সাত
মাস্টারদা বললেই ঘুম আসবে দুই চোখে, এমন অবস্থা নবকুমারের ছিল না। বিছানায় শুয়ে সে কেবলই ভাবছিল একটু আগে দেখা দৃশ্যটির কথা। এরকম দৃশ্য সে কখনও গ্রাম বা গঞ্জে দেখেনি। ওই পুলিশগুলো কারা? এরা সত্যি-সত্যি পুলিশ তো? খবরের কাগজে পড়েছে পুলিশের পোশাক পরে গুন্ডারা নাকি অত্যাচার চালাতে খুব পছন্দ করে। নবকুমারের মনে হল এরা বোধহয় সেই গুন্ডার দল যারা একটা পুলিশের গাড়ি চুরি করে নিয়ে এসেছিল। এই কারণেই গ্রামের লোকেরা বলে কলিকাতা একটা ভয়ঙ্কর জায়গা। হঠাৎ তার খেয়াল হল, তাকে এখনও একটা মশা কামড়ায়নি। রাতে মশা, দিনে মাছি, এই নিয়ে কলিকাতায় আছি। পাঠ্যপুস্তকে পড়া কবিতার লাইনগুলোর সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই, তা তো বোঝাই যাচ্ছে।
এই সময় একটা গাড়ির আওয়াজ কানে এল। গাড়িটা ঠিক এই বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। এখন নিশ্চয়ই অনেক রাত। এত রাতে কে এল? কৌতূহল নবকুমারকে জানলায় টেনে নিয়ে এল। মাস্টারদা এখন গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে।
একটা কালো রঙের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ির পেছনের দরজা খুলে নীল শাড়ির আঁচলে মুখমাথা ঢাকা একজন মহিলা বেরিয়ে দ্রুত সামনের বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল। ঠিক তখনই ড্রাইভারের পাশ থেকে লাঠি হাতে যে লোকটা নেমে এল তার শরীরের শক্তি সম্পর্কে কোনও মূর্খ সন্দেহ করবে না। বিশাল চেহারা, পরনে একটা ফতুয়া আর ফুলপ্যান্ট, বিশাল গোঁফ নিয়ে লোকটা চারপাশে সতর্ক চোখ ঘোরাচ্ছিল।
এখন এখানে কোনও শব্দ নেই। এমনকি রিকশাও চলছে না পথ দিয়ে। হঠাৎ সামনের বাড়ির দোতলা থেকে চিৎকার ভেসে এল, ‘নো। আমি যাব না। গেট আউট, গেট আউট ফ্রম হিয়ার!’ কিন্তু ক্রমশ কণ্ঠস্বর শক্তি হারাচ্ছিল। তারপর দুজন চাকরশ্রেণির লোকের কাঁধে দু-হাতের ভর রেখে পাঞ্জাবি-পাজামা পরা একটি লোককে বেরিয়ে আসতে দেখল নবকুমার, পেছন-পেছন ফিরে এলেন সেই নীল শাড়ির মহিলা।
লোকটিকে গাড়িতে তুলে দিয়ে নীল শাড়ির দিকে তাকিয়ে সেলাম করল লোকদুটো। তিনি দুটো বড় নোট বের করে ধরে রেখেছিলেন বাঁ-হাতে। সে-দুটো এখন ওদের দিকে ছুড়ে দিতে তারা লুফে নিল।
নীল শাড়ি গাড়িতে উঠলে লাঠিয়াল তার দরজা বন্ধ করে সামনে উঠে বসতেই গাড়ি ছেড়ে দিল। ধীরে-ধীরে চোখের সামনে থেকে সেটা বেরিয়ে গেল।
আবার মাথায় চিন্তাগুলো ছোবল মারতে লাগল। এই ভদ্রমহিলা লোকটার কে হন? স্ত্রী? বোন? বোন বলে মনে হয়নি তার। এই বাড়ি ওই ভদ্রমহিলার বেশ পরিচিত। না হলে গাড়ি থেকে স্বচ্ছন্দে নেমে যাতায়াত করতে পারতেন না। উনি কি রোজ রাত্রে লোকটাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এখানে আসেন? এটা যে লোকটার বাড়ি নয় তাতে সন্দেহ নেই। তাহলে চিৎকার করে বলত না, আমি যাব না।
আধঘণ্টা পরে দুই দলের গুলি ছোঁড়াছুড়ি দেখল নবকুমার। তারপর যখন রাত শেষ হয়ে আসছে তখন সে অবাক হয়ে দেখল দশ-বারোটা বুড়োবুড়ি হরেরাম হরেকৃষ্ণ গাইতে-গাইতে পথ দিয়ে যাচ্ছে। বড় মধুর লাগল দৃশ্যটি। আর তখনই তার ঘুম-ঘুম পেতে লাগল। বিছানায় ফিরে এল নবকুমার। বালিশে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করতে ধীরে-ধীরে সে তলিয়ে গেল ঘুমের অতলে।
কলিকাতায় নবকুমারের প্রথম ঘুম এল সূর্যোদয়ের ঠিক আগে।
সোনাগাছিতে কোনও ঘর খালি পড়ে থাকে না। শেফালি-মায়ের বাড়িতে প্রচুর মেয়ে। খদ্দের চলে যাওয়ার পর একটা ছোট ঘরেই তিন-চারজন কোনওরকমে ঘুমোতে পারে। কিন্তু শেফালি-মা একটি ছোটঘর কখনও ভাড়া দেননি। কেন দেবেন না, সেই কৈফিয়তও দিতে চাননি। বাড়ির মেয়েরা শেফালি-মা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। মুক্তোই তাদের সামলায়। মুক্তোর মুখকে ভয় করে না এমন মেয়েকে এ-বাড়িতে রাখা হয় না।
মাস্টারদার ঘুম ভেঙেছিল সকালেই। নবকুমার তখন গভীর ঘুমে। ঘরের গায়েই কল-পায়খানা। স্নান সেরে সে নবকুমারকে ডাকল। নবকুমারের সাড়া নেই। সারা দিন-রাতের ট্রেনযাত্রার ধকল, সারারাত জেগে থাকার কষ্ট সইয়ে নিতে শরীর এখন ঘুম চাইছে। মাস্টারদা ঘরের বাইরে পা দিতেই মুক্তোকে দেখতে পেল। সম্ভবত কোনও মন্দিরে পুজো দিয়ে ফুলপ্রসাদ নিয়ে ফিরছে।
মাস্টারদা বলল, ‘শেফালি-মা—!’
‘দেখছি। একটু দাঁড়াতে হবে।’ মুক্তো ঢুকে গেল পাশের দরজা দিয়ে।
মিনিটখানেক বাদে মুক্তো ফিরে এল, ‘এখন পেপার পড়ছে। পেপার পড়ার সময় কথা বলতে পছন্দ করে না। দরকারটা খুব জরুরি?’
‘না, মানে আমি বেরুচ্ছি। আমার সঙ্গে যে ছেলেটি এসেছে তার বোধহয় শরীর খারাপ হয়েছে। ঘুমোচ্ছে। আমি দুপুরে ফিরে এসে নিয়ে যাব।’ মাস্টারদা বলল।
‘ওমা! চিনি না, জানি না, একটা উটকো ব্যাটাছেলেকে ঘাড়ের ওপর বইতে হবে? না-না, দাঁড়াতে হবে আর একটু।’ মুক্তো ভেতরে চলে গেল।
ফিরেও এল দ্রুত, ‘ডাকছে।’
মাস্টারদার বেশ মজা লাগছিল। মুক্তো তার সঙ্গে কথা বলার সময় ‘তুমি’ বা ‘আপনি’ উহ্য রাখছে। এরকমভাবে কথা বলা খুব শক্ত ব্যাপার। সে ঘরে ঢুকল।
শেফালি-মা বিছানায় বসে নাকের ডগায় চশমা বসিয়ে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। মাস্টারদা ঢুকতে কাগজ নামালেন।
মাস্টারদা বললেন, ‘আমি একটু গদি থেকে—।’
‘সেটা তো এগারোটার আগে খোলে না।’ শেফালি-মা বললেন, ‘যে চুলোয় যাচ্ছ শিষ্যকে নিয়ে যাও।’
‘ওর শরীর খারাপ হয়েছে। অন্তত এগারোটা অবধি থাকতে দিন। তখন আমি এসে ওকে নিয়ে যাব।’ মাস্টারদা অনুরোধের গলায় বলল।
তার দিকে খানিকটা সময় তাকিয়ে থেকে শেফালি-মা বললেন, ‘ঠিক আছে।’
মাস্টারদা আর সময় নষ্ট করল না।
কিছুক্ষণ বাদে শেফালি-মা ডাকলেন, ‘মুক্তো!’
ওপাশের ঘর থেকে মুক্তো জানান দিল, ‘যাচ্ছি।’
মিনিটখানেক বাদে এক কাপ চা আর বিস্কুট নিয়ে এসে বিছানার পাশের টুলের ওপর রাখল মুক্তো, ‘বলো।’
‘মহিলা দুর্বার সমিতিতে কখন নিয়ে যেতে বলেছে মেয়েটাকে?’
‘সাড়ে বারোটার সময়।’
‘তোর কি মনে হয় ওর আঠারো হয়নি?’
‘মেয়েমানুষের শরীরের ষোলো আর কুড়ির মধ্যে ফারাক কতটুকু বলো?’
‘যা বলছি তার জবাব দে!’
‘মনে হয় হয়নি।’
‘বীণাকে ডাক। এখনই।’
মুক্তো বেরিয়ে যাচ্ছিল, শেফালি-মা আবার বললেন, ‘মাস্টার বলে গেল ছেলেটার শরীর খারাপ হয়েছে। একবার গিয়ে দেখিস তো! কী কষ্ট হচ্ছে জিজ্ঞাসা করে আয়। আর যদি ওর চা খাওয়ার অভ্যেস থাকে তাহলে এক কাপ চা দিস।’
মুক্তো বেরিয়ে গেল।
নবকুমার ঘুমোচ্ছিল। তার হাঁটুদুটো প্রায় কোমরের কাছে। মুক্তো দৃশ্যটা দেখল। তারপর এগিয়ে এসে কপালে আঙুল ছুঁইয়ে ঠোঁট মুচড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
.
বীণার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে অনেকদিন। কিন্তু আশেপাশের মেয়েরা ওর মুখে ওই পঞ্চাশই শুনে আসছে। গায়ের রং শ্যামলা। শরীর বেঁটেখাটো। সবসময় পান দুই গালে টোপর হয়ে আছে।
মুক্তো খবরটা দিতেই বীণা চোখ বড় করেছিল, ‘বাড়িওয়ালি ডাকলেই ছুটতে হবে! বলো হাতের কাজ শেষ করে সময় হলে যাব।’
‘বলব। কিন্তু এখন গেলেই ভালো করতে।’ বীণা পেছন ফিরল।
‘বাড়িওয়ালি না থানার দারোগা তা বুঝতে পারি না। ঠিক আছে, চল।’
যেতে-যেতে জিজ্ঞাসা করল, ‘ডাকছে কেন?’
‘গিয়ে শুনবে।’
মুক্তোর পেছনে থাকায় তাকে ভ্যাংচাতে বীণার সুবিধে হল।
ঘরে ঢুকে একগাল হেসে বীণা বলল, ‘মা আমাকে ডেকেছ?’
‘আজ সাড়ে বারোটায় মেয়েটাকে নিয়ে দুর্বারে যাবে।’
‘যেতে হবেই?’
শেফালি-মা অবাক চোখে বীণাকে দেখলেন, ‘মহিলা দুর্বার সমিতির সঙ্গে তুমি লড়াই করতে চাও নাকি? করতে পারো। তাহলে আমার বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।’
বীণা বলল, ‘না-না, তা বলছি না। তবে বলছি, এটা কিন্তু জোরজুলুম। আগে মেয়েদের তেরো-চৌদ্দতে বাচ্চা হত। সেই বাচ্চা বড়ও হত। আমার দিদিমার শুনেছি তেরো থেকে আঠারোর মধ্যে চার-চারটে বাচ্চা হয়ে গিয়েছিল। এখন এই মেয়ের যদি ষোলো বছর বয়স হয় তাহলে ব্যাবসা করতে পারবে না? দিব্যি পারবে।’
‘এখন আঠারোর নীচে বিয়ে দেওয়া যখন আইনবিরুদ্ধ তখন দুর্বার যে নিয়ম করেছে তা মানতে হবে।’ শেফালি-মা বললেন।
বীণা দু-পা এগিয়ে এল, ‘কিন্তু মা, তোমাকে সত্যি বলছি, নগদ বারো হাজার দিয়ে কিনেছি। ওর প্রেমিক ওকে দিয়ে টাকা গুণে নিয়ে গিয়েছে। দু-দিন কেঁদেছিল, কাল থেকে চুপ মেরে আছে। যদি ওরা বলে আঠারো হয়নি তাহলে আমার টাকাটা যে জলে পড়ে যাবে।’
‘আমি কোনও কথা শুনতে চাই না বীণা। তুমি আমার কাছ থেকে দুটো ঘর ভাড়া নিয়েছ। এর আগে দু-দুবার কেলেঙ্কারি হয়েছে তোমার ওখানে, আমি কিছু বলিনি। তখন দুর্বার সমিতি তৈরি হয়নি। ওরা এলাকায় মেয়েদের নিয়ে সমিতি গড়ছে মেয়েদের উপকার করতে। আমার বাড়িতে থাকতে হলে ওদের কথা তোমাকে শুনতে হবে।’ শেফালি-মা সরাসরি বলে দিলেন। বীণা আর কথা না বাড়িয়ে মুখ কালো করে চলে গেল।
.
সকাল সাড়ে দশটায় মুক্তো এসে শেফালি-মাকে খবর দুটো দিল। বীণা নাকি খুব চেঁচামেচি করছে। কারণ তার ঘর থেকে নতুন মেয়েটা পালিয়ে গিয়েছে। টাকা যায় যাক, এখন দুর্বার সমিতিতে গিয়ে সে কাকে পরীক্ষা করাবে?
দ্বিতীয় খবরটি হল, নবকুমারের ঘুম ভেঙেছে। তাকে চা দেওয়া হয়েছে।
শেফালি-মা খবরটা শুনে গম্ভীর হলেন।
তারপর বললেন, ‘বংশীকে বল আমার সঙ্গে দেখা করতে। এখনই।’
‘ওই ছেলেটাকে কী বলব?’ মুক্তো জিজ্ঞাসা করল।
‘কোন ছেলে?’
‘যাকে চা দিয়ে এলাম।’
‘ও:। ওকে নিয়ে ভাবার তো কোনও কারণ হয়নি। বীণার যে এত বাড় বেড়েছে তা আমার জানা ছিল না। এত সাহস তো ও একদিনে পায়নি। এখানকার কোনও খবর দেখছি তুই আমাকে ঠিকঠাক দিস না। যা বললাম তাই কর।’ গম্ভীর মুখে বললেন শেফালি-মা।
.
ঘুম ভাঙার পর চা খাওয়ার অভ্যেস নেই নবকুমারের। স্টেশনের দিকে গেলে রতনের দোকানে মাঝে-মাঝে এক গ্লাস কখনও খেয়ে থাকে। কিন্তু এখন চায়ে বিস্কুট ভিজিয়ে খেতে বেশ ভালো লাগল।
সেই ভয়ংকর চেহারার মেয়েমানুষ চায়ের কাপডিশ সামনে রেখে চলে গিয়েছিল কোনও কথা না বলে। মাস্টারদার কথা ওকে জিজ্ঞাসা করার সুযোগ হয়নি। ঘুম ভাঙার পর মাস্টারদাকে দেখতে না পেয়ে বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু চা পাওয়ার পর সেটা কেটে গেল।
এখন এ-বাড়িতে কোনও শব্দ নেই। গান দূরের কথা, কোথাও হারমোনিয়াম বাজছে না। মেয়েদের চিৎকার হাসি শোনা যাচ্ছে না। অদ্ভুত শান্ত চারধার। সে জানলার পাশে এসে দাঁড়াল। গতরাতের রাস্তাটা যেন ঝিমোচ্ছে। একটা খালি রিকশা অলসভাবে চলে গেল। এরকম রিকশা তাদের গ্রামে কেউ দেখেনি। ওখানে ভ্যানরিকশায় আটজন যাওয়া আসা করে। নবকুমারের মনে হল, এটা বাবুদের রিকশা।
চা শেষ করতেই চিৎকার কানে এল। একজন মহিলা তারস্বরে চেঁচাচ্ছে। গ্রামের মেয়েদের ঝগড়া সে দেখেছে, চেঁচামেচি শুনেছে। তাদের কণ্ঠস্বর এর কাছে কিছু নয়। জানলা থেকে সরে এল সে। এখান থেকে আজই চলে যেতে বলেছেন শেফালি-মা। কিন্তু কোথায় যাবে তা একমাত্র মাস্টারদাই জানে। তার ফিরে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। খাটের একপাশে বসল নবকুমার। মেলার পাশে হোগলার ছাউনিতে রং মেখে যারা দাঁড়িয়ে থাকে তাদের শহরের বাড়ি এটা। কলিকাতায় এসে সে এমন একটা বাড়িতে রাত কাটিয়েছে জানলে বাবা-মায়ের কী অবস্থা হবে? হাসল নবকুমার। ওরা ভাবতেই পারবে না সে নিশ্চিন্তে এরকম বাড়িতে ঘুমিয়েছে।
.
যাত্রা করতে গিয়ে শেফালি-মায়ের সঙ্গে মাস্টারদার পরিচয় হয়েছিল। সেই সুবাদে ওকে নিয়ে চলে এসেছেন রাত্রের আশ্রয়ের জন্যে। কলিকাতায় নিশ্চয়ই অনেক হোটেল আছে। সেখানে গিয়ে উঠল না কেন? পয়সা খরচ হওয়ার ভয়ে?
এই সময় দরজায় শব্দ হল। মুক্তো ঘরে ঢুকে ঘোষণা করল, ‘মা ডাকছে।’
.
শেফালি-মায়ের সামনে পানের ডিবে। এক খিলি পান মুখে দিয়ে বললেন, ‘রাত দুপুরে মাস্টার তোমাকে নিয়ে হাজির হয়েছিল বলে না বলতে পারিনি। বলেছিলাম সকালে চলে যেতে। অথচ দুপুর পর্যন্ত পড়ে-পড়ে ঘুমাচ্ছ!’
মাথা নীচু করল নবকুমার, ‘মাস্টারদা এলেই চলে যাব।’
‘সে যদি আর এ-মুখো না হয়?’
‘মানে?’ অবাক হল নবকুমার।
‘মাথার বোঝা এখানে ফেলে যদি গা-ঢাকা দেয় তাহলে কী করবে?’
‘মা-মা, মাস্টারদা ঠিক ফিরে আসবে!’ মাথা নাড়ল নবকুমার।
‘তোমাকে বলে গিয়েছে?’ শেফালি-মা পান চিবোলেন। চোখ নবকুমারের ওপর!
