1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ৩৬

ছত্রিশ

সাতসকালেই ঘুম ভেঙে গিয়েছিল নবকুমারের। তখনও সূর্য ওঠেনি। জানলার বাইরের আকাশ কীরকম গম্ভীর-গম্ভীর। তখন কানে এসেছিল, ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।’ সুর করে বেশ কয়েকটি গলা গাইবার চেষ্টা করছে।

তাড়াতাড়ি জানলায় গিয়ে রাস্তা দেখল সে। একেবারে নেতিয়ে থাকা রাস্তা। কিন্তু তারপরেই ছয়-সাতজনের একটি দলকে দেখতে পেল ওই গান গাইতে-গাইতে এগিয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। এই ভোরে সোনাগাছি যখন নির্জন প্রান্তরের মতো শান্ত তখন ওই গানের শব্দগুলোকে মন্ত্রের মতো শোনাচ্ছিল। এই মানুষেরা কারা? এঁরা কি রোজ এই সময় এখান দিয়ে গান গাইতে-গাইতে চলে যান? নবকুমারের মন হঠাৎ বেশ হালকা হয়ে গেল। তার মনে হল এই সোনাগাছির অনেক চেহারা আছে। যারা দেখতে চায় তারা শুধু খারাপ দিকটাই দ্যাখে।

এই যে এখানকার মেয়েরা, প্রতিদিন রাত্রে সবার সামনে খদ্দের নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করছে। খদ্দের চলে যাওয়ার পর আবার সেজেগুজে এসে অন্য মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। সে খারাপ কাজ করছে বলে কোনও অপরাধবোধ নেই। এরা সিনেমায় যায়, হিন্দি গান শোনে, কারও বিপদ দেখলে সাহায্য করে, এমনকি কোনও মেয়ে মারা গেলে শ্মশানেও যায়। অর্থাৎ এরা স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত।

তাদের গ্রামের একটি বউকে যাত্রা দেখে ফেরার সময় দুটো লোক ধরে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল, লোকজন এসে পড়ায় সক্ষম হয়নি, ধরা পড়ে যায়। কিন্তু সেই বউটি ভোরের আগেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। কারণ পরপুরুষ তার শরীর স্পর্শ করেছিল, দিনের আলোয় সে মুখ দেখাবে কী করে! সেই বউটির কথা এদের বললে এরা কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে? সোনাগাছিতে যা স্বাভাবিক তা গ্রামে নয়, আবার গ্রামের ব্যাপারটা এখানে অচল। অথচ দুটো জায়গাতেই ভোরবেলায় কীর্তনপাটি নামগান করতে বের হয়।

সাড়ে সাতটায় মুক্তো এসে জানাল শেফালি-মা তাকে ডাকছেন। চা খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। নবকুমার চলে এল শেফালি-মায়ের ঘরে।

শেফালি-মায়ের স্নান হয়ে গিয়েছে। বেশ ঝকঝকে দেখাচ্ছে তাঁকে। বললেন, ‘বসো। আমরা সাড়ে ন’টায় বের হব। চা খেয়েছ?’

‘হ্যাঁ।’

‘এখন বলো, তোমার কোথায় সমস্যা হচ্ছে?’

‘সমস্যা? আমার?’ থতমত হল নবকুমার।

‘একটা সমস্যা যে হচ্ছে তা আমি বুঝতে পারছি। এখানে থাকার জন্যে কেউ তোমাকে কিছু বলেছে?’ শেফালি-মা তাকালেন।

‘হ্যাঁ। সবাই এটাকে খারাপ পাড়া বলে।’ নীচু গলায় বলল নবকুমার।

‘ভালো পাড়া কোথায় আছে, জান?’

উত্তর দিল না নবকুমার। শেফালি-মা বললেন, ‘সল্টলেকের নাম শুনেছ? সেখানে সব বড়লোক, বড় সরকারি অফিসাররা থাকেন।’ বলতে-বলতে খবরের কাগজ টেনে নিয়ে এগিয়ে দিলেন তিনি, ‘দাগ দেওয়া জায়গাটা পড়ো।’

কাগজ তুলে কলমে দাগ দেওয়া জায়গাটায় চোখ রাখল সে। গত রাত্রে সল্টলেকের একটি বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ নয়জন যুবতী এবং তিনজন পুরুষকে গ্রেফতার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দেহ-ব্যাবসা চালানো হচ্ছিল। যুবতীদের কয়েকজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের। বাড়িওয়ালা এবং তার স্ত্রীকে ব্যাবসা চালানোর জন্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পড়া শেষ হলে কাগজ রেখে দিল নবকুমার। শেফালি-মা হাসলেন, ‘তুমি কি সল্টলেককে খারাপ পাড়া বলবে? শুনেছি কলকাতার সর্বত্র এরকম কাজ গোপনে করা হয়। তাই বলে মনে করো না সেসব পাড়ার মানুষ এটাকে সমর্থন করে। যাক গে, আমি ঠিক করেছি, তোমার বড়বাবুর সঙ্গে যদি কথা সম্মানজনকভাবে পাকা হয় তাহলে ভবানীপুরে উঠে যাব।’

‘ভবানীপুর?’ মুখ তুলল নবকুমার।

‘দক্ষিণ কলকাতার একটি বর্ধিষ্ণু পাড়া। আমার মাসতুতো বোনের একটা ফ্ল্যাট আছে সেখানে। তার স্বামী মারা গিয়েছে। বিক্রি করে দিল্লিতে চলে যাবে ছেলের কাছে। কাল তার সঙ্গে কথা বলেছি।’

খুব খুশি হল নবকুমার। সুতানুটী, কলিকাতা, গোবিন্দপুর, দক্ষিণে যখন তখন ভবানীপুর নিশ্চয়ই গোবিন্দপুরের মধ্যে পড়বে। পড়ুক। এখন তো তিনজায়গা মিলেমিশে কলিকাতা হয়ে গেছে।

‘তোমার অবশ্য একটু অসুবিধে হবে। ভবানীপুর থেকে চিৎপুরে আসতে সময় লাগবে। তা এখন পাতাল রেল চালু হয়েছে। তাতেই এসো।’

একটা কথা বলব?’

‘নিশ্চয়ই।’

‘বড়বাবু বোধহয় চাইছেন না আমি প্রম্পটারের কাজটা করি।’

‘তোমাকে বলেছেন?’

‘না-না। সরাসরি বলেননি। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি।’

‘বেশ। আজ ওঁর সঙ্গে কথা হলে জিজ্ঞাসা করব।’ শেফালি-মা বললেন, ‘তবে আমিও চাই না তুমি সারাজীবন প্রম্পটার হয়ে থাক। কোনও উন্নতি নেই। পয়সাও নেই।’

‘উনি চাইছেন আমি অভিনয় করি।’ বলেই ফেলল নবকুমার।

‘অ।’ বলে একটু চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার কী ইচ্ছে?’

‘আমি অভিনয় করতে পারব না।’

‘তুমি কী করতে পারবে?’ হাসলেন শেফালি-মা।

একটু ভাবল নবকুমার। তারপর বলল, ‘আমার গান শিখতে ইচ্ছে করে।’

‘অ্যাঁ? তুমি গান গাও?’

‘শুনে-শুনে। কারও কাছে শিখিনি। গ্রামে বন্ধুরা বললে গাইতাম।’

‘তা যাত্রায় তো বিবেকের গান থাকে।’

‘না-না যাত্রায় নয়। সিনেমায়।’

‘মানে?’ চোখ বড় হল শেফালি-মায়ের।

‘বড়বাবু আমাকে সিনেমায় অভিনয় করতে বলেছেন। আমি গ্রামে শুনেছি, সিনেমায় সবাই নামে, ওঠে না।’

‘যারা ওঠার তারা ঠিক ওঠে। যাও, স্নান করে নাও। নইলে দেরি হয়ে যাবে। শোনো, বড়বাবু চাইলেই তুমি তো অভিনেতা হতে পারবে না। তোমার ভেতর থেকে যদি অভিনয় না আসে পরিচালক বাতিল করে দেবে।’

‘পরিচালক আমাকে পরীক্ষা করেছে। ক্যামেরায় ছবি তুলেছেন। কিন্তু বাতিল করেননি। ওয়ার্কশপ না কী একটা করতে হবে। বড়বাবু আপনার কথা নিশ্চয়ই শুনবেন। আমার হয়ে একটু বলবেন?’

কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে শেফালি-মা বললেন, ‘এসব কথা তো আমাকে তুমি বলোনি। যখন বলোনি তখন তোমার সমস্যার সমাধান তোমাকেই করতে হবে। যাও।’

.

ট্যাক্সিওয়ালাকে বলা ছিল। পার্ক স্ট্রিটের নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছতে তাই অসুবিধে হল না। ব্যাগ থেকে টাকা বের করে নবকুমারের হাতে দিয়ে ভাড়া মিটিয়ে দিতে বললেন শেফালি-মা।

মিটারে যা উঠেছে তার থেকে অনেক বেশি টাকা চাইল ট্যাক্সিড্রাইভার। নবকুমার প্রতিবাদ করতেই লোকটা একটা কার্ড এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘ট্যাক্সিতে চড়েন না বোধহয়। নিন, দেখে নিন।’

নবকুমার দেখল তাতে লেখা আছে পুরোনো ভাড়ার পাশে নতুন ভাড়া। কার্ড অনুযায়ী ড্রাইভার ঠিকই বলেছে। সে বলল, ‘আপনি পুরোনো মিটার লাগিয়ে রেখেছেন কেন? ভাড়া তো অনেকদিন আগে বেড়ে গেছে দেখছি, নতুন মিটার লাগালে এই সমস্যায় পড়তে হয় না।’

লোকটা হাসল, ‘খরচা করে নতুন মিটার লাগাব আর তার পরের দিনই আবার ভাড়া বেড়ে যাবে। তখন কী হবে?’

ট্যাক্সি থেকে নেমে শেফালি-মা বললেন, ‘সত্যি, আমরা কত কী বেনিয়ম চুপচাপ মেনে চলেছি। আমি তো চাওয়ামাত্র ভাড়া দিয়ে দিতাম।’

রেস্টুরেন্টটা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। বেশ চোখ ধাঁধানো সাজানো। কোণের দিকের টেবিলে চলে এলেন শেফালি-মা। চারটে চেয়ার। মুখোমুখি বসল নবকুমার। আশেপাশে যারা গল্প করছে এবং খাচ্ছে তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় বেশ অবস্থাপন্ন। তিনটি ছেলেমেয়ে পাশের টেবিলে বসে চেঁচিয়ে কথা বলছিল। ভাষাটা ইংরেজি। মেয়েদুটো জিনস আর গেঞ্জি পরেছে, একটা মেয়ে হাসতে-হাসতে বলল, ‘হরিবল। ডোন্ট টেল ইয়ার। বাংলা ছবি দেখা যায় না। প্রিমিটিভ।’ নবকুমার ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়েটিকে দেখল। ওরা যে বাঙালি তা এতক্ষণ বুঝতেই পারেনি সে।

বেয়ারা এসেছিল। শেফালি-মা স্যান্ডউইচ আর চা-এর অর্ডার দিলেন। নবকুমার লক্ষ করল নিজের বিছানায় বসে থাকা শেফালি-মায়ের সঙ্গে এখনকার শেফালি-মায়ের যেন বিস্তর পার্থক্য। এখন যেন বয়স অনেক কমে গেছে ওঁর।

‘তুমি স্যান্ডউইচ খাও তো?’ শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন।

‘আমি কখনও খাইনি। ওখানে এসব পাওয়া যায় না।’ নবকুমার বলল।

‘দুটো পাউরুটির মধ্যে মাংসের কিমা সেদ্ধ চেপে দিলে খেতে খারাপ লাগে না।’ হাসলেন শেফালি-মা, ‘শোনো, তোমাকে একটু খারাপ পরামর্শ দিই। কলকাতায় যখন কারও সঙ্গে কথা বলবে তখন তোমার অজ্ঞতা প্রকাশ করবে না। যেমন, তুমি যে স্যান্ডউইচ কী জিনিস তা জানো না এটা না বলে যদি বলতে খাই, তাহলে কী হত? খাবারটা এলে খেয়ে নিতেই বুঝতে স্যান্ডউইচ কী! ফলে দ্বিতীয় বারে তোমার অসুবিধে হত না। সত্যি কথা বলা সব সময় ভালো নাও হতে পারে। বিশেষ করে এই কলকাতায়।’

ঠিক তখনই দরজা খুলে বড়বাবু ভেতরে ঢুকলেন। এপাশ ওপাশ তাকিয়ে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলেন। কাছে এসে বললেন, ‘নমস্কার।’

শেফালি-মা হাতজোড় করলেন, ‘নমস্কার। বসুন।’

নবকুমারের পাশের চেয়ার টেনে নিলেন বড়বাবু। এখন তাঁর পরনে গিলে করা আদ্দির পাঞ্জাবি আর ধুতি। বসামাত্র সুন্দর গন্ধ পেল নবকুমার।

‘আপনি কখন এসেছেন? আমি কি দেরি করলাম?’ ঘড়ি দেখলেন তিনি, ‘না। ঠিক সময়ে এসেছি।’

‘আগে এসে কোনও অসুবিধায় পড়িনি। আমরা চা আর স্যান্ডউইচ বলেছি, আপনার জন্যে কি তাই বলব?’

‘না-না। আমি শুধু চা খাব।’ বেয়ারাকে ডেকে আরও এক কাপ চা বেশি দিতে বললেন বড়বাবু। তারপর নবকুমারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি ম্যাডামকে এসকর্ট করেছ? বা:। বেশ ভালো।’ তারপর শেফালি-মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনি নবকুমারকে বিশেষ স্নেহ করেন বলে মনে হয়।’

শেফালি-মা জবাব দিলেন না।

চা এসে গেল। শেফালি-মা চা তৈরি করে এগিয়ে দিলেন। দিয়ে বললেন, ‘আপনার পাঠানো পালা আমি পড়েছি।’

‘কেমন লাগল।’

‘কিছু-কিছু জায়গায় আমার আপত্তি আছে।’

‘বেশ তো, নাট্যকারকে বলব আপনার সঙ্গে কথা বলে সেগুলো ঠিক করে নিতে। কোনও সমস্যা হবে না। আপনার অভিজ্ঞতা তো খুবই মূল্যবান।’

‘কিন্তু—।’

‘আমি একটা কথা বলি। চা খেয়ে নিই। নবকুমার একটু ঘুরে আসুক। তখন আমরা কাজের কথা বলে নেব।’ বড়বাবু বললেন।

‘নবকুমার থাকলে আমার কোনও অসুবিধে হবে না।’

‘আমার হবে। কিছু মনে করবেন না ম্যাডাম। এখনও নবকুমার আমার যাত্রাদলের একজন অতি সামান্য কর্মচারী। ওর সামনে আমি ব্যাবসা সংক্রান্ত কথা বলতে চাই না। আশাকরি আপনি বুঝতে পারছেন।’ বড়বাবু বললেন।

নবকুমারের মনে হল তার এখনই এখান থেকে উঠে যাওয়া উচিত। কিন্তু এখনও স্যান্ডউইচ বা চা খাওয়া হয়নি। এগুলোকে ফেলে গেলে শেফালি-মা যদি রাগ করেন। সে সোজা হয়ে বসল।

‘বুঝতে পেরেছি।’ শেফালি-মা মাথা নাড়লেন, ‘বেশ তো, ও যদি এই মুহূর্তে আপনার দেওয়া চাকরি ছেড়ে দেয় তাহলে নিশ্চয়ই আর কর্মচারী হিসাবে ওকে দেখবেন না। নবকুমার, তুমি প্রম্পটারের চাকরি ছেড়ে দাও।’

নবকুমার ঘাবড়ে গেল। কিন্তু শেফালি-মায়ের কথা অস্বীকার করতে পারল না সে। মাথা নেড়ে বলল, ‘আচ্ছা।’

‘এবার বলুন।’ শেফালি-মা বললেন।

‘আমি অভিনেত্রী হিসেবে যাবতীয় সুযোগসুবিধে আপনাকে দেব। আপনি শো-পিছু কত টাকা চাইবেন?’ বড়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন।

‘এতদিন পরে আসরে নামব। আপনি কত দিতে পারবেন?’

‘পাঁচ।’

‘ওটা আমি আগেই পেয়েছি। অন্তত দশ চাই। এবং মাসে পনেরো দিনের বেশি শো করব না।’ শেফালি-মা চায়ের কাপ তুললেন।

‘আপনাকে আমি আজই ফোন করব।’

‘বেশ তো।’

‘আর একটা কথা। আপনি কি যে বাড়িতে এখন আছেন সেখানেই থাকবেন?’

হাসলেন শেফালি-মা, ‘না। ভবানীপুরে শিফট করছি। শিগগির।’

‘বাঁচালেন!’ সোজা হয়ে বসে চায়ে চুমুক দিলেন বড়বাবু। আমি নবকুমারকে একটা প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু সে কিছু না বুঝে রাজি হতে চাইছে না।’

শেফালি-মা বললেন, ‘শুনেছি। চাকরিটা যখন ছেড়ে দিল তখন এ ছাড়া ওর সামনে কোনও পথ খোলা নেই।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *