চল্লিশ
একটা ছিপছিপে লম্বা লোক ফুটপাত দিয়ে হেঁটে আসছে। দুপাশের লোকজন ঘুরে-ঘুরে তাকে দেখছে। লোকটা থেমে আর-একজনের সঙ্গে কথা শুরু করতেই সিডি বন্ধ করে আবার প্রথম জায়গায় নিয়ে গেলেন মন্দাক্রান্তা। বললেন, ‘দ্যাখো, হাঁটার সময় ভদ্রলোকের কাঁধ বুক কীরকম থাকে। পায়ের স্টেপ কম করো। কীভাবে গোড়ালি থেকে পাতা পড়ছে। হাতদুটো নিয়ে ওঁর কোনও প্রবলেম হচ্ছে না। দ্যাখো।’
বার দশেক দেখানোর পর মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘বাট, ট্রাই টু কপি হিম।’
লোকটা নিশ্চয়ই ইংরেজি সিনেমার কোনও নামকরা অভিনেতা। এতবার দেখেও ওর মতো হাঁটতে পারবে কি না বুঝতে পারছিল না নবকুমার। লোকটা হাঁটছে, মনে হচ্ছে কোনও তাড়া নেই, কিন্তু তরতরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। নবকুমার ঘরের শেষপ্রান্তে গিয়ে লোকটাকে নকল করার চেষ্টা করল। কিন্তু হাঁটতে গিয়েই সে বুঝতে পারছিল তার পা ঠিকঠাক পড়ছে না। মন্দাক্রান্তা হাত তুলে তাকে থামতে বলে আবার সিডি চালালেন, ‘ভালো করে লক্ষ করো। ওঁর কোনও টেনশন নেই, একেবারে রিল্যাকস হয়ে হাঁটছেন। দেখলে? আবার চেষ্টা করো।’
হাঁটার সময় গোড়ালি আগে ফেলছে লোকটা এবং পা ফেলার মুহূর্তে কোমর আলতো দোলাচ্ছে। এবার নবকুমার সেটুকুই অনুসরণ করল।
মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘বেশ ইমপ্রুভ করেছ। আরও কয়েকবার প্র্যাকটিস করো। ছবিটা কি দেখতে চাও?’
মাথা নেড়ে বেশ কয়েকবার হাঁটার পরে যখন নবকুমারের মনে হল, নিজেকে একেবারে অন্যরকম মনে হচ্ছে তখনই হাততালি দিলেন মন্দাক্রান্তা। এগিয়ে এসে দু-হাতে তাকে জড়িয়ে ধরে গালে-গাল ছুঁইয়ে বললেন, ‘শাবাশ।’
‘ঠিক হয়েছে?’ দু-হাতের বাঁধনে অস্বস্তিতে থেকেও জিজ্ঞাসা করল নবকুমার।
‘প্রায় ঠিক। এখন থেকে যখনই হাঁটবে এইভাবে হাঁটবে। বাংলা ছবির কোনও হিরো এভাবে হাঁটে না। ফলে দর্শকরা তোমার ফ্যান হয়ে যাবে। তুমি কত লম্বা?’
‘আমি? অনেকদিন মাপিনি।’
‘বোকার মতো কথা বলবে না। তোমার কি আর লম্বা হওয়ার বয়েস আছে? আমার মনে হয় পাঁচ-এগারো কারণ আমি পাঁচ-ছয়।’ হাত সরিয়ে নিলেন মন্দাক্রান্তা। নবকুমারের মনে হচ্ছিল এতক্ষণ একটা মোলায়েম স্বপ্নে ডুবে ছিল।
‘কী হল তোমার।’
‘কই, কিছু হয়নি তো।’
‘তাহলে মুখে রক্ত জমল কেন?’ হেসে ফেললেন মন্দাক্রান্তা। তারপর সিডি সরিয়ে রাখতে-রাখতে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার গার্লফ্রেন্ডের নাম কী?’
‘আমার কোনও গার্লফ্রেন্ড নেই।’ সোফায় বসল নবকুমার।
‘সেকী! এরকম হ্যান্ডসাম ইয়ংম্যানের দিকে কেউ তাকায়নি। গ্রামে?’
‘না।’
‘শুনেছি কলকাতায় পৌঁছেই রেডলাইট এরিয়ায় জায়গা পেয়েছিলে। ওরা নিশ্চয়ই ছাড়েনি। সেক্স এক্সপেরিয়েন্স দিয়ে দিয়েছে।’ মন্দাক্রান্তা তাকালেন।
‘না-না।’ প্রতিবাদ করে উঠল নবকুমার। ‘ওরা বেঁচে থাকার জন্যে পয়সার বিনিময়ে ওসব করে। তার বাইরে ওরা একদম মাথা ঘামায় না। আমাকে সবাই ভালো চোখে দ্যাখে।’
‘তার মানে তুমি বলতে চাইছ, ওদের জীবনে প্রেম নেই?’
‘জানি না। আমাদের গ্রামে বহু বছর আগে বিয়ে হওয়া, ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রেম আছে কি না যেমন বোঝা যায় না।’
‘মাই গড! তুমি তো দারুণ কথা বলো। তার মানে তুমি একটা বর্ণচোরা আম।’ ঘড়ি দেখল মন্দাক্রান্তা, ‘আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দাও। হ্যাঁ? প্লিজ!’ ঘাড় বেঁকিয়ে কথাগুলো বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন।
এখন বিকেল। এই ঘরে বসে ঠান্ডা পরিবেশে অবশ্য সেটা বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু এখন বেরিয়ে গেলে তার পক্ষে বাস ধরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া সহজ হত। সে চারপাশে তাকাল। এতবড় বাড়িতে মন্দাক্রান্তা ছাড়া আর কাউকে সে দেখতে পায়নি। কাজের লোকজন অবশ্য আছে। এত বড় বাড়ি, নিজস্ব লিফট, পায়ের তলায় কার্পেট। তার মানে মন্দাক্রান্তা খুব ধনী মহিলা। ওর স্বামী বা ছেলেমেয়ে কোথায় থাকে? হঠাৎ অনেক দিন আগের একটা বাংলা ছবির সংলাপ তার মনে পড়ল। ‘কৌতূহল থাকা ভালো তবে তার সীমারেখা রাখা উচিত।’
মন্দাক্রান্তা বেরিয়ে এলে হতবাক হয়ে গেল নবকুমার। চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য যেন মন্দাক্রান্তাকে জড়িয়ে ফেলেছে। পরনে সাদা প্যান্ট, ওপরে সাদা গেঞ্জিকে খানিকটা ঢেকে রাখা পাতলা কাপড়ের সাদা জ্যাকেট, চোখে রঙিন চশমা, যার ফ্রেমও সাদা, চুলগুলো এক ইঞ্চি চওড়া সাদা রিবনে আচ্ছাদিত।
‘কী হল?’ সামনে এসে দাঁড়ালেন মন্দাক্রান্তা।
‘না, মানে—, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?’
‘করে ফ্যালো!’
‘আপনি সিনেমায় অভিনয় করেন না কেন?’
‘ও বাব্বা। এই প্রশ্ন? ওঠো, আমরা বেরুব।’
লিফটে নীচে নামতেই নবকুমার দেখল একটা লম্বা গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভার দাঁড়িয়ে আছে। মন্দাক্রান্তা পেছনের সিটে ঢুকে বললেন, ‘এসো। বসো।’
কী নরম আসন। গাড়ি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। কী আরাম। ড্রাইভার তার আসনে বসে মাথা নীচু করে অপেক্ষা করেছিল। মন্দাক্রান্তা ‘ফোরাম’ বলতে সে গাড়ি চালু করল। নবকুমার জানলার ধারে বসে রাস্তার দিকে তাকাল। রঙিন কাচ। বাইরের পৃথিবীটাকে অন্যরকম দেখাচ্ছে।
‘সিনেমায় অভিনয় করতে হলে জোরাল আলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। আমার স্কিন সেটা সহ্য করতে পারে না। এমনকি কড়া রোদে হাঁটলেই আমার মুখে হাতে র্যাশ বেরিয়ে আসে। তাই আমার দ্বারা রং মাখা হল না।’ মন্দাক্রান্তা হাসলেন, ‘সবার তো সব হয় না।’
‘চিকিৎসা করানো যায় না?’
‘অনেক করিয়েছি। ডাক্তার বলেন, আপনার রোদ্দুরে হাঁটা অথবা জোরাল আলোর সামনে দাঁড়ানোর দরকার কী!’ মন্দাক্রান্তা কথা ঘোরালেন, ‘তোমার বাসস্থান নিয়ে কী ভাবলে?’
‘আমরা ভবানীপুরে উঠে যাচ্ছি।’
‘বা:। কবে থেকে?’
‘সামনের এক তারিখে যাওয়ার কথা। শেফালি-মা ওখানে একটা বাড়ি কিনেছেন। ভবানীপুর থেকে টালিগঞ্জ কতদূরে?’
‘কাছেই। গাড়িতে মিনিটদশেক লাগবে। খুব ভালো হল। এখন থেকে তোমার কাছে যা ভালো অথবা খারাপ তার থেকে অনেক বেশি মূল্যবান, সাধারণ মানুষ যারা টিকিট কিনে ছবি দেখবে, তারা যা ভাবছে। তুমি তোমার ঘরে পছন্দসই জীবনযাপন করতে পার, কিন্তু ঘরের বাইরে পা রাখলেই তোমাকে মানুষের পালস বুঝে চলতে হবে।’
ফোরাম শব্দটির যে মানে নবকুমার জানে, তা গুলিয়ে গেল ড্রাইভার যখন বলল, ‘মেমসাব, ফোরাম।’
‘ঠিক আছে। তুমি পার্ক করো, আমি মোবাইলে বলে দেব।’
গাড়ির দরজা খুলে নীচে নামতেই নবকুমার একটা সুদৃশ্য বিশাল বাড়ি দেখতে পেল। প্রচুর লোক, অনেক গাড়ি সামনে। মান্দাক্রান্তা হনহন করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হাঁটতে গিয়েই মনে পড়ে যেতে নবকুমার হাঁটার ধরন বদলাল।’
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কয়েক একর জুড়ে দারুণ সাজানো দোকানগুলোকে তার স্বপ্নের মতো মনে হল। পাশ ফিরে তার হাঁটা দেখে মন্দাক্রান্তা হেসে বললেন, ‘গুড।’ তারপর চলন্ত সিঁড়িতে পা রাখলেন। ওঁকে অনুসরণ করল নবকুমার। এইরকম সিঁড়িতে উঠতে বেশ মজা লাগছিল ওর।
দোতলার একটা দোকানের কাচের দরজা খুলে মন্দাক্রান্তা ঢুকতেই এক ভদ্রলোক এগিয়ে এসে নমস্কার করলেন। নবকুমার বুঝতে পারল এখানে মন্দাক্রান্তা পরিচিত। ভদ্রলোক মন্দাক্রান্তার সঙ্গে কথা বলে নবকুমারের সামনে এলেন, ‘এক মিনিট, একটু কষ্ট দেব আপনাকে। আসুন।’ কাউন্টারের পেছনের একটা ঘরে তাকে নিয়ে যাওয়া হল। আর একটি লোক তার জামা এবং প্যান্টের মাপ নিল।
তারপর বাইরে আসতেই সেই মাপ অনুযায়ী গোটা ছয়েক বিভিন্ন রঙের দারুণ কেতাদুরস্ত শার্ট বের করে সামনে রাখল ভদ্রলোক। সেগুলো খুঁটিয়ে দেখে, কোনওটাকে বাতিল করে অন্য রঙের শার্ট পছন্দ করার পর প্যাক করে দিতে বলল মন্দাক্রান্তা। ভদ্রলোক বললেন, ‘প্যান্ট একটু অল্টার করে দিতে হবে, আপনার বাড়িতে কি পাঠিয়ে দেব?’
‘প্লিজ। রংগুলো যেন ম্যাচ করে।’
‘সিওর।’
বিল এলে পকেট থেকে একটা প্লাস্টিকের কার্ড বের করে এগিয়ে দিলেন মন্দাক্রান্তা। তারপর সইসাবুদ করে বললেন, ‘পার্কিং-এ আমার গাড়ি রয়েছে। গাড়ির নাম্বার—।’
পাশের লোকটি বলল, ‘আপনার গাড়ি আমি চিনি ম্যাডাম।’
বাইরে বেরিয়ে এসে নবকুমার জিজ্ঞাসা করল, ‘এসব কেন করছেন?’
‘চুপ করো।’
‘এতগুলো জামাপ্যান্ট আমার জন্যে কিনলেন কেন? অত দামি পোশাক আমি কখনও পরিনি।’
‘কখনও সিনেমায় অভিনয় করেছ?’
হকচকিয়ে গেল নবকুমার। মন্দাক্রান্তা ততক্ষণে দারুণ ঝকঝকে একটি জুতোর দোকানে ঢুকে গেছেন। শো-কেসে সাজানো জুতোগুলোর দিকে তাকাল নবকুমার। সবচেয়ে কম দাম একুশশো টাকা। সে দেখল, দোকানের ভেতর থেকে ইশারায় তাকে ডাকছেন মন্দাক্রান্তা। দেওয়াল কাচের বলে দেখতে অসুবিধে হল না। সে ভেতরে ঢুকতেই একটি লোক বসতে বলল। যে চেয়ারে সে বসল তার সামনে দাগ দেওয়া প্লাস্টিকের ওপর পায়ের মাপ নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। চটি খুলে পায়ের মাপ দিতে লোকটা উঠে গেল। মন্দাক্রান্তা তাঁর পছন্দের একটা জুতো আর একটা স্যান্ডল কিনলেন। কার্ড ব্যবহার করে দাম মিটিয়ে দিলেন। বললেন, ‘এই জুতো পরে হাঁটতে সুবিধে হবে তোমার।’
নবকুমার জিজ্ঞাসা করল, ‘দাম কত পড়ল?’
যে লোকটি জুতো প্যাক করছিল সে বলল, ‘মোট দাম সাড়ে আট হাজার।’
নবকুমারের মনে হল সে অজ্ঞান হয়ে যাবে।
.
গাড়ি ফিরে এল মন্দাক্রান্তার বাড়িতে। এখন সন্ধে পেরিয়ে রাত নেমেছে। নবকুমার বলার চেষ্টা করছিল বেশি রাত হলে তার ফিরতে অসুবিধে হবে। মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘আমার গাড়ি তোমাকে কাছাকাছি পৌঁছে দেবে। সেখান থেকে তুমি সহজে হেঁটে যেতে পারবে। তোমাকে আজ আমার সঙ্গে ডিনার করতে হবে।’
বাড়িতে ঢুকে অন্য একটি ঘরে তাকে বসতে বলে মন্দাক্রান্তা বেরিয়ে গিয়েছিলেন। জামা জুতো গাড়িতেই পড়ে রইল। এগুলো নিয়ে গেলে শেফালি-মা কী বলবেন? তার খেয়াল হল, বেশি রাত হলে শেফালি-মা বিরক্ত হন। বলেছেন, রাত হলে ফোনে জানিয়ে দিতে। সে দেখল ঘরের এককোণে টেলিফোন রয়েছে। শেফালি-মায়ের নাম্বার স্মৃতিতে ছিল। সেটা ডায়াল করল সে। তৃতীয়বার রিং হতে শেফালি-মায়ের গলা শুনতে পেল, ‘হ্যালো।’
‘আমি নবকুমার।’
‘কোথায় তুমি? সেই যে গেলে, আর কোনও খবর নেই। কখন আসছ?’
‘আমাকে এখানে প্র্যাকটিস করতে হচ্ছিল। খেয়ে যেতে বলেছেন।’
‘আসবে কী করে?’
‘গাড়ি দেবেন বলেছেন।’
‘আচ্ছা। সাবধানে এসো।’ শেফালি-মা ফোন রেখে দিলেন।
রিসিভার নামিয়ে নবকুমার ভাবল, কলিকাতায় আসার পর একমাত্র শেফালি-মায়ের ব্যবহার তাকে খুব আরাম দেয়। অন্যদের অচেনা বলে মনে হয়।
একটা কাজের লোক ঘরে ঢুকল চাকাওয়ালা কাঠ-টেবিল নিয়ে। তার ওপরে-নীচে রঙিন বোতল, জলের বোতল, বরফ ভরতি পাত্র। রেখে চলে গেল। রাতের খাবারের আগে এখানে নিশ্চয়ই এসব খাওয়া হয়।
মন্দাক্রান্তা ঘরে ঢুকতেই মিষ্টি গন্ধ নাকে এল। এখন অন্য পোশাক। কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত আকাশ নীল সেমিজের মতো কিছু। শুধু পার্থক্য হল, কাঁধের ওপর দু-দিকে দুটো গিঁট। একদম অন্যরকম দেখাচ্ছে ওঁকে।
‘লেটস সেলিব্রেট।’ গ্লাসে হুইস্কি ঢেলে বরফ ফেললেন মন্দাক্রান্তা। তারপর কী ভেবে দ্বিতীয় গ্লাসে জল মিশিয়ে দিলেন।
‘নাও।’ জলভরতি হুইস্কির গ্লাস এগিয়ে ধরলেন তিনি।
‘আমি মদ খাই না।’
‘আমি জানি। বি স্মার্ট। এক পেগ খেলে চরিত্র নষ্ট হয় না। কাম অন। পরিবেশটা নষ্ট করো না।’
অতএব নিতে হল। গ্লাসে গ্লাস ঠেকিয়ে মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘উল্লাস। প্রার্থনা করছি তুমি বিখ্যাত নায়ক হবে।’
দশ মিনিটেই গ্লাস শেষ। উঠে দাঁড়ালেন মন্দাক্রান্তা, ‘চলো, ডিনার করি।’ তাঁকে অনুসরণ করে অন্য একটি ঘরের খাবার টেবিলে এল নবকুমার। মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই ভাবছ তোমার জন্যে আমি এসব কেন করছি?’
‘হ্যাঁ।’ স্পষ্ট বলল নবকুমার।
‘উত্তরটা পরে তোমাকে দেব। আর হ্যাঁ, আজ তুমি শার্ট বা জুতো এখানে রেখে যাবে। যখন ভবানীপুরে বাড়িতে এসে থাকবে তখন ওগুলো নিয়ে যেও। এসো। খাওয়া শুরু করা যাক।’ মন্দাক্রান্তা বসলেন।
