হামারটিয়া – ৮

সল্টলেকের বার অন্যান্যদিনের মতোই জনহীন। একজন কর্মচারী পেছনের টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। বাইরে টিপটিপে বৃষ্টি। ভেতরে মাছিদের ওড়াউড়ি। মিটমিটে আলোগুলোর সঙ্গে ছায়াদের এলাকা দখলের লড়াই দেখতে দেখতে ইম্যানুয়েল কফিতে চুমুক দিলেন। জাভেদ কাচুম্বার স্যালাড নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। সঙ্গতে বরাবরের ওল্ড মঙ্ক।

‘তুমি মাইরি চাকরিটা শুধু শুধুই ছেড়েছিলে, ইজি!’ ইম্যানুয়েল উত্তর দিলেন না। কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করে জাভেদ বললেন, ‘আরে, এরকম ভুল মানুষমাত্রেই হয়। এর আগে কি কোনো ভুল করোনি বলতে চাও?’

‘ভালোই তো আছি এভাবে। বই পড়ি, দাবা খেলি। সন্ধেবেলা হাঁটতে বেরোই। তারপর নিজের ইজিচেয়ারে বসে জানালা দিয়ে রাতের খিদিরপুর দেখি।’

‘কী দেখো?’

‘মাতাল, ভবঘুরে, পাগল, বেশ্যা, ভিখিরি, যারা কলকাতা শহরটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।’ হাসলেন ইম্যানুয়েল।

‘তোমাদের ক্লাব-টাব, বা, সিনাগগে যাও না?’

‘আমার কোনো কমিউনিটি নেই। ম্যাগেন ডেভিডে পা দিইনি পনেরো বছরের ওপর হয়ে গেল। আর, লোকজনই-বা কই। প্রায় সবাই-ই তো চলে গেছে।’

‘আমি চাইতাম, তুমি ফেরত আসো। যখন তোমার টিমে ছিলাম, সে একরকম। যখন তুমি ভলান্টারি নিলে, তারপর থেকে আমরা জানতাম, তোমার মতো শালা কেউ আসবে না। ডিপার্টমেন্টও জানত।’

মাথা নাড়লেন ইম্যানুয়েল, ‘তুমি জানো, তেসুভা কী? আমাদের স্পিরিচুয়াল ভাবনায়, রিপেন্টেন্স। কিন্তু, সেটুকুই নয়। সেই মুহূর্তটুকুর কাছে ফিরে যাওয়া, যখন থেকে অনুতাপ ঘটেছিল। সেই মুহূর্তটাকে ঘিরে একটা কমফর্ট জোন নির্মাণ করা, নিজেকে বোঝা। র‍্যাবাই মাইমোনাইডস মনে করতেন, তেসুভা কখনো সম্পূর্ণ হয় না, যদি না সেই মুহূর্তটায় আবার ফিরে গিয়ে একই পরিস্থিতিতে এবার আমি ঠিক রাস্তা নিই। সে-হিসেবে আমার তেসুভা কখনো সম্পূর্ণ হবে না, এবং সে-ক্লোজার আমি চাইও না। আমি কিছু মিস করি না, জাভেদ। কিন্তু, এরকম এথিক্যাল প্রশ্নে আমি ঠিক আর অন্যেরা ভুল, এমন তো হয় না, তাই তর্ক করব না তোমার সঙ্গে। বাদ দাও এসব। তুমি বলো, কী প্রশ্ন আছে।’

একচুমুকে অনেকটা গিলে মুখ বিকৃত করলেন জাভেদ। ‘এই শালার মদ এবার ছাড়তে হবে। আর না, এটাই লাস্ট পেগ। তুমি আজ ওই বাড়ির ছাদে উঠে কী দেখতে গিয়েছিলে? পাশের বাড়ি থেকে ভেসে আসা আওয়াজ কেন ইম্পর্ট্যান্ট এখানে?’

‘অনিরুদ্ধ বলেছিলেন, ‘শনিবারের বারবেলা’ শুনতে পেয়েছেন। ওই ঘরের জানালা বন্ধ থাকলে বাইরের আওয়াজ আসে না, পরখ করেছি। তাহলে শুনলেন কোথা থেকে? ড্রয়িং রুম তো বাড়ির অন্যদিকে, সেখানে আওয়াজ আরওই আসবে না। তাহলে কি ছাদে উঠেছিলেন? উঠলে, কেন? আর, কখন? ছাদে ওঠার মতো অবস্থা তাঁর থাকার কথা নয়। ড্রয়িং রুমেও যাবেন না। সেক্ষেত্রে এই জায়গাটার ব্যাখ্যা মিলছে না।’

‘এটা কি দরকারি?’

‘দরকারি এইজন্য, যদি ছাদে না-ওঠেন, তাহলে জানালা খুলতে হবে। সেক্ষেত্রে কি জানালার বাইরে থেকে কেউ ছুরি ছুড়ে মারল? কার্নিশে সে বসে ছিল? জানি, এটা প্রবল কষ্টকল্পনা। কারণ, জানালা তারপর বন্ধ হল কী করে?’

‘গায়ের জোরে স্ট্যাবিং হয়েছে। ছুড়ে সম্ভব না।

‘আমি বেশি ভাবছি, জানি। কিন্তু, সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি, সে যত আকাশকুসুম হোক না কেন।

‘আর, বিছানায় শোবার পোজিশন থেকে কী মিলছে না বলছিলে?’

‘হ্যাঁ, এটা ইন্টারেস্টিং। বিস্তারে বলতে হবে। কিন্তু, তার আগে বলো, মালিনীর স্বামী আর মা-কে দেখে কী বুঝলে?’

‘ব্লাডি বাগার, আমি জাজমেন্টের জায়গায় নেই। একটা জিনিসের উত্তর আমি জানি না, ইজি।’ জাভেদ একটোকে আবার অনেকটা ওল্ড মঙ্ক খেলেন। ‘আমাদেরও বয়েস হয়েছে। পুরোনো দিনের মানুষ আমরা। নিজের ছেলেমেয়েকে ওভাবে খুন হতে দেখলে, তার ওপর যে অবস্থায় আবিষ্কার হয়েছে, বা, নিজের স্ত্রী-কে ওভাবে দেখলে, শালা আমার মাথার ঠিক থাকত? পাগল হয়ে যেতাম মাইরি। কিন্তু, সেটা তখনকার জন্য। তারপর? সময় যত যায়, তখন আমরা কী ভাবি? সামাজিক সম্মানবোধ, নাকি, দ্য সেন্স অফ লস, কোনটা প্রবল হয়?’

‘সেন্স অফ লস এদেরও আছে। দেবারতির তো প্রবল। কিন্তু, মানুষকে একটা কিছু নিয়ে বাঁচতে তো হয়, জাভেদ! সেটা ভালোবাসা না হয়ে ঘৃণাও হতে পারে। শতদ্রু, দেবারতিরা ব্যতিক্রমী কিছু নন।’

‘তোমার অস্বাভাবিক লাগছে না?’

‘না। আমি একটা গোটা রাষ্ট্রকে দেখছি যে মনে করে তার অস্তিত্বের একমাত্র শর্ত হল, প্যালেস্তাইনকে ঘৃণা। সেখানে আমরা তো কথা বলছি নিতান্ত ম্যাড়ম্যাড়ে মধ্যবিত্তের সংকট নিয়ে। তুমি জাজমেন্টের জায়গায় নেই বললে। জাজ কোরো না। অ্যানালাইজ করো।’

‘আমিও সেটাই করছি। আর, আমি তোমার মতামত মানি না। মানুষের নিজস্ব এজেন্সি থাকে। সেটাই তার কৃতকর্ম। এদেরও ছিল, সেটা কী? মেয়ে, বউকে ঘেন্না। আমি কি মাতাল? বাজে বকছি? হোক গে, তবু শোনো। মালিনী অধিকারী মানুষ হিসেবে ভালো ছিল, না, খারাপ, আমি জানি না। বাস্টার্ড আমি পুলিশ, কোনো পার্টির চারিত্রিক বিশ্লেষণ আমার মাথাব্যথা নয়। কিন্তু, মালিনী এখানে ভিকটিম। তার পক্ষ না-নেওয়া হোক, তার বিপক্ষে কেউ দাঁড়ানো মানেই সে এগজিকিউশনারকে সমর্থন করছে। এটা নৈতিকতা থেকে বলছি না। পুলিশের ব্লাডি কোড অফ কনডাক্ট থেকে বলছি।’

ইম্যানুয়েল দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ‘মানুষের মন সিওসি মেনে চলে না, জাভেদ। আর, আমার মনে হয়নি মালিনীকে এরা শুধুই ঘৃণা করে। কিন্তু যাই হোক, আমি যখন তোমাকে প্রশ্নটা করলাম, এদের দেখে কী মনে হল, তখন এদের চরিত্রের ব্যাপারে করিনি। আমার অন্য একটা জিনিস গুরুত্বপূর্ণ লেগেছে। সেটা হল, শতদ্রু এবং দেবারতি যেন একটা ইউনিট হিসেবে অপারেট করেন। একজন আরেকজনকে কমপ্লিমেন্ট করছেন। এদিকে শতদ্রুর দেবারতির প্রতি ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক ছিল যে, দেবারতির জন্যই তাঁদের বিয়েটা হয়েছিল। দেবারতিরও মনে হবার কথা যে, শতদ্রু বিয়েটা টেকাতে পারলে আজ তাঁর মেয়ের এই অবস্থা হত না। কিন্তু, এই ইউনিটটার কাছে মালিনী একজন বাইরের লোক। এদিকে একজনের স্ত্রী, অপরজনের মেয়ে। এটাই আমায় ভাবাচ্ছে।’

‘বরং, সাম্যকে অনেক স্বাভাবিক লাগল।’

‘হ্যাঁ, এখনকার দিনের ছেলে। এদের চিন্তাভাবনা অন্যরকম হয়।’

‘এবার বিছানায় শোবার পোজিশন নিয়ে বলো। কী খটকা?’

‘দেখো, অনিরুদ্ধ শুয়ে ছিলেন বিছানার ভেতরের দিকে, মানে, যেদিকে বাথরুম, আর, মালিনী শুয়ে ছিলেন বাইরের দিকে, মানে, যেদিকে দরজা। মালিনীর পা ছিল দরজার দিকে, মাথার পেছনে জানালা। এবং, মালিনী বাঁ-পাশে কাত হয়ে ছিলেন। তাঁর শরীরের বাঁ-পাশ নীচে ছিল আর ডান পাশ ওপরে। পোস্ট- মর্টেম রিপোর্ট আমি দেখিনি। তোমার ফাইল থেকে যেটুকুর উল্লেখ পেয়েছি, তাতে বলা আছে যে, ওই পোজিশনেই স্ট্যাব করা হয়েছিল। এবার, স্ট্যাবিং কীভাবে হয়েছে? কাঁধ আর গলার সন্ধিস্থল বরাবর, ঠিক? এবং, ছুরি কীভাবে ঢুকেছে? সোজাসুজি, মানে, ওপর থেকে নীচে নয়, বরং, মালিনীর ডান দিক থেকে বাঁ-দিকে। তোমার ফাইলে দেখলাম, ছুরির বাঁট ছিল পিঠের সঙ্গে এক- শো কুড়ি ডিগ্রি কোণ করে, মানে, বাঁটের মুখ ছিল বাথরুমের উলটোদিকের দেওয়ালের দিকে। তার মানে, কাত হয়ে শুয়ে থাকা মালিনীর পিঠ যদি মেঝের সঙ্গে নব্বই ডিগ্রিতে থাকে, তাহলে ছুরির অভিমুখ এক্সটেন্ড করলে সেটা মেঝের সঙ্গে তিরিশ ডিগ্রি অ্যাঙ্গলে থাকবে। বাঁট পিঠের সঙ্গে এক-শো কুড়ি ডিগ্রি কোনাকুনি হবার অর্থ হল, কেউ মালিনীর খাটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, তার মুখ ছিল মালিনীর পিঠ বরাবর, এবং, সে স্ট্যাব করেছে। একমাত্র তাতেই ছুরি ওরকম অ্যাঙ্গল করে ঢুকতে পারে। প্রশ্ন হল, অনিরুদ্ধ কেন খাট থেকে নেমে ওপাশে গিয়ে মালিনীর পাশে দাঁড়াবেন? তাঁর পক্ষে সহজ ছিল খাটে বসেই ছুরি মারা। সেক্ষেত্রে বাঁটের মুখ থাকত অনিরুদ্ধর দিকে, কিন্তু, এক্ষেত্রে হয়েছে তার উলটো। মানে, অনিরুদ্ধ খাট থেকে নেমে মালিনীর দিকে গিয়ে তাঁকে ছুরি মেরে আবার নিজের জায়গায় ফিরে এসেছিলেন। এটা কেন করলেন? কেউ কেন এটা করবে, যখন খাটে বসেই স্ট্যাব করতে পারেন? এই প্রশ্ন আসত না যদি অনিরুদ্ধ খাটের বাইরের দিকে থাকতেন আর মালিনী থাকতেন ভেতরের দিকে। অথবা, মালিনীর মাথা যদি দরজার দিকে থাকত আর অনিরুদ্ধর মাথা জানালার দিকে। কিন্তু, দু-জনে একই অবস্থানে শুয়ে ছিলেন যেখানে, সেখানে এরকম আচরণ আমার কনভিন্সিং লাগছে না। আবার, খুন করার পর বডির পোজিশন অনিরুদ্ধ পালটে দিয়েছেন, এমনও নয়। তাহলে ফরেনসিকে ধরা পড়ত।’

জাভেদ মাথা ঝুঁকিয়ে বসে থাকলেন নীরবে। তারপর মৃদু হাসলেন, ‘মার দিয়া কেল্লা! আমার সন্দেহ তাহলে ভিত্তিহীন ছিল না।’

‘এখনই সেটা বলার সময় আসেনি। আমি এখনও ধরে রাখছি অনিরুদ্ধই হত্যাকারী। এবং, রিডাকশিও অ্যাড অ্যাবসার্ডাম পদ্ধতিতে এগোচ্ছি। সেটা করতে গিয়ে এই কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছি না। বাইরের দরজা খোলা ছিল কেন? অনিরুদ্ধ কেন ওভাবে হত্যা করলেন? ‘শনিবারের বারবেলা’ যদি সত্যিই শুনে থাকেন, কোথা থেকে শুনলেন?’

‘বাইরের দরজা খোলা থাকার ব্যাপারে আমার অনুমান হল, মালিনী খুলেছিলেন আগের রাত্রে। হয়তো অনিরুদ্ধর জন্যই খুলেছিলেন। তারপর, মানে, ছবিটা ভাবছি, অনিরুদ্ধ বাড়ির ভেতর ঢুকে মালিনীকে জড়িয়ে ধরেন। দু-জনে ঘনিষ্ঠ হন। বেসামাল মালিনী দরজা লাগাতে ভুলে যান।’

‘উঁহু।’ ইম্যানুয়েল মাথা নাড়লেন। ‘মানুষ এরকম সময়ে সতর্ক থাকে যাতে বাইরের কারোর চোখে না পড়ে। মালিনী এতই বেসামাল হলে ঘরের দরজা লাগাবেন কেন?’

‘হয়তো মালিনী না, অনিরুদ্ধ লাগিয়েছিলেন।’

‘তাহলে তিনি বাইরের দরজা লাগাননি কেন?’

‘উফ, বাগার!’ জাভেদ বিরক্ত মুখে গ্লাসে চুমুক দিলেন। ‘গোল গোল করে একজায়গায় ঘুরছি আমরা। এই সার্কুলার প্যাটার্ন অফ আর্গুমেন্ট আমার একদম পছন্দ নয়। তুমি আমাকে উত্তর দাও, বাস্টার্ড। কী ব্যাখ্যা হতে পারে। খাবার আনার জন্য মালিনী বা অনিরুদ্ধ কেউ মাঝে বেরিয়েছিলেন? ফেরার পর দরজা দিতে ভুলে যান? হয়তো নেশা করে ছিলেন, খেয়াল ছিল না।’

‘কিন্তু, ঘরের দরজা দিতে ভোলেননি। সেই সার্কুলারিটি। শোনো, কোনো দরজা খোলা রাখাই ন্যাচারাল নয় যেখানে অন্তরঙ্গ সময় কাটছে। বাইরের দরজা তো স্ট্রিক্টলি বন্ধ রাখার কথা। কারণ, নিরাপত্তার প্রশ্ন তো আছেই, দেবারতিও বারাসাত থেকে দুম করে চলে আসতে পারেন। খুব দূরে তো যাননি! কমন সেন্সের বশেই মানুষ দরজা বন্ধ রাখবে।’

‘তাহলে, দুটো খটকা। স্ট্যাবিং-এর ধরন আর দরজা।’

‘আরও আছে। আরেকটু ভেবে নিয়ে বলব। আপাতত, অনিরুদ্ধর স্ত্রী পারমিতা সান্যালের সঙ্গে কথা বলব। আর, অনুপ রুংতা। যাকে আগে পাওয়া যায়। আচ্ছা ভালো কথা, যে কাজের মাসি, নির্মলা, মানে, যিনি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন, তাঁর সন্ধান মিলবে?’

‘কঠিন। আমার ডায়েরি দেখতে হবে। যেখানে থাকতেন, এখনও সেখানেই আছেন কি না। তার থেকে বড়ো কথা, বেঁচে আছেন কি না।’

‘এটা জরুরি, জাভেদ। কারণ, তিনিই একমাত্র বলতে পারবেন, বাড়ি ঢুকে কী দেখে তাঁর সন্দেহ হয়েছিল। তোমার রিপোর্টে এটার উল্লেখ নেই।’

বাড়ি ফিরে ইম্যানুয়েল সকালের বানানো চিকেন স্টু আর পাউরুটি টোস্ট খেলেন। তারপর আগেরদিনের অসমাপ্ত খেলার সামনে বসলেন। সাদা ঘোড়া কাটা পড়েছে কালো নৌকার সামনে। কিন্তু, এই স্যাক্রিফাইস অনিবার্য ছিল। কালো নৌকা এমনভাবে কালো রাজার সামনে গার্ড করছিল যে, কোনোদিক দিয়েই এগোনো যাচ্ছিল না, ফলত সাদা ঘোড়াকে টোপ এগোতে হয়েছিল, যাতে নৌকা তার জায়গা ছাড়ে। নৌকাকে এগোনো বাদে উপায় ছিল না, যেহেতু রাজা ও মন্ত্রী ফর্ক হচ্ছিল। ইম্যানুয়েল চিন্তামগ্ন হলেন জানালার সামনে বসে। গন্তব্যে পৌঁছোনোর উদ্দেশ্যে কাকে স্যাক্রিফাইস করা যায়? স্যাক্রিফাইস কি ন্যায়?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *