পাখির বাসা – ৯

স্যাম্পেলের সঙ্গে আগেও খেয়েছে বিজু। স্যাম্পেল ভালো টানতে পারে। কিন্তু বেচাল করে না কখনও। বিজু দেখেছে, দু-পেগ পর্যন্ত বেশ খুশ মুডে গল্প করতে করতে খায় স্যাম্পেল; তারপর থেকে একটু একটু করে গম্ভীর হয়ে যায়। পাঁচটা ওর লিমিট। হাজার অনুরোধেও পাঁচ পেগের বেশি খেতে চায় না। পাঁচ পেগ শেষ করেই শোওয়ার জায়গার ধান্দা করে, আর শুলেই অঘোরে ঘুমিয়ে পড়ে। আজ বিজু লক্ষ করল, দু-পেগের পর থেকেই স্যাম্পেল যেন ক্রমশ দার্শনিক হয়ে উঠছে—বহুত উচ্চমার্গের কথাবার্তা বলছে।

আজ একটা হেভি খ্যাঁচা-কেস ভালোভাবে উতরে গেছে। প্রাোমোটার প্রদীপ শর্মা। কচলাকচলিতে যায়নি লোকটা; বিজুরা প্রথম চোটেই যা দাবি করেছিল, দিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার একটাই সিগনাল—অল্প দিনের মধ্যেই বিজুদের নামটা ফেটেছে ভালো। পলাশ অসিতের দল ছাড়লেও ভেতরে ভেতরে তৈরি হচ্ছিল। রাগে ফুঁসছিল ও। মেলাপাড়া বস্তির ক’টা নতুন ছেলেকে টেনে নিয়েছিল। ভাইলালের ভাঙা দলের ক’টা ছেলেকেও পেল। বিজু দলে ঢোকার পর আর দেরি করেনি। অ্যাকশন। ওর পয়লা টার্গেট ছিল ভোঁদাই। ভোঁদাইকে দিয়েই বউনিটা করল। বিজু শুধু কড়কে দিতে চেয়েছিল। বেশ ভালোরকম কড়কে। কিন্তু পলাশের মত অন্য—শত্রুর শেষ রাখতে নেই; তা ছাড়া দু-একটা বডি ফেললে তবে তাড়াতাড়ি প্যানিক ছড়াবে। ভোঁদাইয়ের লাশ পড়ার পর অসিত খ্যাপা ষাঁড়ের মতো ক’দিন দাপিয়ে বেড়াল এলাকায়। এরকমই হওয়ার কথা। বিজুরা সবাই তাই সটকে গিয়েছিল এলাকা ছেড়ে। তিনদিন পর ফিরে ফের অ্যাকশন—ফোরশোর রোডে দুটো গোডাউন ফাঁকা করে দিল। খুব রেলার সঙ্গে করল কাজটা। পরপর পেটো চার্জ করে, ফায়ার করে, হাঁকডাক করেই করল। ভালো ঝাঁক্কি খেল অসিত। ওর পাকা মাথা বোধ হয় বুঝতে পারছিল, বিজুরা ভালো তৈরি। তাই আর নিজে হুজ্জুতি করার দিকে গেল না। পার্টি লাইনে গেল। প্রসূন হাজরাকে দিয়ে পুলিশকে চাপ দিচ্ছে এখন। বিজুদের তাই অ্যালার্ট থাকতে হচ্ছে; ঠেক বদলাতে হচ্ছে ঘন ঘন। প্রদীপ শর্মার কেসটা যখন জানবে, ফের ঝাঁক্কি খাবে অসিত। অসিতের খোদ এলাকায় ফ্ল্যাট তুলছে প্রদীপ শর্মা; মেটিরিয়াল সাপ্লাই দিচ্ছে কালু সামন্ত, সামন্তের বিজনেসে অসিতের শেয়ার আছে; সেই প্রদীপকে চমকে টাকা খেঁচে আনা সিংহের গুহায় ঢুকে আহার ছিনিয়ে আনার মতো ব্যাপার একটা। খবর পেয়ে অসিতের এবড়োখেবড়ো মুখটা আরও কঠিন, আরও থমথমে হয়ে যাবে। মুখটা মনে করে গ্লাসে লম্বা একটা চুমুক দেয় বিজু।

হাই রোডের ধারে এই ধাবাটা সন্ধের পর বেশ জমজম করে। আগে বেশ কয়েকবার এখানে এসেছে বিজু। মালের চেয়ে এদের তড়কাটা বেশি ভালো লাগে। স্যাম্পেল বলল, এই কদিনে তোমরা যেসব একটার পর একটা হিট ছবি নামাচ্ছ, তাতে শাহরুখ খানের মতো ফেমাস হয়ে যাবে, তখন পাত্তা পাব না; তার আগেই একদিন ভরপেট মাল খাইয়ে দাও মাইরি।

স্যাম্পেল গ্লাসে ছোট একটা চুমুক দিয়ে বলে, তোমার কিন্তু এটা ঠিক লাইন নয়, বুঝলে বিজুদা।

বিজু একটু অবাক হয়ে বলে, কী লাইন…?

এই যে, ঝাড়পিট—খুনখারাপি…।

কী করে বুঝলি?

বুঝি। স্যাম্পেল মুখ কুঁচকে ছোট একটা ঢেকুর তুলে বলে, শালা মড়ার গাড়ি চালাই বলে কি কিছু বুঝি না! তোমার ধাত অন্য।

তাই নাকি?

হ্যাঁ; ঠিকঠাক ক্রিমিনাল হতে গেলে হারামি লগ্নে জন্মাতে হয়, অসিতটা যেমন—একেবারে চব্বিশ ক্যারেট হারামির বাচ্চা… ওর সঙ্গে তোমার এঁটে চলা মুশকিল।

বিজু কিছু বলে না। শুধু ছোট একটা চুমুক দেয় গ্লাসে।

স্যাম্পেল বলে, তুমি এসব ছেড়েছুড়ে দিয়ে দেশে ফিরে যাও, বুঝলে।

হুঁ।

গেলে তো দেশে একবার—কী হল, চলে এলে কেন?

সে অনেক ফ্যাচাং।

লাইফটাই তো একটা ফ্যাচাং—ঠিক কি না বলো?

হুঁ। অন্যমনস্কভাবে বলে বিজু।

শালা ঘেন্না ধরে গেল।

হুঁ।

শালা যত দেখছি, তত ঘেন্না ধরে যাচ্ছে।

দেখিস কেন এত; চোখ বুজে থাকবি।

এবার শালা তাই থাকব। স্যাম্পেল ছোট একটা চুমুক দিয়ে বলে, কে যেন এক মহাপুরুষ নিজেই নিজের চোখ গেলে দিয়েছিল না…?

তা হবে।

হ্যাঁ গো…সত্যি দিয়েছিল, রামপ্রসাদ না রামকৃষ্ণ কেউ একটা হবে, আমার আবার দুটো খুব গুলিয়ে যায়, দুটোরই দাড়ি আছে তো।

ভ্যাট শালা; এদের কেউ নয়…।

তা হলে অন্য কেউ হবে…পরে মনে পড়লে তোমায় বলব…আর একটা বলো না মাইরি…।

আর খাবি?

খাব, খাব…খাওয়াচ্ছ যখন মন খুলে খাওয়াও… লাইফে তো শালা এই একটাই মস্তি…আর তো সব ফালতু…শালা ঘেন্না ধরে গেল…বললে, বিশ্বাস করবে না, পাঁচ-পাঁচটা ছেলে—সব ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, হাইফাই ব্যাপার, বাপ-মা-র খোঁজ নেয় না কেউ…আর মরে যাওয়ার পর বুক চাপড়ে কান্না, শালা ধান্দাবাজি বুঝি না!

হুঁ।

শালাদের এত ফাঁট, গাড়ি-বাড়ি, কিন্তু বাপ-মা কত দামি জিনিস বোঝে না।

কিছু বলে না বিজু। একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে দৈত্যের মতো বড়সড়ো একটা মানুষ, খুব ভ্যাবাচ্যাকা চোখে তাকিয়ে থাকে, একটু এলোমেলো পায়ে হাঁটে; আর গায়ে শাড়ি জড়ানো জড়সড় চেহারার এক মহিলা—বিজুর সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে হুকুম তামিল করার জন্যে। বিজুকে দেখলেই রেডিয়ো বন্ধ করে দেয়।

এই দুটো মানুষের সামনে থেকে পালাতে চায় বিজু। পারছে না; পা দুটো যেন আটকে গেছে তার…। গ্লাসে বড় একটা চুমুক দেয়, বুকটা একটু জ্বলে, মাথায় ঝাঁক্কি লাগে।

শালা কী বলব! একটু নাক টেনে স্যাম্পেল বলে, বডি তুলতে গেছি, বউটা খাটের পায়া জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, বডি তুলতে দেবে না কিছুতেই…কান্নাকাটি দেখে দেখে আমাদের মন-টন, সব ঝামা হয়ে গেছে…তবু শালা যেন মেজাজটায় খিঁচ ধরে—আহা রে, বড্ড শোক লেগেছে বউটার—ও বাবা, তারপর দেখি দুটো মাস যেতে না যেতেই অন্য লোকের সঙ্গে ঢলাচ্ছে… কী বলব মাইরি…।

কিছু বলে না বিজু। এক চুমুকে গ্লাসের বাকিটা গলায় ঢেলে ইশারায় বেয়ারাকে ডাকে।

স্যাম্পেল বলে, আমিও শালা ভাবছি এই লাইন ছেড়ে দেব—একটা প্রাইভেট গাড়ি যদি পাই, এই শালা মড়ার গাড়ি আর ভালো লাগে না!

বিজু একটু মলিন হেসে বলে, সওয়ারি হিসেবে মরা মানুষ অনেক ভালো জানবি, জ্যান্তদের নিয়ে বহুত ফ্যাচাং…

সে জানি, তবু শালা এই গাড়ি ভালো লাগে না।

ভূতের ভয় পাস নাকি…?

ধুসস…! ভূত-ফুত আবার কী—আসলে গাড়ি চালাতে চালাতে মাঝে মাঝেই মনে হয় পেছনে কাচের বাক্সে মুনমুন শুয়ে আছে—তখন শালা এত ফালতু লাগে, যেন মনে হয়…।

মুনমুনটা আবার কে রে? একটু ঝুঁকে পড়ে বিজু বলে, লাইন করেছিলি নাকি?

বেয়ারা গ্লাসে মদ ঢালে, জল মেশায়। একটু ঢুলুঢুলু চোখে গ্লাসের তরলটার দিকে তাকিয়ে থাকে স্যাম্পেল। তারপর বলে, নাহ, লাইন আর করলুম কোথায়—হেভি দেখতে ছিল মেয়েটা, জানো।

তাই নাকি?

হ্যাঁ, মেয়েদের ইশকুলের পেছনে ওই যে লাল বাড়িটা—ওই বাড়িটার মেয়ে…। বিশ্বাস করো, ওকে দেখলেই আমার কেমন হত, কলেজ যেত যখন, দাঁড়িয়ে থাকতুম রাস্তার ধারে, একবার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল, আর আমি সাইকেলে যেতে যেতে সেদিকে তাকিয়ে কেলিয়ে পড়লুম ড্রেনে…তারপর থেকে আমাকে দেখলেই মুখ টিপে হাসত। হাসলে গালে টোল পড়ত, তখন আরও হেভি লাগত দেখতে…।

গ্লাসে ছোট একটা চুমুক দিয়ে বিজু বলে, হ্যাঁ।

আমার শালা ঘুমটুম মাথায় উঠল, সবসময় ওর মুখ, মেয়েটার মধ্যে কীরকম একটা ঠান্ডা-শান্ত ভাব ছিল, অনেকটা লক্ষ্মী ঠাকুরের মতো—মনে হত ফুল দিয়ে পুজো করি…বিশ্বাস করো…ভেবো না মাল খেয়ে ভুলভাল বকছি। ওকে যে বিয়ে-ফিয়ে করব, সে চিন্তা করতুম না—শুধু মনে হত চুপচাপ ওর কাছে গিয়ে বসে থাকি, মাইরি বলছি…।

চুপচাপ গ্লাসে একটা চুমুক দেয় বিজু।

ফের একবার নাক টেনে স্যাম্পেল বলে, মাইরি, কত রাত যে ঘুমোতে পারিনি।

বিজু বলে, মরল কী করে?

সুইসাইড। ঘুমের বড়ি খেয়েছিল…। কেন খেয়েছিল কে জানে, কেউ বলে লাইন, কেউ বলে বাপ-মা-র সঙ্গে ঝামেলা—কে জানে শালা কেন; আর এমনই বরাত, আমাকেই সেদিন গাড়িতে করে বডি নিয়ে যেতে হল—চালাতে চালাতে মনে হচ্ছিল, গাড়িতে স্পিড দিয়ে বেরিয়ে যাই, ওকে নিয়ে চলে যাই, শ্মশানে পুড়িয়ে দিতে মন চাইছিল না, মনে হচ্ছিল হোল লাইফ ওকে গাড়িতে নিয়ে ঘুরি…গাড়ি থামাব না কোনওদিন—মাইরি বলছি, বিশ্বাস করো, হোল লাইফ ওকে গাড়িতে নিয়ে ঘুরব।

খুব অবাক দৃষ্টিতে স্যাম্পেলের দিকে তাকিয়ে থাকে বিজু। স্যাম্পেল পকেট থেকে রুমাল বের করে ফোঁত করে নাক ঝাড়ে একবার। তারপর বলে, ভাবছ তো মালের ঘোরে ভুলভাল বকছি—কিন্তু বিশ্বাস করো, এখনও গাড়ি চালাতে চালাতে মনে হয় ফুলে ঢাকা মুনমুন শুয়ে আছে পেছনে…।

বিজু বলে, চ, এবার উঠি।

আরে বসো, বোসো না; বাড়ি তো যাবই, বাড়ি তো শালা রোজ যাই।

বিজু মৃদু হেসে বলে, এরপর তোকে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

স্যাম্পেল বলে, গুরু, বলছি—তোমার কেউ নেই?

আমার! খুব অবাক হয়ে বলে বিজু।

হ্যাঁ বস তোমার।

ফোট।

না মানে, কেউ ছিল না, তোমার দেশের বাড়িতে, মাইরি সত্যি বলো না, জানতে ইচ্ছে করছে।

না না।

তোমার মাইরি এই লম্বা ফিগার—ফেস কাটিং এত ভালো, মেয়েরা কিন্তু হেভি চাইবে। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয়, এই যে তুমি দেশের বাড়ি যেতে চাও না, এটা শালা কোনও লাভ কেস…ঠিক কি না…?

ফোট। একটু বিরক্তির সঙ্গে বিজু বলে, ওসব কিছু নয়।

তুমি শালা মনে হচ্ছে চেপে যাচ্ছ, আরে বলো না গুরু, বলে দিলে মন হালকা হয়…।

বিজু বলে, ওঠ এবার, আমার কাজ আছে।

দাঁড়াও বস, এটা আগে শেষ করি। গ্লাসের দিকে তাকিয়ে স্যাম্পেল বলে, এত দামি মাল খাওয়াচ্ছ, তোমার দিলটা খুব বড়…আমি তো সবাইকে বলি…

বিজু একটু উদাস মুখে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে। মাথার মধ্যে কুয়াশা জমছে একটু একটু করে। সেই কুয়াশার মধ্যে আবছা একটা মুখ ভেসে ওঠে। সেই মেয়েটার মুখ। মেয়েটা তার আলিঙ্গনের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে আছে। ঘাড়টা কাত হয়ে কেতরে আছে একদিকে। চোখ দুটো বোজা। তারপর থেকে মাঝে মাঝেই এই ছবিটা ভেসে ওঠে। কেন ওঠে কে জানে! আর মনে হয় মেয়েটা সেদিন চিৎকার করেনি। চিৎকার করেনি বলেই অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে মেয়েটাকে, ভোঁদাই গিয়ে হুজ্জুতি করেছে। ভোঁদাই মার্ডার হওয়ার পর আবার একদিন গিয়েছিল বিজু। কিছু না ভেবেই গিয়েছিল। এবার আর তাকে দেখে চমকাল না মেয়েটা। যেন জানতই সে আসবে। চুপচাপ মন দিয়ে হাতের কাজ সারতে লাগল। কথা খুঁজে পাচ্ছিল না বিজু। কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বলল, একটু জল দেবে? মেয়েটা চুপচাপ স্টিলের গ্লাসে জল দিল তাকে। জলটা খেয়ে বিজু বলল, বাহ, খুব ঠান্ডা। বলেই বুঝতে পারল, এই কথাটা ঠিক বলতে চায়নি সে, ভুলভাল মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। কিছু বলল না মেয়েটা। বিজু তারপর বলল, আসছি আমি, ভোঁদাই আর বিরক্ত করবে না, ব্যবস্থা হয়ে গেছে। তখনও কিছু বলল না মেয়েটা। এবার কাছে গিয়ে বলল, তোমার নাম তো রানু। এতক্ষণ পর মেয়েটা তার দিকে সোজা তাকাল। খুব মৃদু গলায় বলল, হ্যাঁ।

স্যাম্পেল বলে, আমার খুব ঘুম পাচ্ছে বস, মনে হচ্ছে, এখানেই শুয়ে পড়ি।

তুই শো তা হলে, আমি চলি।

সত্যি বলছি বস, নেশা জমে গেলে আর হাঁটাহাঁটি পোষায় না।

আমিও তো খেয়েছি।

তুমি আর খেলে কোথায়! স্যাম্পেল বিজুর গ্লাসের দিকে তাকিয়ে বলে, তিন নম্বরটাই শেষ হল না…না খাও তো আমাকে দিয়ে দাও…।

বিজু বলে, তোকে আর এক ফোঁটাও নয়, ওঠ তো এখন।

এত দামি মাল ফেলা যাবে? তুমি তো খাবে না মনে হচ্ছে…।

বিজু কিছু বলার আগেই স্যাম্পেল বিজুর গ্লাসটা টেনে নেয়। বেশ কিছুটা আছে গ্লাসে।

বিজু বলে, স্যাম্পেল ওই মেয়েটা কেমন রে?

কোন মেয়েটা? স্যাম্পেল চুমুক দিয়ে বলে।

ওই যে রে…আয়া সেন্টারে কাজ করে…যার ঘরে আমি ঢুকে পড়েছিলাম সেদিন…?

কেমন আবার! ভালোও বলতে পারো, মন্দও বলতে পারো।

যাহ শালা; এ আবার কী কথা!

আমার তো শালা মুনমুন ছাড়া সব মেয়েকেই একইরকম মনে হয়। কেন বস, কী দরকার…?

না, কিছু নয়। একটু অন্যমনস্কভাবে বিজু বলে, নে তো, ওঠ এবার।

লাইন মারলে মারতে পারো—এই স্যাম্পেল শালা ফুল হেল্প দেবে—কিন্তু মুনমুনের মতো মেয়ে তুমি কিছুতেই পাবে না…একটা ফটোও নেই যে দেখাব তোমাকে…।

ওঠ…ওঠ…। বিজু তাড়া দেয় আবার। কিন্তু নিজে বসেই থাকে। কুয়াশা আরও ঘন হয়ে জমছে মাথায়। মেয়েটা জল দিল তাকে…অজ্ঞান মেয়েটা ঢলে পড়েছিল…ঢলে পড়েছিল তার বুকে…।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *