আয়নাবাড়ি – অভীক দত্ত
প্রথম সংস্করণ: ডিসেম্বর ২০২৫
অনলাইনে পাওয়া এই আয়নাবাড়ি বইটার সফট কপিতে কিছু পাতা মিসিং ছিল। আমরা যদি অন্য কোনো ফাইলে সেসব পেয়ে যাই, তাহলে যুক্ত করে দেয়া হবে।
.
উৎসর্গ
যাদের কোনো দেশ নেই
.
ফ্ল্যাপের লেখা
“স্বাধীনতা”র নামে বাংলাদেশে উত্থান হয়েছে আই এস আই প্রভাবিত শক্তির। ক্রমাগত দেশের মত ভারত বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা চলছে সে দেশে। “স্বাধীনতা”র ফলে কী কী পরিবর্তন হল? যারা স্বাধীনতা যোদ্ধা ছিল, তারা কি এই জন্যই লড়াই করেছিল? জেল থেকে যেসব অপরাধীরা বিনাশর্তে মুক্তি পেল, তারাই বা কী করল? এসব বিষয় ধরা রইল এই বইটিতে। জেল থেকে দাগী আসামীরা হঠাৎ ছাড়া পেয়ে গেলে সমাজে ঠিক কী ঘটে? আর যাদের অপরাধ শুধুমাত্র একটি ফেসবুক পোস্ট! দিনের পর দিন অন্ধকার চার দেওয়ালে আটকে রেখে কেন কণ্ঠরোধ করা হয় তাদের? কল্যাণকামী রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা আসলে ঠিক কোনদিকে ঝুঁকে থাকে? একদিকে প্রবল জনবিস্ফোরণ, অন্যদিকে রাজনীতির নিষ্ঠূর জাঁতাকল। এসব নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে অবশেষে যখন পছন্দের রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে—তখন সত্যিই কি সব অভীষ্ট মেলে? সব না-পাওয়া কি জাদুমন্ত্রের মতো হঠাৎ একলহমায় পাওয়া হয়ে যায়? যে স্বপ্নের জন্য লড়াই, তা কেন বারবার রং বদলায়? স্বাধীনতা যাকে একদা হাতছানি দিয়ে ডেকেছিল, আজ কেন সে-ই আচমকা পরাধীন! রাষ্ট্র ঠিক কোন মুহূর্তে নাগরিকের গোপনীয়তার ওপর তার বরফশীতল হাত রাখে? কেন নিঃশব্দে কাউকে কাউকে চিরকালের মতো চুপ করিয়ে দেওয়া হয়! প্রশ্ন অনেক কিন্তু তাদের উত্তর কোথায়? বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন এবং তারপর উপমহাদেশের উত্তাল ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ঠিক কী হবে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং-এর তরুণ অফিসার বিদূর ভরদ্বাজের পরবর্তী পদক্ষেপ? অভীক দত্ত-র কলমে এক দুর্ধর্ষ রাজনৈতিক থ্রিলার – ‘আয়নাবাড়ি’!
ভূমিকা
যেদিকে চোখ যায়, একটুও আলো নেই কোথাও। এই প্রবল অন্ধকারে একটু পরেই জলা জমি শুরু হল। জলে লাশ পড়ে থাকলেও বোঝা সম্ভব নয়।
প্রথমে গোড়ালি, একটু পরেই হাঁটু থেকে জল প্রায় কোমর সমান হয়ে এল। এপারের আলো নিভে গেছে সেই কখন। ও পার থেকেও আর কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না। মা ফিসফিস করে বলল, ‘কী গো, ফিরে যাবে? চলো না’।
বাবা বলল, ‘চলো। কোনোদিকে দেখতে হবে না। ভয় পেও না। চলো’।
পায়ে কি কিছু একটা জড়িয়ে ধরেছে? রাখির বোধশক্তি হারিয়েছে। হেঁটেই চলেছে উদ্দেশ্যহীনের মতো। কোথায় যাচ্ছে তারা?
বাবার হাঁফ ধরে যাচ্ছে। তার শৌখিন বাবা। বাজারে সব থেকে ভালো জামাটা তার জন্য কিনে দেওয়া বাবা, তাকে ছোটো থেকে বুক দিয়ে আগলে রাখা বাবা। একটা গোটা জীবন শুধু তাদের জন্য নিংড়ে দেওয়া তার বাবা মা…
আরও কিছুটা যাবার পর বাবা দাঁড়িয়ে পড়ল। বিহ্বল কণ্ঠে বলল, ‘আমরা কি পথ হারিয়েছি?’
কথাটা বলেই বাবা কেঁদে উঠল…
ধন্যবাদান্তে,
অভীক দত্ত
কাহিনির সমস্ত চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই।
সমস্তটাই সম্পূর্ণ কাল্পনিক।






Leave a Reply