৫
‘গোপাল বড় সুবোধ। তার বাপ-মা যখন যা বলেন, তাই করে, যা পায় তাই খায়…’
কেউ একটা পড়ছে। কচি গলা। চিলেকোঠার গুমটি ঘরটা থেকে শুনতে পাচ্ছে বিজু। প্লাসটিকের ছেঁড়া মাদুরে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে সে। ছোট্ট ঘর, ভাঙাচোরা জিনিসে ঠাসা। ইলেকট্রিক লাইন পর্যন্ত নেই। দুপুরের দিকে গরম হচ্ছিল বেশ। ঘামে ভিজে পিছলে যাচ্ছিল মাদুর। হাতপাখাও নেই। এক টুকরো পিচবোর্ড দিয়ে ঝাপটে ঝাপটে গায়ের ঘাম শুকোবার চেষ্টা করছিল বিজু। বিকেলের দিকে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙল যখন—সন্ধে।
স্যাম্পেলদের বাড়িটা মহেঞ্জোদরো-হরপ্পা যুগের। অনেকগুলো শরিক। দেখে বোঝা যায়, এককালে স্যাম্পেলের পূর্বপুরুষ মালদার ছিল। বেশ খেলিয়ে ফেঁদেছিল বাড়িখানা। তারপর গুষ্টিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আনতাবড়ি গজিয়ে উঠেছে ঘর-দালান। এখন এজমালি একটা তিনকোনা উঠোন ঘিরে নানা ডিজাইনের ঘরসংসার। কোনও শরিকের অবস্থাই পাতে দেবার মতো নয়। একটার দিকে দেওয়ালে ফাটল তো অন্যটার কার্নিশে গাট্টাগোট্টা তেজি বটগাছ। কোথাও আবার বারান্দার ছাদ ভেঙে হুমড়ি খেয়ে নেমে এসেছে। বাড়িটা ঘিরে বিশ-বাইশটা মামলা কয়েক যুগ ধরে চলছে। কার সঙ্গে কার কোন বিষয়ে মামলা শরিকরাও বোধহয় চট করে খেয়াল করতে পারে না। স্যাম্পেল তো বলে, উকিলের পেছনে আমরা সবাই যা পয়সা ঢেলেছি তাতে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড তাজমহল হয়ে যায়। আমাদের গুষ্টির বাচ্চারা মামলা মাথায় নিয়েই জন্মায় আর বুড়োরা মামলা নিয়েই চুল্লিতে ঢোকে। স্যাম্পেলদের দখলে আপাতত সিন্দুকের বড়সড়ো সাইজের চিলেকোঠার এই ঘরটা আছে।
আজ দুপুর থেকে এখানেই ঢুকে গেছে বিজু। অসিতের তাড়া খেয়ে ঢুকে পড়েছিল গলির মধ্যে একটা বাড়িতে। মেয়েটা বাইরে থেকে এসে সবেমাত্র দরজা খুলছিল ঘরের। একটু মারধর করা ছাড়া উপায় ছিল না বিজুর। বাঁচার জন্যেই করতে হয়েছিল! মুখ আর হাতগুলো বেঁধে ফেলেছিল মেয়েটার। তার আগেই অবশ্য মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে গেল। মেয়েটাকে এক কোণে ফেলে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল বিজু। চুপচাপ অপেক্ষা করছিল আর লক্ষ রাখছিল মেয়েটাকে। বাইরের হইচই কানে আসছে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অসিত—খ্যাপা কুকুরের মতো খুঁজছে তাকে। কাজটা হাই-রিস্কের হয়ে গেছে। আসলে ‘শুয়ারের বাচ্চা’ কানে যেতেই মাথার মধ্যে কী যেন একটা আছড়ে পড়ে ফেটে গেল। অ্যাসিড বালবের মতো কিছু একটা। ফাটার পর আগুন-গোলা পাতলা মতো কিছু একটা ছড়িয়ে যাচ্ছিল গোটা মাথায়। প্রথমে অসাড় অনুভূতি। তারপরই কী ভীষণ জ্বালা! সেই জ্বালাধরা ভাবের মধ্যে একটা মানুষের ঝাপসা মূর্তি ভেসে উঠল চোখের সামনে। সারা গায়ে মাটি মাখা দৈত্যের মতো লোকটা। গুছিয়ে কিছু বলতে পারে না, কথা সহজে বুঝতে পারে না, চোখে সব সময় একটা ভয়-ভয় দৃষ্টি। এলোমেলো পায়ে হাঁটে, গোগ্রাসে প্রচুর খায়। আর বেদম মাটি মাখতে পারে লোকটা। মাঠে গিয়ে অসুরের মতো খাটনি দেয়। কাঁধে চাপিয়ে মেলায় নিয়ে যায় বিজুকে; ঝাল ঝাল আলুর দম কিনে দেয়। যাত্রা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লে কোলে তুলে বাড়ি নিয়ে আসে লোকটা। সেই লোকটা খুব অবাক চোখে দেখছে তাকে। বিজু ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তার বউকে। তার বিয়ে করা বউ—দ্বিতীয়পক্ষ তার। বিজুর সৎ মা। তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে বিজু। একটা তফাতে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা। অপরাধ আর ব্যথা কাদামাটির মতো মাখামাখি হয়ে আছে মুখে। বিজুর মাথার মধ্যে ভলকে ওঠা আগুনজ্বালাই ঘুসিটা বসিয়ে দিয়েছিল অসিতের মুখে। ভুলে গিয়েছিল, মেশিন ছাড়া বাইরে বেরোয় না অসিত।
মেয়েটার জ্ঞান ফিরল কিছুক্ষণ পর। ক্ষীণ একটা গোঙানির শব্দ করছিল। বুকের কাপড়টা সরে গেছে। ভরন্ত বুক দুটো ওঠা-নামা করছে নি:শ্বাসের সঙ্গে। চোখে ভয় আর কাতর একটা আকুতি। বিপদে পড়া অসহায় মেয়েদের চোখে এমন আকুতি থাকে। চুপ করে বসে ফ্যাকাসে বালবের আলোয় মেয়েটাকে ভালো করে দেখছিল বিজু—শ্যামবর্ণ, মাথার চুলগুলো কোঁকড়ানো। এই চূড়ান্ত টেনশনের সময়ও বার বার চোখ পড়ে যাচ্ছিল ভরন্ত বুক দুটোয়। মেয়েটা তাকে পরিষ্কার ভয় পাচ্ছে। প্রাণের চেয়েও অন্য একটা ভয়। আরও কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকল বিজু। মেয়েটা এবার চোখের ইশারায় জলের বোতল দেখাচ্ছে। জল চাইছে। চাক গে যাক। বাইরের হট্টগোল শোনা যাচ্ছে না যদিও। অসিত চলে গেছে মনে হয়। অন্য কোথাও গিয়ে খুঁজছে তাকে। তবু সাবধানের মার নেই। আরও একটু দেখা দরকার। জানলাটা একটু ফাঁক করে দেখে বিজু।
মেয়েটার শরীর বেঁকে যাচ্ছে। বার বার দেখাচ্ছে জলের বোতলটা। চোখে খাঁ খাঁ তৃষ্ণা। জল দিতে গেলে মুখের বাঁধনটা খুলতে হয়। হাই-রিস্কের কাজ হয়ে যাবে। চিৎকার শুরু করে দিতে পারে। অসিত যদি কাছেপিঠেই থাকে, ফুটো হয়ে যাওয়া বিজুর বডি পড়ে থাকবে মর্গে।
পিছনের জানলাটা আর একটু খোলে বিজু। এখান থেকে রাস্তা দেখা যাচ্ছে। জায়গাটার নার্ভ বোঝার চেষ্টা করে সে। একটা বুড়ো ছাতা মাথায় দিয়ে টুকটুক করে হেঁটে যাচ্ছে। স্কুল-ড্রেস পরা বাচ্চা আঙুল তুলে কী যেন দেখাচ্ছে তার মাকে। অল্পবয়সি দুটো ছেলে-মেয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কথা বলছে—ছেলেটা মোবাইল দেখাচ্ছে মেয়েটাকে।
তার মানে পাড়া ঠান্ডা। আশপাশে কোথাও কোনও গন্ডগোল নেই। মেয়েটার দিকে তাকায় বিজু। মেঝেতে বেঁকে-চুরে শুয়ে আছে মেয়েটা। চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। কন্ডিশন খারাপ। দেরি হলে টেঁসে যেতে পারে। যাক গে শালা! কপালে ওর মরণ আছে। কী করবে বিজু!
জানলাটা বন্ধ করে দেয় বিজু। একটু যেন গুঙিয়ে ওঠে মেয়েটা। থেঁতলে যাওয়া বিছের মতো তিরতির করে কাঁপছে। শালা মরেই যাবে। ভরন্ত বুকে বারবার চোখ পড়ে যাচ্ছে বিজুর।
একটু চিন্তা করে বিজু। ঘরের কোণ থেকে বঁটিটা নিয়ে আসে। মেয়েটার চোখ দুটো এমন ভয়ঙ্কর ঠিকরে এসেছে যে, বঁটি দেখে বেশি-কিছু ভয় পেয়েছে কি না বোঝা যচ্ছে না। তবু বঁটি পাশে রেখে ইশারায় একবার দেখায়; তারপর আস্তে করে মুখের বাঁধন খোলে মেয়েটার। ধরে বসিয়ে দেয়। বুকের দিকে চোখ চলে যায় একবার। ব্লাউজের একটা বোতাম খুলে অনেকটা খাঁজ দেখা যাচ্ছে বুকের।
বিজু জলের বোতলটা ধরে মেয়েটার মুখে।
এভাবে জল খাওয়া বড় কঠিন। খেতে পারছে না মেয়েটা। জল মুখে যত না যাচ্ছে, বেশিটাই গড়িয়ে পড়ছে, ভিজিয়ে দিচ্ছে বুক ব্লাউজ।
নাহ, এভাবে হবে না। জল দেওয়া যাবে না এভাবে। হাত দুটো খুলে দিতে হবে। রিস্কের কাজ হয়ে যাবে কি? একটু চিন্তা করে বিজু। মাথা কাজ করছে না ভালো। অসিতটা শালা সব ঘেঁটে পাকিয়ে দিল। বাপ তুলে গালাগালি দিল বিজুকে। মাথাটা গরম হয়ে গেল ফট করে। সেই দানবের মতো লোকটা ব্যথার চোখে দেখছিল তাকে। সেই জড়সড়ো বউটাও তাকিয়ে ছিল—চোখে অগাধ আতঙ্ক।
বোতলটা পাশে নামিয়ে রাখে বিজু।
মেয়েটা খুব কাতর চোখে তাকিয়ে আছে বোতলের দিকে। পারলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বোতলের ওপর। বিজু বঁটিটা হাতে নিয়ে ইশারা করে—অর্থাৎ গন্ডগোল করলেই এক কোপে নামিয়ে দেব গলা।
হাত দুটো খুলে দেয় বিজু।
হাত দুটো মুক্ত হতেই তাড়াতাড়ি আগে বুকের কাপড়টা গুছিয়ে নেয় মেয়েটা। তারপর ছোঁ মারার মতো বোতলটা নিয়ে জল খায়। আধ বোতলের মতো জল ছিল। এক দমে খেয়ে নেয় সবটা।
এবার মুখটা বেঁধে দিতে হবে ফের। গামছাটা নিতেই মেয়েটা একটু ধরা গলায় বলে, আর নয়, সত্যি বলছি…!
কী, ঘুমিয়েছিলে নাকি?
বিজু ঘাড় ঘোরায়। স্যাম্পেল। দরজাটা এত ছোট যে ঘাড় হেঁট করে ঢুকতে হচ্ছে।
বিজু উঠে বসে। বলে, ক’টা বাজে রে?
সাতটার মতো; খাবি কিছু?
বেশ খিদে টের পাচ্ছে বিজু। বলে, খাব। কে পড়ছে রে?
সান্টু; জ্ঞাতি জ্যাঠার নাতি। জ্যাঠাটা বহুত হারামি, তবে ছেলেটা ভালো, ওর খুব ইচ্ছে বড় হয়ে জাহাজ চালাবে।
আমিও ছোটবেলায় এই বইটা পড়েছি। তুই-ও মনে হয় পড়েছিস।
কী জানি শালা! বিজু বলে, পড়েছি হয়তো, দু-চারটে ভালো কথা কি পড়িনি লাইফে! কী খাবে বলো।
চল বাইরে গিয়ে কিছু খেয়ে আসি।
স্যাম্পেল বলে, না, এখন বাইরে গেলে তোমার রিস্ক হয়ে যাবে।
বিজু একটু অবাক চোখে তাকায় স্যাম্পেলের দিকে।
স্যাম্পেল বলে, একটু আগেও ভোঁদাই আর কোচন ঘোরাঘুরি করছিল—আমি বরং কিছু কিনে নিয়ে আসি।
একটু চিন্তার ভাঁজ পড়ে বিজুর কপালে।
এগরোল খাবে?
সে না হয় খাব। বিজু বলে, কিন্তু…।
কিন্তু কী…?
এখানে আর কতক্ষণ থাকব?
আরে থাকো না একটা-দুটো দিন; তারপর না হয় উপায় যা হোক করা যাবে।
শালা তোদের বাড়ি এত লোক—খবর হয়ে যাবে না?
চান্স কম। স্যাম্পেল বলে, আমাদের শালা হট্টগোলের বাড়ি, কেউ কারও ধান্দা রাখে না—শুধু ফুটে গেলে খবর হয়। আমি কিন্তু সিওর, তোমার পাত্তা লাগাতেই ভোঁদাইরা ঘুরছে।
একটু গম্ভীর হয়ে যায় বিজু।
স্যাম্পেল বলে, অসিত শালা এখন খুব খতরনক হয়ে গেছে—যা ইচ্ছে তাই করছে, আর প্রসূন হাজরা ফুল শেল্টার দিচ্ছে শালাকে—এই তো ওর ছেলেরা পলাশকে বাড়ি থেকে টেনে এনে উদোম ক্যালাল…।
পলাশ! একটু অবাক হয়ে বিজু বলে, পলাশ তো ওর কাছেই ছিল!
সে তো ছিল! কিন্তু ভোঁদাইটা শালা পলাশের বোনের সঙ্গে ফল্টুবাজি মারাচ্ছিল, পলাশ প্রথমে ভোঁদাইকে সাবধান করল, তারপর অসিতকেও বলল, কোনও অ্যাকশন নেই দেখে একদিন র্যাম্পাট প্যাঁদাল ভোঁদাইকে—আর পরদিনই চার-পাঁচটা ছেলে নিয়ে বাড়ি থেকে পলাশকেও টেনে বের করল ভোঁদাই।
অসিত কিছু বলেনি!
অসিত কী বলবে…। স্যাম্পেল বলে, অসিতের ফুল সাপোর্ট খেয়েই তো ভোঁদাই বাড়ছে—সেখানে আবার শালা অন্য ফিলিম—অসিত হাপসাচ্ছে ভোঁদাইয়ের বউকে…শা-ললা, যাবে কোথায় তুমি!…
পলাশ তাহলে কোথায়?
দল ছেড়ে দিয়েছে; ইলেকট্রিক লাইনে কাজ করে—। তাই বলছি, তুমি বরং ভোরের দিকে বেরিয়ে এখান থেকে কাট দাও; দেশের বাড়ি-টারি গিয়ে থাকো ক’টা দিন।
কিছু বলে না বিজু। গম্ভীর মুখে বসে থাকে।
যেমন ঢুকেছিল তেমনই দরজার কাছে মাথা হেঁট করে বেরিয়ে যায় স্যাম্পেল।
…সে তার আপন ভ্রাতা-ভগিনীগুলিকে বড় ভালোবাসে…।
মাটির দাওয়ায় বসে দুলে দুলে পড়ছে বিজু। পাশে বসে বাবা। খুব উদাস চোখে মাঝে মাঝে দেখছে তাকে। ঠাকমা উঠোনের একদিকে বসে চাঁদের আলোয় নারকোল পাতা চেঁছে কাঠি বের করছে। মা কাঠের উনুনে রান্না করছে। রান্না করতে করতে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে বিজুকে। কেমন গর্ব-ডগমগে চোখ-মুখ। তাদের এই নিটোল সংসারে আর একজন যেন ঢুকে পড়ছে মাঝে মাঝে। একে সহ্য হয় না তার। এর মুখটা দেখতে চায় না সে। এর সঙ্গে কথা বলতে চায় না। এই বিষগরল মেয়েছেলেটার পাল্লায় পড়ল বাবা।
গোপাল যেমন ভালো রাখাল তেমন নয়…
ওই মেয়েছেলেটা জানত বিজুর পছন্দ নয় তাকে। তাই সবসময় সিঁটিয়ে থাকত; সরে থাকত দূরে-দূরে। খুব চুপচাপ থাকত। চুপচাপ বিজুর জামাকাপড় কেচে দিত, ঘর মুছে দিত, থালায় পরিপাটি ভাত বেড়ে দিয়ে সরে থাকত একটু তফাতে। সময় পেলে চুপ করে বসে গান শুনত রেডিয়ো চালিয়ে, খুব আস্তে ভলিউম করে শুনত। আশ্চর্যের ব্যাপার, বিজুকে দেখলেই বন্ধ করে দিত রেডিয়ো।
এসব দেখে বিজুর রাগ দ্বিগুণ হয়ে দাপিয়ে বেড়াত। লন্ডভন্ড করে দিত ভেতরটা। ডালে নুন হয়েছে…তরকারিতে ঝাল বেশি—বিজু উলটে দিল ভাতের থালা, জামার দাগ ওঠেনি—বিজু আছড়ে ফেলল কাচা জামা।
তারপর সেই দিনের ঘটনা। মনে পড়লে এখনও রাগে গা রি রি করে ওঠে বিজুর। দুপুর রোদ মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরেছে সে। বাবা ভাত খাচ্ছিল। খেয়েদেয়ে উঠে পড়ল বাবা। হঠাৎ কপাল কুঁচকে গেল বিজুর। কোন আসনটা পেতে খেতে দিয়েছে বাবাকে! মরে যাবার আগে মা করত আসনটা। শেষ করে যায়নি। সেই আসনটা পাতা!
বিজু চিৎকার করল, আসন বের করেছে কে?
ও তখন জড়সড়ো হয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।
কে বের করল আসন? বিজুর গলায় বাঘের গর্জন।
আমি। খুব আস্তে শোনাচ্ছে গলাটা।
কেন হাত দেবে—কে বলেছে বের করতে?
আসলে আসনগুলো সব কেচে দিয়েছি, ভিজে, এখনও, তাই…। কাঁপছে গলাটা।
বিজু আগুনঝরা চোখে তাকিয়েছিল।
ও তখন তাড়াতাড়ি গিয়ে তুলতে গেল আসনটা। আর সহ্য হল না বিজুর। প্রচণ্ড একটা ধাক্কা দিল। ও ছিটকে পড়ল মেঝেতে। ককিয়ে উঠল একটু।
বাবা এসে দাঁড়িয়েছে সামনে। দৈত্যের মতো বড়সড়ো লোকটা কেমন হ্যাবলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না যেন।
বিজু আর দাঁড়ায়নি। বেরিয়ে এসেছিল বাড়ি থেকে।
মাথার ওপর খুনে সূর্য। চোখ-মুখ-কান সব ঝলসে যাচ্ছে আগুনে। পরোয়া করছে না বিজু। সে কেবল হাঁটছে হন হন করে।
হাঁটতে হাঁটতে কখন নদীর ধারে চলে এসেছে বিজু। নদীর পাড়ে লরি দাঁড়িয়ে একটা। লরি ঘিরে একটা বচসা। প্রভাত গায়েনের লরি। বালি মাফিয়া প্রভাত গায়েন। নদীর বালি বেচে লাল হয়ে গেছে লোকটা। যতটা পারমিট নেয়, কাটে তার তিনগুণ। পাড় ধসে যায়, বাঁধ ভেঙে যায়। গেল বর্ষায় চকগণেশপুরে কতটা জমি ধসে গেল নদীতে! বিজু দাঁড়িয়ে পড়ল। এখানেও বেশি বালি কাটছে। লরি ঘিরে ধরেছে কয়েকজন। বালি কাটতে দেবে না। বিজু দেখল শান্তি খুব তড়পাচ্ছে। প্রভাত গায়েনের ডানহাত শান্তি। কিছুদিন আগে শান্তি দলবল নিয়ে চড়াও হয়েছিল রুইদাসের ওপর। নদীর চরে রুইদাসের কপি আর সরষে খেত দিয়ে বালির লরি ঢুকিয়েছিল শান্তি। রুইদাস বলতে যেতেই শান্তি নাকি হুমকে এসেছিল, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল রুইদাসকে। কথাটা শুনেছিল বিজু পানুর চায়ের দোকানে। তখন মনে হয়েছিল, ঠিক হয়েছে শালা, বুড়ো ভাম, বিয়ে করবি…শালা টেঁসে গেলি না কেন…কিন্তু এখন শান্তিকে দেখে তার গনগনে রাগে কে যেন হাপরের বাতাস দিল। দপ করে ওঠে আগুন। এই শুয়ারটা তার বাবাকে মেরেছিল। কেন মারবি শালা…লোকটা শান্ত চুপচাপ বলে মারবি নাকি…। লোকটা গুছিয়ে কিছু বলতে পারে না বলে মারবি তাকে! বিজু সোজা গিয়ে কলার ধরল শান্তির। এমন আচমকা আক্রমণ সম্ভবত ভাবতেও পারেনি শান্তি। সে প্রভাত গায়েনের খাস লোক, তার গায়ে হাত! তাই যেন একটু হকচকিয়ে গেছে। তবু ফুঁসে উঠে বলল, এই হারামজাদা, ছেড়ে দে বলছি…। বিজুর মুখে একটা ঘুষি পড়ল। শান্তির কোনও ছেলে মারল বোধহয়। গ্রাহ্য করল না বিজু। তার ব্যথাও লাগল না তেমন। সে খুব গনগনে চোখে শান্তির দিকে তাকিয়ে বলল, কী বললি, বল একবার। শান্তি ফের বলল, হারামজাদা, শেষ করে দেব কিন্তু…। বিজুর পেটে লাথি মারল কেউ। ব্যথা টের পেল সে। কিন্তু খুব একটা ভারী ঘুসি বিজু বসিয়ে দিল শান্তির মুখে। পরপর দুটো। চোখ উলটে পড়ে গেল শান্তি। পড়ে নিথর হয়ে গেল একেবারে। নাক দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল গলগল করে।
ওই প্রচণ্ড রক্ত দেখে অসাড় হয়ে থাকা মনটা একটু যেন কেঁপে উঠল। কেউ একজন বলল, পালাও বিজুদা, শালার হয়ে গেছে মনে হচ্ছে।
বিজু ছুটল। এবার ভয় লাগছে। শান্তি মরে গেলে বহুত ঝামেলা। ছুটতে ছুটতে সুকান্ত পার্ক মোড়ে চলে এল। জামা ভিজে গেছে ঘামে। আগুন বেরোচ্ছে সারা গা দিয়ে। সামনেই একটা বাস পেয়ে গেল। ভাবনা-চিন্তা না করেই উঠে পড়ল বাসে।
হাওড়া-স্টেশনে নামল বিজু। নামতে হল, কারণ, বাস আর যাবে না। অচেনা জায়গা। নেমে খানিক ভুলভাল ঘুরল এদিক-ওদিক। পকেটে টাকা-পয়সা নেই তেমন। খিদেও পেয়েছে। বেশ অসহায় বোধ করল সে। দাঙ্গাবাজ বলতে যা বোঝায় বিজু কোনওদিনই নয়। বয়সের দোষে এক সময় কিছু মারামারি করেছে এই পর্যন্ত। তবে তার ব্যথাবোধ চিরকালই কিছু কম। জামগাছ থেকে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে গেছে, রক্তে ভিজে যাচ্ছে জামা, সে খুব স্থিতভাবে বন্ধুদের বলছে, দেখ তো কতটা গেছে। কিন্তু এখন যেন কিছুটা বিপন্ন বোধ করছে সে। শান্তি কাটা কলাগাছের মতো যেভাবে পড়ল, যেমন ভলকে ভলকে রক্ত বেরোচ্ছিল, মরে গেছে ঠিক। শান্তি মরে গেলে খুব ঝামেলা; প্রভাত গায়েন সহজ লোক নয়, ছেড়ে কথা বলবে না। তাই এদিক মাড়ানো যাবে না এখন। এই অচেনা শহরও কিন্তু খুব নিরাপদ জায়গা নয়। হাঁটতে হাঁটতে হাওড়া ময়দানে চলে এল বিজু। খিদের চোটে নাড়িভুঁড়ি ওলতোল হচ্ছে। স্থির হয়ে ভাবতে পারছে না কিছু। সন্ধে নেমে আসছে। ফাঁসিতলার মোড়ে এসে দাঁড়াল বিজু। ফুটপাথের ফলের দোকানে ছড়া কলা ঝুলছে। দামদস্তুর করে কলা কিনল ক’টা। তারপর সামনের রাস্তাটা ধরল।
হাঁটতে হাঁটতে একটা কলা খেয়েছে সবে, বিকট শব্দ হল পেছনে। পর পর তিনটে। এত কাছে বোমগুলো ফাটল যে শব্দের ধাক্কা আর আগুনের হলকা টের পেল বিজু। পায়ে তীব্র গরম ধারালো কিছু একটা যেন ঢুকে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে বিজু দেখল মাত্র কয়েক হাত দূরে একটা লোক রাস্তায় শুয়ে ছটকাচ্ছে। লোকজন পাগলের মতো দৌড়োচ্ছে। ঝপাঝপ শাটার পড়ছে দোকানে। বিজুও ছুটল। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারল না। সামনে আবার একটা বোম পড়ল। দুটো ছেলে খোলা রিভলভার হাতে দৌড়ে আসছে। মরিয়া বিজু বাঁ-দিকে সরু একটা গলিতে ঢুকে গেল। গলির মুখেও প্রচণ্ড শব্দ হল একটা। ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়োল বিজু। তারপর এ-গলি সে-গলি দিয়ে অন্ধের মতো ছুটল কিছুক্ষণ। রাস্তা শেষ হয়ে গেল এক সময়। সামনে টিনের চালের লম্বা একটা ঘর। বিজু ঢুকে পড়ল ঘরে।
সেই প্রথম অসিতকে দেখল বিজু। সারা ঘর জুড়ে ছড়ানো লোহার টুকরো, বস্তা, ভাঙাচোরা বড় বড় মেশিন। ঘরের এক কোণে খুব অল্প পাওয়ারের আলোয় একটা দাড়িওয়ালা লোক বাঘবন্দি খেলছে। দুদিক থেকে দুটো ছেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরেছে বিজুকে। ধরে আছে শক্ত করে।
তারপর দীর্ঘ জেরা। কয়েকটা চড়-থাপ্পড়। বিজু লক্ষ করল, এসবের মধ্যেও খুব মন দিয়ে বাঘবন্দি খেলে যাচ্ছে লোকটা। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার, খেলছে একটা মহিলার সঙ্গে। এসব হইচই, মারধর এতটুকু টলাতে পারছে না তার মনোযোগ। মেয়েটা বরং কয়েকবার তাকাতে ধমকে উঠল, এই খানকি, খেলতে হয় খেল, না হলে ফোট।
পায়ে সপ্লিনটার ঢুকেছিল বিজুর। ওখান থেকে বাইকে করে দুটো ছেলে তাকে নিয়ে এল অন্য একটা ডেরায়। আসার সময় একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখেছিল বিজু। বাঘবন্দি খেলা শেষ হতে, লোকটা সটান শুয়ে পড়ল মেয়েটার কোলে। সবাই বেরিয়ে এল ঘর থেকে।
রাতের দিকে একটা ডাক্তার এসে ব্যান্ডেজ করে দিল বিজুর ক্ষত। রুটি-তরকারি এনে দিল একটা ছেলে।
আশ্রয় জুটে গেল বিজুর। হাওড়া শহরের নতুন একদল ছেলের মধ্যে মিশে গেল বিজু।
স্যাম্পেল ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে এগরোলের গন্ধ পেল বিজু। খিদেটা যেন সঙ্গে সঙ্গে হেঁকে উঠল পেটের ভেতর। গোগ্রাসে দুটো এগরোল খেয়ে নিল বিজু।
সিগারেট ধরিয়ে স্যাম্পেল বলল, কিন্তু বস, মিনি একটা কেলো হয়ে গেছে যে!
কী? সতর্ক গলায় বলে বিজু।
তুমি এদিকেই কোথাও আছ—আঁচ পেয়েছে অসিত।
তাই নাকি!
হ্যাঁ। স্যাম্পেল বলে, এই মাত্র ভোঁদাইয়ের সঙ্গে দেখা হল, তোমার কথা জিগ্যেস করছিল।
সিগারেট ধরাতে যাচ্ছিল বিজু। থেমে গেল।
আমি শালা একটা চাল খেলেছি। বলেছি, তুমি ভাইলালের ডেরায়।
কী বলল শুনে?
খেয়েছে বলেই মনে হল—বলেছি পিলখানার কাছে তোমাকে দেখা গেছে, সঙ্গে ভাইলালের লোক।
খেয়ে গেল?
গেল; কারণ ওদের আন্দাজ ভাইলালের সাপোর্ট খেয়েই তুমি কাজটা করেছ—না হলে, তোমার এত ধক হবে না।
হুঁ। গম্ভীর মুখে বলে বিজু।
এখন একটু টাইম পাওয়া যেতে পারে। স্যাম্পেল বলে, তার আগেই তোমাকে কাটতে হবে কিন্তু…।
এতক্ষণ হাতে ধরে থাকা সিগারেটটা ধরায় বিজু।
স্যাম্পেল বলে, ভোঁদাই শালা আবার ওই মেয়েটার কাছে গিয়ে হুড়ুমবাজি করে এসেছে।
কোন মেয়েটা?
আরে, তাড়া খেয়ে যে মেয়েটার ঘরে ঢুকেছিল তুমি—বিনোদ মল্লিক লেনের কাছে যে মেয়েটা ভাড়া থাকে।
খুব অবাক হয়ে বিজু বলে, ওর কাছে কেন?
ওদের আইডিয়া মেয়েটা তোমার চেনা, জেনেবুঝেই তোমাকে শেলটার দিয়েছিল। আমার মনে হয় তুমি দেশের বাড়ি চলে যাও, অসিত অতদূর পাত্তা করতে পারবে না।
চুপ করে বসে থাকে বিজু। সিগারেটে টান দেয় একটা। সেই বাড়ি ছেড়েছিল, তারপর আর যাওয়া হয়নি। জেল হয়েছে খবর পেয়ে বাবা দেখা করতে এসেছিল জেলে। বিজু কথা বলেনি। এখন বাড়ির দিকে কোনও বিপদ নেই। শান্তি শালা মরেনি। একবেলা হসপিটালে থেকে দিব্যি ফিট হয়ে যায়। তার ওপর প্রভাত গায়েন একেবারে ধস খেয়ে গেছে। সেরকমই খবর পেয়েছে সে। পুলিশ রেড হয়েছিল প্রভাতের বাড়ি। প্রচুর গাঁজা পাওয়া গেছে। প্রভাত ফেরার। বালির কারবারও বন্ধ। শান্তি রোডের ধারে পান-বিড়ির দোকান দিয়েছে। সুতরাং, ওদিকে গেলে কোনও বিপদ নেই।
বস, মেয়েটা কি একদম অচেনা তোমার?
বিজু তাকায় স্যাম্পেলের দিকে। বলে, কী মনে হয় তোর?
না, একদম আনকা একটা মেয়ের ঘরে এতক্ষণ ছিলে—তাই বলছি…।
মেয়েটার কথা মনে পড়ে যায় বিজুর। মেয়েটা বলতে গেলে কিছু উপকারই করেছে তার। হয়তো ভয়েই করেছে। খুব কাকুতি-মিনতি করছিল মেয়েটা। বলছিল, মরে যাবে; মুখ বাঁধলে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে… নি:শ্বাস নিতে পারছে না। মেয়েটাকে তাই আর বাঁধেনি বিজু। আরও বেশ কিছুক্ষণ ছিল সে মেয়েটার ঘরে। খুব বাধ্য মেয়ের মতো চুপ করে বসে ছিল মেয়েটা। জড়সড় হয়ে বসে ছিল। চোখ-মুখে প্রবল আতঙ্ক। চলে আসার সময় বিজু আবার বাঁধতে গেল মেয়েটাকে। মেয়েটা কান্নাকাটি শুরু করল। বিজু বলল, কিন্তু আমি বেরিয়ে গেলেই তো চিৎকার করবে?
না। মাথা নেড়ে জানিয়েছিল মেয়েটা।
চেঁচামেচি করলে কিন্তু বহুত খারাপ হয়ে যাবে…।
মেয়েটা ঘাড় নেড়েছিল।
তোমায় বাইরে যেতে হবে; তখন কিন্তু ছাড়ব না।
মেয়েটা চুপ করে তাকিয়েছিল শুধু। বিজু ভাবল, এখন বাঁধতে গেলে যদি চিৎকার করে তবে বিপদ। তার চেয়ে রিস্ক নেওয়া যাক। আরও একপ্রস্ত হুমকি দিয়ে চলে এসেছিল বিজু।
মেয়েটা চিৎকার করেনি। হয়তো ভয়েই করেনি। বিজুর হঠাৎ মনে হল, চিৎকার করলে হয়তো মেয়েটা নতুন ঝামেলায় পড়ত না। চিৎকার করেনি বলেই ভোঁদাই হুজ্জুতি করেছে ওর কাছে। ভাবছে, জেনে বুঝেই শেলটার দিয়েছে বিজুকে। না হলে, চলে যাবার পরই নিশ্চিত চিৎকার চেঁচামেচি করার কথা।
অসিত জানল কী করে, আমি ওখানে ঢুকেছিলাম?
স্যাম্পেল বলে, কেউ মনে হয় তোমাকে বেরোতে দেখেছে, খবর হয়ে গেছে তারপর।
হুঁ।—বলে আবার চুপচাপ সিগারেটে টান দেয় বিজু। মেয়েটা কথা রেখেছে। হয়তো ভয়েই রেখেছে। কেউ ঠিক দেখেছে বিজু নির্বিবাদে চলে গেল মেয়েটার ঘর থেকে। কোনও চিৎকার-চেঁচামেচি হল না। তাই নতুন করে বিপদে পড়েছে মেয়েটা। অসিতের নৃশংসতা খুব ভালো করে জানে বিজু। মেয়ে দেখলে চকচক করে ওঠে চোখ। মেয়েটাকে দেখতে মন্দ নয়। ভোঁদাই গেছে মেয়েটার কাছে। আবার যাবে। অসিতও যাবে হয়তো। মেয়েটা বাঁচবে না। চিৎকার করলে কিন্তু বিপদে পড়ত না মেয়েটা। হয়তো ভয়েই করেনি। তবু করেনি তো! বাঁচবে না বেচারি। ভোঁদাই-অসিত বাঁচতে দেবে না ওকে।
পলাশ এখন থাকে কোথায়? স্যাম্পেলের দিকে তাকিয়ে বলে বিজু।
যেখানে থাকত—মেলাপাড়ায়। কেন?
না, এমনি।
অন্য কিছু ধান্দা করছ নাকি?
না, তেমন কিছু নয়।
স্যাম্পেল বলে, আমার মনে হয় এখন তোমার এলাকা থেকে কেটে যাওয়া ভালো,—অসিত হারামির বাচ্চাটা সব পারে।
জানে বিজু। আর জানে বলেই মনে হচ্ছে এখানে তার থাকা দরকার। খুব দরকার।
তখন প্রায় মধ্যরাত। দাশনগর স্টেশন লাগোয়া বস্তিতে চুপিসারে ঢুকল একটা লোক। গোটা এলাকা ঘুমিয়ে কাদার তাল হয়ে আছে। একটা মাতাল শুধু রাস্তার পাশে উপুড় হয়ে পড়ে বিড়বিড় করছে। কয়েকটা কুকুর চিৎকার করে প্রতিবাদ করল লোকটার অনধিকার প্রবেশের বিরুদ্ধে।
খুব দ্রুত আর লঘু পায়ে এগিয়ে গেল লোকটা। এদিক-ওদিক তাকিয়ে একটা ঘরের সামনে দাঁড়াল। তারপর এগিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিল দরজায়।
সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে কেউ একজন চিৎকার করে বলল, কে!
পলাশ, আমি রে! চাপা গলায় লোকটা বলল, দরজা খোল, কথা আছে।
