প্রথম পর্ব : প্রবন্ধ
দ্বিতীয় পর্ব : শিতালং-গীতি সংগ্রহ

সুফি সাধক শাহ শিতালং : হারুন আকবর

সুফি সাধক শাহ শিতালং – হারুন আকবর

সুফিতত্ব ও মরমীবাদের উৎস পারস্যের গোলবাগে হলেও বাংলার উর্বর শ্যামল ভূমিতেও তার বিকাশ ঘটেছে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায় যে সমস্ত মধ্যযুগব্যাপী যে সাহিত্য রচিত হয়েছে তার প্রায় সবই বাউল ও মারফতি গান বা কবিতা। এসব বাউল ও মারফতি গানের সাথে আধ্যাত্মিক ধ্যান ধারণার একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। আর সে যোগসূত্রটাই হচ্ছে এ সাহিত্যের মূলভাব। তাই বাউল ও মারফত সাধকদের সকলই ছিলেন সুফি বা মরমী। ফলে তাঁদের রচিত গান, ভজন ও সংগীত মরমী সাহিত্যের এক অমূল্য ভাণ্ডার। সাধক ও মরমীদের সবাই ছিলেন খোদা প্রেমিক। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের ভাবনা। আধ্যাত্মিক চিন্তা চেতনায় তাঁদের হৃদয় ছিল আপ্লুত। অন্তরের গহীনে রক্ষিত আলোর অনির্বাণ শিখা জ্বালিয়ে তাঁরা খুঁজে গিয়েছেন স্বীয় স্রষ্টাকে। স্রষ্টাকে খুঁজতে গিয়ে সাধক মন কঠোর সাধনার মাধ্যমে স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক স্থাপনক্রমে তাঁর প্রেমে বিভোর হয়ে আপন মনে ভাব জগতে বিচরণ করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে যে ভজন সংগীত রচনা করেছেন তাই মরমী সাহিত্যে আখ্যায়িত হয়েছে। আসলে স্রষ্টার অনুসন্ধানে রত ভাবুক মনে যে ভাবের সৃষ্টি হয় সে ভাবেরই বাণীবদ্ধ রূপই হল মরমী সাহিত্য।

মরমী সাহিত্যে সিলেটের অবদান অপরিসীম। হাজারো সুফি সাধক ও মরমী কবিদের আবির্ভাব ও তিরোভাবের অব্যাহত ধারায় সিলেটের মরমী কবি ও সুফি সাধকগণ তাঁদের গানে ও গজলে একটি নিজস্ব সুরময় ভূবনের পরিমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন। জীবন ও জগত সম্পর্কে। এ সুরময় জগতের অন্যতম প্রধান পুরুষ হলেন সুফি সাধক শাহ শিতালং।

সাধক শিতালং শাহ’র প্রকৃত নাম মোহাম্মদ সলিম। শিতালং তাঁর মুর্শিদ প্রদত্ত বিনয় সূচক ফকিরী নাম। শিতালং অর্থ পায়ের গোড়ালির গিরা। তাঁর নিজ পরিচয় প্রসঙ্গে শাহ শিতালং বলেন :

‘শিতালং নাম মোর গোনাহ বেসুমার
কৃপা যদি করে আল্লাহ করিম গাফ্‌ফার।
মোহাম্মদ সলিম নাম দোষে গুণে মাজুর
জাহান বক্‌স আলী নাম পিতা মশগুর।
পরগনা চাপঘাট মোট পয়দিশ যেথায়
শ্রীগৌরী মৌজাতে হয় শিলচর খিত্তায়।’

তৎকালীন সিলেট জেলার করিমগঞ্জ মহকুমার বদরপুর থানার শ্রীগীরী এলাকায় খিত্তা শিলচর গ্রামে ১২০৭ বঙ্গাব্দে মোতাবেক ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জন্ম। জাহান বক্‌স পিতা, মাতার নাম সুরত বিবি। জাহান বক্‌স আলী ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। নৌ-পথে বাণিজ্য করতে সিলেটে আসেন। নৌ দুর্ঘটনায় সব হারিয়ে সঙ্গের লোকদেরকে ঢাকায় ফেরৎ পাঠিয়ে নিজ শ্রীগৌরীর জমিদার মীর মোহাম্মদের আশ্রয়ে থেকে যান। তাঁর আচরণে ও চেহারায় মুগ্ধ হয়ে মীর মোহাম্মদ নিজ কন্যা সুরত বিবিকে তাঁর সাথে বিবাহ দিয়ে নিকটবর্তী তারিণীপুর মৌজার কিছু ভূ-সম্পত্তি দান করে তথায় বসবাসের সুযোগ করে দেন। শিতালং শাহ’র কনিষ্ট ভাইয়ের বংশধর এখনও সেখানে বাস করছেন।

তারিণীপুরের এক মক্তবেই শিতালং শাহের শিক্ষা জীবন শুরু। পরে দশ বারো বছরের বয়সে বিখ্যাত ফুলবাড়ি মাদ্রাসায় তাঁকে ভর্তি করা হয়। ফুলবাড়ি মাদ্রাসা ছিল সিলেট জেলায় দ্বিনি শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র। তখনকার সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম শাহ আব্দুল ওহাব ও আব্দুল কাহের ছিলেন উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক। আব্দুল ওহাব ইলমে তাসাউফের বিজ্ঞ পুরুষ ও উচ্চস্তরের তাসাউফ সাধক হওয়ায় শিতালং শাহ শিক্ষাজীবন সমাপনান্তে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তাঁর খেদমতে থেকে যান। এখানে তাঁর সাধক জীবনের উত্তরণ ঘটে। এ প্রসঙ্গে শাহ শিতালং বলেন :

‘শাহ আব্দুল আলী মোর পীর দস্তগীর
হাসিল মোরাদ ছিলা বাতিন ও জাহির।
মুর্শিদ কামিল মোর শাহ আব্দুল ওহাব
তিনির পরসাদ হৈল ধিয়ানেতে লাভ।
দ্বিতীয় মুর্শিদ মোর শাহ আব্দুল কাদির
শিশুকালে মেরামতি আছে যে জাহির।
এই দুই ছাহেব মোরে রাখিয়া কৃপায়
ভেদ মৰ্ম শিক্ষা দিলা তওৰ্জ্জু নিযায়।”

ফুলবাড়ির শাহ আব্দুল ওহাব শুধু কামিল ওলি ও তাসাউফ সাধক ছিলেন না, তিনি ছিলেন মরমী কবিও। শিতালং মুর্শিদের হেফাজতে থেকে কঠোর সাধনায় নিমগ্ন হয়ে কামালিয়াত হাসিল করেন এবং উচ্চস্তরের আলেম ও সুফি সাধকে পরিণত হন এবং ভাব জগতে বিচরণ ক্রমে আধ্যাত্মিক গান রচনা শুরু করেন।

আধ্যাত্মিক জগতের অনেক উচ্চ আসন মারফতের শীর্ষে অবস্থান নিয়েও শিতালং শাহ শরিয়তপন্থী আলেম ছিলেন। ইসলামের মূল স্তম্ভ কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত সর্কে তিনি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। এ সকল বিষয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করা এবং মুসলমানগণ যাতে শরিয়তের অনুসারী থাকেন সে বিষয়ে তাঁর গান ও কাব্যে তাগিদ দিয়েছেন। কালেমা প্রসঙ্গে শিতালং বলেন :

‘কলিমা তৌহিদ শরিক নাই লা শরিক নিরঞ্জন
শুদ্ধ চিত্তে জপিলে হয় দরশন।’

নামাজ ইসলামের প্রধান স্তম্ভ ও দৈনন্দিন আনুষ্ঠানিক ইবাদত। নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজকে মুমিনের মে’রাজ বলা হয়। তাই নামাজ প্রসঙ্গে শিতালং বলেন :

‘নামাজ আজব চিজ নামাজে হয় দিল রুশন
যেজন নামাজ পড়ে প্রেমভাবে মন
তাহার হৃদয়ে হবে নূর বরিষণ।’

নামাজের প্রভাব ব্যক্তি জীবনে অনেক সুফল বয়ে আনে। নামাজের ফজিলত সম্পর্কে বলেন :

‘আবিদে নামাজ পড়ে কায়া সঙ্গে নিয়া
আরিফে নামাজ পড়ে ইরফানে ডুবিয়া।’

শরিয়তপন্থী সাধক শিতালং শুধু নামাজের মহাত্ম্য ও তাঁর ফজিলত সম্পর্কে নয় বরং নামাজ বিপদের সঙ্গী এবং ছরকাতে কয়বরে হাসরে মিজানে নামাজই পারাপারের উছিলা। শিতালং শাহের ভাষায় :

‘সর্ব ঘাটে হইবে আটক ঘটিবে মুশকিল।
মুশকিল ছরকাত সিন্ধু আতশের ধার
নামাজ থাকিলে সঙ্গে করিত উদ্ধার
সাক্ষাতে উছিলা যদি থাকিত নামাজ
ছরকাতে আছান দিত আল্লাহ পাকজাত।
কয়বরে মুশকিল হৈল দুয়ালের আওয়াজ
নামাজ উছিল্লা নাই কে দিবে জওয়াব।
মারিবে গুরুজ তুলি ঘটিবে জঞ্জাল
নামাজ থাকিলে অইত গুরুজের ঢাল’।

পাপী তাপী গুনাগার বান্ধা আল্লাহর ভয়ে দিশাহারা। নিজ কর্মে যখন চারদিকে অন্ধকার দেখে গোনার সাগরে হাবুডুবু খায় তখন নামাজকে উছিলা করে পরম স্রষ্টার কাছে ক্ষমা মাঙ্গে। আল্লাহ তার গুনাহগার বান্দার পাপ মার্জনা করে দেন। শিতালং শাহ বলেন :

‘নামাজের সহিত পড়রে মনা ভাই দরূদ ছালাম
অঙ্গেতে যত অপরাধ ওরে মনা ভাই ঝরিবে তামাম।’

ইসলামি শরিয়তে বে-নামাজি লোকের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। বে-নামাজি মানুষ আল্লাহর আদেশ লংঘনকারী। পরকালে তাকে কঠিন শাস্তির মোকাবিলা করতে হবে। দুনিয়াতেও তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। বে-নামাজির হাল হকিকত প্রসঙ্গে শিতালং বলেন :

‘তোরা দেখরে আয়-বলরে হায়
বে-নামাজি মারা যায়
গেরাম নষ্ট কৈলরে চোরায়।
বে-নামাজি হাটি যাইতেরে
ও মুমিন মুখে নাই তার ছিরি
ওজু গোছল নাহি জানে
কাপড়ের গন্ধে মগজ ছায়।
তোরা দেখরে আয়…।’

মানব জীবন অনিত্য ‘পক্ষপাত্রে নীর সম।’ ক্ষণকালীন জীবনের পরিণতি অনিবার্য মৃত্যু।

মৃত্যু ভয়ে ভীত শিতালং বলেন :

‘মন ভিক্ষা মাঙ্গরে সাক্ষাতে ছক্রাত
‘প্রেমভাবে জপ নাম আল্লাহ পাক জাত।
সংকট ঘটিবে তার তুড়িয়া কুমুক
মউতের সঙ্গে দেখা তোর হইবে আচানক
সুফি সাধক শাহ শিতালং
জিন্দেগি থাকিতে পড় তসবি তাহলিল্‌
কোন ঘড়ি আসিয়া দেখা দেবে আজরাইল
প্রাণ নিয়া যাইবে সে করিয়া হরণ
ধরবে যখন তখনরে ছাড়বেনা কখন।
সে কালে মাঙ্গিলে পানাহ না আসিবে কাম
জিন্দেগি থাকিতে জপ মাবুদের নাম।’

শিতালং শাহের অনেক রচনায় বৈষ্ণব ভাবের প্রকাশ সুস্পষ্ট। বহু গানের ভণিতায় তিনি রাই, সজনী, শ্যাম সখী, চণ্ডী ত্রিপুন্নী শব্দের ব্যবহার করেছেন রূপক অর্থে। তাঁর গানে আছে :

‘শ্যামা সুয়াগ তর দেখতে লাগে মনোহর
অগ্নি জ্বলে নিরন্তর দর্শনের পরাণ রক্ষা কর।
শ্যামের বিরহে মোর বিচ্ছেদে জ্বলে পাঞ্জর
জ্বলে জ্বলে দেহ জ্বলে জ্বলে কুঞ্জ নিরন্তর।
পরান শ্যাম রূপেশ্বর বিদ্যাধরী মনোহর
দেব কি গন্ধর্ব জিনি সেগুলিও আছে মোর।
পরানে প্রেমের সুর বিন্দিয়াছে মোর
নিল নিল পরাণ নিল দেহশূন্য করি মোর।
ললাটে ভাস্কর তোর পরাণ হরি নিল মোর
তব রূপ অন্বেষিয়া ফিরি আমি ঘরে ঘর।
শিতালং বলে মোর শ্যামরূপ কালেশ্বর
রূপের ভিখারী তোর কাজলে নয়ন মোর।’

তাঁর গানে বাউল ও বৈষ্ণব রীতি ও ভাবের স্ফুরণ দেখা গেলেও তিনি ছিলেন ইসলামি আক্বিদায় বিশ্বাসী খাঁটি মুসলমান। পরহেজগার বান্দা হিসেবে ইসলামি ভাব ধারায় ও অনেক গান রচেন। দেখুন :

‘ওভাই জপরে দমের জিকির
তসবিহ তহমিদ জপো তহলিল তকবির।
তছবিহ জপিলে হয় বেশি মুনাছিব
আউয়ালে আখেরে হবে বুলন্দ নসিব।
তছবিহ তহমিদ যেই করিবে জিকির
ইসলামের নূর আসি হইব হাজির।
তছবিহ জপ পাক জানি মাবুদ আল্লাহ সাঁই
তহমিদ ছিফত যত আল্লাহ বিনে নাই।
তছবিহ তহমিদ যত জপিলে সকল
বেহেছতে হইবে কত মুল্লুক দখল।
তহলীল জানহে জানি দিলে অনুক্ষণ
লা-শরিক পাক জাত আল্লাহ নিরঞ্জন।
নবীর তরিকে জপ তহলিল জিকির
দেখবে গোলাপী রং মোস্তফা নবীর।
তহলিল জপিলে হয় আল্লাহর রহমত
নূরে মনোহর আসি হইব কুরবত।
তছবিহ জপহে বড় জানি নিরঞ্জন
আল্লার সমান কেহ নাই এই ত্রিভুবন।
তবিরি জপিলে হবে রূপের কুরবত
খল্‌ক ছওয়ালে তারে করিবে ইজ্জত।
হরদমতে করে যেই দমের জিকির
হুজুরি কুরবতে হয় রৌশন জাহির।
শিতালং ফকির মাংগে রবের বিদিত
প্রেমের সহিত আমার না খুলিল চিত্।’

আল্লাহ প্রেমে বিভোর সাধক মন তাঁর প্রেমিকের ধ্যানে মগ্ন। দুনিয়ার মোহে অনেক সময় ধ্যান ভেঙ্গে যায়। মায়া মোহে পড়ে ক্ষণিকের তরে ধ্যান ভগ্ন হলেও মন পড়ে থাকে প্রেমিকের দরবারে। যখনই মোহ কাটে তখনি কাকুতি মিনতি শুরু হয়। শিতালং শাহও তাঁর মানবুদের কাছে আকুতি পেশ করেছেন :

‘ওবা দয়াল আল্লাজী
পুলছিরাত সংকটে মোরে
তরাই নিবায়নি।
ভবের মায়ায় মজি কইলাম কত রং ঢং
বিপাকে ঠেকিয়া কান্দে ফকির শিতালং।’

শিতালং শাহ নির্ভেজাল তৌহিদের অনুসারী ছিলেন। গানে ও রচনায় কখনো চিকন কালা, রসের নাগর, কালাচান্দ, নিকুঞ্জ বিহারী, শ্যাম বিনোদিয়া, নবীন সজনী, প্রভৃতি শব্দ রূপক হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর রচনায় হরিকৃষ্ণ আল্লাহর প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এ সকল নামের ভিতর দিয়ে তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর সান্নিধ্য খুঁজেন। তাঁকে পাওয়ার আকুতি নিবেদন করেছেন। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির মান অভিমান ব্যক্ত করেছেন। তাঁর রচিত গানগুলি বৈষ্ণব রূপকে ঢাকা থাকলেও এগুলি মরমী ভাবধারার আধ্যাত্মিক সাহিত্য। তার রচনাবলী তিন ভাগে বিভক্ত যথা : মুশকিল তরান, কিয়ামত নামা ও রাগ হকিকত শিতালংগি রাগ নামেও তাঁর রচিত গানগুলি সিলেট ও কাছাড় অঞ্চলে পরিচিত। তাঁর গান সিলেটি নাগরি হরফে হস্তলিখিত ছিল। তাঁর রচনার প্রচার আধুনিককালে ঘটলেও তা বিক্ষিপ্ত। তাঁর সমূহ রচনা এখনও সংগৃহীত হয়নি যা সংগীত হয়েছে তার অল্প অংশই আলোচনায় এসেছে। শিতালং শাহ শুধু একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি নন-তিনি সিলেটের মরমি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচক ও মারফত সাধক।

আল্লাহ প্রেমিক শিতালং শাহ মৃত্যু সম্পর্কে বেগাফিল ছিলেন না। তিনি আল্লাহর ওলি কামেল পুরুষ হিসাবে মৃত্যু চিন্তায় বিভোর থাকতেন। পরপারে যাত্রার প্রস্তুতিও তাঁর ছিল। তাই–

‘মন পানা মাংগোরে
সাক্ষাতে ছকরাত
প্রেমভাবে জপো নাম
আল্লাহ পাকজাত।’

এভাবে নাম জপতে জপতে শিতালং শাহর দিন ফুরিয়ে গেল। মৃত্যুর পেয়ালায় চুমুক দিয়ে ভবনদী পার হয়ে তাঁর মাশুকের সঙ্গে মিলে গেলেন। সে দিন ছিল ১২৯৬ বাংলার ১৭ই অগ্রহায়ণ। নিজ বাড়ির সামনে পুকুর পারের ঈশান কোণে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মাজার চারদিকে দেওয়াল দ্বারা ঘেরা। মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বারঠাকুরী শিতালঙ্গিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, দ্বিনি শিক্ষা কেন্দ্ৰ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *