তেইশ
রিহার্সালের পর সবাই চা খাচ্ছিল। নিজের কাজ বেশ ভালো হচ্ছে, বুঝে গিয়েছিল নবকুমার। কিন্তু সেটা প্রকাশ করতে নেই বলে নিরীহ মুখ করে বসেছিল। অনিলবাবু সুধাকান্তকে জিজ্ঞাসা করল, ‘সেকেন্ড পালাটা কবে ধরবেন?’
সুধাকান্ত বললেন, ‘বড়বাবু যেদিন বলবেন।’
‘শুনলাম নারীপ্রধান পালা। আমার চরিত্র আছে তো?’
‘আপনি প্রবীণ শিল্পী। এই দলে আপনাকে বাদ দিয়ে কি পালা হবে?’
কথাটা শুনে নায়িকা স্বপ্না দত্ত বলল, ‘নারীপ্রধান? মানে সব সিনে থাকতে হবে নাকি? সর্বনাশ।’
সুধাকান্ত হাসলেন, ‘তোমার সর্বনাশ হবে না স্বপ্না। গোর্কির মায়ের চরিত্র যেমন তোমাকে মানাবে না, এই চরিত্রটাও তাই।’
‘অ। আমি যেটা করব সেটা একদম ফালতু নয় তো?’ স্বপ্নার কপালে ভাঁজ।
‘এত চিন্তা করছ কেন? এখনও তো কাস্টিং হয়নি। বড়বাবু যাঁকে যে চরিত্রে নিতে বলবেন তাঁকে আমি তাই জানিয়ে দেব।’ সুধাকান্ত বললেন।
নিরুপমাদি বসেছিলেন নবকুমারের সামনে। এককোণে। মুখ ফিরিয়ে নীচু গলায় বললেন, ‘আমার খাটনি বেড়ে গেল।’
নবকুমার বলল, ‘কেন?’
‘মায়ের চরিত্রে এই দলে আমি ছাড়া আর কে করবে? ওই মা করে-করে ভাই লোকে আমাকে বুড়ি বানিয়ে দেবে।’
হাসলেন মহিলা।
একটু মোটাসোটা হলেও নিরুপমাদির ভাবভঙ্গিতে খুকিপনা আছে। চোখ ঘুরিয়ে যখন কথা বলেন তখন বয়সটা কমে যায়।
দলের সবাই বাড়ি চলে যাচ্ছিল। সন্ধে হয়ে গেছে। কাল ছুটি। নিরুপমাদি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই ছেলে, কোথায় থাকো তুমি?’
‘কাছেই।’ নবকুমার সত্যি কথাটা জানাল না।
‘আমি থাকি বাগবাজারে। গিরিশ ঘোষের মূর্তির সামনে গিয়ে বাঁ-দিকে যে গলি পাবে সেখানে ঢুকে আমার কথা বললেই লোকে বাড়িটা দেখিয়ে দেবে। কাল সন্ধেয় চলে এসো। আমার ওখানে খাবে। কেমন?’ নিরুপমাদি বলল।
‘রাত্রে—?’
‘কেন রাতে কী অসুবিধে?’ নিরুপমাদি হাসল, ‘আরে মাঝরাত পর্যন্ত আটকে রাখব না। আসবে কিন্তু!’ নিরুপমাদি চলে গেল।
সঙ্গে-সঙ্গে মাস্টারদা এসে পাশে দাঁড়াল, ‘কী বলছিল রে?’
‘কেন?’
‘ও বাবা! আজকাল প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্ন করা শিখে গেছ! ডিভোর্সি মেয়েছেলে, খপ্পরে পড়ো না। যা, এবার বাড়ি গিয়ে শেফালি-মাকে জপিয়ে রাজি করা।’
.
বাড়ি ফিরছিল নবকুমার। চিৎপুর থেকে গলিতে ঢুকতেই সেই হইচই, এফ এম-এর গান, মেয়েদের হাসি। ইতিদের বাড়িটা পেরিয়ে আসার সময় খেয়াল হল, মেয়েটা কেমন আছে!
সে বাড়ির দিকে না গিয়ে দুর্বারের অফিসে পৌঁছে গেল।
একতলার ঘরেই চন্দ্রিমাদি, কবিতা বসে কথা বলছিলেন। মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়, ইত্যাদি-ইত্যাদি। নবকুমারকে দরজায় দেখে কবিতা মাথা নেড়ে ঘরে ঢুকতে বলল। নবকুমার ভেতরে ঢুকে দেখল, আরও তিনজন যৌনকর্মী সেখানে বসে আছেন। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘দুর্গা এখন কেমন আছে?’
‘আগের থেকে একটু ভালো। ওর সেরে উঠতে সময় লাগবে। যদি কেউ ওকে দেখতে চায়, তাহলে ট্রপিক্যালে গেলে দেখতে পাবে।’
‘ইতি?’
‘সারা শরীরে পক্স বেরিয়ে গেছে। ভালো হয়েছে। জ্বর কমেছে। দিন পনেরো তো থাকতেই হবে। দেখতে চাও?’
‘আজ থাক।’ নবকুমার ফিরে যাওয়ার জন্যে ঘুরে দাঁড়াতেই চন্দ্রিমাদি বলল, ‘শোনো, আমরা এই রবিবারের পরের রবিবারে আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসে একটা সেমিনার ডেকেছি। শহরের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি আসবেন। বিষয় হল মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। যদি পারো তাহলে সকাল এগারোটায় ওখানে যেও।’
নবকুমার কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তারপর বেরিয়ে এল। হাঁটতে-হাঁটতে নবকুমার ভাবছিল এখানে তো অনেকদিন হয়ে গেল। কিন্তু চিৎপুর, সোনাগাছি আর বেলগাছিয়া ছাড়া কলিকাতার কিছুই দেখা হয়নি। স্কুলের পড়ার বই-এ কলিকাতার দ্রষ্টব্য স্থানের নাম ছাপা ছিল। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, গড়ের মাঠ, মনুমেন্ট, কালীঘাটের কালীমন্দির, হাওড়া ব্রিজ, দক্ষিণেশ্বরের মন্দির, বেলুড়—। এই যে চন্দ্রিমাদি বললেন, আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের কথা—এটাও কি দ্রষ্টব্য জায়গা? কাল সারাদিন ধরে এইসব জায়গায় বেড়াতে যেতে হবে।
নবকুমার বাড়ির দরজায় পা দেওয়া মাত্র রাস্তায় বিকট শব্দ করে বোমা ফাটল। সঙ্গে-সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ের দল দুদ্দাড় করে যে যার ঘরে সেঁধিয়ে গেল। মূল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল। বাইরের রাস্তায় তখন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশ্রাব্য গালাগালের সঙ্গে বোমাবর্ষণ চলছে। নবকুমার সিঁড়ির দিকে এগোচ্ছিল, এমন সময় ওপাশ থেকে গলা ভেসে এল, ‘রাস্তায় পুলিশ দেখলে ভায়া?’
.
.
নবকুমার লোকটিকে চিনতে পারল। দুর্গার অসুস্থতার কথা শুনে মেয়েদের জেনিটাল হারপিস কী, তা বুঝিয়েছিল। রোগা খাটো চেহারা। পরনে পাজামা-পাঞ্জাবি। নবকুমার বলল, ‘না।’
‘হয়ে গেল। কখন যে বাড়ি ফিরতে পারব তা ঈশ্বরই জানেন। কী নাম ভায়া?’
‘নবকুমার।’
বা:। বঙ্কিমী নাম। আমাকে সবাই দাদা বলে। এসো না আমার ঘরে। একটু গপ্পো করা যাক। ‘এসো?’
নবকুমার ওপরের দিকে তাকাল। এখনও খুব বেশি রাত হয়নি। মুক্তো খাবার দেয় সাড়ে ন’টার সময়। এই লোকটি সম্পর্কে তার আগ্রহ হওয়ায় সে অনুসরণ করল। উলটোদিকের একটা প্যাসেজ দিয়ে খানিকটা যেতেই আর একটা সিঁড়ি। তার ওপরে ছাইমাখা মেয়েরা বসে আছে। বেশ সমীহের সঙ্গে জায়গা করে দিল তারা। দোতলার একটা দরজার তালা খুলে দাদা আলো জ্বালাল, ‘এসো ভায়া।’
ঘরটি এত ছোট যে একটা খাট পাতার পর চিলতে জায়গা পড়ে আছে। তাতেই একটা চেয়ার পাতা। ঘরের দেওয়াল জুড়ে নানা দেবদেবীর ছবি টাঙানো রয়েছে। দেওয়ালের একদিকের গর্তে রাধাকৃষ্ণের ছবি, ফুলের মালা ঝোলানো। পেছনে স্টিলের ছোট একটা আলমারি। বিছানায় উঠে বসে ভদ্রলোক বললেন, ‘আমার ওয়াইফ এখন দেশে গিয়েছে। সে থাকলে কোনও চিন্তা ছিল না। তোমাকে কী দিয়ে আপ্যায়ন করব তা ভেবে পাচ্ছি না। ফিস ফ্রাই চলবে?’
খিদে পেয়েছিল খুব। দুপুরের পর আর খাওয়া হয়নি। কিন্তু তবু মাথা নাড়ল সে, ‘এখন খেলে রাত্রে খেতে পারব না।’
‘অ! তাহলে বাদামের সঙ্গে দিই?’
‘কী?’
‘আরে বাবা, মাল তো খাও! ভালো রাম আছে।’
‘না। ওসব কখনও খাইনি। খাব না।’
‘ভালো। খুব ভালো। জলে নামবে, গা ভেজাবে না! হাঁসের মতো! নইলে যে ছেলে এই সোনাগাছিতে রাত্রে থাকে সে মাল খায় না? গুড। আমি লিমিটেড। টু পেগস এভরি ইভনিং। নাইনটিন সেভেনটি সেভেন থেকে এই এক রুটিন। মরে গেলেও কেউ আমাকে থার্ড পেগ খাওয়াতে পারবে না। আমার এক ওয়াইফের তো সেই জন্যে খুব দু:খ ছিল। মরে গেছে বেচারা।’ দাদা বেশ করুণমুখে কথাগুলো বললেন।
নবকুমার চমকে উঠল, ‘এই যে বললেন, তিনি দেশে গিয়েছেন।’
‘ওহো। দেশে গিয়েছে আমার ফিফথ ওয়াইফ।’
‘পঞ্চম স্ত্রী?’ হাঁ হয়ে গেল নবকুমার।
‘ও:। ভায়া, আমি তোমাকে স্ত্রী বলিনি। বলেছি ওয়াইফ। তাহলে পুরোটা শোনো। এই ঘর আমি ভাড়া নিয়েছিলাম নাইনটিন সেভেন্টি সেভেনে। তখন বাড়িওয়ালি ছিল সন্ধ্যারানি। ডাকসাইটে মেয়েমানুষ ছিল। আমাকে স্নেহ করায় মাত্র পঞ্চাশ টাকায় এই ঘর ভাড়া পেয়েছিলাম। রোজ অফিস থেকে সোজা এখানে চলে আসতাম, দু-পেগ খেতাম, তারপর সাড়ে আটটার সময় রিকশা নিয়ে বিডন স্ট্রিটে চলে যেতাম। ওখানে আমার বাড়ি। স্ত্রী সন্তানেরা সেখানেই থাকেন। আমার স্ত্রী মদ খাওয়া অপছন্দ করেন। মদের গন্ধে বমি পায় ওঁর। আমি ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তাই ওঁর অসুবিধে হবে বলে বাড়িতে কখনও পান করিনি। বারে গিয়ে বাজারের আবহাওয়ায় বসে পান করতে ভালো লাগত না বলে, এই ঘরে ঢুকে লুঙ্গি পরে একা বসে খেতাম। কিন্তু এখানে তো ঘরের খুব ডিমান্ড। সন্ধ্যারানি একদিন আমাকে অনুরোধ করলেন, সারাদিন তো ঘরটা বন্ধ থাকে, তুমি একটি মেয়েকে থাকতে দাও। সে বিকেল পাঁচটার পরে কোনও কাস্টমারকে ঘরে ঢোকাবে না। তার বদলে তুমি এলে তোমাকে দেখভাল করবে। সত্যি বলতে কী একা সন্ধ্যা কাটানো খুব বিরক্তিকর। মেয়েটাকে দেখে পছন্দ হল। কিন্তু তার সঙ্গে এক ঘরে প্রতি সন্ধ্যা কাটাব কী সুবাদে? ফলে বলতে হল, তুমি যদি আমাকে প্রতারণা না করো তাহলে আমার ওয়াইফ হতে পারো। সে রাজি হল। কিন্তু মাসতিনেকের মধ্যেই হাওয়া হয়ে গেল বোম্বাইতে। খুব দু:খ পেয়েছিলাম ভায়া। তারপর আরও তিন-তিনজন ওয়াইফ এসেছিল। একজন মারা গেল। এক বোতল রাম একাই খেতে পারত সে। কত নিষেধ করেছিলাম, শোনেনি। তবে হ্যাঁ, এই ফিফথ ওয়াইফ খুব ভালো মেয়ে। আমাকে খুব ভালোবাসে। দেশে গিয়েছে কারণ, ওর বাচ্চা হবে।’ দাদা একগাল হাসলেন।
নবকুমারের মাথার ভেতরটা ভোঁভোঁ করছিল। এরকম কাহিনি সে কখনও শোনেনি বা পড়েনি। শেষপর্যন্ত না বলে পারল না, ‘এক স্ত্রী বেঁচে থাকতে আবার বিয়ে করা তো আইনের চোখে অপরাধ। তাহলে—!’
‘বিয়ে?’ হোয়াট ইজ বিয়ে? কেউ বলেছে বিয়ের পর মেয়েরা আইনসিদ্ধ বেশ্যাবৃত্তি করে? লিগ্যাল প্রস্টিটিউশন। দুজন মানুষের মধ্যে যদি বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকে তাহলে বিয়ে করা বা না করার মধ্যে পার্থক্য থাকে না। আমার ফিফথ ওয়াইফের সঙ্গে আমার মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং ওয়ান্ডারফুল। তাই বলে বিয়ে করতে হবে কেন? না ভায়া, আমি কোনও অপরাধজনক কাজ করতে পারি না।’
‘ওঁর দেশ কোথায়?’
‘রাজস্থানে। এখন তো সোনাগাছির সিক্সটি পার্সেন্ট মেয়ে হয় রাজস্থানের নয় নেপাল বা মেঘালয়ের। বাঙালির সেই দিন আর নেই।’ শ্বাস পড়ল দাদার।
নবকুমার উঠে দাঁড়াতেই ঘরে ঢুকল একটা লোক। বছর চল্লিশের গাঁট্টাগোট্টা চেহারা। মুখভরতি বসন্তের ক্ষতচিহ্ন। ঘরে ঢুকেই লোকটা হিন্দিতে চেঁচিয়ে বলল, ‘দাদা, আজ আমি ওকে মেরেই ফেলব। শালী আমার কথায় কানই দিচ্ছে না। তোমাকে আমি সম্মান করি বলে জানিয়ে গেলাম।’
দাদা হাসলেন, ‘কী হয়েছে রে পাগলা? মাথা এত গরম কেন?’
‘গরম হবে না? হাজারবার বলেছি সিনেমা দেখতে হলে নুন শো দেখবি তাতে ব্যাবসা নষ্ট হবে না। আজ আমাকে লুকিয়ে ইভনিং শোয়ে গিয়েছে। আমি যে ওর স্বামী তা কেয়ারই করে না। তিন-তিনজন ক্লায়েন্টকে ফিরিয়ে দিতে হল। তুমি বলো?’
‘হুঁ। অন্যায় করেছে, তাই বলে মেরে ফেলবি কেন? যে হাঁস ডিম পাড়ে তাকে মেরে ফেললে আর ডিম আসবে? বুঝিয়ে বলতে হবে।’
‘তাহলে তুমিই বোঝাও।’
এইসময় ময়লা রং লম্বা একটা মেয়ে দরজায় এসে বলল, ‘কী ব্যাপার? তুমি নাকি খুব হল্লা করেছ? স্বামী বলে মাথা কিনে নিয়েছ নাকি?’
সঙ্গে-সঙ্গে লোকটা সপাটে চড় মারল মেয়েটাকে। ঘুরে মাটিতে পড়ে যেতে-যেতে কোনওমতে সামলে নিল মেয়েটা। গালে হাত চেপে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে বলল, ‘শালা! মন্ত্র পড়ে বিয়ে করেছিলি বলে আজ তোকে ছেড়ে দিলাম। এরপরে গায়ে হাতে তুললে তোর বাপের বিয়ে দেখিয়ে দেব।’
‘কী বললি?’ আবার হাত তুলল লোকটা।
দাদা ধমকে উঠল, ‘অ্যাই পাগলা। হাত নামা। যা এখান থেকে।’
লোকটা হাত নামিয়ে বলল, ‘দাদা বলল বলে তোকে ছেড়ে দিলাম।’
মেয়েটা হাসল, ‘দে, একটা সিগারেট দে।’
নবকুমার বলল, ‘আমি যাচ্ছি।’
‘যাচ্ছেন। আচ্ছা। কোনও যত্নই করতে পারলাম না। আসলে আমার ওয়াইফ না থাকায়। আবার পায়ের ধুলো দেবেন ভায়া। এনি ডে, সন্ধে থেকে আটটা সাড়ে-আটটা থাকি। রিকশা নিয়ে ন’টার মধ্যে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর হাতের রান্না না খেলে ঘুম আসে না। এই পাগলা, বাবুকে এগিয়ে দিয়ে আমার রিকশাওয়ালাকে ডেকে দে। তোর বউ যখন ফিরেছে, তখন নিশ্চয় রাস্তা ক্লিয়ার হয়ে গেছে।’ দাদা খাট থেকে নেমে দরজা পর্যন্ত এলেন।
.
ভাতের থালা টেবিলে রেখে মুক্তো বলল, ‘ওই অনামুখোর ঘরে কেন গেলে?’
‘অনামুখো?’
‘ওই যে পঞ্চাশ টাকার ঘর ভাড়ায় থাকে। কবে কোন কালে ওই ভাড়ায় ঘর পেয়েছিল তারপর থেকে একটা পয়সাও ভাড়া বাড়ায়নি। কী বলল?’
‘ডেকে নিয়ে গেলেন। ওয়াইফদের গল্প বললেন।
‘ওয়াইফ। মাকুন্দটার মুখ দেখলে দিন খারাপ যায়। মা তো অপেক্ষা করে-করে এইমাত্র শুয়ে পড়লেন। কাল সকালে দেখা কোরো।’
‘আচ্ছা, কাল ছুটি। ভাবছিলাম ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, গড়ের মাঠ দেখতে যাব। কীভাবে যাব?’ নবকুমার জিজ্ঞাসা করল।
‘আমি জানি না, ওসব তো কখনও দেখিনি।’ মুক্তো চলে গেল। নবকুমার অবাক। এতদিন কলিকাতায় বাস করেও কেউ দ্রষ্টব্য স্থান দ্যাখেনি? ভাবা যায়!
