১৬৩. দলবিভ্রাট নীতিবিভ্রাট
ঢাকা দাঙ্গার সময়ই হিন্দু মহাসভা এক রিলিফ ফান্ড খুলে বসল। ইতিমধ্যে কংগ্রেসের ধরি মাছ না ছুঁই পানি’—নীতির ফলে, এত বেশি হিন্দু বাঙালি-অবাঙালি ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে গেল যে মহাসভা ঘোষণাই করে দিল, কোনো অবস্থাতেই তারা তাদের রিলিফের সংগ্রহ সরকারের হাতে বা অন্য কোনো কমিটির হাতে তুলে দেবে না। রিলিফের ব্যাপারে তারা সরকারি কোনো নীতি বা নির্দেশও মানবে না। ১৯৪১-এর সেনসাসের সুযোগে প্রায় সমস্ত জিলা কংগ্রেস কমিটি, হয় পুরোপুরি, না-হয় অংশত, হিন্দু হয়ে গেল। সুভাষ বোসকে কংগ্রেস থেকে তাড়িয়ে দেয়ায় বাংলায় নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির হাল খুবই খারাপ দাঁড়িয়েছিল। কংগ্রেসের সদস্য ও সমর্থক সকলেই যে সুভাষ বোসের পক্ষে ছিলেন, মোটেই তা নয়। সুভাষ বোসের সম্পূর্ণ বিরোধী রাও কোনো বড়সড় মানিগণ্যি নেতা পাচ্ছিলেন না যাকে ঘিরে তারা দল গুছতে পারে। তার ওপর ‘বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্ট (অ্যামেণ্ডমেস্ট)’ ও ‘বেঙ্গল মহাজনি অ্যাক্ট (এ্যামেন্ডমেন্ট)’ এর বিল এসে গিয়েছিল। আইনসভায় কংগ্রেস দলের নেতা হিশেবে শরৎ বোসের পক্ষে সম্ভবই ছিল না—রায়ত ও জোতদারের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বা শুধু জমিদারদের স্বার্থের কথা ভেবে এই বিল দুটির বিরোধিতা করা। তার ফল হত কংগ্রেস কৃষকবিরোধী বলে একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ত। বোঝার ওপর শাকের আঁটি হয়ে এল ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট’ ও ‘বাংলা সেকেন্ডারি এডুকেশন অ্যাক্ট’ বিল দুটি। কোনো বাঙালি হিন্দুর বুঝতে বাকি থাকল না—সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও বাংলা প্রদেশে হিন্দুরা যে প্রভুত্ব পেতে অভ্যস্ত, লেখাপড়া জানা বাবু বলে, বামুন বলে, ও গ্রামসমাজের কর্তা বলে, আঘাতটার লক্ষ সেই প্রভুত্ব। প্রভুত্বের সঙ্গে তো জড়ানো থাকে সরকারি খাতির। পুলিশ ইনস্পেক্টার থেকে এসপি কেউই এসে আর হিন্দুকর্তাদের বাড়ি গেস্ট হবে না। বাড়ির বার্ষিক পূজায় এস ডিও বা ডিএম, অন্তত একদিন, আসবেন না। উচ্চবর্ণ হিন্দু এত দিন ধরে লালিত হয়েছে যে-আধিপত্য ও আনুগত্যের আড়াঠেকায়, তাতে এ-আঘাত সে-সমাজের পক্ষে অস্তিত্ববিদারক। বাংলার হিন্দুদের অস্তিত্ব বিপন্ন। ৪১-এর সেনসাস নোটিশ, ইতিমধ্যেই ঘটে-যাওয়া ঘটনাকে আইনের স্বীকৃতি দিচ্ছে। হিন্দু বাঙালিবাবু যে কংগ্রেস থেকে সরে যাচ্ছে—এ আর নতুন দুশ্চিন্তার কথা ছিল না। জমিদারদের কাছ থেকে জমিদারির ট্যাক্স-খাজনা আদায় কমতে-কমতে খুব বিপদের জায়গায় চলে গেল। কংগ্রেস কৃষক ঋণ বা সালিশি নিয়ে আইনসভায় মুখ ফুটে কিছু বলে বসলে, হিন্দু-উচ্চবর্ণ ও জমিদার যে কংগ্রেস ছেড়ে চলে যাবে সে-বিষয়ে কারো মনে কোনো সন্দেহ ছিল না। কংগ্রেসের কায়েমি হিন্দু সমর্থকরা যাতে ছেড়ে না যায়, শরৎ বোস সেই মতলবেই আরো সব বিপ্লবী কথা বলে আইনগুলিকে ভেস্তে দিতে চেষ্টা করছিলেন। তাতে হিন্দুরাই তাঁকে কমিউনিস্ট বলে গাল দিতে লাগল। কংগ্রেসিরা কোনো ভোটেই প্রার্থী খুঁজে পায় না। নৌসের আলির মত নেতা হেরে গেলেন, দুটো আসনেই। কংগ্রেসের যাঁরা জমিদার-নেতা তাঁরা কৃষক সমিতির ‘না-এক পাই, না-এক ভাই’ শ্লোগানে আঁতকে উঠলেন। যশোর কংগ্রেস কমিটি, হুগলি জিলা জমিদার সংস্থা, বর্ধমান জিলার অনেকগুলি কংগ্রেস লোক্যাল কমিটি, মেদিনীপুর কংগ্রেস কমিটি, অনেক রাজবন্দী, কলিকাতা ব্রাহ্মণ সভা, কংগ্রেস নেতা বলে প্রতিষ্ঠিত অনেক খ্যাতিমান মানুষ— কংগ্রেসের ওপর বিরক্ত হয়ে উঠলেন। তাঁদের সেই বিরক্তির মূল কারণ ছিল—কংগ্রেসের বা উচ্চবর্ণ হিন্দুদের, বা ছোট-বড় ভূস্বামীদের, বা হিন্দু ব্যবসায়ীদের, বা হিন্দু অবাঙালি ব্যবসায়ীদের, বা শিক্ষিত-বলে-চাকরি-পাওয়া হিন্দু বাঙালিদের, বা ডাক্তার-ইনজিনিয়ার-উকিল এই সব পেশার হিন্দু বাঙালিদের ক্রমাগত ছোট ও খাটো হয়ে যাওয়া, রাজনীতি- ব্যবসাবাণিজ্য-ভূসম্পত্তি সব দিক দিয়ে ছোট ও খাটো হয়ে যাওয়া। আত্মরক্ষার এমন শ্বাসরোধী বোধ, যেন একটা টানেলে বেরবার পথটা সিল করে দেয়া হয়েছে, হিন্দু-বাঙালি মনে-ভয় শারীরিক ভয় হয়ে উঠছিল। সত্য হয়ে উঠেছিল। একা বা অসময়ে বাজারে যেত না কেউ। রাতে ঘরে কেরসিনের ডিম লাইটে ভরসা থাকছিল না। বাঙালি বলে সর্ব ভারতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বাঙালি কোনো পাত পাচ্ছিল না। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির মত কেন্দ্রীয় সংগঠনে কোনো বলবার মত বাঙালি নেতা নেই। মুসলিম লিগেও এক হকশাহেব ছিলেন, তাঁকে সরিয়ে দিলে কেউ নেই। হিন্দু মহাসভাতেও এক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আর এন-সি চট্টোপাধ্যায় বাঙালি।
বাঙালি হিন্দুর এই দম-আটকানো হাঁসফাঁসে রাজনীতির বা তত্ত্বের লেবেল সেঁটে দেয়া যায় না। লেবেল তো সাঁটা যায় যদি কোনো তাক থাকে বা খোপ থাকে। হিন্দু বাঙালিরা কেউই অন্ধকূপের বাইরে ছিল না। সরকারি ভাষায় যাকে বলা হত ‘হিন্দু প্রেস’, যারা নিজেদের বলত ‘ন্যাশনালিস্ট প্রেস,’ যারা নিজেদের যুক্তিবাদী ও সাম্প্রদায়নিরপেক্ষ রাজনীতির প্রচারক মনে করত—তাদের সবার শরীরে যে হিন্দুরক্তই বইছে তা বোঝা যেত যখনই হিন্দুধর্ম ও হিন্দু সমাজ ঘটিত কোনো বিষয়ের সঙ্গে সরকার ও জনসাধারণ জড়িয়ে পড়ত। তখন তারা প্রত্যেকেই, ‘লিবার্টিই হোক আর ‘অ্যাডভান্স’ই হোক, ‘ফরোয়ার্ডই হোক আর ‘অমৃতবাজার’ই হোক, ‘আনন্দবাজার’ই হোক আর ‘হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ডই হোক, মুখব্যাদান করে হিন্দুধর্মের সনাতন ঐতিহ্যের কথা ও মহান উত্তরাধিকারের কথা এতই চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে বলত যে ছাপানো হরফগুলি যদি কণ্ঠস্বর হত, তাহলে কারো কোনো কথাই বোঝা যেত না—একটা প্রাকৃতিক সর্বনাশের প্রবল আওয়াজ ছাড়া।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়তুল্য আওয়াজের কোরাসে কিন্তু এমনও অনেকে ছিলেন যাঁরা হিন্দু বলে কোনো গৌরবে বিশ্বাসই করতেন না, দীর্ঘ জীবনযাপনে যাঁদের কোনো হিন্দু সংকীর্ণতার পক্ষ সমর্থন করতে হয়নি ও যাঁদের ব্যক্তিগত আর সমাজগত পরিচয়ের সর্বাধিকতম মূল্য ছিল এই যে তাঁরা বুদ্ধির মুক্তিতে বিশ্বাস করেন। যেমন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ও প্রফুল্লচন্দ্র রায়। এমনকী রবীন্দ্রনাথও। তিনি তাঁর শেষ শয্যা থেকেও প্রস্তাবিত মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সম্পর্কে আপত্তিতে বাঙালি হিন্দুর সংস্কৃতিকেই বাঙালি সংস্কৃতি ধরে নিয়ে কথা বললেন। তাঁরাও কিন্তু হিন্দু পরিচয়ের সম্মানহানিতেই তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, বলেছেন, এটা অস্বীকারের তো কোনো উপায় নেই যে হিন্দু সমাজে আমার জন্ম ও লালন। নিজের জন্ম ও লালনের সমাজ ও সংস্কৃতিকে স্বীকার করে নেয়া যে মুক্ত ব্যক্তিত্বের কোনো কলঙ্ক নয়, তা মুসলমান সমাজ শিখেছিলেন হিন্দু সমাজের বিশিষ্টদের আচরণ থেকে। এঁদের এই যুক্তি, হিন্দু বঞ্চনাবোধকে মর্যাদা দিয়েছিল। সেই মর্যাদা যে-সম্ভব, আমার শিক্ষালব্ধ মর্যাদা ও জন্মলব্ধ মর্যাদা যে একই দুঃখের দিকে আমাকে টেনে নিতে পারে তার এমন উদাহরণ, এই ১৯৪২ থেকে বহু-বহু মুসলিম বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ ও ঐতিহাসিককে অনুপ্রাণিত করেছে, পাকিস্তান-প্রস্তাব সমর্থনে, জিন্নাকে সমর্থনে ও লিগকে সমর্থনে। যে-জাতে আমার জন্ম, সেটি বেছে নেয়ার কোনো অধিকার বা সুযোগ ছিল না, থাকা সম্ভবও নয়, আর সেই কারণেই সেই জাতের ভবিতব্যকে আমার নিজের ভবিতব্য বলে মেনে নিতে আমার কোনো কুণ্ঠা নেই। এঁদের মধ্যে তো ছিলেন আবুল করিম সাহিত্য বিশারদ, কাজী আবদুল ওয়াদদ, হুমায়ুন কবির, রোহেসানা, রেজাউল করিম।
১৯৪২। বাঙালির সমাজশরীর মাথা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত ছেঁড়া দুটো গোটা অর্ধদেহ হয়ে আছে। একটা স্বাধিকার বঞ্চিত হিন্দুসমাজ। আর-এক অর্ধস্বাধিকার বিশ্বাসী মুসলমান সমাজ। হিন্দু সমাজের লক্ষ ছিল অধিকাররক্ষণ। মুসলমান সমাজের লক্ষ ছিল অধিকারঅর্জন।
৪২-ই এমন কোনো অনড় মাইলফলক নয়। দু-পাঁচবছর পেছিয়ে যাওয়া যায়, এগিয়ে আসা যায়। তাতে কিছু বদলাবে না এই অর্ধদেহের। খুব সম্ভবত শরীর-বিবর্তনে লুপ্ত অঙ্গ আবার গজায়। তেমন শারীরিক ক্ষতিপূরণে এই শোক বা বংশানুক্রমিক অসম্পূর্ণতাবোধ তো দূর হয় না, যে, আমার দেহটা পূর্ণ নয়, আলম্ব অর্ধেক। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলে যে-বালা ছিল এই একুশ শতকের এই প্রথম দশকান্ত থেকে আরো আরো অতীত দশকগুলিতে, তাকে কি সংক্ষেপ করে আনা যায় মাত্র পাঁচ-ছয়-সাত-আট দশকে, কোনো অব্যবহিত সান্ত্বনার দরকারে, যেন আমরা খুব বেশিদিন হল অর্ধদেহ হয়ে নেই, হিশেবের মধ্যেই আনা যায় সময়টিকে? না-হয় আরো পেছিয়ে যাওয়াই গেল, আরো আরো আটদশক। রামমোহন? প্রথম পূর্ণদেহী? নাকী শেষ? তিনি নিরাকার জ্ঞানদীপ্ত ঈশ্বরকে পেলেন ইসলাম থেকে। ঋণ-খেলাপি করে সেই নিরাকারকে স্থাপন করলেন তাঁর নিজের কল্পিত এক বেদান্তে-উপনিষদে? যে-বেদান্ত উপনিষদ তখন পর্যন্ত ভারতে চর্চা হত, তার সঙ্গে রামমোহনের ব্রহ্মের ধারণার কোনো মিল নেই, কোনো সংযোগও নেই। যাকে নাম দেয়া যায়, এমন কী যে-ধারণারও নাম দেয়া যায়, সেটাই তো একটা মূর্তি হয়ে যায়। রামমোহন হিন্দু ছিলেন হয়তো এমন একটা প্রাগৈতিহাসিক কারণে যে তিনি এ-কথা স্বীকারে ভয় পেয়েছিলেন, আমি হিন্দু নই। সেই কি প্রথম? হিন্দু নই বলার ভয়? হয়তো নিম্নবর্ণ জাতগুলির বানানো বংশপরিচয়গুলোর কল্পনাগুলি বিনির্মাণ করলে পাওয়া যাবে এমন কোনো সময়, যখন বৌদ্ধ বলতে ভয় ছিল, যখন জৈন বলতে ভয় ছিল, এখন যেমন বাংলাদেশ থেকে বর্ডারডিঙনো কোনো মেয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসে নিজেকে অনুপ্রবেশী বলতে ভয় পায় সে, সে একটা হিন্দু নাম নেয়।
না। অতদূর অতীত পর্যন্ত পেছনো যাবে না, দুটি অর্ধদেহের খোঁজে। অতীতের একটা সীমা আছে। একটা অতীতের পর অতীতের নিসর্গ ও বিন্যাস এমন একটি দৃশ্য হয়ে যায় যা শুধু বানানো যেতে পারে, ভিন্ন পাওয়ারের দুই চোখের কনট্যাক্ট লেন্স উলটে লাগালে।
তার চাইতে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ এই দশ বছর ধরলে নিরাপদ ঠেকে। আর যুক্তিগুলোও কানে সয়ে গেছে।
সেই-যে ৩২-এর গোলটেবিল, তারপর ম্যাকডোনাল্ডের সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ, গান্ধীজির অনশন, পুণা চুক্তি, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, রাজনীতির নতুন মাপক—ভোটসংখ্যা আসন সংখ্যা, তার মধ্যে গোটা একটা বিশ্বযুদ্ধ, এই বাংলার সেই যুদ্ধে লেপ্টে যাওয়া, একেবারে লেপ্টে যাওয়া, বানানো লেপ্টানো নয় নোংরা, পচা, গলা, থকথকে, মৃতে ঠাসা, অচেনা সামুদ্রিক প্রাণীর খোলশে ভর্তি যেন একটা উলটনো ভ্যাট, বালি বদলে গেছে তরল কাদায়, সে কাদার ভরশূন্যতায় ডোবা যায় না, সাঁতরানোও যায় না, ভাঁটির সৈকতের মত, দীর্ঘস্থায়ী এক বড় জোয়ারের পরের ভাঁটিতে সৈকতে মানুষ দাঁড়াতে পারে না চলতে পারে না, উড়তে পারে না, পালাতে পারে না, এগুতে পারে না, শুধু শুদ্ধতম অক্সিজেনের আর-একটা বিষাক্ত মানবদেহের রসায়নের বিনিময় ঘটে যাচ্ছে, অথচ ইতিহাসের কোথাও কোনো প্রমাণ রইল না যে বাংলার, বাংলার, বাংলার একটা যুদ্ধ ছিল; সে-যুদ্ধে, যুদ্ধের নিয়ম-অনুযায়ী মৃত ও নিরুদ্দেশের সংখ্যা গোনা ছিল, সেই, সেই বাংলার যুদ্ধের একটা ভূমণ্ডল, ভূতল ও নভস্তলও ছিল, সে যুদ্ধের আক্রান্ত ও আক্রমক ছিল কখনো অবাঙালি হিন্দু, কখনো অবাঙালি মুসলিম, কখনো অবাঙালি শিখ, কখনো অবাঙালি নিরামিষ ভোজী হিন্দু।
বরং এই ১৯৩৭ থেকে ৪৭-এর দশ বছরে একটা নকশা পাওয়া যায়। সেই নকশায় ক্ষমতা-হস্তান্তর সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র গুছনো ও সাজানো আছে। সেই নকশায় আবার পরিকল্পিত ইতিহাসের শৃঙ্খলাও আছে। যখন এই ঘটনাগুলি ঘটছিল, এই বিষয়ানুগ ও বর্ণানুগ ঘটনাগুলি ঘটছিল, তখন কি কারো কল্পনাতেও কোথাও ছিল এই বিষয়ানুগত্য ও বর্ণানুগত্য? আরো বিস্ময়ের কথা—বাংলার সেই যুদ্ধও ছিল বহুকৌণিক। কখনো হিন্দু-মুসলমানের, কখনো শাহেব-অশাহেবের, কখনো হলদে চামড়ার মানুষদের সঙ্গে শাদা চামড়ার।
