তাল-বেতাল-মাতাল
বলাইকাকা বনেদি মাতাল। বনেদি মাতাল মানে বাপ, ঠাকুরদা, ঠাকুরদার বাবা, বাবার ঠাকুরদা ইত্যাদি ধারাবাহিক কয়েক পুরুষ ধরে মাতাল। বলাইকাকা সুদর্শন, ম্যাট্রিক পাশ, মোহনবাগানের অন্ধ সাপোর্টার। ইস্তিরি করা পাঞ্জাবি ছাড়া পরতই না। কথার ফাঁকে ইংরেজি বলত আর অন্তর থেকে ঘেন্না করত পেঁচি মাতালদের। মদ্যপান করে কাকা কখনও হল্লা করেনি, অগারে-পগারে পড়ে থাকেনি। খুব গম্ভীর মুখে দৃঢ় পদক্ষেপে সটান বাড়ি চলে আসত। বলাইকাকার মতে নেশা করে বউ ঠ্যাঙানো কোনও কাজের কথা নয়, পেঁচি মাতালের কম্ম। আর পেঁচি মাতাল, মাতাল কুলের কুলাঙ্গার। মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে বউকে বলল, অ্যাই ডাল রেঁধেছিস? বউ যদি ডাল রান্না না করে থাকে, অমনি চুলের মুঠি ধরে দিল ঘা কতক,—শা-ল-লি, কী দিয়ে ভাত খাব তালে! আর যদি বলে, হ্যাঁ ডাল রেঁধেছি, তাহলেও দিল ঘা কতক,—কেন রাঁধলি, শালি তোর বাপের ডাল!
আমি একবার বলেছিলাম, তা হলে যে তোমার বাড়ি থেকে মাঝে মাঝে মারধোরের শব্দ পাই, কাকি চিৎকার করে কাঁদে।
বলাইকাকা বেশ অহংকারের সঙ্গে বলেছিল, তখন কিন্তু আমি শুধু মুখে থাকি, মদ খেয়ে আজ পর্যন্ত কোনওদিন তোর কাকির গায়ে হাত তুলিনি। বিশ্বাস না হয়, তোর কাকির কাছে ভেরিফাই করে নিস।
আমার আর ভেরিফাই করা হয়নি, কারণ কথাগুলো যখন বলেছিল তখন সদ্য মদ্যপান করে শুঁড়িখানা থেকে ফিরছে কাকা। লোকায়ত বিশ্বাস, মাতালরা নেশা করে মিথ্যে বলে না, এমনকী খুন-জখম-ডাকাতি ইত্যাদি বড় বড় অপরাধ কবুল করে বসে। প্রায় সব মাতালই একটা কথা খুব বলে, মদ নাকি অনেক দু:খে খায়, ভিতরে তাদের অনেক জ্বালা। আরও একটা ব্যাপারে বড়াই করে তারা, কথায় কথায় বলে, আমরা মাতাল, আমাদের মন সাদা।
ব্যাপারটা তর্কসাপেক্ষ হলেও এটা স্বীকার করতেই হয় মাতাল মাত্রই প্রবল দার্শনিক; দেহ মায়া, জীবন অনিত্য এই বোধে টইটম্বুর। জেনে-বুঝেই তারা বিষবৎ তরল পান করে সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করে তোলে, লিভারের বারোটা বাজায়, পচা ড্রেন বা সর্পসংকুল পগারে চিৎপটাং হয়ে রাত্রিযাপন করে।
আগে রাসে, ঝুলনে একটা সং খুব দেখা যেত—জনৈক মাতাল রাস্তায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে, হাতে মদের বোতল, আর একটি নেড়ি কুকুর ঠ্যাঙ তুলে সরাসরি জলসিঞ্চন করছে তার মুখে। নীচে সাবধানবাণী—মদ্যপানের পরিণতি।
কোনও অজ্ঞাত কারণে কুকুরদের খাড়া ল্যাম্পপোস্ট আর ভূপতিত মাতাল দেখলে জলবিয়োগের বেগ প্রবলতর হয়। বহুকাল আগে একটা কথামালার গল্প পড়েছিলাম। গল্পটা এইরকম—এক সারমেয় ভারি ব্যস্তভাবে পথ হাঁটিতেছিল, পথিমধ্যে উলটোমুখী অন্য এক সারমেয়র সঙ্গে সাক্ষাৎ। দ্বিতীয় সারমেয় কহিল, বন্ধু যাও কোথা, আইস দু-দণ্ড গল্প করি। প্রথম জন কহিল, ভাই, আমার বেজায় ছোট বাইরে পাইয়াছে, তাই বুঝিতেই পারিতেছ, বিলম্ব সহিবে না। দ্বিতীয় জন কহিল, কিন্তু এই পথে তো তুমি কোনও ল্যাম্পপোস্ট পাইবে না, বরং আমার সহিত আইস, তোমাকে উত্তম এক ল্যাম্পপোস্টের সন্ধান দিব। প্রথম সারমেয় তখন, সম্মুখগামী জনৈক পথিককে দেখাইয়া বলিল, ওই ব্যাটা, বহুক্ষণ টলিতে টলিতে যাইতেছে, বেশ কয়েকবার পড়িতে পড়িতে সংবরণ করিয়া লইয়াছে। বেটাচ্ছেলে কাত হইলেই আমার সমস্যার সমাধান হইয়া যাইবে। চলি ভাই, ও অনেকটা আগাইয়া গিয়াছে, গল্পগাছা অন্যদিন হইবে।
বহুদিন আগে পড়া; কিন্তু সারমেয় সাইকোলজির অনবদ্য প্রকাশ হিসেবে এখনও স্মরণে আছে গল্পটা।
যে কথা বলছিলাম, রাস-ঝুলনে লোকশিক্ষার জন্যে প্রদর্শিত সং। লোকশিক্ষা কিছু যে হত সন্দেহ নেই, কারণ আমরা মাতালের ওই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে শিউরে উঠতাম! কিন্তু খোদ মাতালরা কতটা শিক্ষালাভ করত বলা মুশকিল। একবার দুজনকে দেখেছিলাম তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ছে। বলাবাহুল্য, দুজনেই মাতাল। দুজনেরই দাবি, ওই মাটির মাতালকে একদম তার মতো দেখতে। শেষে আমাকে সাক্ষী মানল তারা—ভাই বিচার করে বলো, ওই মূর্তি কার মতো দেখতে। আমি দেখলাম বিপদ, দুজনেই এটাকে অত্যন্ত গর্বের ব্যাপার বলে মনে করছে, একজনকে সন্তুষ্ট করলে অন্যজন চটে যাবে। তাই কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললাম, দেখুন ভাই, আমার এখানে বাড়ি নয়, ঠিক বলতে পারব না।
শুনেই দমকা হাসিতে ফেটে পড়ল দুজন। হাসি আর থামতেই চায় না। শেষে অতি কষ্টে সামলে নিয়ে বলল, দাদা, বলবেন তো, আপনি দলের লোক, আপনাকে কিন্তু দেখেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। চলুন না, কাছেই একটা ঠেক আছে, জমিয়ে বসা যাক।
অমন সাদর আমন্ত্রণ সেদিন গ্রহণ করতে পারিনি। কোনোক্রমে পালিয়ে বেঁচেছিলাম। এখনও কোথাও ওইরকম কোনও মাটির সং দেখলে আড়চোখে তাকিয়ে দেখি, আর সাদৃশ্য খোঁজার চেষ্টা করি নিজের সঙ্গে।
এবার একটু কানাইকাকার কথা। কানাইকাকাও পাড়ার রেপুটেড মাতাল, তবে বলাইকাকার দর্শন অনুযায়ী পেঁচি মাতাল, অর্থাৎ মদ্যপান করে হল্লাগুল্লা করে, বউ পেটায়, অস্থানে-কুস্থানে পড়ে থাকে—ইত্যাদি ইত্যাদি। কানাইকাকা অবশ্য এসবের মধ্যে অপরাধ কিছু দেখে না, বরং প্রচ্ছন্ন গর্ববোধ করে। তীব্র এক প্রাোলেতারিয়েত ভাবাবেগ তার। বলে, আমরা সস্তা বাংলা খাই, লোকে তাই বলে মদ গিলেছে, আর বড়োলোক বিলিতি খেলে বলে ড্রিঙ্ক করেছে। বলাইকাকাকেও ফুৎকারে উড়িয়ে দেয় কানাইকাকা। বলে, বলাই আবার মদ খেতে শিখল কবে, ও তো চন্নামেত্তর মতো মদ খায়। মাল খেতে হবে গলা অবধি, মুখে কড়াইভাজা ছুড়ে ফেললে টুপ করে শব্দ হবে।
তো একদিন দেখলাম, কানাইকাকা টলমল করতে করতে সাইকেল চালাচ্ছে। আমার বাড়ির ঠিক সামনে নেমে পড়ল সাইকেল থেকে। জানলার ধারে বসেছিলাম আমি, একটু আতঙ্কিত হলাম, না জানি, কী উৎপাত শুরু করবে! কিন্তু সেসব দিকে গেল না কাকা। রাস্তার ধারে সাইকেলটা স্ট্যান্ড করল, তারপর সিটে একটা চাপড় মেরে সাইকেলটাকে উদ্দেশ্য করে জড়ানো গলায় বলল, নে শালা, কত হিসি করবি কর! তারপর টলতে টলতে আমার বাড়ির রকে বসে বিড়ি ধরাল একটা।
টিভিতে ক্রিকেটের মতো মদও একা এনজয় করা যায় না। মাতালরা তাই সবসময় যৌথ পানে বিশ্বাসী। তারা জোটবদ্ধ হয়ে মদ্যপান করে, মাতাল হয়ে ঝগড়া করে, সেই দু:খে ফের মদ্যপান করার জন্যে আবার বন্ধুত্ব করে নেয়। পানের সময় প্রত্যেক মাতালেরই নিজেকে স্টেডি প্রমাণ করার একটা প্রাণান্ত চেষ্টা থাকে। সে যে সহজে কাবু হওয়ার বান্দা নয়, অন্য সবার চাইতে তার সুরাধারণক্ষমতা বেশি—এটা যে কোনও মাতালের কাছেই একটা মস্ত শ্লাঘার বিষয়। এইসময় স্বাভাবিকত্ব প্রমাণের জন্যে তারা অতিরিক্ত বকবকানি শুরু করে। কোনও মাতালই বিশ্বাস করে না, সে অযথা হাবিজাবি বকছে, বা তার উচ্চারণ এলিয়ে যাচ্ছে। এই দিয়ে একটা চমৎকার কাহিনি আছে, দুই বন্ধু বারে বসে মদ্যপান করছিল। হঠাৎ প্রথম বন্ধু দ্বিতীয়জনকে বলল, অ্যাই আর খাস না, তোকে কেমন ঝাপসা দেখাচ্ছে, মনে হচ্ছে নেশা লেগে গেছে তোর।&&&&
এসব গালগপ্পো ছেড়ে ফের বলাইকাকার কাছে ফিরে যাই। শেষ জীবনে বড় নি:সঙ্গ হয়ে গিয়েছিল কাকা। গেলাসের ইয়ারবন্ধু সব একে একে ইহলোক এবং সংগত কারণেই কাকাকে ছেড়ে বিদায় নিয়েছে। কাকাও উত্থানশক্তিরহিত। এক শুঁড়ির সঙ্গে বন্দোবস্ত ছিল, সে রোজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যেত মদ, মাসকাবারি পয়সা। কিন্তু যেহেতু একা পান করে মজা নেই, কাকা তাই পশুপাখিকে দোসর করে নিত। পশুকুলে মদ্যপানের প্রভাব খুব কাছ থেকে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিল কাকা। কুকুর নাকি অত্যন্ত মদ্যপ্রিয়, মদ পেলে আর কিছু চায় না। যে কুকুর প্রভুভক্তির জন্যে বিশ্বময় খ্যাত সেই কুকুরই তুচ্ছ একটু মদের জন্যে প্রভুকেও ত্যাগ করে। তবে মদ খেয়ে কোনোপ্রকার মাতলামি করে না, বুঁদ হয়ে পড়ে থাকে এক জায়গায়। বেড়াল আবার একেবারে পেঁচি মাতাল, সামান্য খেয়েই ব্যালান্স হারিয়ে ফেলবে, যাকে-তাকে আঁচড়ে কামড়ে দেবে। গোরু কিন্তু ভীষণ সাত্বিক—মদ কিছুতেই মুখে দেবে না। বহু চেষ্টাচরিত্র করেও গোরুকে মদ্যপান করাতে পারেনি কাকা। বেশি জোর করলে অতি শান্ত গোরুও গোঁতাতে আসে। ছাগলের নামে যদিও বদনাম আছে—কী না খায়, কিন্তু মদ্যপানের ব্যাপারে প্রচণ্ড সংযমী সে। খায়, কিন্তু ভীষণ মাত্রা রেখে এবং কোনোপ্রকার মাতলামি করে না।
শীতের এক সকালে বারান্দায় চাদর মুড়ি দিয়ে পান করছিল কাকা। আমাকে দেখে ডাকল। লাভ নেই জেনেও আমি মদ্যপানের অপকারিতা বিষয়ে দু-চার কথা বললাম। কাকার মস্ত গুণ, একটা কথাও অস্বীকার করল না। আমাকে বলল বোস, তোকে আজ একটা জিনিস দেখাব।
একটু পরেই দেখলাম, একটা পাতিকাক উড়ে এসে বসল সামনে। কাকা একটুকরো রুটি মদে ভিজিয়ে ছুড়ে দিল। তৎক্ষণাৎ সেটা গলাধ:করণ করল। এইভাবে আরও দু-টুকরো সুরাসিক্ত রুটি খেল কাকটি। তারপরেই ঘটল সেই অদ্ভুত ঘটনা—কাকা রুটির টুকরো ছুড়ে দিয়েছে, কাকও হাঁটি হাঁটি পায়ে এগিয়ে এসেছে, কিন্তু ঠোক্কর মারছে একবেগ্দা তফাতে, কিছুতেই রুটিতে লক্ষ্যভেদ হচ্ছে না তার। কাকা বলল, শালার নেশা হয়ে গেছে। হুসহাস করে তাড়িয়ে দিল কাকটাকে। দেখলাম, উড়তে উড়তে টলছে সে, বা টলতে টলতে উড়ছে। কাকা বলল, ভাইপোর আমার এই দোষ, মাত্রা রেখে খেতে পারে না, এখন ঠিকমতো বাসায় পৌঁছোলে হয়। আমি বললাম, ভাইপোটা আবার কে? কাকা বলল, আরে ওই তো, যে ব্যাটা মাল খেল, দেখলি না কেমন ‘কা’-‘কা’ করে ডাকছিল আমাকে।
মাতালের বউ। এরা মাতালের চাইতেও বেশি গোলমেলে প্রজাতি। একই সঙ্গে নিপীড়িত, অত্যাচারিত এবং তৎকারণে গর্বিত।
কমান্ডোদের মতো এদের সদা জাগ্রত থাকতে হয়, বিচিত্র সব পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। শরীর হবে পোক্ত, কারণ কানাইকাকার মতো মাতালই দলে ভারি, বউ না পেটালে নেশা ঠিক জমে না তাদের। শরীরে জোস চাই, কারণ অচৈতন্য পতিদেবতাকে মাঝেমধ্যেই টেনে ঘরে তুলতে হবে। পার্টিতে অন্য মহিলার কাছে ছোঁক-ছোঁক করলে পুলিশগিরি করতে হবে। ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্তু নির্যাতিতা রমণীর পক্ষ নিয়ে আপনি যদি স্বামীকে শায়েস্তা করতে যান, অমনি ফোঁস—আমার সোয়ামি নিজের পয়সায় খেয়ে আপন বউয়ের গায়ে হাত তুলেছে, তোমার তাতে কী! মারধোর না করলে স্বামী আর কীসের মরদ—এই দর্শনে বিশ্বাসী তারা। মাতালের সঙ্গে মাতালপত্নীর অদ্ভুত একটা লাভ-হেট রিলেশন। যে ব্যক্তি রাতে বউকে উত্তম-মধ্যম দেয়, সে-ই আবার পরদিন সকালে বউয়ের পায়ে ধরে ক্ষমা চায়, মদ ত্যাগ করার প্রতিজ্ঞা করে বারংবার।
এমনই এক মাতালের কথা বলি—সে মাত্রাতিরিক্ত রকমের মাতাল। মাতলামির জন্যে তার চাকরি যায়। এ ঘটনা অভিনব কিছু নয়, আকছারই ঘটে। তার পরের ঘটনাও খুব পরিচিত ছকের, পয়সার অভাবে সে বাড়ির আসবাবপত্র, এমনকী ঘটিবাটি বিক্রি করে মদ্যপান চালিয়ে যায়। শেষে বেচবার মতো অবশিষ্ট কিছু না থাকায়, একদিন এত বোতল মদের বিনিময়ে বউকে বিক্রি করে দেয়। তারপর যথারীতি তীব্র আত্মগ্লানিতে দগ্ধ হতে থাকে, চিৎকার করে, কেঁদে অনুশোচনা ব্যক্ত করে। হাহাকার দেখে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসে তার এক দোস্ত। বলে, কী রে খুব কষ্ট পাচ্ছিস?
প্রথমজন বুক চাপড়ে বলে, সে আর বলতে ভাই, এখন বুঝতে পারছি বউ কত বড় ধন।
বন্ধু বলে, আচ্ছা, এক্ষুনি যদি বউকে ফেরত পাস কী করবি?
মাতাল খুব ব্যাকুল কণ্ঠে বলে, দিবি, ব্যবস্থা করে, তোর তেমন হাত আছে?
বন্ধু বলে, সে পরে দেখা যাবে, আগে বল, কী করবি?
একটু মাথাটাথা চুলকে মাতাল বলে, নাক-কান মুলে ক্ষমা চাইব, খুব ক্ষমা চাইব, তারপর…
তারপর কী…?
ফের বিক্রি করে দিয়ে এক বোতল মদ খাব। আজ দু-দিন হল এক ফোঁটা খাইনি। বিশ্বাস কর, দেখ না ভাই চেষ্টা করে একটু যদি বউটাকে ফেরত দিতে পারিস…।
