চন্দ্রহাস – ১.১৮

অধ্যায় ১৮

এক বছর কেটে গেছে। রাঘব এখন আবার সাধারণ জীবনযাপন করেন। আগের মতো সকালে উঠে, নাস্তা করে কলেজ। কলেজে পড়িয়ে বাড়ি। রিশানের সঙ্গে যোগাযোগ নেই অনেকদিন। কেমন আছে কে জানে! রাঘবের বউ আর মেয়ে এবার পুজোর ছুটিতে কদিনের জন্য কলকাতা এসেছে। তাদের সঙ্গে আড্ডা চলাকালীন হঠাৎ এক সন্ধেতে একটা ফোন এলো।

“হ্যালো?”

“রাঘবদা?”

“আরে আদিত্যবাবু যে!”

“হ্যাঁ। গলা ভোলেননি দেখছি! কেমন আছেন?”

“আপনাদের কোনোকিছুই ভোলা সম্ভব নয়। ভালো আছি। আপনারা?”

“আপনি যা করে দিয়ে গেছেন তারপর থেকে নিশ্চিন্তে আছি। চন্দ্রহাস মহল বিক্রি করিনি আমরা। সামনেই পূজো। আপনারা অবশ্যই আসবেন। একটা চমক অপেক্ষা করছে।”

ফোন রেখে অনেকক্ষণ বসে থাকেন রাঘব। গত বছরের কথা ভেবে ঘোরের মতো লাগে তার। কীভাবে কী কী ঘটে গেল, লোককে বললে আজগুবি বলবে। অথচ সবটাই ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কাহিনি ভুল হলে ইতিহাস ভুল। নবমীতেই চলে এসেছিলেন রাঘব-রিশান। দশমী অবধি আর ওই বাড়িতে থাকতে ইচ্ছে হয়নি রাঘবের। আর তাছাড়া ভাঙা হাতের চিকিৎসারও প্রয়োজন ছিল। নিজের বাড়ি থেকেই রাঘব সেটা করতে চেয়েছিলেন। রিশান এরপর আর কলেজেও আসেনি। রাঘবেরও কেন জানি ইচ্ছে হয়নি খোঁজ নেবার। যেন এক পুরোনো অধ্যায় শেষ হলো, শোধ হলো ইতিহাসের ঋণ।

অষ্টমীর দিন বউ আর মেয়েকে নিয়ে চন্দ্রহাস মহলে পৌঁছালেন রাঘব। এবার সিংহদুয়ারে দুটো সোনালি সিংহ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আদিত্য বিয়ে করেছেন। অনুজ এবং রেবাও ভালো আছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি হাসি-খুশি এবং প্রাণবন্ত।

আর চমক হিসেবে রাঘব দেখতে পেলেন, সে রক্তদন্তিকা মূর্তি আর নেই। দেবীর শান্ত, স্নিগ্ধ চিরাচরিত দুর্গামূর্তিরই পূজা হচ্ছে।

দুপুরে ভোগ নেবার পর মন্দিরে বসেছেন রাঘব। এবার চোখে পড়ার মতো লোক সমাগম হয়েছে। আশেপাশের তো বটেই, এমনকী বাইরে থেকে গাড়ি নিয়ে এসেও লোকজন চন্দ্রহাস মহলের পূজো দেখে যাচ্ছেন। মণ্ডপের ছবি তুলছেন। সে এক হইহই কাণ্ড। এরই মাঝে কখন অনুজ নারায়ণ এসে রাঘবের পাশে বসেছেন, রাঘব বুঝতে পারেননি।

চমক ভাঙল অনুজ নারায়ণের কথায়, “কী, কেমন দেখছেন এবার?”

“একেবারে আলাদা। দেখছি আর ভাবছি, গত বছর এই সময় কী দিন কাটিয়েছিলাম আমরা! উফ্!”

রাঘব অনুজবাবুর দিকে স্নিগ্ধ এক হাসি ছড়িয়ে বললেন, “সত্যি! তবে এই পূজো, লোক সমাগম এগুলোর চেয়ে অনেক বেশি তৃপ্তি পেয়েছি এবার মহালয়ার ভোরে। এই প্রথম পিতৃতর্পণ করে ভেতর থেকে তৃপ্ত হয়েছি। মনে হয়েছে ওরা সবাই এই জলটার জন্য অনন্তকাল ধরে অপেক্ষা করছিলেন।”

সাদা ধুতি ও গরদের পাঞ্জাবি পরা অনুজবাবুর চোখটা-চিকচিক করছে। রাঘব তার হাতটা ধরে বললেন, “আর ভয় নেই, অভিশাপ কেটে গেছে। পিছুটান সব শেষ।”

অনুজবাবুও চোখ মুছে সেই সুর ধরেই বললেন, “ইতিহাসের সমস্ত পিছুটান গত বছর দশমীতে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছি।”

“আর চন্দ্রহাস?”

রাঘবের প্রশ্নে অনুজ নারায়ণ মাথার উপর হাত তুলে প্রণাম করে বললেন, “এ তো অবিনশ্বর খড়্গ। তবু মায়ের সঙ্গেই ভাসিয়ে দিয়েছি। তালাবন্ধ করে দিয়েছিলাম। চাবিটা স্মৃতিস্বরূপ রেখে দিয়েছি আমরা। উচ্ছিষ্ট গণপতিকেও পূজা করে সন্তুষ্ট করে বিদায় জানিয়েছি।”

রাঘব হেসে বলেন, “ভালো করেছেন। আর ওদের সমাধি কোথায়?”

“এবার আর সমাধি নয়, হিন্দুমতে শেষকৃত্য। যেখানে তারা ছিলেন সেখানেই, সুড়ঙ্গেই। এবার গয়ায় পিণ্ডদান করে চিরতরে মুক্তি দেবো ওদের।”

রাঘব একটু গম্ভীর হয়ে আলোচনায় ইতি টানলেন।

সন্ধ্যারতির সময় আদিত্য নারায়ণ কথা বলছিলেন রাঘবের সঙ্গে। সাধারণ কুশল বিনিময়ের পর রাঘব বললেন, “মহলের ভেতর একটু একান্তে চলুন, কথা আছে।”

আদিত্য নারায়ণ একবার চাইলেন রাঘবের দিকে। একান্তে কথা বলার জন্য তার মনও যেন আকুলিবিকুলি করছে। কারণ, অনেক কথা বলার আছে। রাঘবের থেকে প্রস্তাব পেয়ে খুশি হয়েই বললেন তিনি, “চলুন। রাঘবদা।”

দুজনেই চন্দ্রহাস মহলের এক বন্ধ কক্ষে এসে উপস্থিত হলেন।

“এবার বলুন।”

“আদিত্য, আমার মনে হচ্ছে আপনারও আমাকে কিছু বলার আছে।”

“তা আছে বটে। হয়তো অনেক কিছুই বলার আছে যা আমি সাধারণ বুদ্ধিতে বুঝতে পারিনি বা ভয়ের কারণে এখনও বুঝতে চাই না। তবে তার আগে আপনার বক্তব্য শুনতে চাই। মহলের ভেতরে আসার কথা আপনিই প্রথম আমাকে বলেছিলেন।

রাঘব কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকেন। দুই সুদর্শন পুরুষকে ধোপদুরস্ত পাঞ্জাবিতে দেখতে যতটা সুন্দর লাগছে, ভেতর থেকে ঠিক ততটাই বিমর্ষ দুজনে।

রাঘব শুরু করলেন, “আচ্ছা আদিত্য, সেদিন আমরা যা দেখলাম তার সবটাই কী সত্যি! নাকি সবটাই ভ্রম ছিল? ভৈরবকে কি শেষ করতে পেরেছি আমরা? যদি পেরেই থাকি তবে আমি বিগত এক বছরে একবারের জন্যও নিশ্চিন্ত হতে পারলাম না কেন? কেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা হচ্ছে আমার? রিশানের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আর নেই, চাইলেই করতে পারতাম। অথচ ইচ্ছেই হয়নি। যেন আবার নতুন করে ইতিহাসের বা আমার পূর্বজন্মের কোনো সমস্যায় আটকে যাবার ভয় তাড়া করছে আমাকে। আপনার কাছে এগুলোর কোনো উত্তর থাকলে আমাকে প্লিজ বলুন।”

ইতিমধ্যেই রাঘব ঘেমে উঠেছেন। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জানান দিচ্ছে তার অন্তরমহলের দুশ্চিন্তা।

আদিত্য রাঘবের দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। বলতে শুরু করলেন, “আমিও ঠিক জানি না এই প্রশ্নগুলোর উত্তর। তবে হ্যাঁ, কিছু ঘটনা আমি জানতে পেরেছি, যেগুলো সত্য। সেগুলো আমি আপনাকে বলতে পারি। তাতে আমাদের দুজনের কৌতূহল কতটা নিরসন হবে জানা নেই, তবে ভাবনার অনেক খোরাকই হয়তো পাওয়া যাবে।”

“বেশ, বলুন।”

“দুটো ঘটনা ঘটেছে যে জন্য আমার মনে এত প্রশ্ন এসেছে। হয়তো আপনার ষষ্ঠেন্দ্রিয় জোরালো বলেই আপনি সেগুলো দূর থেকেও অনুভব করেছেন। প্রথম ঘটনা তখন ঘটে যখন আমি আর আপনি সুড়ঙ্গে আটক হই। মনে আছে, ভৈরব আমাদের সুড়ঙ্গ পথে আটকে দিয়েছিল?”

“হুম।”

“তখন ভৈরব উপরে এসে মন্দিরে উপস্থিত হয়, তবে নিজের রূপে নয়, আপনার রূপে।”

“কী?”

“হ্যাঁ। আপনাকে একা দেখে বাবা-মা সহ বাকি সকলে কিছুটা ভয় পেয়ে যান। তখন আপনি তাদের আশ্বস্ত করেন যে সব ঠিক আছে, তবে এই মন্দির প্রাঙ্গণে থাকা এখন উচিত নয় কারণ ভৈরব জেগে উঠেছে। আপনি সবাইকে মহলের ভেতরে অন্য এক কক্ষে যেতে বলেন যেখানে তারা নিরাপদ থাকবে। বাবা এবং পুরোহিত মশাই এতে রাজি হলেন না। তারা পূজা শেষ না করে উঠবেন না। অথচ আপনি তাদের সবদিক দিয়ে এতটাই আশ্বস্ত করে ফেলেছেন যে আপনার কথা শোনা ছাড়া তাদের কাছে আর রাস্তা খোলা ছিল না। অগত্যা মন্দিরের সবাই চন্দ্রহাস মহলের এক কক্ষে গিয়ে জড়ো হয়। আর প্রকৃতপক্ষে তখন সত্যিকারের আপনি আর আমি লড়াই করে চলেছি সুড়ঙ্গ থেকে বের হবার জন্য।”

“মাই গুডনেস! তাহলে কি আমরা যা দেখেছি সবটাই ভৈরবের সম্মোহন?”

“হয়তো ভৈরবের সেরকমই ইচ্ছে ছিল। সেরকমই কিছু একটা সৃষ্টি করে আমাদের বিভ্রান্ত করে হয়তো একেবারে শেষ করে দিতো। কিন্তু তা হয়নি। মহলের ভেতর কিছু সময় থাকার পর বাবার মনে হয় যে যিনি এসেছেন তিনি রাঘব, মানে আপনি নন। হয়তো ভৈরবই রূপ বদলে এসেছে। তাই তিনি সেখানে আর এক মুহূর্ত নষ্ট না করে সবাইকে নিয়ে আবার মন্দিরে ফিরে আসেন। আর ফেরার সময় দূর থেকে নাকি দেখেন সেখানে তাদেরই মতো দেখতে কিছু মানুষ তাদেরই মতো কাজকর্ম করতে শুরু করে দিয়েছে। বাবারা যত এগিয়ে গেলেন সেই সব ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল। সুতরাং, আমরা যখন এসেছি তখন যে বাবা, পুরোহিত মশাই, মা আসল রূপেই ছিল তাতে আমার সন্দেহ নেই।”

“তাহলে?”

“দ্বিতীয় ঘটনাটা বলা বাকি। সেটা অবশ্য ঘটে সকালে আপনি আর রিশান বেরিয়ে যাবার পর। আপনি তো ভাঙা হাত নিয়ে ডাক্তার দেখাতে সকালে রওনা দিলেন। রিশান আপনাকে নিয়ে গেল। আমি সিংহদুয়ার অবধি আপনাদের এগিয়ে দিতে এলাম। তখনও ভৈরব আর সিংহের সৎকার হয়নি।”

“হ্যাঁ, মৃতদেহ তো আমি নিজেই দেখে গেলাম।”

“মৃতদেহ? হবে হয়তো।”

“এরকম বলছেন কেন?”

“কারণ এই ঘটনার সত্যি কোনো ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। যদি মৃতদেহই হয়, তবে আমি ফেরার আগে আমার মতো দেখতে কেউ কীভাবে বাবাকে গিয়ে বলে যে, ‘তোমরা এখন বিশ্রাম নাও, অনেক ধকল গেছে কাল সারারাত। কিছু সময় পর আমরা সৎকার করবো।’

ভৈরব আর নেই ভেবে এবার কিন্তু বাবা আর কোনো সন্দেহ করলেন না। সবাই অন্দরমহলে চলে গেলেন। অথচ আমি যখন আপনাদের ছেড়ে ভেতরে এলাম তখন দেখেছিলাম সবাই উপস্থিত। সবাই সৎকারের জোগাড়যন্তর করছেন।”

“দাঁড়ান দাঁড়ান। গুলিয়ে যাচ্ছে। মানে আপনি বলতে চাইছেন ভৈরবের মৃত্যুর পরেও সে প্রথমে আপনার রূপ নিয়ে অনুজবাবুদের বিশ্রামে পাঠালো। তারপর আপনার সামনে অনুজবাবু, পুরোহিতমশাইসহ সবার রূপ ধারণ করে নিজের সৎকারের ব্যবস্থা নিজেই করল। আপনি কী বলছেন এসব?”

“ঘটে যাওয়া কিছু চরম সত্য বলছি মাত্র। ভৈরব নিজেই নিজের অন্ত্যেষ্টির ব্যবস্থা করেছে। যখন এসব ঘটছিল তখন আমি কিছুই জানতাম না। আমিও সেই সব ছদ্মবেশীদের সঙ্গে হাতে হাত লাগিয়ে কাজ করেছিলাম। সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে আমি নিজে কালো থেকে পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে আসা সিংহটার এবং কাটামুণ্ডসহ ভৈরবের ধড়ের মুখাগ্নি করি। তাদের অস্থি সবাই মিলে মাটি চাপা দিই সেই সুড়ঙ্গেই। আমার কোনো অনিষ্ট তারা করেনি, অথচ করতে পারতো। সব মিলিয়ে ঠিক কী ঘটেছিল, আমি জানি না। যখন উপরে উঠে এলাম, তখন মন্দিরে বাবাকে দেখে অবাক হলাম। আর তখনই পেছনে ফিরে আবিষ্কার করলাম কেউ নেই পেছনে। আদৌ কখনো ছিলই না। সবাই উপরেই ছিল। প্রথমটা বিশ্বাস করিনি, ভেবেছিলাম বাবাই হয়তো ভেকধারী। তারপর ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম যে, বাবা ঠিক কথাই বলছে। কিন্তু কেন? তার উত্তর পাইনি। আপনি কোনো দিকনির্দেশ করতে পারবেন?”

রাঘবের কাছেও এর কোনো উত্তর ছিল না। তিনি মাথা নাড়েন। দুজনেই চুপচাপ কিছুটা সময় বসে থাকে। তারপর আদিত্য এক সময় বলেন, “রিশানের সঙ্গে সেবার এলেন না দেখে আশ্চর্য হয়েছিলাম। আপনাদের যে যোগাযোগ নেই তখন তো জানতাম না।”

“রিশানের সঙ্গে?”

“হ্যাঁ। কিছুদিন পর রিশান একবার এসেছিল।”

“কেন?” রাঘব ভ্রূ কোঁচকালেন।

“এমনি, বলল ঘুরতে এসেছে।”

“আর কিছু বলল?”

“না, সেরকম কিছু না। তবে একবার সুড়ঙ্গে যেতে চেয়েছিল।”

“তারপর?”

“তারপর আর কী? তালা খুলে নিয়ে গেলাম সুড়ঙ্গে। ভৈরবের আর সিংহের অস্থি ছাড়া তো কিছুই নেই। সেগুলোও মাটিতে পোঁতা। এই কিছুদিন পর গয়ায় প্রেতশিলায় যাব।” ঘুরিয়ে ভেতরটা দেখিয়ে চলে এলাম।

“আচ্ছা।” নিশ্চিন্ত হলেন রাঘব।

“নাহ, ভুল বললাম। আমাকে বাবা ডাকছিল বলে আমি উঠে এসেছিলাম। চাবি দিয়েছিলাম রিশানকে। সে-ই সুড়ঙ্গ বন্ধ করে চাবি ফেরত দেয়।”

রাঘব উঠে দাঁড়ালেন। ব্যস্তসমস্ত হয়ে বললেন, “চলুন একবার সুড়ঙ্গে। দেখবো আমি।”

আদিত্য রাঘবের হঠাৎ চোখ-মুখের পরিবর্তনে ঘাবড়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে চাবি আনিয়ে সুড়ঙ্গে রওনা দিলেন দুজনে।

সুড়ঙ্গের ভেতরে এখন লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদিত্য জানায় এ সবই রিশান আসার আগে করা হয়েছে। বাড়ি থেকে সমস্ত অন্ধকার মেটাতেই এত সব আয়োজন। আর রিশানের সঙ্গে আসার পর এই প্রথম কেউ আবার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করছে। ধীরে ধীরে তারা এগিয়ে যায় শেষ কারাগারের দিকে। ওখানেই এক সময় ভৈরবের সমাধি ছিল, এখন আছে অস্থি।

কারাগারের সামনে পৌঁছে তালা খুললেন আদিত্য। কারাগারের ভেতরে দুজনে প্রবেশ করে লাইটের সুইচ অন করলেন।

বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন দুজনে। এ যেন অকল্পনীয়। পুরো কারাগার যেন কেউ খুঁড়েছে, কিছু যেন তন্নতন্ন করে খুঁজে গেছে কেউ এবং অভীষ্ট বস্তু পাওয়ার পর তাড়াহুড়োতে মাটি চাপা দিতে ভুলে গেছে অথবা হয়তো চেয়েছে কেউ এসে এভাবেই দেখুক আর ঘটনার তাৎপর্য বুঝুক।

কারাগারের নির্দিষ্ট যে স্থানে ভৈরব এবং প্রাগৈতিহাসিক কালো সিংহের অস্থি রাখা ছিল, সেখানকার মাটি খুঁড়েও আর পাওয়া গেল না অস্থি। যেন উবে গেছে সেগুলো। ধরণী চিরতরে ধারণ করেছে সেই অস্থি অথবা কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে ভবিষ্যতে আবার মৃত্যুর খেলায় নামবে বলে।

***

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *