1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ৪৭

সাতচল্লিশ

নবকুমার অবাক হয়ে গেল। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘উনি আমার সঙ্গে দেখা করতে কেন এলেন?’

‘জিজ্ঞাসা করেছিলাম।’ মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘বলল, তোমার মধ্যে একটা সহজ মানুষকে ও দেখতে পেয়েছে। তুমি এখনও ফিল্মের লোক হয়ে যাওনি। তাই ওর কথা বলতে ইচ্ছে করেছে।’

বলে মন্দাক্রান্তা নবকুমারের দিকে রহস্যময়ীর মতো তাকালেন, ঠোঁটে একচিলতে হাসি। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার ভালো লাগছে না?’

‘না:।’ নবকুমার মাথা নাড়ল।

‘ওমা! সে কী! উর্মিলার মতো অল্পবয়সি সুন্দরী যেচে তোমার সঙ্গে আলাপ করতে চাইছে আর তোমার সেটা ভালো লাগছে না? শুনলে লোকে তোমাকে পাগল বলবে।’

‘কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’ ভালো লাগছিল না নবকুমারের, ‘সুন্দরী হলেই তার সব ইচ্ছে মানতে হবে! তা ছাড়া, ও তো আপনার চেয়ে সুন্দরী নয়।’

চোখ বড় এবং মুখ হাঁ হয়ে গেল মন্দাক্রান্তার। সেটা সামলে নিয়ে বললেন, ‘বসো। খাওয়াদাওয়া হয়েছে?’

‘হ্যাঁ।’

‘তোমার রিহার্সাল কখন?’

‘চারটের সময়।’

ঘড়ি দেখলেন মন্দাক্রান্তা। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কবে ভবানীপুরে যাচ্ছ?’

‘এক তারিখে। আমি শেফালি-মায়ের সঙ্গে যাচ্ছি।’ নবকুমার বলল।

তাকালেন মন্দাক্রান্তা। নবকুমার যে তাঁকে সংশোধন করে দিল তা বুঝলেন। তারপর শ্বাস ফেললেন, ‘তোমাকে একটা কথা বলি। আমরা বেশিরভাগ সময়ে ভাবি যা করছি ঠিক করছি। যা ভাবছি সেটাই ঠিক। আমাদের যে ভুল হতে পারে তা সে সময় মাথায় আসে না। তার ফলে মানুষ আমাদের অপছন্দ করতে শুরু করে। তাই, আমাদের কখনও এমন কথা বলা উচিত নয়, এমন দাঁড়ি টানা উচিত নয় যার পরে আর কথা বলা যাবে না। তুমি যদি মাঝখানের পথ ধরে হাঁটো, তাহলে দেখবে সমস্যা বাড়বে না।’

নবকুমার তাকাল, ‘আমি বুঝতে পারলাম না।’

হাসলেন মন্দাক্রান্তা, ‘তুমি বললে, কে কী বলল তাতে তোমার কিছু যায় আসে না। তাই তো? নিজের সিদ্ধান্ত এত সরাসরি বলার কী দরকার? যদি বলতে, তাই নাকি? লোকে যদি আমাকে পাগল ভাবে তাহলে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে হবে। এটা শুনলে লোকে তোমাকে উদ্ধত যেমন ভাববে না তেমনি তুমিও তো তোমার বিশ্বাস থেকে নড়ছ না। তাই না?’

মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘হ্যাঁ।’

‘আচ্ছা, তোমার মনে হয় না, আমি কেন ডেকেছি?’

‘আপনি আমার ভালো চান, তাই।’

‘বড়বাবু আমাকে স্টুডিওর অফিসে গিয়ে বসতে বলেন। কিন্তু সেখানকার আবহাওয়া, মানুষজনের কথাবার্তা আমার ভালো লাগে না। আবার বাড়িতে একা-একা থাকতে-থাকতে হাঁপিয়ে উঠি। কথা বলার লোক নেই। তোমাকে দেখে মনে হয়েছিল, তোমার সঙ্গে সহজে গল্প করা যায়।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

‘আপনি একা কেন?’ নবকুমার জিজ্ঞাসা করলেন।

‘কেউ নেই তাই একা।’ হাসলেন মন্দাক্রান্তা।

‘আচ্ছা, আপনি এই সিনেমার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত?’

‘আমি ছবিতে ফিনান্স করছি।’

‘তার মানে আপনার টাকায় ছবিটা হচ্ছে?’

‘মানে তো তাই দাঁড়ায়।’

নবকুমার অবাক হয়ে তাকাল। একটা সিনেমা তৈরি করতে লক্ষ-লক্ষ টাকার দরকার হয় বলে সে শুনেছে। ছবি যদি দর্শকদের ভালো না লাগে তাহলে সেই টাকা আর ফেরত আসে না। মন্দাক্রান্তা যদি টাকা ফেরত না পান? তাকে এই ছবির নায়ক করা হয়েছে। যদি দর্শকরা তাকে অপছন্দ করে তাহলে সিনেমাটা কেউ দেখবে না। খুব নার্ভাস হয়ে গেল নবকুমার। সে মুখ নামাল।

ব্যাপারটা চোখ এড়াল না মন্দাক্রান্তার, ‘ওমা! তোমার কী হল?’

‘আমার জন্যে যদি আপনার ক্ষতি হয়ে যায়?’

বেশ জোরে হেসে উঠলেন মন্দাক্রান্তা, ‘কী বোকা ছেলে রে বাবা!’

‘আপনি বললেন আপনার টাকায় ছবিটা তৈরি হচ্ছে। একটা ছবি তৈরি করতে কত টাকা লাগে আমি জানি না—!’

‘পঞ্চাশ লক্ষ টাকা বাজেট।’ মন্দাক্রান্তা ধরিয়ে দিল।

‘প-ঞ্চাশ লক্ষ?’

‘এখন বাংলায় এক কোটির ওপর বাজেটের ছবি হয়।’

‘যদি কেউ ছবিটা না দেখে তাহলে তো আপনি—!’

‘হ্যাঁ। ছবি ফ্লপ করলে টাকাটা জলে যাবে।’

‘কী দরকার ছিল আপনার ছবি করার! আর যদি করতেই হয় তাহলে মিঠুন চক্রবর্তী বা প্রসেনজিৎকে নায়ক করে ছবি করলেন না কেন? ঠিক চলত!’

‘কী করব বলো? এই নায়কের চরিত্রে ওঁদের মানাবে না যে!’

‘আমার খুব ভয় করছে।’

‘কেন?’

‘আপনার জন্যে!’

হাসলেন মন্দাক্রান্তা। নবকুমারের কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘আমার জন্যে তুমি এত ভাবছ কেন? তুমি তো আমার কিছুই জান না।’

নবকুমার সরল গলায় বলল, ‘আমার মনে হয়েছে আপনি আমার কথা ভাবেন।’

‘আর কেউ তোমার কথা ভাবে না?’

‘হ্যাঁ। দুজন। আপনি আর শেফালি-মা। কলিকাতায় এসে আপনাদের মতো দুজন মানুষের দেখা পেয়েছি বলে আমি খুব খুশি।’

‘শেফালি-মাকে তোমার ভালো লাগে?’

‘হ্যাঁ। খুব। আমার নিজের মা গাঁয়ের মানুষ। বেশি পড়াশোনা নেই, সব কথা গুছিয়ে বলতেও পারেন না। কিন্তু তিনি আমার গর্ভধারিণী। তাঁকে দু:খ দিতে চাই না। ভেবেছি কলিকাতায় এসে ভালো রোজগার করে মাকে গ্রাম থেকে এনে নিজের কাছে রাখব। কোনও কাজ করতে দেব না। এটা যদি করতে পারি তাহলে আমি ছেলের কাজ করতে পারব। কিন্তু কলিকাতায় এসে শেফালি-মায়ের কাছে যে স্নেহ পেয়েছি তা আমি কারও কাছে পাইনি।’ নবকুমার বলল।

‘ওঁর কাছে তুমি সত্যিকারের স্নেহ পেয়েছে, আমি তো কিছুই দিইনি।’

নবকুমার হাসল, কিছু বলল না।

মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘তোমাকে একটা কথা বলি। যে টাকা আমি ফিনান্স করছি সেই টাকা আমার নয়। আমার নামটাই ব্যবহার করা হচ্ছে?’

নবকুমার বুঝতে পারল না। মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘টাকাটা যার তিনি নিজের নামে খরচ করবেন না। খাতায় কলমে থাকছে, টাকাটা আমি তাঁকে কয়েকটা ছবি বানাবার জন্যে দিচ্ছি। অর্থাৎ নিজের টাকাই তিনি আমার মাধ্যমে খরচ করবেন।’

‘কিন্তু আপনি এত টাকা কী করে দিচ্ছেন তা কেউ জানতে চাইবে না?’

‘নিশ্চয়ই। অনেক পরিকল্পনা করে আমার নামে টাকাটা আইনসিদ্ধ করা হয়েছে। ধরো, কেউ একজন রেসে পাঁচ লক্ষ টাকার জ্যাকপট পেয়েছে। ট্যাক্স দেওয়ার পর সে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পাবে। তাকে পৌনে চার লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিটটা কিনে নিয়ে আমার নামে রেসকোর্সের কাছে টাকাটা ক্লেম করা হল। যেন, আমিই টিকিটটা দশটাকা দিয়ে কিনেছিলাম। এইরকম নানান উপায়ে ধীরে-ধীরে বাজেটের টাকা জোগাড় করা হল। তার জন্যে ট্যাক্স দেওয়ায় সেটা পুরো সাদা টাকা হয়ে গেল।’ হাসলেন মন্দাক্রান্তা, ‘আমার নামের টাকা, অথচ আমার নয়। অতএব ছবি ফ্লপ করলে আমার কোনও ক্ষতি হবে না। বুঝলে?’

‘আপনি রাজি হলেন কেন?’

‘কেন হব না? নিজের টাকা না পরের টাকা তা এতদিন আমি এবং আর-একজন জানতাম। আজ তুমি জানলে। কিন্তু ফিল্ম দুনিয়ার সবাই আমাকে খাতির করছে আমি ফিনান্স করছি বলে। এই মজাটা কেন উপভোগ করব না?’

‘কিন্তু ছবি যদি ভালো চলে তাহলে আপনি কী পাবেন?’

‘দেখা যাক।’ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেলেন মন্দাক্রান্তা।

‘একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?’

মন্দাক্রান্তা মাথা নাড়লেন, ‘না। আর কোনও কথা নয়। এবার তোমাকে স্টুডিওতে যেতে হবে। সবসময় সময় মেনে চলবে। এক কাজ করো। আমার গাড়িতে তুমি স্টুডিওতে যাও।’

‘না-না। আমি বাসে চলে যাব।’

‘আ:। বড় তর্ক করো। ঠিক আছে। তুমি টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপোতে গিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়ে রিকশা নিয়ে স্টুডিওতে যেও।’

‘আপনি আমাকে গাড়িতে যেতে জোর দিচ্ছেন কেন?’

‘গেলে আমার ভালো লাগবে’। বেশ জোর দিয়ে বললেন মন্দাক্রান্তা।

নবকুমার এগিয়ে যাচ্ছিল, মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘আবার কবে দেখা পাব?’

‘যখন বলবেন তখনই আসব।’

‘যদি তখন তোমার শ্যুটিং থাকে?’

‘না—মানে—!’

‘নবকুমার, তুমি যখন কথা বলবে তখন এমন কিছু বলবে না যা করতে তুমি হয়তো সক্ষম হবে না। দাঁড়াও।’ মন্দাক্রান্তা ভেতরে চলে গেলেন। ফিরে এলেন একটা কাগজ নিয়ে, ‘এতে আমার মোবাইল নম্বর লেখা আছে। তোমার যখনই সময় এবং ইচ্ছে হবে তখনই ফোন করে আমায় জানিও।’

কাগজটা পকেটে রেখে দিল নবকুমার।

.

মন্দাক্রান্তার আরামদায়ক গাড়ির ঠান্ডা মেশিন চালু রয়েছে। বেশ ভালো লাগছিল নবকুমারের। এই প্রথম এমন দামি গাড়িতে সে একা পেছনের সিটে বসে আছে। নিজেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বলে মনে হচ্ছিল। কালো কাচ থাকায় রাস্তার লোকজন তাকে দেখতে পাচ্ছে না। অথচ এরকম গাড়ির মালিক হতে পারার স্বপ্ন দেখার কথা সে এখনও ভাবতে পারে না। আচ্ছা, এই গাড়ির মালিক কি মন্দাক্রান্তা? ওই বাগানওয়ালা বিরাট বাড়িটা কি ওঁর? নাকি সিনেমায় টাকা ফিনান্স করার মতো এইসব কিছু শুধু ওঁর নামেই রয়েছে, আসল মালিক অন্য কেউ। কে সে? কথাটা তুলতে চেয়েছিল কিন্তু মন্দাক্রান্তা তাকে থামিয়ে দিয়েছিলেন? লোকটা কি বড়বাবু?

একটু কাঁপুনি এল। বড়বাবুর সঙ্গে মন্দাক্রান্তার নিশ্চয়ই একটা সম্পর্ক আছে। ওঁর যাত্রার গদিতে সে মন্দাক্রান্তাকে প্রথম দ্যাখে। বড়বাবুই তাকে নিয়ে আসে মন্দাক্রান্তার বাড়িতে। কিন্তু কে মন্দাক্রান্তা, তার কাছে কেন নিয়ে যাচ্ছেন সেই ব্যাখ্যা করার কোনও প্রয়োজন বোধ করেননি। মন্দাক্রান্তার বাড়িতে যাওয়ার জন্যে বড়বাবুই শেফালি-মাকে টেলিফোন করে জানান। মন্দাক্রান্তা যে তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন, সঙ্গে নিয়ে গিয়ে দামি জামাপ্যান্ট জুতো কিনে দিয়েছেন, এ খবর কি বড়বাবু জানেন?

.

এক ঘণ্টা রিহার্সাল দেওয়ার পর দশ মিনিট বিশ্রাম। প্রাণকৃষ্ণ খুশি হয়ে বেয়ারাকে ডেকে চায়ের অর্ডার দিলেন। আজ অফিসে গীতিময়বাবু নেই।

একটু ইতস্তত করে নবকুমার জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা, যিনি ছবি প্রযোজনা করেন আর যিনি ফিনান্স করেন তাঁদের পার্থক্য কী?’

প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘প্রযোজক হলেন ছবির মালিক। ফিনান্সার শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজককে টাকা ধার দেন ছবিটা করার জন্যে। কখনও শর্ত থাকে ছবি রিলিজ করার পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকাটা শোধ করতে হবে সুদ সহ। কখনও ফিনান্সের টাকা দেন ছবির লাভের ওপর একটা পার্সেন্টেজের বিনিময়ে।’

‘তার মানে প্রযোজক নিজের টাকায় ছবি করেন না?’

‘সবাই নয়। অনেকেই করেন। কেউ-কেউ ফিনান্সের সাহায্য নেন। পাঁচ-দশ লাখ টাকা পকেট থেকে বের করার পর ফিনান্সের সাহায্য নেন। হঠাৎ এসব প্রশ্ন করছ কেন?’ প্রাণকৃষ্ণ জিজ্ঞাসা করলেন।

‘আমি এসব জানি না তো—।’

‘এসব যত না জানবে তত তোমার মঙ্গল হবে।’

‘কেন?’

‘তুমি আদার ব্যাপারি, জাহাজের খবর নিয়ে কী করবে?’

চা এল। চুমুক দিয়ে প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘এবার তোমার সংলাপ নিয়ে বসব।’

‘আমার সংলাপ?’ নবকুমার বুঝতে পারল না।

‘ছবিতে তোমাকে যে সংলাপ বলতে হবে তার কথা বলছি।’

এই সময় পাশের ঘরে একটি মহিলাকণ্ঠ বেশ জোরে জিজ্ঞাসা করল, ‘গীতিদা নেই? আসেনি?’

গীতিময়ের বেয়ারা বলল, ‘সেট দেখতে গিয়েছেন।’

‘ও। পাশের ঘরে কেউ আছে?’

‘প্রাণদা আর নতুন হিরো।’

দ্রুত পায়ের শব্দ এগিয়ে এল। নবকুমার দরজার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল উর্মিলাকে, ‘প্রাণদা, তুমি আমাকে বাদ দিয়ে রিহার্সাল দিচ্ছ?’

‘পরিচালক প্রযোজকের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করছি। ওঁরা হয়তো মনে করেন তোমার রিহার্সালের দরকার নেই।’ প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘ওহো, তোমার সঙ্গে নবকুমারের বোধহয় আলাপ হয়নি—। এই ছবির হিরো ও।’

শব্দ করে হাসল উর্মিলা। পরিচয় হয়েছে কি হয়নি তা না জানিয়ে বলল, ‘আমার শ্যুটিং চলছে অন্য ছবির। তোমরা কাজ করো। চলি।’

উর্মিলা চলে গেল। অবাক হয়ে গেল নবকুমার। যার সঙ্গে সে এক গাড়িতে গিয়েছে, যে তার সঙ্গে দেখা করবে বলে মন্দাক্রান্তার বাড়িতে হাজির হয়েছিল, সে যেন এখন তাকে চিনতেই পারল না। নবকুমারের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘সেটের বাইরে এরা যে অভিনয় করে সেটা না শিখে সেটের ভেতরে যাতে ভালো অভিনয় করতে পারো, সেই দিকে মন দাও।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *