চুয়াল্লিশ
‘আমি যখন যাত্রায় ঢুকেছিলাম, তখন শশীভূষণবাবুকে বলা হত যাত্রাসম্রাট। ঠিক সময়ে রিহার্সালে আসতেন, শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি যেতেন না। বলতেন, ”একজন পেশাদার অভিনেতাকে একশোভাগ পেশাদার হতে হবে। এই যখন আমার অভিনয় নেই, অন্যে মঞ্চে আছে তখন আড্ডা না মেরে তাদের অভিনয় দেখতে হবে। কারণ, আমি যে পালায় অভিনয় করছি, তার পুরোটাই আমার জেনে রাখা উচিত?” খুব নাম করেছিলেন তিনি। একদিন পাকপাড়ায় আমাদের শো। যে সময়ে আমাদের পৌঁছানোর কথা, তার পনেরো মিনিট পরে এলেন শশীভূষণ। এসে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন সবার কাছে। আমরা খুব লজ্জা পেলাম। ওরকম দেরি তো অনেকেরই হয়, কেউ তো তার জন্যে ক্ষমা চাই না। পালা শেষ হল। প্রচুর হাততালি পেলেন শশীভূষণ। তিনি যখন মেক-আপ তুলছেন তখন একজন লোক এসে ম্যানেজারকে বলল, ”জ্যাঠামশাই-এর কত দেরি হবে? আর তো অপেক্ষা করা যাচ্ছে না।” ম্যানেজার জিজ্ঞাসা করেছিল, ”কোথাও যাওয়ার কথা আছে নাকি?” লোকটি বলেছিল, ”হ্যাঁ, শ্মশানে। আজ বিকেলে ওঁর একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছে। আমরা তাকে নিয়ে শ্মশানে ওঁর জন্যে অপেক্ষা করছি।”
একটানা কথাগুলো বলে তাকালেন শেফালি-মা, ‘কিছু বুঝলে?’
অবাক হয়ে গিয়েছিল নবকুমার। ছেলে মারা গিয়েছে অথচ বাবা এসে অভিনয় করছেন? কী করে পারলেন?
শেফালি-মা বললেন, ‘অনেকদিন বাদে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। শশীভূষণ বলেছিলেন, ”দ্যাখো যে চলে গিয়েছে, সে তো আর ফিরবে না। তার পাশে বসে যদি আমি হা-হুতাশ করতাম লোকে বলত, আহা পুত্রশোকে কাতর হয়েছে লোকটা। কিন্তু যারা পালা দেখবে বলে টিকিট কেটেছিল, উদ্যোক্তরা যে আয়োজন করেছিল, আমি অভিনয় না করলে পালা বন্ধ হয়ে গেলে সেসব ভণ্ডুল হয়ে যেত। মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হত। সবার ওপরে, যে মানুষগুলো দর্শক হয়ে আসেন বলে আমরা অভিনেতারা ধন্য হই, তাদের বঞ্চিত করার কোনও অধিকার আমার নেই। ছেলে চলে গিয়েছে, খুব কষ্ট হয়েছিল সেদিন। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে সেই কষ্টের ওপর ধুলো জমছে। কিন্তু ওই দিনের দর্শকরা অনেকদিন তাঁদের দেখার অভিজ্ঞতার কথা বলবেন।”
একটু থেমে নবকুমারকে দেখে শেফালি-মা বললেন, ‘আমি বুঝতে পারছি তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বড়বাবু যখন দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন তোমার তো কিছু করার নেই। মাস্টার চলে গিয়েছে। কিন্তু তুমি যদি আজ স্টুডিওতে না যাও তাহলে তোমার ক্ষতি হবে। আমি জানি, তুমি অকৃতজ্ঞ নও। মাস্টারকে কোনওদিন ভুলতে পারবে না। সেটাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।’
.
নিউ থিয়েটার্স স্টুডিও কোথায়, নবকুমার জানে না। শেফালি-মা বলেছিলেন, ‘টালিগঞ্জের ট্রামডিপোর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে লোকে বলে দেবে। তুমি এক কাজ কোরো। শোভাবাজারের মেট্রো স্টেশন তো কাছেই। ওখানে নেমে পাতালরেলে ওঠো, শেষ স্টেশন টালিগঞ্জ। ওখানেই ট্রাম ডিপো।’
তাগাদা দিয়ে মুক্তো তাকে বের করল আড়াইটের সময়। প্রাণকৃষ্ণ বলেছেন, ঠিক চারটের সময় গীতিময়বাবুর অফিসে তিনি অপেক্ষা করবেন। পানের দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করে শোভাবাজার পাতালরেল স্টেশনে পৌঁছে গেল নবকুমার। মাটির তলায় ট্রেন। সিঁড়ি ভেঙে নামতে-নামতে দেখল পাশ দিয়ে চলন্ত সিঁড়ি ওপরে চলে যাচ্ছে। কখনও এমনটা সে দ্যাখেনি। কাউন্টারে ভিড় ছিল না। টালিগঞ্জ কত জানতে চাইলে খাঁচার ভেতরে বসা লোকটা জিজ্ঞাসা করল, ‘সিঙ্গল না রিটার্ন?’
গেলে তো ফিরে আসতেই হবে। সে রিটার্ন বলতে লোকটা ষোলো টাকা চাইল। চার টাকা ফেরত নিয়ে নবকুমার ভাবল মাটির নীচে ট্রেন চলবে, তাই ভাড়া বেশি নিল। এই সময় ট্রেনে ভিড় থাকে না। বসার জায়গা পেয়ে গেল সে। আজ সকালে জোড়াসাঁকোয় গিয়ে মন কিছুটা হালকা হয়েছিল, শেফালি-মায়ের কথা শুনে সেই মন শক্ত করতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু জীবনের প্রথম পাতাল যাত্রায় চমক এত প্রবল হল যে এই মুহূর্তে মৃত্যুশোক উধাও হয়ে গেল।
টালিগঞ্জ স্টেশনে ট্রেন থামতেই নবকুমার অবাক হয়ে দেখল, যাত্রীরা প্রায় পড়ি-কি-মরি করে দৌড়চ্ছে। যেন এখনই ট্রেনে আগুন ধরে যাবে তাই পালাতে চাইছে সবাই। বাইরে বেরুবার গেটের সামনে ততক্ষণে লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে। সে এক বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলা, ‘কী হয়েছে? সবাই দৌড়াচ্ছে কেন?’
‘আগে গেলে অটোর জন্যে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। তাই ছুটছে।’ বৃদ্ধ বললেন।
নবকুমার দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল। ফাঁকা ট্রেনটা চলে গেল ওপাশে। যখন গেট জনশূন্য, তখন বাইরে বেরিয়ে এল সে। সামনে কোনও ট্রাম নেই অথচ শেফালি-মা বলেছেন এখানে ট্রামের ডিপো আছে। একজন লোক উদাসভঙ্গিতে আকাশ দেখছিল। নবকুমার তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে কীভাবে যাওয়া যায়?’
‘আপনি যেভাবে যেতে চাইবেন।’ লোকটি মুখ নামাল না।
‘আমি প্রথমবার যাচ্ছি—!’
‘তাহলে যাবেন না। গিয়ে কোনও লাভ হবে না।’
‘কেন?’
‘সিনেমায় নামার ইচ্ছে নিয়ে যাচ্ছেন তো? কেউ চান্স দেবে না। শুধু খেলাবে, পকেট হালকা করে দেবে। এই যে আমি রোজ বিকেলে এখানে এসে ওঁর দিকে তাকিয়ে থাকি, কেন জানেন?’ লোকটি নবকুমারকে দেখল।
‘কার দিকে?’
‘দূর মশাই! ওইদিকে তাকান, ওইখানে—!’
অনেকটা উঁচুতে দাঁড়িয়ে থাকা মূর্তিটাকে দেখল নবকুমার। লোকটি বলল, ‘রোজ আমি উত্তমদাকে বলি, ভাগ্যিস ষাট বছর আগে লাইন দিয়েছিলে তাই নাকানিচোবানি খেয়েও শেষপর্যন্ত সম্রাট হতে পেরেছিলে। এখন যদি ট্রাই নিতে তাহলে আমার মতো অবস্থা হত।’
মূর্তিটা যে উত্তমকুমারকে ভেবে করা হয়েছে, তা বুঝতে পারল নবকুমার।
সে মুখ নামিয়ে দেখল লোকটা কয়েক হাত দূরে সরে গিয়েছে।
শেষপর্যন্ত রিকশা নিল নবকুমার। গত রাতে মানুষটানা রিকশায় চেপে তাকে যেতে হয়েছিল থানায়। মাস্টারদার শরীর দেখতে। আজ যাচ্ছে স্টুডিওতে, অভিনয় শিখতে। স্টুডিওতে সিনেমার শ্যুটিং হয়। সেখানে নিশ্চয়ই সিনেমার নায়ক নায়িকারা গিজগিজ করে। তাহলে দারোয়ান তাকে ঢুকতে দেবে কেন? একটু নার্ভাস বোধ করল সে। রিকশাটা হঠাৎ লাফিয়ে উঠতেই সে শক্ত করে দুটো দিকে আঁকড়ে ধরল।
একটা আধা বন্ধ গেটের সামনে রিকশা দাঁড়াল, ‘ছয় টাকা দিন।’
অর্থাৎ এটাই স্টুডিওর গেট। টাকা দিয়ে ইতস্তত করতেই গেটটা খুলে গেল। একটা দামি গাড়ি বেরিয়ে গেল। গাড়ির কালো কাচ বন্ধ। ভেতরে কে আছে বোঝা গেল না। সে ভেতরের দিকে পা বাড়াতেই গেট যে বন্ধ করছিল সেই লোকটা জিজ্ঞাসা করল, ‘কার কাছে যাবেন?’
‘গীতিময়বাবু। পরিচালক।’
‘সোজা গিয়ে ডানদিকের রাস্তা ধরে প্রথম বাড়ি।’ লোকটা গেট বন্ধ করল।
বাঁ-দিকে বিশাল গুদামঘর। বন্ধ দরজা। কয়েকজন লোক এপাশে চেয়ার পেতে গল্প করছে। নবকুমার অনেকটা হেঁটে এসে দাঁড়াল। এই সময় একটা গাড়ি ভেতর থেকে বেরিয়ে ঠিক তার পাশে থামল। দরজা খুলে যিনি নামলেন, তাঁকে দেখে অবাক হয়ে গেল সে। মাত্র দু-হাত দূরে দাঁড়িয়ে দেবশ্রী রায়কে দেখে ওর মনে হল সিনেমায় ওঁকে যেমন দেখায় তার থেকে এখন অনেক কমবয়সি বলে মনে হচ্ছে। দেবশ্রী ঢুকে গেলেন ওপাশের দরজা দিয়ে পাশের বাড়িতে।
একজনকে জিজ্ঞাসা করে বারান্দায় উঠতেই নবকুমার গীতিময়ের গলা শুনতে পেল। দরজায় পরদা ঝুলছে। ভেতরে বসে গীতিময় বলছেন, ‘আমার কিস্যু করার নেই। যদি প্রাোডিউসার হিরো সিলেক্ট করে দেন তাহলে আমি কী করতে পারি?’
‘আশ্চর্য! আপনার কোনও মেরুদণ্ড নেই? এত বছর ছবি করছেন, এখনও প্রাোডিউসারকে লাঠি ঘোরাতে দিচ্ছেন? ঋতুপর্ণ, বুদ্ধদেব দূরের কথা অঞ্জন দাসকে প্রাোডিউসার ডিক্টেট করতে পারবে? হর বা স্বপনের কথা বাদ দিলাম। আপনি কী?’ একটি লোক বেশ উত্তেজিত গলায় বলল।
.
.
গীতিময়ের গলা শুনল নবকুমার, ‘তা ছাড়া তোমার দাদাকে এই চরিত্রের সঙ্গে মানাবে না। বোকাসোকা, গ্রাম্য তরুণ। বুঝলে?’
‘রাখুন তো। উত্তমকুমারকে চাকরের রোলে কেউ ভাবতে পারত? রাইচরণ করেনি উত্তমকুমার? গতবার দাদাকে গ্যাস দিতে প্রায় হাফ টাকায় হিরো করে কথা দিয়েছিলেন, আপনার সব ছবিতে দাদাই হিরো হবে। বলেননি?’
‘বলেছিলাম। আচ্ছা, একটা রাস্তা এখনও খোলা আছে।’
‘কী রাস্তা?’
‘নতুন ছেলেটা রিহার্সাল দেবে। প্রাণকৃষ্ণকে তো জান। ছেড়ে কথা বলে না। সে যদি বলে, এই ছেলে ধ্যাড়াবে তাহলে আমি বড়বাবুকে রাজি করাবোই। কথা দিচ্ছি।’
‘তার মানে একটা নতুন ছেলে ফেল করলে দাদা চান্স পাবে। ছি-ছি।’
‘আরে এভাবে নিচ্ছ কেন? যে টাকা ঢালছে তাকে তো ম্যানেজ করতে হবে!’
কথাগুলো যে তাকে নিয়ে হচ্ছে, তা বুঝতে অসুবিধে হয়নি নবকুমারের। একবার ভাবল ফিরে যাবে। এই দাদাটি কে তা সে বুঝতে পারছে না। কিন্তু তাকে নিয়ে যখন ঝামেলা হচ্ছে তখন…।
‘এই যে। ঠিক টাইমে এসে গিয়েছ দেখছি। তা এখানে দাঁড়িয়ে কেন?’
মুখ ফিরিয়ে দেখতেই লোকটাকে চিনতে পারল নবকুমার। প্রাণকৃষ্ণ।
সে বলল, ‘ভেতরে ওঁরা কথা বলছেন—!’
‘তোমাকে চারটেয় সময় ডাকা হয়েছে। তুমি ভেতরে ঢুকবে। কথা শেষ করার দায়িত্ব ওদের। এসো।’ পরদা সরিয়ে প্রাণকৃষ্ণ ভেতরে ঢুকল। পেছনে নবকুমার।
প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘দাদা, তোমার ক্যান্ডিডেট ঠিক সময়ে এসেছে। ওঁকে নিয়ে আমি পাশের ঘরে বসতে পারি?’
‘নিশ্চয়ই। তুমি কখন এসেছ নবকুমার?’ গীতিময় একটু অস্বস্তি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
‘এই তো, কিছুক্ষণ!’
‘ভেতরে ঢোকোনি কেন?’
‘আপনারা কথা বলছিলেন।’
সামনে বসা লোকটি গম্ভীরমুখে উঠে দাঁড়াল, ‘আমি চলি। যা বলেছেন মনে রাখবেন।’
মাথা নাড়লেন গীতিময়, ‘অদ্ভুত ব্যাপার। এই চরিত্রে যে যাবে না তাকে কেন নিচ্ছি না তার কৈফিয়ত চাইতে এসেছে।’
প্রাণকৃষ্ণ কোনও কথা বলল না। পাশের দরজা দিয়ে নবকুমারকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে ঢুকে ফ্যান চালু করল। একটা টেবিল, দু-দিকে দুটো চেয়ার। ওরা দু’দিকে বসল। প্রাণকৃষ্ণ জিজ্ঞাসা করল, ‘চলো, বিদায় অভিশাপটা প্রথমে শুনি।’
‘আমি মুখস্থ করার সময় পাইনি।’ নবকুমারের বলতে খারাপ লাগল।
‘সে কী! কেন?’ মুখে একরাশ বিরক্তি প্রাণকৃষ্ণের।
‘যিনি আমাকে কলিকাতায় নিয়ে এসেছিলেন তিনি পরশু রাত্রে মারা গিয়েছেন। আমার মন খুব ভেঙে পড়েছিল।’
‘হুম। সেটা জোড়া লেগেছে?’
‘চেষ্টা করছি।’
‘তাহলে আর কী হবে! মুখস্থ হলে খবর দিও।’
‘আপনি যদি কিছু না মনে করেন তাহলে একটা অনুরোধ করব?’
‘বলো।’
‘কবিতাটা আপনি যদি শোনান।’
হাসল প্রাণকৃষ্ণ। চোখ বন্ধ করল। তারপর ধীরে-ধীরে আবৃত্তি শুরু করল। ওর বলার ভঙ্গি, গলার স্বর যেন নবকুমারের মনে ছবি এঁকে যাচ্ছিল। শেষপর্যন্ত কচ যখন বলল, ‘আমি বর দিনু দেবী, তুমি সুখী হবে। ভুলে যাবে সব শোক বিপুল গৌরবে।’ তখন এক তিরতিরে কষ্ট ছড়িয়ে গেল চারপাশে।
মুগ্ধ হয়ে নবকুমার জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি অভিনয় করেন না কেন?’
প্রাণকৃষ্ণ হাসল, ‘সবার দ্বারা সব হয় না। তাই।’
‘কিন্তু আপনি কী সুন্দর অভিনয় করলেন—।’
‘বেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব অধ্যাপক কম্পিউটার সায়েন্স পড়ান তারা তো ছাত্রদের থেকে অনেক বেশি মেধাবী। পাশ করা ছাত্ররা যদি বিদেশে বড় চাকরি পেয়ে চলে যেতে পারে তাহলে তাঁরা কেন যাচ্ছেন না? তাঁদের চাহিদা নিশ্চয়ই অনেক বেশি হওয়া উচিত।’ তাকাল প্রাণকৃষ্ণ।
‘হয়তো ওঁরা শিক্ষকতা করতেই ভালোবাসেন।’
‘তাহলে তো জবাবটা পেয়ে গেলে।’ প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘তুমি স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ নিশ্চয়ই মুখস্থ বলতে পারবে?’
মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘হ্যাঁ।’
‘যেভাবে উচ্চারিত হওয়া উচিত সেইভাবে উচ্চারণ করো।’
প্রায় দেড়ঘণ্টা বাদে ছাড়া পেল নবকুমার। সেই বাল্যকালে শেখা অক্ষরগুলোর বেশ কয়েকটাকে আজ নতুনভাবে আবিষ্কার করল সে। শ, স, ষ-এর আলাদ উচ্চারণ, কখন ঠোঁট গোল করতে হবে, কখন নয়, জিভ এবং তালুর মধ্যে কখন সংযোগ হবে কখন নয়, বুঝতে-বুঝতে সময়টা কেটে গেল।
গীতিময় ঘরে ঢুকলেন, ‘কীরকম বুঝছ প্রাণকৃষ্ণ।’
‘আহা, তুমি তো একটা চাল টিপলেই বলে দিতে পার ভাত হয়েছে কি না?’
‘চাল গরম জলে ফেলেছি দাদা। এখনও টিপিনি। আজ উঠি। তুমি কাল ঠিক চারটের সময় এখানে এসো নবকুমার। বিদায় অভিশাপ মুখস্থ করে আসবে।’
প্রাণকৃষ্ণ উঠতেই গীতিময় বললেন, ‘বড়বাবু ফোন করেছিলেন। তোমাকে বলতে বললেন, তোমার পরিচিত যিনি মারা গিয়েছিলেন, তাঁর শেষকৃত্য ঠিকঠাক সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে।’
