1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ৩৯

উনচল্লিশ

রিসিভারটা তুলে হ্যালো বললেন শেফালি-মা। ওপাশের পরিচয় পেয়ে বললেন, ‘ও হ্যাঁ বলুন। ঠিক আছে। ধন্যবাদ। হ্যাঁ। হ্যাঁ। আচ্ছা। বলুন। ও, হ্যাঁ, বেশ, বলে দেব। আপনি কি কথা বলতে চান? আচ্ছা, ঠিক আছে।’

রিসিভার রেখে দিয়ে শেফালি-মা বললেন, ‘যাত্রাদলের বড়বাবু ফোন করেছিলেন। তোমাকে আজ তিনটের মধ্যে মন্দাক্রান্তার বাড়িতে যেতে বললেন। খুব জরুরি।’

‘মন্দাক্রান্তা?’ অবাক হয়ে নামটা উচ্চারণ করল নবকুমার।

বললেন, ‘তুমি ওঁর সঙ্গে তার বাড়িতে গিয়েছ।’

মনে পড়ল। ভদ্রমহিলার নাম যে মন্দাক্রান্তা, তা সে জানত না।

শেফালি-মা বললেন, ‘ওঁর বাড়ি কোথায়?’

‘দক্ষিণে। ওখান থেকে একটা বাস এসে দর্জিপাড়া দিয়ে যায়।’

‘তাহলে এখনই চলে যাও। নইলে পৌঁছতে পারবে না ঠিক সময়ে। সবসময় মনে রাখবে, যে সময় রাখতে পারে না তার উন্নতি হয় না। যাও।’

নবকুমার বেরিয়ে যাচ্ছিল। ইতি তাকে অনুসরণ করতে চাইলে শেফালি-মা ডাকলেন, ‘আরে! তুমি যাচ্ছ কোথায়? এসো, এখানে বসো, তোমার সঙ্গে একটু গল্প করব। আমি না হয় কবিতাকে ফোন করে বলছি, তোমার যেতে একটু দেরি হবে।’

ইতি আড়ষ্ট পায়ে ফিরে এল।

.

দর্জিপাড়া থেকে সেই চেনা নম্বরের বাসটিতে উঠে নবকুমার আবার অসুবিধায় পড়ল। কন্ডাক্টর টিকিট চাইলে সে যেখানে নামবে সেই জায়গাটার নাম মনে করতে পারল না। বড়বাবু গাড়ি করে নিয়ে গিয়েছিলেন। রাত্রে সেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে বড় রাস্তা অবধি হেঁটে এসে বাসে চেপেছিল, নামটা জানার কথা খেয়াল হয়নি। সে-রাতে কন্ডাক্টরের কথা মতো সে যে ভাড়া দিয়েছিল আজ তাই দিতে লোকটা তার দিকে ভালো করে দেখে টিকিট দিয়ে সরে গেল।

আজ বাসে বেশ ভিড় রয়েছে। হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে নবকুমারের মনে হল, এত যাত্রীরা ঠিকঠাক ভাড়া দিয়ে যাচ্ছে কি না তা কন্ডাক্টর মনে রাখে কী করে? সে কন্ডাক্টর হলে কিছুতেই মনে রাখতে পারত না। এই লোকটা যদি পারে, তাহলে ধরে নিতে হবে ওর স্মরণশক্তি অসাধারণ।

বিবেকানন্দর নাকি একবার পড়েই মুখস্থ হয়ে যেত। এই লোকটা যদি পড়াশুনো করত তাহলে প্রত্যেক পেপারে স্টার পেত। পেটের নীচে একটা অন্যরকম অনুভূতি হতেই সে চট করে হাত নামাল। সঙ্গে-সঙ্গে একটা হাত সেখান থেকে সরে গেল। সে ঘুরে পাশের লোকটির দিকে তাকিয়ে অবাক হল। একটা বৃদ্ধ ভদ্রলোক হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে ঝিমোচ্ছেন। পেছনে ঠাসা ভিড়। নিশ্চয়ই ওই ভিড়ের ভিতর থেকে হাতটা এসেছিল। সে সন্তর্পণে আঙুল বুলিয়ে বুঝতে পারল টাকাগুলো ভিতরের পকেটে এখনও রয়েছে।

তাকে তাকাতে দেখে বৃদ্ধ চোখ খুললেন, ‘কিছু বলবে বাবা?’

‘আপনার পকেট কেউ কখনও মেরেছে?’ বেশ জোরে কথাগুলো বলল সে।

‘কী করে মারবে? বাসভাড়া নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কন্ডাক্টরকে দিয়ে দিই। পকেট ফাঁকা হয়ে যায়। মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার সময় সে যে টাকাটা দেয় তাও কন্ডাক্টরকে দিয়ে দিই। শূন্য পকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, ওরা ঠিক তা বুঝতে পারে। কেন বলো তো?’ বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করল।

‘কলিকাতার পকেটমাররা খুব বিখ্যাত বলে শুনতাম। তাই জিজ্ঞাসা করলাম।’

বলতে-বলতে নবকুমার টের পেল তার পিছনের ভিড়টা কেমন আলগা হয়ে গেল। চারপাশে নির্লিপ্ত মানুষের মুখ।

অনেকটা সময় কেটে গেলে কন্ডাক্টর এগিয়ে এল, ‘কোথায় নামবেন?’

‘কেন?’ নবকুমার তাকাল।

‘আপনি যে টিকিট কেটেছেন তাতে এর পরে যাওয়া যাবে না।’

‘ও!’

‘আবার টিকিট কাটবেন, না নেমে যাবেন।’

নীচু হয়ে জানলা দিয়ে রাস্তা দেখল সে। সব রাস্তাই একরকম। কী মনে হল, বাস থামতেই নেমে এল সে।

কাউকে যে জিজ্ঞাসা করবে তার উপায় নেই। কী জিজ্ঞাসা করবে? মাথায় একটা বুদ্ধি এল। সেই রাত্রে কন্ডাক্টর যখন দর্জিপাড়ায় যাওয়ার জন্য এই ভাড়াই নিয়েছিল এবং সেই ভাড়া শেষ হচ্ছে এখানে তখন নিশ্চয়ই জায়গাটা পিছনে ফেলে এসেছে সে। যে বাসস্টপ থেকে সে উঠেছিল, লোকদুটো দাঁড়িয়েছিল, সেই জায়গাটা খুঁজে বের করতে পারলেই মন্দাক্রান্তার বাড়িতে পৌঁছে যাবে সে।

উলটোদিকে হাঁটা শুরু করল নবকুমার। এখন বিকেলের ছায়া নেমেছে। পরপর তিনটে বাসস্টপ পার হয়ে এল কিন্তু কোনওটাকেই রাত্রের সেই বাসস্টপ বলে মনে হল না। চতুর্থটিকে এসে মনে হল এটা হলেও হতে পারে। রাত্রের আলোআঁধারে একবার দেখা জায়গাটাকে দিনেরবেলায় গুলিয়ে যাচ্ছিল। নবকুমার সেই রাস্তাটা খুঁজছিল যেটা ধরে সে এখানে পৌঁছে ছিল।

‘এই যে ভাই, এই যে এদিকে—।’ চিৎকারটা কানে এলে নবকুমার রাস্তার উলটোদিকের দোকানের দিকে তাকাল। ছোট্ট স্টেশনারি দোকানের ভেতর থেকে কেউ চেঁচিয়ে যে তাকেই ডাকছে, বুঝে এগোল সে।

‘তুমি এ-পাড়ায় থাকো?’ লোকটা জিজ্ঞাসা করল।

‘না।’

‘তাহলে এখানে কী করছ?’ লোকটা হাসল, ‘অতরাত্রে সোনাগাছির বাস খুঁজছিলে আবার এইসময় বাসস্টপে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকাচ্ছ। হে-হে-হে। আমি তো গল্পটা সকলকেই করেছি। জিন্দেগিতে শুনিনি, কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাসের কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞাসা করছে, এই বাস সোনাগাছি যাবে!’

বিরাট সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। সে ঠিক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। এই লোকটাই সেই রাত্রে আর-একজনের সঙ্গে বাসস্টপে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল।

নবকুমার বলল, ‘আচ্ছা, চলি!’

‘কোথায় যাবে? সোনাগাছিতে?’ বলে হেঁ-হেঁ করে হাসতে থাকল লোকটা।

দ্রুত সরে এল নবকুমার। ওরকম বিচ্ছিরি হাসি সে কোনওদিন শোনেনি। সোনাগাছিতে গিয়ে দেখেছে কোনওদিন এই লোকটা? শব্দটা উচ্চারণ করে পচা মজা পায় যেন লোকটা। শুধু এই লোকটা কেন, সোনাগাছির বাইরে যারা থাকে তাদের অনেকেই এই দলে।

সেই রাস্তা ধরে বাড়িটার সামনে পৌঁছতেই সে মন্দাক্রান্তার কাজের লোকটিকে দেখতে পেল। লোকটা বলল, ‘উ:, কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। মেমসাহেব ভয় পাচ্ছিলেন, আপনি হয়তো বাড়িটা চিনতে পারবেন না তাই আমাকে গেটে দাঁড়াতে বলেছেন। চলুন।’

নবকুমার চারপাশ তাকিয়ে দেখল। এর পরেরবার ভুল হবে না।

‘এসো। তুমি বড্ড দেরি করে ফেলেছ।’

মন্দাক্রান্তা বললেন বিরক্ত মুখে। তার পাশে পরিচালক গীতিময় এবং আরও একটি লোক বসে আছে।

গীতিময় বললেন, ‘জীবনে উন্নতি করতে হলে তোমাকে সময়ের গুরুত্ব বুঝতে হবে। বসো।’ তারপর পাশের লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এর নাম নবকুমার, আমার পরের ছবির হিরো। একে মানুষ করার দায়িত্ব তোমার।’

‘গাধা পিটিয়ে আর কত ঘোড়া করে যাব! হিরো তৈরি করা যায় না। হিরো যে, সে হিরো হওয়ার জন্যই জন্মায়। এই ছেলেটি কীভাবে হেঁটে ঘরে ঢুকল তা দেখেছেন? মোস্ট আনস্মার্ট।’ লোকটি কাঁধ নাচাল।

গীতিময় বললেন, ‘প্রাণকৃষ্ণ, তুমি উত্তমবাবুর প্রথম দিকের ছবি দেখেছ? সাড়ে চুয়াত্তর পর্যন্ত? দেখে মনে হয়েছে লোকটা একদিন ইতিহাস তৈরি করবে?’

মন্দাক্রান্তা চুপচাপ হাসছিলেন। এবার বললেন, ‘বড়বাবু চাইছেন না নবকুমার অভিনয় করুক। চরিত্রটা ফুটে উঠবে ও যা সেইমতো বিহেভ করলে।’

‘ঠিক। ওসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না প্রাণকৃষ্ণ। তুমি শুধু ওকে অ্যাক্টিংটা শিখিয়ে দাও। বিহেভ করলেই তো হবে না। ক্যামেরার সামনে ওকে অ্যাক্টিংও করতে হবে।’ গীতিময় বললেন।

‘বসুন ভাই।’ প্রাণকৃষ্ণ বলল।

নবকুমারের মন বিগড়ে গিয়েছিল লোকটার কথা শুনে। বসে বলল, ‘ইনি যখন বলছেন আমি একটা গাধা, পিটিয়েও আমাকে ঘোড়া করতে পারবেন না তখন কেন এত ঝামেলা করছেন বলুন তো? আমি তো আপনাদের বলিনি, চান্স দিন। এসব কথা শুনতে হবে জানলে এখানে আসতাম না।’

‘বা:! ভয়েস তো ভালোই। স্ক্যানিংও ঠিক আছে। কবিতা পড়ো?’

‘না।’ গম্ভীর গলায় বলল নবকুমার।

‘পড়তে হবে। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের দুটো কবিতা। একটা বিদায় অভিশাপ, দ্বিতীয়টা কর্ণকুন্তীসংবাদ। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অর্থ যেমন ডিমান্ড করে তেমনই উচ্চারণ করতে হবে। তুমি কালকের মধ্যে বিদায় অভিশাপ মুখস্থ করে ফেলবে। পরশু তোমাকে দেখিয়ে দেব কীভাবে ওটা অভিনয় করা উচিত।’ প্রাণকৃষ্ণ উঠে দাঁড়াল, ‘দাদা, আজ চলি।’

‘হ্যাঁ। তোমার তো দেরি হয়ে গেছে। পরশু কখন আসবে বলে যাও।’

‘এখানে না। এন টি ওয়ানে চারটের সময়, আপনার ভেতরের ঘরটা হলে ভালো হয়।’ প্রাণকৃষ্ণ বলল।

মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করল, ‘এখানে কি আপনার অসুবিধে হবে?’

‘হ্যাঁ। ডাইরেক্ট বাস নেই। ট্যাক্সিভাড়া নিশ্চয়ই প্রাোডিউসার দেবে না। তা ছাড়া, স্টুডিওর আবহাওয়ায় গেলে ওর পক্ষে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে। দাদা, এটিকে হেলে সাপ ভাবার কোনও কারণ নেই। ফণা আছে। চলি।’ প্রাণকৃষ্ণ বেরিয়ে গেল।

গীতিময় বললেন, ‘প্রাণকৃষ্ণের কথায় কিছু মনে করো না। ওর মুখ ওইরকম কিন্তু খুব ভালো কোচ। বড়-বড় অভিনেতা অভিনেত্রীরা এখনও ওর শরণাপন্ন হয়। ও হ্যাঁ, ম্যাডাম, আপনার এখানে ওর সঙ্গে দেখা হবে শুনে প্রাোডাকশান কন্ট্রোলার একটা কাজ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। সম্পর্ক ভালো বলে না বলতে পারিনি।’ ব্যাগ খুলে টাইপ করা প্যাডের কাগজ বের করলেন গীতিময়। মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার?’

‘কন্ট্রাক্ট ফর্ম। বেশিরভাগ ছবিতেই এটা করা হয় না।’ কিন্তু বড়বাবু খুব নিয়মনিষ্ঠ। সব লেখা আছে। নবকুমার, এখানে সই করো। ম্যাডাম আপনি উইটনেস থাকবেন।’ গীতিময় বললেন।

‘ওটা কী?’ নবকুমার জিজ্ঞাসা করল।

‘তুমি এই ছবিতে অভিনয় করবে, শ্যুটিং এবং ডাবিং-এর সময় উপস্থিত থাকবে, শ্যুটিং-এর ডেটে অন্য কোনও কাজ করবে না এবং তার বদলে তোমাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। এই কাগজে এসব লেখা আছে। বড়বাবুর হয়ে প্রাোডাকশন কন্ট্রোলার সই করেছে। এখানে তুমি সই করো।’ গীতিময় কাগজটির একটি জায়গা দেখিয়ে পেন এগিয়ে দিলেন।

‘আমি যদি অভিনয় করতে না পারি?’ নবকুমার দ্বিধাগ্রস্ত।

‘চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। সেটাও এখানে লেখা আছে।’

নবকুমার মন্দাক্রান্তার দিকে তাকাল। তিনি বললেন, ‘দেখি কাগজটা।’

গীতিময় তাঁকে কাগজটা দিলে ঝটপট পড়ে ফেলে হাসলেন মন্দাক্রান্তা, ‘বড়বাবু দেখছি একটু উদার হয়েছেন।’

‘হ্যাঁ। একেবারে মেঘ না চাইতেই জল।’

মন্দাক্রান্তা উইটনেসের জায়গায় সই করে বললেন, ‘সই করে দাও।’

সই করল নবকুমার। তারপর কাগজটাতে চোখ রাখতেই দেখতে পেল ‘পার ডে টু থাউজেন্ড’ লেখা রয়েছে, দু-হাজার! প্রতিদিন অভিনয় করলে দুহাজার টাকা করে পাওয়া যাবে!

গীতিময় কাগজ ব্যাগে পুরে উঠে দাঁড়ালেন, ‘পরশু যখন স্টুডিওতে যাবে তখন এই কক্টাক্টের জেরক্স কপি আর দু-হাজার টাকা অ্যাডভান্স পেয়ে যাবে। ম্যাডাম, আমি চলি। আবার তো দেখা হচ্ছেই।’

গীতিময় চলে গেলে হাততালির আওয়াজ কানে আসতেই মন্দাক্রান্তার দিকে তাকাল নবকুমার। মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘অভিনন্দন। আশা করছি আজ একটি তারকার জন্ম হল। খুব রেগে গিয়েছিলে। কেন?’

‘উনি যা তা বলছিলেন।’

‘সত্যিটা মেনে নিতে শেখো। তোমার হাঁটার স্টাইল বদলাতে হবে। অপুর সংসার দেখেছ?’

‘হ্যাঁ।’

‘ঝিন্দের বন্দি? সৌমিত্র চ্যাটার্জি অপুর চরিত্রে যে আনস্মার্ট হাঁটাচলা করতেন ঝিন্দের বন্দিতে সেই একই লোক কী স্মার্ট হয়ে গিয়েছিলেন।’ উঠে দাঁড়ালেন মন্দাক্রান্তা, ‘ওঠো তো।’

নবকুমার এতক্ষণে ভালো দেখতে পেল। একটা ভেলভেট রঙের পোশাক পরেছেন মন্দাক্রান্তা যার একটা কাঁধ খোলা, নীচটা শেষ হয়েছে হাঁটুর নীচে।

তার সামনে এসে মন্দাক্রান্তা মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখলেন। তারপর হেসে বললেন, ‘তোমাকে অনেক বদলাতে হবে। চুলের ছাঁট, পোশাক, সব। আচ্ছা, ঘরের ওপাশে চলে যাও তো। হ্যাঁ, এবার বেশ স্মার্ট হয়ে হেঁটে এখানে এসো।’ নবকুমার চেষ্টা করল। আবার হাসলেন মন্দাক্রান্তা। ‘এত স্টিফ হয়ে হাঁটছ কেন? দাঁড়াও, তোমাকে একটা সিনেমা দেখাই। লোকটার হাঁটা কপি করে তবে রোজ এখান থেকে যাবে।’ বাঁ-হাত বাড়িয়ে নবকুমারের চুল এলোমেলো করে দিলেন মন্দাক্রান্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *