দিন তো গেল, সন্ধে হল – উল্লাস মল্লিক

দিন তো গেল, সন্ধে হল

নমস্কার, হরিপদবাবু, ভালো আছেন তো?

 —আমাকে বলছেন?

—আজ্ঞে হ্যাঁ, আপনাকেই…আপনি হরিপদ রায় তো?

—স্যরি, আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে, আমার নাম হ্যারি রে।

—হ্যারি রে! কিন্তু গতবছর যখন আপনার সঙ্গে আলাপ হল, তখন যেন বলেছিলেন আপনার নাম হরিপদ রায়…।

—শুনুন মাশাই, এক বছর মানে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন, মানে ইনটু চব্বিশ ঘণ্টা, মানে ইন্টু ষাট মিনিট, মানে ইন্টু ষাট সেকেন্ড—তাহলে ফিগারটা কত বড় হয় ইমাজিন করতে পারছেন; এর মধ্যে কত কিছুই তো বদলে যেতে পারে!

—কিন্তু তা বলে মানুষের নাম!

—কেন! জায়গার নাম বদলাতে পারে, রাস্তার নাম বদলাতে পারে, তাহলে মানুষের নাম বদলাতে অসুবিধেটা কোথায়? সত্যি করে বলুন তো, কোনটা ধরে ডাকতে ভালো—হরিপদ, না হ্যারি? এই যে আপনার নাম বঙ্কুবিহারী দত্ত, এটা যদি ব্যাঙ্কো ড্যাট করে নেন দেখবেন, পাড়ায় প্রেসটিজ এক ধাক্কায় কতটা বেড়ে গেছে, অফিসে যে চমকি সুন্দরী রিসেপশনিস্ট আপনাকে দেখে দায়সারা হাসিতে কাজ সারত, দেখবেন তার হাসিতে হাজার ওয়াটের বালব জ্বলে উঠছে।

—কিন্তু পিতৃদত্ত নাম কি বদলানো উচিত? এই নামের মধ্যে জড়িয়ে আছে কত স্নেহ-মায়া-মমতা, কত ভালোবাসা…!

—আহা, তা থাক না; যা জড়িয়ে আছে তাকে ছাড়াবার কথা তো হচ্ছে না মশাই, বরং মায়া-ভালোবাসা-মমতা, আর কী কী সব বললেন যেন, সবকিছু প্যাকেটে মুড়ে বাক্সবন্দি করে রাখুন, যেমন আপনার মার্কশিট-সার্টিফিকেট আছে, কিন্তু সোসাইটিতে মডার্ন নামটা চালু করুন। যেমন ধরুন, আপনার মিসেসকে আপনার মা বিয়ের সময় নিশ্চয়ই কিছু গয়না দিয়েছিলেন, ভারী ভারী গয়না—বাউটি, সীতাহার, চন্দ্রহার এইসব, সেসব কি মিসেস পরেন মশাই, সেসব তো জমা আছে ব্যাঙ্কের ভল্টে, রোজদিন ব্যবহারের জন্যে নিশ্চয়ই শৌখিন হাল ফ্যাশানের অরনামেন্ট ব্যবহার করেন। এ অনেকটা সেরকম, পুরোনোটা ভল্টে থাকবে আর নতুনটা ডেইলি-ইউজ।

—কিন্তু হরিপদবাবু, সরি—মি: হ্যারি, এইসব নামের মধ্যে বাঙালিত্বের বড় অভাব; এমনিতেই বাঙালির সংস্কৃতি, বাংলার যা কিছু অতীত গৌরব, যা কিছু মহান ঐতিহ্য, সব কিছু কেমন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

—ধোর মশাই, হারাবে কেন! এ কি ন্যাদোশ মাছ না কি; কমতে কমতে একেবারে বিলুপ্তির পথে! বেঙ্গলি কালচার মশাই আমাদের ব্লাডে, কিছুতেই মরতে দেব না তাকে, যে কোনও প্রাইসে আমরা ধরে রাখব।

—কিন্তু চারদিকে দিন দিন যা দেখছি! এই ধরুন না, ফার্স্ট জানুয়ারি নিয়ে কত মাতামাতি—SMS গ্রিটিংস শুভেচ্ছা আলো বাজি খানাপিনা, কিন্তু পয়লা বৈশাখে তার সিকির সিকিও নয়, কেমন যেন একটা দুয়োরানির দশা।

—দেখুন মাশাই, ফার্স্ট জানুয়ারি-টারির দিকে আজকাল আমরা একটু নজর দিয়েছি ঠিকই, কারণ যুগের দাবি বলে একটা কথা আছে, আমরা যে হুড়ুম-দুড়ুম করে গ্লোবাল হয়ে যাচ্ছি সেটা তো আপনি ডিনাই করতে পারবেন না। তাই ওটুকু না করলে পাঁচজন গাঁইয়া বলবে (গাঁইয়াদের কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ কুষ্ঠ রোগীর চেয়েও বেশি ঘেন্না করে)। তবে আমরা পয়লা বৈশাখেও ইকোয়্যাল আছি। ও দিন পাজামা-পাঞ্জাবি পরি, সকালে উঠে মাইকে ‘এসো হে বৈশাখ…’ কানে এলে গুন গুন করে উঠি, বৃহস্পতিবার না হলে দুপুরে মাটন হয়। তারপর সন্ধেবেলা বন্ধু বান্ধব জুটে, ওই আর কী, দু এক পেগ…এবং আপনি জেনে রাখুন, ওদিন নো সোডা, না কোল্ড ড্রিঙ্কস—বাংলাকে রেসপেক্ট দিতে ডাবের জল মেশানো হয়, আর প্রত্যেক গ্লাসে, প্রতীক স্বরূপ, এক ফোঁটা করে ‘বাংলা।’ ও হ্যাঁ, আর একটা কথা—সে দিন সবাইকে ‘সুপ্রভাত’; নো ‘গুড-মর্নিং।’ এর পরও আপনি বলবেন…

—আচ্ছা, হ্যারিবাবু, ধরুন যদি সুপ্রভাতটাই বছরভর চালু থাকে—ক্ষতি কী!

—সারা বছর ‘সুপ্রভাত’। না মশাই, ব্যপারটা বেশ চাপের হয়ে যাবে। ফ্র্যাঙ্কলি স্পিকিং, বলার পর নিজের কানেই কেমন বেখাপ্পা লাগে, তারপর দু-একবার অসাবধানে সন্ধি হয়ে ‘গুপ্রভাত’ বেরিয়ে যায়! আচ্ছা, সত্যি করে বলুন তো, কেনটা শুনতে সুইট? ‘গুডমর্নিং’-এর মধ্যে কেমন একটা সুরেলা ঝংকার আছে, টেনে টেনে বললে কী সুইট শোনায়! তার পাশে ‘সুপ্রভাত’ কেমন যেন পান্তাভাত-পান্তাভাত মতো।

—আচ্ছা সে নয় গেল, কিন্তু এই যে ছেলেপুলের জন্মদিনে কেক কাটা কেন? আমাদের তো কী সুন্দর প্রথা আছে—প্রদীপ জ্বালিয়ে কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে মা শাঁখে ফুঁ দেবে।

—দেখুন, ছেলের জন্মদিনে ইনভাইটি কারা সেটা তো আগে দেখতে হবে। বেশিরভাগই ছেলের বন্ধুবান্ধব আর তাদের বাবা-মা। তারা সব ঝকঝকে গাড়ি করে আসে, চোস্ত ইংরিজি বলে, আড্ডা দিতে দিতে আমেরিকার পলিটিকাল ক্রাইসিস নিয়ে আলোচনা করে। তাদের জামবাটি ভর্তি পায়েস খাওয়াব! বলবে কী মশাই! বলবে, রণিতের বাবাটা আনকালচার্ড, সোসাইটিতে মেশার যোগ্য নয়। সেই এফেক্টটা ছেলের ওপর পড়বে। বন্ধুরা খেলায় নেবে না, কামাই করলে হোমটাস্ক দেখিয়ে দেবে না।

—ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়ামেই বা দিলেন কেন?

—বলেন কী মশাই! ছেলেকে বাংলা মিডিয়ামে দেওয়া, আর আঁতুরে ছেলের মুখে নুন গুঁজে দেওয়া মোর অর লেস সেম জিনিস। দ্য ডেজ আর কামিং, যখন ইংরিজি ছাড়া ভুবন অন্ধকার। আপনি জাঙ্গিয়া পরে অফিস গেলেও কেউ ফিরে তাকাবে না, কিন্তু ইংরিজি বোলচাল না থাকলে আপনার বাড়ির সামনে চিড়িয়াখানার সাদা বাঘ দেখার মতো লম্বা লাইন পড়বে। ইংরিজি না জানলে বাজারে চুনো মাছ পর্যন্ত কিনতে সমস্যায় পড়ে যাবেন মশাই; দেখবেন কাজের মাসির ইন্টারভিউটাও নিতে হচ্ছে ইংরিজিতে।

—কিন্তু দেখুন, বাংলা মিডিয়ামে পড়েও তো দিব্যি ইংরিজি শেখা যায়। আমাদের বাপ-জ্যাঠারা তো তাই শিখেছেন—সমস্যা তো কিছু হয়নি।

—আপনি দাদা একটু সিনিক টাইপের আছেন।

সব কিছুতেই খুঁতখুঁত করা স্বভাব। তখন ইংলিশ মিডিয়াম ক’টা ছিল বলুন। থাকলে কী হত, অনলি গড নোজ। কে বলতে পারে, জিনিসটা ইজিলি অ্যাভেলেবেল হলে আমাদের বাপ-জ্যাঠারা টাই ঝুলিয়ে জুতো-মোজা পরে তাদের বাপ-মাকে ‘টা-টা’ করে স্কুল গাড়িতে উঠত না! আপনি যে স্পিডে পিছিয়ে যাচ্ছেন, ভয় হচ্ছে, এরপর পালকি খড়মের জন্য সওয়াল করবেন।

—সমস্যা কী জানেন হ্যারিবাবু, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লে দেখেছি, ইংরিজির থেকে বদগুণগুলো বেশি রপ্ত করে। কথায় কথায় বিরক্ত হলে ‘শিট’, বিস্মিত হলে ‘ফাক মি’ এগুলো কি খুব সুস্থ লক্ষণ?

—কী মুশকিল মশাই! সব কথা কি অত ধরতে আছে। ওসব হল কথার কথা!’ ‘ফাক মি’ বলা মানেই ফাক করার আমন্ত্রণ জানানো নয়। এই যে কত ISI মার্কা বাঙালি কথায় কথায় ‘শালা’ আওড়ায়, তার মানেই কি বোনের গলায় মালা দিতে ছুটছে।

—সবই ঠিক, কিন্তু কোথায় যেন মনটা একটু খচখচ করে। এই যেমন দেখুন না, আমাদের কী সুন্দর সাবেক প্রথা ছিল হাত তুলে নমস্কার, তার বদলে ‘হ্যান্ডসেক’—কোথায় যেন মেনে নিতে কষ্ট হয়।

—তাহলে বলি মশাই, আপনি মনটাকে একটু বড় করুন। একজন এগিয়ে গিয়ে আর একজনের হাত ধরছে, ধরে ঝাঁকিয়ে দিচ্ছে, এ তো মশাই আরও আন্তরিক একটা ব্যাপার, কত আপন করে নেওয়া মানুষকে। তার সঙ্গে ফাউ পাচ্ছেন হাত আর কাঁধের এক্সারসাইজ; জীবনে কোনওদিন ফ্রোজেন সোলডার হবে না।

—আচ্ছা দাদা, ওসব না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় যে সম্পদ—সাহিত্য, যা বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণের মতো বরেণ্যরা মণিমাণিক্য দিয়ে সাজিয়েছেন, সেসব অজানা থেকে গেল এদের কাছে। বড় হতভাগা মনে হয় এদের।

—তাহলে বলি শুনুন মশাই; প্রথম কথা সাহিত্য-ফাহিত্য আর যাই হোক জিনস টি-শার্ট, আফটার সেভ ডিও ল্যাপটপ বা আইপড নয়, যে বাদ দিলে জীবন অচল। তবু কোনওদিন যদি বাই চাগে, অনুবাদ আছে—পড়ে নেব। তাহলে একটা ঘটনা বলি মশাই, সেদিন দেখলাম, ছেলে একটা ইংরিজি বই পড়ছে—পথের পাঁচালী। রাইটার হচ্ছে বাঙালি, ওই আপনি যাদের নাম করলেন এই মাত্র, যাঁরা কী সব জুয়েল-টুয়েল নাকি রেখে গেছেন, তাঁদেরই একজন। কয়েক পাতা পড়েই দেখলাম ছেলে নাক ডাকছে। পরে বলল, ডিসগাসটিং। পাতায় পাতায় শুধু নাকি বাঁশ বাগান এঁদো পুকুর ঝোপঝাড়ের ডেসক্রিপশান, আর পভার্টির গল্প। স্মার্টনেসের ভীষণ অভাব। দেখলাম, পড়েই আছে বইটা, আপনি যদি চান দিয়ে দিতে পারি। শুনুন, শিল্প-সাহিত্য এখন বদলে গেছে। রেলগাড়ি দেখে নায়ক মোহিত হয়ে গেল—এসব লিখলে সতেরো কপিও কাটতি হবে না। ঝকঝকে মাল্টিন্যাশনাল এগজিকিউটিভ নায়ক চাই, যে স্যান্ডো গেঞ্জি—শর্টস পরা নায়িকাকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাবে, সমুদ্র সৈকতে বসে বিয়ার খাবে, শপিং মলে কেনাকাটা করবে, এয়ারপোর্টে ল্যাপটপ খুলে চ্যাট করবে। বাংলা সিনেমায় দেখেননি, ধানখেতের আল ধরে নায়ক-নায়িকাকে আর হাঁটাচ্ছে না ডিরেক্টর। এখন সোজা নিয়ে ফেলছে সুইজারল্যান্ড কিংবা দুবাই, তারপর সেখানে নায়িকা টু-পিস কস্টিউম পরে কোমর নাচিয়ে বাংলা গান গাইছে।

—সবই বুঝলাম হ্যারিবাবু—এমন দু-একটা ছবির খামচা-খামচা টিভিতে দেখেছি; কিন্তু কী জানেন, এর মধ্যে সেই আবহমান বাংলার, সেই সনাতন বাঙালির ঘ্রাণটাই নেই।

—শুনুন দাদা, আবহমান, সনাতন, ঘ্রান—এমন দুটো ভারি ভারি শব্দ শিখে আপনার লুকটা ভীষণ ন্যারো হয়ে গেছে। আপনি ব্যাঙ্কো নামের উপযুক্ত নন, বঙ্কুবিহারীই আপনাকে মানায়। এসবের আসল কথা হল—এক্সচেঞ্জ। বাংলায় কী যেন বলে, আপনি তো আবার বাংলায়…।

—বিনিময়।

—হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক বলেছেন, বিনিময়। এসব হচ্ছে বিনিময়ের ব্যাপার। আমরা যেমন পিৎজা-বার্গার খাচ্ছি, সাহেবরাও তেমনি ডালভাত খাচ্ছে। লন্ডনে, ওয়াশিংটনে বাঙালি রেস্টুরেন্ট হচ্ছে। লালমুখো সাহেবগুলো কোর্টের হাতা কবজির ওপর গুটিয়ে ডালভাত শুক্তো খাচ্ছে হাপুস-হাপুস করে। কত সাহেব তো ধুতি-পাঞ্জাবি পরে কপালে তেলক কেটে খোল-কত্তাল নিয়ে হরিনাম গাইছে। কই, ওদের দেশে তো অমন মরাকান্না ওঠেনি। আসলে বাঙালি হচ্ছে হিংসুটে জাত, নিজের লোকের উন্নতি দেখলে গা জ্বলে যায়। শুনুন মশাই, যা ভাবছেন তা নয়, বাংলা ও বাঙালির প্রাণভোমরা কী—আমি জানি, তাকে সযত্নে রক্ষা করি। দ্যাট ইজ গ্রেট টেগোর, আই মিন গুরুদেব। বাঙালির গর্ব, বাঙালি শক্তি। বাঙালির মুক্তি। শুধু লেখা পড়লেই লেখককে শ্রদ্ধা জানানো যায়—এ ধারণা অ্যাবসোলিউটলি ভুল। আরও অনেক উপায় আছে। সেই জন্যেই এভরি উইকএন্ডে মিসেস আর ছেলেকে নিয়ে রবীন্দ্রসদন চত্বরে যাই, ফেরার সময় বাইরে ডিনার সেরে ফিরি। ওই চত্বরটার মধ্যেই দেখবেন কেমন একটা কালচার-কালচার গন্ধ আছে। তারপর এই তো, এ বছরই টোয়েন্টি ফিফথ বৈশাখ ওদের নিয়ে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। আমার ছেলের সে কী উত্তেজনা! রবীন্দ্রনাথের ব্যবহার করা চশমা দেখে বলছে—’অসাম’, চামচ দেখে বলছে—ওয়ান্ডারফুল, ওষুধের শিশি দেখে ‘ওয়াও’ ‘ওয়াও’ করে উঠল। আমার মিসেস ঘুরে ঘুরে কাজ করা শাড়ি, বেডকভার, পাঞ্জাবি, হ্যান্ডিক্র্যাফটের এটা-ওটা-সেটা মিলে প্রচুর টাকার শপিং করে ফেলল। এটাকে কি আপনি শ্রদ্ধা বলবেন না? কী হল বঙ্কুবাবু, হঠাৎ অমন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন কেন?

—আসলে আমিও এবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম ওই সময়; আমার খুব করুণ অভিজ্ঞতা হল।

—কীরকম, কীরকম?

—ওই যে রবীন্দ্রনাথের পাঁচটা বাড়ি আছে না পাশাপাশি—উদয়ন, কোনার্ক, শ্যামলী, পুনশ্চ, উদিচী,—এতগুলো বাড়ি কেন; এক বাবা তার ছেলেকে ব্যাখ্যা করছেন শুনলাম—আসলে কবিদের তো খুব অর্থকষ্ট থাকে, রবীন্দ্রনাথেরও ছিল, বাড়িভাড়া বাকি পড়ত আর বাড়িওলা উচ্ছেদ করত কবিকে, তখন আর একটা নতুন বাড়িতে গিয়ে উঠতেন, তারপর যখন নোবেল প্রাইজ পেলেন, অনেক টাকা হল, তখন পাঁচটা বাড়িই কিনে নিলেন রবীন্দ্রনাথ।

—হে: হে:, তাই নাকি, আপনি শুনলেন।

—একদম নিজের কানে শুনলাম হ্যারিবাবু; এবং আশ্চর্য কী জানেন, সেই লোকটাকে একদম আপনার মতো দেখতে।

—আমার মতো। হে: হে: বলেন কী! তা হতেই পারে, কত মানুষকেই তো আমার মতো দেখতে; কিন্তু তারা কি আমার মতো কালচার্ড হতে পারবে? কালচার একটা অন্য ব্যাপার, সবার দ্বারা হয় না। মশাই কি গান গাইছেন গুন গুন করে?

—আজ্ঞে হ্যাঁ।

—কী গান, টেগোরস সং নিশ্চয়ই? গান, গান, জোরে গান, আমিও গলা মেলাই।

—ঠিক আছে, শুরু করুন—হ্যারি দিন তো গেল সন্ধে হল, পার কর আমারে…।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *