১৬০. জাতীয়তাবাদ বলেও কিছু একটা
১৯৪১-এর ৮ মে দিল্লির ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ কাগজে গান্ধীজির একটা বিবৃতি বেরিয়েছিল। সেই বিবৃতির কোনো আনুষঙ্গিক ঘটনা গান্ধীজি সম্পর্কিত প্রকাশিত কোনো জীবনী বা ইতিহাসে নেই। কিন্তু ওই দিনই গভর্নর জেনারেল লিনলিথগ এটা টেলিগ্রাম করে জানান সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইনডিয়াকে। গান্ধীজি বলেছিলেন, আমরা (কংগ্রেসিরা নিজেদের কাপুরুষ ও বর্বর বলে প্রমাণ করেছি (এই সব দাঙ্গার জায়গায়)। কংগ্রেসিদের অহিংসা যদি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে না পারে, তাহলে যারা হিংসার সদ্ব্যবহার জানে, তাদের কাছেই ক্ষমতা (পাওয়ার) আসবে।’
১৯৪১-এর সেনসাস-দাঙ্গা ঢাকায় ঘটেছে। ঢাকা জেলারই নারানগঞ্জে হয়নি—কিন্তু দুটো থানায় হয়েছে। খুলনা, বাখরগঞ্জ ও চট্টগ্রামে এক-এক এলাকায় হয়েছে। পুলিশ নাকী কিছু চিঠিপত্র পেয়েছে যাতে ‘প্রতিশোধ সংগঠিত’ করতে বলা হয়েছে। দুটো-একটা লিফলেটও কলকাতার কোথাও-কোথাও একটু-আধটু বিলি হয়েছে, ‘হিন্দুরা প্রতিশোধ নাও’।
কিন্তু, সেনসাসে হিন্দু-বাড়ানো ও মুসলমান কমানোটাই ছিল এসব দাঙ্গার লক্ষ। ফলে, কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভার পক্ষে এমন দাঙ্গার সুযোগ বেশ সংগঠিতভাবে নেয়া হয়েছিল। হিন্দু-মহাসভা নানারকম নামে সাহায্য তহবিল তৈরি করছিল ভারতের নানা জায়গায়। ২৭০০০ টাকা মত সংগ্রহ ও হিন্দুদের হাতে অস্ত্র দেয়ার এ আন্দোলন শুরু করে। কংগ্রেস তো কোথাও মন্ত্রিসভায় ছিল না। মহাসভা দাবি তুলল—মুসলমান-মন্ত্রিসভাগুলিকে বাতিল করতে হবে। হিন্দুরা সামনের ভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছে। হিন্দু মেয়েদের ওপর মুসলমানদের অত্যাচার নিয়ে হিন্দু কাগজে নতুন-নতুন সব খবর বেরতে লাগল, বিশেষ করে বিহার-যুক্তপ্রদেশে। বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভা ‘নারী রক্ষা সমিতি’ বলে একটি সংগঠন শুরু করে দিল। কংগ্রেস এত সরাসরি কিছু না করলেও, হিন্দু মহাসভাকে সমর্থনই করছিল। অনেক জায়গায় সেখানকার কংগ্রেসি নেতারা হিন্দু মহাসভার নেতা হয়ে উঠেছিলেন। হিন্দু-মহাসভা হিন্দুদের ওপর মুসলমানদের আক্রমণকে সর্বভারতীয় বিষয় করে তুলতে আদা-নুন খেয়ে লেগেছিল। মহারাষ্ট্র, তাঞ্জোর, পাঞ্জাব, সেন্ট্রাল প্রভিন্সে ‘দাঙ্গাপীড়িত হিন্দু সাহায্য তহবিল’ খোলা হল। এই হিন্দু সমাবেশের রাজনৈতিক তাৎপর্য কতটা গভীর ছিল, বোঝা যায়, এই রকম এক তহবিল উদ্বোধন করলেন, সেন্ট্রাল প্রভিন্সের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডাক্তার খারে।
১৯৪১-এর ২০ মে বাংলার ছোটলাট হার্বাট তাঁর কর্তা ভাইসরয় লিনলিথগকে মে-মাসের প্রথম পনের দিনের ‘সাম্প্রদায়িক’ অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্টে প্রথমেই বললেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম, বেশ গভীরভাবেই বুঝতে পারছিলাম যে হাটবাজার ব্যবসাবাণিজ্য স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হবে। আমি ঢাকা পরিদর্শনে যাওয়ায় লোকজন ভরসা পেয়েছে। যদিও তখনো দোকানবাজার বন্ধ ছিল। রায়ট এনকোয়্যারি কমিটি ঘোষিত হওয়ায় তার বিপক্ষে নানারকম ওজর তোলা হচ্ছে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকেই ‘এনকোয়্যারি কমিটি’ কাজ শুরু করে দিয়েছে।
ঢাকায় সে-বছরের জন্মাষ্টমী পুজোর মিছিলে ২৭ আগস্ট কোনো অশান্তি হয়নি। শান্তিরক্ষার জন্য সরকারও পুলিশ-মিলিটারি নামায়নি। যে-সব বিশেষ জায়গায় গোলমাল বাঁধে সেখানে মুসলিম ভলান্টিয়াররা আগে থেকেই হাতে-হাত বেঁধে মিছিলের পথটা নিরাপদ রাখছিল। এই সব হাঙ্গামার সময় যে-সব গুণ্ডা-বদমাস দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টায় থাকে, মুসলমান ছাত্র-যুবদের স্থানীয় নেতারা তাদের চোখে-চোখে রাখছিল। এই মোড়টা পেরিয়ে গেলে বলা যায় যে জন্মাষ্টমীতে কোনো হাঙ্গামা হয়নি। তখন তো দাঙ্গা অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ১৯৪১-এ দুটো প্রমাণের দরকার ছিল। ১. হিন্দুরাও দাঙ্গা বাধায়। ২. মুসলমানরাও দাঙ্গা থামায়।
আপাতত যদি একটা মতৈক্য তৈরির দায় থেকে মেনেও নেয়া যায় যে আমাদের একটা জাতীয় ইতিহাস আছে, তাহলেও কি এই প্রশ্নের কোনো মীমাংসা সম্ভব—সেই আনুমানিক জাতীয় আখ্যানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাই সবচেয়ে ‘মূল্যবান’ উপাদান? আর, তার সঙ্গে জড়িয়েই গান্ধীজি ও জিন্নার রাজনৈতিক সব কাজকর্ম দেখা কি সংগত? আর সেই দেখা থেকেই কি আমাদের তিন দেশেই দরকার দেশভাগের একজন শহিদ একজন খলনায়ক ও একজন মতলবি?
চিন্তার এই ধাঁচাটা বেশ পুরনো যদিও এখন যেসব পদ ব্যবহার করে ধাঁচাটার আঁচ দেয়া হয়, আগে তা হত না। নতুন পদ ব্যবহারের দরকার নতুন জ্ঞানতত্ত্ব থেকে। রমেশচন্দ্র মজুমদার পর্যন্ত ‘জাতীয়তাবাদ’ বলতে হিন্দু জাতিত্বই বোঝাত। সেই ‘জাতীয়তাবাদ’-পদটিই শুষে নিত হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিরোধীদের। কখনো এমন কী, খ্রিস্টানদেরও বা মুসলমানদেরও। তাঁরাও ভারতের কল্পিত জাতীয়তাবাদের অন্তর্গত। তার অর্থ এই নয় যে সারা ভারতে লিগ-বিরোধী ও জিন্না-বিরোধী মুসলমানদের মিলিত হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। ভারতীয় মুসলমানদের দ্বিভাজন সম্ভবই ছিল না। অথচ ভারতে যে-চারটি প্রদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার ছিল—বাংলা, পাঞ্জাব, সিন্ধু ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ—তার একটির নেতাও লিগের ছিলেন না বা জিন্না-সমর্থক ছিলেন না।
তবু মুসলমান সমাজে নিগ্রহবোধ ছিল ব্যপ্ত উচ্চারণ। হিন্দুদের কাছে নিগৃহীত হওয়া। তা থেকে একটা বিপন্নতা বোধ সমস্ত মতের মুসলমানদের মধ্যে জড়িয়ে গিয়েছিল।
এখন যাঁরা রমেশচন্দ্রের ‘জাতীয়তাবাদ’কে তুচ্ছ করতে চান তাঁদের সামনে দু-তিনটি মাত্র রাস্তা বা গলি খোলা আছে। একটা হচ্ছে—জাতীয়তাবাদ বা জাতীয় আখ্যান এসব কিছুই ভারতের ছিল না। ওই সব নামে যে-লক্ষণগুলি চিহ্নিত করা হয়, সেসব ইংরেজদেরই সৃষ্টি ও এমনকী যে-আবেগ ও সংলগ্নতা অপ্রমেয় সেগুলোও ইংরেজদের কাছেই শেখা। এ-কথা যাঁরা বলেন, তাঁদের কথার সবচেয়ে বড় গুণ সরলতা। তাঁরা সোজা ও খাড়া বলে দিয়েছেন বলেই মনে হয় তাঁরা সত্যি কথা বলছেন। এই সরলতার সুযোগ আমরা সকলেই নিই।*
[১. এমন দুটো ঘটনা আমার কাছে বাঙালি মধ্যবিত্ত হিন্দুর মনের কলোনির অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। একটি নীরদচন্দ্র চৌধুরী নিজেই লিখে গেছেন—পূর্ব অপরিচিতা নতুন স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম শুয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তিনি প্রথম কথা বলেন, তুমি কি বিঠোভেন বানান জানো? পরেরটুকুও নীরদবাবুই লিখে গেছেন—স্ত্রী ঘাড় ঘুরিয়ে শুদ্ধ বানানটি বলে আবার ঘাড় ফেরালেন।
দ্বিতীয় দৃষ্টান্তটি ছাপা নয়, শোনা, দেবব্রত বিশ্বাস (জর্জ)-এর কাছে। গান্ধীজির ডাকে ওরা স্কুল যাওয়া বন্ধ করেছেন। দু-একদিন পর ওঁর বাবার খেয়াল হওয়ায় জিজ্ঞাসা করেন, ‘স্কুল যাস নাই ক্যা?’ ওঁরা গান্ধীজির কথা বললেন। তাতে জর্জদার বাবা বলেন, ‘শোন্ শাহেবরা তো বাহ্য করা শিখাইছে, আর গান্ধী শিখাইছে মাঠে হাগা। যা, স্কুলে—।’]
জাতীয়তাবাদ-বিরোধীদের সামনে আর-একটা পথ আছে। জাতীয়তাবাদকে স্বীকার- অস্বীকারের মধ্যে না গিয়ে ‘ফ্র্যাগমেন্টস’ বলে মার্কা দেয়া। তৈরি হয়নি, কিন্তু মালপত্তর সব আসছে। সেটা যেমন ফ্রাগমেন্টস, তেমনি কোনো একটা ধ্বংসের পরেও যা পড়ে থাকে তাও ফ্র্যাগমেন্টস। ‘পুরাতন বাড়ি ভাঙা হইয়াছে। পুরাতন জানলা-দরজা-বিম-সুড়কি ইত্যাদি বিক্রয় হইবে।’
আরো দুটি বা একটি রাস্তা খুলে গেছে।
বলা উচিত দুই লেনের দু-মুখো রাস্তা। পুরনো ধারণায় রাস্তার দুই মুখ খোলা থাকে, যে-পথে গেলে সে-পথে ফিরলে, এর নাম রাস্তা। নতুন ধারণায়, যখন দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাচ্ছেন তখন সেটাই আপনার রাস্তা, যাওয়ার সময় ফেরার কথা কেন। তাই জাতীয়তাবাদ নিয়ে একটি ঘুরপথ বলা ঠিক নাকী দুটো ঘুরপথ বলা ঠিক—এটা প্রসঙ্গের ওপর নির্ভর করে। প্রথমে দুটো বিপরীত ওয়ান-ওয়ে বা দুইলেনি একটা রাস্তা। একটায় ‘সংগঠিত রাজনীতি’ লেখা তীরচিহ্ন আঁকা নিশানা আছে। আর-একটায়, বিপরীত বিন্দুতে, ‘অসংগঠিত’ রাজনীতি লেখা তীরচিহ্ন আঁকা নিশানা আছে। নিশানার একটা গোলমালের ভয় এতে আছে—যেন সংগঠিত রাজনীতির সড়ক ধরলে তো মেনে নেয়া হয়, সংগঠন দিয়ে শুরু করলে অসংগঠন দিয়ে শেষ করতে হয়।
এর আর-একটা রকম আছে—এলিট বা অভিজাত, পপুলার বা বারোয়ারি। এলিট বা পপুলারকে আরো ছোট খোপে ঢোকানো যায়। অভিজাত সাম্প্রদায়িকতা ও বারোয়ারি সাম্প্রদায়িকতা, …
সংস্কৃতি ও…সংস্কৃতি,…রাজনীতি ও…রাজনীতি। এটাকে আরো খোপ করা হয়—’ইতিহাস : ওপর থেকে’, ‘ইতিহাস : তলা থেকে।’
তাহলে জাতীয়তাবাদের একটা ধরণকে বলা যায় ‘সংগঠিত রাজনীতি/ সংস্কৃতি/ আরোহণ।’ এর পালটা ‘অসংগঠিত ও বারোয়ারি রাজনীতি/ সংস্কৃতি/ আরোহণ।’
কিন্তু এত ভাগাভাগি করে মানামানি কেন। এ তো প্রায় হিন্দু সমাজের মত। একে চতুর্বর্ণ। তার ওপর প্রত্যেক বর্ণের আবার চৌষট্টি ভাগ। বামুনদেরও। বামুনদের যদি কুলীন থাকে, তাহলে কায়েত-বদ্যি-শূদ্রদের না-থাকলে তারা ছোট জাত হয়ে যায় না? খুব সুন্দর বলেছিলেন কেউ, ‘নিচু জাতে কেউ জন্মায় না, নিচু জাতে একজনকে পতিত্ করা হয়।
‘৪১ সালের সেনসাস নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামার গল্প করতে জাতীয়তাবাদ নিয়ে এত কথা এল কেন? এই গল্পের পক্ষে তিনটি কারণে। প্রথম কারণ, কোনো সেনসাসই ভারতে নিরুপদ্রব হয়নি। ধর্ম ও জাতি উল্লেখ নিয়েই যাবতীয় গোলমাল। প্রত্যেকটি দাবির সঙ্গে একাধিক সৃষ্টিপুরাণ থাকলে বেচারা সেনসাস কমিশনারের করার কী আছে?
কিছুই করার নেই। সেনসাস একটা কেন্দ্রীয় সরকারাধীন কাজ যা চাষের ক্ষেত ও হাটখোলা পর্যন্ত ব্যাপ্ত। ভারতীয়দের, সবরকম ভারতীয়েরই, তার পূর্বপুরুষ ও তাঁদের নিয়ে তার যে বংশ সে-সবের প্রতি, আনুগত্য নিয়ে কোনো তর্ক চলে না। তার কাছে তার সত্তা ও অস্তিত্বের যুক্তি এই একটাই বংশ। ভারতে ‘ভবঘুরে’ বৃত্তি হিশেবেই অর্থশাস্ত্রে ও কামশাস্ত্রে স্বীকৃত। এই ভবঘুরেকে নিয়ে একটা বেশ টাইপ কল্পনা করে সংস্কৃতে একটা উদ্ভট শ্লোক আছে— যেখানে-সেখানে যাওয়া যা জোটে তাই খাওয়া, হাটখোলায় নিশিযাপন আর গোমতী তীরে মরণ। এ-লোকটার কোনো জিনিশই দরকার নেই, সবই জুটে যায়, কিন্তু মরণটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। মরার পরে পরজন্ম আছে। মরার ব্যাপারে পূর্বপুরুষরা আছেন। তাই যেখানে-সেখানে তো মরা যায় না। মরণং গোমতী তীরে।
এই ভারতীয়তা থেকেই ‘জাতীয় আখ্যান’ বা ‘জাতীয়তাবাদ’ ধারণাটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না। তার ওপর স্বাদেশিকতা ও জাতীয়তাবাদের একটা আত্মীয়তা হয়তো মনের ভিতরে কাজ করে। তার ওপর জাতীয়তাবাদের শিক্ষা আমাদের ইংরেজ সংসর্গে। ‘নেশন’ এই ধারণার একটি মহত্ত্ব আছে। আবার, এটাও সত্য যে রবীন্দ্রনাথ প্রথম মহাযুদ্ধের পর থেকে এই নেশনবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজবিভাজনের মত তাত্ত্বিক, দৈনিক ও মিশ্র বিষয়ের যাঁরা নির্ণায়ক তাঁরা রবীন্দ্রনাথের মতানুযায়ী চললে বিপদ আছে।
ঠিক তাও নয়। ভারতে জনসাধারণ সবাই হিন্দু নন—এইটুকুই জিন্নার বক্তব্য ছিল। ‘মুসলমানরাও ভারতের একটা জাতি’–এই সিদ্ধান্তে তো কোনো দোষ পাওয়া যাবে না। ১৯৪০-এর লাহোর বক্তৃতায় জিন্না বললেন, মুসলমানরা সংখ্যালঘু নয়।
নিষ্পত্তিহীন এমন মতানৈক্যে রবীন্দ্রনাথ-গান্ধী-ইকবাল যে ভারতবর্ষ-ধারণা বা হিন্দ-এর ধারণাকে সত্য করে তুলেছিলেন, মহম্মদ আলি জিন্না কুঠার হেনেছিলেন সেই ধারণাটির ওপর—তাঁর দ্বিজাতিতত্ত্ব দিয়ে। জাতীয়তাবাদের বিরোধিতায় তাই সাম্প্রদায়িকতা সংক্রমণের ভয় থেকে যায়। আবার, সাম্রাজ্যবাদের মুৎসুদ্দি হওয়ার ভয়ও থেকে যায়।
‘জাতীয় আখ্যান’ নতুন করে লেখা হোক কিন্তু জাতীয়তাবাদ বলেও যেন কিছু একটা থাকে। ভারতে একটা ভারতীয় জাতি বেশ বুদ্ধিগ্রাহ্য। কিন্তু জাতির সংখ্যা গুনে দুই, মাত্র দুই, বলতে সেটা বুদ্ধির বাইরে চলে যায়। কেন দুই? দ্রাবিড়তা নেই? বৌদ্ধ পর্বত বাসীরা নেই সমুদ্রের আদিবাসীরা নেই?
