1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ৪৮

আটচল্লিশ

ঘণ্টাখানেক অনুশীলনের পরে প্রাণকৃষ্ণ স্ক্রিপ্ট বন্ধ করে গম্ভীর গলায় বলল, ‘তুমি আমাকে মুশকিলে ফেলে দিলে নবকুমার।’

বুঝতে না পেরে নবকুমার তাকিয়ে থাকল।

‘অভিনয়ের ব্যাপারে আমি মিথ্যে বলতে পারি না। তোমার পরিচালক-প্রযোজক জিজ্ঞাসা করবেন কিন্তু আমি তোমার পক্ষে বলতে পারব না।’ মাথা নাড়ল প্রাণকৃষ্ণ।

‘আমার কী ভুল হচ্ছে?’

‘ভুল? তুমি তো আমাকে কপি করে যাচ্ছ। আমি যেমন বলছি তেমন বলছ। তোমার মনে রাখার ক্ষমতা আছে তাই এটা পারছ। কিন্তু এখানে থেকে যাওয়ার পর একবারও অনুশীলন করোনি তা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি। ছবিতে যে চরিত্রে তোমার অভিনয় করার কথা তার সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছি। তুমি সেই চরিত্রের ভেতর না ঢুকে আমার সংলাপ বলার ধরনটাকে কপি করেছ। যদি চরিত্রটাকে বুঝতে তাহলে তোমার মতো করে বলার চেষ্টা করতে। ভুল হলে আমি সংশোধন করে দিতাম। কপি করে কখনও জীবনে দাঁড়ানো যায় না। তবু আসার আগে একটা চেষ্টা করছিলে। উর্মিলাকে দেখার পর সেসব জলাঞ্জলি দিলে। তাহলে তোমার পেছনে আমি সময় নষ্ট করব কেন?’

মাথা নাড়ল নবকুমার। তারপর বলল, ‘আপনি ঠিক বলেছেন। আমি অনুশীলন করিনি। ওই ভদ্রমহিলাকে দেখে আমি অন্যমনস্ক হয়েছিলাম, তার কারণ ছিল। ঠিক আছে, আপনি গীতিময়বাবুকে বলে দিন, আমার দ্বারা হবে না।’

প্রাণকৃষ্ণ অবাক, ‘তার মানে? তুমি অভিনয় করবে না?’

‘আপনি বলুন, সবার দ্বারা সব হয়? প্রথম দেখায় আপনি তো বলেছিলেন। তা ছাড়া, আমি তো নিজে অভিনয় করতে চাইনি, বড়বাবুর হুকুমেই—।’ কথা শেষ করল না নবকুমার। ওর গলা ধরে গিয়েছিল।

নবকুমার উঠতে যাচ্ছিল। প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘বোসো। সামান্য একটা চরিত্রে সুযোগ পাওয়ার জন্যে নতুন ছেলেমেয়েরা জুতোর সুকতলা খইয়ে ফেলে। এরকম চরিত্র পেলে জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারে। আর তুমি আমার দ্বারা হবে না বলে উঠে যাচ্ছ! ঠিক আছে, তোমার এই মানসিকতা আমার পছন্দ না হলেও একটা অনুরোধ করছি। যেভাবে তুমি ছেড়ে যেতে চাইছ সেইভাবে আঁকড়ে ধরো। তোমার অহংবোধ যদি এত তাড়াতাড়ি আক্রান্ত হয় তাহলে এই অহংবোধ নিয়ে কাজটাকে সফল করার চেষ্টা করছ না কেন? ঠিক আছে, আগামীকাল চারটের সময় এস। নবকুমার, হেরে গিয়ে সরে দাঁড়ালে তুমি নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাবে।’

বাইরের ঘরে কথাবার্তা শুরু হয়ে গিয়েছিল। গীতিময় দরজায় এলেন ব্যস্ত হয়ে, ‘তোমাদের কাজ কি এখনও চলবে?’

প্রাণকৃষ্ণ উঠে দাঁড়াল, ‘আবার আগামীকাল।’

‘গুড! নবকুমার, এ-ঘরে এস।’

প্রাণকৃষ্ণের সঙ্গে গীতিময়ের ঘরে ঢুকে নবকুমার দেখল, দুজন প্রৌঢ় দাঁড়িয়ে আছেন। গীতিময় তাঁদের বললেন, ‘চটপট মাপ নিয়ে যাও। কী-কী বানাবে তা বলে দিয়েছি। এক তারিখের মধ্যে সব রেডি চাই।’

‘আপনার সবসময় শিরে সংক্রান্তি।’ একজন প্রৌঢ় বলল। তারপর এগিয়ে এসে নবকুমারকে বলল, ‘হাতদুটো দুপাশে ছড়িয়ে দাঁড়ান ভাই।’ মিনিটদুয়েকের মধ্যে জামা, পাঞ্জাবি, প্যান্টের মাপ নিয়ে লোকদুটো চলে গেলে গীতিময় বললেন, ‘যাক, তোমার ড্রেস-সমস্যা মিটল।’

প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘সেটা বলতে পারো না। বাবু নবকুমার যদি মনে করেন ওঁর অভিনয় ঠিক হচ্ছে না তাহলে তিনি নাও করতে পারেন।’

গীতিময় হাঁ হয়ে গেলেন, ‘তার মানে?’

‘আমি এখনও ঠিকঠাক পারছি না।’ নবকুমার সরাসরি বলে দিল।

‘আ:! সেটা দেখার জন্যে প্রাণকৃষ্ণ আছে। তুমি বলার কে? কন্ট্রাক্ট ফর্মে সই করেছ, অ্যাডভান্স নিয়েছ এখন বলছ করতে না-ও পারো!’ গীতিময় অগ্নিশর্মা।

প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘যদি আমার মনে হয় ও পারছে না—।’

‘তাহলে বলব তুমি তার জন্যে দায়ী। তোমার মতো ঝানু লোক যদি প্রথমদিন রিহার্সাল দিয়ে বুঝতে না পারে তাহলে আমি কার ওপর নির্ভর করব।’ একটু ভেবে নিয়ে গীতিময়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেন? একদমই পারছে না?’

‘একেবারে না বলব না।’

‘তাহলে চেষ্টা করো। এখনও তো কয়েকদিন সময় আছে। এটা তো থিয়েটার নয়, আমি ছোট-ছোট শট নেব। ওকে চরিত্রটার মধ্যে ঢুকিয়ে দাও, তাহলেই হবে। অভিনয় যা করার আমি করিয়ে নেব।’ গীতিময় বললেন, ‘বড়বাবুর কানে গেলে আমরা বারোটা বাজিয়ে দেবেন। আজ ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি বলে দিয়েছি, ভাস্টলি ইমপ্রুভড।’

প্রাণকৃষ্ণের সঙ্গে অফিস ঘর থেকে বেরিয়ে এল নবকুমার। প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘এসব শুনে নার্ভাস হয়ে যেও না। বাড়িতে যা অনুশীলন করতে বলেছি তা মন দিয়ে করো। আমি বলছি, তুমি পারবে। আচ্ছা, আসি ভাই।’

প্রাণকৃষ্ণ উলটোদিকে চলে গেল। এখন সন্ধে নেমে গিয়েছে। আলো জ্বলছে স্টুডিও চত্বরে। কয়েকটি চেনা মুখ দেখতে পেল নবকুমার। এদের হয় টিভি নয় সিনেমায় দেখেছে সে। সে হাঁটতে শুরু করতেই পেছন থেকে একজন ডাকল, ‘ও দাদা, শুনছেন?’

নবকুমার পেছন ফিরল। একটা কিশোর তার সামনে এসে বলল, ‘দিদি আপনাকে ডাকছেন। এখনই শ্যুটিং শেষ হবে। গ্রিনরুমে বসতে বললেন।’

‘আমাকে?’ অবাক হল নবকুমার।

‘হ্যাঁ। আসুন।’ ছেলেটা হাঁটতে লাগল।

নবকুমার তার পাশে চলে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘দিদির নাম কী?’

‘আমাদের ছবির হিরোইন।’ ছেলেটা পা চালাল।

কোনও হিরোইন তাকে ডেকে পাঠাতে পারে না। ওঁদের কারও তাকে চেনার কথা নয়। গ্রিনরুমের দিকে ছেলেটিকে অনুসরণ করে যেতে-যেতে তার খেয়াল হল। এই হিরোইন নিশ্চয়ই উর্মিলা। উর্মিলা দেখে গিয়েছে সে গীতিময়বাবুর অফিসে বসে রিহার্সাল দিচ্ছে। ছেলেটাকে তখন থেকে নিশ্চয়ই পাহারায় লাগিয়েছে। কেন? হঠাৎ মনে হল, উর্মিলা বোধহয় তাকে কিছু বলতে চায়। দুপুরে মন্দাক্রান্তার বাড়িতে সেইজন্যেই গিয়েছিল।

ছোট-ছোট কয়েকটা ঘর। ছেলেটা যে ঘরের দরজা খুলে পরদা সরিয়ে তাকে ভেতরে ডাকল সেটা একটু বড়। ঘরের ভেতর আয়না, টুল, চেয়ার এবং একটা ডিভান পাতা। ওপাশে টেবিলের ওপর জামাকাপড়ের স্তূপ। জলের বোতল, ব্যাগ। ঘরে কেউ নেই।

ছেলেটা বলল, ‘এখানে বসুন। দিদি একটু পরে আসবে।’

ছেলেটা বেরিয়ে গেলে নবকুমার চেয়ারে বসল। ঘরের বাতাসে একটা সুবাস ভাসছে। মেয়েলি গন্ধ। একটু পরে দরজায় শব্দ হল। তারপর পরদা সরিয়ে মুখ বাড়ালেন যিনি তাঁকে চিনতে অসুবিধে হল না। কিছুদিন আগেও একচেটিয়া নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতেন। এখন চেহারা বেশ ভারী হওয়ায় চরিত্রাভিনেতা হয়েছেন।

‘উর্মি কি এখনও শ্যুট করছে?’

মানে বুঝতে পারল না নবকুমার। শ্যুট করা মানে গুলি ছোড়া। সে বলল, ‘আমি জানি না।’

‘অ।’ চোখ বড় করলেন ভদ্রলোক। তারপর কাঁধ নাচিয়ে পরদা ফেলে বেরিয়ে গেলেন। ইনি যখন উর্মিলাকে উর্মি বলে সম্বোধন করলেন তখন বোঝাই যাচ্ছে বেশ কাছের মানুষ। মিনিটপাঁচেক যেতে নবকুমার উঠে দাঁড়াল। এইভাবে একা বসে থাকার কোনও মানে হয় না।

এই সময় সেই ছেলেটি কয়েকটা জিনিস হাতে নিয়ে মেক-আপ রুমে ঢুকে দাঁত বের করে বলল, ‘দিদি এসে গিয়েছেন।’

তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে উর্মিলা পরদা সরিয়ে ভেতরে ঢুকল, ‘আই অ্যাম সরি। কিছু মনে করবেন না। কো-অ্যাক্টর ফেল করায় পাঁচবার টেক হল। কী করে যে এইসব লোক অভিনয়ের জন্যে টাকা নেয়, কে জানে! এই, ওঁকে চা দিয়েছিস?’

ছেলেটা মাথা নাড়ল, না।

‘তোর আর বুদ্ধি কখনও হবে না। যা, স্পেশ্যাল চা নিয়ে আয়।’

‘আমি একটু আগে চা খেয়েছি, আর খাব না!’ নবকুমার গম্ভীর।

এইসময় এক ভদ্রলোক ঘরে ঢুকলেন, ‘বসো, মেক-আপটা তুলে দিই। হেয়ার ড্রেসার কোথায়?’

বাইরে থেকে একটি মেয়ের গলা ভেসে এল, ‘আসছি।’

নতুন দৃশ্য দেখল নবকুমার। মাঝবয়সি এক মহিলা সযত্নে উর্মিলার মাথা থেকে এক ফালি পরচুলা খুলে নিল। সেটা ভাঁজ করে বাক্সে রেখে দিল। মেক-আপ ম্যান ওর মুখ থেকে রং তুলতে শুরু করলেন। সেসব হয়ে যাওয়ার পরে উর্মিলার মুখ চকচকে লাগছিল। এই সময় পরদা সরিয়ে সেই বিগত নায়ক ঘরে ঢুকে ডাকলেন, ‘হাই উর্মি।’

উর্মিলা আয়নায় লোকটাকে দেখে মাথা দোলাল।

‘খুব খাটতে হচ্ছে?’ বিগত নায়ক চেয়ারের পাশে চলে আসতে মেকআপ ম্যান আর মেয়েটি বেরিয়ে গেলেন। উর্মিলা জবাব দিল, ‘পেটের দায় বড় দায়।’

‘বাব্বা! দায়টা কত বড় একটু জানতে পারি?’

‘কেন? মিটিয়ে দেবেন?’ উঠে দাঁড়াল উর্মিলা।

‘চেষ্টা করতে পারি। আচ্ছা, তুমি এই আপনি বলাটা ছাড়তে পারো না। আজকাল টিভি সিরিয়াল করতে যেসব পুঁচকে মেয়েরা আসছে তারাও প্রথমদিন থেকে তুমি বলে কথা শুরু করে।’ বিগত নায়ক হাসলেন।

‘যে যাতে অভ্যস্ত সে তো তাই করবে। বলুন, কী ব্যাপার?’

‘তুমি চ্যাটার্জির পার্টিতে কখন যাচ্ছ?’

‘এখনও ভাবিনি।’

‘আ:। ন’টা? দশটা?’

‘কেন?’

‘তাহলে যাওয়ার আগে টলি ক্লাবে চলে এসো। আধঘণ্টা গপ্পো করে একসঙ্গে যাওয়া যাবে। ও কে?’

‘চেষ্টা করব।’

‘ওইসব বললে শুনব না। আমি তোমার জন্যে আটটা থেকে অপেক্ষা করব। যাই!’ বিগত নায়ক চলে গেলেন।

উর্মিলা বলল, ‘খুব খারাপ লাগছে আপনার, জানি! আর এক মিনিট অপেক্ষা করুন, আমি চেঞ্জ করে আসছি।’

সে পাশের ঘরে চলে গেলে একটি মেয়ে ঘরে ঢুকে উর্মিলার জিনিসপত্র গোছাতে লাগল।

সালোয়ার কামিজ পরে বেরিয়ে এসে উর্মিলা জিজ্ঞাসা করল, ‘কেমন লাগছে?’

‘ভালো।’

শুনে চোখ ছোট করে হাসল উর্মিলা।

‘আপনি আমাকে ডেকেছেন কেন তা এখনও জানতে পারিনি।’

‘আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্যে।’

‘বলুন।’

‘এই তো কথা বলছি।’

‘বিশেষ কোনও কথা—!’

‘কী আশ্চর্য! আপনার সঙ্গে বিশেষ কোনও কথা বলার মতো সময় কি আমি পেয়েছি?’

‘ও।’ মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘তাহলে আমি কি যেতে পারি?’

‘কেন?’

অবাক হয়ে তাকাল নবকুমার।

উর্মিলা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনার এখন কোনও জরুরি কাজ আছে?’

‘না।’

‘তাহলে চলুন, এখান থেকে বেরিয়ে কোথাও গিয়ে এক কাপ কফি খেতে-খেতে কিছুক্ষণ বকবক করি। সকাল থেকেই ইচ্ছে হচ্ছে নি:স্বার্থ আড্ডা মারতে।’

যে মেয়েটি গোছগাছ করছিল তাকে কিছু নির্দেশ দিয়ে উর্মিলা নবকুমারকে নিয়ে বেরিয়ে এল। বাঁধানো প্যাসেজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে লোকজন। নবকুমারের কানে চাপা সংলাপ ভেসে এল। ‘মালটা কে?’ ‘বয়ফ্রেন্ড?’ ‘ভ্যাট।’ ‘ও তো নিজেই মুরগি হয়ে আছে। মুরগি ধরার ক্ষমতা নেই।’

ড্রাইভার দরজা খুলে দিল। নবকুমারের মনে পড়ল, এই লোকটার নাম গোবিন্দ।

মাঝখানে অনেকটা দূরত্ব রেখে ওরা বসতেই গোবিন্দ গাড়ি চালু করল। স্টুডিও-র গেট পেরিয়ে গাড়ি ছুটছিল ট্রাম ডিপোর দিকে। উর্মিলা বলল, ‘গোবিন্দ, কান্ট্রি ক্লাবে যাব। সেই বুঝে জ্যাম এড়িয়ে চলো।’

‘আপনি বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন না?’

‘না। আজ দেরিতে ফেরার জন্যে কাউকে কৈফিয়ত দিতে হবে না।’

‘কিন্তু আপনার তো কোথাও যাওয়ার কথা আছে।’

‘দূর। ওসব জায়গায় যেতে-যেতে ঘেন্না ধরে গিয়েছে। সেজেগুজে গিয়ে মেকি কথা বলা, মদের গ্লাস নিয়ে দাঁত দেখানো তারপর সাজিয়ে রাখা একই ধরনের খাবার খেয়ে বাড়ি ফেরা।’ উর্মিলা কাঁধ নাচাল।

‘কিন্তু সবাই তো খুঁজবে আপনাকে।’

‘খুঁজুক। দেখলেন তো ওই বুড়ো ভামটাকে। পার্টিতে আমার পাশে-পাশে ঘুরবে বলে লাইন করছিল।’ উর্মিলা বলল, ‘ছাড়ুন এসব। প্রাণদা কীরকম শেখাচ্ছে?’

‘খুব ভালো।’

‘মুশকিল হল, উনি সত্যি ভালো শেখান, কিন্তু সেটা সেটে করতে গেলে দেখি পরিচালক সময় দিচ্ছেন না। কোনও-কোনও পরিচালক গোদা অ্যাক্টিং পছন্দ করেন। তখন খুব খারাপ লাগে প্রাণদার কথা ভেবে। আচ্ছা, আপনার কি আমার সঙ্গে যেতে ভালো লাগছে না?’

‘সত্যি কথা বলছি, খুব টায়ার্ড লাগছে। মন ভালো নেই। সারাদিন ছুটোছুটি, এখন ইচ্ছে করছে ঘরে ফিরে গিয়ে টানটান হয়ে শুয়ে পড়তে।’ নবকুমার বলল।

চুপচাপ তাকিয়ে থেকে হাত বাড়াল উর্মিলা, ‘হাত মেলান।’ নবকুমার হাত মেলালে সে বলল, ‘গোবিন্দ, কান্ট্রি ক্লাবে যেতে হবে না। নবদাকে সেদিন যেখানে নামিয়েছিলে সেখানে নামিয়ে দাও।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *