শিতালং শাহ – শামসুল করিম কয়েস
আধ্যাত্মিক জ্ঞান পার্থিব জীবনের জন্যে এক অপরিহার্য বিষয়। কারণ যে মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পথ পরিক্রমায় রত, তাঁর পক্ষে সে পথ পাড়ি দেয়া এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। আর এ জন্যেই যুগে যুগে বহু সাধক সাধারণ মানুষের জন্যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিতরণ করে গেছেন যার সান্নিধ্যে ও আশ্রয়ে মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে পবিত্র ও সুন্দর। পথ চলা হয়েছে সহজ ও সাবলীল। সাধক কবি ফকির শিতালং শাহ এমনি এক মরমী হৃদয়। যিনি জীবন ও জগতকে তাঁর হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন এবং তারই ফলশ্রুতিতে রচিত হয়েছে তাঁর হৃদয় নিঙড়ানো মরমী গান।
মরমী কবি শিতালং শাহর আসল নাম ছিল মোহাম্মদ সলিম। তিনি পরে ফকিরি নাম গ্রহণ করে শিতালং। নিজের জন্ম সম্বন্ধে কবি তাঁর ছিফতপীর মুরশিদান পয়ারে লিখেছেন—
‘শিতালং নাম মোর গুনাহ বেশুমার
কৃপা যদি কর আল্লা করিম গফ্ফার।
মোহাম্মদ সলিম উরফে দোষগুণে মাজুর
জাহাবকশ আলী নাম (মোর) পিতার মাশুর।
পরগনে চাপঘাট মোর পয়দিশ সেথায়
শ্রীগৌরী মৌজায়েতে, শিলচর কিত্তায়।’
বিশিষ্ট লোকসাহিত্য সংগ্রহকে চৌধুরী গোলাম আকবরের মতে শিতালং শাহ করিমগঞ্জের বদরপুর থানায় শ্রীগৌরী মৌজার ‘শিলচর’ মহল্লায় ১২০৭ বাংলা সনে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু বহু অনুসন্ধান করেও তার সঠিক জন্ম তারিখ জানা সম্ভব হয়নি। এই সাধক কবির পিতা জাহাবকস আলী ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। পরে ঘটনাচক্রে তিনি শ্রীগৌরীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। জাহাবকস নিজেও একজন ফকির ছিলেন। তাঁর ফকিরি নাম ছিল কামাল শাহ।
শিতালং শাহ তাঁর রচিত রাগ, গান ছাপাতে নিষেধ নাকি করেছিলেন। প্রকাশকের উপর পীরের অভিশাপ পড়বে এই ভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ গানগুলো মুখে মুখে গীত হয়ে আসছিলো। পরে তাঁর মুরিদানের মধ্যে দু’একজন মিলে হাতে লিখে কিছু কিছু গান সংগ্রহ করে রাখেন। সৈয়দ মুর্তাজা আলী ১৯৪৯ সালে ‘শিতালংগি রাগ’ নামে ১৪টি গানের এক সংকলন প্রকাশ করেন। সেই সময় থেকে তাঁর নাম দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ডঃ আহমদ শরীফ ‘মধ্যযুগের কাব্য সংগ্রহ’ গ্রন্থে শিতালং শাহকে বাউল কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং দুটি গানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ‘পূর্ব পাকিস্তানের সুফি সাধক’ গ্রন্থে অধ্যাপক গোলাম সাকলায়েন শিতালং শাহের একটি অতি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়েছেন। ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে ডঃ কাজী দীন মুহম্মদ একটি গানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অধ্যাপক মনসুর উদ্দিন আহমদ শিতালং শাহের বেশ কয়েকটি গান সংগ্রহ করে তাঁর হারামণি বিভিন্ন খণ্ডে প্রকাশ করেছেন। ‘পূর্বপাকিস্তানের লোক কৃষ্টি’ গ্রন্থে সুসাহিত্যিক মতিন উদ্দিন আহমদ শিতালং শাহের সাহিত্য কর্ম সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
শিতালং শাহ বাল্যকালে ফুলবাড়িতে লেখাপড়া করতে যান। ফুলবাড়ি ইসলামি শিক্ষার ব্যাপারে সে সময় এক বিখ্যাত স্থান ছিল। মাদ্রাসা পাশের সাথে সাথে ছাত্রবৃত্তি স্কুলের শেষ পরীক্ষায় পাশ করেন এবং সেখানেই তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানের শিক্ষা লাভ করেন। কবি লিখেছেন—
‘শাহ আবদুল আলী মোর পীর দস্তগির
হাশিল মূরাদ ছিলা বাতিনে জাহির।
মুর্শিদ কামিল মোঃ শাহ আবদুল ওহাব
তিনির প্রসাদে হৈল ধেয়ানেতে লাভ।’
তিনি অন্যত্র লিখেছেন—
‘দ্বিতীয় মুর্শিদ মোর শাহ আবদুল কাহির
শিশুকালে করামতি আছয়ে জাহির।
ছাত্রবে এই দুই মোরে রাখিয়া কৃপায়
ভেদ মৰ্ম শিক্ষা দিলা তওঞ্জু নির্ঘায়।’
কবি যে দুজনের কথা তাঁর রচনায় উল্লেখ করেছেন তাঁরা ছিলেন খুবই উঁচু পর্যায়ের আলেম ও কামেল। কবি মাদ্রাসার পাঠ্য তালিকা মোতাবেক এই সময় ফারসি চর্চা করেন আবার একই সাথে স্কুলে আরবি ও বাংলা শিক্ষা লাভ করেন। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে কবির রচনায় আরবি ফারসি শব্দের পাশাপাশি বাংলা শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। শুধু তাই নয় আঞ্চলিক শব্দেরও ব্যবহার তিনি সুনিপুণ ভাবে করেছেন। শব্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কবি যেমন ছিলেন অত্যন্ত সচেতন তেমনি সচ্ছন্দ ও সাবলীল এক কাব্য রীতির সূত্রপাতও তিনি করে গেছেন। নানা ভাষার মিশ্রণে তাঁর কাব্যগ্রন্থ ক্ষতিগ্রস্ততো হয়নি বরং তা হয়ে উঠেছে অভিনব ও বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের এক আধার বিশেষ।
অতি অল্প বয়সে কবি যে মারিফতি জ্ঞান লাভ করেন তাঁর পরিচয় পরবর্তীকালের রচনায় ফুটে ওঠে। মারিফতি জ্ঞানের সাথে তাঁর পরিচয় যে কত গভীর হয়েছিল তা তাঁর মারিফতি সাধনা সম্পর্কিত রচনায় প্রমাণ পাওয়া যায়। হিন্দু সাধন পদ্ধতিতেও তিনি প্রগাঢ় জ্ঞান ধারণ করতেন। মরমী কবি শিতালং শাহের রচনায় কোরান হাদিস ছাড়াও অন্যান্য অনেক গ্রন্থের উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হয়েছে।
ফুলবাড়ি পড়াশুনা শেষে শিতালং শাহ তাঁর মা বাবার কাছে চলে আসেন এবং পিতার সঙ্গে চাষ বাসের কাজে লেগে যান।শিতালং শাহ নিজের বাড়ি ফিরে এলেও অন্তরের তাগিদে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। তিনি নিকটবর্তী পাহাড়ে আত্মগোপন করেন এবং সাধনায় মগ্ন থাকেন।
দীর্ঘ বারো বছর তিনি বমজঙ্গলে জীবন কাটান। এ সময় তিনি সাধন ভজন, এবাদত আরাধনা, জপতপ ও যোগাভ্যাস করেন।
শিতালং শাহ পূর্ণ শরিয়তপন্থী ছিলেন। তাঁর রচনায় এবং জীবনের পথ পরিক্রমায় তা সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ইসলামি কানুন মতে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনাও করেছিলেন। তাঁর গানে বহুবার রাধাকৃষ্ণের প্রেম লীলার যে উল্লেখ দেখা যায় তা মূলতঃ রাধার বিরহ অনল ও প্রেম নিবেদন এবং ভাবাবেগের আড়ালে নিগূঢ় আধ্যাত্মিকতার বহিঃপ্রকাশ। কবি বৈষ্ণব এই রীতির মধ্যে থেকে মূল সত্যকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। সৃষ্টিকর্তার প্রেমে পাগল হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
শিতালং শাহ কোন কোন সময় নিজেকে নারীরূপে কল্পনা করেছেন আবার অন্য সময় নিজকে রাধিকা ও সৃষ্টিকর্তাকে কৃষ্ণ রূপে কল্পনা করেছেন। তিনি লিখেছিলেন—
‘প্রেম রসে প্রেম সিন্ধু সান্তারে করে লঙ্ঘন
মদন তরঙ্গে ভাসি দিব আসি দরশন
প্রেমানলে উদাসিনী প্রিয় বিনে দহে মন
বিচ্ছেদের তীক্ষ্ণ শরে দেহা জ্বলে অনেকক্ষণ।।’
মুসলিম আধ্যাত্ম লোক সাহিত্যে পদাবলী সাহিত্যের সমন্বয় ঘটেছিল বিধায় এ মিশ্ররীতি কাব্য ভাব ধারায় বাঁশি, নিকুঞ্জ, কদম্ব অবলীলায় স্থান পেয়েছে। শিতালং শাহের একটি গানে আছে
‘শুনিয়া বাঁশির ধ্বনি, যত সখি সুহাসিনী
অন্তরে হইল প্রেমে খাওরে
বন্ধুয়ারে প্রেম ভারি যেই সখি বিনয়ে
বন্ধুকে ডাকি কামুকামে পায় সে কালিয়া।।
যেখানে প্রেম সেখানেই বিচ্ছেদের জ্বালা। আর যেখানে বিচ্ছেদ জ্বালা সেখানেই অতলান্ত প্রেমের শাশ্বতরূপ। বিচিত্র হৃদয় বৃত্তির প্রেক্ষাপটে হৃদয় নিকুঞ্জে প্রেমিকের চিরন্তন বিহার
‘প্রবেশিতে রাজমন্দিরে গো–ও সই কাল ভুজঙ্গ সিংহ দারে সই
শিতালং ফকিরে বলে বন্ধু বিনে প্রেমানলে মনুরায় ঝুরে
বিচ্ছেদের তীক্ষ্ণ সুরে গো ও সই-মোর অন্তরে সই।’
জীবদ্দশায়ই বন্দেগি করতে হয়। আল্লাহ হাজির জেনে নবীজীর তরিকতের পথ ধরে প্রেমময় হৃদয় বৃত্তির অনুরণনে ভক্ত হৃদয়কে সমর্পিত করতে হয়। যেমন—
‘জিন্দেগি থাকিতে কর বন্দেগি আল্লার ভাই রে
সাক্ষাতে জানিয়া ভজ প্রভু নিরঞ্জন রে
প্রেমের সহিত কর ধর্মের যুগন
সুগন্ধির সাথে তার খুলিবে কমল রে।’
শিতালং শাহ তৎকালীন সামাজিক দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতন বিধায় তিনি তাঁর কাব্যে সেই দুর্নীতির স্বরূপ শুধু তুলে ধরেননি বরং বিশ্লেষণাত্মক ভঙ্গিতে এ রূপকল্প নির্মাণে সার্থকতার পরিচয় দিয়েছেন। তৎকালীন যুগে সত্য ও ন্যায়নীতি বিসর্জিত হয়েছিল সাধারণ জন থেকে অধিষ্ঠিত হাকিম পর্যন্ত। প্রত্যেকের মধ্যে সর্বত্র এই সামাজিক দুর্নীতি বাসা বেধেছিল। সাধারণ মানুষের আচরণে মিথ্যা, গর্ব, হিংসা পরায়ণতা ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছিল। আবার অপেক্ষাকৃত উঁচু মহলের সুদকুরি শরাবকুরি, জিনাকারি প্রকাশ পাচ্ছিল। সে যুগে মজহবের প্রতি চরম তাচ্ছিল্য দেখা দিয়েছিল। কবির উদ্ধৃতিতে তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে—
‘ও ভাই সর্বনাশের বাক্য বিড়ম্বন
প্রকাশিত মিথ্যা হইল লোকের আচরণ।।
সত্য ছাড়া মিথ্যা হইল সয়ালে প্রকাশ
ধর্মনাশা কর্মকাজে উঠিল বিলাস।।
আখেরী জমানা আইল দর্জালি আচার
মল্লুকে প্রকাশ হইল কুকুতি প্রচার।।
হারাম হালাল মধ্যে না রহিল চিন
শরম ভরম ছাড়া হৈল দিনে দিন।।’
কবি প্রায় দুইশত বছর আগের যে সমাজের চিত্র তুলে ধরেছিলেন—আজকের প্রেক্ষাপটে কতটুকু সত্য তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।
আধ্যাত্মিক ধারার সাধক শিতালং শাহ। কিন্তু আধ্যাত্মিকতার সাথে শরিয়তের প্রতিও তাঁর অকৃত্রিম আনুগত্য। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে শরিয়তের বরখেলাফ করে মারিফত লাভ আদৌ সম্ভব নয়। তিনি নামাজ রোজা এবাদত সম্পর্কে বহু গান রচনা করেন। এবং লেখার মাধ্যমে বারে বারে নামাজ রোজার তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর লেখা “রাগ হকিকত” এর অংশ বিশেষ পাঠ করলেই এ বিষয়টি ছাড়াও সৌন্দর্যের আর এক রূপ উপলব্ধি করা সম্ভব হবে। তিনি লিখেছেন—
‘স্বরূপ নামাজে দীপ্ত নূর
কিয়াম রুকুয়ে দেখ ছজুদে জহুর রে॥’
আবার অন্যত্র–
‘আলিফ ছুরতে খাড়া করিবে কিয়াম
হে ছুরতে রুকু দিয়া জপ শুদ্ধ নাম রে।।
দাল রূপে বসে দেখ ছুরত কাউদ
জমিনে পরিয়া মাথা মিমেতে ছজুদ-রে
ছুরত নমাজ এই মহিমা বেহদ
এ চারি অক্ষরে বান্ধে ইসমে আহমদ রে॥’
তিনি নামাজের গুণগান করেছেন। তিনি লিখেছেন—
‘গুণের সীমা নাই নমাজের ভাই
মুশকিল তরিতে, ও মনা ভাই, নমাজেতে ঠাই-রে
গুণের সীমা নাই।।’
মোহই ব্যক্তিকে করে রাখে অন্ধ। অন্তর্দৃষ্টি যখন সচেতন হয় তখন সময় ফুরিয়ে যায় সকাল থেকে সন্ধ্যেয়। সন্ধ্যে থেকে রাত্রে। আফসোস তখন কথা কয় অন্তরে আন্তন আপন স্বভাবে, আপন মনে
‘মনরে
–বেলা গেল সাঞ্জা হইল
ভুলিয়া রইলাম কারে দেখি
সংগের সংগীলা সবে
দিয়া যায়রে ফাঁকি।’
মন কখনো কেঁদে ওঠে পরকালের কথা ভেবে। অনিচ্ছাকৃত পাপের অনুশোচনায় কাতর হয়ে পড়ে। তখন আল্লাই শুধু মাত্র ভসরা, সমস্ত আত্মার তখন ঘটে সুন্দর সমর্পণ। শিতালং শাহ লিখেছেন—
‘ওবা দয়াল আল্লাজী
ছিরাত সংকটে মোর
তরাই নিবায় নি?”
কাব্য বিচারের প্রেক্ষিতে বিবেচ্য দুটি, প্রথমতঃ প্রেক্ষাপট—দ্বিতীয়ত নির্মিতি। সাধক কবি শিতালং শাহের কাব্য বিচারের পূর্বাহ্ণেই তৎকালীন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত হতে হয়। সে যুগটা ছিল একাধারে সংঘর্ষ এবং সমঝোতার যুগ। বৈষ্ণববাদ এবং ইসলামিক সুফিবাদের দ্বৈত প্রভাবে সে যুগ তথা এতদঞ্চল মুখর হয়ে উঠে। প্রেক্ষিতে এ অঞ্চলটি বাউল, ভাটিয়ালি, মারফতি এ জাতীয় গানে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। মুসলিম সাধক এবং ফকিরগণ সেই সমাজের এবং সাংস্কৃতিক মিশ্রণের বিচিত্র সুরকে বাণীরূপে প্রকাশ করার প্রয়াসে তাদের গীতিগুচ্ছ রচনা করেন। তাদের সবাই ছিলেন মরমী বিধায় আবেগ এবং অনুভূতিই ছিল তাদের কাব্য সামগ্রীর মূলকথা। ভক্তিমার্গে অনুভূতির নিবিড়তা এবং সুরের আন্তরিকতার জন্যেই তাদের গান তথা তাদের মিশ্ররাগ এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
আধ্যাত্মিক চেতনার যে বিকাশ শিতালং শাহের মধ্যে দিয়ে সাধিত হয় তার ফলশ্রুতি সিলেটে শিতালং শাহের ভক্ত সংখ্যা এখনো প্রচুর। এখনো ঐ অঞ্চলে শিতালংগি গানের বৈঠক বসে। এ সব বৈঠকে বিভিন্ন গায়ক শিতালংগি গান পরিবেশন করেন যা সিলেটি নাগরি ভাষাতেই লেখা।
এ পর্যন্ত এই মরমী কবির দুটি বইয়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। সে দুটি হলো ১) মুশকিল তরান ২) কিয়ামতনামা। শিতালং শাহের অধিকাংশ গানই তাঁর অঞ্চলের গায়কদের মুখস্থ রয়েছে। কিন্তু কবিতা কারো মনে নেই। এখানে উল্লেখ্য যে এই মরমী সঙ্গীত স্রষ্টা তার গানের নিজেই সুরারোপ করে গেছেন যা আজ পর্যন্ত অবিকৃত ভাবেই পরিবেশিত হচ্ছে।
মরমী কবি শিতালং শাহ এ অঞ্চলে একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর গান ও কবিতার মধ্যে দিয়ে তিনি যে ইসলামি চেতনার বিকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর ফলশ্রুতিতেই এই জনপ্রিয়তা। যদিও তাঁর চিন্তা ও চেতনা প্রায়শই রূপকের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু তবুও তা সাধারণ ভক্তের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ধরা দেয়নি। কারণ ভক্তের হৃদয়ের ফল্গুধারা মূলতঃ শিতালং শাহর হৃদয় চেতনার সাথে বরাবরই একাত্ম থেকেছে। সাহিত্য সাধনার মাঝে ধর্মীয় সাধনার যে যোগসূত্র স্থাপন করে গেছেন, এ জন্যেই শিতালং শাহকে বিশেষভাবে পরিচিতি দিয়েছে এবং এখানেই তিনি আমাদের সাহিত্যে এক কীর্তিমান পুরুষ।
