ইসলাম ও ভারতবর্ষ

ইসলাম ও ভারতবর্ষ

ইসলাম ধর্ম-প্রবর্তক হজরত মহম্মদ মক্কার কোয়ারেশ বংশে ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা আবদুল্লাহর মৃত্যু হয় এবং শিশু বয়সে তিনি তাঁর মাতাকে হারিয়ে পিতৃব্য আবু তালেবের কাছে প্রতিপালিত হন। প্রথাগত শিক্ষা লাভের সুযোগ না হলেও তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা প্রবল ছিল। তৎকালে মক্কার কাবা মন্দিরে একটি কালো পাথর ও বহু দেবদেবীর মূর্তি পূজিত হত এবং জমজম নামক কূপের জল সকলের কাছে পবিত্র বিবেচিত হত।

তৎকালে সামাজিক ব্যভিচার, কৌম সংঘর্ষ ও ধর্ম কলহে আরব-সমাজ দীর্ণ হয়েছিল। ধর্ম সমাজকে ধারণ করে। যখন ধর্ম গ্লানিতে পূর্ণ হয়, তখন ধর্মকে রক্ষা করার জন্য যুগাবতারের অভ্যুত্থান হয়। হজরত মহম্মদ সেই যুগ সন্ধিক্ষণের যুগাবতার। তিনি যুগপৎ সামাজিক-গ্লানি দূরীকরণ ও ঈশ্বর জিজ্ঞাসা নিরসনের জন্য মক্কার কাছে হেরাগিরি গুহায় ধ্যানমগ্ন হতেন। কথিত আছে যে চল্লিশ বৎসর বয়সে তিনি স্বর্গীয়দূত জিব্রাইলের মাধ্যমে ঈশ্বরের বাণী লাভ করেন। সেই বাণীমালা হচ্ছে ‘কোরান’। হজরত মহম্মদ হলেন রসুল বা বাণীবাহক (মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ)। পরম্পরাগত হজরত মহম্মদের উপদেশ-বাণী হচ্ছে ‘হাদিস’। কোরান ও হাদিস মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। কোরানে একেশ্বরবাদ প্রকটিত হয়েছে, এতৎপ্রকটিত ধর্মের নাম ইসলাম ধর্ম। ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ ‘শান্তি’।

ঈশ্বরের বাণী লাভ করার পর হজরত মহম্মদ নব ধর্মমত প্রচারে উদ্যোগী হন। তিনি হলেন মহানবী (সা)। কিন্তু তাঁর আত্মীয়-স্বজন অর্থাৎ কোয়ারেশ বংশের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি অনুগামী সহ মক্কা ছেড়ে ইহুদী অধ্যুষিত মদিনায় হিজরত করেন (৬২২খ্রীঃ ১৫-জুলাই-সন্ধ্যা), এবং মদিনায় সনদের (আদেশপত্র) মাধ্যমে একটি ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন। প্রথমতঃ মদিনা ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের রাজধানী।

হজরত মহম্মদের মদিনায় হিজরত উপলক্ষে তাঁর অনুগামী হজরত উমরের নির্দেশে ১৬ই জুলাই, ৬২২ খ্রীস্টাব্দ থেকে হিজরী সনের প্রবর্তন হয়। ‘হিজরত’ একটি আরবি শব্দ, এর অর্থ স্বদেশ ত্যাগ। সেই হেতু ‘হিজরী’ স্বদেশ ত্যাগসম্বন্ধীয় বৎসর গণনা বিশেষ (ERA)। হিজরী অব্দ হচ্ছে চান্দ্র অব্দ।

মদিনায় ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর হজরত মহম্মদ মুসলিমদিগকে সংগঠিত করে বেশ কয়েকটি যুদ্ধের পর কোয়ারেশদের পরাজিত করে মক্কা অধিকার করেন। সমগ্র আরব দেশে ইসলাম ধর্মের প্রচার ঘটে। ১১ হিজরী সনের রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখে (৮ই জুন, ৬৩২ খ্রীঃ) মহানবী হজরত মহম্মদ ইন্তেকাল (মৃত্যুবরণ) করেন।

হজরত মহম্মদ হিজরী ১ম সন (৬২২ খ্রীঃ) থেকে ১১ ই রবিউল আওয়াল ১১ হিজরী (৭ই জুন ৬৩২ খ্রীঃ) পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুবরণের পরে হজরত আবু বকর আস-সিদ্দীক ১১ হিজরী (৬৩২ খ্রীঃ) থেকে ১৩ হিজরী (৬৩৪ খ্রীঃ) খালিফা (প্রতিনিধি) নির্বাচিত হন। এইখান থেকে খিলাফতের প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়। আবু বকরের মৃত্যুর পর হজরত উমর আল ফারুক ১৩ হিঃ (৬৩৪ খ্রীঃ) থেকে ২৪ হিঃ (৬৪৪ খ্রীঃ) পর্যন্ত খালিফার পদ অলংকৃত করেন। তিনি প্রথম খালিফা যিনি ‘আমীরুল মোমেনীন’ উপাধি প্রাপ্ত হন। তাঁর শাহাদত বরণের পর হজরত উসমান আল-গানী ২৪ হিঃ (৬৪৪ খ্রীঃ) থেকে ৩৫ হিঃ (৬৫৬ খ্রীঃ) পর্যন্ত খালিফা পদে থাকেন। তাঁর মৃত্যুর পর চতুর্থ খালিফা হিসাবে হজরত আলী আল-মরতুজা ৩৫ হিজরী (৬৫৬ খ্রীঃ) থেকে ৪১ হিজরী (৬৬১ খ্রীঃ) পর্যন্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি ছিলেন হজরত মহম্মদের প্রতিপালক পিতৃব্য আবু তালেবের পুত্র এবং হাসান-হোসেনের পিতা। তিনি হজরত মহম্মদ কর্তৃক ‘আসাদুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর শাহাদত বরণের পর মুসলিম জাহানের খিলাফতের সময়কাল শেষ হয় এবং সাম্রাজ্যের কাল আরম্ভ হয়। অবশ্য পরবর্তী কালেও মুসলিম উষ্মাহর ঐক্যের প্রতীক হিসাবে খিলাফতের ব্যবহার দেখা যায়।

হজরত মহম্মদের পরে তাঁর প্রিয় ও সুযোগ্য চারজন খালিফা ছিলেন ইসলাম-সৌধের চারি স্তম্ভ স্বরূপ। ইসলাম ধর্মের প্রসার ও ধর্মীয় সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপনে এই চারজন চারটি স্তর বিশেষ। এই চারজন খালিফার যুগকে ইসলাম ইতিহাসে পবিত্র খালিফার যুগ (Patriarchal) নামে চিহ্নিত। পরবর্তীকালে উমাইয়া, আব্বাসীয় ইত্যাদি নামাঙ্কিত খালিফাগণ মুসলিম রাষ্ট্রের পরিচালনা করেন। হজরত মহম্মদের প্রদর্শিত পথে সৌভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সাম্যের আকর্ষণে ইসলাম ধর্ম ব্যাপক ভাবে প্রসারিত হয়।

আরবে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে আরবগণ ভারতে রাজ্য বিস্তার ও ধর্ম বিস্তারে আগ্রহী হন। খলিফা হজরত উমর আল-ফারুকের শাসনকালে ৬৩৬ খ্রীষ্টাব্দ (১৫ হিজরী) থেকে ভারতের দিকে জলপথে ও স্থলপথে নানাভাবে মুসলিম অভিযান সংগঠিত হয়। কিন্তু সেই সমস্ত অভিযান প্রতিহত হয়।

আরবের মুসলিম সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ইরাকের ভাইসরয় বা শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পর পর দুটি সামরিক অভিযান ব্যর্থ হবার পর উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালীদ বিন আব্দুল মালিকের রাজত্বকালে (৭০৫-৭১৫ খ্রীঃ) হাজ্জাজের অষ্টাদশ বর্ষীয় সেনাপতি আলাউদ্দিন মহম্মদ বিন কাশিমকে খলিফার সর্বোৎকৃষ্ট অশ্বারোহী বাহিনীর নায়ক করে সিন্ধুর হিন্দু রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রেরণ করা হয় (৭১১ খ্রীঃ)।

মহম্মদ বিন কাশিম দেবল ও পরে নিরুল অধিকার করে সিন্ধুনদ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে রাজা দাহিরের কাছে বাধা প্রাপ্ত হন। মহাসমর শেষে রাওয়ারে দাহির পরাজিত ও নিহত হন (জুন-৭১২ খ্রীঃ)। তারপরে তিনি ব্রাহ্মণাবাদ, আলোর ও মুলতান অধিকার করেন। সিন্ধু ও মুলতানে আশাতীত সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহম্মদ বিন কাশিম কাশ্মীর জয়ের উদ্দেশে অগ্রসর হন। অপর একটি দল কনৌজ জয়ের জন্য যাত্রা করে। কাশ্মীর রাজ ললিতাদিত্য এবং কনৌজ অধিপতি যশোবর্মণ তাঁদের প্রতিহত করে রাজ্যসীমা থেকে বিতাড়িত করেন। ইতোমধ্যে খলিফার নির্দেশে মহম্মদ বিন কাশিম স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেখানে তাঁর প্রাণদণ্ড হয়।

মহম্মদ বিন কাশিমের পরবর্তী কয়েকশত বৎসর আরবগণ বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে সিন্ধুদেশে রাজত্ব করেছিলেন। মহম্মদ বিন কাশিম কর্তৃক সিন্ধু অঞ্চলে একটি ক্ষুদ্র মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতের সাথে মুসলিম যোগাযোগের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়। রাজনৈতিক দিক থেকে এই বিজয়ের গুরুত্ব অধিক না হলেও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এর অবদান অনস্বীকার্য। আরবগণ ভারতীয়দের কাছ থেকে সঙ্গীত, জ্যোতিষ, গণিত, দর্শন, আয়ুর্বেদ, চিত্রকলা প্রভৃতি বিষয়কে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। সেই কারণে আরবদের সিন্ধু বিজয়কে ইসলাম ও ভারতের ইতিহাসে ফলাফলবিহীন এক ঘটনা মাত্র বলা হয় (An episode in the history of India and Islam, a triumph with out results—Stanely Lanepool).

ভারতবর্ষের পশ্চিম সীমান্তে সিন্ধু ও মুলতানে প্রতিষ্ঠিত প্রথম আরব মুসলিম আধিপত্য প্রায় তিন শত বৎসর একই স্থানে সীমাবদ্ধ থাকে। তৎকালে হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে চেনাব নদ পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিম পাঞ্জাবে প্রতিষ্ঠিত রাজপুত শাহী বংশ সাফল্যের সঙ্গে আরব আক্রমণ প্রতিহত করে। দশম শতকের শেষ দিকে শাহী রাজবংশের রাজা ছিলেন জয়পাল। ভারতে মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের কৃতিত্ব গজনির তুর্কি শাসকদের।

খ্রীস্টীয় নবম শতকের অববাসীয় খলিফাদের শাসনকালে পারস্য ও সন্নিহিত অঞ্চলে সামানিদ বংশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁরা ছিলেন নবদীক্ষিত পারসিক মুসলমান। আলপ্তগীন নামে জনৈক তুর্কি মুসলমান সামানিদ শাসনকর্তার রাজকার্যে প্রবৃত্ত হয়ে সামানিদ বংশীয় রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে ৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে (৩৫১ হিঃ) আফগান অন্তঃপাতী গজনীতে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই গজনভি রাজবংশে সাবুক্তগীনের পুত্র কাসেম মহম্মদ ৯৯৮ খ্রীষ্টাব্দে গজনির সুলতান হন। ইতিহাসে তিনি সুলতান মামুদ হিসাবে পরিচিত । তিনি আব্বাসীয় খালিফা আল কদর বিল্লাহর (৯৯১-১০৩১ খ্রীঃ) নিকট উপঢৌকন প্রেরণ পূর্বক খালিফার সমর্থন লাভ করেন। খালিফা সুলতান মামুদকে ‘ইয়ামিন-উদ-দ্দৌল্লা’ (সাম্রাজ্যের দক্ষিণ হস্ত) এবং ‘আমিন-উল-মিল্লাহ’ (ধর্মের রক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করে ভারত অভিযানের প্রেরণা দেন। সুলতান মামুদ খালিফার প্রদত্ত উপাধির সম্মান রক্ষার্থে ধর্মযুদ্ধের শপথ নিয়ে ভারতের দিকে সেনা অভিযান করেন। সমকালীন মুসলিমগণ তাঁকে গাজি (ধর্মযোদ্ধা) এবং বাৎসিকান (মূর্তিভঙ্গকারী) বলে অভিহিত করেন। তিনি ১০০০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত মোট ১৭ বার ভারত অভিযান করেন। কিন্তু রাজ্যজয় অপেক্ষা সম্পদ লুন্ঠনই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ভারতে স্থায়ীভাবে কোন সাম্রাজ্য স্থাপনের উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। কেবলমাত্র সামরিক কারণে আফগানিস্তানের শাহীরাজ্য, পাঞ্জাব ও মুলতান তিনি স্বীয় সাম্রাজ্যভূক্ত করেছিলেন। ধর্মযুদ্ধের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি যুদ্ধাভিযান করলেও তাঁর মধ্যে হিন্দুদের ধর্মান্তরকরণের ধর্মান্ধতা তেমনভাবে ছিল না। তিনি সম্পদের লোভে দেবালয় ও দেবমূর্তি ধ্বংস করেন। হিন্দুদের উপর তিনি ‘জিজিয়া’ আরোপ করেন নি। কিন্তু দেবালয় ও দেবমূর্তি ধ্বংস ও লুন্ঠনের মাধ্যমে তিনি হিন্দুদের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত করে ছিলেন। লুন্ঠনকারী মামুদের কার্যাবলীর জন্য ভবিষ্যতে ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে যে ঘৃণার ভাব সৃষ্টি হয়েছিল তার জন্য ভারতে ইসলাম প্রচারে বিঘ্ন এসেছিল। ভারত ইতিহাসে সুলতান মামুদ কোন কালজয়ী কৃতিত্ব স্থাপনে বা ইসলামধর্মের কোন মহান আদর্শ উপস্থাপনে ব্যর্থ ছিলেন। ভারতীয়দের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন নিছক এক লুন্ঠনকারী। Mahomud was simply a bandit operating on a Large Scale.—Smith.

ছাব্বিশ বৎসর ধরে লুন্ঠন, ধ্বংস ও হত্যালীলা চালিয়ে সুলতান মামুদের ১০৩০ খ্রীষ্টাব্দে মৃত্যুবরণের পর গজনি সাম্রাজ্য ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাঁর দুর্বল উত্তরাধিকারীর দুর্বলতার সুযোগে হিন্দুস্থানের হিন্দু রাজারা রাজ্য উদ্ধারের জন্য দিল্লী রাজার নেতৃত্বে এক সম্মিলিত বাহিনী গড়ে তোলেন। ফলে মামুদের মৃত্যুর পরে প্রায় সার্ধশতবৎসর হিন্দুস্থান বিদেশী আক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত ছিল। তবে হিন্দুস্থানের হিন্দুদের একত্রিত প্রচেষ্টাতে যে সফলতা এসেছিল সেই ধারা পরবর্তীকালে তাঁরা ধরে রাখতে পারেন নি। ফলে সংগঠিত হয়েছিল আর একটি বৈদেশিক আক্রমন মহম্মদ ঘুরীর হাত ধরে।

তুর্কি আক্রমনের সূত্রে ভারতে সুফী সাধকদের আগমন ঘটে। আব্বাসীয় খলিফার যুগে বাগদাদ শহরে নিজানিয়া মাদ্রাসায় সিহাবুদ্দীন সাহবোয়ার্দ্দির কাছে সুফীবাদের শিক্ষাগ্রহণ করে শেখ মৈনুদ্দীন চিস্তি মহম্মদ ঘুরীর ভারত আক্রমনের প্রাক্কালে আজমীরে এবং জালালুদ্দীন তাব্রেজী বখতিয়ার খিলজীর বাংলা আক্রমনের প্রাক্কালে পাণ্ডুয়াতে আস্তানা স্থাপন করেন। এই দুইজন সুফী সাধক যথাক্রমে ভারতে ও বাংলাতে মুসলিম সাম্রাজ্য ও ইসলাম বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

গজনীর সুলতান মামুদের মৃত্যুর (১০৩০ খ্রীঃ) পর গজনীর সামন্ত শাসক গিয়াসউদ্দীন মোহাম্মদ ঘুরী ১১৬৯ খ্রীষ্টাব্দে ঘুর রাজ্যের রাজা হন। তাঁর দক্ষিণহস্ত ছিলেন তাঁর ভ্রাতা ও সেনাপতি মইজুদ্দীন মোহাম্মদ। ইতিহাসে তিনি মোহাম্মদ ঘুরী নামে সমধিক পরিচিত। মোহাম্মদ ঘুরী জ্যেষ্ঠভ্রাতার নির্দেশে ১১৭৩ খ্রীষ্টাব্দে গজনী জয় করে গজনীর শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। অতঃপর তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে অগ্রসর হন। ১১৭৫ খ্রীস্টাব্দে (৫৭১ হিঃ) সিন্ধু অধিকার করে ক্রমান্বয়ে উত্তর-পশ্চিম ভারতের অনেক অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করেন।

মঈজুদ্দীন মোহাম্মদ বিন সাম (মোহাম্মদ ঘুরী) খ্রীস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ দশকে আব্বাসীয় খলিফা আলনাসিরের রাজত্বকালে ১১৯১ খ্রীস্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানের নিকট পর্যুদস্ত হবার পর পুনরায় ১১৯২ খ্রীস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ কর্তৃক পরিচালিত সম্মিলিত রাজপুত বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতের অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। তরাইনের যুদ্ধের পর তিনি হান্সি, সামানা, খুরম প্রভৃতি দুর্গ ও আজমির হস্তগত করে সেনাপতি কুতবউদ্দীন আইবকের হাতে ভারতে বিজিত অঞ্চলের শাসনভার অর্পণ করে গজনী ফিরে যান। সেনাপতি কুতবউদ্দীন মীরাট, দিল্লী, রণথম্বোর, আলীগড় প্রভৃতি স্থান জয় করেন। দিল্লী ভারতে বিজিত রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়। ১১৯৪ খ্রীষ্টাব্দে মোহাম্মদ ঘুরী পুনরায় ভারতে এসে জয়চাঁদের কনৌজ, বারাণসী ও গোয়ালিওর দুর্গ জয় করে গজনীতে ফিরে যান (১১৯৫ খ্রীঃ)। পরবর্তীকালে সেনাপতি কুতবউদ্দীন ভারতের বিভিন্ন স্থানে তাঁর রণঅভিযান অব্যাহত রাখেন।

মোহাম্মদ ঘুরী তাঁর অগ্রজ গিয়াসউদ্দীন মহম্মদের অনুগত ছিলেন। ১২০২ খ্রীস্টাব্দে গিয়াসউদ্দীন মহম্মদের মৃত্যুবরণের পর তিনি ‘আস সুলতান আল আজম মঈজ-উদ্দুনীয়া ওয়াদ দীন আবুল মুজাফফার মোহাম্মদ বিন সাম’ রাজকীয় উপাধি সহ নিজ নাম মুদ্রায় উৎকীর্ণ করে স্বাধীন সুলতানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সম্ভবতঃ তাঁর প্রবর্তিত গজনী টাঁকশালে মুদ্রিত দিরহাম ও দীনার মুদ্রা বিজিত ভারতে কদাচিৎ ব্যবহৃত হত। তৎকর্তৃক বিজিত মুসলিম ভারতে জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশে তিনি এ দেশের প্রচলিত মুদ্রা সামান্য পরিবর্তন সাপেক্ষে বহাল রাখেন। যথা—তাঁর অতি সীমিত আকারে স্বর্ণ মুদ্রায় কনৌজের হিন্দু রাজার অনুকরণে লক্ষ্মীর প্রতিকৃতি এবং অপর পিঠে নাগরী হরফে ‘শ্রীমোহাম্মদ বিনি সাম’ উৎকীর্ণ (চিত্র নং-২)। তাঁর দেহলিওয়াল মুদ্রাতে মুখ্যপীঠে চৌহান অশ্বারোহী এবং গৌণ পিঠে তাঁর নাম সংস্কৃত অক্ষরে উপস্থাপিত।

মঈজুদ্দীন মোহাম্মদ বিন সাম কর্তৃক বিজিত মুসলিম ভারতে এই মুদ্রাগুলি প্রথম স্বাধীন সুলতানী মুদ্রা। তিনি ঘুর, গজনী, সিন্ধু ও ভারতে বিজিত অঞ্চলের অধিপতি হবার পরে বিজিত ভারতে তাঁর রাজ প্রতিনিধি ছিলেন কুতবউদ্দীন আইবক। মোহাম্মদ ঘুরী কুতবউদ্দীন আইবককে ‘মালিক’ উপাধিতে ভূষিত করেন। কুতুবউদ্দীন আইবক ছিলেন একজন তুর্কী। বাল্যকালে তিনি ক্রীতদাস রূপে বিক্রীত হন। নানা ভাগ্য বিপর্যয়ের পরে মোহাম্মদ ঘুরী তাঁকে ক্রীতদাস রূপে ক্রয় করেন। কুতবউদ্দীন আইবক নিজ ক্ষমতাবলে স্বল্পকাল মধ্যে ঘুরীর বিশ্বস্ত অনুচর এবং সেনাপতি পদে উন্নীত হন।

৬০২ হিজরী সনের ৩রা শাবান (১৫ই মার্চ, ১২০৬ খ্রীঃ) তারিখে অপুত্রক অবস্থায় মোহাম্মদ ঘুরী শাহাদত বরণ করেন। তৎকালে ঘুরের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ। সেই সময়ের পরিস্থিতি মূলে ঘুরের সঙ্গে অধিকৃত ভারতে শাসন ক্ষমতা অটুট রাখতে অপারক হেতু গিয়াউদ্দীন অধিকৃত ভারতের রাজপ্রতিনিধি কুতবউদ্দীন আইবককে রাজছত্র প্রেরণ ও সুলতান উপাধিতে ভূষিত করেন। কুতুবউদ্দীন আইবক দিল্লী থেকে লাহোর গমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং উক্ত বর্ষে (৬০২ হিঃ) ১৭ই জিলকদ (২৪ শে জুন ১২০৬ খ্রীঃ) সার্বভৌম ও স্বাধীন সুলতান হিসাবে লাহোরের রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন। কিছুকাল মধ্যে তাঁর প্রভু মোহাম্মদ ঘুরীর অপর এক সেনাপতি তথা মোহাম্মদ ঘুরীর ভ্রাতুষ্পুত্র কর্তৃক স্বীকৃত গজনীর সুলতান তাজউদ্দীন ইয়ালদোজ কুতুবউদ্দীনের সঙ্গে লাহোরের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ যুদ্ধে পরিণত হয়। সে যুদ্ধে কুতুবউদ্দীন জয়লাভ করে গজনী অধিকার করে চল্লিশ দিন গজনীর রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত থাকার পর হিন্দুস্থানে পুনরায় ফিরে আসেন।

সিংহাসনে আরোহণ করে ২ বৎসর পর্যন্ত কুতুবউদ্দীন আইবক মালিক বা সিপাহশালার উপাধি ব্যবহার করতেন এবং ৬০৫ হিঃ (১২০৮ খ্রীঃ) থেকে তিনি আমৃত্যু সুলতান উপাধি ব্যবহার করতেন বলে বলা হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে সুলতান কুতুবউদ্দীনের একটি মুদ্রা সম্পর্কে রেভাটির বিবরণ প্রণিধানযোগ্য, মুদ্রাটির বিবরণ যথা—সিক্কাহ-ই-ওয়ারিস-ই-মূলক ওয়া নাকিন-ই-সুলতান কুতব-উদ-দীন আইবক ফি সনৎ ৬০৩ (হিজরী) যরব-উল-খিলাফত দিহলি জলুস।’ Which may be thus be rendered– “Coin of the inheriter of the kingdom and Signet of Sultan, Kutb-Ud-Din. I-bak in the year 603 H (১২০৬-০৭ খ্রীঃ) and on the reverse’ Struck at the Dar-Ul-Khilafat. Dihli in the first (year) of (His) accession.”

ভাগ্যের লিখনে কুতুবউদ্দীনের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে এসেছিল। ৬০৭ হিজরী সনে (১২১০খ্রীঃ) তিনি ময়দানে চেগোয়াল খেলতে গিয়ে অশ্বপৃষ্ঠ থেকে ভূপাতিত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। কুতুবউদ্দীন আইবকের প্রথম দিল্লী অধিকার থেকে আরম্ভ করে তাঁর রাজত্বকাল প্রায় ২০ বৎসর এবং সুলতান উপাধি প্রাপ্তির পর থেকে তাঁর রাজত্বকাল চার বছরের কিছু বেশী।

সুলতান মোহাম্মদ ঘুরীর উদ্যোগে বারবার আক্রমণের ফলে উত্তর ভারত অধিকৃত হলেও প্রকৃত পক্ষে দিল্লীর মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কুতবউদ্দীন আইবক।

মোহাম্মদ ঘুরীর ভারত উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসাবে ইখতিয়ারউদ্দীন বখতিয়ার খিলজীর বাংলা-আক্রমণ সংগঠিত হয়। ইতিহাসে তিনি বখতিয়ার খিলজী নামে পরিচিত। তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত বখতিয়ার খিলজী আফগানিস্তানের গরমসির অধিবাসী ছিলেন। তিনি গজনীতে সুলতান মোহাম্মদ ঘুরী এবং পরে কুতুবউদ্দীন আইবকের নিকট সৈন্য বিভাগে চাকুরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হবার পরে বদায়ুনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দীনের নিকট নগদ বেতনে চাকরি পান। কিন্তু বখতিয়ার খিলজী এই ধরনের চাকরিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। পরবর্তীকালে অযোধ্যার শাসনকর্তা মালিক হুসামউদ্দীন বখতিয়ারের প্রতিভা অনুধাবন করে ভিউলী ও ভাগত নামে দুটি পরগণার জায়গীর প্রদান করেন (১১৯৭ খ্রীঃ)। অতঃপর বখতিয়ার স্বীয়শক্তি বৃদ্ধিতে তৎপর হয়ে পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিন্দু রাজ্য আক্রমণ ও লুন্ঠন করে প্রচুর সম্পদ সংগ্রহ করে বিরাট সেনাদল নিয়ে বিহার জয়ে ব্রতী হন। এই সময়ে তাঁর বীরত্বের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এমন কি দিল্লীর শাসনকর্তা কুতুবউদ্দীনের কর্ণগোচর হয়। এই বার্তার ফলে চারিদিক থেকে ভাগ্যান্বেষণকারী মুসলমান ও তাঁর সম্প্রদায়ের লোকজনে তাঁর সৈন্যবল বৃদ্ধি পায়। তিনি ওদন্তপুরী বৌদ্ধবিহার আক্রমণ, ধ্বংস ও লুন্ঠন করে প্রচুর ধন-সম্পদ সহ কুতুবউদ্দীন আইবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হাসান নিজামী কৃত ‘তাজুল মাসির’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে—কালিঞ্জর জয়ের পরে কুতুবউদ্দীন আইবক যখন বদায়ুনে প্রত্যাবর্তন করেন তখন বখতিয়ার খিলজী ৮ই রজব ৫৯৯ হিজরী (২৪শে মার্চ, ১২০৩ খ্রীঃ) সনে কুতুবউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

৫৯৯ হিজরীর খ্রীস্টীয় সনের ব্যপ্তিকাল ২০ সেপ্টেম্বর ১২০২ থেকে ৯ই সেপ্টেম্বর ১২০৩। তবকাত-ই-নাসিরী’র প্রণেতা মিনহাজ বলেছেন পরের বৎসর অর্থাৎ বিহার জয়ের পরের বৎসর অর্থাৎ ৬০০ হিজরী সনে বখতিয়ার খিলজী নদীয়া জয় করেন। ৬০০ হিজরীর খ্রীস্টীয় সনের ব্যপ্তিকাল ১০ই সেপ্টেম্বর, ১২০৩ থেকে ২৮শে আগস্ট ১২০৪ খ্রীঃ।

রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাসদ হলায়ুধ মিশ্রের ‘সেখ শুভোদয়া’ গ্রন্থে একটি শ্লোকে তুরস্ক আগমনের উল্লেখ পাওয়া যায়। যথা—

 ‘‘চতুর্বিংশোত্তরে শাকে সহস্রৈকশতাধিকে।

 বেহার পাটনাৎ পূবর্বাং তুরস্কঃ সমুপাগতঃ’’

এই শ্লোক মোতাবেক ‘অঙ্কনাং বামতো গতিঃ’ অনুসারে আমরা জানতে পারি ১১২৪ শাকে তুরস্কদের গৌড়রাজ্যে আগমন হয়। প্রথমত মুসলমানদিগকে তুরস্ক বলা হত। ১১২৪ শকাব্দে খ্রীস্টীয় সন ১২০২-৩ হয়।

অতএব খুব সম্ভব ১২০৩ খ্রীস্টাব্দের এবং ১১২৪ শকাব্দের শেষ দিকে ৬০০ হিজরী সনের প্রথম দিকে বখতিয়ার খিলজী সেনবংশীয় রাজা লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া আক্রমণ করেন।

—

* এই সংকলনে হিজরী সনের ব্যবহার পুনঃপুনঃ হবে। এই গ্রন্থের পরিশিষ্টতে হিজরী এবং খ্রীস্টীয় সনের রূপান্তর তালিকা প্রদান করা হল।

.

সহায়ক গ্রন্থ

 ১. History of Bengal-VL-I, Edited by R.C. Majumder

Published by-The University of Dacca, RAMNA, DACCA.

 ২. Tabakat-I-Nasiri – Maulana Minahaj-Ud-Din,

 ABU-UMAI-I-Usman

 Translated from Original Parsian Manuscripts

 by Major H.G. Raverty. The Asiatic Society

 ৩. কোরাণ-শরীফ (নন্দন তত্ত্ব ও দর্শন) অধ্যাপক রমেশ মুখোপাধ্যায়

কলহন প্রকাশনী, কলকাতা।

 ৪. কোরআন শরীফ—অনুবাদ, মাওলানা মোবারক করীম জওহর

হরফ প্রকাশনী, কলকাতা।

 ৫. গৌড়ের ইতিহাস—রজনীকান্ত চক্রবর্তী, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা।

 ৬. গৌড় কাহিনী—শ্রী শৈলেন্দ্র কুমার ঘোষ, ডি. এম. লাইব্রেরী, কলকাতা।

 ৭. তবকাত-ই-নাসিরী—মীনহাজ-ই-সিরাজ

 অনুবাদ ও সম্পাদনা—আবুল কালাম মোহম্মদ যাকারিয়া।

 মুদ্রক-সোপান পাবলিশার, কলকাতা

 ৮. তারিখ-ই-ফিরুজশাহী—জিয়াউদ্দীন বারণী

 অনুবাদ-গোলাম সামদানী কোয়ারশী, সম্পাদনা-ড. আতাউল করিম

 মুদ্রক-সোপান পাবলিশার, কলকাতা।

 ৯. বাংলার ইতিহাস-সুলতানী আমল—আবদুল করিম

জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশন, ঢাকা।

১০. বাংলার ইতিহাস—আব্দুল করিম-জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

১১. ভারতের ইতিহাস—জীবন মুখোপাধ্যায়, শ্রীধর পাবলিশার্স, কলকাতা।

১২. ভারতের মুদ্রা—পরমেশ্বরী লাল গুপ্তা, অনুবাদ—অরুণ বিশ্বাস

ন্যাশলান বুক স্ট্রাস্ট, ইণ্ডিয়া

১৩. মধ্যযুগের গৌড়—শ্রী শৈলেন্দ্র কুমার ঘোষ, ভারত জ্যোতি প্রকাশনী, কলকাতা।

১৪. মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস-সুলতানী আমল, অনিরূদ্ধ রায়

ওরিয়েন্ট ব্লক সোয়ান।

১৫. মুসলিম মুদ্রা ও হস্ত লিখন শিল্প—ড. এ. কে. এম. ইয়কুব আলী, অনন্যা, ঢাকা।

১৬. শেখ শুভোদয়া—হলায়ুধ মিশ্র, প্রকাশক বাইশ হাজারী ওয়াকফ এস্টেটের

 পক্ষে শ্রীসূর্য কান্ত শেঠ, মুদ্রক-মালদা প্রেস, মালদহ

১৭. সরল বাংলা অভিধান—সুবলচন্দ্র মিত্র সংকলিত,

নিউ বেঙ্গল প্রেস প্রা. লি. কলকাতা।

১৮. সরল ভারতের ইতিহাস—অধ্যাপক চক্রবর্তী ও চক্রবর্তী,

মৌলিক লাইব্রেরী, কলকাতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *