অধ্যায় ২
প্রফেসর রাঘব সকালে ঘুম থেকে উঠলেন। প্রাত্যহিক সব কাজ সেরে কলেজের জন্য তৈরি হয়ে কিচেনে এলেন তিনি। টোস্টমেকারে রুটি দিয়ে দুধ গরম করলেন। ডিম সেদ্ধ করে নিলেন দুটো। ব্রেকফাস্টে এবার যোগ হল দুটো কলা। সব নিয়ে টেবিলে এসে বসে পত্রিকা পড়তে পড়তে ব্রেকফাস্ট শেষ করলেন। ব্রিফকেসে জরুরি বই সহ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। নিজেই গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে কলেজের উদ্দেশে রওনা হলেন। এটাই হলো প্রফেসর রাঘব চক্রবর্তীর রোজকার রুটিন। আজও এর অন্যথা হলো না।
আজ নতুন ব্যাচ শুরু হচ্ছে। প্রতি বছর নতুন ব্যাচ শুরুর আগে একবার ওই বইটা পড়ে নেওয়া অভ্যেস, বিশেষত নরবলির উপর মহারাজা প্রতাপ নারায়ণের অধ্যায়। ছাত্রদের নরবলির উপর রিসার্চ ওয়ার্ক করানোর দায়িত্ব তার উপর। প্রতি বছরই কেউ না কেউ, কোন না কোন রিসার্চওয়ার্ক করে নরবলি নিয়ে। ভারতবর্ষে একদা এত নরবলি হয়েছে যে প্রতি বছর বেশিরভাগ ছাত্ৰই নতুন রিসার্চ পেপার জমা করে। ওই একঘেয়ে রসকষহীন ইতিহাসের গল্প বছরের পর বছর চলছেই। বছর শেষে ব্যাচ পাল্টে যায়, ছাত্র পাল্টে যায় এবং আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হয়। আজ সেরকমই একটি দিন। প্রতি বছর প্রথম দিন সবাইকে মহারাজার গল্পটি তিনি নিয়ম করে শোনান, যাতে বিষয়টির উপর ছাত্রদের তত্ত্বগত আকর্ষণের চেয়েও ঐতিহাসিক আকর্ষণ বল বেশি কাজ করে। বাস্তব যে কল্পনার চেয়েও বেশি অত্যাশ্চর্য, সেটা বোঝাতেই প্রফেসর রাঘব সত্যি গল্পের আশ্রয় নেন।
যদিও গল্পটির পরের কোনো অংশ তিনি নিজেই জানেন না। মহারাজা প্রতাপ নারায়ণ তারপর কোথায় গেলেন, সেদিন হঠাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সিপাহিরা কেন এভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে এরকম দক্ষযজ্ঞ বাঁধালো, চন্দ্রহাসই বা এখন কোথায়! নাহ, এই বিষয়ে না কেউ কোনোদিন কোনো প্রশ্ন করেছে, না পেপার সাবমিট করেছে। এ আজও এক রহস্য।
“গুড মর্নিং স্যার।”
কলেজ পৌঁছে কলেজের রাস্তায় ছাত্র-শিক্ষক সবার অভিবাদন নিতে নিতে এবং সবাইকে তা ফিরিয়ে দিতে দিতে নিজের রুমে চলে এলেন তিনি। সেখানে নিজের মোবাইল ফোনে কিছুটা সময় কাটলো। মিসেস চক্রবর্তী বর্তমানে দিল্লিতে। মেয়ে উর্মি দিল্লিতে এমবিবিএস নিয়ে পড়ছে। বউ-মেয়ে দুজনের সঙ্গেই কিছুক্ষণ কথা বললেন রাঘব। তারপর প্রথম দিনের ক্লাসের উদ্দেশে রওনা হলেন বছর পঁয়তাল্লিশের এই প্রফেসর।
“গুড মর্নিং ক্লাস।”
“গুড মর্নিং স্যর।”
“সো ফোকস, ওয়েলকাম টু দ্য ক্লাস। আমি রাঘব, রাঘব চক্রবর্তী-হু উইল শেয়ার হিজ এক্সপিরিয়েন্সেস অ্যাবাউট স্যাক্রিফাইস, হিউম্যান স্যাক্রিফাইস। পাতি বাংলায় নরবলি এবং ফেমিনিস্টদের কথা মাথায় রেখে, নারীবলিও।”
এবারে হালকা হাসি দেখতে পাওয়া গেল ক্লাসে। জনা পঁচিশেক ছাত্রছাত্রী। সবারই বয়স পঁচিশ থেকে তিরিশের মধ্যে।
প্রফেসর রাঘব আবার বললেন, “যাক, তবে ক্লাসে সেন্স অব হিউমার আছে। সবাই চট করে একবার পরিচয়টা দিয়ে ফেললে ভালো হয়। ফার্স্ট বেঞ্চ, এই যে ম্যাডাম, শুরু করুন…”
“গুড মর্নিং স্যর, আমি রুচি দাস…”
আগামী মিনিট পনেরোতে ইন্ট্রো তথা পরিচয় পর্ব শেষ হলো।
প্রফেসর রাঘব এবার মার্কার দিয়ে হোয়াইট বোর্ডে বড় বড় করে লিখলেন- ‘নরবলির ইতিহাস’। মুখে বললেন, “এই হচ্ছে বিষয়। আমরা খুব জোর সব মিলিয়ে খান পনেরো-কুড়ি ক্লাস পাবো এই বিষয়টিকে ষ্টাডি করার জন্য। আর তার উপর ভিত্তি করে তোমরা সবাই একটা রিসার্চ ওয়ার্ক করবে। সেটা নরবলি সংক্রান্ত কোনো ঘটনা হতে হবে এবং সত্যি ঘটনা হতে হবে। অর্থাৎ তোমাদের পেপার সাবমিটের আগে খুঁজে বের করতে হবে এরকম এক ঘটনা যা বহুকাল আগে বা নিকট অতীতে ঘটে গেছে। সে রাজ-আমলের কোনো নরবলি হতে পারে, হতে পারে ধর্মীয় কোনো কারণে, হতে পারে মহেঞ্জোদারোর সময়ের কিংবা ইংরেজ আমলের-সে বিষয়ে রিসার্চ শেষ করে পেপার সাবমিট করবে। প্রামাণ্য সব ডকুমেন্ট তাতে দিতে হবে। যদি সে ঘটনায় দম থাকে তা অবশ্যই আমরা মিনিস্ট্রি অব হোম এফেয়ার্সে পাঠাবো, তাদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইতিহাসে অবশ্যই জায়গা করে নেবে তোমাদের পেপার্স।
আজ আমরা শুরুতেই ইতিহাস কিংবা কোনো টার্মিনলজি দিয়ে শুরু করবো না, বরং একটি সত্যি গল্প দিয়ে শুরু করব।”
ছাত্রদের মধ্যে মনোযোগ বৃদ্ধি লক্ষ্য করলেন প্রফেসর। তারা নড়েচড়ে বসেছে গল্পের কথা শুনে।
“গল্পটি সত্য তার অনেক প্রমাণ গল্পের মধ্যেই আছে, কিন্তু এই গল্পটির কোন প্রামাণ্য নথি নেই আমার কাছে। এই ঘটনার কোন ছোট ক্লু অবধি নেই যা দিয়ে কোনোদিন ভাবতে পারি যে ঘটনাটার শেষে কী হয়েছিল তা জানতে পারবো। সেরকম এক গল্প-মহারাজা প্রতাপ নারায়ণ, মা দন্তেশ্বরী এবং এক বিশ্বস্ত সেনানায়ক সুভদ্রের গল্প।”
প্রফেসর গল্পটি শুরু করলেন এবং আগামী দু’ঘণ্টায় সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়ে গল্প শেষ করলেন, যেখানে সুভদ্রের মৃত্যু হয়েছিল।
***
ক্লাস শেষে যখন বেরিয়ে আসছেন, তখন মনে মনে হাসলেন। অর্ধেক কাজ শেষ-নরবলির রিসার্চের নেশা এই ছাত্রদের মনেও প্রোথিত করতে পেরেছেন তিনি। বাকি বছর ভালোই কাটবে।
নিজের রুমে ফিরে সহকারী প্রফেসরদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেন রাঘব। তারপর লাঞ্চ আওয়ারে যখন কলেজ ক্যান্টিনের ছেলেটা তার জন্যে স্পেশালভাবে অর্ডার দেওয়া বোনলেস চিকেন স্যুপ,
ব্রেড এবং হাঁসের ডিম রেখে গেল তখন তিনি তা খাওয়ায় মন দিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি ছেলে, কলেজেরই ছাত্র- এসে রুমে নক করলো। লাঞ্চ প্রায় শেষ, তাই রাঘব ডেকে নিলেন ছাত্রটিকে। আরে এ তো তনুশ, আজই ক্লাসে দেখেছেন তাকে।
“বলো তনুশ।”
“স্যার, আসবো?”
“ইয়েস প্লিজ। বসো বসো।”
তনুশকে খুব অন্যমনস্ক লাগছে। ছেলেটি কিছু একটা বলার জন্য যেন উশখুশ করছে। তাকে রিল্যাক্স করার জন্যে নিজেই আবার বললেন, “কিছু বলবে? নিঃসঙ্কোচে বলো। ছুটি চাই?”
“না স্যার, ছুটির কথা বলতে আসিনি।”
“তবে?”
“স্যার, আমি জানি না আপনাকে ঠিক কী বলবো, আদৌ যা বলছি তার কোনো ভিত্তি আছে কি না। কিন্তু যখন থেকে আপনার কাহিনি শুনেছি ক্লাসে, তখন থেকেই বারবার অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছি। বারবার মনে হচ্ছে এ কাহিনি আমার জানা, কোথাও দেখেছি।”
রাঘব এবার নড়েচড়ে বসলেন। বিগত পনেরো বছরের ইতিহাসে এই প্রথম তার কোন ছাত্র তার বলা এই কাহিনির ব্যাপারে খোঁজ করতে এসেছে। মন দিয়ে শোনা দরকার।
“ঠিক কী মনে হচ্ছে তোমার, তনুশ?”
“সেটা মুখে বলে বোঝাতে পারবো না। শুধু একটা ছোট গল্পই। আপনাকে শোনাতে পারবো।”
“বেশ, তাই বলো।”
তনুশ তার গল্প শুরু করে, নিজের গল্প।
“আমি কলকাতার ছেলে নই। ত্রিপুরায় আদি বাড়ি, বর্তমানে যদিও আমি এখানেই থাকি। ত্রিপুরায় দুর্গাবাড়ি বলে একটি মন্দির আছে। রাজার আমলের মন্দির। রাজবাড়ি ঘেঁষা বিশাল মন্দির। দুর্গার সেখানে দুই হাত। শোনা যায় অনেক বছর আগে দশ হাতের দুর্গা দেখে রানিমা এতই ভয় পেয়েছিলেন যে তিনি মূৰ্ছা যান। তার পর থেকেই এই ব্যবস্থা।”
“ইন্টারেস্টিং! শুনছি, বলতে থাকো।”
“আমি জজমান বাড়ির ছেলে, মানে মামাবাড়ির দিক থেকে। আমার দাদুর উপর রাজ্যের অধিকাংশ পূজার ভার ন্যস্ত থাকতো এবং দাদুর একার পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় তিনি তার শাগরেদদের সেসবের ভার দিয়ে দিতেন। মানে মোদ্দা কথা বাড়িতে বছর ভর পুরোহিত সমাগম লেগেই থাকত এবং এগুলো দেখেই আমার বড় হওয়া। সুতরাং আপনি বুঝতেই পারছেন স্যার পরিবেশটা কীরকম ছিল।”
“পারছি।”
“এই দুর্গাবাড়িতে নবমী পূজায় বলি হয়। তাগড়াই এক মহিষ খাঁড়ার আঘাতে নিমেষে এক থেকে দুই খণ্ডে পরিণত হয়। বাড়ির অনেকেই সেই বলি দেখতে যেতেন ভক্তি ভরে। প্রথম যেবার আমি যাই, সে বছর আমার মধ্যেও বোধহয় সে ভক্তি ছিল। গিয়ে দেখলাম মেরেকেটে পাঁচশো লোক ধরার জায়গায় কয়েক হাজার লোক সমাগম, অসম্ভব ভিড় এবং ভিড় সামলাতে রাজ্য পুলিশের তৎপরতা।
সময় উপস্থিত হলে মহিষটিকে যূপকাষ্ঠের সঙ্গে বাধা হয়, ওই ঠিক যেভাবে মা দন্তেশ্বরী মন্দিরে যুদ্ধবন্দিদের বাঁধা হয়েছিল। কোনো পার্থক্য নেই সেই বাঁধনে। মহিষের পেছনের দুই পা শক্ত করে কয়েক জন ধরে রাখে। সবাই লাল শালু পরে থাকে সেই সময়, উর্ধাঙ্গ অনাবৃত। মূলত উপজাতি অধ্যুষিত রাজবাড়ি হওয়ায় উপজাতি ভাইদের সংখ্যা বেশি হয়। ব্যান্ড পার্টি সহযোগে বাদ্য বাজতে থাকে, ঢাকও বাজতে থাকে সমান ভাবে । আর এমনি এক মাহেন্দ্রক্ষণে এক কোপে মহিষটি দুই ভাগ হয়ে যায়। মহিষের দেহ ছটফট করতে থাকে আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতি-উপজাতি সবাই মিলে নাচতে থাকে। ব্যান্ড পার্টি সেই মুহূর্তে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত কেন বাজায়, আমি আজ অবধি বুঝে উঠতে পারিনি। শুধু দেখেছি দরিদ্র-মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত সকলেই ছিটকে বেরোনো মহিষের রক্ত সংগ্রহ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। কেউ সাদা রুমালে রক্তে মেখে নিচ্ছে, কেউ নিজে সেই রক্তে শুয়ে মেঝেতেই ঘষছে মাথা! ধর্মের উদ্দাম নৃত্য তখনও অব্যাহত। যারা দুর্বল চিত্ত অথচ দৈব-দুর্বিপাকে ঘটনাটি দেখে ফেলেছেন, এক কোণে গিয়ে হয়তো বমি করছেন। চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিচ্ছেন। তাতে কী, মহিষ বেচারা এতক্ষণে চিরশান্তি পেয়েছে-আর নড়ছে না।”
রাঘব সবটা ঘটনা শুনলেন। তারপর পরনে চশমাটি খুলে রাখলেন। মুখে বললেন, “বীভৎস! কিন্তু তোমাকে এই ঘটনা আর কীভাবে প্রভাবিত করেছে, বললে না?”
“বলছি, স্যার। একটু জল হবে?”
“হ্যাঁ, নাও না।”
বোতল এগিয়ে দিলেন রাঘব। জল খেয়ে তনুশ বলল, এ ঘটনা প্রথম বার যখন চাক্ষুষ করি সেদিন রাতেই প্রায় এরকম পরিবেশের একটা স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম।
“প্রায় এরকম?”
“হ্যাঁ, প্রায়। কারণ মূর্তিতে দুর্গা নন, কালী ছিলেন এবং বলিতে মহিষ নয় মানুষ ছিল। লাফিয়ে উঠেছিলাম রাতের বেলায়। কিন্তু কাউকে বলিনি। পরের বছর আমি আবার যাই মহিষ বলি দেখতে এবং রাতে একই স্বপ্ন আবার দেখি। তারপর বহু বছর কেটে গেছে। এখন আর বলি দেখতে হয় না। কিছু সময় চিন্তা করলেই সেই দৃশ্য আমার চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে। কিন্তু ওই স্বপ্নের কোনো প্রতিকৃতি আমি দিতে পারিনি কোনদিন। আজ যখন আপনার কাহিনি শুনলাম ক্লাসে, আমার মনে হল আমার স্বপ্নটির সঙ্গে আপনার কাহিনির কিছু একটা কানেকশন আছে।”
“সেটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। ভারতবর্ষে যত নরবলি হয়েছে বা তার বাইরেও, আবহ মোটামুটি এক।”
“আপনি ঠিক বলেছেন। কিন্তু আমি আপনার ক্লাস শেষে একটু ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম স্যার। আর তাতে এই প্রথম বার, আমার স্বপ্নে চরিত্রগুলোর প্রতিকৃতি দিতে পেরেছি।”
“হোয়াট!”
“নইলে এভাবে ছুটে আসতাম না। যে কেউ এই ঘটনা শুনলে পাগল ভাববে, এই সেন্স আমার আছে। তাই কাউকে এই ঘটনা বলিনি। ইনফ্যাক্ট নরবলির এই কাহিনি কাল্টিভেট করার জন্যেই আমার এই বিষয়ে পড়াশোনা। নেহাত কাকতালীয় বলুন কিংবা অন্য কিছু, আমার মনে হয় আপনার কাহিনির সঙ্গে আমার দেখা স্বপ্নের কিংবা আমার কোনো একটা সম্পর্ক আছে।”
রাঘব সব শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। মনে মনে ভাবলেন, এই কাহিনি নিয়ে তার নিজেরও কৌতূহল কম নেই, কিন্তু এগোবার কোনো রাস্তাও তো নেই। একটা রাস্তা, তা যতই অবাস্তব হোক না কেন, যখন নিজে থেকেই খুলেছে এবং তার কাছেই এসেছে- তখন হয়তো কেউ চাইছে এই ইতিহাসের উপর থেকে পর্দা উঠুক।
রাঘব তনুশকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী করতে চাইছো তুমি?”
“স্যার, আমি দু’দিনের জন্য ত্রিপুরা যেতে চাইছি। আমি আমার বাড়ির ষ্টাডিতে একটি বই পেয়েছিলাম, তাতে একটা কাহিনির কিছু অংশ ছিল। সেটাও আপনার কাহিনির মতোই কোন দিক নির্দেশনে অক্ষম। কিন্তু আপনার কাহিনিকে এর সঙ্গে জুড়লে হয়তো কোনো পথের সন্ধান আমরা পেতে পারি। আমি লেখাটি আনতে যেতে চাইছি।”
“তাতে তো তোমার পরশুর ক্লাস মিস হবে।”
“এ জন্যেই তো আপনার পারমিশন চাই।”
“ঠিক আছে। তুমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরবে। পারলে পরশু দিনই। আমি তোমাকে নোটস দিয়ে দেবো।”
“থ্যাংক ইউ স্যার।”
“কিন্তু এক্ষুনি এই ব্যাপারে ক্লাসে কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। সময় এলে বলা যাবে।”
“তাই হবে স্যার। আমি আসছি, প্লেনের টিকিট বুক করতে হবে।”
“হ্যাঁ, যাও। টিকিট কেটে ইনভয়েসটা পাঠিও। হাফ আমি দেব।” হাসলেন রাঘব। তনুশ আপত্তি করল না। স্যারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সে।
প্রফেসর রাঘব বুঝতে পারছেন, অনেক দিনের রোমাঞ্চহীন জীবনের পর আজ আবার তার শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ছে। একেবারে বুড়ো হয়ে যাবার আগে শেষ একটা অ্যাডভেঞ্চার বোধহয় করে যেতেই হচ্ছে।
ব্রিফকেস থেকে মহারাজ প্রতাপ নারায়ণের সেই রাতের কাহিনি খুলে আবার পড়তে বসলেন তিনি।
