1 of 2

কলিকাতায় নবকুমার – ২৫

পঁচিশ

চিড়িয়াখানার ভেতরে একটা সুন্দর রেস্টুরেন্ট আছে। শেফালি-মা নবকুমারকে নিয়ে সেখানে ঢুকে জানলার পাশের টেবিলে বসলেন। মুক্তোকে টাকা দিয়ে এসেছেন শেফালি-মা। সে রেস্টুরেন্টের খাবার খাবে না, পুরি তরকারি কিনে খাবে।

‘কী খাবে বলো?’ শেফালি-মা মেনু কার্ডে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করলেন।

এরকম রেস্টুরেন্টে কখনও ঢোকেনি নবকুমার। গ্রামে এবং গঞ্জের লোকজন ঢোকার সুযোগ পাবে কোত্থেকে? কী খাবার পাওয়া যায় তাও জানা নেই। নবকুমার বলল, ‘আপনি যা ভালো মনে করেন—।’

মেনুকার্ড এগিয়ে দিলেন শেফালি-মা, ‘এটা পড়ে তোমারটা তুমি ঠিক করো।’

আড়ষ্ট হাতে কার্ডটা নিল নবকুমার। ইংরেজিতে লেখা বিভিন্ন খাদ্যের পাশে যে দাম লেখা আছে তা দেখে ঘাবড়ে গেল সে। কোনওটাই ষাট টাকার নীচে নেই। কয়েকবার চোখ বুলিয়ে চিকেন চাউমিনটাকেই পছন্দ করল। কলেজে পড়ার সময় ক্যান্টিনে চাউমিন খেয়েছিল কয়েকদিন। খারাপ লাগেনি। কিন্তু ওখানে দাম নিত বারো টাকা। এক প্লেট নিলে দুজনের দিব্যি হয়ে যেত। ‘সঙ্গে কী নেবে?’

‘কিছু না।’

‘লজ্জা করছ কেন? চিলি চিকেন নেবে?’

আর না বলতে পারল না নবকুমার। শেফালি-মা দুজনের জন্যে একই খাবার বলে দিলেন বেয়ারাকে। নবকুমার মনে-মনে যোগ করে দেখল, অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে ওঁর।

.

.

শেফালি-মা বললেন, ‘বহুদিন পরে আজ বেশ ভালো লাগছে? ছেলেবেলায় বাবার সঙ্গে প্রতি বছর শীত পড়লেই এখানে আসতাম। তখন এই রেস্টুরেন্টটা ছিল না। তোমার কেমন লাগছে চিড়িয়াখানায় এসে?’

‘ভালো।’

‘লোকে তো খাঁচায়-খাঁচায় জীবজন্তু দেখছে। আর আমি একটা জায়গায় বসে মানুষ দেখছিলাম। মানুষের মতো বিচিত্র প্রাণী বোধহয় আর কিছু নেই।’ হাসলেন শেফালি-মা, ‘ও হ্যাঁ, মেয়েটি কে? তোমার দেশের?’

চমকে তাকাল নবকুমার! সে প্রথমে ঠিক ঠাওর করতে পারল না।

‘আহা, তোমার সঙ্গে খুব কথা বলছিল যে—!’

‘না-না। আমাদের দেশের নয়। কলিকাতায় আসার সময় ট্রেনে পরিচয় হয়েছিল।’

‘তাই?’

‘ওর সঙ্গে আত্মীয়স্বজনরাও ছিল।’

‘এখানে তো একটা ছেলের সঙ্গে এসেছিল। ছেলেটা কে?’

‘আমি জানি না।’

‘যখন কোনও মেয়ে অনাত্মীয় ছেলের সঙ্গে চিড়িয়াখানা বেড়াতে আসে তখন বুঝতে হবে ওদের বন্ধুত্ব আছে। অনাত্মীয় বুঝলাম ছেলেটির দাঁড়িয়ে থাকার ধরন দেখে। তোমার সঙ্গে মেয়েটি কথা বলছিল এটা ওর পছন্দ হচ্ছিল না!’ শেফালি-মা হাসলেন, ‘সাধারণত এসব ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ দেখলে ছেলেমেয়েরা এড়িয়ে যায়। তার ওপর তোমার সঙ্গে ট্রেনে আলাপ যখন, তখন তো সহজেই এড়াতে পারবে। কিন্তু তা না করে সঙ্গীকে দাঁড় করিয়ে রেখে মেয়েটি তোমার সঙ্গে কথা বলেই যাচ্ছিল।’ শেফালি-মা হাসলেন, ‘যেন তুমি ওর খুব ঘনিষ্ট বন্ধু।’

‘ওর অনেক ছেলে বন্ধু আছে।’ মুখ নামাল নবকুমার।

‘হুম। তুমি কী করে জানলে?’

‘আমাকে বলেছে। ওই ছেলেটাকে ভালো করে চেনে না। বড়লোকের ছেলে, ওকে বিয়ে করতে চায়, কিন্তু ও চায় না। অম্বর না কোথায় খাওয়াবে বলে ওর সঙ্গে এসেছে। আমাকেও সেখানে যেতে বলছিল। আমি ওকে ঠিক বুঝতে পারি না।’ নবকুমার অকপটে বলল।

‘যাক। ইনি তাহলে তোমার কপালকুণ্ডলা নন।’

‘মানে?’

‘শোনো। এই মেয়েটিকে এড়িয়ে চলবে। তোমার ঠিকানা দিয়েছ?’

‘হ্যাঁ। গদির নাম্বার। এমন করে বলল যে না বলে পারিনি।’

‘বাড়ির নাম্বার?’

‘না-না।’

‘দিলে দেখতে পাড়াটা জানলে ও আর তোমার সঙ্গে কথা বলত না।’

‘পাড়ার জন্যে?’

‘হ্যাঁ। বেশ্যাপাড়ায় যে ছেলে থাকে তার সম্পর্কে ভালো ধারণা কেন হবে? অথচ জান, এই মেয়েগুলো, যারা একের-পর-একটা ছেলের মাথা ঘোরায়, তাদের পয়সায় দামি রেস্টুরেন্টে খায়, ভালো উপহার আদায় করে কাটিয়ে দিয়ে আর-একজনের সঙ্গে মেশে তারা সোনাগাছির মেয়েদের চেয়ে হাজারগুণে খারাপ। সোনাগাছির মেয়েরা পেটের জন্যে খদ্দের ধরে, কিন্তু তাদের ঠকায় না। আর এইসব তথাকথিত ভদ্রলোকের ভদ্র মেয়েরা মজা লুটবার জন্যে ছেলেগুলোর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে। অথচ তাদের গায়ে বেশ্যার ছাপ পড়ে না। ছেলেগুলো ওই অভিনয়ে মজে যায় সহজে। যখন বোঝে ঠকে গেছে, তখন বেশিরভাগ মুখ বুঁজে সরে যায়, কেউ-কেউ অ্যাসিড বালব ছোড়ে। তুমি যদি ওদের সঙ্গে যেতে রাজি হতে তাহলে রেস্টুরেন্টে গিয়ে মেয়েটা একই সঙ্গে তোমাদের দুজনের সঙ্গে ফস্টিনস্টি করত। ছি:!’ শেফালি-মায়ের কথা শেষ হওয়ার পর খাবার এল।

খেতে আরম্ভ করে নবকুমার বুঝতে পারল, কলেজের ক্যান্টিনে চাউমিন নামক যে খাবার খেয়েছে সেটা খুবই নীচুস্তরের। এত ভালো এবং সুস্বাদু খাবার সে কখনও খায়নি। এরপরে নিজের পয়সায় খেতে হলে তাকে অনেক রোজগার করতে হবে। প্রম্পটারের চাকরি করে সেটা সম্ভব নয়।

খেতে-খেতে শেফালি-মা বললেন, ‘অনেকদিন পরে আজ বেশ ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে এতদিন একটা অন্ধকার ঘরে মুখ লুকিয়ে বসেছিলাম, আজ বেরিয়ে এলাম। তুমি যদি আমার বাড়িতে না আসতে তাহলে আজকের আনন্দটা পেতাম না।’

নবকুমার খুশি হল। কিন্তু সে বুঝতে পারল না, এমন কী করেছে, যার জন্যে শেফালি-মা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসেছেন।

শেফালি-মা বললেন, ‘তুমি কি বলো, আমার আবার অভিনয় করা উচিত?’

‘আপনার অভিনয় আমি কখনও দেখিনি। কিন্তু খুব প্রশংসা শুনেছি। যদি শরীর ভালো থাকে তাহলে—।’ কথা শেষ করল না নবকুমার।

‘দ্যাখো, মন ভেঙে শরীর নষ্ট হয়। ভেবেছিলাম শুয়ে-বসে বাকি জীবনটা কোনওমতে পার করে দেব। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে মিছিমিছি নিজেকে নষ্ট করার জন্যে ব্যস্ত ছিলাম। ভুল করেছিলাম।’ খাবারের বিল মিটিয়ে দিলেন শেফালি-মা। তারপর বললেন, ‘ঠিক আছে। একটু ভদ্র ব্যবহার করি। তুমি আজ যাত্রাদলের মালিকের সঙ্গে দেখা করে বলবে কাল দুপুরে, এই ধরো তিনটের সময় পার্ক স্ট্রিটে ফ্লুরিস রেস্টুরেন্টে আমি তার সঙ্গে দেখা করতে পারি। মনে থাকবে তো, পার্ক স্ট্রিটে ফ্লুরিস রেস্টুরেন্টে বিকেল তিনটের সময়।’

মনে-মনে নামগুলো আওড়ে নিল নবকুমার। মনে হচ্ছিল, একটি মহান কাজ তার মাধ্যমে হতে চলেছে।

.

আজ রবিবার। ছুটির দিন। বিকেল পাঁচটায় গদিতে এসে নবকুমার দেখল সব ফাঁকা। গদিতে কেউ নেই। মাস্টারদার দেখা পেল না সে। দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারল বড়বাবু ছুটির দিনে গদিতে আসেন না। তাঁর ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতে লোকটা একটা ফোন নাম্বার বলতে পারল। গদির ফোনটা তালাচাবি দেওয়া থাকে। বড়বাবুকে খুব জরুরি খবর দিতে হবে বলায় দারোয়ান ফোনের তালা খুলে দিল।

ডায়াল করল নবকুমার। তিনবার রিং হওয়ার পর বাজখাঁই গলা শুনতে পেল, ‘হ্যালো!’

‘বড়বাবু আছেন? আমি নবকুমার কথা বলছি।’

‘কে নবকুমার?’ বেশ গম্ভীর গলা।

‘আজ্ঞে, আমি, আমি প্রম্পটারের কাজ করছি।’ ভয়ে-ভয়ে বলল সে।

‘অ। কী ব্যাপার? ফোন করছ কেন?’

‘আজ্ঞে, শেফালি-মা আপনাকে একটা খবর দিয়েছেন।’

‘ও। কোত্থেকে বলছ?’

‘গদির টেলিফোন থেকে।’

‘আমার বাড়িতে চলে এসো। বাগবাজারের মদনমোহন মন্দিরের সামনে একমাত্র গেটওয়ালা বাড়িটা আমার।’ ফোন রেখে দিলেন বড়বাবু।

বেশ নার্ভাস হয়ে দারোয়ানের কাছে বাগবাজারের মদনমোহন মন্দিরের হদিস জেনে নিয়ে হাঁটা শুরু করল সে। চিৎপুরের ট্রাম রাস্তা ধরে হেঁটে সেখানে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগল না। গেটের সামনে দাঁড়াতে একটা বিহারি দারোয়ান জিজ্ঞাসা করল, ‘নাম?’

‘নবকুমার।’

‘অন্দর যাইয়ে।’

ভেতরে ফুলের বাগান। মাঝখানে সুন্দর রাস্তা। একটা গাড়ি বারান্দার নীচে দাঁড়িয়ে আছে। সিঁড়ি ভেঙে বারান্দায় উঠতেই ধুতি আর গেঞ্জি পরা একটা লোক বলল, ‘আপনি নবকুমারবাবু?’

নবকুমার মাথা নাড়তেই লোকটা বলল, ‘আসুন।’

দোতলায় উঠে বড়বাবুকে দেখতে পেল সে। একটা পাদানিওয়ালা ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে আছেন। তাঁর পাশের চেয়ারে বসে আছে খুব সুন্দর একটা মেয়ে। মেয়েটির পরনে স্কার্ট। মুখ ঘুরিয়ে বড়বাবু বললেন, ‘এসো হে। বসো।’

সামনে পড়ে থাকা মোড়ায় বসল নবকুমার।

‘শেষ পর্যন্ত কী কথা হল?’

‘আজ্ঞে, উনি কাল বিকেল তিনটের সময় দেখা করবেন।’

‘বা:। কোথায়? গদিতে আসছেন নাকি?’

‘না। পার্ক স্ট্রিটের’, বলেই আটকে গেল নবকুমার। কিছুতেই নামটা মনে আসছে না। কেবলই প্যারিস-প্যারিস বলে মনে হচ্ছে।

‘পার্ক স্ট্রিটের কোথায়? কোনও রেস্টুরেন্টে?’ বড়বাবু সোজা হয়ে বসলেন।

‘প্যারিস।’

‘প্যারিস নামে কোনও রেস্টুরেন্ট সেখানে নেই। কী রে, আছে?’ বড়বাবু মেয়েটির দিকে তাকালেন। মেয়েটি বলল, ‘মুখ দেখেই তো বোঝা যাচ্ছে ভুল বলছেন।’

‘আ:। নবকুমার, তুমি নামটাও মনে রাখতে পারনি।’ বড়বাবু বললেন।

মেয়েটি হাসল, ‘বাবা, মনে হচ্ছে উনি ফ্লুরিস রেস্টুরেন্টের নামটা ভুল করছেন।’

নবকুমারের মনে পড়ে গেল। সে দ্রুত বলে উঠল, ‘হ্যাঁ-হ্যাঁ, ফ্লুরিস।’

মেয়েটি বলল, ‘ওখানকার কেক খাননি বোধহয়?’

‘না। আমি কলিকাতায় বেশিদিন আসিনি।’

নবকুমার বলতেই মেয়েটি খিলখিল হেসে উঠল, ‘কলিকাতা? সেটা কোথায়?’

বড়বাবু বিরক্ত হলেন, ‘আ:! কী হচ্ছে! সুতানুটি, গোবিন্দপুর আর কলিকাতা। এই তো ছিল জব চানর্কের আমলে। শেষে তিনে মিলে হল কলিকাতা। তারপর সাহেবরা সেটাকে উচ্চারণ করল, ক্যালকাটা। তার বাংলা হল, কলকাতা বা কোলকাতা। গ্রাম বাংলায় যদি এখনও কেউ কলিকাতা বলে, তাহলে তো সে ভুল বলছে না! হ্যাঁ নবকুমার, তুমি ওঁকে বলো যে আমি ঠিক তিনটের সময় ওখানে পৌঁছে যাব।’

নবকুমার মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বড়বাবু বললেন, ‘বসো।’

নবকুমার আবার বসল।

‘ওঁর সঙ্গে কেউ থাকবেন?’

খুব সাহস করে নবকুমার বলল, ‘যদি আমাকে সঙ্গে যেতে বলেন তাহলে মুশকিল হবে। কাল তো একটা থেকে রিহার্সাল।’

মাথা নাড়লেন বড়বাবু, ‘না। রিহার্সালে যেতে হবে না। আমি সুধাকান্তবাবুকে বলে দিলে তিনি ম্যানেজ করে নেবেন। মনে হচ্ছে তুমি শেফালিদেবীর নেকনজরে পড়ে গেছ।’

‘আমাকে উনি পছন্দ করেন।’

‘কিন্তু মনে রেখো, তুমি আমার লোক। কথাবার্তার সময় যদি উনি রাজি না হন তাহলে তোমাকে উদ্যোগী হয়ে ওঁকে রাজি করাতে হবে। মানুমা, গিরিশকে বলো নবকুমারের জলখাবার নিয়ে আসতে।’ বড়বাবু বলতেই মেয়েটি চলে গেল। বড়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বাড়িতে কে-কে আছেন।’

‘মা আর বাবা।’

‘বাবা কী করেন?’

‘জমিজমা দেখাশোনা, চাষ—!’

‘তুমি তো গ্র্যাজুয়েট। আর পড়লে না কেন?’

‘ভালো রেজাল্ট হয়নি। টাকারও অভাব ছিল।’

‘হুম। কিন্তু নবকুমার, তুমি শেফালি-মায়ের বাড়িতে থাকছ, পয়সা লাগছে না, ঠিক কথা। কিন্তু পরিবেশের কথা যদি তোমার বাবা-মা জানতে পারেন তাহলে তো খুব খারাপ ব্যাপার হবে। উনি যদি অভিনয়ে আবার আসেন তাহলে ওঁকে বোলো কোনও ভদ্রপাড়ায় ফ্ল্যাট ভাড়া করতে। এ ব্যাপারে আমার কথা বলা ঠিক নয়। তবে উনি চাইলে আমি ব্যবস্থা করে দিতে পারি। সেখানে ওঁর কাছে থাকতে পারবে তুমি।’ বড়বাবু বেশ বুঝিয়ে বললেন কথাগুলো।

‘বলব।’

একজন কাজের লোক জলখাবার নিয়ে এল ট্রেতে। একটা টুলের ওপর সেটা রেখে চলে যেতে বড়বাবু বললেন, ‘খেয়ে নাও।’

নবকুমার দেখল গোটা আটেক ফুলকো লুচি, বেগুনভাজা, আলুভাজা আর দুটো রসগোল্লা প্লেটের ওপর রয়েছে।

বড়বাবু উঠে দাঁড়ালেন, ‘লজ্জা কোরো না। আমি সবাইকে বাড়িতে এলেই এসব খাওয়াই না। তোমার মাস্টার তো ওপরে ওঠার সাহস পায় না। খাও।’ বড়বাবু চলে গেলেন।

চিনে খাবার হজম হয়ে গিয়েছিল তখন। খিদে পাচ্ছিল তার। তাই সঙ্কোচ না করে হাত বাড়াল। বিশাল বারান্দায় একা বসে-বসে লুচিগুলো বেগুনভাজা আর আলুভাজার সঙ্গে পেটে চালান করছিল নবকুমার নি:শব্দে। হঠাৎ পেছন থেকে মেয়েটির গলা কানে এল, ‘চা খাবেন কি?’

দ্রুত মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘না।’ খাবার মুখে থাকায় কথা স্পষ্ট হল না।

‘জল খান। নইলে গলায় আটকে যাবে।’ বলে মেয়েটি পরির মতো পাশের ঘরে ঢুকে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *