1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ৪৯

উনপঞ্চাশ

বাড়িতে ফেরা মাত্র মুক্তো একটা পোস্টকার্ড এগিয়ে দিল, ‘তোমার চিঠি। যাত্রাদলের গদিতে এসেছিল। শেফালি-মাকে ফোন করেছিলেন বড়বাবু। আমাকে গিয়ে নিয়ে আসতে হল।’

পোস্টকার্ড হাতে নিয়ে নবকুমার দেখল ওটা বাবা লিখেছে।

‘তুমি এখানকার ঠিকানা দাওনি কেন ওদের?’

‘তখন রোজ ওখানে যেতাম—!’

‘কালই ভবানীপুরের ঠিকানা জানিয়ে চিঠি দেবে। হাঁটতে কষ্ট হয়, ট্যাং-ট্যাং করে আমাকে অত দূরে ছুটতে হল। চা খাবে?’

‘না।’

ঘরে এসে আলো জ্বালিয়ে চিঠিটা পড়ল নবকুমার। ‘স্নেহের খোকা। আশা করি ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছ। কিছুদিন হইল তোমার মা পেটের যন্ত্রণায় গুরুতর অসুস্থ। তাহাকে সদরের হাসপাতালে ভরতি করিতে হইবে। কিন্তু আমার অর্থাভাব এত প্রবল যে, কী করিব বুঝিতে পারিতেছি না। সত্বর চার-পাঁচ হাজার টাকার প্রয়োজন। ইতি, আশীর্বাদক তোমার বাবা।’

হঠাৎ বুকের ভেতরটায় দারুণ চাপ এবং সেই চাপ থেকে কান্না ছিটকে বের হল। নবকুমার বিছানায় বসে দু-হাতে মুখ ঢেকে কিছুক্ষণ কাঁদল। তার শরীর কিছুতেই স্থির হচ্ছিল না। প্রাণপণে চেষ্টা করছিল যাতে এ-ঘরের বাইরে শব্দ না যায়।

মিনিটকয়েক বাদে একটু শান্ত হয়ে আবার চিঠিটাকে দেখল সে। ওপরের ডানদিকে বাড়ির ঠিকানা লেখা। চিঠিটা পোস্ট হয়েছে তিনদিন আগে। তার কাছে যা আছে তা এই মুহূর্তে পাঠাতে ইচ্ছে করছে। যেমন করে হোক মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। মায়ের মুখটা মনে পড়ল। এই পৃথিবীর কোনও জটিলতা মাকে স্পর্শ করেনি। জীবন যে কত জটিল, কত হিংস্র তা মায়ের অজানা। মা মানে একজন স্নেহ অভিমানে সারল্যে ভরপুর মানবী ছাড়া আর কিছু নয়। ওঁকে যা বোঝানো হয়, তাই ঠিক ভেবে নেন। তাঁর কলিকাতায় আসার ব্যাপারে মায়ের বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না। ছেলেকে কাছছাড়া করতে চাননি তিনি।

মাস্টারদা থাকলে হয়তো একটা ব্যবস্থা হত। মাস্টারদা যদি বড়বাবুকে বলত, নবকুমারকে পাঁচ হাজার টাকা দিন, ওর মায়ের চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজন, তাহলে তিনি হয়তো অর্ধেক টাকা দিতেন। বাকিটা সে তার সঞ্চিত টাকা থেকে দিতে পারত। কিন্তু মাস্টারদা না থাকায় তাকেই বলতে হবে কথাটা। কিন্তু বড়বাবু যদি না দেন?

দরজায় শব্দ হল। ঘরে ঢোকার সময় ওটা ভেজিয়ে দিয়েছিল, অভ্যেস। নবকুমার উঠে দরজা খুলে খুব অবাক হল, শেফালি-মা দাঁড়িয়ে আছেন।

‘আপনি?’

‘তোমার শ্যুটিং কবে থেকে শুরু হচ্ছে?’

‘বোধহয় পরশু কি তার পরের দিন।’

‘এই দফায় তোমার কাজ কতদিনের?’

‘আমি জানি না।’

‘আ:!’ শেফালি-মা বিরক্ত হলেন, ‘এসব তো প্রাথমিক ব্যাপার। তোমার যেমন জেনে নেওয়া উচিত, ওদেরও জানানো দরকার। কাকে ফোন করলে জানতে পারবে?’

নবকুমার ভেবে পেল না। গীতিময়বাবু নিশ্চয়ই জানেন। কিন্তু তাঁর ফোন নম্বর জানা নেই। বড়বাবু কী বলতে পারবেন? কবে শুরু হচ্ছে, তা নিশ্চয়ই তিনি জানেন। কিন্তু তাকে কবে-কবে লাগবে এটা না-ও জানতে পারেন। মন্দাক্রান্তাকে ফোন করলে কেমন হয়? মন্দাক্রান্তা নিশ্চয়ই গীতিময়বাবুর ফোন নম্বর জানে।

‘যে মহিলার ফোন এসেছিল তিনি বলতে পারবেন না?’ শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন।

‘আমি ঠিক জানি না। ওঁকে ফোন করব?’

‘নিশ্চয়ই।’

‘শেফালি-মায়ের ঘরে এল ওরা। শেফালি-মা নিজেই ডায়াল করে দিলেন। একটু পরেই মন্দাক্রান্তার গলা শুনতে পেল নবকুমার। সে বলল, ‘আমি নবকুমার বলছি।’

‘হোয়াট এ সারপ্রাইজ! তুমি-এর মধ্যেই ছাড়া পেলে?’ মন্দাক্রান্তা শব্দ করে হাসলেন।

‘তার মানে?’

‘শুনলাম তোমাকে ছবির নায়িকা হাইজ্যাক করে নিয়ে গিয়েছে?’

‘কে বলল?’

‘এখানে রসালো খবর বাতাসের আগে ছোটে।’

‘আমি এখন বাড়িতে। আমার একটা কথা জানা খুব জরুরি। আপনি কি বলতে পারবেন? আমার শ্যুটিং ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে আর ঠিক কবে-কবে আমাকে লাগবে?’

‘এটা তো প্রাোডাকশান ম্যানেজার বলতে পারবে। কেন বলো তো?’

‘আমাকে একবার দেশে যেতে হবে।’

‘সে কী! এখন?’

‘আমার মা খুব অসুস্থ।’

‘ওহো। তুমি পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করো, আমি তোমাকে জানাচ্ছি।’

রিসিভার নামিয়ে রেখে নবকুমার বলল, ‘উনি এখনই জানাবেন বললেন।’

‘তোমার মায়ের পেটে কি আগেও যন্ত্রণা হত?’ শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন।

‘জানি না। মা কখনও বলেনি।’

‘কত বয়স ওঁর?’

‘আমার চেয়ে সতেরো বছরের বড়। এখনও চল্লিশ হয়নি।’

‘তোমাদের গ্রামে হেলথ সেন্টার নেই?’

‘না। পাশের গ্রামে আছে। কিন্তু সেখানে ওষুধপত্র পাওয়া যায় না।’

‘সদর হাসপাতাল কতদূরে?’

‘বাসে দেড়ঘণ্টা লাগে। তবে বাড়াবাড়ি হলে লোকে রোগীকে কলিকাতায় নিয়ে আসে। কিন্তু সবাই তো সেটা পারে না।’

‘কেন?’

‘টাকা-পয়সার জোগাড় করতে পারে না।’

এই সময় ফোন বাজাল। শেফালি-মা বললেন, ‘ধরো। তোমার ফোন।’

রিসিভার তুলল নবকুমার। মন্দাক্রান্তার গলা, ‘তুমি কাল গিয়ে পরশু ফিরে আসতে পারো। তরশু বিকেলে তোমার শ্যুটিং হওয়ার কথা। যদি দ্যাখো খুব সমস্যা, তাহলে তরশু এসো। তবে তার আগে আমাকে একটা ফোন করবে। আমি গীতিময়বাবুকে বলব, তার পরের দিন থেকে তোমার কাজ আরম্ভ করতে। এতে হবে?’

‘অবশ্যই। আপনি আমার খুব উপকার করলেন।’

‘তুমি সত্যিই একটা বুদ্ধু। বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানো মানে তার উপকার করা নয়। রাখছি। গুড নাইট।’

শেফালি-মাকে জানাল নবকুমার।

শেফালি-মা বললেন, ‘তাহলে তুমি ভোর-ভোর বেরিয়ে ট্রেন ধরো।’

মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘সকালে যাওয়া যাবে না।’

‘কেন?’

‘বড়বাবু বারোটার আগে গদিতে আসেন না। অন্তত চার হাজার টাকা না নিয়ে গেলে কোনও কাজ হবে না। আমার কাছে যা আছে তাতে হবে না। বাকি টাকাটা ওঁর কাছে ধার চাইতে হবে।’

কথাগুলো বলে দরজার দিকে হাঁটছিল নবকুমার। শেফালি-মা বললেন, ‘দাঁড়াও।’ তারপর টেবিলের ওপর রাখা একটা বইয়ের ভেতর থেকে চিলতে কাগজ বের করলেন, ‘তুমি কাল ভোরেই যাবে। মনে হয় তুমি পৌঁছবার আগেই ওঁরা টাকা পেয়ে যাবেন।’

শেফালি-মা কাগজটা এগিয়ে দিতে সেটা নিয়ে নবকুমার দেখল ওটা একটা রসিদ। পাঁচ হাজার টাকা টি এম ও করা হয়েছে নবকুমারের বাবার নামে, আজ দুপুর তিনটের সময়। সে হতভম্ব হয়ে গেল।

শেফালি-মা বললেন, ‘যাও। খেয়ে শুয়ে পড়ো। মুক্তো তোমাকে ভোরবেলায় ডেকে দেবে।’

কথাগুলো কানে ঢুকল না। নবকুমার দু-হাতে মুখ ঢেকে হাউহাউ শব্দে কেঁদে উঠল। শেফালি-মা এগিয়ে এলেন, ‘কাঁদছ কেন? তোমার মা ভালো হয়ে যাবেন।’

‘আপনি-আপনি—আমি আপনার কেউ নই। আমাকে ভালো করে জানেনও না। কিন্তু চিঠিটা দেখে আপনি এতখানি উপকার করবেন আমি চিন্তাও করিনি।’ প্রতিটি শব্দ কান্নায় জড়ানো ছিল।

শেফালি-মা হাসলেন, ‘তুমি কি ভেবেছ আমি টাকাটা দান করেছি?’

মুখ থেকে হাত সরাল নবকুমার, ‘না-না!’

‘ঠিক। আমি তোমাকে ধার দিয়েছি। ওঁদের এখন টাকার দরকার। তাই। কিন্তু এই ছবি থেকে যে টাকা তুমি পাবে তার থেকে পাঁচ হাজার আমাকে ফেরত দেবে। ব্যস। যাও।’ শেফালি-মা নবকুমারের কাঁধে হাত রাখলেন।

.

ভোর-ভোর ডেকে দিয়েছিল মুক্তো। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিজের জমানো টাকা প্যান্টের ভেতরের পকেটে ঢুকিয়ে বাইরে আসতেই মুক্তো বলল, ‘সাবধানে যেও। পারলে মাকে ফোন কোরো।’

‘শেফালি-মা?’

‘ঘুমোচ্ছেন। তুমি যাও, আমি বলে দেব।’

জামাপ্যান্ট ইত্যাদি নেওয়ার জন্যে মুক্তো যে ব্যাগটা দিয়েছিল, সেইটে হাতে নিয়ে ভোরের রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। এখনও সোনাগাছির ঘুম ভাঙেনি। পৃথিবীর যে-কোনও শান্ত নির্জন জনপদের সঙ্গে এখানকার কোনও পার্থক্য নেই।

.

ট্রেনে বসার জায়গা পেয়ে গেল। এত সকালের ট্রেনে ভিড় নেই। ট্রেন ছাড়তেই মাস্টারদার মুখ মনে পড়ল। সেইসঙ্গে শীত-শীত বোধ এল। মাস্টারদা নেই। মাস্টারদার উৎসাহে তার সঙ্গে কলিকাতায় এসেছিল সে। অভিভাবকের মতো তাকে সামলে নিয়ে এসেছিল মাস্টারদা। অথচ কলিকাতা থেকে দেশে যাওয়ার সময় এই ট্রেনে মাস্টারদা নেই। শুধু ট্রেনে কেন, পৃথিবীর কোথাও নেই। চোখ বন্ধ করল। বুকের ভার ক্রমশ বাড়ছে। আচ্ছা, একটা মানুষ পৃথিবীতে একটু-একটু করে বড় হয়ে কত কী করার স্বপ্ন দেখে, আশা হতাশায় দোলে কিন্তু বেশ টগবগে হয়ে থাকে, কিন্তু মরে যাওয়ার পরে তার সবকিছু কেন শেষ হয়ে যাবে? শুধু যারা বেঁচে থাকার সময় কিছু রেখে দিয়ে যান, যেমন বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, মারা যাওয়ার পরেও তাঁরা অন্যরকমভাবে বেঁচে থাকেন বহুবছর। কিন্তু সাধারণ মানুষের উল্লাস অথবা কান্নাগুলো যারা থেকে গিয়েছে, তাদের স্মৃতিতে থাকবে না? তাদের দেহ ছাই হয়ে গেলেও বাতাসে তাদের অস্তিত্ব কি মিশে থাকবে না!

‘এই যে ভাই, কাঁদছ কেন? কিছু হয়েছে?’

প্রশ্ন শুনে চোখ খুলল নবকুমার। একজন বৃদ্ধ তার সামনের সিটে বসে তাকিয়ে আছেন।

সে চোখ মুছল। কথা না বলে মাথা নেড়ে বোঝাল, কিছু হয়নি।

এই ট্রেনেই ছুটকিদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। ওরা কেমন আছে কে জানে। ছুটকির দিদির সেইসব কথাবার্তা শোনার পর তার আর যেতে ইচ্ছে করেনি ওদের বাড়িতে। এতদিন মনে রাখেনি। এইভাবে কত লোকের সঙ্গে পরিচয় হয় আবার তারা জীবন থেকে মুছে যায়। নবকুমার জানলার বাইরে তাকাল।

ট্রেনের গতি এখন খুব কম। ওপাশে বাড়ি দোকান দেখা যাচ্ছে। একটা সিনেমার পোস্টার চোখে পড়ল। মিঠুন চক্রবর্তী দুর্গার মতো অনেকগুলো হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। হলে সিনেমা আসার সময় এইরকম পোস্টার তাদের গ্রামেও পড়ে। সে যদি শেষপর্যন্ত ঠিকঠাক অভিনয় করতে পারে এবং সিনেমাটা যদি হলে দেখানো শুরু হয় তাহলে নিশ্চয়ই এইরকম পোস্টার চারধারে সাঁটা হবে। সেই পোস্টারে কি তার মুখের ছবি থাকবে? যদি থাকে তাহলে ছুটকিরা নিশ্চয়ই সেই ছবি দেখে তাকে চিনতে পারবে। খুব অবাক হয়ে যাবে ওরা।

হঠাৎ খেয়াল হল নবকুমারের। গীতিময়বাবু তাকে ছবির নামটা বলেননি। এমনকি মন্দাক্রান্তাও নয়। ওরা না বলুক, সে নিজে জিজ্ঞাসা করেনি কেন? নিজেকে একটা গবেট ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছিল না নবকুমারের।

আজ ট্রেন ঠিক সময়ে চলছিল। দুপুরের কাছাকাছি চেনা নামের স্টেশনগুলো দেখে সে বেশ আরাম পেল। তারপর ওদের নামের স্টেশনে ট্রেন থামতেই লাফিয়ে নীচে নামল। দ্রুত প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরুতে গিয়েও থমকে দাঁড়াল। চেকারবাবু ধারে কাছে নেই। সে আশেপাশে তাকিয়ে দূরে লোকটাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেল, ‘এই নিন টিকিট।’

লোকটার মুখ হাঁ হয়ে গেল। একে আগে দেখেনি সে।

স্টেশনের বাইরে পা দিতেই রিকশাওয়ালাগুলো তার দিকে তাকাল। একজন বলল, ‘কলিকাতায় থাকা হয় এখন?’

মাথা নাড়ল নবকুমার। প্রশ্ন করেই রিকশাওয়ালা উৎসাহিত হল অন্য যাত্রী দেখে। ওরা জানে, রিকশায় ওঠার ছেলে সে নয়।

রতন পেছন ফিরে চা বানাচ্ছিল। নবকুমার গম্ভীর গলায় বলল, ‘এক কাপ চা।’

‘দিচ্ছি।’ রতন না তাকিয়ে বলল।

দুটো গ্লাস চা বানিয়ে একজনকে দিয়ে দ্বিতীয়টা নবকুমারের দিকে এগিয়ে ধরেই সে চিৎকার করল, ‘আরে! তুই?’

‘গলা শুনে চিনতে পারিসনি।’ চা নিল নবকুমার।

হঠাৎ মুখের চেহারা বদলে গেল রতনের, ‘কী হয়েছিল রে? আমি তো বিশ্বাস করতে পারিনি খবরটা পেয়ে!’

‘বিশ্বাস করা যায় না। দু-দল বোম নিয়ে লড়াই করছিল, হঠাৎ তার মধ্যে গিয়ে—।’

‘শুনেছি। সেটা নাকি বেবুশ্যেদের পাড়ায়। মাস্টারদা যে ওই পাড়ায় যেত তা আমি কখনও ভাবতে পারিনি। সবাই বলছে ওরকম লোকের ওইভাবেই মরণ হয়। কিন্তু আমার এই কথা মানতে ইচ্ছে করছে না।’ রতন বলল।

‘মাস্টারদা আমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল।’ নবকুমার বলল।

‘ভ্যাট। তুই কি নষ্ট মেয়েদের পাড়ায় থাকিস?’

‘কলিকাতায় নষ্ট আর ভালো পাশাপাশি থাকে। আমার সঙ্গে দেখা করে শর্টকার্ট করতে গিয়ে মারা গিয়েছে মাস্টারদা। যারা বদনাম ছড়াচ্ছে তাদের বলে দিস।’ গ্লাস রেখে চায়ের দাম দিতে যাচ্ছিল নবকুমার। রতন বলল, ‘ওটা থাক। বিকেলে আয়, কথা হবে।’

‘বলতে পারছি না। মাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হতে পারে।’

‘কেন? মাসিমার কী হয়েছে?’

‘জানি না। গিয়ে শুনব।’ হাঁটা শুরু করল নবকুমার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *