ইলিয়াস শাহী বংশ
৩৬) সুলতান শামস-উদ-দীন ইলিয়াস শাহ : ১৩৪২ খ্রীঃ (৭৪৩ হিঃ)—১৩৫৭ খ্রীঃ (৭৫৯ হিঃ)—বঙ্গে ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
সমসাময়িক দিল্লীর সুলতান—
• সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলক-১৩২৫ খ্রীঃ (৭২৫ হিঃ)-১৩৫১ খ্রীঃ (৭৫২ হিঃ)—যুদ্ধকালীন অবস্থায় সিন্ধুনদীর তীরে ৭৫২ হিজরীর ২১শে মহরম মৃত্যুবরণ।
• যুদ্ধকালীন তুঘলক আহমদ আজাজ নিযুক্ত বালক সুলতান ১৩৫১ খ্রীঃ (৭৫২ হিঃ)
• সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক—১৩৫১ খ্রীঃ (৭৫২ হিঃ)-১৩৮৮ খ্রীঃ (৭৯০ হিঃ) রজবের পুত্র এবং মহম্মদ বিন তুঘলকের খুড়তুত ভাই—২৪ শে মহরম ৭৫২ হিঃ (২৩ শে মার্চ ১৩৫১ খ্রীঃ) বাদশাহ ঘোষণা।
সুলতান আলাউদ্দীন আলীশাহর রাজত্বকালে তাঁর ধাত্রী পুত্র হাজী ইলিয়াস রাজকার্যে উচ্চপদে নিযুক্ত হয়ে সেনাদলকে বশীভূত করে নিজেকে সুলতানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ৭৪৩ হিজরী (১৩৪২ খ্রীঃ) তে সুলতান আলাউদ্দীনকে হত্যা করে নিজে শ্যামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ রাজউপাধি গ্রহণপূর্বক ফিরোজাবাদের রাজ সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং লক্ষ্মৌতী শাসন বিভাগের স্বাধীন সুলতান হন। তিনি ৭৪৭ হিজরী (১৩৪৬) তে সপ্তগ্রাম অধিকার করে রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং ৭৫৩ হিজরী (১৩৫২) তে সুবর্ণগ্রাম অধিকার পূর্বক বাংলার তিনটি শাসন বিভাগ বিজয় সম্পূর্ণ করে সমগ্র বঙ্গের অধীশ্বর (শাহ-ই-বাংলা-বা Ruler of whole Bengal) হন। তিনি ৭৪৩ হিঃ (১৩৪২) থেকে ৭৫৮ হিঃ (১৩৫৭ খ্রীঃ) পর্যন্ত মুদ্রা মুদ্রিত করেন। ইলিয়াস শাহ সিকিন্দার-আস-সাহী উপাধি গ্রহণ করেন। তাঁর রাজত্বকালে বিদেশী পর্যটক ইবন-বতুতা বাংলাতে আগমন করেন।
সারা বাংলাদেশের অধীশ্বর হয়ে ইলিয়াস শাহ বাংলার বাইরে রাজ্য বিস্তারে ব্রতী হয়ে উড়িষ্যার চিল্কাহ্রদের সীমা পর্যন্ত অভিযান করেন। পরবর্তীকালে বারাণসী পর্যন্ত রজ্যসীমা বিস্তারে সচেষ্ট হন। তৎকালে দিল্লীর সিংহাসনে ফিরোজশাহ তুঘলক (১৩৫১-১৩৮৮ খ্রীঃ) অধিষ্ঠিত ছিলেন। ইলিয়াস শাহর ত্রিহুত অধিকার এবং বঙ্গের সীমা বৃদ্ধি হবার কারণে দিল্লীর সুলতান ৭৫৪ হিজরীর শওয়াল মাসের ১০ তারিখে (নভেম্বর ১৩৫৩) বাংলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অভিযান (প্রথমবার) করেন। ইলিয়াস শাহ প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা হিসাবে জল ও জঙ্গলে বেষ্টিত একডালা দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি জানতেন যে বাংলার প্রতিকূল আবহাওয়ায় দিল্লীর সৈন্যদের পক্ষে বেশিদিন বাংলাতে বাস সম্ভব হবে না। যা হোক দিল্লীবাহিনীর সঙ্গে ইলিয়াস শাহর যুদ্ধ হলেও শেষ পর্যন্ত উভয়ের মধ্যে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় (৭৫৫ হিজরীর ২৮ শে রবি-উল-আউয়াল/এপ্রিল ১৩৫৪)। উক্তবর্ষে অর্থাৎ ৭৫৫ হিজরীর শাবান মাসের ১২ তারিখ (৩১ শে আগষ্ট, ১৩৫৪ খ্রীঃ) সুলতান ফিরোজশাহ দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেন (তবকাত আকবরী)। দিল্লীর সুলতান ফিরোজশাহ ইলিয়াস শাহ কর্তৃক আবিষ্কৃত দিল্লীর অন্যান্য এলাকা পুনর্দখল করেন এবং ইলিয়াস শাহর উচ্চাভিলাষ রোধ করেন। কিন্তু বাংলা জয় করতে পারেন নি। পরবর্তী কালে উভয়ের মধ্যে দূত ও উপহার বিনিময় হয়।*১
৭৫৮ হিজরী পর্যন্ত ইলিয়াস শাহর উৎকীর্ণ মুদ্রা পাওয়া যায়। ‘সিরাত-ই-ফিরোজশাহী’ এবং ‘তারিখ-ই-মুবারকশাহী’র সাক্ষ্য মতে ইলিয়াস শাহ ৭৫৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বঙ্গে ইলিয়াস শাহী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
৩৭) সুলতান সিকান্দার শাহ : ১৩৫৭ খ্রীঃ (৭৫৯ হিঃ)—১৩৮৯ খ্রীঃ (৭৯২ হিঃ) (সুলতান ইলিয়াস শাহর পুত্র)
সমকালীন দিল্লীর সুলতান—
• সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক-৭৫২ হিঃ (১৩৫১ খ্রীঃ)—৭৯০ হিঃ (১৩৮৮ খ্রীঃ)। ৭৯০ হিজরীর ১৮ই রমজান (২০ সেপ্টেম্বর ১৩৮৮ খ্রীঃ) মৃত্যুবরণ।
• সুলতান ফতেহ খান তুঘলক-ফিরোজ শাহর জ্যেষ্ঠ্য পুত্র (পিতার সঙ্গে যৌথ শাসন)-৭৬০ হিঃ ( ১৩৫৮ খ্রীঃ)—৭৯০ হিঃ (১৩৮৮ খ্রীঃ)
• সুলতান গিয়াসউদ্দীন তুঘলক (দ্বিতীয়)-৭৯০ হিঃ (১৩৮৮ খ্রীঃ)—৭৯১ হিঃ (১৩৮৯ খ্রীঃ) ফতেহ খানের পুত্র।
• সুলতান জাফর খাঁ তুঘলক-৭৯১ হিঃ ( ১৩৮৯ খ্রীঃ)
• সুলতান আবু বকর তুঘলক-(জাফর খাঁর পুত্র)-৭৯১-২ হিঃ (১৩৮৯ খ্রীঃ-৯০ খ্রীঃ)।
সুলতান ইলিয়াস শাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দার শাহ ফিরোজাবাদের (পাণ্ডুয়া) রাজ সিংহাসনে আরোহণ করে বাংলার স্বাধীন সুলতান হন। তিনি ৭৫৯ হিজরী থেকে তাঁর মুদ্রা প্রচলন শুরু করেন। আবেদ আলী খান তাঁর গ্রন্থে (পৃঃ ১৭৫) অবশ্য সিকান্দার শাহর ৭৫৮ হিজরীতে সোনারগাঁও থেকে উৎকীর্ণ মুদ্রার কথা উল্লেখ করেছেন। ৭৫৮ হিজরী ছিল তাঁর পিতার রাজত্বকাল। আবেদ আলী আবার সিকান্দার শাহর রাজত্বকাল ৭৫৯-৭৯২ হিজরীর উল্লেখ করেছেন।
বাংলার সুলতানদের মধ্যে সিকান্দার শাহ সর্বপ্রথম ইমাম (বা খলিফা) উপাধি গ্রহণ করেন। মুদ্রা ছাড়া তাঁর রাজত্বকালে উৎকীর্ণ শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়েছে। আদিনা মসজিদ সুলতান সিকান্দার শাহর অক্ষয় কীর্তি। আদিনা মসজিদের পশ্চাদভাগে মসজিদ গাত্রে সংযুক্ত লিপিমূলে জানা যায় ৭৭০ হিজরীর ৬ই রজব (১৪/২/১৩৬৯) তাঁর আমলে এই মসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন। মসজিদটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যকলার একটি বৃহত্তম নিদর্শন (চিত্র নং-৮)।
বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহর রাজত্বকালে দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৯ খ্রীস্টাব্দে দ্বিতীয়বার বাংলা আক্রমণ করেন। ফিরোজ শাহর বাহিনীতে আশি হাজার অশ্বারোহী ও চারশো সত্তরটি হাতি ছিল। সিকান্দার শাহ পিতার পথ অনুসরণ করে যুদ্ধকালীন অবস্থায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবে একডালা দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন। জল ও জঙ্গলে ঘেরা একডালা দুর্গ কিছুকাল অবরোধ করার পর ফিরোজশাহ সিকান্দার শাহর সঙ্গে সন্ধি করে বাংলার স্বাধীনতা মেনে নেন। পরবর্তী কালে প্রায় দুশো বছর বাংলা দিল্লীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে পূর্ণ স্বাধীন ছিল।
সুলতান সিকান্দার শাহর মৃত্যুর তারিখ নিঃসন্দেহে নির্ণয় করা যায় না। পণ্ডিতেরা মনে করেন সিকান্দার শাহ ৭৯২ হিঃ (১৩৮৯ খ্রীঃ) পর্যন্ত রাজত্ব করেন। বিমাতার বিপাকে বিদ্রোহী পুত্র আজম শাহর সঙ্গে গোয়ালপাড়ার যুদ্ধে শহীদ হন। তাঁর নশ্বর দেহ আদিনা মসজিদ সংলগ্ন কক্ষে সমাহিত আছে।
৩৮) সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ : ১৩৮৯ খ্রীঃ (৭৯২ হিঃ)-১৪১০/১১ খ্রীঃ (৮১৩ হিঃ)
সমকালীন দিল্লীর সুলতান—
• সুলতান আবু বকর শাহ-১৩৮৯-৯০ খ্রীঃ (৭৯১-২হিঃ)-জাফরের পুত্র, ফিরোজের পৌত্র।
• সুলতান নাসিরউদ্দীন মুহাম্মদ শাহ-১৩৯০-৯২ খ্রীঃ (৭৯২-৭৯৫ হিঃ)-ফিরোজর পুত্র।
• সুলতান আলাউদ্দীন সিকেন্দার শাহ-১৩৯২-৯৩ খ্রীঃ (৭৯৫-৭৯৬ হিঃ)-মুহাম্মদের পুত্র।
• সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ-১৩৯৩-৯৪ খ্রীঃ (৭৯৬-৭৯৭ হিঃ)-মুহাম্মদের পুত্র।
• সুলতান নসরত শাহ-ফতেহর পুত্র-১৩৯৪-১৩৯৯ খ্রীঃ (৭৯৭-৮০১ হিঃ) Interregnum
• সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ (পুনরায়) ১৩৯৯-১৪১৩ খ্রীঃ (৮০১-৮১৬ হিঃ)
শহীদ সুলতান সিকান্দার শাহর পরে তাঁর বিদ্রোহী পুত্র গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ ফিরোজাবাদের রাজ-সিংহাসনে আরোহণ পূর্বক বাংলার স্বাধীন সুলতান হন। ইতঃপূর্বে তিনি বিমাতার ষড়যন্ত্রে প্রাণভয়ে মৃগয়াচ্ছলে সুবর্ণগ্রামে পলায়ণ পূর্বক পিতার জীবদ্দশাতে ‘গিয়াসউদ্দীন আবুল মোজাফফর আজম শাহ’ উপাধি গ্রহণ করে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন এবং ৭৮৫ ও ৭৯০ হিজরীতে মুদ্রা উৎকীর্ণ করেন। পিতার মৃত্যুর পরে ৮১৩ হিজরী (১৪১০ খ্রীঃ) পর্যন্ত তিনি ফিরোজাবাদ, মুয়াজ্জমাবাদ, জন্নতাবাদ এবং সাতগাঁও টাঁকশাল থেকে মুদ্রা উৎকীর্ণ করেন। তাঁর উৎকীর্ণ একখানি শিলালিপি গৌহাটি যাদুঘরে রক্ষিত আছে।
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহর রাজত্বকালে ভাতুরিয়া পরগণার জমিদার রাজা গণেশ অত্যন্ত প্রবল হয়ে ওঠেন। রাজা গণেশ ছিলেন তাঁর রাজসভার প্রধান অমাত্য এবং ক্রমে রাজস্ব ও শাসন বিভাগের কর্তা হয়ে ওঠেন। রাজা গনেশের ষড়যন্ত্রে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিহত হন (৮১৩ হিঃ)। রাজা গণেশ ইলিয়াসশাহী বংশের পরবর্তী সুলতানদের শিখণ্ডী হিসাবে সিংহাসনে বসিয়ে বাস্তবে গৌড় বঙ্গে (স্বল্পকালীন) হিন্দু শাসনের সূচনা করেন। সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে সুবর্ণগ্রামে সমাহিত করা হয় বলে দাবি করা হয় (চিত্র নং-১৩)।
৩৯) সুলতান সাইফ-উদ-দীন হামজা শাহ : ১৪১০-১১ খ্রীঃ (৮১৩ হিঃ)—১৪১১-১২ খ্রীঃ (৮১৪ হিঃ)
সমকালীন দিল্লীর সুলতান—
• নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (পিতা মুহাম্মদ)-১৩৯৯ খ্রীঃ (৮০১ হিঃ)-১৪১৩ খ্রীঃ (৮১৬ হিঃ)
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সাইফ-উদ-দীন-হামজা শাহ সুলতান-উস-সালাতীন (রাজাধিরাজ) উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। মুদ্রা সাক্ষ্যে দেখা যায় যে তিনি ৮১৩ হিজরী থেকে ৮১৪ হিজরী পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তিনি রাজা গণেশের চক্রান্তে স্বীয় ক্রীতদাস শিহাব-উদ-দীন কর্তৃক নিহত হন। তাঁর হত্যার সঙ্গে বাংলার শাসনে ইলিয়াসশাহী রাজবংশের প্রথম পর্যায়ের যবনিকা পতন হয়।
৪০) সুলতান শিহাব-উদ-দীন বায়োজীদ শাহ : ১৪১১-১২ খ্রীঃ (৮১৪ হিঃ)—১৪১৪-১৫ খ্রীঃ (৮১৭ হিঃ)
সমকালীন দিল্লীর সুলতান—
• সুলতান নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ-(মুহাম্মদের পুত্র) ১৩৯৯ খ্রীঃ (৮০১ হিঃ)-১৪১৩ খ্রীঃ (৮১৬ হিঃ)। ১৩৮৮ খ্রীঃ সুলতান ফিরোজশাহ তুঘলকের মৃত্যুর পর তুঘলক রাজবংশের ইতিহাসে বেদনাদায়ক যুগের সূচনা হয় এবং এই রাজ পরিবারে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে তুঘলক রাজবংশের অন্তিম লগ্ন ঘনিয়ে আসে। মাহমুদ শাহর দ্বিতীয় দফার রাজত্বকাল শেষ হয়।
• সুলতান দাওলত খান লোদী-১৪১৩ খ্রীঃ (৮১৬ হিঃ)—১৪১৪ খ্রীঃ (৮১৭ হিঃ) তুঘলকের রাজবংশের পশ্চাতে দোয়ার অঞ্চলের সামরিক অধিকর্তাকে দিল্লীর সিংহাসনে বসানো হয়। কিন্তু দাওলত খান লোদী খিজর খাঁ কর্তৃক পরাজিত হয়।
• সুলতান খিজর খাঁ-১৪১৪-১৪২১ খ্রীঃ (৮১৭-৮২৪ হিঃ)
(সৈয়দ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা)
প্রভুহন্তা ক্রীতদাস শিবাহউদ্দীন বায়োজীদ শাহ রাজ সিংহাসনে আসীন হয়ে ৮১৪ হিজরী থেকে ৮১৭ হিজরী পর্যন্ত মুদ্রা উৎকীর্ণ করেন, মুদ্রায় তিনি নিজেকে কোথাও ‘বিন সুলতান’ (সুলতানের পুত্র) দাবি করেন নি। ইবন হজর প্রণীত ‘ইনবা-উল-গুমর’ গ্রন্থে জানা যায় যে শিহাবউদ্দীন বায়োজীদ শাহ সুলতান হামজা শাহর ক্রীতদাস ছিলেন। সম্ভবতঃ তিনি গণেশের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করে সর্বময় কর্তৃত্ব লাভের চেষ্টা করেন, তাই গণেশ কর্তৃক নিহত হন।
৪১) সুলতান আলাউদ্দীন ফিরোজ শাহ-১৪১৪-১৫ খ্রীঃ (৮১৭ হিঃ)
সমকালীন দিল্লীর সুলতান—
• সুলতান খিজর খাঁ-১৪১৪-১৪২১ খ্রীঃ—(৮১৭-৮২৪ হিঃ)
পিতৃ সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত হলেন বায়োজীদ পুত্র আলাউদ্দীন ফিরোজ। সম্ভবতঃ তিনি রাজা গণেশের প্রভাব যুক্ত হবার জন্য পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গে স্বীয় কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। ফিরোজাবাদ টাঁকশাল থেকে তাঁর মুদ্রা আবিষ্কৃত হয় নি, ৮১৭ হিজরীতে সপ্তগ্রাম ও মুয়াজ্জুমাবাদ টাঁকশালে মুদ্রিত মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। গণেশ তাঁকে আক্রমণ পূর্বক পরাস্ত ও নিহত করে বাংলার সিংহাসনে শিখণ্ডী রাজার প্রয়োজন নেই মনে করে স্বয়ং বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন (৮১৭ হিঃ)। অতঃপর king maker গণেশ King of Bengal হন এবং বঙ্গে হিন্দুযুগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
.
*১ ৭৫৮ হিঃ (১৩৫৭ খ্রীঃ) তে জিয়াউদ্দীন বারণী কৃত ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ সমাপ্ত হয়।
