বাংলায় তুর্কী শাসন

বাংলায় তুর্কী শাসন

৬। মালিক নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ : ৬২৪ হিঃ (১২২৭ খ্রীঃ)—৬২৬ হিঃ (১২২৯ খ্রীঃ) (দিল্লীসম্রাট ইলতুতমিসের পুত্র)

সমকালীন দিল্লীর সুলতান—সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুতমিস—

৬০৭ হিঃ (১২১০ খ্রীঃ)—৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)।

দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিস তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র নাসিরুদ্দীন মাহমুদকে অযোধ্যা থেকে লক্ষ্মৌতী পর্যন্ত সমগ্র এলাকার শাসনভার প্রদান করে মালিক-উল-শরক (পূর্বদেশের সম্রাট) উপাধি দেন। ১২২৯ খ্রীঃ (৬২৬ হিঃ) তে আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল মনসুর আল-মুসতানসির বিল্লাহর নিকট থেকে সুলতান ইলতুতমিস সনদ ও খিলাত লাভ করেন। ইলতুতমিস খিলাত স্বরূপ সমুদয় বস্ত্রাদির মধ্য থেকে অতি মূল্যবান একটি বস্ত্র এবং সেই সঙ্গে লাল রঙের একটি রাজছত্র প্রাণ-প্রিয় পুত্রের জন্য লক্ষ্মৌতীতে প্রেরণ করেন। মালিক নাসিরুদ্দীন ঐ রাজছত্র, মূল্যবান বস্ত্র ও বিশিষ্ট সম্মান লাভ করে মহিমান্বিত হন। কিন্তু বিধির বিধান—উক্ত বর্ষে নাসিরুদ্দীনের জীবনলীলা সাঙ্গ হয়। দিল্লীর সুলতানের যে সকল রাজকর্মী খিলাত নিয়ে লক্ষ্মৌতী আসেন, তাঁরাই নাসিরুদ্দীনের মৃত্যু সংবাদ দিল্লীতে নিয়ে যান। নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ দিল্লীতে সমাধিস্থ আছেন।

৭। দৌলত শাহ বিন মওদুদ : ৬২৬ হিঃ (১২২৯ খ্রীঃ)—৬২৭ হিঃ (১২২৯-৩০ খ্রীঃ)

সমকালীন দিল্লীর সুলতান—

সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুতমিস ৬০৭ হিঃ (১২১০ খ্রীঃ)—

৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)

নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহর আকস্মিক মৃত্যুর পর দৌলতশাহ বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফা মুসতানসির বিল্লাহ ও সুলতান ইলতুতমিসের নামের সঙ্গে নিজ নাম যুক্ত করে ৬২৭ হিজরী সনে রৌপ্য মুদ্রা প্রচলন করেন। মুদ্রায় তিনি নিজেকে ‘‘সুলতান আল-আদিল শাহানশাহ আল-বাজিল আলা-উদ-দুনিয়া ওয়াদ-দীন আবুল গাজী দওলত শাহ বিন মওদুদ আজমে খালিফাতুল্লাহ জহীর আমীর-ইল-মোমেনীন’’ রূপে দাবী করেছেন, তবুও দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিসের নাম উৎকীর্ণ থাকার জন্য বলা যায় দৌলত শাহ বিদ্রোহী ছিলেন না।

৮। মালিক ইখতিয়ারউদ্দীন বলকা : ৬২৭ হিঃ (১২২৯-৩০খ্রীঃ)—৬২৮ হিঃ (১২৩১ খ্রীঃ)

 সমকালীন দিল্লীর সুলতান—

 সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুতমিস ৬০৭ হিঃ (১২১০ খ্রীঃ)—

 ৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)

ইখতিয়ারউদ্দীন বলকা বিদ্রোহী হয়ে শাসন ক্ষমতা গ্রাস করেন। মিনহাজের মতে তিনি বিদ্রোহী হন এবং দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিস বিদ্রোহী ইখতিয়ারউদ্দীন বলকা খিলজীকে দমন করার জন্য হিন্দুস্তানের সৈন্য সহ লক্ষ্মৌতী অভিমুখে অগ্রসর হন এবং ৬২৮ হিজরী সনে ঐ বিদ্রোহীকে করতলগত করে লক্ষ্মৌতী রাজ্যের ভার মালিক আলাউদ্দীন জানীকে অর্পণ করেন।

৯। মালিক আলাউদ্দীন জানী : ৬২৮ হিঃ (১২৩১ খ্রীঃ) ৬৩০ হিঃ (১২৩২-৩৩ খ্রীঃ)

 সমকালীন দিল্লীর সুলতান

• সুলতান সামসুদ্দীন ইলতুতমিস

 ৬০৭ হিঃ (১২১০খ্রীঃ)—৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)

৬২৮ হিজরীর ১৫ই রজব মাসের পূর্বেই (১২৩১ খ্রীঃ) লক্ষ্মৌতী রাজ্যের শাসনভার আলাউদ্দীন জানীর হাতে অর্পণ করে দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিস দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেন। ইতঃপূর্বে আলাউদ্দীন জানী বিহারের শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি মূলতঃ তুর্কীস্তানের শাহজাদা ছিলেন, মোঙ্গলদের অত্যাচারে হিন্দুস্তানে এসে সুলতান ইলতুতমিসের অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন। রাজপরিবারে জন্ম হেতু তাঁর চলাফেরা রাজকীয় ছিল। কোন অজ্ঞাত কারণে মালিক আলাউদ্দীন জানী সুলতান কর্তৃক লক্ষ্মৌতীর শাসন ক্ষমতা থেকে অপসারিত হন এবং লক্ষ্মৌতীর শূন্য সিংহাসনে মালিক সাইফউদ্দীন আইবক এবং বিহারের সিংহাসনে তুঘ্রাল তুগান খাঁ শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।

১০। মালিক সাইফ-উদ-দীন আইবক য়ুগান তুর্ক :—৬৩০ হিঃ (১২৩২-৩৩ খ্রীঃ)-৬৩৩ হিঃ(১২৩৬ খ্রীঃ)।

 সমকালীন দিল্লীর সুলতান—

• সুলতান সামসুদ্দীন ইলতুতমিস

 ৬০৭ হিঃ (১২১০ খ্রীঃ)—৬৩৩ (১২৩৬ খ্রীঃ)

ইলতুতমিস ২০ শাবান সোমবার ৬৩৩ হিঃ

(এপ্রিল ১২৩৬ খ্রীঃ) মৃত্যু বরণ করেন।

সাইফউদ্দীন আইবক কারা-খিতাই সম্প্রদায়ভুক্ত তুর্কি ছিলেন। তিনি সুলতান ইলতুতমিসের ক্রীতদাস ছিলেন। দক্ষ প্রশাসক ও সাহসী যোদ্ধা তাঁর লক্ষ্মৌতী রাজ্য শাসনকালে বঙ্গ অভিযান করেন এবং সেখান থেকে অনেকগুলি হস্তী হস্তগত করে সুলতান ইলতুতমিসের হস্তে উপহার স্বরূপ প্রেরণ করেন। এই জন্য মুগ্ধ হয়ে সুলতান তাঁকে ‘যুগনতৎ’ উপাধি দেন। সুলতান ইলতুতমিস ২৯শে এপ্রিল ১২৩৬ খ্রীঃ (৬৩৩ হিঃ) সনে পরলোক গমন করেন; তাঁর মৃত্যুতে দিল্লীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বাংলাতে শাসক সাইফউদ্দীনের উক্ত বর্ষে বিষ পানে অথবা বিষ প্রয়োগে মৃত্যু হয়।

১১। আউর খাঁ আইবক : ৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)

 সমকালীন দিল্লীর সুলতান—

• সুলতান রুকন-উদ-দীন ফিরোজ শাহ

 সিংহাসনে আরোহণ ২১শে শাবান মঙ্গলবার ৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)

দিল্লীতে সুলতান ইলতুতমিস এবং বাংলাতে সাইফউদ্দীনের মৃত্যুর পরে লক্ষ্মৌতীর শাসন ক্ষমতা হস্তগত করেন আউর খাঁ আইবক নামে একজন তুর্কি। তৎকালে বিহারের শাসনকর্তা তুগরল খাঁ কর্তৃক তিনি আক্রান্ত হন এবং যুদ্ধে নিহত হন।

১২। ইজ্জুদীন তুগরল তুগান খাঁ : ৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)—৬৪২ হিঃ, জেলকাদ মাস (১২৪৫ খ্রীঃ)। মৃত্যু বরণ-১২৪৭ খ্রীঃ (৬৪৪ হিঃ)

সমকালীন দিল্লীর তুলতান

• সুলতান রুকনুদ্দীন ফিরোজ শাহ (ইলতুতমিসের পুত্র)

 ৬৩৩-৬৩৪ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)

 ২১শে শাবান মঙ্গলবার ৬৩৩ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ) সিংহাসনে আরোহণ।

 ১৮ই রবিউল আওয়াল রবিবার ৬৩৪ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ) মৃত্যুবরণ।

 (রাজত্ব কাল-৬ মাস ২৬ দিন)

• সুলতান রাজিয়া (ইলতুতমিসের কন্যা) ৬৩৪ হিঃ (১২৩৬ খ্রীঃ)।

 ৬৩৭ হিঃ (১২৪০ খ্রীঃ)

 শাহাদত বরণ ২৫শে রবিউল আওয়াল ৬৩৮ হিঃ (১২৪০ খ্রীঃ)

• সুলতান মঈজুদ্দীন বাহরাম শাহ (ইলতুতমিসের পুত্র) ৬৩৭ হিঃ

 (১২৪০)—৬৩৯ হিঃ (১২৪২ খ্রীঃ)

 (২৭/২৮ রমজান, ৬৩৭ হিঃ (১২৪০ খ্রীঃ) সিংহাসনে আরোহণ,

 ৮ই জেলকাদ ৬৩৯ (১২৪২ খ্রীঃ) সিংহাসন চ্যুত,

 ১৩ই জেলকাদ ৬৩৯হিঃ (১২৪২ খ্রীঃ) শাহাদত বরণ

• সুলতান আলাউদ্দীন মাসুদ শাহ (ফিরোজ শাহর পুত্র)

 ৬৩৯ হিঃ (১২৪২ খ্রীঃ)—৬৪৪ হিঃ (১২৪৬ খ্রীঃ)

 ৮ই জেলকাদ ৬৩৯ হিঃ শনিবার সিংহাসনে আরোহণ।

অতঃপর লক্ষ্মৌতী বিজয়ী তুগরল তুগান খাঁ বিহারের সঙ্গে মুসলিম বাংলার শাসক হন। তিনি কারা-খিতাই তুর্কি ছিলেন এবং সুলতান ইলতুতমিসের ক্রীতদাস ছিলেন। তিনি সুলতান পরিবারে লালিত পালিত হন এবং নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ৬৩০ হিজরী (১২৩২-৩৩) সনে তিনি বদায়ুনের এবং পরে বিহারের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।

তুগরল খাঁ দিল্লীর দুর্বলতার সুযোগে অনুমতি ব্যতিরেকে লক্ষ্মৌতী অধিকার করে রাঢ় দেশের লখনোর এবং বরেন্দ্রর বসনকোট পর্যন্ত লক্ষ্মৌতী-প্রদেশকে বিস্তৃত করেন। তখন দিল্লীর সিংহাসনে ফিরোজ শাহর স্বল্পকাল রাজত্ব করার পরে সুলতান রাজিয়া রাজপদে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমুদয় কার্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। এই সংবাদে তুগরল দিল্লীতে উপঢৌকন প্রেরণ করেন। সুলতান রাজিয়া তুগরলকে সমর্থন করে ঝাণ্ডা ও চন্দ্রাতপ প্রেরণ করেন। তুগরল ৬৩৫ হিজরী সুলতান রাজিয়ার নাম উৎকীর্ণ করে লক্ষ্মৌতী টাঁকশাল থেকে মুদ্রা প্রচলন করেন। তুগরল তাঁর রাজত্বকালে দিল্লীর পরবর্তী সুলতানগণের প্রতি একই আনুগত্য বজায় রাখেন।

কথিত আছে যে তুগরল তুগান খাঁ বাইউদ্দীন হিলাল নামক এক সিরীয় উপদেষ্টার প্ররোচনায় দিল্লী সাম্রাজ্যের পূর্বদিকের প্রদেশ জয়ের জন্য সেনা অভিযান করেন (১২৪২খ্রীঃ)। বিহার নগরে আবিষ্কৃত তাঁর ৬৪০হিঃ (১২৪২ খ্রীঃ) সনে উৎকীর্ণ শিলালিপিতে তিনি ‘মজলিস-ই-আলা গিয়াস-উল-ইসলাম ওয়াল মুসলেমীন মগীস-উল-মুলুকে ওয়াল-সালাতীন আবিল ফতেহ তুগরল আলী সুলতান’ উপাধি গ্রহণ করেন। শিলালিপিতে তিনি নিজেকে ‘আলী-সুলতান’ বা গভর্ণর রূপে ঘোষণা করলেও ঘোষিত রাজকীয় উপাধির মধ্যে তাঁর উচ্চাভিলাষ লক্ষ্য করা যায়।

লক্ষ্মৌতী থেকে পশ্চিম রাজ্যগুলিতে তাঁর অভিযান কালে তিনি দিল্লীর সুলতান মাসুদ শাহর নিকট বহুমূল্য উপঢৌকন প্রেরণ করেন এবং নিজেও সুলতান প্রদত্ত খিলাত প্রাপ্তিতে সমৃদ্ধ হন। ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ এই সময়ে তুগরলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন (৬৪০খ্রীঃ)। তুগরল ঐতিহাসিক মিনহাজকে সসম্মানে গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে করে লক্ষ্মৌতী নিয়ে আসেন।

তুগরিল তুগান খাঁর পশ্চিমদেশ অভিযান কালে লক্ষ্মৌতীতে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে অরক্ষিত রাজ্যে উড়িষ্যারাজ প্রথম নরসিংদেব রাঢ় ও বঙ্গ আক্রমণ করেন (৬৪১হিঃ)। তুগরলের সঙ্গে এই যুদ্ধে ঐতিহাসিক মিনহাজ যোগদান করেন। যুদ্ধকালীন প্রথম নরসিংহদেবের নিপুণ সমরনীতির জন্য শেষ পর্যন্ত কাটাসিন যুদ্ধে তুগরলের বিশাল সেনা বাহিনী সামান্য কিছু হিন্দু সেনার নিকট পরাজয় বরণ করে পশ্চাৎপদ হয়ে লক্ষ্মৌতীতে ফিরে আসে। লক্ষ্মৌতীশাসক তুগরল দিল্লী দরবারে সাহায্যের জন্য শরফ-উল-মুলক আশ’ আরীকে প্রেরণ করেন।

উড়িষ্যারাজ ৬৪২ হিজরীর শওয়াল মাসের ১৩ তারিখ (১৪ই মার্চ, ১২৪৫ খ্রীঃ) লক্ষ্মৌতী আক্রমণ করেন। তুগরল লক্ষ্মৌতী দুর্গে অবরুদ্ধ হন। পরের দিন তুগরিলকে সাহায্যের জন্য দিল্লী বাহিনীর লক্ষ্মৌতীতে আসার খবরে দুই দিক দিয়ে আক্রান্ত হবার আশঙ্কায় উড়িষ্যারাজ লক্ষ্মৌতী ছেড়ে ফিরে যান। কিন্তু দিল্লীর সুলতান মাসুদ শাহর আদেশে প্রেরিত দিল্লী বাহিনীর মধ্যে অযোধ্যার গভর্ণর তামুর খান কিরাণ নিজের দায়িত্ব সমাপন করে ফিরে না গিয়ে লক্ষ্মৌতীর সিংহাসন দাবি করেন, ফলে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক মিনহাজউদ্দীনের মধ্যস্থতায় সিদ্ধান্ত হয় যে লক্ষ্মৌতী-রাজ্য মালিক কিরণকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং মালিক তুগরলের ধনসম্পদ, হাতি-ঘোড়া ও আত্মীয় পরিজন সহ দিল্লী চলে যাবার ব্যবস্থা হবে। এই সিদ্ধান্ত ৬৪২ হিজরীর ৬ই জেলকাদ বুধবার (১২৪৫ খ্রীঃ) গৃহীত হয়।

মিনহাজউদ্দীন সিরাজ তুগরলের সঙ্গী হন এবং ৬৪৩ হিজরী সনের ১৪ই সফর সোমবার (জুলাই ১২৪৫ খ্রী) রাজধানী দিল্লী পৌঁছে সুলতান মাসুদ শাহর দরবারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের অনুমতি পান।

পরবর্তীকালে দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহর জ্যোতিতে আলোকিত হয়ে তুগরল তুগান খাঁ অযোধ্যার শাসক নিযুক্ত হন (৬৪৪ হিঃ)। উক্ত সনের শাওয়াল মাসের শেষ শুক্রবার (১২৪৭ খ্রীঃ, ৯ই মার্চ) রাত্রে অযোধ্যাতে মৃত্যু বরণ করেন।

১৩) মালিক কামরুদ্দীন কিরান-ই-তামুর খান : ১২৪৫ খ্রীঃ (৬৪২ হিঃ)—১২৪৭ খ্রীঃ (৬৪৪ হিঃ)

সমকালীন দিল্লীর সুলতান—

• সুলতান আলাউদ্দীন মাসুদ শাহ (ফিরোজ শাহর পুত্র)

 ৬৩৯ হিঃ (১২৪২ খ্রীঃ)-৬৪৪ হিঃ ( ১২৪৬ খ্রীঃ)

 ৬৪৪ হিঃ ২৩শে মহরম রবিবার (১০ জুন ১২৪৬ খ্রীঃ)

 বন্দী দশায় মৃত্যুবরণ।

• সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (ইলতুতমিসের কনিষ্ঠ পুত্র)

 ৬৪৪ হিঃ (১২৪৬ খ্রীঃ)-৬৬৪ হিঃ (১২৬৬ খ্রীঃ)

 ৬৪৪ হিজরীর ২৩ শে মহরম সিংহাসনে আরোহণ।

অযোধ্যার শাসক তামুর খান কিরান দিল্লীর সম্রাট আলাউদ্দীন মাসুদ শাহর নির্দেশে উড়িষ্যার রাজা কর্তৃক অবরুদ্ধ লক্ষ্মৌতীর শাসক তুগরল তুগান খাঁর রক্ষক রূপে লক্ষ্মৌতী এসে নিজেই ভক্ষক হয়ে লক্ষ্মৌতীর শাসক হয়ে যান। তিনি প্রায় দুই বৎসর বিদ্রোহী হয়ে লক্ষ্মৌতী শাসন করলেও তাঁর রাজ্য জয় করার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমন কি উড়িষ্যা রাজ প্রথম নরসিংহদেব অধিকৃত অঞ্চল তিনি পুনরুদ্ধার করতে পারেন নি। তিনি ৬৪৪ হিজরীর শাওয়াল মাসে শুক্রবার রাত্রিতে (১২৪৭ খ্রীঃ) পরলোক গমন করেন। ভাগ্যের পরিহাস এই যে একই তারিখে রাত্রিকালে তাঁর পূর্ববর্তী লক্ষ্মৌতীর শাসক তুগরল তুগান খাঁ অযোধ্যাতে মৃত্যুবরণ করেন। তামুর খান কিরানের পত্নী গৌড়-লক্ষ্মণাবতীর ভূতপূর্ব শাসক সৈফুদ্দীন আইবকের কন্যা। তিনি মৃত স্বামীর শব অযোধ্যাতে সমাহিত করেন।

১৪) মালিক জালালুদ্দীন মাসুদ জানী : ১২৪৭ খ্রীঃ (৬৪৪ হিঃ)-১২৫১ খ্রীঃ ( ৬৪৯ হিঃ)

সমসাময়িক দিল্লীর সুলতান—

সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (ইলতুতমিসের কনিষ্ঠ পুত্র)

১২৪৬ খ্রীঃ (৬৪৪ হিঃ)—১২৬৬ খ্রীঃ ( ৬৬৪ হিঃ)।

তামুর খান কিরানের মৃত্যুর পর মালিক আলাউদ্দীন জানীর পুত্র মালিক জালালুদ্দীন মাসুদ জানী লক্ষ্মৌতীর শাসক নিযুক্ত হন। গৌড় নগরের নিকট পিছলি গঙ্গারামপুরে দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিসের সময়কালে নির্মিত একটি মসজিদে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র দিল্লীর সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহর রাজত্বকালে এবং মালিক জালালুদ্দীন মাসুদ জানী বাংলার গভর্ণর থাকাকালীন ১লা মহরম ৬৪৭ হিজরী (১২২৯ খ্রীঃ) তে উৎকীর্ণ প্রাপ্ত সংস্কারের লিপি থেকে জানা যায় যে জালালুদ্দীন মাসূদ জানী মালিক-উশ-শরক (পূর্ব দেশের অধিপতি) এবং ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেছেন। তিনি দিল্লীর প্রতিনিধি হলেও মনোভাবে প্রায় স্বাধীন নরপতি ছিলেন।

১৫) মালিক ইখতিয়ার-উদ-দীন-ইউজবক-ই-তুগরিল : (সুলতান মুগীসউদ্দীন) ১২৫১ খ্রীঃ (৬৪৯ হিঃ)—১২৫৭ খ্রীঃ (৬৫৫ হিঃ)

সমকালীন দিল্লীর সুলতান—

সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ-৬৪৪ হিঃ-৬৬৪ হিঃ (১২৪৬-১২৬৬ খ্রীঃ)

জালালুদ্দীন মাসুদ জানীর পরে লক্ষ্মৌতীর শূন্য সিংহাসনে অযোধ্যার গভর্ণর মালিক ইখতিয়ারউদ্দীন ইউজবক-ই-তুগরিল খান নিযুক্ত হন। ঐ পদে নিযুক্তির পর তিনি রাজ্য বিস্তারে মনোযোগ দেন। তিনি তাঁর রাজত্বকালে আরব্ধ অভিযানে নদীয়া, উমর্দন সহ রাঢ়-বঙ্গ বিজয় করে উড়িষ্যারাজ প্রথম নরসিংহ দেব অধিকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন এবং বিহার, অযোধ্যা অভিযান করেন। রাঢ়-বঙ্গ সহ লক্ষ্মৌতী, বিহার ও অযোধ্যার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে তিনি কামরূপ অভিযানে কামরূপ রাজ কর্ত্তৃক সপরিবারে বন্দী হন। যুদ্ধে গুরুতর আহত ইখতিয়ারউদ্দীন ইউজবুক তুগরিল খানের অন্তিম সময়ে শেষ ইচ্ছানুসারে পুত্র দর্শনের প্রার্থনা মঞ্জুর হলে পুত্রের মুখে স্নেহচুম্বন রত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (১২৫৭ খ্রীঃ)।

মালিক ইখতিয়ার-উদ-দীন ইউজবুক-ই-তুগরিল সুলতান ইলতুতমিসের ক্রীতদাস ছিলেন। সেনা বিভাগে সবিশেষ কৃতিত্ব থাকার জন্য উচ্চপদ লাভ করেন। মিনহাজের মতে বিদ্রোহ তাঁর মজ্জাগত ছিল। রাঢ়-বঙ্গ বিজয় করে দিল্লীর প্রতি অবাধ্যতা প্রকাশ করে তিনি লোহিত, কৃষ্ণ ও শ্বেত এই তিন বর্ণের চন্দ্রাতপ ব্যবহার শুরু করেন। তিনি তথাকার রাজস্ব থেকে ৬৫২ হিজরী (১২৫৪ খ্রীঃ) তে বিশেষ রৌপ্য মুদ্রা (মিন খরাজ-ই-উমর্দন ওয়া নূদিয়া) মুদ্রিত করেন এবং বিহার অযোধ্যা অভিযান করে সুলতান মুগীসউদ্দীন নাম ধারণপূর্বক নিজ নামে খুদবা পাঠ করান। যে নবদ্বীপ বিজয় উপলক্ষে লক্ষ্মণ সেনের কলঙ্ক কাহিনী রচনা হয়েছে, সেই নবদ্বীপ বখতিয়ার বা তাঁর উত্তরাধিকারীগণের অধিকারের বহির্ভূত ছিল, মুগীসউদ্দীন নবদ্বীপ (নদীয়া) জয় করতে সমর্থ হন।

সুলতান মুগীসউদ্দীন স্বাধীনতা অবলম্বন করলেও বাংলার মুদ্রায় দিল্লীর সুলতান নাসিরুদ্দীন মহম্মদের নামের সঙ্গে নিজ নাম উৎকীর্ণ করে ৬৫১ হিঃ/১২৫৩ খ্রীস্টাব্দতে (সম্ভবতঃ রাঢ় অভিযানে তৃতীয়বার উড়িষ্যারাজ কর্তৃক পর্যুদস্ত হবার পরে) এবং ৬৫৩ হিঃ/১২৫৫ খ্রীঃ অযোধ্যা অভিযানের পরে এবং কামরূপ অভিযানের পূর্বে রৌপ্য মুদ্রা মুদ্রিত করেন। এই মুদ্রা প্রকাশ চিরবিদ্রোহী মুগীসউদ্দীনের বীরত্ব, সমর কুশলতার পাশাপাশি কূটনীতি জ্ঞানের পরিচয় বহন করে।

১৬) মালিক ইজ্জ-উদ-দীন-বলবন-ই-উজবকী : ১২৫৭ খ্রীঃ (৬৫৫ হিঃ)-১২৫৯ খ্রীঃ (৬৫৭ হিঃ)

সমসাময়িক দিল্লীর সুলতান—

সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ ৬৪৪-৬৬৪ হিঃ-(১২৪৬-১২৬৬ খ্রীঃ)

কামরূপে সুলতান মুগীসউদ্দীনের মৃত্যুর পর ইজ্জউদ্দীন বলবন উজবকী লক্ষ্মৌতীর শাসন ভার গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সুলতান ইলতুতমিসের ক্রীতদাস এবং জালালুদ্দীন মাসুদ জানীর জামাতা। ৬৫২ হিঃ (১২৫৪ খ্রীঃ) তে তিনি দিল্লীর রাজদরবারে আমীর-ই-মজলিস ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে তিনি দিল্লী থেকে লক্ষ্মৌতী আগমন পূর্বক পূর্বতন সুলতান মুগীসউদ্দীনের অধীনে চাকুরি গ্রহণ করেন।

মালিক ইজ্জউদ্দীন লক্ষ্মৌতীর সিংহাসন দখল করে দিল্লীর সুলতানের নিকট উপঢৌকন প্রেরণ করেন। ৬৫৭ হিজরী (১২৫৯ খ্রীঃ) তে তাঁর পূর্ববঙ্গ অভিযান কালে কারা প্রদেশের শাসক মালিক আরসলন খাঁ লক্ষ্মৌতী দখল করেন। হৃত লক্ষ্মৌতী উদ্ধার করতে এসে তিনি আরসলন খাঁ কর্তৃক পরাজিত, বন্দী ও নিহত হন।

১৭) মালিক তাজউদ্দীন আরসলন খাঁ : ১২৫৯ খ্রীঃ (৬৫৭ হিঃ)-১২৬৫ খ্রীঃ (৬৬৩ হিঃ)

দিল্লীর সমসাময়িক সুলতান—

সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ-হিঃ ৬৪৪-৬৬৪ (১২৪৬-১২৬৬ খ্রীঃ)

মালিক তাজউদ্দীন আরসলন খাঁ ইলতুতমিসের ক্রীতদাস ছিলেন। দিল্লীর সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদের শাসনকালে তিনি কারা প্রদেশের শাসক নিযুক্ত হন। তিনি সুযোগের সদব্যবহার করে লক্ষ্মৌতী অধিকার করেন।*১ পরবর্তী লক্ষ্মৌতীর শাসক তাঁতার খাঁ (আরসলন খাঁর পুত্র) কর্তৃক উৎকীর্ণ বিহারের বারদরির শাহ ফজল উল্লাহর দরগাহে প্রাপ্ত অভিলেখ থেকে জানা যায় যে আরসলন খাঁ বিহার এবং বাংলায় স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। তিনি ১২৬৫ খ্রীষ্টাব্দে (৬৬৩ হিঃ) পরলোক গমন করেন।

১৮) তাঁতার খাঁ : ১২৬৫ খ্রীঃ (৬৬৩ হিঃ)-১২৬৮ খ্রীঃ (৬৬৭ হিঃ)

সমসাময়িক দিল্লীর সুলতান—

• সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ (ইলতুতমিসের কনিষ্ঠ পুত্র)

 ১২৪৬ খ্রীঃ (৬৪৪ হিঃ)—১২৬৬ খ্রীঃ (৬৬৪ হিঃ)

 (১২৬৬ খ্রীষ্টাব্দে ৩৬ বছর বয়সে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যু হয়)।

• সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন (উলুঘ খাঁ)—(নাসিরুদ্দীন মাহমুদের শ্বশুর)।

 ১২৬৬ খ্রীঃ (৬৬৪ হিঃ)—১২৮৭ খ্রীঃ (৬৮৬ হিঃ)

পিতা আরসলন খাঁর মৃত্যুর পর তাঁতার খাঁ বিহার ও বাংলাতে স্বাধীন ভাবে রাজত্ব শুরু করেন। কিন্তু ৬৬৪ হিজরীতে সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদের মৃত্যু হলে দিল্লীতে দুর্বল শাসন, অরাজকতা এবং বিশৃঙ্খলার অবসান হয় এবং উলুখ খান সুলতান গিয়াসুদ্দীন বলবন উপাধি গ্রহণপূর্বক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁতার খাঁ ৬৩ টি হস্তী সহ বহুবিধ উপঢৌকন প্রদানপূর্বক দিল্লীর আনুগত্য স্বীকার করেন। অতঃপর লক্ষ্মৌতী পুনরায় দিল্লীর অধীনস্থ প্রদেশে পরিণত হয়। তাতার খাঁ আনুমানিক ১২৬৮ খ্রীষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯) শের খান : ১২৬৮ খ্রীঃ-১২৭২ খ্রীঃ (৬৬৭ হিঃ-৬৭১ হিঃ)

সমসাময়িক দিল্লীর সুলতান—

সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন ১২৬৬ খ্রীঃ (৬৬৪ হিঃ) ১২৮৭ খ্রীঃ (৬৮৬ হিঃ)

তাঁতার খানের মৃত্যুর পর তাঁর বংশের জনৈক শের খান লক্ষ্মৌতীর শাসন ভার গ্রহণ করেন এবং দিল্লীর সম্রাট গিয়াসউদ্দীন বলবনের নামে মুদ্রা প্রচলন করেন।

২০) আমীন খান :-১২৭২ খ্রীঃ—১২৭৯ খ্রীঃ (৬৭১ হিঃ-৬৭৮ হিঃ)

সমসাময়িক দিল্লীর সুলতান—

সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন

১২৬৬ খ্রীঃ (৬৬৪ হিঃ)—১২৮৭ খ্রীঃ (৬৮৬ হিঃ)

শের খানের পরে দিল্লীর সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন আমীন খানকে লক্ষ্মৌতীর গভর্ণর নিযুক্ত করেন এবং তুগরল খানকে সহকারী গভর্ণর নিযুক্ত করেন। লক্ষ্মৌতীতে সহকারী গভর্ণর নিযুক্তি এই প্রথম।

২১) তুগরল খান : (সুলতান মুঈজউদ্দীন)-১২৭৯ খ্রীঃ (৬৭৮ হিঃ)—১২৮২ খ্রীঃ (৬৮১ হিঃ)

সমসাময়িক দিল্লীর সুলতান—সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন

১২৬৬ খ্রীঃ (৬৬৪ হিঃ)—১২৮৭ খ্রীঃ (৬৮৬ হিঃ)

তুগরল খান ছিলেন সুলতান বলবনের বিশ্বস্ত ক্রীতদাস। বলবন যে উদ্দেশে তুগরল খানকে সহকারী গভর্ণর করে লক্ষ্মৌতী প্রেরণ করেন, সে উদ্দেশ্য সার্থক হয়নি। তুগরল খান প্রভুর বার্ধক্য এবং দিল্লী সাম্রাজ্যের সীমান্তে মঙ্গল আক্রমনের সুযোগে লক্ষ্মৌতীর গভর্ণর আমীন খানকে বহিষ্কার করে নিজে বাংলার শাসক হন এবং দিল্লীর অধীনতাপাশ ছিন্ন করে স্বাধীন রাজার সমুদয় চিহ্ন ধারণপূর্বক নিজ নামে মুদ্রা তৈরী করেন। তাঁর ৬৭৮ হিজরী (১২৭৯ খ্রীঃ) তে লক্ষ্মৌতী টাঁকশাল উৎকীর্ণ মুদ্রায়*২ তিনি ‘‘সুলতান উল আজম মঈজ্জ-উদ-দুনিয়া-ওয়াদ-দীন আবুল মুজফ্ফর তুগরল আল সুলতান’’ উপাধি ধারণ পূর্বক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

দিল্লীর সুলতান বলবন ক্রীতদাসের বেয়াদপির শাস্তি প্রদানের জন্য তুগরল খানের বিরুদ্ধে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু পর পর দুইবার সেনা অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় সুলতান বলবন স্বয়ং পুত্র বুগরা কে সঙ্গে করে সুবিশাল সেনা বাহিনী সহ লক্ষ্মৌতী অভিযান করেন (১২৮০ খ্রীঃ)। সুলতান বলবনের এই সুবিশাল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সম্ভবপর নয় মনে করে তুগরল খান লক্ষ্মৌতী পরিত্যাগ পূর্বক দিল্লীশ্বরের দিল্লী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষাতে সুবর্ণগ্রামের নিকটস্থ নর-কিল্লা দুর্গে আত্মগোপন করেন। তৎকালে দনুজরায় নামক হিন্দু নরপতি পূর্ববঙ্গে অর্থাৎ সুবর্ণগ্রামে শাসন ও রাজত্ব করছিলেন। নদীবেষ্টিত নরকিল্লা দুর্গ আক্রমণ সম্ভব নয় বিবেচনা করে বলবন রাজা দনুজরায়ের সাহায্যপ্রার্থী হন (১২৮২ খ্রীঃ)।

.

*১ সমসাময়িক ঐতিহাসিক সূত্র মিনহাজের ‘তাবকাত-ই-নাশিরী’—বঙ্গে আরসলন খাঁ এবং দিল্লীতে সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদের রাজত্বকালে ৬৫৮ হিজরী (১২৬০ খ্রীঃ) তে সমাপ্ত হয় এবং পরবর্তী ঐতিহাসিক জিয়া-উদ্-দীন বরনী সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন (উলুখ খাঁ) এর রাজত্বকাল থেকে তাঁর ঐতিহাসিক গ্রন্থ তারিখ-ই-ফিরুজশাহী শুরু করেন।

*২ সম্প্রতি সুলতান মঈজউদ্দীনের এই মুদ্রা শ্রী পরিমল রায় কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়েছে। ইতঃপূর্বে তুগরল খানের রাজকীয় উপাধি বিষয়ে ঐতিহাসিক বারনী (তারিখ-ই-ফিরুজশাহী) তে ‘মুগীসউদ্দীন’ এবং ঐতিহাসিক ইয়াহিয়া (তারিখ-ই-মুবারক শাহী) তে ‘মঈজউদ্দীন’ উল্লেখ করেছেন। বারনীর গ্রন্থ সমসাময়িক হওয়ায় এতদিন পর্যন্ত তুগরল খানের রাজউপাধি মুগীসউদ্দীন ধরা হয়েছিল। বর্তমানে মুদ্রা সাক্ষ্যে তাঁর রাজকীয় উপাধি ‘মঈজউদ্দীন’ সংশয়াতীত বলে গণ্য হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *