ইতি গজ : মহাপ্রস্থান – রজত শুভ্র কর্মকার
ইতি গজ : মহাপ্রস্থান – রজত শুভ্র কর্মকার
Iti Gajo: Mahaprasthan by Rajat Subhra Karmakar
প্রথম প্রকাশ: বইমেলা, ২০২৪
প্রচ্ছদ, প্রুফ সংশোধন ও লে-আউট: সুমন সরকার
ফ্ল্যাপের লেখা ১
আরও কিছুক্ষণ পর ডক্টর নাগ যখন পায়ের তলায় শক্ত জমি খুঁজে পেলেন, তখন তিনি দেখলেন তাঁরা একটা বিরাট বড়ো বৃত্তাকার হলঘরের মধ্যে এসে উপস্থিত হয়েছেন। সেই হলঘরে কোনো দরজা নেই, জানালা নেই, আছে শুধু একটা গর্ত, সেখান থেকে নেমে এসেছে একটা মই, এই হলঘরে আসার একমাত্র রাস্তা। হলঘরের চারপ্রান্তে জ্বলছে চারটি মশাল, আর সেই মশালের আলোয় ডক্টর নাগ দেখতে পেলেন এক অদ্ভুত দৃশ্য। হলঘরের মাঝে রয়েছে একটা ধূসর রঙের অদ্ভুত আকৃতির গাছ। সেই গাছের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে হলঘরের চতুর্দিকে, আর পাতার বদলে রয়েছে এমন এক শিকড়ের মতো দেখতে কিছু অংশ যা হলঘরের ছাদ অবধি চলে গেছে…
ফ্ল্যাপের লেখা ২
আমাদের এই আখ্যানটির সূত্রপাত হয়েছিল একটি প্রশ্ন দিয়ে অমরত্ব আশীর্বাদ না অভিশাপ? উত্তরটি সবাই জানে, এর থেকে ভয়ানক অভিশাপ এই ব্রহ্মাণ্ডে আর কিছু নেই। একজন মানুষ, সে বেঁচে থাকতে বাধ্য, কারণ সে অমরত্বের অভিশাপে অভিশপ্ত, জীবন নামক জেলখানা তাকে পালাতে দিচ্ছে না, মৃত্যু চাইলেও আসছে না। একমাত্র উপায়? প্রলয়। প্রথম খণ্ডের কেন্দ্রে যিনি ছিলেন তিনি এই দ্বিতীয় খণ্ডেও চেষ্টা, করছেন সেই অমরত্বের অভিশাপ ভেঙে বেরনোর, তিনি এখনও চেষ্টা করছেন প্রলয়কে আনার। আর এ-জন্য তিনি পরবর্তী আধার হিসেবে খুঁজে বার করেছেন এমন একজনকে, যাকে একমাত্র রবীন্দ্রসংগীতই শান্ত রাখতে পারে! সেই অভিশপ্ত মহাকাব্যিক চরিত্রটিকে পুনরায় আটকানোর গুরুদায়িত্ব নিয়েছেন ডক্টর বোধিসত্ত্ব নাগ। কিন্তু তাঁর শরীর একটু-একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। আর তিনি ভাবছেন এই পৃথিবীকে বাঁচানোর গুরুদায়িত্ব তাঁর একারই। তাঁর এই ভাবনা কতটা ঠিক বা ভুল? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে, ‘ইতি গজ’-এর দ্বিতীয় খণ্ড ‘ইতি গজ: মহাপ্রস্থান’-এ।
ভূমিকা
‘ইতি গজ’-র প্রথম খণ্ড যখন লিখেছিলাম তখন আমার মাথায় এই প্রশ্নটি ছিল যে, অমরত্ব আশীর্বাদ না অভিশাপ? প্রশ্নটি যেমন সহজ, উত্তরটিও জানা। অবশ্যই এটি অভিশাপ। একজন মানুষ, সে বেঁচে থাকতে বাধ্য, কারণ সে অমরত্বের অভিশাপে অভিশপ্ত; মৃত্যু তার কাছে একটা পালাবার পথ হতে পারে, কিন্তু জীবন নামক জেলখানা তাকে পালাতে দিচ্ছে না। প্রথম পর্ব যারা পড়েছেন, তাঁরা জানেন সেই চরিত্রের কী হয়েছিল গল্পের শেষে। তারপর কেটে গেছে অনেক ক’টা দিন। আগের খণ্ডের কেন্দ্রে যিনি ছিলেন, তিনি এই দ্বিতীয় খণ্ডেও চেষ্টা করছেন সেই অমরত্বের অভিশাপ ভেঙে বেরনোর। আর এ-জন্য তিনি পরবর্তী আধার হিসেবে খুঁজে বার করেছেন এমন একজনকে, যাকে একমাত্র রবীন্দ্রসংগীতই শান্ত রাখতে পারে! আর সেই অভিশপ্ত মহাকাব্যিক চরিত্রটিকে পুনরায় আটকানোর গুরুদায়িত্ব নিয়েছেন সেই ডক্টর বোধিসত্ত্ব নাগ। কিন্তু তাঁর হাতে সময় বেশি নেই, কারণ তাঁর শরীর একটু-একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। আর তিনি ভাবছেন এই পৃথিবীকে বাঁচানোর গুরুদায়িত্ব তাঁর একারই। তাঁর এই ভাবনা কতটা ঠিক বা ভুল? এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এই উপন্যাসে। আর এটা তো সত্যি কথা, লেখার সময় এই উপন্যাসের গতিপ্রকৃতি আমি ঠিক করতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম এক, কিন্তু লেখার সময় দেখলাম চরিত্ররা নিজেরাই নিজেদের পথ ঠিক করে নিল। আর কী! আমি দর্শকের ভূমিকা পালন করলুম মাত্র। আর যা আমি দেখতে পেয়েছি সেটাই আমি দেখানোর চেষ্টা করছি এখানে।
উপন্যাসটিকে লেখার জন্য আমি বিশেষ ধন্যবাদ দেব আমাদের বসম্যান- কে যাকে আজকাল আমি অনেক নামে ডাকি, নীল ব্রোস্কি থেকে শুরু করে বিগ লেবোউস্কি এরকম অনেক কিছু। কারণ ‘ইতি গজ’-কে সিরিজে পরিবর্তিত করার ভাবনাটা তারই ছিল। আর আমাদের বসম্যান যে এই বইটিকে বের করার দুঃসাহস দেখিয়েছে সেটার জন্য একটা বিশেষ ধন্যবাদ তার প্রাপ্য। বিশেষ ধন্যবাদ অবশ্যই প্রাপ্য আমার বন্ধু ডক্টর রেনি অজয়ের, যার কাছ থেকে আমি মনস্তত্ত্ব সংক্রান্ত পরামর্শ পেয়েছি। আর হ্যাঁ, আবারও বলি, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ফ্যান্টাসি উপন্যাস, কোনো ঘটনা বা চরিত্রের সঙ্গে মিল পেলে সেটা নিছকই কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত। এখানে বর্ণিত সকল ঘটনাবলিকে পরিণতমনস্ক পাঠকেরা গল্প হিসেবেই গ্রহণ করবেন, এই আশা রাখব। ব্যস, এটুকুই বলা।
.
রজত শুভ্র কর্মকারের জন্ম ১৯৮৮ সালের ২৩ অগস্ট। বেড়ে ওঠা জলপাইগুড়িতে, তারপর পড়াশোনার জন্য থাকা বহরমপুর এবং কলকাতা শহরে। বর্তমানে তাইপেই শহরে ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটিতে গবেষণারত।
পছন্দ: ফ্যান্টাসি নিয়ে পড়া এবং লেখা, অবসরে গান করা এবং শোনা (লোকসংগীত এবং রকসংগীতে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে)।
দুর্বলতা: লুচি, আলুর দম, মিষ্টি দই!
প্রকাশিত বই: রৌরব, ছলনায়কদের উপকথা, ইতি গজ, সাপ সিঁড়ি মোক্ষ।


Leave a Reply