পঁয়তাল্লিশ
নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওর গেটের বাইরে এসে কোনও রিকশা দেখতে পেল না নবকুমার। এখন সন্ধে ঘন হয়েছে। পাঁচজন যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাগুলো চলে যাচ্ছে ট্রাম ডিপোর দিকে। রিকশায় আসতে বেশি সময় যখন লাগেনি, তখন পথটা হেঁটেই যাওয়া যেতে পারে। এখন তার কোনও তাড়া নেই।
হাঁটা শুরু করল নবকুমার। প্রাণকৃষ্ণকে তার খুব ভালো লেগেছে। গুণী মানুষ। অভিনয় খুব ভালো বোঝেন কিন্তু নিজে করেন না। গীতিময়বাবুও ভালো ব্যবহার করছেন। কিন্তু ওই যে লোকটাকে, কোন নায়ককে দাদা বলছিল, তার ধমক উনি সহ্য করছিলেন কেন? ওরা নিশ্চয়ই তাকে অপছন্দ করবে। করে করুক, তার কিছু করার নেই। গীতিময়বাবু সামলাবেন। বড়বাবু তো প্রযোজক। তিনি বুঝবেন।
হঠাৎ ভাবনাটা মাথায় এল তার। বড়বাবু প্রয়োজক, গীতিময়বাবু পরিচালক তাহলে ওই সুন্দরী মন্দাক্রান্তা কে? ওঁকে তো সবাই চেনেন। এই সিনেমার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। হঠাৎ নিজেকে মুর্খ বলে মনে হল। এখানকার সবাই বলে কর্পোরেশনের জল পেটে পড়লে নাকি লোকে বদলে যায়। দূর! সে এখনও সেই গ্রামের ছেলে হয়ে আছে। নইলে যে তার জন্যে অত দামি উপহার কিনেছে, আদর করে খাইয়েছে, তার আসল পরিচয় সে জেনে নেয়নি?
এই সময় পেছন দিক থেকে একটা গাড়ি এসে তার পাশে দাঁড়াল এবং গীতিময়বাবুর গলা শুনতে পেল নবকুমার, ‘এ কী! তুমি হেঁটে যাচ্ছ?’
সে মুখ ফিরিয়ে দেখল। গীতিময়বাবু ড্রাইভারের পাশে বসে আছেন। পেছনের সিটে একজন যুবতী, যাঁর মুখে চড়া রং।
নবকুমার বলল, ‘হাঁটতে আমার ভালো লাগে।’
‘অ। ভাইটি, ওই ভালো লাগা তোমার গ্রামের রাস্তায় হেঁটে উপভোগ করো। আজ বাদে কাল তুমি হিরো হবে আর পাবলিক বলবে ও তো সেদিনও রাস্তায় ফেউ-ফেউ করে ঘুরত, তাতে তোমার গ্ল্যামার বাড়বে? যাও, ট্যাক্সি নাও।’ গীতিময় শেষ করলেন ধমকের মতো।
‘গীতিদা, এই আপনার নতুন হিরো?’ পেছন থেকে প্রশ্ন ভেসে এল।
‘হ্যাঁ।’
‘উনি কোথায় যাবেন জিজ্ঞাসা করুন।’
গীতিময় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী, চিৎপুরে যাচ্ছ?’
সে চিৎপুরে যাচ্ছে না, সোনাগাছিতে ফিরছে।
সোনাগাছিতে থাকার কথা গীতিময়বাবুর জানা থাকা সত্বেও চিৎপুর বললেন। নবকুমার হাসল।
‘তাহলে ওকে উঠে আসতে বলুন। আমি না হয় আজ গ্রে স্ট্রিট ধরে সল্টলেকে যাব।’ যুবতী বলল।
‘না-না। তোমার অসুবিধে হবে। তুমি নিশ্চয়ই বাইপাস দিয়ে যাও।’ গীতিময়বাবু আপত্তি করলেন।
‘কিস্যু হবে না। রোজ এক রাস্তা দিয়ে যেতে ভীষণ বোর লাগে।’
‘অ। নবকুমার, গাড়িতে উঠে এস। আজ না হয় আরামে যাও। কপাল করেছ বটে! কলকাতায় এসেই ফিল্মে চান্স পাচ্ছ, প্রথমদিন স্টুডিওতে পা দিয়ে নায়িকার গাড়িতে লিফট—! ওঠো। আমাকে তুমি হাজরায় নামিয়ে দিও।’
‘গোবিন্দ, গীতিদা হাজরায় নামবে।’ তারপর ঈষৎ ঘুরে বলল, ‘আমার নাম উর্মিলা সেন। আমার কোনও ছবি আপনি কি দেখেছেন?’
‘আমি বেশি সিনেমা দেখিনি। আপনার নাম শুনেছি।’ নবকুমার বলল।
‘সেটা একদিকে ভালো। বেশি দেখলে অন্যকে নকল করতে ইচ্ছে করে। শুনেছি, উত্তমকুমারকে অনেকে নকল করত। এখন বুম্বাদা বা মিঠুনদাকে নকল করে।’
‘উর্মিলা, ওর নাম নবকুমার।’
‘যাক। আর-একজন কুমার এল লাইনে। এখন তো কুমার কেউ নেই।’
তারপর হঠাৎ গাড়ির ভেতরটা চুপচাপ হয়ে গেল। ঠান্ডা বাড়ছে। উর্মিলাই মুখ খুলল, ‘ওকে প্রাণদার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন?’
গীতিময় মাথা নাড়লেন, ‘হ্যাঁ।’
‘প্রাণদার এখন ডিমান্ড খুব বেড়ে গিয়েছে। জানেন তো?’
‘হ্যাঁ। একটু আগে কথা হচ্ছিল। ও আর কাজ করতে ইচ্ছুক নয়।’
‘কী বলছেন গীতিদা! ডিস্ট্রিবিউটাররা নতুন ছবির ডিস্ট্রিবিউশন নেওয়ার সময় প্রাণদাকে ছবি দেখিয়ে জানতে চাইছে, ছবিটা চলবে কি না। এখন যে ছবি দুটো সুপারহিট হয়েছে সেই দুটো দেখে প্রাণদা বলেছিল খুব ভালো চলবে। তাই সবাই ভাবছে, প্রাণদা যদি বলে ছবি চলবে না তাহলে রাইট কিনে লোকসানে ডুবতে হবে না। এইজন্যে ওরা পঞ্চাশ হাজার করে টাকা দিচ্ছে প্রাণদাকে।’
‘কিন্তু প্রাণকৃষ্ণ আর নিতে রাজি নয়। বলল, আমি তো ভগবান নই। বললাম ছবি চলবে আর সেই ছবি ফ্লপ করল, তখন কী হবে? গালাগাল খেতে হবে। ঠিকই বলেছে।’ গাড়ি থেমে যেতে গীতিময়বাবু দরজা খুললেন, ‘আমি তাহলে আসছি। নবকুমার, কাল দেখা হবে।’
গাড়ি আবার চলতে শুরু করলে উর্মিলা বলল, ‘আমাকে গীতিদাই প্রথম ফিল্মে সুযোগ দিয়েছিলেন। দু-বছরে পাঁচটা ছবি করেছি।’
‘উনি আপনাকে আগে থেকে চিনতেন?’
‘না। একসময় গ্রুপ থিয়েটার করতাম। সেখান থেকে টিভি সিরিয়ালে চান্স পেলাম। মেগা সিরিয়ালে মাসে পনেরো দিন কাজ থাকত। বারো হাজার টাকা পেতাম। টাকাটা বাবাকে দিয়ে দিতাম। সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ্য এল।’
‘বা:।’
‘তখন শ্যুটিং হত এ-বাড়ি ও-বাড়িতে। ট্রামে-বাসে যেতাম শ্যুটিং করতে। দেখতাম, যারা আমার সঙ্গে সিরিয়ালে অভিনয় করছে তারা মাসখানেকের মধ্যেই মোবাইল কিনে ফেলছে, ছয়মাসের মধ্যে দামি মোবাইল, বছরখানেক যেতেই মারুতি গাড়ি। সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে, দামি পোশাক পরছে। অথচ ওরা আমার মতোই রোজগার করে। জিজ্ঞাসা করলে বলেছে মডেলিং করে, দোকান উদ্বোধন করে প্রচুর টাকা পাচ্ছে। আমারও যে ওইরকম অফার পেতে ইচ্ছে করত না, তা নয়। কিন্তু বুঝলাম, ওসব করতে গেলে শরীর নিয়ে গাঁইয়া হয়ে থাকা চলবে না। ঠিক তখনই গীতিদা খবর দিলেন দেখা করার জন্যে। ফিল্মে এসে সিরিয়াল করা ছেড়ে দিলাম।’ হাসল উর্মিলা। পাঁচটা ছবি করে এত টাকা পেয়েছে যে এমন দামি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি কিনতে পেরেছে। তাকে যে টাকা দেওয়া হবে তাতে বোধহয় একটা রিকশাও কেনা যাবে না। উর্মিলা বলল, ‘এখন থেকে আপনার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হবে।’
নবকুমার তাকাল। উর্মিলা হাসল, গীতিদার এই ছবির নায়িকা আমি। আপনি স্ক্রিপ্ট শুনেছেন?’
‘না।’ মাথা নাড়ল নবকুমার।
‘ফাটাফাটি। আপনার সঙ্গে আমার দারুণ মজার কয়েকটা সিন আছে।’
‘ও।’ গীতিময়বাবু তাকে কিছুই বলেনি। অথচ উর্মিলাকে বলেছেন অথবা পড়তে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তাকে বলা দরকার বলে মনে করেননি।
‘গীতিদা বলছিলেন, আপনি গ্রাম থেকে এসেছেন।’
‘হ্যাঁ।’
‘এখানে আত্মীয়র বাড়িতে থাকেন?’
একটু ইতস্তত করে মাথা নাড়ল নবকুমার। মুখে কিছু বলল না। শেফালি-মাকে আত্মীয়ের চেয়ে বেশি বলে ভাবা যেতে পারে।
‘গ্রে স্ট্রিট এসে গিয়েছে। গোবিন্দ, দাঁড়াও।’
গাড়ি থামল। উর্মিলা জিজ্ঞাসা করল, ‘এখান থেকে যেতে অসুবিধে হবে না তো?’ মাথা নেড়ে না বলল নবকুমার।
‘স্টুডিওতে দেখা তো হবেই। ও হ্যাঁ, একটা কথা বলছি, কিছু মনে করবেন না।’ হাসল উর্মিলা, ‘শ্যুটিং-এর বাইরে দেখা হলে যদি আমি আপনাকে না চেনার ভান করি, সবসময় না, হঠাৎ-হঠাৎ, তাহলে কিছু মনে করবেন না। প্লিজ। চলো, গোবিন্দ।’
গাড়িটা ডানদিকে বাঁক নিয়ে বেরিয়ে গেল। এতক্ষণ উর্মিলার কথা, ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছিল নবকুমার। সিনেমার নায়িকা, কিন্তু কোনও অহংকার নেই। কথা বলার সময় মনে হচ্ছিল, কত দিনের পরিচিত। কলকাতার সাধারণ মেয়েদের নিয়ে গ্রামে নানান গল্প চালু আছে। তারা নাক আকাশে রেখে চলে, গ্রামের ছেলে দেখলে ব্যঙ্গ করে। উর্মিলা তাদের থেকে অনেক বিখ্যাত হওয়া সত্বেও কী স্বাভাবিক। কিন্তু শ্যুটিং-এর বাইরে দেখা হলে ও মাঝে-মাঝে না চেনার ভান করবে কেন? এমন কেউ কি থাকবে, যে পছন্দ করবে না উর্মিলা অন্য কারোর সঙ্গে কথা বলুক। তার মানে, উর্মিলা সেই মানুষটাকে ভয় পায়। কেন ভয় পায়? কৌতূহল বেড়ে যাচ্ছিল।
.
বাড়িতে ফিরে শেফালি-মায়ের ঘরে ঢুকল না নবকুমার। সেখানে অনেকগুলো গলা শোনা যাচ্ছে। মুক্তো বলল, ‘দুব্বারের ওরা এসেছে। তুমি এখনই একটা দরখাস্ত লিখে দাও, ওদের হাতে দিয়ে দেব। আর তো বেশি সময় নেই।’
‘তাহলে তোমার ব্যাঙ্কের পাসবই আর-একটা সাদা কাগজ এনে দাও।’
নিজের ঘরে ঢুকে পোশাক পালটাল না নবকুমার। তাহলে শেফালি-মা এই বাড়ির দোতলাটা দুর্বারকে দিয়ে যাচ্ছেন। খুব ভালো হল।
পাসবই আর কাগজ দিয়ে মুক্তো জিজ্ঞাসা করল, ‘চা খাবে? ওদের জন্যে করেছিলাম, কিছুটা রয়ে গিয়েছে। আনব?’
‘না।’ মাথা নাড়ল নবকুমার। তারপর পাসবই-এর নম্বর দেখে দরখাস্তটা লিখে ফেলল সে ইংরেজিতে। লেখার পর ভালো করে দেখে নিল। না, কোনও ভুল হয়নি। বলল, ‘এখানে সই করো। তুমি বাংলাতেই করতে পারো।’
‘কেন? শেফালি-মা আমাকে ইংরেজিতে সই করতে শিখিয়েছে।’ প্রতিটি অক্ষর আলাদা-আলাদা লিখে সই করল মুক্তো, ‘এই সইটা টাকা রাখার সময় করেছিলাম।’
‘বা:। যাও। দিয়ে যাও।’
মুক্তো দরখাস্ত নিয়ে চলে গেল। হঠাৎ মাথায় এল, মাস্টারদাকে যারা শ্মশানে নিয়ে গিয়েছিল তারা কি গদিতে ফিরে এসেছে? খবর পেয়ে মাস্টারদার আত্মীয়রা কি এসেছিল? অবশ্য এসব ভাবনার কোনও মানে এখন নেই। পৃথিবীর কোথাও আর মানুষটাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। দরজায় শব্দ হল। নবকুমার দেখল, ইতি দাঁড়িয়ে আছে। আজ তার পরনে প্রায় গোড়ালি ঢাকা স্কাট। বলল, ‘শেফালি-মা আপনাকে ডাকছেন।’
‘ও। কখন এসেছ?’
‘মিনিটচল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ। আপনার কাজ হয়েছে?’
‘হ্যাঁ।’
হাসল ইতি, ‘তাহলে আপনার ছবি দেওয়ালে দেখতে পাব?’
‘দেওয়ালে?’
‘সিনেমা আসার আগে পোস্টারে ছবি থাকে। আপনি তো নায়ক।’
‘ও বাব্বা। সে তো অনেক দূরের কথা। ভালো না লাগলে ওরা আমাকে বাদ দিয়ে দিতে পারে। আমি ওসব নিয়ে ভাবি না। চলো।’
.
শেফালি-মায়ের ঘরে ঢুকতেই চন্দ্রিমা, কবিতা এবং আর-এক ভদ্রলোককে দেখতে পেল নবকুমার। চন্দ্রিমা বললেন, ‘কনগ্র্যাচুলেশন।’
কবিতা বলল, ‘খুব খুশি হয়েছি। আমাদের এখানে আসার পর তুমি বাংলা সিনেমার নায়ক হয়ে গিয়েছ। জানি, পরে চিনতে পারবে না। কিন্তু সবাইকে গর্ব করে বলতে পারব।’
শেফালি-মা বললেন, ‘নবকুমার, মহিলা দুর্বার সমিতিকে দোতলাটা ব্যবহার করতে দিচ্ছি। ওরা তো ভালো কাজ করছে। তাই ভাড়া নিতে চাই না, বাড়িটা যেন ভালোভাবে রাখে। আর ট্যাক্স যা হয়, তা ওরাই দেবে।’
‘তার মানে তো দিয়ে দেওয়াই হল।’ নবকুমার হাসল।
‘না। বাড়ি আমার নামেই থাকছে। যদি শুনি ওরা ঠিকঠাক কাজ করছে না তখন উঠে যেতে বলব। অবশ্য আমি আর ক’দিন বাঁচব।’
কথাটার প্রতিবাদ করল সবাই।
শেফালি-মা বললেন, ‘আমি বাপু ওসব পারব না। কাগজপত্র যা তৈরি করার তোমরা তৈরি করে কালই নিয়ে এস, আমি সই করে দেব।’
দুর্বারের নেত্রীরা মাথা নেড়ে হাসিমুখে বেরিয়ে গেল। সঙ্গে ইতিও।
শেফালি-মা বললেন, ‘বসো। আজ স্টুডিওতে কী-কী হল?’
স্টুডিওতে ঢোকার পর যা-যা ঘটেছিল সব বলল নবকুমার। এমনকি উর্মিলা তাকে যে লিফট দিয়েছে তাও।
শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মেয়েটি জানে, তুমি এখানে থাকো?’
‘না। গীতিময়বাবু ওকে বলেছেন আমি চিৎপুরে যাব।’
‘আর তো ক’দিন! তারপর তোমাকে এই সমস্যায় পড়তে হবে না। শোনো নবকুমার, তুমি চোখ-কান খোলা রাখবে। তবে কে কী বলল তা নিয়ে একদম মাথা ঘামাবে না। যে কাজ তোমাকে করতে বলা হবে সেটা আন্তরিকভাবে করবে। আর হ্যাঁ, প্রাোডিউসার যদি গাড়ি পাঠান তাহলে সেটা ব্যবহার করবে। কিন্তু কখনওই অল্প পরিচিত কারও গাড়িতে উঠবে না। এই মেয়েটির নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত সমস্যা আছে। কী দরকার সেই সমস্যার সঙ্গে জড়ানোর?’ শেফালি-মা উঠে একটা বই বের করে এগিয়ে দিলেন, ‘নাও। কাল যাওয়ার আগে মুখস্থ করে যেও।’
নবকুমার সঞ্চয়িতাটা নিয়ে উঠে পড়ল। ঠিক তখনই ফোন বাজল। শেফালি-মা বললেন, ‘দ্যাখো তো, এত রাতে কার ফোন?’
নবকুমার ফোনের কাছেই দাঁড়িয়েছিল। রিসিভার তুলে ‘হ্যালো’ বলল।
একটি মহিলাকণ্ঠ নম্বরটা যাচাই করল। নবকুমার বলল, ‘হ্যাঁ।’
‘তুমি কি নবকুমার?’
‘হ্যাঁ।’
‘মাই গড! চিনতে পারছ না? আমি মন্দাক্রান্তা।’ হাসি কানে এল।
