২০
॥ দিল্লি ॥
বিদুর চুপ করে বসে আছেন তার ডেস্কে। এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়া হয়ে গেছে। সোহরাবকে দিল্লিতে তুলে আনা হয়েছে। ইন্টারোগেশন চেম্বারে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
ডেস্কে বসে কিছুক্ষণ মনিটরে সোহরাবকে দেখলেন তিনি। আঠাশ-উনত্রিশ বছরের ছেলে হবে। চোখ মুখ দেখলে করুণা হবে। যেন খুব কষ্টে আছে। অসহায় মুখ। বিদুর উঠে ইন্টারোগেশন চেম্বারে ঢুকে সোহরাবের সামনে বসলেন।
সোহরাব তার দিকে ভীত চোখে তাকাচ্ছে। বিদুর বাংলাতে বললেন, ‘সোহরাব আলম, তোমার বাড়ি কোথায়?’
সোহরাব বলল, ‘কুমিল্লা, বাংলাদেশ।’
বিদুর বললেন, ‘ইন্ডিয়াতে কী করতে এসেছিলে?’
—ছবি তুলতে।
—কীসের ছবি?
—স্টেশনের ছবি, ট্রেনের ছবি, মানুষের ছবি। রাস্তাঘাট, যেখানে যা ছবি তোলা যায়, সব।
বিদুর বললেন, ‘তোমার ফোনটা কোথায়?’
—ওদের কাছে।
বিদুর হাত নেড়ে সোহরাবের ফোন আনিয়ে গ্যালারি খুললেন। গাদা গাদা ছবি সত্যিই। বসে বসে সব স্কুল করে দেখে যেতে লাগলেন। সোহরাব অধৈর্য হয়ে বলল, ‘জনাব, আমার খিদে পেয়েছে।’
বিদুর বললেন, ‘কী খাবে? রুটি না ভাত?’
সোহরাব বলল, ‘ভাত হলে ভালো।’
বিদুর বলে দিলেন।
ছবি দেখতে দেখতে একটা ছবিতে আটকে গেলেন। জুম করে ছবিটা দেখে বললেন, ‘এটা কেপিকে, ইন্ডিয়া না। কেপিকে কবে গেছিলে?’
সোহরাব চুপ করে রইল। ঘাড় ঘুরিয়ে চেম্বার দেখার দিকে মনোনিবেশ করল।
বিদুর বললেন, ‘বাবা সোহরাব, চুপ করে থেকে কোনো লাভ নেই। যা জান, বলে ফেলো। তোমারই লাভ। মারধোর খেতে ভালো লাগবে? এখানে তোমার ছাল ছাড়িয়ে ডুগডুগি বাজানো হবে, তুমি নিজেও জান না কী হতে পারে।
সোহরাব বলল, ‘আমি যাই নাই। আমার ফোনে ছবিটা ছিল। যে ফোন আমায় দিছিল, সে গেছিল হবে।’
বিদুর বললেন, ‘কে গেছিল?’
সোহরাব বলল, ‘মোস্তাক চাচায়।’
বিদুর পা নাচাতে লাগলেন, ‘মোস্তাক চাচা। গুড়, এটা আমার মাথায় আসা উচিত ছিল। মোস্তাক চাচা কাকে কাকে চেনে?’
সোহরাব বলল, ‘চাচা খুব গম্ভীর মানুষ। সব কথা বলে না। যখন যেটা বলত, আমি করতাম। আলাদা করে কিছু করি নাই। আমার বুদ্ধি কম। আমি চাচার চাকরের মতো ছিলাম জনাব।’
বিদুর সিগারেট ধরালেন, ‘তোমার বুদ্ধি কম না সোহরাব। তোমার যথেষ্ট বুদ্ধি আছে। বুদ্ধি না থাকলে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসে এত অনায়াসে এত ছবি তোলা যায় না। তুমি তোমার জীবনকাহিনী শোনাও।’
সোহরাব বলল, ‘আমি এতিম। কুমিল্লা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করসি। ষোলো বছর বয়সে আমায় সিলেট মাদ্রাসায় নিয়া গেল।’
বিদুর বললেন, ‘কে নিয়ে গেল?’
সোহরাব বলল, ‘তা জানি না জনাব। অনেকের লগে আমিও গেছিলাম। আমার বয়সী অনেকে ছিল। ওখানে আমাগো ক্লাস করানো হইত। আমার শক্তি বেশি, আমি মাইর ধোর ভালো পারতাম দেইখা ওরা আমারে নেপাল নিয়া গেছিল। ওরে আল্লা সে কী ট্রেনিং আপনারে কী কমু! গা হাত-পা ব্যথা হইয়া পইড়া থাকতাম। তারপর ওরা আমারে আবার সিলেটে নিয়া গেল। কিছুদিন ওখানে কামলার কাম করসি। ওখানেই মোস্তাক চাচা আমারে ডাকল। বলল আমারে নিয়া মাঝে মাঝেই ইন্ডিয়া যাব। আমি খুশি হইলাম। মোস্তাক চাচা অন্য নামে আমাগো পাসপোর্ট ভিসা বানাইল, ভেলোরে ডাক্তার দেখাইতে যাবার নাম কইরা। আমরা ব্যাঙ্গালোরেও ছিলাম। অনেক ঘুরসি। মাইসোর গেসি।’
বিদুর ছবিগুলোর সঙ্গে সোহরাবের বয়ান মেলাচ্ছিলেন। বললেন, ‘মোস্তাক চাচা কী কাজ করত তোমার কোনো ধারণা আছে?’
সোহরাব বলল, ‘বদ লোক ছিল। সিলেটে রেপ করতে গিয়া ধরা খাইসিল। ওই রাগেই তো ওরে ইন্ডিয়া পাঠাল সবাই। কইল ওখানে থাকলে সংগঠনের বদনাম হইতাসে।’
বিদুর বললেন, ‘আর তুমি? তোমার নামে এ-রকম কোনো চার্জ আছে?’
সোহরাব জোরে জোরে মাথা নাড়ল, ‘আমার নামে কিছু নাই জনাব। আমি অগো কথা শুইনা কাম করি।’
বিদুর বললেন, ‘তুমি ইন্ডিয়ানদের শত্রু বলে মনে কর?’
সোহরাব বড়ো করে মাথা নাড়ল, ‘জি, মনে করি।’
বিদুর হাসলেন, ‘গুড। তোমার ভাত আসছে। খেয়ে নাও।’
সোহরাব আগ্রহ নিয়ে ভাত খেল। বিদুর ওর সামনেই বসেছিলেন। খাওয়া হয়ে গেলে সোহরাবকে হাত মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হল।
খেয়ে এসে আবার ওকে বসানো হল।
সোহরাব দাঁত বের করে বলল, ‘ঘুমাতে পারলে ভালো হত। পরেশান লাগতাসে।’
বিদুর এক চড় মারলেন সোহরাবকে। আরেকটু হলে সোহরাব চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছিল। হতভম্ব হয়ে গেছিল খানিকটা।
বিদুর হাঁটতে হাঁটতে চেম্বার থেকে বেরিয়ে গেলেন।
২১
।। ঢাকা।।
সোহরাওয়ারদি উদ্যান। ঢাকা। দুপুর একটা পঞ্চান্ন
রাখি একটা বেঞ্চে চুপ করে বসে আছে। মাঝে মাঝে উৎসুক হয়ে ঘড়ি দেখছে।
তার ফোন বেজে উঠল। রাখি দেখল ফারজানা ফোন করছে। ধরল সে, ‘বল।’
ফারজানা বলল, ‘কলেজ আসিসনি কেন? আজও ক্লাস হয়নি। তুই বাসায় আছিস?’
রাখি বলল, ‘না। বাসায় নেই। পরে কল দিচ্ছি। রাখি এখন।’
ফারজানা অবাক হয়ে, ‘কোথায় গেছিস?’
বলতে যাচ্ছিল। রাখি কেটে দিল।
তার রীতিমতো হৃদকম্প হচ্ছে। তৌফিক বেঁচে আছে, এটাই তার কাছে সব থেকে বড়ো কথা। রাতে একফোঁটা ঘুমোতে পারেনি সে। আগের স্মৃতি বারবার মাথার মধ্যে চলে আসছে।
ওই দূরে একটা শীর্ণকায় ছেলে ধীর পায়ে হেঁটে আসছে। রাখি দৌড়োল।
তাকে দেখে তৌফিক ম্লান হেসে বলল, ‘আই অ্যাম অ্যালাইভ।’
রাখির চোখে জল চলে এসেছিল। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘এখন ঠিক আছ?’
তৌফিক একটু পা টেনে হাঁটছে। কাছে বেঞ্চের উপর বসে পড়ে বলল, ‘জানি না।’
রাখি বলল, ‘জান না মানে?’
তৌফিক প্যান্টটা একটু তুলে দেখালো। হাঁটুর নীচটা কালশিটে পড়ে গেছে। রাখি আঁতকে উঠল। তৌফিক বলল, ‘আমায় যে লোকটা মারত, তাকে আমি চিনি। কোনো অবস্থাতেই আমি ওই লোকটাকে বাঁচিয়ে রাখবো না। যদি মেরে আমার নিজেকে ফাঁসিতে যেতে হয়, আমি তাই যাব। কিন্তু ওই লোকটাকে আমি ছাড়ব না।’
রাখি চুপ করে রইল। তৌফিক বলল, ‘কী হল?’
রাখি বলল, ‘এতদিন পর দেখা হচ্ছে, তুমি শুধু ফাঁসি, মার, এসব কথাই বলবে?’
তৌফিক বলল, ‘আমার কষ্ট সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণা নেই রাখি।’
রাখি বলল, ‘আছে। আমি জানি কী হয়েছিল। কিন্তু আমার এখন এই কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।’
তৌফিক বলল, ‘ঠিক আছে। বলব না। তোমার খবর কী?’
রাখি বলল, ‘কলেজের অবস্থা ভালো না। রাশেদের দলবল খুব বাড়াবাড়ি শুরু করেছে। স্টুডেন্টদের টেনে নিয়ে গিয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করাচ্ছে, নিজেদের কাজ করাচ্ছে, ক্লাস হওয়া মাথায় উঠেছে। রুমান নাও বাঁচতে পারে।’
তৌফিক একটা সিগারেট ধরালো। অনেকক্ষণ ধরে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বলল, ‘রুমান কি তোমার নতুন প্রেমিক? বারবার ওর কথা বলছ কেন?’
রাখি বলল, ‘বন্ধু। প্রেমিক আর বন্ধুর মধ্যে তফাৎ হয়।’
তৌফিক বলল, ‘আমি এমনি জানতে চাইলাম। হতেই পারে তুমি ভেবেছিলে আমি আর ফিরব না, তখন রুমান সেই ফাঁকা জায়গা দখল করে নিল। হতে পারে না?’
রাখি আহত কণ্ঠে বলল, ‘এতদিন পরে এসে তোমার এই কথা মনে হল তৌফিক?’
তৌফিক মাথা নাড়ল, ‘হ্যাঁ, আমি এখন অনেক টক্সিক হয়ে গেছি। ফ্যাসিস্ট সরকার আমায় টক্সিক বানিয়ে দিয়েছে। রোজ রাতে মেরেছে, জলের নামে কীসব বিস্বাদ জল খাওয়াত, কতবার বমি করে সেই বমিতেই পড়েছিলাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ইলেকট্রিক শক দিয়েছে মনের সুখে। এত কিছুর পর লোকে টক্সিক হবে না তো কী হবে রাখি?’
রাখি এবার আর কান্না আটকাতে পারল না। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল, ‘ওহ, গড, আমি ভাবতেই পারছি না।’
তৌফিক বলল, ‘গডকে ডাকার দরকার নেই। আপাতত তুমি রুমানের সঙ্গে তোমার রিলেশনটা ক্লিয়ার করো।
রাখি বলল, রুমান মনে হয় মরে গেছে এতক্ষণে। আমি আর কোনো খবর পাচ্ছি না। এই কদিনে এরকমই হল। কত চেনা-জানা মানুষ মারা গেল। রুমান মার খেয়ে মরল। এখন আর সম্পর্কের ইতিহাস খুঁড়ে লাভ আছে তোমার?’
তৌফিক বলল, ‘লাভ-ক্ষতি নিয়ে ভাবতে তো হবেই। এখন আমাকে দেশের হাল ধরতে হবে বাকিদের সঙ্গে। তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, থাকবে নাকি রুমানের ব্যাপারে তোমার স্টেটমেন্টের উপর সেটা ডিপেন্ড করবে, তাই না?’
রাখি বলল, ‘বন্ধু, বন্ধুই ছিল। এর বেশি কোনোদিন কিছু ভাবিনি। প্লিজ তৌফিক, মাথা ঠান্ডা করো। তুমি এ-রকম ছিলে না। মনে করে দেখো। তুমি একটা স্যুইট ছেলে ছিলে।’
তৌফিক গলা তুলল, ‘সেসব হিস্ট্রি। আমি পালটেছি। এতদিন পর কাল তোমায় ফোন করলাম, বিন্দুমাত্র উৎসাহ দেখলাম না, শুধু রুমানের কথা। তখনই সন্দেহ হয়েছে আমার।’
রাখি বলল, ‘সন্দেহের কিছু নেই তৌফিক। আমাকে সন্দেহ কোরো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমার জন্য এতদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। আজকের দিনটা এভাবে নষ্ট কর না।’
তৌফিক ফোন বের করে একটা নাম্বার ডায়াল করে ফোন কানে দিল, ‘হ্যাঁ, রুমানের কী হয়েছিল?… হ্যাঁ… বেঁচে আছে?… ওকে…. ওকে…’
ফোন রেখে তৌফিক উঠে দাঁড়ালো, ‘চল, রুমানের সঙ্গে দেখা করে আসি।’
রাখি শিউরে উঠল, ‘না, আমার হাসপাতালে যেতে খুব ভয় লাগে। আমি যাব না।’
তৌফিক বলল, ‘আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে গেলে তো যেতেই হবে। চলো। কথা বাড়িও না।’
রাখি চুপ করে গেছে।
আগের তৌফিকের সঙ্গে এই তৌফিককে সে কিছুতেই মেলাতে পারছে না।
২২
॥ দিল্লি।
দু-জনে ইন্ডিয়া গেটের পার্কে চুপ করে বসে আছে। এখন বিকেল।
আজ সুহাস বাইক নিয়ে এসেছে।
তাকে খানিকটা অবাক করেই সুহাস দীপ্তির হাত ধরে বলল, ‘তোমাকে একটু চিন্তিত লাগছে। কিছু হয়েছে?’
দীপ্তি বলল, ‘না না। চিন্তার কিছু নেই।’
সুহাস বলল, ‘আমি ভাবলাম কাল রাতের কথা ভাবছ নাকি। ভয়ের ব্যাপার তো ছিল। ছেলেগুলো যেরকম অ্যাগ্রেসিভ হয়ে গেছিল।’
দীপ্তি বলল, ‘হ্যাঁ, শহরটা এ-রকমই হয়ে গেছে। একটু কিছু হলেই বুক-টুক ঠান্ডা হয়ে যায়।’
সুহাস বলল, ‘বসকে বলে মর্নিং শিফটগুলো একটু পরে যাওয়া যায় না? সকালের দিকেও তো রিস্ক থাকে।’
দীপ্তি বলল, ‘গাড়ি পাঠায়। গাড়ি না পাঠালে আমি বলতাম।’
সুহাস বলল, ‘ড্রাইভার? ড্রাইভার কি ভরসা করার মতো?’
দীপ্তি হেসে ফেলল, ‘হ্যাঁ। কিছু লোককে তো ভরসা করতে হবে, তাই না?’
দুটো লোক তাদের দিকে আড়চোখে দেখছিল। দীপ্তি সেটা দেখে উঠে দাঁড়াল, ‘চলো।’
সুহাস অবাক হল, ‘কী হলো?’
দীপ্তি বলল, ‘কিছু না। চলো তোমার বাইকে ঘুরব।’
সুহাসও উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করল। মাঝেমাঝে থমকে চারদিক দেখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হল। বাইক পারকিংটা অনেক দূরে। হাঁটতে হাঁটতে সেদিকে যাবার সময় দীপ্তি দেখল দু-জন তাদের পেছনে আসতে শুরু করেছে।
সুহাসের হাত শক্ত করে ধরল সে।
সুহাস বলল, ‘তুমি কি কোনো ভয় পাচ্ছ?’
দীপ্তি বলল, ‘না জলদি চলো।’
বাইকের কাছে এসে গেছিল তারা। সুহাস বাইকে উঠে স্টার্ট দিল। দীপ্তি সুহাসের পেছনে বসে হেলমেট পরে নিল। সুহাস বলল, ‘কোথায় যাবে?’
দীপ্তি বলল, ‘আমার পিজিতেই চলো।’
সুহাস বলল, ‘শিয়োর?’
দীপ্তি বলল, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, চলো।’
বাইক চলতে শুরু করল। দীপ্তি লুকিং গ্লাসে দেখল তাদের কেউ পিছু নেয়নি। সে খানিকটা স্বস্তি পেল। সুহাসের কোমর জড়িয়ে ধরল।
খানিকটা পথ যাবার পর সুহাস বাইক দাঁড় করিয়ে বলল, ‘হোটেল যাবে?’
দীপ্তি আরেকবার পেছনে দেখে নিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে। চলো।’
সুহাস বলল, ‘শিয়োর তো? রাগ করে বলছ না তো?’
দীপ্তি বলল, ‘না না। ভালো কোনো হোটেলে চলো। আমি পে করব। ত
সুহাস কোনো উত্তর না দিয়ে বাইক স্টার্ট দিল।
কিছুক্ষণ পর একটা পাঁচতারা হোটেলে ঢুকল তারা। চেক ইন করে রুমে ঢুকে খাটে
শুয়ে পড়ল দীপ্তি, ‘উফ, এ-রকম হোটেলে হোটেলে যে কতদিন ঘুরব?’
সুহাস তার পাশে শুয়ে পড়ল, ‘আমরা আলাদা একটা ঘরে শিফট করে যেতেই পারি।’
এসির তাপমাত্রা আরও কমালো দীপ্তি। ঘর শীতল হতে শুরু করেছে।
সুহাস বলল, ‘গরম লাগছে তোমার?’
দীপ্তি হাসল, ‘হ্যাঁ, গরম তো লাগছে। তোমার লাগছে না?’
পরমুহূর্তেই সুহাস এগিয়ে এসে দীপ্তির ঠোঁটে চুমু খেতে শুরু করল। হোটেলের রুমে ঢোকার প্রথম মিনিট সাতেক যেভাবে কাটে সেভাবেই কাটল। উত্তেজনা প্রশমিত হলে সুহাসকে জড়িয়ে ধরে সে শুয়ে রইল কিছুক্ষণ। সুহাসকে কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করছিল তার। বলতে গিয়েও বলতে পারল না।
সুহাস দীপ্তিকে খানিকটা পড়তে পারছিল যেন, বলল, ‘দীপ্তি, আমার আজকাল মনে হয় তুমি ভীষণ কোনো চাপে আছ। এটা কি কাজের চাপ? খুব চাপ যাচ্ছে? দেখো, সেরকম হলে তুমি চাকরিটা ছেড়ে দাও।’
দীপ্তি একটু বিরক্তির গলাতেই বলল, ‘এককথা বার বার বলার দরকার নেই সুহাস। পরে দেখছি।’
সুহাস বলল, ‘রেগে গেলে?’
দীপ্তি বলল, ‘না। রাগিনি। ভালো লাগছে না। চুপ করো।’
সুহাস চুপ করে গেল।
মিনিট পাঁচেক দু-জনেই চুপ করে রইল। দীপ্তি টিভি ছাড়ল। খবর দেখাচ্ছে। শ্রীনগরে একটা ব্লাস্ট হয়েছে। সাতজন নিহত।
সে উশখুশ করতে শুরু করল, ‘বেরোতে হবে।’
সুহাস বলল, ‘মানে? এতগুলো টাকা দিয়ে ঘর নিলে, বেরোবে মানে? কী হয় তোমার?’
দীপ্তি সঙ্গে সঙ্গে শান্ত হয়ে গেল। বলল, ‘ওকে ওকে। এখন না। রাত হোক। ঠিক আছে।’
সুহাস বলল, ‘আমাকে কি সত্যিই কিছু বলা যায় না? কী হয়েছে কী তোমার?’
দীপ্তি বলল, ‘কিছু হয়নি। এসো।’
সুহাসকে জড়িয়ে ধরল সে।
* * * *
সন্ধ্যে সাতটা।
বিদুরের চেম্বারে আর পি ঢুকে দেখলেন বিদুর চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। আর পি গলা খাঁকরে বললেন, ‘স্যার।’
বিদুর চোখ বন্ধ থাকা অবস্থাতেই বললেন, ‘আরিফকে সরানো সত্ত্বেও শ্রীনগরে ব্লাস্ট আটকানো গেল না।’
আরপি বললেন, ‘হ্যাঁ স্যার। আরিফ ওদের দলে ছিল নাকি বুঝতে পারছি না। নাকি আরিফকে সরানোটা ওদের প্ল্যানেই ছিল।’
বিদুর চোখ খুলে চেয়ারে ঝুঁকে বসলেন, ‘কমপ্লিট ইন্টেলিজেন্স ফেইলিয়োর এটাকে বলে। আগের দিন জিজ্ঞেস করছিলে না বাংলাদেশে আমরা ফেইল করেছি নাকি? কাশ্মীরে আমরা ফেল করছি। প্রত্যেকটা দিন। ওরা আমাদের বলে বলে গোল দিচ্ছে। এত কিছু অত্যাধুনিক টুলস আমাদের কাছে আছে, তবু কিছু করতে পারছি না। কেন?’
আর পি বললেন, ‘কারণ লোকেরা আমাদের সঙ্গে নেই। কাশ্মীরের বেশিরভাগ মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে।’
বিদুর আর পির দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘এই কথাটা লিখে দিতে পারবে? বা ভিডিয়ো রেকর্ডিং করে? আমি মিনিস্টার সাহেবকে দেখাবো।’
আরপি বললেন, ‘পাগল নাকি? এসব কেন বলতে যাব?’
বিদুর বললেন, ‘একজ্যাক্টলি। সব কথা বলা যাবে না। কিন্তু সত্যিটা সবাই জানে। কাশ্মীর ব্লাস্টটা জাস্ট আরেকটা ব্লাস্ট বলে কিন্তু আমি মনে করছি না আর পি। আমরা আরিফকে পেলাম, তারপর ওরা এটা করল। তোমাকে যারা ফোন করে ওপার থেকে তাদের জিজ্ঞেস করবে তো, কেন ওরা এ-রকম করল?’
আরপি বললেন, ‘আমাকে কেন বলবে স্যার?’
বিদুর বললেন, ‘বলতে পারে? নাড়িয়ে দেখবে। যা পাওয়া যায়। আমাদের কাজ হচ্ছে যেখানে যা গাছ আছে, নাড়িয়ে দেখা, যদি দু চারটে ফুল পড়ে, সেটাই লাভ। মিনিস্টার সাহেব জানিয়েছেন কমপ্লিট ফেইলিয়োর কেন হল চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তাকে রিপোর্ট দিতে হবে। কিছু তো একটা বলতে হবে। আমার ক্লু লেস লাগছে। অন্য উইংগুলোর সাহায্য আমি নিতে চাইছি না আর পি। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। আমার বিশ্বাস যেন অটুট থাকে, সেই চেষ্টা কোরো।’
‘স্যার আপনি জানেন আমি আপনাকে নিজের দাদার মতো দেখি। আই উইল নট লেট ইউ ডাউন।’
‘জানি, জানি তুমি পারবে। যাই হোক। অন্য কথা বলি। দীপ্তি কিন্তু একটু বেশিই বাইরে যাচ্ছে। ও কাজটা ঠিক করে করছে তো?’
আর পি চেয়ারে বসে বললেন, ‘একটানা কাজ করছে স্যার। কী করে বেশি জোর দিই? আপনারা ডিসিশন নিয়েছেন আমার কাজে খুব বেশি লোক দেওয়া যাবে না, ওদেরও তো শরীর আছে।’
বিদুর বললেন, ‘সেটা অন্য কথা। মেয়েটা কাল ওর বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে একটা হোটেলে গেছিল, আজকেও গেছে। ছেলেটার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করছি। কাজ চলছে। কিন্তু আই এস আই যদি তোমার হদিস পায়, তাহলে ওদের হদিসও পাবে, কী করে কী করবে কিছু ভেবে দেখেছ?’
আর পি বললেন, ‘আপনি কী সাজেস্ট করছেন?’
বিদুর বললেন, ‘দীপ্তিকে তুলে নিচ্ছি। আরেকটা ছেলেকে দিচ্ছি। দীপ্তি ইজ নট সুইটেবল ফর দিস পজিশন।’
আর পি মাথা নাড়লেন, ‘না না স্যার। এত তাড়াতাড়ি তুলবেন না। আমি এমনিতেই কম লোকের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছি, এর মধ্যে আবার দীপ্তিকে তুলে নিলে কী করে হবে?’
বিদুর বললেন, ‘তাহলে ওকে ডেকে ওকে নিয়ে বোসো। ওর সঙ্গে কথা বলো। বলো এত ঘনঘন হোটেলে গেলে হবে না।’
আর পি বললেন, ‘কাজের সময়ের বাইরে কে কী করবে তা নিয়ে আমরা কেন মাথা ঘামাব স্যার?’
বিদুর ঠান্ডা গলায় বললেন, ‘কারণ এই ডিপার্টমেন্টে একটা পাতা নড়লেও আমার সেটা জানা দরকার। এতগুলো মানুষের জীবন একটা সুতোয় বাঁধা। একজনের কিছু হলে বাকিদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। হয় তুমি বলো, নয় আমি ডেকে বলব। দেখো তোমার কোনোটা ঠিক লাগছে।’
আর পি চুপ করে গেলেন। দীপ্তিকে ফোন করলেন। ফোন বেজে গেল।
বিদুর বললেন, ‘হোটেলে আছে। ওকে আপাতত ট্রান্সফার করে দিচ্ছি। আমাদের অফিসে থাকুক। তুমি আরেকজনকে নিয়ে নাও।’
আর পি বললেন, ‘কাকে দেবেন?’
বিদুর বললেন, ‘শক্তি নারওয়াল।’
আর পি বললেন, ‘শক্তি রাত জাগতে পারবে?’
বিদুর বললেন, ‘নিশ্চয়ই পারবে। ওকে নাও। দীপ্তি কলব্যাক করলে বলে দিও কাল আমার অফিসে এসে জয়েন করতে।’
আর পি মাথা নাড়লেন, ‘ওকে স্যার।’
২৩
।। ঢাকা।।
সি এন জিতে রাখি সারা রাস্তা কাঁদল। বাড়ি ফেরার আগে ভালো করে চোখ মুখ মুছে নিল।
এই তৌফিককে সে চেনে না। হাসপাতাল অবধি প্রবল অসভ্যতা করে গেল। সে কিছুতেই যেতে চাইছিল না। টানতে টানতে নিয়ে গেল। রুমানকে আই সি ইউতে রাখা হয়েছে। তৌফিক রিসেপশনিস্টের সঙ্গে ঝামেলা শুরু করে দিয়েছে, ‘তুই জানিস আমি কে? আমি মেধাবী। আমাকে আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। আমার দরকার আছে রুমানের সঙ্গে, নিয়ে চল।’
রিসেপশনিস্ট যতই বলে পেশেন্টের এখনও জ্ঞান ফেরেনি, তৌফিকের অসভ্যতা বেড়েই চলল। একটা সময় কলেজ থেকে রাশেদদের গ্রুপের কয়েকজন এল। তাদের সঙ্গে তৌফিক হাসাহাসি করতে শুরু করল। পেশেন্ট ভরতি হাসপাতাল তাদের চটুল গল্পে যেন স্তম্ভিত হয়ে গেল। একটা সময় তৌফিক হাত নেড়ে তাকে ডেকে বলল, ‘রাশেদ বলছে তুই নাকি সারাক্ষণই রুমানের সঙ্গে থাকতিস?’
রাখি রাশেদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বন্ধুদের যেমন গ্রুপ হয়, রুমান তেমন আমাদের গ্রুপে ছিল।’
তাকে চমকে দিয়ে তৌফিক তার গায়ে থুতু দিয়ে বলল, ‘যা মাগী, তোর সঙ্গে আর কোনোদিন কথা বলব না। যা বেরিয়ে যা।’
রাখি ছুটে বেরিয়েছে হাসপাতাল থেকে। সারা রাস্তায় কেঁদেছে। বাড়ি ফিরতে মা তাকে দেখে বলল, ‘কী হল?’
রাখি বাথরুমে ঢুকে গেল, ‘কিছু হয়নি।
মা বলল, ‘সব ঠিক আছে তো?’
রাখি বলল, ‘হ্যাঁ।’
শাওয়ার চালিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল সে। কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না তার। তৌফিক এতটা পাল্টে যেতে পারে?
বেরিয়ে এসে দেখল ফোন বাজছে। ফারজানা ফোন করছে। ধরল সে, ‘বল।’
‘তুই তৌফিক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলি?’
‘হুঁ। তুই কী করে জানলি?’
‘গোটা কলেজ জেনে গেছে। তৌফিক ভাই কলেজে এসেছে। এসে আমাকে ধরেছিল। জিজ্ঞেস করল তোর সঙ্গে রুমানের কিছু ছিল নাকি।’
‘তুই কী বলেছিস?’
‘কী বলব? বললাম আমার বন্ধু ছিল। বিশ্বাস করল না। গালাগালি দিতে শুরু করল। ত রাখি বলল, ‘জানি না কী হয়েছে ওর। কেমন যেন হয়ে গেছে।’
‘আমি বলছি যা হয়েছে ভালো হয়েছে। তৌফিকভাইকে তোর বাবা এমনিতেও মানত না। এখন আর কোনো ঝামেলা নেই। তোরা কি ইন্ডিয়া চলে যাবি?’
রাখি অবাক হল, ‘মানে? এসব কে বলছে?’
‘অনেকেই চলে যাচ্ছে। শুনিসনি কিছু?’
‘কখন শুনব বল? আমার তো সব শেষ হয়ে গেল আজ। এ-রকম হতে পারে আমি ভাবতেও পারিনি।’
‘নিপুণভাইও তো ফিরে এসেছে। পারলে একবার নিপুণ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে দেখ। যদি তৌফিকভাইকে বোঝাতে পারে।’
‘আমি কারো সঙ্গে আর কোনো কথা বলব না। রাখছি। শরীর খারাপ লাগছে।’
‘ঠিক আছে।’
ফোন রাখল রাখি। মা ঘরের বাইরে থেকে জিজ্ঞেস করল, ‘খাবি কিছু?’
‘না। আমি একটু শোবো। শরীর ভালো লাগছে না। আলো বন্ধ করে দিয়ে যাও।’
মা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বলল, ‘তুই আর তোর বাবা না ফেরা অবধি চিন্তা করে আজকাল। যা শুরু হয়েছে সবখানে। আমাদের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে গেছে।’
রাখি ক্ষীণস্বরে বলল, ‘কেন? বাবা কোথায় আছে?’
‘ব্যবসার কাছে পুরান ঢাকায় গেছে। তুই শো। আমি ফোন করি।’
‘কর।’
মা দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে গেল।
রাখি তার ফোনে তৌফিকের পুরনো মেসেজগুলো দেখতে শুরু করল। কবিতা ভালোবাসত ছেলেটা। কত কবিতা পাঠাতো। নিজে আবৃত্তি করেও কত কবিতা পাঠিয়েছে এককালে। প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ব্যঙ্গ করে একটা কবিতা লিখেছিল ফেসবুকে। তারপরেই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাখি সেই দিনগুলোর কথা কোনোদিন ভুলবে না। বার বার তৌফিকের নম্বরে ফোন করে গেছে। ফোন সুইচড অফ বলেছে। একদিন ফোন রিং হল। এক ভারি গলা ফোন রিসিভ করেই বলল, ‘এই নাম্বারে কোনোদিন ফোন করবে না।’
রাখি দিশেহারা হয়ে গেছিল। এত ভালোবাসত যাকে, সে এ-রকম হয়ে গেল?
বমি আসছে। রাখি উঠে বাথরুমে দৌড়োল…
* * * * *
পারভেজের ছিনতাই হয়েছে। হাতের মধ্যে ছুরি মেরেছিল ছিনতাইবাজরা। পারভেজের ফ্ল্যাটে ফেরার সময়, তার হাত দেখে তার স্ত্রী চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে দিয়েছিল। ফ্ল্যাটের কয়েকজন মিলে পারভেজের হাতে ব্যান্ডেজ করিয়ে নিয়ে এসেছে।
সোমনাথ পারভেজকে দেখতে গেছেন। পারভেজ খাটে শুয়ে কাতরাতে কাতরাতে বলল, ‘দাদা, দেশের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। ভাবতে পারছেন? দিনের বেলা আমায় ছুরি মেরে চলে গেল? এবার কী হবে? কাউকেই তো চিনলাম না। আরও ভয়ের কথা শুনলাম, শহরের অনেক জায়গাতেই রাতে ডাকাতি হচ্ছে। কী হবে এবার?’
সোমনাথ বললেন, ‘কী আর হবে? সব শেষ হয়ে যাবে। এবার আমাকেও হয়তো দেশ ছাড়তে হবে। পদত্যাগের হুমকিও আসা শুরু হয়েছে।’
পারভেজ কপাল চাপড়াতে শুরু করল, ‘হায় আল্লাহ, আপনার মতো লোকের পিছনেও এই রাজাকারগুলো লেগেছে? আমি তো ভাবতে পারছি না। আপনি কেন এদের হয়ে কথা বলতে গেছিলেন?’
সোমনাথ ম্লান হাসলেন, ‘ঠিকই বলেছো। আমার ভীমরতি হয়েছিল।’
পারভেজ গলা নামিয়ে বলল, ‘দাদা, আমার মনে হয় এখনই দেশ ছাড়ার দরকার নেই। এসব নতুন নতুন সরকার পালটালে হবে। আপনি কিছুদিন ঘরে বসে থাকুন, আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।’
সোমনাথ বললেন, ‘তাই করতে হবে পারভেজ। আমার এমন কোনো সেভিংস নেই যে এই বয়সে অন্য দেশে গিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে পারব।
পারভেজের চোখ দিয়ে জল পড়তে শুরু করল, ‘দাদা, আপনাকে আমি নিজের বড়ো ভাইয়ের মতো দেখি। এরকম দিন আসবে আমি কোনোদিন ভাবিনি বিশ্বাস করুন। চোখের সামনে দেশটা শেষ করে দিল ওরা। এর পরে আমি আর কোনোদিন ওদের বিশ্বাস করব না। খবরে দেখলাম পাকিস্তান থেকে প্রতিনিধি দল এসেছে। পাকিস্তানে নাকি বিজয় মিছিল বেরিয়েছে। ভালো হয়েছে আমার আব্বু আর এই পৃথিবীতে নেই। বেঁচে থাকলে দেশটা আবার রাজাকারদের কাছে চলে গেছে জানলে একটুও খুশি হত না।’
সোমনাথ বললেন, ‘তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো। এখন এসব নিয়ে ভেবো না।’
পারভেজ বলল, ‘কেন ভাবব না দাদা? আপনি যে কথাটা বললেন, সেটা শোনার পর থেকে আমার নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। কত বড়ো সাহস ওদের।’
সোমনাথ বললেন, ‘এর জন্য আমি নিজেকেও দায়ি করি পারভেজ। আমিও তো ওদের পড়িয়েছি। তার মানে কিছুই শিক্ষা দিতে পারিনি।’
পারভেজ বলল, ‘আমার অনেক পরিচিত আছে দাদা, আপনি ভাববেন না। আমি সবার সঙ্গে কথা বলব। আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। সব গুণ্ডামি বন্ধ করার ব্যবস্থা করব।’
সোমনাথ হেসে উঠে দাঁড়ালেন, ‘হয় না, অরাজকতার সময়ে এসব কিচ্ছু হয় না। এখন যে ঝড় উঠেছে, তা থিতু হতে সময় লাগবে। তোমার কোনো দরকার হলে আমাকে ফোন করবে, আমি গিয়ে নিয়ে আসব। এখন তো অখণ্ড অবসর, সাবধানে থেকো।
পারভেজ বলল, ‘ঠিক আছে দাদা। খোদা হাফেজ।
সোমনাথ ঘরে এসে বসলেন। বীথি বললেন, ‘প্রিন্সিপাল সাহেব ফোন করেছিল। ফোনটা নিয়ে যাবে তো।’
সোমনাথ বললেন, ‘ঠিক আছে, আমি করে নিচ্ছি।’
কলব্যাক করলেন তিনি। প্রিন্সিপাল সাহেব ফোন ধরে বললেন, ‘আপনি ঠিক আছেন তো?’
‘চারদিকে যা চলছে, কোনোমতো টিকে আছি বলতে পারেন। বুঝতেই পারছেন কেন বললাম।’
‘আর বলবেন না, আজকেও ওরা এসেছিল। আমাকে এসে বলল আপনি পদত্যাগ না করলে ওরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে।’
‘ঠিকই। আমার থাকাটা ওদের সহ্য হচ্ছে না। আমার পি এফ-এর হিসেবটা করে দেবেন স্যার। আমাকে হয়তো ওদের কথাই মেনে নিতে হবে।’
প্রিন্সিপাল স্যার স্তম্ভিত হয়ে গেলেন, ‘সেকি, আপনি হেরে যাবেন?’
সোমনাথ বললেন, ‘যে বিপুল তরঙ্গ উঠেছে এখন, তা ঠিক হোক ভুল হোক খুঁজতে
যাবেন না স্যার। তাদের প্রতি মুহূর্তে একজন করে শত্রু দরকার যাকে তারা পরাজিত করে উল্লসিত হবে। ওদের এই মুহূর্তে আমি টার্গেট, আমি যদি পদত্যাগ না করি, ওরা আবার আক্রমণ করবে। মাঝখান থেকে ক্ষতি হবে কলেজের। এই ক্ষতি আমি মেনে নিতে পারব না। আমার সন্তানসম ছাত্ররা যদি আমি কলেজ না গেলেই খুশি হয়, তাহলে নাই বা গেলাম।’
‘না। আপনি এখনই হার মানবেন না। দুটো দিন দেখি। তারপর দেখা যাবে।’
‘ঠিক আছে। দেখা যাক। তবে আমি জানি এই দু-দিনে কিছু পালটাবে না।’
‘আপনি সাবধানে থাকুন।’
‘থাকব। আপনিও সাবধানে থাকুন, নিপুণের উপর নজর রাখুন। পারলে আমি কাল আবার যাব।’
‘আসুন। আপনি এলেই ও খানিকটা স্বাভাবিক হচ্ছে।
ফোন রেখে সোমনাথ টিভি চালালেন। এখন এই একটা কাজই করছেন সারাদিন ধরে। বসে বসে খবর দেখে যাচ্ছেন।
ঢাকা। সন্ধ্যে সাতটা। সমন্বয়ক অফিস।
২৪
।। ঢাকা।।
দু-জন গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক, নাহিদ আর রাসেল রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। আনোয়ারের গাড়ি থামতেই ছুটে গিয়ে একজন দরজা খুলে দিল।
আনোয়ার খুশি মুখে গাড়ি থেকে নামতেই সালাম দিল দু-জনে। আনোয়ার প্রত্যুত্তরে সালাম দিয়ে বলল, ‘চেম্বারে গিয়ে কথা বলব।
দুজন আনোয়ারকে তাদের বোর্ড রুমে নিয়ে গিয়ে বসালো।
নাহিদ বলল, ‘জনাব, এখন আশা করি আপনি খুশি হয়েছেন। আপনাদের দেখানো পথেই আমরা দেশ থেকে ইন্ডিয়ানদের সহযোগী দলকে বের করে দিতে পেরেছি, এই মুহূর্তে দেশ আবার পাকিস্তানের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করেছে।’
আনোয়ার বলল, ‘তো?’
নাহিদ একটু মিইয়ে গেল, ‘মানে আমি বলতে চাইছিলাম আপনি খুশি হয়েছেন নিশ্চয়ই?’
আনোয়ার হাসল, ‘আমি এত অল্পে সন্তুষ্ট হই না। শুধুমাত্র একটা দেশের কন্ট্রোল আমার কাছে এলে আমি আনন্দিত হব, এ-রকম ট্রেনিং আমার নেই। তোমাদের একটা সমস্যা আছে, তোমরা অল্পেই সন্তুষ্ট হয়ে যাও। আমার সেই সমস্যা নেই। আমি এত কমে খুশি হই না। যাই হোক, আমি ফান্ডের ব্যবস্থা করছি। দেশের মধ্যে আরও বেশি করে ধর্মীয় বাতাবরণ সৃষ্টি করা দরকার। পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতির হাওয়া তৈরি করার দরকার। কোনোরকম অবস্থাতেই যেন র আবার এখানে ঢুকতে না পারে।
নাহিদ বলল, ‘জনাব, তার জন্য ফান্ড দরকার। আপনি যে ফান্ড আনছেন, তা বড়োই কম।’
আনোয়ার বিরক্ত মুখে বলল, ‘তুমি থাইল্যান্ড যাবার টিকেটের খবর নিচ্ছিলে কেন? ফান্ডগুলো কি এই জন্য দেওয়া হয়?’
নাহিদ থতোমতো খেয়ে গেল, ‘শিক্ষাসফর করার চেষ্টা করছিলাম জনাব।’
আনোয়ার রেগে গেল, ‘শিক্ষাসফর? থাইল্যান্ডে কী ধরনের শিক্ষাসফর হয়, তা আমাকে বোঝানোর দরকার নেই। আমি এত বছর এখানে আছি, ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না। একটা কথা মনে রেখো, আমি যেমন তোমাদের এত দূর আনতে পেরেছি, পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যেতে পেরেছি, সেই আমিই কিন্তু তোমাদের অনায়াসে উপর থেকে ছুড়ে নীচে ফেলে দিতে পারি।’
নাহিদ আমতা আমতা করে বলল, ‘আমি আমার খরচেই যাব জনাব।’
আনোয়ার শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলল, ‘তাই নাকি? গতবছরে তোমার চিটাগং-এর বাড়ির টিনটুকুও ছিল না। তারপর সেটা পাকাবাড়ি হল কী করে? আর নওশাদ তো ভয়ে এখানে আসেইনি যা বুঝতে পারছি। নওশাদ একটা দামী বাইক কিনে ফেলেছে। একটা ইমপোরটেড ক্যামেরা কিনেছে। কী করে কিনল?’
রাসেল এতক্ষণ চুপ করে বসেছিল। খানিকটা মরিয়া হয়ে বলল, ‘জনাব, এরা কেউই আপনার দেওয়া টাকা দিয়ে কিছু কেনেনি। খামোখা আপনি দোষ চাপাচ্ছেন ওদের ঘরে।’
আনোয়ার হঠাৎ করে রাসেলের গলা টিপে ধরে হিসহিস করে বলল, ‘শুয়োরের বাচ্চা, তুই জানিস কার সঙ্গে কথা বলছিস? আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলার সাহস তোকে কে দিয়েছে? আমি যখন কোনো কথা বলব, শুনবি, নইলে মেরে পুঁতে রেখে দিয়ে যাবো। কী ভেবেছিস, এটা তোদের দেশ? এটা তোদের দেশ কোনোকালে ছিল না। তোরা আমাদের গোলাম ছিলিস, গোলাম বুঝিস? হ্যাঁ হ্যাঁ, গোলাম ছিলিস, আছিস, আর থাকবি। আমি যখন যেভাবে বলব, সেভাবে চলবি, মুখে মুখে তর্ক করার সাহসটুকুও করবি না। দেশের ইতিহাস পড়ে আসবি আগে, জানবি কী করে তোদের পায়ের তলায় পিষে রেখেছিলাম দিনের পর দিন। এখনও তাই করব। তোদের বুকের উপর পা রেখে তোদের দেশ চালাব।’
গলা ছেড়ে দিল আনোয়ার। রাসেল ভয় পেয়ে কাঁপতে লাগল।
নাহিদ বলল, ‘জনাব। আমার খুব বড়ো ভুল হয়ে গেছে। আমি আর এরকম লাইফ স্টাইলে চলব না। এবারের মতো আমাকে মাফ করে দেন।’
আনোয়ার রাগে ফুটছিল। বলল, ‘কুকুর, কুকুরের মতো থাকবি। মালিক হবার কোনো চেষ্টা করবি না। শোন, তোদের যে ক’টা ওই ছাত্র নেতা না কী শুয়োরের বাচ্চা আছে, কাল বিবৃতি দিবি, বাংলাদেশ পাকিস্তানের চিরকাল বন্ধু ছিল, ইন্ডিয়ার ভুল পথ তোরা আর নিবি না।’
নাহিদ মাথা নাড়ল।
আনোয়ার বলল, ‘তোর বাপ দাদাদের কী করতাম জানিস? ল্যাঙটো করে জায়গামতো গুলি করতাম। তোদের সেই হাল করব খুব শিগগিরি। যা বলব, তাই শুনে চলবি। নইলে ভবিষ্যতে তোদের কী হাল হবে, তোরা ধারণা করতে পারছিস না।’
আনোয়ার উঠে দাঁড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
নাহিদ আর রাসেল থমথমে মুখে বসে রইল।
*****
নিপুণের একটু উন্নতি হয়েছে। ঘর থেকে বেরিয়ে ড্রইংরুমে গিয়ে বসেছে। সোমনাথকে কলিং বেল বাজানোর পর সেই দরজা খুলল। সোমনাথ ড্রইং রুমেই সোফায় বসলেন। বললেন, ‘এখন কেমন?’
নিপুণ মাথা নাড়ল, ‘গা হাত পায়ের ব্যথা একটু কমেছে স্যার। ভাবছিলাম কলেজে যাব।’
সোমনাথ অবাক হলেন, ‘এই অবস্থায়?’
নিপুণ বলল, ‘কলেজের অবস্থা ভালো না স্যার। এখন না গেলে সব শেষ হয়ে যাবে।’
সোমনাথ বললেন, ‘তা ঠিক। অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। ওরা সুযোগ বুঝে সবই দখল করে ফেলছে।’
নিপুণ ব্যঙ্গের হাসি হাসল, ‘লড়াই করল একদল, আর ক্ষীর খেয়ে যাবে এক দল। এটাই হয়। শুনলাম যারা সরকার বিরোধী লড়াইয়ে সামনে ছিল, তারাই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’
সোমনাথ বলল, ‘ইতিহাসের এভাবেই পুনরাবৃত্তি হয়। বহু রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা সেজে ভাতা নিয়ে গেছে। এখনও ওই মুক্তিযুদ্ধ ভাঙিয়েই কতজন চোর সাধু সেজে বসেছিল। যুগ পালটানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুখোশ খুলে গেল। এটা খুব স্বাভাবিক। আমি অবাক হইনি। শুধু অবাক হয়েছি সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে ধর্মীয় বিভাজনের আগ্রাসন দেখা গেল। যে স্পিরিট নিয়ে লড়াইটা শুরু হয়েছিল, সেটা ছিল না।’
নিপুণ লজ্জিত কণ্ঠে বলল, ‘এ জন্য স্যার আমরাই দায়ী। গত দু তিন বছরে ছাত্রসংসদে কয়েকজন লোককে এন্ট্রি দেওয়া হয়েছিল। এরা প্রত্যেকের সঙ্গেই পাকিস্তানের যোগাযোগ ছিল। আমরা বুঝেও কিছু বলিনি। ভেবেছিলাম দেশে গণতন্ত্র ফেরানোটা আগে দরকার।’
সোমনাথ শ্বাস ছাড়লেন, ‘কী গণতন্ত্র ফিরেছে তা তো দেখতেই পারছি। রাস্তাঘাটে রিক্সা দাঁড় করিয়ে ফোনে লাল পতাকা প্রোফাইল পিকচার করা হয়েছে কিনা চেক করছে। রাতবিরেতে ডাকাতি হচ্ছে, লজ্জার পরিবর্তন হল। এই লজ্জার জন্য আমার নিজেকেই দায়ী বলে মনে হচ্ছে।’
নিপুণ বলল, ‘স্যার, আমি একটা লোককে খুঁজছি।’
সোমনাথ বললেন, ‘কাকে?’
নিপুণ বলল, ‘যে লোকটা আমাকে রাস্তার মাঝখান থেকে চড় মারতে মারতে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছিল, সেই লোকটাকে। আমি একবার দেখলেই চিনতে পারব স্যার। এখন ওই লোককে পেলে আমি ছাড়ব না কিছুতেই।’
সোমনাথ বললেন, ‘দেখা যাবে সেই লোকও এখন নতুন দলেই ভিড় করে আছে। রাজনীতি মানে বরাবরই তো তাই। জোর যার, মুলুক তার, কে কী ভাবল, কে কী বলল, এদের কিছু যায় আসে না। নাম মনে আছে লোকটার?’
নিপুণ বলল, ‘না স্যার, আমার কিছুই মনে নেই। কিন্তু সামনে আসলে চিনতে পারব। র্যাবে যারা ওই দিন ডিউটিতে ছিল, তাদের নাম আর ঠিকানা বের করার কাজ চলছে, পেলে লোকটার সঙ্গে একবার দেখা করব। ত
সোমনাথ বললেন, ‘তুমি যদি রাজনীতি করতে চাও নিপুণ, আমি তোমাকে বলতে পারি, রাজনীতিতে গান্ধীজিকে আদর্শে করো। রক্ত গরম করে এখনকার দিনের রাজনীতি চলবে না। তুমি বরং ভাবো, লোকটার সঙ্গে যেন কোনোদিন আর দেখা না হয়। কারো অনিষ্ট কামনা করলে সেটা তোমার জন্যই খারাপ।’
নিপুণ আহত চোখে বলল, ‘স্যার, আপনি এই কথা বলছেন? আমার সমস্ত দুর্দশার জন্য দায়ী যে, তাকে আমি ছেড়ে দেবো?’
সোমনাথ বললেন, ‘আমি হলে ছেড়ে দিতাম। তবে সে লোকটা তো আজ্ঞাবহ দাস ছিল। যে টিমটা তোমাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গতিবিধি মনিটরিং করত, আগে তাকে খোঁজো।’
নিপুণ বলল, ‘পাওয়া যায়নি স্যার। হয় দেশ ছেড়েছে, নয় খুন হয়ে গেছে। আন্ডার গ্রাউন্ড হয়ে বেশিদিন পালাতে পারবে না। আমার মতো কত ছেলেকে শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করেছি বলে প্রায় মেরে ফেলছিল ওরা। কত লোকের সংসার শেষ হয়ে গেছে, এদের কিছুই যায় আসেনি। সারাক্ষণ ভেবে গেছে কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।’
সোমনাথ বললেন, ‘তবে দেখো বাবা, কাউকে খুন কোরো না। মানুষ হয়ে আরেকটা মানুষকে মারা কোনোভাবেই আমি সমর্থন করতে পারি না। তোমার শিক্ষক হয়ে এই কথাটা বললাম। আশা করি মর্যাদা দিও। মনে রেখো, ক্ষমতা যেই পাক, কোনো ক্ষমতাই আজীবন থাকে না। একটা সময় ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ার পর মানুষ বুঝতে পারে ক্ষমতায় থাকাকালীন সে কত বড়ো ভুল করেছিল। এদেশে কিন্তু নতুন করে ভুল ঠিক করার সুযোগও কেউ দেবে না তোমায়। জীবন তোমাকে আরেকটা সুযোগ দিয়েছে, সেটার সদ্ব্যবহার কর।’
নিপুণ খানিকটা অন্যমনস্ক ভাবেই বলল, ‘ঠিক আছে স্যার। আপনি যেমন বলবেন।’
সোমনাথ বললেন, ‘আচ্ছা, আমার আরেকটা কথা মনে পড়ল। তোমার ক্লাসের আরেকটা ছেলেও তোমার সঙ্গেই নিরুদ্দেশ হয়েছিল। তৌফিক নাম। ওর সঙ্গে তোমার যোগাযোগ হয়েছে?’
নিপুণ বলল, ‘না, হয়নি। তবে তৌফিকের সম্পর্কে খুব একটা ভালো রিপোর্ট পেলাম না। ও নাকি অনেকটাই পালটে গেছে। আমাকে এসব কারণেই কলেজ যেতে হবে।’
সোমনাথ বললেন, ‘ঠিক আছে। তবে কারো সঙ্গে তর্কে জড়াবে না। আমার কথাগুলো মাথায় রেখো।’
নিপুণ হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। সোমনাথ ঠিক ভরসা পেলেন না। কিন্তু কিছু করারও তো নেই। নতুন প্রজন্মের ছাত্ররা মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো। যখন সামনে এসে পড়ে, সব এলোমেলো করে দিয়ে চলে যায়। এই বিপুল শক্তিকে আটকানোর বয়স আর তার নেই…
