অধ্যায় ২
বিয়ার অর্ডার করার সেরা উপায় হলো সুরে সুরে গেয়ে ওঠা উবিক। বাছাই করা সর্বোৎকৃষ্ট উপাদান দ্বারা প্রস্তুতকৃত, আর নিখুঁত স্বাদের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে চোলাই করা হয় বলেই উবিক দেশের এক নাম্বার বিয়ার, যা শুধু ক্লিভল্যান্ডেই উৎপাদিত হয়।
.
ভয় জাগানোর মতো হিমশীতল কুয়াশার মাঝে স্বচ্ছ কফিনের অভ্যন্তরে বন্দি ইলা রানসাইটার, ঘুমিয়ে আছে পা সোজা করে। তার দুটো চোখ বন্ধ, হাতদুটো অলসভাবে পড়ে আছে তার অনুভূতিশূন্য ও ভাবলেশহীন মুখের পাশে এবং ওভাবেই থাকবে। ইলার সাথে শেষ দেখার পর পেরিয়ে গেছে তিনটি বছর। স্বাভাবিকভাবেই এই তিন বছরে ইলার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর কখনো হবেও না, অন্তত বাহ্যিকভাবে। কিন্তু প্রতিটি সক্রিয় অর্ধ-জীবনে পুনরুত্থানের সময় মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ আবার সক্রিয় করে তোলার কারণে—তা যত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যই হোক না কেন—কোনো না কোনোভাবে মৃত্যু বরণ করতে থাকে ইলা। তার অর্ধ-জীবনের যতটুকু বাকি আছে সেটা পর্যায়ক্রমে ক্ষয় হতে থাকে।
তিনি জানেন, ইলাকে নিয়মিত পুনরুজ্জীবিত করতে না পারাটা তার ব্যর্থতা। আর এর পেছনে তার যুক্তি হলো: এটা ইলাকে পুরোপুরি শেষ করে দেবে। তার মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ নিয়মিত ব্যবধানে সক্রিয় করে তোলাটা হবে তার প্রতি অবিচার আর পাপ। আর ইলা যে ইচ্ছা ব্যক্ত করে গিয়েছিলো সেটা বিবেচনা করার পরেও ইলার মৃত্যুর আগে এবং অর্ধ-জীবনের প্রথম দিকে এই বিশ্বাসটা তার মনে দৃঢ়ভাবে আসন গেড়ে বসে। যত যাই হোক, তারই তো সবচেয়ে ভালো জানার কথা, যেহেতু তার বয়স ইলার বয়সের চারগুণ। কী চেয়েছিলো ইলা? তার সাথে রানসাইটার অ্যাসোসিয়েটসের সহ-মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছিলো; যদিও বিষয়টা ঠিক স্পষ্ট না। কিন্তু তিনি এই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। যেমন এখন করছেন, এবং অতীতেও ছয় থেকে সাতবার প্রতিষ্ঠানের বিপর্যয়ের সময় তিনি পরামর্শ করেছেন ইলার সাথে। আর এই মুহূর্তেও ঠিক সেটাই করছেন।
মি. রানসাইটার ভীষণ বিরক্ত হলেন ইয়ারফোনগুলো দেখে। প্লাস্টিকের চাকতিদুটো মাথার দুপাশে লাগানোর সময় গজগজ করলেন কিছুক্ষণ। অত্যন্ত বিরক্তিকর এই মাইক্রোফোনগুলো; স্বাভাবিক যোগাযোগের জন্য সব সময়ই একটা বাধা। অধৈর্য হয়ে যাচ্ছেন তিনি, আকারে ছোট চেয়ারটায় বসে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না মোটেও। ভলসাঙ না কী যেন নাম লোকটার, সে তাকে বসার জন্য এই চেয়ারটাই দিয়ে গেছে। আনমনে ইলাকে সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখছেন। মনেপ্রাণে চাইছেন যেন সে দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। হয়তো ইলা আর সক্রিয় হতে পারবে না, হঠাৎই আতঙ্কিত হয়ে ভাবলেন। হয়তো সে নিঃশেষ হয়ে গেছে পুরোপুরি, আর ওরা সেটা আমাকে জানায়নি অথবা নিজেরাই জানে না। হয়তো, তিনি ভাবলেন, ভলসাঙ ব্যাটাকে এই মুহূর্তে ডেকে আনা দরকার জবাবদিহি করার জন্য। হয়তো ভয়ানক কিছু একটা ঘটে গেছে।
ইলা অত্যন্ত আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী, আর ঠিক মোমের মতোই মোলায়েম তার ত্বক। ওর চোখদুটো, যখন ওগুলো পৃথিবীর রং-রস উপভোগ করতো, তখন সেগুলো ছিলো উজ্জ্বল, আর সেই চোখদুটো থেকে ছড়াতো নীলাভ আভা। সেরকম আর কখনো হবে না। এখন তিনি ইলার সাথে কথা বলতে পারবেন, ইলার কথাও শুনতে পারবেন, ইলার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন… কিন্তু আর কোনোদিন তাকে চোখ খোলা অবস্থায় দেখতে পাবেন না, তার ঠোঁট নড়তে দেখবেন না। তার আগমনে আর কখনো খুশির হাসি ফুটে উঠবে না ইলার মুখে। তিনি চলে গেলে সেই দুঃখে কাঁদবে না ও। এর কি কোনো প্রয়োজন ছিলো? নিজেকেই প্রশ্ন করলেন তিনি। পুরোনো সেই প্রথা, পূর্ণ জীবন থেকে সরাসরি সমাধিস্থ হয়ে যাওয়া, সেই তুলনায় কি এটাই ভালো? অবশ্য, ইলা এখনো আমার সাথেই আছে, কোনো না কোনোভাবে, উপসংহারে পৌঁছালেন তিনি। আর কোনো বিকল্পই মেনে নেওয়া যেত না।
ইয়ারফোনে কিছু শব্দ হলো, বিলম্বিত আর অনিশ্চিত, যেন গুরুত্বহীন কিছু ভাবনাকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে, যেন দুর্বোধ্য কোনো স্বপ্নের টুকরো টুকরো অংশ, যার সাথে লড়াই করে যাচ্ছে ইলা। কেমন এই জীবন, অবাক হয়ে ভাবলেন তিনি, এই অর্ধ-জীবনে থাকা? ইলা যে বর্ণনা দিয়েছিলো, সেখান থেকে তিনি আসলে কিছুই বুঝতে পারেননি; এই অর্ধ-জীবনের ভিত্তি, এই জীবনের অভিজ্ঞতা আসলে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। অভিকর্ষ তোমার উপর কোনোরকম প্রভাব বিস্তার করা থামিয়ে দেবে, অনেক দিন আগে ইলা তাকে বলেছিলো, অতীতের কোনো এক সাক্ষাতের সময়। শূন্যে ভাসতে থাকবে তুমি, শুধু ভাসতেই থাকবে। আর যখন এই অর্ধ-জীবনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, সে বলেছিলো, আমার ধারণা তুমি এই চক্র থেকে বেরিয়ে যাবে পুরোপুরি, চলে যাবে নক্ষত্রমণ্ডলীর মাঝে। কিন্তু ইলা নিজেও সঠিক জানে না; সে কেবল বিস্মিত হয়ে অবলোকন করে আর অনুমান করে নেয়। যদিও কখনো মনে হয়নি যে সে ভীত। অথবা অসুখী। আর এটা বুঝতে পেরে তিনি নিজেও আনন্দিত।
‘কেমন আছো, ইলা?’ মাইক্রোফোনে কিছুটা আড়ষ্ট কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
‘ওহ,’ ইলার জবাব ভেসে এলো তার কানের ভেতর; কণ্ঠস্বরে মনে হলো কিছুটা চমকে গেছে। যদিও স্বভাবতই তার চেহারা পুরোপুরি ভাবলেশহীন। সেখানে কোনো ভাবের প্রকাশ নেই। ‘কী খবর, গ্লেন?’ শিশুসুলভ বিস্ময়ের সাথে জবাব দিলো ইলা, রানসাইটারকে এখানে দেখে অবাক, চমকিত। ‘কী…’ দ্বিধান্বিত মনে হলো তাকে। ‘কত দিন পর এলে?’
‘বেশ কয়েক বছর,’ তিনি বললেন।
‘বলো, কী খবর?’
‘আহ, ঈশ্বর!’ তিনি বললেন। ‘সব শেষ হয়ে যাচ্ছে, পুরো প্রতিষ্ঠান সেজন্যই আমি এখানে এসেছি। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে চেয়েছিলে তুমি, আর আমাদের এখন ঠিক সেটারই প্রয়োজন। একটা নতুন নীতি, অথবা যেভাবেই হোক আমাদের কর্মীবাহিনীর বর্তমান কাঠামোর আমূল পরিবর্তন।’
‘আমি স্বপ্ন দেখছিলাম,’ ইলা বললো। ‘দেখলাম ধোঁয়ার মাঝে একটা লাল আলো, একটা ভীতিকর আলো। অথচ কী এক অমোঘ আকর্ষণে আমি ঐ আলোর দিকেই এগিয়ে যেতে থাকি। কোনোভাবেই থামাতে পারি না নিজেকে।’
‘বুঝতে পেরেছি,’ সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন রানসাইটার। ‘বার-দো-থোসগ্রোল মৃত্যু আর পুনর্জন্মের মধ্যবর্তী অবস্থায় চৈতন্যের অবস্থা ও অভিজ্ঞতাবিষয়ক তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের প্রাচীন গ্রন্থে এই আলোর কথা বলা হয়েছে। বইটা তুমি পড়েছ, মনে আছে? ডাক্তার তোমাকে পড়তে দিয়েছিলো যখন তুমি…’ একটু ইতস্তত করলেন তিনি। ‘মারা যাও।’
‘ধোঁয়ার মাঝে ঐ লাল আলোটা অশুভ, তাই না?’ ইলা জিজ্ঞেস করলো।
‘হ্যাঁ, ওটার কাছ থেকে দূরে থেকো,’ গলা পরিষ্কার করে বললেন তিনি। ‘শোনো, ইলা, আমরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছি। তুমি কি এখন আলোচনা করতে পারবে? মানে জানতে চাইছি, তুমি কি ভীষণ ক্লান্ত, অথবা তুমি কি অন্য কিছু শুনতে চাও বা আলোচনা করতে চাও? তোমার উপর জোর খাটাতে চাই না।’
‘ভীষণ অদ্ভুত ব্যাপার। মনে হয়, পুরো সময়টা জুড়েই আমি স্বপ্ন দেখছিলাম, তুমি শেষবার দেখা করে যাওয়ার পর থেকেই। আসলেই দুটো বছর পার হয়ে গেছে? আমার কি মনে হয় জানো, গ্লেন? আমার মনে হয় যে মানুষগুলো আমার চারপাশে আছে… মনে হয় ক্রমান্বয়ে আমরা সবাই একত্র হচ্ছি। যে স্বপ্নগুলো দেখি সেগুলোর অধিকাংশই আমার নিজের না—কখনো আমি একজন পুরুষ আবার কখনো বা আমি এক ছোট্ট বালক। কখনো আমি হাতের রগ ফুলে থাকা মোটা এক মেয়েমানুষ… আর আমি এমন সব জায়গায় যাই যে জায়গাগুলো আগে কখনো দেখিনি, এমন সব কাজ করি যার কোনো অর্থই হয় না।’
‘বেশ, এই বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন এক গর্ভাশয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছো তুমি, যেখান থেকে নতুন করে তোমার আবার জন্ম হবে। আর ধোঁয়ার মাঝে ঐ লাল আলো—ওটা একটা অশুভ প্রক্রিয়ার ঘটনাস্থল। ঐ পথে না গেলেই তোমার জন্য ভালো হবে। ওটা অত্যন্ত নিকৃষ্ট আর অবমাননাকর স্থান। তুমি হয়তো তোমার পরজনমের—অথবা সেটা যাই হোক—কিছু কিছু বিষয় আগাম দেখতে পাচ্ছো।’ কথাগুলো বলার সময় নিজেকে বোকা মনে হলো তার। তিনি ধার্মিক নন। কিন্তু অর্ধ-জীবনের বিষয়টা বাস্তব আর এটা সবাইকে কমবেশি ধার্মিক বানিয়ে দিয়েছে। ‘শোনো,’ আলোচনার মোড় ঘোরানোর উদ্দেশে বললেন তিনি। ‘কী হয়েছে আর কেন তোমাকে বিরক্ত করছি সেটা বলি এখন। এস. ডোল মেলিপন গা ঢাকা দিয়েছে।’
খানিক নীরবতা, তারপর শোনা গেল ইলার হাসির শব্দ। ‘এস. ডোল মেলিপন কী বা কে? এরকম কিছু কি হওয়ার কথা?’ তার সেই পরিচিত উষ্ণ আর তুলনাহীন হাসির শব্দে রানসাইটারের শিরদাঁড়া কেঁপে উঠলো। এতগুলো বছর পরেও ইলার এই হাসির কথা পরিষ্কার মনে আছে। আর গত দশ বছর ইলার হাসি শোনার সৌভাগ্য হয়নি তার।
‘হয়তো তুমি ভুলে গেছ,’ তিনি বললেন।
‘না, ভুলে যাইনি,’ ইলা বললো। ‘এস. ডোল মেলিপনকে ভুলতে পারি না আমি। ওটা কি মাটির নিচে বসবাসকারী কোনো প্রাণী?’
‘সে রেমন্ড হোলিসের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিপ্যাথ। আজ থেকে দেড় বছর আগে, জি. জি. অ্যাশউড তাকে প্রথম চিহ্নিত করার পর, আমাদের একজন ইনার্শিয়াল তার সাথে আঠার মতো লেগে থাকতো। মেলিপনকে আমরা কখনোই চোখের আড়াল হতে দেইনি; সেই ঝুঁকি নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। প্রয়োজনের সময় মেলিপন হোলিসের অন্য যেকোনো কর্মীর চেয়ে দ্বিগুণ পিএসআই ফিল্ড তৈরি করতে পারে। আর হোলিসের টেলিপ্যাথ বাহিনীর মধ্যে মেলিপন অন্যতম একজন যারা সম্প্রতি অদৃশ্য হয়ে গেছে। যাই হোক, আমরা যতদূর বুঝতে পারছি, ওরা সবাই কোথাও গা ঢাকা দিয়েছে, আর এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে চিন্তার বিষয়। সোসাইটির অন্য প্রুডেন্স অর্গানাইজেশনগুলোও ব্যাপারটা কয়েক দিনের মধ্যেই আবিষ্কার করতে পারবে। আর তাই আমি সিদ্ধান্ত নেই যে যেভাবেই হোক, তোমার সাথে আমাকে পরামর্শ করতে হবে, কেন এই ঘটনাগুলো ঘটছে আর আমাদেরই বা কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা জানতে হবে। তোমার শেষ ইচ্ছাও সেরকমই ছিলো, মনে আছে?’
‘হ্যাঁ, মনে আছে।’ মনে হলো তার কথাগুলো যেন ভেসে আসছে অনেক দূর থেকে। ‘সব ধরনের প্রচারমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের প্রচার আরো বাড়িয়ে দাও। মানুষকে সতর্ক করো। তাদেরকে বলো…’ তার কণ্ঠস্বর নিস্তেজ হতে হতে একেবারেই মিলিয়ে গেল।
‘তুমি বিরক্ত হচ্ছো,’ বিষণ্ণ কণ্ঠে বললেন রানসাইটার।
‘না। আমি—’ ইলাকে দ্বিধাগ্রস্ত মনে হচ্ছে। তিনি আবার অনুভব করলেন ইলা যেন দূরে সরে যাচ্ছে। ‘ওদের সবাই কি টেলিপ্যাথ?’ দীর্ঘ বিরতির পর জিজ্ঞেস করলো ইলা।
‘অধিকাংশই টেলিপ্যাথ আর প্রিকগ। ওরা পৃথিবীর কোথাও নেই, এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আমাদের এক ডজনেরও বেশি ইনার্শিয়ালকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। কারণ যে সকল পিএসআইকে অকার্যকর করার জন্য তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো, সেই পিএসআইদের কোনো খোঁজ নেই। আর যে বিষয়টা নিয়ে আমি বেশি চিন্তিত, অনেক বেশি চিন্তিত, সেটা হলো পিএসআই প্রতিরোধক সেবা গ্রহণের আবেদন নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়—যদিও এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক, যেহেতু এতগুলো পিএসআই এই মুহূর্তে মাঠে নেই। কিন্তু আমি জানি, ওদের সবাই বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটানোর জন্য একজোট হয়েছে। অর্থাৎ, আমি সেটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যেভাবেই হোক, আমি এই ব্যাপারে নিশ্চিত কেউ একজন এদের সবাইকে একসাথে ভাড়া করেছে, কিন্তু শুধু হোলিস বলতে পারবে পেছনের নাটের গুরু কে এবং ঘটনাটা কোথায় ঘটবে। অথবা, আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে।’
এই পর্যন্ত বলেই গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন তিনি। কী ঘটতে যাচ্ছে সেটা বোঝার জন্য ইলা তাকে কীভাবে সাহায্য করবে? নিজেকেই প্রশ্ন করলেন তিনি। ও নিজেই তো এই চারকোনা বাক্সে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন এবং মৃত্যুর হিমাগারে বন্দি—সে কেবল ততটুকুই জানে যতটুকু তিনি তাকে বলেছেন। তারপরেও ইলার বিচারবুদ্ধির উপর সব সময়ই আস্থা রেখেছেন তিনি, বিশেষ করে তার যে নারীসুলভ অন্তজ্ঞান আছে তার উপর। এই জ্ঞান শিক্ষা অথবা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অর্জিত হয় না, বরং তা অনেক বেশি গভীর আর সহজাত। ইলা যখন বেঁচে ছিলো, বিষয়টা তিনি কখনোই অনুধাবন করতে পারেননি। এখনো পারতেন না, যেহেতু ইলা ঘুমিয়ে আছে হিমায়িত শীতল কফিনে, সম্পূর্ণ নিষ্প্রাণ হয়ে। ইলার মৃত্যুর পর যে সকল নারীর সান্নিধ্যে এসেছেন—এবং তাদের সংখ্যাটাও নেহায়েত কম না—ঐ সকল নারীদের মধ্যেও এই গুণটা কিছু পরিমাণে ছিলো, ছিটেফোঁটা মাত্র। তবে সম্পর্কের মাঝে গভীর আবেগের যে ব্যাপারটা ইলার ভেতর ছিলো, তাদের ভেতর সেটা ওর ধারেকাছেও ছিলো না।
‘তো আমাকে বলো,’ ইলা বললো, ‘এই মেলিপন লোকটা দেখতে কেমন?’
‘একটু পাগলাটে ধরনের।’
‘টাকার জন্য কাজ করে? নাকি আদর্শের জন্য? আমি সব সময়ই এই ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজন বোধ করতাম, বিশেষ করে তারা যখন হতো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুসরণ করে চলা, মহাজাগতিক পরিচয় বহনকারী, রহস্যময় পিএসআই ক্ষমতার অধিকারী লোক। ঠিক ভয়ংকর সেরাপিসের মতো। ওর কথা মনে আছে তোমার?’
‘সেরাপিসের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। হোলিস তাকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে বরখাস্ত করেছে। কারণ সে গোপনে নিজের একটা দল তৈরি করছিলো হোলিসের সাথে টেক্কা দেওয়ার জন্য। প্রিকগদের একজন হোলিসকে সতর্ক করে দেয়,’ যোগ করলেন তিনি। ‘সেরাপিস যতটা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো, মেলিপন আমাদের জন্য তার চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ও পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠলে আমাদের তিনজন ইনার্শিয়ালকে একসাথে পুরো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হয় তার সৃষ্ট শক্তিক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য, আর তখন আমাদের কোনো মুনাফাই হয় না। কারণ একজন ইনার্শিয়ালের জন্য আমরা যা পাই—অথবা যা পেতাম—তিনজন ইনার্শিয়ালের জন্যও ঠিক একই পরিমাণ অর্থই পাই। কারণ সমাজে এখন মজুরির হার নির্দিষ্ট করে দেওয়া, আর আমরা সেটা মানতে বাধ্য।’ সময়ের সাথে সাথে বর্তমান সামাজিক কাঠামোর প্রতি তার বিতৃষ্ণা কেবল বেড়েই চলেছে। এই সমাজ তার কাছে এখন একটা বোঝা—এর অকার্যকারিতা, লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি আর অসার দাম্ভিকতার জন্য। ‘আমরা যতটুকু জানি, মেলিপন একজন অর্থলোভী পিএসআই। এই তথ্যটা কি তোমার কোনো কাজে আসবে? অর্থলোভী হওয়াটা কি তুলনামূলকভাবে কম খারাপ?’ অপেক্ষা করছেন তিনি, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া পেলেন না। ‘ইলা,’ ডাকলেন তিনি। নীরবতা। আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন রানসাইটার, আবার ডাকলেন, ‘শুনছো, তুমি আছো ওখানে, ইলা? শুনতে পাচ্ছো? কী হয়েছে তোমার?’ হায় ঈশ্বর! তিনি ভাবলেন। ইলা চলে গেছে! বেশ অনেকক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ নেই, তারপর একটা চিন্তাতরঙ্গ ধীরে ধীরে আকৃতি নিতে শুরু করলো তার ডান কানের অভ্যন্তরে। ‘আমার নাম জোরি।’ ইলার চিন্তাতরঙ্গ না এটা; একেবারেই অন্য রকম, অনেক বেশি সতেজ আর শিশুসুলভ। ইলার মতো গভীর বিচক্ষণতা অনুপস্থিত।
‘এই যোগাযোগ-তরঙ্গ থেকে বেরিয়ে যাও,’ আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেন তিনি। ‘আমি আমার স্ত্রী ইলার সাথে কথা বলছিলাম, তুমি কীভাবে এখানে অনুপ্রবেশ করলে?’
‘আমার নাম জোরি,’ চিন্তাতরঙ্গ ভেসে এলো। ‘আমার সাথে কেউ কথা বলে না। কিছু মনে না করলে, আপনার সাথে একটু সময় কাটাতে চাই। আপনার নাম কী?’
রানসাইটারের মুখের কথা আটকে যেতে লাগলো। ‘আমার স্ত্রী কোথায়, মিসেস ইলা রানসাইটার? ওর সাথে কথা বলতে এখানে এসেছি, এবং শুধু ওর সাথেই কথা বলতে চাই, তোমার সাথে না।’
‘মিসেস রানসাইটারকে আমি চিনি,’ চিন্তাতরঙ্গগুলো তার কানে ঝনঝন করে বাজছে, এখন আরো বেশি জোরালোভাবে। ‘তার সাথে আমার কথা হয়, কিন্তু সেটা আপনি যেভাবে আমার সাথে কথা বলছেন, মানে জীবিত মানুষদের দুনিয়ার একজনের সাথে কথা বলা, ব্যাপারটা মোটেও সেরকম না। আমরা যেখানে আছি, মিসেস রানসাইটারও সেখানেই আছেন। সেটার অবশ্য আলাদা কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ আমরা যা জানি, তার চেয়ে বেশি কিছু তিনি জানেন না। এটা কোন সাল, স্যার? প্রক্সিমা সেঞ্চুরিতে বড় মহাকাশযানটা কি পাঠানো হয়েছে? বিশেষ করে এই ব্যাপারটাই জানতে আগ্রহী আমি। হয়তো আপনি আমাকে এই তথ্যগুলো দিতে পারবেন। আর আপনি চাইলে আপনার যা যা বলার আছে তা আমি মিসেস রানসাইটারকে জানাতে পারি। ঠিক আছে?’
রানসাইটার একটানে কান থেকে প্লাগ খুলে শ্রবণযন্ত্রসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতিগুলো তাড়াহুড়ো করে নামিয়ে রাখলেন। ছোট কামরা থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি, ধুলায় ধূসর হয়ে যাওয়া অফিস আর হিমায়িত কফিনগুলোর মাঝে পথ খুঁজতে লাগলেন। এখানে সারি সারি কফিন, প্রতিটাই নিখুঁতভাবে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে সাজানো। কর্মচারীদের দু-একজন পলকের জন্য দেখা দিয়েই অদৃশ্য হয়ে গেল। আর তিনি হন্যে হয়ে ঘুরছেন মোরাটোরিয়াম মালিকের খোঁজে।
‘কী হয়েছে, মি. রানসাইটার?’ হন্তদন্ত হয়ে রানসাইটারকে এগিয়ে আসতে দেখে ভন ভলসাঙ জানতে চাইলেন। ‘আমি আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’
‘আমাদের যোগাযোগ-তরঙ্গে কিছু একটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।’ আচমকা থেমে দাঁড়ালেন রানসাইটার, দ্রুত হেঁটে আসার কারণে হাঁফাচ্ছেন। ‘ইলার জায়গায় অন্য কেউ অনুপ্রবেশ করেছে। আপনাদের কাজের পদ্ধতি আর সেবার মান তো দিন দিন জঘন্য হয়ে যাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, আর এসবের অর্থই বা কী?’ মোরাটোরিয়ামের মালিক ইতোমধ্যেই ২-এ লেবেল লাগানো অফিস কামরার দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন। তাকে অনুসরণ করতে করতে রানসাইটার জানতে চাইলেন, ‘আমার ব্যবসা যদি এভাবে চালাতাম—’
‘ও কি তার নাম বলেছে?’
‘হ্যাঁ, নিজের নাম বলেছে জোরি।’
নিখাদ উদ্বেগে ভ্রু কুঁচকালেন ভন ভলসাঙ। ‘নিশ্চয়ই জোরি মিলার। সম্ভবত ওকে রাখা হয়েছে আপনার স্ত্রীর পাশে। অবশ্যই কফিনের মধ্যে।’
‘কিন্তু আমি তো কেবল ইলাকেই দেখছি!’
‘দীর্ঘদিন যোগাযোগ করা না হলে মাঝে মাঝে অর্ধ-জীবিতদের নিজেদের মধ্যে একটা পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়, একধরনের মানসিক যোগাযোগ বলতে পারেন,’ ভন ভলসাঙ ব্যাখ্যা করে বললেন। ‘জোরি মিলারের মস্তিষ্কের ক্রিয়া যথেষ্ট সবল; আপনার স্ত্রীর তা নয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এটা একমুখী প্রটোফেশনের পথ তৈরি করে দেয়।’
‘আপনি এই সমস্যাটা দূর করতে পারবেন?’ কর্কশ স্বরে জানতে চাইলেন রানসাইটার, এখনো নিজেকে তার নিঃশেষিত মনে হচ্ছে। এখনো হাঁফাচ্ছেন, সেই সাথে কাঁপছে পুরো শরীর। ‘ঐ বস্তুটাকে আমার স্ত্রীর মস্তিষ্ক থেকে বিতাড়িত করুন, আর আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনুন—এটা আপনার দায়িত্ব!’
ভন ভলসাঙ একটু শীতল কণ্ঠেই জবাব দিলেন, ‘যদি অবস্থার পরিবর্তন না হয়, আপনার পরিশোধিত অর্থ আপনাকে ফেরত দেওয়া হবে।’
‘অর্থ নিয়ে কে মাথা ঘামাচ্ছে? গোল্লায় যাক অর্থ!’ ২-এ অফিসে পৌঁছে গেছেন তারা। রানসাইটার আবার গদিমোড়া চেয়ারে হাঁসফাঁস করে বসলেন, বুকের ভেতরটা এমনভাবে ধড়ফড় করছে যে কথাই বলতে পারছেন না। ‘এই জোরিকে যদি আপনি তরঙ্গ থেকে সরাতে না পারেন,’ কিছুটা হাঁফাতে হাঁফাতে আর কিছুটা কর্কশ কণ্ঠে বললেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবো আমি। আপনার এই মোরাটোরিয়াম বন্ধ করে ছাড়বো!’
কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ভন ভলসাঙ শ্রবণযন্ত্রটা কানে দিলেন, তারপর মাইক্রোফোনে প্রাণবন্ত কণ্ঠে কথা বলা শুরু করলেন। ‘চলে যাও, জোরি, তুমি তো লক্ষ্মী ছেলে, তাই না?’ এরপর রানসাইটারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘পনেরো বছর বয়সে মারা যায় জোরি, আর তাই সে এত চঞ্চল। সত্যি বলতে কী, এমনটা আগেও হয়েছে; জোরিকে অনেক জায়গাতেই দেখা গেছে যেখানে তার থাকার কথা ছিলো না।’ আবার মাইক্রোফোনে বললেন তিনি, ‘কাজটা কিন্তু একদমই ভালো হচ্ছে না, জোরি। মি. রানসাইটার অনেক দূর থেকে এসেছেন তার স্ত্রীর সাথে কথা বলার জন্য। মিসেস ইলার মস্তিষ্ক-তরঙ্গ তুমি দুর্বল করে দিও না, জোরি—এটা মোটেও কোনো ভদ্র আচরণ না।’ অপর প্রান্তের বক্তব্য শোনার জন্য একটু বিরতি নিলেন। ‘আমি জানি মিসেস ইলার তরঙ্গ দুর্বল।’ আবার শোনার জন্য বিরতি নিলেন তিনি, দেখে মনে হচ্ছে যেন ধৈর্যশীল একটা ব্যাঙ, তারপর শ্রবণযন্ত্র খুলে রেখে উঠে দাঁড়ালেন।
‘কী বললো সে?’ রানসাইটার প্রশ্ন করলেন। ‘ও কি এই তরঙ্গ থেকে বেরিয়ে যাবে? আমাকে ইলার সাথে কথা বলতে দেবে?’
‘জোরির আসলে কিছু করার নেই,’ ভন ভলসাঙ বললেন। ‘দ্বিমুখী রেডিও ট্রান্সমিটারের কথা চিন্তা করুন। একটা আছে আপনার কাছাকাছি, কিন্তু সেটার ক্ষমতা মাত্র পাঁচশো ওয়াটে সীমাবদ্ধ। অন্যটা অনেক দূরে, প্রায় একই তরঙ্গে, এবং ব্যবহার করছে পাঁচ হাজার ওয়াট। সেক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে—’
‘পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থেই প্রতিকূল,’ রানসাইটার বললেন। অন্তত ইলার জন্য তো বটেই। হয়তো বা তার জন্যেও, যদি হোলিসের গা ঢাকা দেওয়া টিপ, প্যারাকাইনেটিসিস্ট, প্রিকগ, রিসারেকটর আর অ্যানিমেটরদের খুঁজে পাওয়া না যায়। এই মুহূর্তে শুধু ইলাকেই হারাননি তিনি, ইলার পরামর্শও হারিয়েছেন। কারণ সে ভালো-মন্দ কিছু বলার আগেই জোরি তার তরঙ্গে অনুপ্রবেশ করেছে।
‘আপনার স্ত্রীকে যখন আবার তার বিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো,’ ভন ভলসাঙ হড়বড় করে বললেন, ‘তাকে আর জোরির কাছাকাছি রাখবো না। আমার প্রস্তাব হলো, যদি আপনি অনুমতি দেন এবং মাসিক বিল আরো বাড়িয়ে দিতে পারেন, তাহলে একটা আধুনিক কামরার ব্যবস্থা করা যায় যেখানে শুধু আপনার স্ত্রীকেই রাখা হবে। ঐ কামরার দেয়াল হবে টেফলন এর প্রলেপ দ্বারা সুরক্ষিত, সকল ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সাইকিক অনুপ্রবেশ প্রতিহত করা যাবে, জোরি বা অন্য যে-কারো কাছ থেকে।’
‘তার জন্য কি এরই মধ্যে অনেক বেশি দেরি হয়ে যায়নি?’ রানসাইটার বললেন, পুরো ব্যাপারটা তাকে যে প্রচণ্ড হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছে সেটা থেকে হঠাৎ হঠাৎ ভেসে উঠে জবাব দিচ্ছেন তিনি।
‘হয়তো তিনি আবার ফিরে আসতে পারবেন। যখন জোরির মস্তিষ্কতরঙ্গের প্রভাব দুর্বল হয়ে যাবে। সেই সাথে অন্য যারা মিসেস রানসাইটারের মস্তিষ্ক-তরঙ্গে অনুপ্রবেশ করেছিলো তার দুর্বল অবস্থার কারণে, তাদেরও। আপনার স্ত্রীর মস্তিষ্ক তরঙ্গ প্রায় সবার কাছেই উন্মুক্ত।’ ঠোঁট কামড়ে ধরলেন ভন ভলসাঙ, বোঝা যাচ্ছে যে পরিষ্কার চিন্তাভাবনা করতে পারছেন তিনি। ‘যদিও সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা তিনি পছন্দ না-ও করতে পারেন, জনাব রানসাইটার। আমরা ধারক বা কফিনগুলোকে—যেহেতু সাধারণ মানুষ কফিন বলতেই বেশি পছন্দ করে তাই কফিনই বলছি—পরস্পরের কাছাকাছি রাখি বিশেষ কারণে। এই অর্ধজীবিতরা পরস্পরের মস্তিষ্কে বিচরণ করতে পারে, আর সেটা তাদের অর্ধজীবনের একমাত্র—’
‘এই মুহূর্তে ওর জন্য পৃথক কামরার ব্যবস্থা করুন,’ রানসাইটার বাধা দিয়ে বললেন। ‘পুরোপুরি অস্তিত্বহীন হওয়ার চেয়ে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকাই ভালো।’
‘তার অস্তিত্ব আছে,’ ভন ভলসাঙ সংশোধন করে দিলেন। ‘শুধু আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। দুটো অবস্থার মাঝে বিস্তর ফারাক।’
‘একধরনের রূপক পার্থক্য,’ রানসাইটার বললেন। ‘আমার কাছে সেটার কোনো গুরুত্ব নেই।’
‘আমি তাকে পৃথক একটা কামরায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করছি,’ ভন ভলসাঙ বললেন। ‘কিন্তু আমার মনে হয় আপনি ঠিকই বলেছেন, আসলেই দেরি হয়ে গেছে। জোরি ওকে দখল করে নিয়েছে স্থায়ীভাবে, অন্তত কিছুটা হলেও। আমি দুঃখিত।’
‘আমিও দুঃখিত,’ কর্কশ কণ্ঠে জবাব দিলেন রানসাইটার।
