চৌত্রিশ
টিভির পরদায় পরপর দুটি মেয়ের হাঁটা, কথা বলার ছবি ভেসে উঠতেই বড়বাবু বললেন, ‘রাবিশ! গীতিময় যে কোত্থেকে এদের জোগাড় করে! চোখের দেখাতেই তো বাতিল করে দেওয়া উচিত। ক্যামেরা আলো ভাড়া করে টাকা জলে ফেলার দরকার কী! এই জন্যেই আমি ফিল্মের লোকদের অপছন্দ করি।’
রিমোট টিপে ছবি স্থির করে রেখেছিলেন ভদ্রমহিলা, বললেন, ‘বন্ধ করব?’
‘না-না। ফরোয়ার্ড করো।’
টিভি চলল। এরপরেই নিজের ছবি দেখতে পেল নবকুমার। হাঁটাচলা করল ছবির সে। তারপর কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ির লাইনগুলো বলল। গলার স্বর বেশ সুন্দর, পরিষ্কার শোনাল। ছবি শেষ হতেই ভদ্রমহিলা আবার প্রথমটায় নিয়ে এলেন। নবকুমার দেখল বড়বাবু মাথা নাড়ছেন আর ভদ্রমহিলা গালে হাত দিয়ে একদৃষ্টিতে দেখছেন। দেখা শেষ হলে টিভি বন্ধ করে ভদ্রমহিলা উঠে দাঁড়ালেন, ‘চান্স নিতে পারেন।’
বড়বাবু নবকুমারের দিকে তাকালেন, ‘ক্যামেরার সামনে কি তুমি নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলে?’
‘না তো! মানে, আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।’ নবকুমার বলল।
‘তুমি কী হে! আলো জ্বলছে, ক্যামেরায় ছবি তুলছে, তুমি সেটা বুঝতে পারলে না?’ বড়বাবু ধমকে উঠলেন।
‘তা বুঝব না কেন? নার্ভাস হয়েছিলাম কি না সেটা বুঝতে পারিনি।’
নবকুমার কথাগুলো বলামাত্র ভদ্রমহিলা বললেন, ‘তার মানে ও নার্ভাস হয়নি।’
‘তোমার কী মনে হয়?’ বড়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন ভদ্রমহিলাকে।
‘স্ক্রিন অ্যাপিয়ারেন্স ভালো। দেখতে ইচ্ছে করে। যেহেতু চরিত্রটি অতিরিক্ত সরল তাই কুমোরপাড়া দারুণ মানিয়ে গিয়েছে। তবে—।’
‘ওই তবে নিয়েই ভাবছি। একজন অভিনেতা তার অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং অনুশীলনের সাহায্যে চরিত্রটাকে যেভাবে ধরে রাখবে আনকোরা কেউ সেটা পারবে কি না।’ বড়বাবু মাথা নাড়লেন আবার।
‘ওয়ার্কশপ করাতে হবে। সেইসঙ্গে এই জীবনের সঙ্গে মানিয়ে ওঠার ট্রেনিং। তাতে খুব ভালো কাজ হবে।’
‘কে করাবে ওসব? গীতিময়ের ওপর আমার ভরসা কম। তুমি দায়িত্ব নিলে আমি ঝুঁকিটা নেব।’ বড়বাবু উঠে দাড়ালেন।
ভদ্রমহিলা এগিয়ে এসে নবকুমারের সামনে দাঁড়ালেন, পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলেন। তারপর বললেন, ‘চেষ্টা করতে পারি।’
‘আমি চলি।’ বড়বাবু পা বাড়ালেন।
‘সেকী! এখনই চলে যাবেন কেন? বসবেন না?’
‘আজ না।’ বলতেই বড়বাবুর সেলফোন বেজে উঠল।
সেটা অন করেই চেঁচালেন তিনি, ‘তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে না আমার পয়সা ধ্বংস করে আনন্দ পাচ্ছ? কোত্থেকে ওই মেডসার্ভেন্টদের ধরে এনে ছবি তুলছ? অ্যাঁ?’ একটু চুপ করে কিছু শুনে বললেন, ‘ছ্যা-ছ্যা। তোমাদের জন্যেই বাংলা ছবির দর্শক কমে গেছে। হিন্দি ছবিতে গাদা-গাদা সুন্দরী, এ বলে আমায় দ্যাখ, ও বলে আমায়। আরে আমার হিরোইনরাও এদের চেয়ে অনেক ভালো দেখতে।’ আবার কিছুক্ষণ চুপ করে কথা শুনে বললেন, ‘অনেক ঘষা মাজা করতে হবে। তুমি রেডি বলে আমি তো টাকা জলে ফেলে দিতে পারব না। দেখে মন্দ লাগেনি। তবে তৈরি করতে হবে।’
সেলফোন বন্ধ করে নবকুমারের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন বড়বাবু, ‘কাল থেকে তোমাকে আর গদিতে যেতে হবে না। ওই কাজ তোমার জন্যে নয়।’
আঁতকে উঠল নবকুমার, ‘আমাকে ছাড়িয়ে দিচ্ছেন?’
‘তুমি এত বড় গবেট যে কাচ আর হিরের পার্থক্য বুঝতে পারছ না। যাত্রায় প্রম্পট করে যা পাচ্ছ তাতে এই বাড়ির কুকুরের সারা মাস পেট ভরবে না। সামনের বছর হয়তো ছোট একটা রোল তোমাকে দেওয়া হবে। তখন যাত্রার তৃতীয় শ্রেণির অভিনেতা অভিনেত্রী কর্মচারীর মতো বাসে ঢুলতে-ঢুলতে শো করতে যাবে, ডিমের ঝোল আর ভাত খাবে। আর তোমার চোখের সামনে হিরো হিরোইনরা দামি গাড়িতে যাবে, ইন্ডিয়া কিং ফুঁকবে, চাইনিজ খাবার খাবে। ভালো লাগবে সেটা? এই ছবিতে অভিনয় করলে দশ দিনে সাড়ে সাত হাজার টাকা রোজগার করবে। বুঝলে? রাবিশ। আর হ্যাঁ, ওই সোনাগাছিতে থাকা আর চলবে না। কাগজগুলো লিখবে সোনাগাছির নবকুমার ছবির নায়ক হলেন। কোনও ভদ্রবাড়ির মানুষ ছবি দেখতে যাবে না। চলো।’
‘বড়বাবু—।’ গলা শুকিয়ে গিয়েছিল নবকুমারের।
‘আবার কী হল?’
‘আমি সিনেমায় নামব না।’
বড়বাবু ভদ্রমহিলার দিকে তাকালেন, ‘দ্যাখো, দেখলে? এতক্ষণ ধরে ভস্মে ঘি ঢাললাম!’ আবার তাকালেন নবকুমারের দিকে, ‘হোয়াই? কেন?’
‘সবাই বলে সিনেমায় নামলে চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়।’ নবকুমার বলল।
‘সোনাগাছিতে থাকলে চরিত্র ঠিক থাকে?’
‘বিশ্বাস করুন, আমার আছে!’
‘তোমাকে খুন করতে পারলে আমি খুশি হতাম। চলো।’
ভদ্রমহিলা বললেন, ‘আমি ওর সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই। ও বোধহয় ভুল ধারণা নিয়ে আছে। সেটা তো ঠিক নয়।’
‘অ। দ্যাখো। শোনো হে নবকুমার, তুমি অভিনয় করো বা না করো যাত্রাদলে তোমার আর চাকরি নেই। মাস্টারের হাতে তোমার প্রাপ্য টাকা পাঠিয়ে দেব।’ বড়বাবু সশব্দে বেরিয়ে গেলেন।
চোখের সামনে অন্ধকার দেখল নবকুমার। তার পক্ষে অভিনয় করা সম্ভব নয়। চাকরিটাও চলে গেল। দেশে ফিরে গেলে মা খুব খুশি হবে। কিন্তু বন্ধুদের কাছে মুখ দেখানো মুশকিল হবে।
‘নবকুমার।’
যেন বহুদূর থেকে ডাকটা ভেসে এল। সে মুখ ফেরাতে ভদ্রমহিলাকে হাসতে দেখল, ‘বোসো। তুমি এত ঘাবড়ে যাচ্ছ কেন?’
নবকুমার বসল, ‘বিশ্বাস করুন, আমি মিথ্যে কথা বলতে পারি না। অভিনেতাকে সবসময় মিথ্যে বলতে হয়। সে যা নয় তাই বলতে বাধ্য হয়। ছোটবেলায় যে নাটক করেছি, তা একটুও ভালো করিনি ওইজন্যে।’
‘ও। এই সমস্যা।’ ভদ্রমহিলা সামনে বসলেন, ‘নাটকের সংলাপ তো মিথ্যে কথা নয়। জীবনের কথা। হয়তো সেই জীবনটা তোমার নয়। কিন্তু কারও-না-কারও জীবনে ওইরকম ঘটনা ঘটেছে। তুমি সেই জীবনটাকে যদি ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে পারো তাহলে দেখবে আনন্দে মন ভরে যাবে।’
কথাগুলো শুনতে-শুনতে নবকুমারের মনে হল, উনি ঠিক বলছেন। শাজাহান নাটকের ঘটনা সম্রাট শাজাহানের জীবন নিয়ে। সেটা সত্যি ছিল।
নবকুমারকে চুপ করে থাকতে দেখে ভদ্রমহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আচ্ছা, কী খাবে বলো? চা, কফি না শরবত?’
‘আমি বাড়ি গিয়ে খাব।’
‘কেন? আমার এখানে খেতে আপত্তি আছে?’
‘না-না। আচ্ছা, চা।’
ভদ্রমহিলা পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। নবকুমার চারপাশে তাকাল। এত বড় বাড়িতে কারা থাকে? তারা এই ঘরে আসছে না কেন? কত বড়লোক হলে এরকম সাজানো বাড়ির মালিক হওয়া যায় কে জানে!
ভদ্রমহিলা ফিরে এলেন, ‘তোমার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এখন একটু ব্র্যান্ডি খেলে নার্ভ ফিরে পেতে।’
‘ব্র্যান্ডি তো মদ।’
‘ওয়েল, বলতে পারো।’
‘ওইজন্যেই আরও অভিনয় করতে চাই না।’
‘মানে?’ ভদ্রমহিলা অবাক।
‘শুনেছি অভিনেতারা মদ খায়। আমাদের গ্রামে তারাপদজ্যেঠু সিনেমার সব খবর রাখেন। তাঁর মুখে শুনেছি নেশা করে অকালে শেষ হয়ে গেছেন অনেক নায়ক। তাদের সংসারও ভেঙে গেছে। কাজ চলে যাওয়ার পর অনেকের খাবার জোটে না। এই জীবন আমি মেনে নিতে পারব না।’ নবকুমার বলল।
‘ঠিকই। আচ্ছা, তুমি এখানে কীভাবে এসেছ?’
‘গাড়িতে চড়ে। বড়বাবুর গাড়িতে।’
‘গাড়িটা কে চালিয়েছে?’
‘ড্রাইভার।’
‘ঠিকঠাক গাড়ি না চালানোর জন্যে মাঝে-মাঝে অ্যাকসিডেন্ট হয়। তাই বলে কি লোকে গাড়িতে চড়া বন্ধ করে দিয়েছে?’
‘না।’
‘গাড়িটাকে কন্ট্রোলের মধ্যে রেখে চালালে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই তো? সিনেমায় অভিনয় করলে তোমাকে মদ খেতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এখানে অনেক অভিনেতা মদ স্পর্শ করেননি। যেমন অনিল চ্যাটার্জি, নির্মলকুমার। এঁদের কথা তোমার তারাপদজ্যেঠু বলেননি?’ ভদ্রমহিলা মিষ্টি হাসলেন।
কথাগুলো গিলছিল নবকুমার।
‘শুনলাম তুমি সোনাগাছিতে থাকো। ওটা রেডলাইট এরিয়া। যে-কোনও মানুষ যদি একথা শোনে তাহলে তোমার চরিত্র খারাপ বলবে। তোমাকে লম্পট মনে করবে। তোমার মা-বাবা নিশ্চয়ই জানেন না। জানলে কষ্ট পাবেন। কারণ ওখানে আদিম ব্যাবসা চলে। কিন্তু ওখানে থাকা সত্বেও তুমি বলেছ তোমার চরিত্র নষ্ট হয়নি। তোমার সঙ্গে কথা বলার পর আমারও মনে হচ্ছে তুমি সত্যি বলছ। অন্যলোক যদি উলটোটা ভাবে তাহলে তোমার সত্যিটা কি মিথ্যে হয়ে যাবে!’
প্রশ্নটা করে ভদ্রমহিলা কার্পেটে পড়ে থাকা একটা কলম কুড়িয়ে নেওয়ার জন্যে নীচু হতেই নবকুমার চোখ সরিয়ে নিল। নীচু হওয়ার কারণে ওঁর বুকের অনেকটাই সে দেখে ফেলেছে। কান গরম হয়ে গেল মুহূর্তেই।
কলম তুলে সোজা হয়ে বসে নবকুমারের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ ছোট্ট করলেন ভদ্রমহিলা। তারপর হাসলেন, ‘কী, উত্তর দিচ্ছ না কেন?’
‘আমি এরকম করে ভাবিনি।’ প্রাণপণে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল নবকুমার।
‘আমার ওপর ভরসা রাখো, আমি তোমাকে ঠিক পরামর্শ দেব। দ্যাখো, এরকম সুযোগ চট করে কেউ পায় না। তোমাদের বড়বাবুর মুখে যা শুনলাম তাতে তোমাকে তো ভাগ্যবান ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। গ্রামের ছেলে তুমি। সেখানে পড়ে না থেকে কাজের সন্ধানে কলকাতায় এলে, পরদিন একটা কাজও পেয়ে গেলে। শুনলাম যে রাতে এসেছিলে সেই রাতেই থাকার জায়গাও পেয়ে গিয়েছিলে। এরকম কাকতালীয় ঘটনা সিনেমায় দেখা যায়। জীবনে নয়। তারপর বড়বাবুর মনে হল আগামী ছবির গল্প একটা সরল গ্রাম্যছেলেকে নিয়ে হবে। উনি এটা নাও ভাবতে পারতেন। তোমাকে পাঠালেন অডিশন দিতে। তাতে পাসও করে গেলে। উ:, যা চাইছ তাই পাচ্ছ। শুরুতেই যখন এই, তখন ভবিষ্যতে কত কী যে পেয়ে যাবে তা আন্দাজও করতে পারছ না। অতএব তুমি কাল থেকে গীতিময়বাবুর ওয়ার্কশপে যাবে আর আমার কাছে আসবে নিজেকে একটু পালিশ দেওয়া জন্যে। প্রমিস!’ হাত বাড়ালেন ভদ্রমহিলা।
‘আমি ভেবেছিলাম গীতিময়বাবু আমাকে ডেকেছিলেন, বড়বাবু চাননি।’
‘উনি চিরকাল আড়ালে থাকাই পছন্দ করেন। কী হল?’
কাঁপা হাতে করমর্দন করল নবকুমার।
‘তোমার হাত কাঁপছে কেন?’ হাত ছেড়ে না দিয়ে প্রশ্ন করলেন ভদ্রমহিলা।
‘না, মানে—!’ কথা খুঁজে পেল না নবকুমার।
ভদ্রমহিলা উঠলেন। একটু দূরে দাঁড়িয়ে ভালো করে দেখলেন। তারপর বললেন, ‘তুমি বোধহয় দিনে একবারই স্নান করো?’
‘হ্যাঁ।’
‘তোমাকে জানিয়ে দিই। তোমার শরীর থেকে এখন একটা ঘেমো গন্ধ বের হচ্ছে। কাল থেকে এটা যেন না থাকে। কী করলে সেটা সম্ভব হবে আমি বলে দেব। তোমার জামা প্যান্টগুলো এবার পালটাতে হবে। ওগুলো গ্রামে মানায়, সিনেমার নায়ক সেটে পড়তে পারে অভিনয়ের জন্যে, জীবনে কখনওই নয়।’
‘আমার হাতে বেশি টাকা নেই!’
‘ও:! টাকার কথা তোমাকে ভাবতে বলেছি?’ ভদ্রমহিলা ধমক দিলেন, ‘আর ওই সোনাগাছিতে থাকা চলবে না।’
একটু চুপ করে থেকে নবকুমার বলল, ‘আমাকে ভাবতে দিন।’
‘এ নিয়ে ভাবার কিছু নেই। তুমি ওখানে যতই ভালো থাকো, ওরা তোমার সঙ্গে যতই ভালো ব্যবহার করুক, ছবির দর্শকরা যদি জানতে পারে তাহলে তোমাকে ওই এলাকার ছেলে বলে ভাববে। অন্য কোথাও থাকার জায়গা আছে?’
‘না। কলিকাতায় আর কাউকে আমি চিনি না।’
‘হোয়াট? কী বললে? কলিকাতা?’
‘আমাদের গ্রামে সবাই কলিকাতাই বলে।’
‘আচ্ছা।’ একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন ভদ্রমহিলা।
নবকুমার শেফালি-মায়ের কথা ভাবল। উনি কত স্নেহ করেন তাকে। নিজের ছেলের মতো রেখেছেন এতদিন। সোনাগাছিতে থাকলে বদনাম হবে, একথা ওঁকে কী করে বলবে!
‘আই লাইক দিস ওয়ার্ড। কলিকাতা। তুমি কলিকাতাই বলবে। তবে সেটা আমার কাছে। পাবলিকলি নয়। শুনলে লোকে হাসবে। ভাববে তুমি একটা গেঁয়ো। লোকে আমাদের হিরোকে গেঁয়ো ভাবুক আমি চাই না নবকুমার।’ ভদ্রমহিলা মাথা নাড়লেন, ‘তুমি আর দেরি কোরো না। শেষবারের জন্যে সোনাগাছিতে ফিরে যাও।’
