1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ৫০

পঞ্চাশ

খানিকটা হেঁটে দাঁড়িয়ে গেল নবকুমার। দূরে তাদের গ্রাম দেখা যাচ্ছে। আকাশের অনেকটা গাছগাছালি আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ি-ঘর নিয়ে। দেখেই বুকে মায়া জমল। কীরকম কষ্ট-কষ্ট বুকে টলমল করে উঠল। বাতাস নিল সে। বাতাসে ধুয়ে গেল শরীর।

কয়েক পা হেঁটেই রাস্তা বাঁক নিতেই দেখল মাঠে গরু চরছে। এখন চাষের সময় নয়। কোথাও কোনও শব্দ নেই। শহরের কান এখানে এসে খাঁ-খাঁ করতে লাগল। কী নেই, কী নেই!

সামনে জোড়া বেল গাছ! রাস্তার দু-ধারে দুটো। ঝাঁকড়া গাছ দুটোকে সে জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখে এসেছে। সন্ধের পর কেউ একা এই গাছ দুটোর পাশ দিয়ে যায় না। সাদা ধুতি জড়ানো ব্রহ্মদৈত্যকে নাকি অনেকেই দেখেছে। খড়ম পায়ে শূন্যে হেঁটে বেল গাছের ডালে বসে দোল খান তিনি। গাঁয়ের মুখে তাঁর অবস্থান বলে মেছোভূত, গেছোভূত অথবা শাঁকচুন্নিরা এদিকে ঢুকতে সাহস পায় না। আগে প্রতি অমাবস্যা পূর্ণিমায় গাঁয়ের বৃদ্ধারা এসে ফুল জল দিয়ে যেতেন গাছ দুটোর গোড়ায়। এখন সেটার চল নেই।

‘ও কে? নব না?’ পাশ দিয়ে যেতে-যেতে সাইকেলটা থেমে গেল।

নবকুমার লোকটিকে চিনতে পেরে দাঁড়িয়ে গেল, ‘কেমন আছেন সুমনকাকা?’

‘আর কেমন আছি! খরচ করে ছেলেটার বিয়ে দিলাম, সে এখন ঘরজামাই হয়ে বসে আছে শ্বশুরবাড়িতে। এরপর কি ভালো থাকা যায়! হ্যাঁ, তুমি তো কলিকাতায় থাকো?’

‘হ্যাঁ।’

‘শুনেছি ভালো কাজ কাম করছ। বাবাকে টাকা পাঠাও। খুব ভালো লাগে। তা বাবা, একটা উপকার করতে পারবে?’

‘বলুন।’

‘আমার মেয়েটাকে কি তোমার মনে আছে? শিবানী। স্কুল ফাইনাল পাশ করে বসে আছে। দাদার ব্যাপার দেখে বলছে বিয়ে করবে না সে। আমি যে পাত্র খুঁজে জোর করে বিয়ে দেব সে ক্ষমতাও আর নেই। মেয়ের মাথায় ঢুকেছে সে চাকরি করবে। কলিকাতার মেয়েরা তো চাকরি করে। শিবানীর জন্যে একটু চেষ্টা যদি করো তাহলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’ সুমন কাকার গলা ধরে এল।

কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে নবকুমার বলল, ‘আমি চেষ্টা করব।’

‘তাহলেই হবে। এসো না আমাদের বাড়িতে। শিবানীর সঙ্গে আলাপ করে যেও। চলি। আমার একটু দেরি হয়ে গিয়েছে।’ সাইকেল চলে গেল।

খারাপ লাগছিল খুব সুমনকাকার জন্যে। কিন্তু এ কী বলল সে? কোথায় চেষ্টা করবে? চেষ্টা করার মতো ক্ষমতা তার নেই তা ভুলে গিয়ে কী করে আশ্বাস দিল? আগে হলে স্পষ্ট বলত, সুমনকাকা, আমি আগে যাত্রার গদিতে প্রম্পটারের চাকরি করতাম। কলিকাতায় মেয়েদের যেখানে চাকরি হয়, সেখানকার কারও সঙ্গে আমার আলাপ হয়নি। এখন আমি সিনেমায় অভিনয় করার জন্যে তৈরি হচ্ছি। সেখানে যদি শিবানীর কথা বলি তাহলে কেউ পাত্তা দেবে না। তা ছাড়া, সেখানে কেউ বাঁধাধরা চাকরি করে না। অথচ এই সত্যি কথাটা না বলে দিব্যি বলে দিল, আমি চেষ্টা করব? মাস্টারদা বলত কর্পোরেশনের জল পেটে পড়লে মানুষ বদলে যায়? তাহলে কি সে-ও বদলে গিয়েছে?

গ্রামে ঢুকে পড়ল সে। আশেপাশের অনেকেই তাকে উৎসুক চোখে দেখছে। জনার্দন আসছিল ওপাশ থেকে, তাকে দেখে চোখ বড় করে বলল, ‘কীরে? চলে এলি?’

জনার্দন পাশের বাড়ির ছেলে। ছেলেবেলায় স্কুলে যেত না বলে ওর বাবা মাঠের কাজে লাগিয়ে দিয়েছিল। তাই নিয়ে আছে।

‘মায়ের কী হয়েছে রে?’

‘মা? তোর মা?’ জনার্দন যেন বুঝতে পারছিল না।

‘আচ্ছা ক্যাবলা তো তুই! মা বললে আমি কি তোর মায়ের কথা বোঝাব?’

‘তোর মা-মানে কাকিমার? আমি জানি না তো! চল দেখে আসি।’ জনার্দন সঙ্গ নিল। হাঁটতে শুরু করে বলল, ‘তুই নাকি কলিকাতায় খুব বড় চাকরি করিস! বাড়িতে টাকা পাঠাস! অনেক টাকা মাইনে? কত মাইনে রে?’

‘পাঁচ-ছয় হাজার। পরে বাড়বে।’ বেমালুম মুখ থেকে বেরিয়ে এল।

‘বাপস। এত টাকা? শালা, সারাবছর জমিতে গরুর মতো খাটি আমি। বছরের খাওয়ার পর দু-হাজার থাকে কি না সন্দেহ। তোর কথা শুনলে বাবা বলবে, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝোনি। না রে নব, আমার ছেলেকে আমি অনেক পড়াশোনা শেখাব। কিছুতেই পড়া ছাড়তে দেব না।’

‘তোর ছেলে? তুই বিয়ে করেছিস কবে?’ নবকুমার অবাক হল।

‘এখনও করিনি। তবে করতে তো হবেই। তারপর ছেলেও আসবে। তাই না?’ খিড়কি দরজায় পৌঁছে জনার্দন হাঁক দিল, ‘ও কাকাবাবু, দেখুন কে এসেছে? হেঁ-হেঁ। বড়লোক হয়ে এসেছে।’

বাবা ঘরের ভেতর ছিল। বারান্দায় বেরিয়ে এসে নবকুমারকে দেখে খুশি হল, ‘ও তুমি! শুনছ, নব বাড়ি এসেছে।’

সঙ্গে-সঙ্গে রান্নাঘর থেকে মা প্রায় তীরের মতো বেরিয়ে এল, ‘ওমা, তুই এসেছিস! কী রোগা হয়ে গিয়েছিস রে! ইস, গলার হাড় বেরিয়ে গিয়েছে! নিশ্চয়ই খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো করতিস না। যার এক গ্লাস জল গড়িয়ে খাওয়ার অভ্যেস ছিল না, সে কী করে পারবে? আয় বোস। আমি এক গ্লাস চিনিজল করে আনছি।’

জনার্দন হাসল, ‘হে-হে। কী যে বলো কাকি। গাদাগাদা টাকা ও হাতে পায়। হুকুম করলেই মাছ মাংস চপ কাটলেট, রাবড়ি চলে আসবে।’

মা মুখ ফেরাল। ‘বাবা জনার্দন, এখন তুমি বাড়ি যাও। ছেলেটা এতদিন পরে এল! একটু জিরোতে দাও ওকে। কেমন?’

বাবা বলল, ‘তুই বরং একটা কাজ কর জনা! নবর বন্ধুদের খবর দিয়ে বল বিকেলে দেখা করতে।’

অনিচ্ছা সত্বেও জনার্দন বেরিয়ে গেল। এবার নবকুমার জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার শরীর খারাপ না?’

‘মানে?’ মা হকচকিয়ে গেল।

‘তোমার তো এখন হাসপাতালে থাকার কথা। বাবা লিখেছে তুমি পেটের যন্ত্রণায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছ। তোমাকে হাসপাতালে ভরতি করতেই হবে।’ নবকুমার বলল।

মা একটু লজ্জা পেল, ‘তোর বাবা এসব লিখতে চাইছিল না। আমিই জোর করে লিখিয়েছি। আমি হাসপাতালে ভরতি জানলে তুই না এসে পারবি না। তাই।’

বাবা বলল, ‘ক’দিন থেকে খালি কেঁদেই চলেছে। তোকে নিয়ে নাকি কু-স্বপ্ন দেখছে। তারপর থেকে এক কথা, ওকে আসতে বলো।’

‘তাই বলে তুমি এত বড় মিথ্যে লিখবে!’ নবকুমার রেগে গেল।

বাবা এবার মাকে বলল, ‘শোনো। আমি নিষেধ করেছিলাম, তুমি এবার জবাব দাও। এককথা, আমি ওকে না দেখলে মরে যাব!’

মা ফোঁস করে উঠল, ‘মিথ্যে কেন হবে? রোজ বিকেলে পেটে চিনচিনে ব্যথা হয়। অম্বলে বুক জ্বলে যায়। তুই যে গেলি, এসবের খবর নিয়েছিস?’

‘নতুন জায়গায় পায়ের তলায় মাটি থাকে না। আমাকে একটু সময় না দিয়ে হুট করে ডেকে পাঠালে। মিথ্যে বলে টাকা চাইলে। এক আধটা নয়, একেবারে পাঁচ হাজার। অত টাকা আমি কোথায় পাব তা একবারও ভেবেছ?’

‘তাহলে পাঠালি কী করে!’ বাবা হতভম্ব গলায় বলল।

নবকুমার মাথা ঝাঁকাল। শেফালি-মা না পাঠালে তার পক্ষে যে পাঠানো সহজ হত না তা এখন বলে কী লাভ হবে।

বাবা বলল, ‘এক কথায় হুট করে পাঁচ হাজার পাঠিয়ে দিলি। ক’জন পারে? নিশ্চয়ই খুব ভালো রোজগার করছিস।’

‘টাকাটা আমি ধার করে পাঠিয়েছি। মাসে-মাসে শোধ করতে হবে।’

‘ওম্মা! তাহলে তুমি ফেরত দিয়ে দাও। ওর খুব কষ্ট হবে শোধ করতে।’ মা বলে উঠল।

‘ঠিক আছে। টাকাটা যে কারণে চেয়েছিলে, সেটা ভুলে যাচ্ছ কেন?’

‘মানে?’ বাবা জিজ্ঞাসা করল।

‘গুরুতর না হোক মায়ের পেটে ব্যথা হয়, অম্বল হয়। তুমি কালই মাকে সদরের হাসপাতালে দেখাতে নিয়ে যাও। এখন তো টাকার জন্যে চিন্তা করতে হচ্ছে না।’ নবকুমার ঘরের দিকে পা বাড়াল।

‘না-না। আমার সদরে যাওয়ার দরকার নেই। ভজন ডাক্তারের হোমিওপ্যাথির গুলি খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। তুমি আজ সন্ধেবেলায় ভজন ডাক্তারকে গিয়ে বলো।’ মা বলল।

ঘুরে দাঁড়াল নবকুমার, ‘তুমি যদি বাবার সঙ্গে কাল সদরের হাসপাতালে গিয়ে বড় ডাক্তারকে না দেখাও তাহলে আমি আজ রাত্রের ট্রেন ধরে কলিকাতায় চলে যাব।’

‘আচ্ছা মুশকিলে পড়া গেল। আমি কাল সকালে যদি সদরে যাই তাহলে রান্না করব কখন? তুই না খেয়ে থাকবি নাকি?’ মা না যাওয়ার জন্যে কারণ দেখাল।

‘আমার জন্যে চিন্তা করতে হবে না। গ্রামের কারও বাড়িতে খেয়ে নেব।’

‘খবরদার না।’ মা শক্ত গলায় বলল।

‘কেন?’

‘এর মধ্যে আমার কাছে কেউ-কেউ এসেছিল। তুই ভালো চাকরি করছিস জানতে পেরে তাদের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায়। আমরা নেই জানলে তারা তোকে জামাইআদরে খাওয়াবে। কিন্তু কখখনো যাবি না তুই। এই গ্রামে তোর শ্বশুরবাড়ি হোক, আমি চাই না।’

‘ঠিক আছে। আমি রতনের দোকানে খেয়ে নেব। ওর কোনও বোন নেই।’ নবকুমার ঘরে ঢুকল।

.

প্রাইমারি স্কুলের মাঠের একপাশে মুদির দোকান, চায়ের ঠেক। ঠেক এই কারণে যে নিবারণ এখনও দোকান তৈরি করার পয়সা জোগাড় করতে পারেনি। ওপরে একটা প্লাস্টিকের ছাউনি টাঙিয়ে চা বানায়। বয়ামে বিস্কুট আছে। ভোরবেলায় ও সব নিয়ে আসে, রাত নামলে তুলে বাড়ি নিয়ে যায়।

ওরা আড্ডা মারছিল রাস্তার পাশে বাঁধানো বটতলায়। চাকরির সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার আগে এই বাল্যবন্ধুদের সঙ্গে দিনের-পর-দিন আড্ডা মেরেছে নবকুমার। এদের দুজন এখনও বেকার, একজন বাসে কন্ডাক্টরি করে, চতুর্থজন প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার।

মাস্টার বলছিল, ‘তুই বিশাল ঝুঁকি নিয়েছিলি। অবশ্য সাফল্য পেতে গেলে ঝুঁকি নিতেই হয়। তা নিজেই বাড়ি ভাড়া করে থাকিস?’

নবকুমার একটু ভাবল, তারপর বলল, ‘না। একজন বৃদ্ধা মহিলা একা থাকেন। আমাকে তিনি থাকতে দিয়েছেন। ওঁর ছেলেমেয়ে আত্মীয়স্বজন কেউ নেই।’

কন্ডাক্টর বলল, ‘শালা, তোর কপাল খুলে গিয়েছে রে। বুড়ি মরলে সব কিছুর মালিক তো তুই হবি। কাগজে লিখিয়ে নে নব। নইলে মরার খবর পেয়ে শকুনের মতো দাবিদাররা উড়ে এসে তোকে তাড়াবে।’

নবকুমার শুধু একটি শব্দ নাক দিয়ে বের করল, ‘হুমম।’

প্রথম বেকার বন্ধু জিজ্ঞাসা করল, ‘কীরকম মাইনে পাস রে?’

‘ছয় হাজার।’

‘বা:। চাকরিটা কী? কী করতে হয় তোকে?’

নবকুমার কথা হাতড়াল। তাকে সিনেমার নায়কের জন্যে নির্বাচন করা হয়েছে বললে কী প্রতিক্রিয়া হবে? মাইনের ব্যাপারটা মিথ্যে বলতে এখন আর আটকায়নি। জর্নাদনকে বলার পর থেকেই সঙ্কোচ চলে গিয়েছিল। বোধহয় বারবার বললে মিথ্যা কথা সত্যির মতো সহজ হয়ে যায়। সে বলল, ‘ওই চাকরি। ধরে নে না, একটা চাকরি।’

‘তার মানে?’ দ্বিতীয় বেকার বন্ধু জিজ্ঞাসা করল।

‘আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে চাকরি করি, তা আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাউকে বলা চলবে না। জানতে পারলেই ওরা ছাড়িয়ে দেবে।’

মাস্টার মাথা নাড়ল, ‘বুঝতে পেরেছি।’

নবকুমার তাকাল, ‘কী বুঝলি?’

‘তুই নিশ্চয়ই সরকরি গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি পেয়েছিস। ছয় মাসের টেম্পোরারি পিরিয়ড শেষ হলে তবে পাকা চাকরি।’ বিজ্ঞের মতো বলল মাস্টার।

ফলে সবাই গপ্পো শুনতে চাইল। কীভাবে তাকে গোয়েন্দা হওয়ার ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, অ্যাকশন করতে হচ্ছে কি না, ইত্যাদি।

নবকুমার বলল, ‘চা খাবি?’

কন্ডাক্টর বলল, ‘নিশ্চয়ই।’ তারপর চেঁচিয়ে বলল, অ্যাই নিবা, চারটে চা আর সুজির বিস্কুট। জলদি। নব দাম দেবে।’

‘ওখানে কোথায় থাকিস তুই? ঠিকানাটা দিয়ে যাবি।’ মাস্টার বলল।

‘ভবানীপুরে। বেশ বড়লোকদের পাড়া।’ বলতে-বলতে চোখের সামনে সোনাগাছির রাস্তা ভেসে উঠল। ওই পাড়ায় থাকে জানলে এদের মন চঞ্চল হবেই। কী দরকার বলার?

এই সময় দূরে দুজন ভদ্রমহিলাকে আসতে দেখা গেল। এঁদের কখনও দ্যাখেনি নবকুমার। ওরা যেভাবে হেঁটে আসছেন তাতে মনে হচ্ছিল এখানকার লোক।

মাস্টার নীচুগলায় বলল, ‘চিনতে পারছিস?’

‘না।’ গলা নামাল নবকুমারও।

‘সুমিতা, বড়গাঙ্গুলি বাড়ির মেয়ে আর ওর ননদ। বেড়াতে এসেছে।’ মাস্টার বলল, ‘আমাদের পাত্তা দেয় না। সুমিতার স্বামী নাকি বিরাট ব্যাবসায়ী।’

ওরা সামনে আসতেই নিবারণ চা-বিস্কুট দিয়ে গেল। নবকুমার দেখল বিবাহিতা মহিলা তার বয়সি, ননদটি কিঞ্চিৎ ছোট।

হঠাৎ ননদটি নবকুমারকে দেখে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। তার বউদি এগিয়ে যাচ্ছিল। ঘুরে ডাকল, ‘কীরে, আয়!’

ননদ ছুটল বউদির পাশে, ফিসফিসিয়ে কিছু বলল।

বউদি মাথা নাড়ল, ‘ধ্যাৎ। হতেই পারে না।’

ননদ বলল, ‘এত ভুল আমার হবে!’

‘হ্যাঁ। তোর চোখে ন্যাবা হয়েছে। এদের আমি ছেলেবেলা থেকে চিনি।’ বউদি হাসল, ‘বেশ। চল।’

নবকুমার দেখল ওরা এগিয়ে আসছে। সামনে এসে বউদি, যার নাম সুমিতা, বলল, ‘কেমন আছ তোমরা? সবাই গ্রামে থেকে গেলে?’

‘হঠাৎ একথা? এর আগে তো চিনতেই পারছিলে না।’ কন্ডাক্টর বলল।

‘চিনে নতুন কী হবে? আমার ননদ একটা ভুল করছিল ওকে নিয়ে—।’ সুমিতা দেখাল নবকুমারকে। তারপর ননদকে বলল, ‘ভুল ভেঙেছে? ওর নাম, কী যেন, কী যেন—।’

মাস্টার বলল, ‘নবকুমার।’

সঙ্গে-সঙ্গে সুমিতার ননদ চেঁচিয়ে উঠল, ‘ছবির নীচে এই নামটাই তো লেখা ছিল।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *