।। আটত্রিশ।।
১৪ আগস্ট, ২০১৯
সারাটা পথ টেনশনে গাড়ি ড্রাইভ করে সন্তোষপুরে এল নমিতা। বিদ্যাদিদের বাড়ির দরজা আজ খোলাই ছিল। ভিতরের অবস্থা দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেল নমিতার। বিদ্যাদির শোওয়ার ঘরটা লণ্ডভণ্ড করে রেখে গেছে। বেশ বোঝাই যাচ্ছে একজনের কাজ নয় এটা, একটা দল এসেছিল।
‘কিচ্ছু টের পাওনি তোমরা?’ নমিতা জিজ্ঞাসা করল।
‘নাঃ, দু’জনেরই খুব বেলায় ঘুম ভাঙল। ঘুম থেকে উঠে দেখি এই অবস্থা।’
‘পুলিশে খবর দিয়েছ?’
‘দাদা থানা পুলিশ করতে চাইছে না। দাদার নিজের শরীরের অবস্থাই ভালো না। এর মধ্যে আমি বুঝতে পারছি না, কী করব। আমার আবার সকাল থেকে মাথার যন্ত্রণাটা বেড়ে গেছে।’
‘ঠিক আছে বিদ্যাদি, চিন্তা কোরো না,’ নমিতা আশ্বাস দিল। ‘আমি এখন এসে গেছি। আমি দেখছি।’
ধন্বন্তরি কবিরাজের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। নমিতাকে দেখে যেন বল পেলেন, তিনি বিচলিত হয়ে বললেন, ‘এ পরিস্থিতিতে কোথায় আমার ছেলে এসে বুড়ো বাপকে সাহায্য করবে, তা না—’
‘আপনি টেনশন করবেন না দাদা। আমরা আছি তো, সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনার শোবার ঘরে চোর ঢোকেনি?’ ঘরের চারদিকে তাকাল নমিতা।
‘না, সেটাই তো কথা, বিদ্যাদি বলল। ‘আমার ঘরে চোর ঢুকে ট্রাঙ্ক খালি করে দিয়েছে। দাদার কতগুলো আয়ুর্বেদের বই ওই ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। আমার যত কাগজপত্র ছিল সব নিয়ে গেছে। আমার বিএ এমএ পাসের সার্টিফিকেট, গ্র্যাজুয়েশনের ফটো, আমার রিসার্চ সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল, এমনকী আমাকে যে রাস্টিকেট করা হয়েছিল সেই চিঠিটা পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি যে কলেজে পড়াশোনা করেছি সেই ইতিহাসই মুছে দিয়েছে।’
দুঃখের সঙ্গে সঙ্গে মনে মনে খুব রাগ হচ্ছিল নমিতার। একজন অসহায় মেয়ের ওপর কী অত্যাচার! নমিতা বলল, ‘বিদ্যাদি, তোমার এসব সার্টিফিকেট নিয়ে তুমি ভেবো না। আমি ইউনিভার্সিটি থেকে সব সার্টিফিকেটের ডুপ্লিকেট বের করে আনব। তোমার অ্যাকাডেমিক অস্তিত্ব যদি কেউ মুছে দিতে চায় তা আমি হতে দেব না।’
‘এত বড় সর্বনাশটা করে গেল আর আমি তখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছি!’
নমিতা অ্যাডভোকেট বসাককে ফোন করল। মিস বসাক সব শুনে গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘ব্যাপারটা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, ড. স্যান্যাল। আইডিয়ালি
পুলিশে একটা এফ আই আর করে রাখা উচিত।’
‘আমার নিজেকে খুব দোষী দোষী লাগছে মিস বসাক,’ নমিতা বলল। ‘আমি এই পরিবারটাকে এর মধ্যে না জড়ালে ‘
‘অ্যাকচুয়ালি আমিই আপনাকে ইনভলভ করেছি। আমার খারাপ লাগছে আমার জন্য আপনার ভেকেশন ক্যানসেল করে কী ভোগান্তি! ঠিক আছে, এক কাজ করুন, আপনারা কিচ্ছুতে হাত দেবেন না। আমি আসছি। আমি মনসুরকে জানাচ্ছি। থানা পুলিশের কাজ যা করার আমি করব। গোটা ব্যাপারটা রিপোর্ট করে রাখা দরকার।’
‘অনেক ধন্যবাদ মিস বসাক,’ নমিতা স্বস্তির শ্বাস ফেলল। তারপর ফোন নামিয়ে ধন্বন্তরি কবিরাজকে বলল, ‘উকিল ম্যাডাম আসছেন। উনিই পুলিশে রিপোর্ট করার জন্য যা যা করার তাই করবেন। উনি কিছু ধরতে নিষেধ করলেন।
এক ঘন্টার মধ্যে পুলিশ ভ্যানে থানা থেকে তিনজন পুলিশ এল, ভ্যানের পিছনে অ্যাডভোকেট বসাক রেন্টাল কারে এলেন। ‘মনসুরকে আমি ফোন করেছিলাম। আমি থানা হয়েই আসছি।’ অ্যাডভোকেট বসাক বললেন।
পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের বয়স বেশি না। খুব চটপটে। দু’জন কনস্টেবল নিয়ে গোটা বাড়িটা খুঁজে খুঁজে দেখল, জায়গায় জায়গায় ফটো তুলল। নাক টেনে টেনে শ্বাস নিয়ে বলল, ‘স্লিপিং গ্যাস, এখনো পার্মানেন্ট মার্কারের গন্ধ একটু একটু পাচ্ছি। ওভার অ্যাপ্লিকেশন করলে ডেথ পর্যন্ত হয়।’ আলমারির কি-হোলে চাবির গোছা ঝুলছে। টাকা পয়সা কিছু চুরি হয়েছে?’
‘না,’ বিদ্যাদি বলল। ‘দাদা ব্যাঙ্ক থেকে সংসার খরচের জন্য কিছু টাকা তুলে এনেছিল—সব ঠিক আছে। খাটের নীচে আমার ট্রাঙ্ক থাকে সেটাই শুধু নেই। সেখানে আমার সার্টিফিকেট, মার্কশিট এসব ছিল, সব নিয়ে গেছে।’
‘হুম, চোর জানত কোথায় আপনার ট্রাঙ্ক থাকে—সব। আপনার কি কারুকে সন্দেহ হয়?’
‘সন্দেহ?’ বিদ্যাদি অন্যমনস্ক। ‘নাঃ! কাকে সন্দেহ করব!’ বিদ্যাদি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
‘আপনাদের বাড়িতে আপনারা দু’জন থাকেন?’
‘হ্যাঁ।’
‘আর কেউ?’
‘আমার ছেলে সানফ্রান্সিসকোতে থাকে,’ ধন্বন্তরি কবিরাজ বললেন।
‘সানফ্রান্সিসকো!’ বাড়ির হতদারিদ্র অবস্থা দেখে ভ্রূ কুঁচকালো সাব- ইনস্পেকটর। ‘আমেরিকান সিটিজেন?’
‘না, এখনো গ্রীন কার্ড পায় নি। অ্যাপ্লাই করেছে। ইন্ডিয়ান সিটিজেন।’
‘বাড়িতে টাকা-ফাকা পাঠায় না?’
‘আমি ওকে ত্যাজ্যপুত্র করেছি।’
‘হুম। একটা এফ আই আর করতে হবে। কী কী চুরি গেছে মনে করার চেষ্টা করে তার একটা লিস্ট বানিয়ে ম্যাডাম আপনি থানায় আসতে পারবেন? আপনার একটা সই দরকার। স্যারকে বিরক্ত করতে চাই না।’
পুলিশ খুব সহৃদয়তার সঙ্গে ব্যাপারটার প্রাথমিক তদন্ত করে চলে যাওয়ার পর অ্যাডভোকেট বসাক বললেন, ‘একটু ভালো করে ভাবার চেষ্টা করুন মিস দাস। যা যা চুরি গেছে তার ডিটেল লিস্ট দেবেন। যে যে সব ডকুমেন্টস মিসিং তা সব লিখবেন।’
‘আমি কালই গুছিয়েছি নমিতার সঙ্গে কথা বলে, সুতরাং আমার টাটকা মনে আছে,’ বিদ্যাদি বলল। ‘আমি যতটা মনে করতে পারি লিখছি।’
বিদ্যাদি লিস্ট বানাল। তারপর তিনজনে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে এফ আই আর লিখিয়ে বাইরে এল।
থানা থেকে ফেরার সময় মিস বসাক নমিতার গাড়িতে উঠলেন, ওঁর রেন্টাল কার পিছনে পিছনে এল। গাড়িতে নমিতা বলল, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মিস বসাক, এভাবে এসে হেল্প করার জন্য।’ অ্যাডভোকেট বসাক কিছু চিন্তা করছিলেন, উনি বললেন, ‘ওটা কিছু না। তবে ব্যাপারটা খুবই সিরিয়াস হয়ে উঠেছে। কে এটা করতে পারে? তার উদ্দেশ্য কী?’
বিদ্যাদির বাড়ি এসে গেছে। কবিরাজ মশাই ভিতরের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, ‘থানায় ডায়েরি করিয়ে এলি?’
‘হ্যাঁ,’ বিদ্যাদি বলল। ‘পুলিশ কী বলল?’
‘ওরা কিছু খোঁজ পেলে জানাবে।’
‘আমার কবিরাজি ওষুধের সব কিছু ওই ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। বাবলুকে পর্যন্ত আমি দিই নি। সব চোর চুরি করে নিয়ে গেল! সঙ্গে তোর সব সার্টিফিকেট নিয়ে গেল।’ কবিরাজ মশাই উদ্বিগ্ন।
নমিতা বলল, ‘বিদ্যাদি, আমি শিওর যে ওরা তোমার প্রেমচাঁদ রায়চাঁদের ডিসার্টেশনটা চুরি করতে এসেছিল। ওটা ওরা লাইব্রেরি থেকে সরিয়েছে। ওরা জানে তোমার কাছে কপি আছে। সেটাও সরাতে এসেছিল।’
‘আমার মনে হয় ওদের উদ্দেশ্য অন্য। আমি সেটা আন্দাজ করতে পারছিলাম।’ বিদ্যাদি অন্যমনস্ক। ‘আমি এ বয়সে আবার নতুন করে পড়াশোনা শুরু করব এই আনন্দে কাল সারাদিন কাটিয়েছি। রাতে শুতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত পিএইচডি টপিক সংক্রান্ত সব কাগজ এক জায়গায় করে পড়ছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল!’
নমিতার খুব রাগ হচ্ছিল। ও অ্যাডভোকেট বসাককে বলল, ‘মিস বসাক, ড. পৃথুযশ ভৌমিকের নামে একটা কেস করা যায় কি?’
‘কোন অপরাধে?’
‘আমার স্থির বিশ্বাস, এই সব চুরির পিছনে পৃথুযশ আছে।’
‘এটা প্রমাণ করবেন কীভাবে?’ মিস বসাক বললেন। ‘আপনার কাছে কোনো এভিডেন্স আছে কি?’
‘না তা ঠিক নেই—’
‘এভিডেন্স আর উইটনেস—আদালতকে কনভিন্স করাতে গেলে এদুটোর প্রয়োজন সব থেকে বেশি। আপনি কী চান? পৃথুযশ ভৌমিককে হ্যারাস করতে? প্রমাণ না করতে পারলে ও পাল্টা ডিফেমেশনের কেস ঠুকে দেবে।’
‘আমি পৃথুযশ ভৌমিককে কাউন্টার অ্যাটাক করতে চাই। ও ভাবছে বিদ্যাদি দুর্বল, ওর ওপর অনায়াসে অত্যাচার করতে পারে। ওকে আমি আমাদের দেশের আদালতে এনে দাঁড় করাতে চাই।’
‘ড. পৃথুযশ ভৌমিক একজন আমেরিকান সিটিজেন। একজন রেস্পেক্টেবল মানুষ। পৃথিবীর যে কেউ যে কোনো প্রান্তের আদালতে মামলা ঠুকে দিলেই যে আমেরিকান সিটিজেনকে সে দেশের আদালতে গিয়ে দাঁড়াতে হবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। অনেস্টলি, পৃথুযশ ভৌমিকের ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশনে আমাদের পেটেন্ট কেসে অনেক লাভ। কিন্তু শুধু কাদা ছুঁড়ে ডিফেম করলে ও আদালতের সিম্প্যাথি পাবে, আর তাতে আমাদের ক্ষতি। আমি উঠি।’
‘এক কাপ চা খেয়ে যাবেন না?’ বিদ্যাদি বলল।
‘আজ না, থ্যাঙ্কস। আমার হাতে একদম সময় নেই। আমাকে আরুষিদের জিঞ্জিরাবাজারের ফ্যাক্টরিতে আমার অডিটর দেখা করতে বলেছে, আরেকদিন চা খাব।’ মিস বসাক বসলেন না। রেন্টাল কার নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
নমিতা বিড়বিড় করে বলল, ‘আমি জানি কীভাবে পৃথুযশকে পাল্টা আঘাত করব।’
‘কীভাবে?’ বিদ্যাদি অবাক হয়ে নমিতার দিকে তাকিয়ে।
‘আজই পৃথুযশের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের চার্জ আনব। ও তোমার থিসিস থেকে টুকেছে। এটা সকলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাব। বিদ্যাদি, তুমি আমার কাছে একটা লিখিত নালিশ জানাও। আই উইল রিওপেন দ্য কেস।’
‘আমি?’ বিদ্যাদি বলল। ‘আমার কথা কেউ শুনবে? ত্রিশ বছর আগে তো কেউ আমার আবেদনে সাড়া দেয়নি। আমায় যখন রাস্টিকেট করা হয়েছিল, তখন আমি নালিশ জানিয়ে সব প্রফেসরের কাছে দৌড়ে দৌড়ে গেছি সাহায্য ভিক্ষা চাইতে। কেউ আমাকে সাহায্য করেনি। কিছু কিছু প্রফেসর আমায় সাহায্য করার শর্ত হিসেবে আমার যৌবন উপভোগ করতে চেয়েছে। আমি তখন সরে এসেছি। কেউ এগিয়ে আসেনি সাহায্য করতে। কিছু লাভ হয়নি।’
নমিতা বড় একটা শ্বাস নিয়ে বলল, ‘বিদ্যাদি, আমি এখন আর্টস ফ্যাকাল্টির ডিন। তোমাদের দু’জনের থিসিসের কাজ আমার নজরে এসেছে। তোমাদের দু’জনের প্রোপোজাল সাবমিশনের তারিখ আমি দেখেছি। তুমি যদি নালিশ জানাও তবে আমি ব্যাপারটার ইনভেস্টিগেশন করাবো। পৃথুযশ আমেরিকান সিটিজেন হতে পারে তবে ওর টিকি বাঁধা আমার হাতে। প্লেজারিজম প্রমাণিত হলে ওর পিএইচডি ডিগ্রী বাতিল হয়ে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে ওর ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষকতার চাকরি।’
বিদ্যাদি একটু চিন্তা করে বলল, ‘ঠিক আছে, আমি অ্যাপিল করব। তবে পৃথুযশ আমার বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা করলে তখন কী হবে? ওদের তো এখন অনেক ক্ষমতা। আমার লড়াই করার ক্ষমতা নেই। আহিরীটোলা স্টেশনের বাচ্চা মেয়েগুলোও শেষ হয়ে যাবে—’
নমিতার নিজেকে ফাঁসির আসামী মনে হচ্ছিল। দম বন্ধ করে চোখের পাতা
জোর করে বুজে ও কোনোমতে বলতে পারল—‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি, বিদ্যাদি। আমি তোমার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত থাকবো।’
‘ঠিক আছে। তবে আমি লিখছি।’
বিদ্যাদি কাগজ কলম নিয়ে ভেবে ভেবে চিঠিটা লিখতে লাগল। নমিতা ঝুঁকে পড়ে দেখছিল আর ভাবছিল মা সরস্বতীর নিজেরও এত সুন্দর হাতের লেখা হবে না। চিঠি লেখা শেষ করে বিদ্যাদি বলল, ‘দেখ হবে কিনা?’
নমিতা চিঠিটা পড়ল। সন্তুষ্ট হয়ে বলল, ‘বাকিটা আমার ওপর ছেড়ে দাও।’ চিঠিটা পার্সে ঢোকাবার সময় বিদ্যাদির মোবাইল ফোনটা বাজল। বিদ্যাদি ফোনটা কানে তুলল। নমিতা দেখল বিদ্যাদির দু’চোখ বিস্ফারিত হয়ে উঠেছে। বিদ্যাদি বলল, ‘সেকি?… কখন?… কাল রাতে?…হে ভগবান!’ বিদ্যাদি কপালে হাত দিয়ে বসে পড়ল।
‘কী হয়েছে বিদ্যাদি?’ নমিতা আন্দাজ করছে খুব খারাপ কিছু একটা হয়েছে। ‘কাল রাতে বৌবাজারে আমাদের এনজিও ‘অনিকেত’এর অফিসেও চোর এসেছিল। চোর সমস্ত কাগজ-ফাইল সব কিছু ঘাঁটাঘাঁটি করে কিছু খুঁজেছে। সব কাগজপত্র, বই তাক থেকে নামিয়ে সারা মেঝেতে ছড়িয়ে রেখে গেছে! ‘অনিকেত’এর গার্ড আমাকে এখন জানাল।’
‘কী বলছ, বিদ্যাদি?’ নমিতা হতবাক।
‘জানি না, আমার ভয় লাগছে নমিতা। আমার ওপর রেগে গিয়ে ওরা আমার স্কুলের ছাত্রীদের কোনো ক্ষতি করবে না তো?’
নমিতার মনে হলো ব্যাপারটা মিস বসাককে বলে পুলিশকে এসব জানানো দরকার। কিন্তু এখানে নয়। বাড়ি ফেরার পথে কথা বলতে হবে। নমিতা বিদ্যাদির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল। বিদ্যাদির বাড়ি থেকে বেরিয়ে নীচে রাস্তায় নামতেই নমিতার মোবাইলটা বাজল। মিস বসাকের ফোন–‘আপনি কোথায়?’
‘বিদ্যাদির বাড়ি থেকে বেরোলাম।’
‘আপনি একবার লালবাজারে চারটের সময় আসতে পারবেন?’
‘কেন বলুন তো?’
‘মনসুর একটা দরকারি ব্যাপারে আসতে বলছে।’
‘বিদ্যাদিকে নিয়ে আসব?’
‘না, আপনি একাই আসুন প্লিজ। অন্য কোনো কাজ আছে?’
‘একবার ইউনিভার্সিটিতে যাব। বিদ্যাদি অ্যাপিল করেছে পৃথুযশ যে প্লেজারিজম করেছে তার বিরুদ্ধে। আমাকে একটা নোটশিট বানিয়ে ভিসি’র অ্যাপ্রুভাল নিতে হবে।’
ঠিক আছে। আমি আপনাকে আপনার অফিস থেকে তুলে নেব। তারপর একসঙ্গেই যাব লালবাজারে।’
‘কী হয়েছে মিস বসাক?’ নমিতার মনে হলো মিস বসাক কিছু প্ৰকাশ করছেন না।
মনসুর বলছে ব্যাপারটা সিরিয়াস, তাই ডেকে পাঠিয়েছে।’
ফোন রেখে নমিতা ভাবল এমন কী হয়েছে যে ডেপুটি কমিশনার মিস বসাককে আর্জেন্টলি ডেকে পাঠালেন?’
