররা সংবাদ পাঠাচ্ছে যে ডাকাতরা ইংরেজ কুঠি লুঠ করেছে। বিরাট চৌকি, কিন্তু রাতের বেলা তিনশো ডাকাত অ্যাটাক করল কুঠি। গোটা মালখানা লুঠ করে অন্ধকারে মিশে গেল।’

‘সাহেব, তোমাদের কাছে এত গোলা বারুদ বন্দুক তবু পুলিশ ওদের ধরতে পারে না? তাছাড়া অত মাল ওরা লুকোবে কোথায়?’

‘পুলিশ চিরুনি তল্লাশী চালিয়েও কিছু পায় না। পুলিশ একবার ডাকাতির জন্য অনেক লোককে ধরল। জানো কারা ধরা পড়েছিল?’

‘কারা?’

‘টুমি শুনলে অবাক হয়ে যাবে। ব্রাহ্মণ, ছোট ব্যবসায়ী, জমিদারের উৎখাত হয়ে যাওয়া পাইক, লেঠেল, মুৎসুদ্দি থেকে শুরু করে নৌকার মাঝি, এমন কি রাস্তার ধারে যে তামাক আর শুকনো লঙ্কা বিক্রেতা বসে থাকে সে পর্যন্ত ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ওরা দীর্ঘদিন ধরে নজর রেখে আসছে রাজস্ব কবে যায়, গাড়িতে কত সৈন্য থাকে, কোথায় রাতের আশ্রয় নেয়—সব সংবাদ ডাকাতদের কাছে পৌঁছে দিতো, অথচ আমাদের ব্রিটিশ গোয়েন্দারা বিন্দুমাত্র টের পায় নি।’

‘ডাকাতদের সাহায্য করা খুবই নিন্দনীয় কাজ। কিন্তু তুমি কি জানো সাহেব কেন নিরীহ শান্তিপ্রিয় গ্রামবাসীরা ডাকাতি করতে যাচ্ছে?’

‘না জানি না। কেন?’

‘সাহেব, আমি যতটা শুনেছি তা হল এই ডাকাতরা এক সময় এই ডিঙাডুবি আর আশেপাশের গ্রামগুলোতে শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিল। এদের পরিবার ছিল। আর্থিক টানাটানি ছিল কিন্তু এরা চাষবাস করে, তাঁত বুনে, মাছ ধরে সুস্থভাবেই সংসার চালাতো। এখানে এক সময় কয়েকশো তাঁতি ছিল। দিন রাত তাঁতঘরে এরা মেহনত করত। যা কাপড় বুনত, তা হাটে গিয়ে বিক্রি করে আসত। কিন্তু সরকারি গোমস্তা এসে নিয়ম করে দিল যে ওদের থেকে দাদন নিতে হবে আর তাঁতিরা ওদের কাছেই একমাত্র কাপড় বিক্রি করতে পারবে। সেই দাদনের সুদের হার এত বেশি যে সব কাপড় ওদের হাতে তুলে দিয়েও দাদনের ঋণ শোধ হতো না। তারপর গ্রামে এল ওলাওঠা। ওলাওঠার মহামারীতে গ্রাম উজাড় হয়ে গেল। দাদন নেওয়া টাকা সব শেষ হয়ে গেল চিকিৎসার চেষ্টাতেই। দাদনীবণিকেরা তখন কোতোয়ালিতে ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করত। ভয়ে গ্রাম ছেড়ে সবাই পালালো। তখন কত মানুষ, শিশু ও নারী যে পথের উপর মরে পড়ে থাকত তার কোনো ঠিক-ঠিকানা ছিল না। পরিবারের প্রিয়জনদের এই ক্ষুধার্ত আর্তনাদ ও মৃত্যুযন্ত্রণার কাতরানি শুনতে শুনতে কিছু মানুষ প্রতিবাদ করতে লাগল। তাদের মধ্য থেকেই জন্ম নিল ডাকাত। তখন তাদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়নি ধনীরা। এখন সেই ধনীদের ধন ডাকাতরা কেড়ে নিচ্ছে, তাই তারা ডাকাতদের মারতে অর্থ ব্যয় করে চলেছে।’

সাহেব গোলগোল চোখ করে শুনছিল। বেহুলা সাহেবের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সাহেব, একটা প্রশ্ন করব?’

‘বল।’

‘তোমাকে কি তোমাদের স্বজাতির লোকেরা ডাকাতদের খবর জোগাড় করতে পাঠিয়েছে এখানে?’

সাহেব নিরুত্তর। বেহুলার চোখে চোখ পড়তেই সাহেব দৃষ্টি নামিয়ে নিল। ‘সাহেব, আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল।’

‘চন্দ্র ডাকাতকে মারতে পাঠিয়েছে। খুব নিষ্ঠুর সে।

‘চন্দ্ৰ ডাকাত!’ বেহুলা বলল। ‘তুমি কি জানো ওর বাবাকে অসৎ দারোগা চাবুক মারতে মারতে মেরে ফেলেছিল? ওর ভাই বুধনকে দাস বানিয়ে রেখেছে ওই দারোগা? তাদের কে বিচার করবে সাহেব? আমাদের এই তাঁতিদের গ্রাম দেখ এখন শ্মশান। এই অন্যায়ের কি কোনো বিচার হবে না সাহেব?’

চুপচাপ শুনল ডেভিড। ‘আমার ধারণা ছিল ডাকাতরা সকলে খারাপ লোক। কিন্তু তোমার কথা শুনিয়া মনে হইতেছে সমাজে অনেক নামী-দামি মানুষ আছে যাহারা ডাকাতদের চেয়েও অনেক খারাপ। এরা তো অবস্থার দুর্ভাগ্যে প্রাণধারণ করতে ডাকাত হয়েছে, কিন্তু সেইসব মানুষগুলো গরীবের রক্তচোষে কিন্তু সমাজ তাদের ডাকাত বলে না।’ ডেভিড সাহেব গম্ভীর হয়ে গেল। ‘আমি একটু ভাবি।’ তারপর ডেভিড সাহেব করুণ হেসে বলল, ‘অবশ্য এর জন্য আমি তোমাদের জমিদারের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াব। ওই জমিদার আর দেওয়ান জানিতে পারিলে আমাকে মেরেই ফেলবে।’

বেহুলা বলল, ‘সাহেব, তোমার শত্রুরা তোমায় কিছুতেই মারতে পারবে না। মা ধরিত্রী তোমার প্রাণ বাঁচিয়ে দেবে।’

‘সত্যি?’

‘তোমার কপালের রেখা তাই বলে। তোমার বার্ধক্যের আগে মৃত্যু নেই।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *