অধ্যায় ১৭
আমি উবিক। আমি আদি, আমিই অন্ত। আমি সৃষ্টি, আমিই বিনাশ। আমি অবিনশ্বর, আমি সর্বত্র বিরাজমান। আমি সেই শব্দ যা কখনো উচ্চারিত হয় না, সেই নাম যা সকলেরই অজানা। আমাকে বলা হয় উবিক, কিন্তু সেটা আমার নাম নয়। আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকবো।
.
মোরাটোরিয়াম অধিকারীকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না গ্লেন রানসাইটার। ‘সত্যিই আপনি জানেন না তিনি এই মুহূর্তে কোথায় আছেন?’ মোরাটোরিয়ামের অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী মিস বিসনকে জিজ্ঞেস করলেন রানসাইটার। ‘অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে ইলার সাথে আমাকে ঠিক এই মুহূর্তেই আবার কথা বলতে হবে।’
‘আমি তাকে নিয়ে আসছি,’ মিস বিসন বললেন। ‘আপনি ৪-বি অফিস কামরায় অপেক্ষা করতে পারেন। দয়া করে ওখানেই অপেক্ষা করুন, মি. রানসাইটার। আমি দ্রুত আপনার স্ত্রীকে নিয়ে আসছি। আপনি বরং একটু সুস্থির হয়ে বসুন।’
৪-বি অফিস কামরা খুঁজে বের করে ভেতরে প্রবেশ করলেন রানসাইটার, তারপর পায়চারি করতে লাগলেন অস্থিরভাবে। বেশ খানিকটা সময় পার হওয়ার পর একজন মোরাটোরিয়াম কর্মীকে দেখা গেল, একটা ট্রলিতে করে স্বচ্ছ প্লাস্টিকে বানানো ইলার কফিন নিয়ে আসছে।
‘আপনাকে অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য দুঃখিত,’ মোরাটোরিয়াম কর্মী বললো। তারপর কালক্ষেপণ না করেই দ্রুত আর অভ্যস্ত হাতে যোগাযোগের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো যুক্ত করতে লাগলো সে। কাজ করার সময় গুনগুন করে একটা গানও গাইছে।
অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে কাজটা শেষ করলো সে। পুরো সংযোগটা শেষবারের মতো একবার পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হয়ে মাথা নেড়ে অফিস কামরা থেকে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হলো।
‘এটা তোমার জন্য,’ রানসাইটার তার পোশাকের বিভিন্ন পকেট থেকে খুঁজে খুঁজে অনেকগুলো পঞ্চাশ সেন্টের মুদ্রা বের করে লোকটার হাতে দিয়ে বললেন। ‘তুমি যেরকম দক্ষতার সাথে কাজটা সম্পন্ন করেছ তাতে আমি খুশি হয়েছি।’
‘ধন্যবাদ, মি. রানসাইটার,’ লোকটা খুশি হয়ে বললো। মুদ্রাগুলোর দিকে তাকালো একবার, তারপরই ভ্রু কুঁচকে উঠলো তার। ‘এটা আবার কোন ধরনের মুদ্রা?’ জিজ্ঞেস করলো সে।
পঞ্চাশ সেন্টের মুদ্রাগুলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে খুঁটিয়ে দেখলেন রানসাইটার। নিমেষেই বুঝতে পারলেন মোরাটোরিয়াম কৰ্মী কী বলতে চাইছে।
এই মুদ্রাগুলো যেমন হওয়ার কথা তেমন না। এখানে কার মুখমণ্ডল খোদাই করা? নিজেকেই প্রশ্ন করলেন তিনি। তিনটা মুদ্রার মধ্যে অঙ্কিত এই ব্যক্তি কে? যে ব্যক্তির মুখমণ্ডল থাকার কথা তা নেই এখানে। অথচ চেনা চেনা মনে হচ্ছে। এই ব্যক্তি আমার পরিচিত।
আর তারপরই চেহারাটা চিনতে পারলেন তিনি। এসবের অর্থ কী, আবারও নিজেকে প্রশ্ন করলেন। আমার দেখা সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা। জীবনে ঘটে যাওয়া সব বিস্ময়কর ঘটনারই ব্যাখ্যা একসময় না একসময় ঠিকই পাওয়া যায়। কিন্তু… পঞ্চাশ সেন্টের মুদ্রায় খোদাই করা জো চীপের মুখমণ্ডল?
এটাই তার দেখা প্রথম মুদ্রা যেখানে জো চীপের মুখমণ্ডল খোদাই করা আছে। ভয়ের একটা শীতল স্রোত তাকে বিচলিত করে তুললো। কারণ তিনি নিশ্চিত, যদি পকেটগুলো খুঁজে দেখেন এবং গোল করে প্যাঁচানো নোটের বান্ডিলগুলো পরীক্ষা করেন, তিনি এমন মুদ্রা আর নোট আরো পাবেন।
আর এ ছিলো কেবলই শুরু।
