1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ৪৬

ছেচল্লিশ

হকচকিয়ে গেল নবকুমার। বলল, ‘হ্যাঁ, বলুন।’

‘একটু আগে গীতিময়দা ফোন করেছিলেন। প্রাণকৃষ্ণ তোমার খুব প্রশংসা করেছে। শুনে ভালো লাগল। তুমি কাল কখন স্টুডিওতে যাচ্ছ?’

‘চারটের সময়।’

‘এখানে চলে এসো। লাঞ্চ করে এখান থেকে যাবে। গুডনাইট।’

লাইন কেটে দিলেন মন্দাক্রান্তা। ধীরে-ধীরে রিসিভার নামিয়ে রাখল নবকুমার। শেফালি-মায়ের দিকে তাকাল সে। তিনি তখন একটা চাদর ভাঁজ করতে ব্যস্ত। কে ফোন করেছিল তা একবারও জানতে চাইলেন না। নবকুমার বলল, ‘ওই ভদ্রমহিলা ফোন করেছিলেন। বড়বাবু যাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। মন্দাক্রান্তা। বললেন উনি খবর পেয়েছেন যে আজ রিহার্সাল ভালো হয়েছে। তাই—!’ খুব সঙ্কোচের সঙ্গে বলল নবকুমার।

‘বা:। ভালো কথা। যাও, খাওয়াদাওয়া করে নাও।’

শেফালি-মায়ের ঘর থেকে বেরিয়েও স্বস্তি হচ্ছিল না নবকুমারের। ভদ্রমহিলা খুব সাধারণ কথা বলেছেন। কিন্তু এই রাত্রে শেফালি-মায়ের ঘরে দাঁড়িয়ে সেই কথা শুনতে তার ইচ্ছে করছিল না। শেফালি-মা বিরক্ত হতেই পারেন। কিন্তু তাঁর কৌতূহল না দেখানোটা আরও বেশি অস্বস্তির।

.

আজ সকাল থেকে বৃষ্টি নেমেছে। জানলা বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদায় অভিশাপ মুখস্ত করতে বসেছিল নবকুমার। বেশ কয়েকবার পড়ার পর তার মনে হল মনে রাখার একটা উপায় আছে। কচ যা বলল তার উত্তরে দেবযানীর সংলাপ, তা শুনে কচের সংলাপ খেয়াল রাখলেই মনে থেকে যাবে। অনেকটা নাটকের সংলাপ যেভাবে অভিনেতারা মুখস্থ রাখেন, সেইভাবে। দেখতে-দেখতে দুপুরের আগেই পুরোটা না দেখে বলতে পারল সে। প্রাণকৃষ্ণবাবু বলেছেন একদম সাদামাটা মুখস্থ করবে। কোনও আবেগ দেবে না প্রথমে। তবু শেষ সংলাপদুটো উনি যেভাবে বলেছিলেন সেইভাবে বলার চেষ্টা করতেই ইতির মুখ মনে এল। কিছু না জেনে ইতি দেবযানীর সংলাপ নিজের মতো করে বলেছিল। তার পরই খেয়াল হতে লাফিয়ে উঠল নবকুমার। বাইরে টিপটিপিয়ে বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই। তার ছাতা নেই। কিন্তু তাকে বেরুতেই হবে।

নবকুমারকে হন্তদন্ত হয়ে বেরুতে দেখে মুক্তো এগিয়ে এল, ‘কোথায় যাচ্ছ?’

‘একটু দরকার আছে।’

‘ছাতা নিয়ে যাও, নইলে ভিজে যাবে।’

‘বেশি জোরে তো জল পড়ছে না—!’

‘বেশি তক্ক কোরো না তো। এই জল চুলে বসলে নির্ঘাত জ্বর হবে।’ মুক্তো পাশের ঘরে ঢুকে একটা ছাতা নিয়ে ফিরে এল।

নবকুমার হাসল, ‘তুমি খুব ভালো।’

মুক্তো ঠোঁট বেকাল, ‘আ-হা!’

রাস্তায় দু-তিনটে লোক ছাতি মাথায় হাঁটছে। মেয়েরা দরজায় নেই। মোড় থেকে বাঁ-দিকে ঘুরে এসটিডি বুথের সামনে দাঁড়িয়ে নবকুমার দেখল একটিমাত্র টেলিফোনে অল্পবয়সি মেয়ে কথা বলছে। বৃদ্ধ বুথের মালিক বললেন, ‘ওপরে আসুন। এখনই ওর হয়ে যাবে।’

নবকুমার ওপরে উঠতেই টেলিফোনে কথা বলতে-বলতে মেয়েটি তার দিকে তাকাল। তারপর রাগত গলায় বলল, ‘খবরদার, আমার কাছে আসবে না। বউকে র‌্যান্ডি বানিয়ে তার রোজগারে বাপ-মাকে খাওয়াচ্ছ, তাতেও লজ্জা নেই। এখন ব্যাবসার জন্যে টাকা চাইছ! এখানে এলে তোমাকে খাসি বানিয়ে ছেড়ে দেব, হ্যাঁ। অনেক সহ্য করেছি। আর নয়। মনে থাকে যেন।’ রিসিভার রেখে মেয়েটি জিজ্ঞাসা করল, ‘কত দিতে হবে?’

‘ছয়টাকা।’ মিটার দেখে বলল বৃদ্ধ।

‘কতক্ষণ কথা বলেছি যে ছয়টাকা চাইছ?’ মেয়েটি ঝাঁঝিয়ে উঠল।

‘চারমিনিট।’ বৃদ্ধ নির্বিকার গলায় জানাল।

গজগজ করতে-করতে টাকা দিয়ে মেয়েটি বেরিয়ে যেতে বৃদ্ধ নবকুমারকে ইশারা করল। রিসিভারের কাছে গিয়ে নবকুমারের খেয়াল হল। মন্দাক্রান্তার ফোন নম্বর কত? নম্বর চেয়ে নেওয়ার প্রয়োজন সে বোধ করেনি। এখন কীভাবে কথা বলবে? বৃদ্ধের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে দ্রুত নেমে এল সে বুথ থেকে। লোকটা যা ভাবে ভাবুক। হাঁটতে-হাঁটতে মনে পড়ল তার কাছে গীতিময়বাবুর দেওয়া কন্ট্রাক্ট ফর্ম আছে। সেখানে বড়বাবুর ঠিকানা ফোন নম্বর দেখেছে সে। বড়বাবুকে একবার সে ফোন করেছিল অনেকদিন আগে। সেই নম্বর এখন মনে নেই। কন্ট্রাক্ট ফর্ম থেকে নম্বর দেখে নিয়ে করা যেতে পারে। কিন্তু কী বলবে তাকে? মন্দাক্রান্তা আজ দুপুরে ওঁর বাড়িতে খেতে বলেছিলেন। খেতে যাবে না সে, এটা যেন বড়বাবু জানিয়ে দেন! অসম্ভব ব্যাপার! শোনামাত্র বড়বাবুর মুখের চেহারাটা কী হবে তা সে অনুমান করতে পারল। অতএব বাড়িতে ফিরে মুক্তোকে বলতে হল, দুপুরে সে খাবে না। এখনই রিহার্সালে যেতে হবে।

মুক্তো রাগ করল, ‘বলা নেই কওয়া নেই, খাব না বললেই হল? রান্না তো অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।’ নবকুমার দাঁড়াল না। সাজিয়ে-গুছিয়ে মিথ্যে বলার অভ্যেস তার কোনওকালেই ছিল না। এই শহরে আসার পরে তাকে মাঝে-মাঝেই সেটা বলতে হচ্ছে। বুঝেছে এখানে সত্যি আঁকড়ে থাকলে বিপদে পড়তে হয়।

দ্রুত স্নান শেষ করে, তৈরি হয়ে, শেফালি-মায়ের ঘরে গিয়ে দেখল শেফালি-মা বাইরে বেরুবার জন্যে তৈরি।

‘আপনি কোথাও যাচ্ছেন?’

‘হ্যাঁ। তোমাকে সঙ্গে যেতে বলব বলে ভেবেছিলাম, কিন্তু মুক্তো বলল তুমি বেরিয়েছ। ফিরে এসে জানিয়েছ যে এখনই রিহার্সালে যেতে হবে। তাই কাজটা নিজেই সেরে আসি।’ শেফালি-মা বললেন।

অস্বস্তিতে পড়ল নবকুমার। শেফালি-মা কখনও একা বের হন না। মন্দাক্রান্তার ফোন নম্বর জানা থাকলে স্বচ্ছন্দে ওঁর সঙ্গে সে যেতে পারত।

শেফালি-মা বললেন, ‘আমি ভবানীপুরের বাড়িতে যাব। আজ চেক দিয়ে দেব। স্ট্যাম্প পেপার কেনা হয়েছে। তাতে বিক্রির ব্যাপারটা লেখা হয়ে গিয়েছে। সইসাবুদ হবে। তারপর উকিল আদালতের কাজগুলো সেরে ফেলবে।’ শেফালি-মা হাসলেন, ‘তুমি কি ওই দিকে যাচ্ছ? গেলে আমার সঙ্গে ট্যাক্সিতে যেতে পারো।’

অস্বস্তিতে পড়ল নবকুমার। কিন্তু তৎক্ষণাৎ সে ঠিক করল শেফালি-মায়ের কাছে মিথ্যে বলবে না। সে বলল, ‘আমি কীভাবে যেতে হয় জানি, কিন্তু পাড়াটার নাম জানি না।’

‘তাই? কিন্তু এটা ঠিক নয়। পাড়ার নাম সবসময় জেনে নেবে। তোমার রিহার্সাল স্টুডিওতে হচ্ছে না তাহলে?’

‘না। ওই যে মহিলা, মন্দাক্রান্তা, ওঁর বাড়িতে।’

‘ওঁকে ফোন করে জেনে নাও কলকাতার কোন দিকে উনি থাকেন।’

‘আমি যে ওঁর ফোন নম্বর জানি না।’

শেফালি-মা রিসিভারের কাছে এগিয়ে গিয়ে বোতাম টিপে একটা যন্ত্রে কিছু দেখে বললেন, ‘কাল রাতের শেষ ফোনটা যদি ওঁর হয়ে থাকে তাহলে এই নম্বরে ফোন করো।’ নম্বরটা ডায়াল করে রিসিভার এগিয়ে দিলেন শেফালি-মা।

রিং হচ্ছে। তারপর একটি পুরুষ কণ্ঠ হ্যালো বলতে নবকুমার বলল, ‘মন্দাক্রান্তা—!’

‘ম্যাডাম বাথরুমে। একঘণ্টা পরে ফোন করবেন।’

‘শুনুন, আমার নাম নবকুমার—।’

‘ও হ্যাঁ। আপনি! হ্যাঁ, বলুন।’

লোকটা কে অনুমান করে নবকুমার বলল, ‘ওঁকে বলবেন আমার যেতে একটু দেরি হবে। আমি খাওয়াদাওয়া করে দুটো আড়াইটের মধ্যে পৌঁছে যাব। আচ্ছা, আপনাদের পাড়াটার নাম কী?’

‘মনোহরপুকুর।’

‘ঠিক আছে।’ রিসিভার নামিয়ে রাখল নবকুমার।

শেফালি-মা বললেন, ‘অত দেরিতে যাওয়ার কী হল?’

‘আমি আপনার সঙ্গে যেতে চাই।’

‘ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কাজের সময় কখনও বদল করবে না। এতে বদনাম হয়। তোমার এখনও শুরু হয়নি। গোড়াতেই লোকে খারাপ ভাবুক আমি চাই না। কোন পাড়ায় থাকে?’

বলল, ‘মনোহরপুকুর।’

‘ও। তাহলে খেয়ে নাও। মুক্তো মাংস রেঁধেছে। তুমি খাবে শুনলে ও খুশি হবে।’

.

শেফালি-মায়ের সঙ্গে ট্যাক্সিতে চেপে ভবানীপুরের বাড়ির সামনে আসতে পেরে ভালো লাগল নবকুমারের। সে সঙ্গে আসতে চাওয়ার পর ভদ্রমহিলার মুখে খুশি-খুশি ভাব স্পষ্ট হয়েছিল। উনি বেশ স্বস্তি পেয়েছেন। আসার পথে নানা গল্প। এই শহর আগে কীরকম ছিল, কোথায়-কোথায় নাটকের প্রেক্ষাগৃহ ছিল, তাদের কী নাম এবং কী-কী নাটক হত, এইসব। মন্দাক্রান্তার বাড়িতে নিশ্চয়ই খুব ভালো দুপুরের খাবার খাওয়া যেত, হয়তো সেসব খাবার সে কখনও খায়নি কিন্তু এই আসাটার কাছে সেটা কিছু না। ট্যাক্সি ভাড়া মিটিয়ে রাস্তায় নামতেই শেফালি-মা বললেন, ‘তোমার বাড়ি ফিরতে কত দেরি হবে?’

‘আমি জানি না।’

‘ঠিক আছে। আমি এখানকার কাউকে নিয়ে চলে যাব। তুমি আর দেরি কোরো না। এখনই রিহার্সালে চলে যাও। এখন গেলে দুটোর অনেক আগে পৌঁছে যাবে। এখান থেকে যেতে পারবে তো?’

‘জিজ্ঞাসা করে চলে যাব।’

‘দাঁড়াও।’ শেফালি-মা ট্যাক্সিওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘মনোহরপুকুরে যাবেন।’

লোকটা হাসল, ‘মিটার ডাউন করেই পৌঁছে যাব। এত শর্ট ডিস্টান্স আমাদের পোষায় না। ঠিক আছে, আসুন।’

শেফালি-মা তিরিশ টাকা নবকুমারের হাতে দিয়ে বললেন, ‘ট্যাক্সিতেই যাও।’

নবকুমার আপত্তি জানাল, ‘আমার কাছে টাকা আছে।’

‘থাকুক।’

অতএব বাধ্য হয়ে ট্যাক্সিতে উঠে ওপাশের জানলার পাশে যেতেই উলটো দিকের বাড়ির ব্যালকনিতে চোখ গেল। সেদিন যে মেয়েটা বাড়িতে ঢুকতে চেয়ে খুব চেঁচামেচি করছিল সে ওখানে দাঁড়িয়ে দিব্যি হেসে-হেসে মোবাইলে কথা বলছে। ট্যাক্সিটা এগিয়ে গেল।

.

আজ বাড়িটাকে চিনতে অসুবিধে হল না। ট্যাক্সির ভাড়া কুড়ি টাকার বেশি ওঠেনি। এইটুকু পথ সে হেঁটেই আসতে পারত। ট্যাক্সি ছেড়ে দিতেই নবকুমারের মনে হল এখনও যখন দুটো বাজে নি তখন মন্দাক্রান্তা তাকে খাওয়ার কথা বলতেই পারেন। সেক্ষেত্রে না বললে রাগ করবেন।

সে দ্রুত বাড়ির সামনে থেকে সরে গেল। একজন ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে সময় জেনে বুঝল তাকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই রাস্তাটা শুনশান। বড়-বড় বাড়ি, সেগুলোতে লোকজন আছে কি না বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে না। মিনিট পনেরো পরে একটা গাড়ি মন্দাক্রান্তার বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে উলটোদিকে চলে গেল। গাড়িটাকে খুব চেনা-চেনা লাগল নবকুমারের। হেসে ফেলল সে। এই শহরে পা দেওয়ার পর নানান চেহারার এত গাড়ি সে দেখছে যে অনেক গাড়িকেই একরকমের মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ওই গাড়ির ভেতরে কেউ বসেছিল কি না বোঝা যায়নি। মন্দাক্রান্তাই বেরিয়ে যায়নি তো? বাথরুম থেকে বেরিয়ে কাজের লোকের মুখে খবরটা শুনে যদি ফোন করে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই মুক্তো ওঁকে বলেছে কেউ বাড়িতে নেই। অস্বস্তি শুরু হল।

হঠাৎ পাশের বাড়ির জানলা খুলে গেল। একজন মোটাসোটা মহিলা বাজখাই গলায় বললেন, ‘এই যে! এখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন? কী চাই?’

‘কিছু না।’ মাথা নাড়ল নবকুমার।

‘কিছু যদি না হবে তাহলে এখানে কী মতলব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছ?’

‘বিশ্বাস করুন, আমার কোনও মতলব নেই।’

‘দেখে শুনে তো লম্পট বলে মনে হচ্ছে না। আমার মেয়ে এখানে নেই। অ্যাদ্দিন সব মোটর সাইকেলে পাক দিত। এখুনি যদি না চলে যাও তাহলে পুলিশে ফোন করব।’

নবকুমার আর দাঁড়াল না। দ্রুত পা চালিয়ে মন্দাক্রান্তার বাড়ির প্যাসেজে ঢুকে পড়ল। প্যাসেজের পরেই বাগান। সেখানে পৌঁছে যাওয়ার পর কাউকে না দেখে একটু দাঁড়াল। অদ্ভুত ব্যাপার তো! এই শহরের রাস্তায় কেউ একলা দাঁড়িয়ে থাকলে লোকে তাকে সন্দেহ করবে? ওঁর মেয়ে বাড়িতে থাকুক বা না থাকুক তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার কী সম্পর্ক? যারা মোটর সাইকেলে পাক দিত তাদের দলে তো সে ছিল না। হয়তো ওই ভদ্রমহিলা তাঁর মেয়েকে নিয়ে খুব সমস্যায় আছেন। তাই সবাইকে সন্দেহ করেন।

‘আরে! আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন?’

নবকুমার দেখল। হেসে বলল, ‘একটু আগে এসে পড়েছি, তাই—।’

‘আসুন, আসুন—!’ লোকটা বলল, ‘ম্যাডাম একটু আগে লাঞ্চ খেয়েছেন।’

‘ও। তাহলে—!’

‘আমাকে বলেছেন, আপনি এলেই যেন ওপরে নিয়ে যাই।’

সেই বসার ঘরে তাকে বসতে বলে লোকটা চলে গেল। মিনিটখানেকের মধ্যে মন্দাক্রান্তা ঘরে ঢুকলেন। তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল নবকুমার। আজ ওঁর পরনে দুধসাদা সালোয়ার কামিজ, মাথায় একটা সাদা পট্টি। ঘরে ঢুকে মন্দাক্রান্তা একগাল হেসে বলল, ‘তোমাকে যে কী বলে ধন্যবাদ জানাব। নবকুমার, তুমি খুব ভালো।’

হকচকিয়ে গেল নবকুমার। সে আশঙ্কা করেছিল মন্দাক্রান্তা খুব রেগে থাকবেন।

‘একটা জরুরি কাজে—।’ কথা শেষ করল না নবকুমার।

‘খুব ভালো হয়েছে। আজ সকালে উর্মিলা ফোন করেছিল। তোমার প্রশংসা করছিল বলে আমি বলে ফেলেছিলাম তুমি আজ লাঞ্চ করতে আসবে। ব্যস। ঠিক বারোটার সময় চলেও এল। তোমার ফোনের খবরটা ওকে বলতে আর থাকতে চাইল না। লাঞ্চ করে বেরিয়ে গেল।’ হাসলেন মন্দাক্রান্তা, ‘নবকুমার, সাবধান!’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *