বাইশ
শেফালি-মায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে চিৎপুরের দিকে আসার পথটা নবকুমার যেন হাওয়ায় উড়ছিল। এখন সবে সকাল পেরিয়েছে। এইসময় গলিতে বয়স্কা মেয়েদের দেখা যায় না। অল্পবয়সি কিশোরীরা মুখে রং মেখে যুবতী-যুবতী ভান করে দরজায়-দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। সোনাগাছির বাসিন্দাদের এখন সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময়। অবশ্য সেটা সামলায় কাজের মাসিরা। যাদের সংসার তারা দুপুর অবধি ঘুমায়। ফলে রাস্তা থাকে অনেকটাই ফাঁকা।
নবকুমারের আজ হঠাৎই সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হল। গ্রামে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাঝেমধ্যে টান যে সে দেয়নি, তা নয়। কিন্তু গোটা সিগারেট সে কখনও কেনেনি। ইতিমধ্যে উত্তেজনার কারণে, সে যে উলটোপথ ধরেছে তা খেয়াল করেনি। সিগারেটের দোকানটা দেখে সেটা টের পেল। চেনা পথে ফিরে যাওয়ার আগে সে দোকানে গিয়ে বলল, ‘একটা চারমিনার দিন তো।’ এই সিগারেট তার বন্ধুরা খায়।
দোকানদার সিগারেট দিয়ে পয়সা নিয়ে বলল, ‘দড়িতে আগুন।’
নারকোলের দড়ির মুখে আগুন, পাশের একটা পেরেক থেকে ঝুলছে। সেটা থেকে সিগারেট ধরিয়ে নিল নবকুমার। একটু কাশি হল প্রথম টান দিতেই। তারপর চারপাশে তাকাল। গ্রামে সিগারেট খেতে হত নির্জনে গিয়ে, এখানে তার দরকার নেই। কিন্তু সোনাগাছির প্রায় ভেতরে হলেও এই জায়গাটা আলাদা। পাউডার মাখা মেয়েগুলো এখানে দাঁড়িয়ে তো নেই-ই, তাদের দেখাও পাওয়া যাচ্ছে না। সিগারেটওয়ালা তাকে লক্ষ করছিল। নবকুমার শুনেছিল সিগারেট খেতে-খেতে হাঁটা উচিত নয়, তাহলে বুকের অসুখ হয়। তাই সে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আরাম করে সিগারেট খাচ্ছিল। কিন্তু সেইসঙ্গে মনে হল তার যা অবস্থা, তাতে মাসে একটার বেশি সিগারেট খাওয়া অন্যায় হবে। নেশার কাছে দাসত্ব কিছুতেই করবে না।
‘আপনি কারও বাড়িতে যাবেন?’ দোকানদার জিজ্ঞাসা করল।
‘অ্যাঁ? না-না।’
‘ও। পাড়া দেখতে এসেছেন? তাহলে ওদিকে যান। এদিকটা ভদ্রলোকদের পাড়া। সব গৃহস্থের বাড়ি। এদিকে ওদের দেখতে পাবেন না।’ লোকটি হাসল।
এইসময় একটা প্রাইভেট গাড়ি সামনে এসে দাঁড়াল। ড্রাইভার নবকুমারকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা ভাই, রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িটা কোথায়? কীভাবে যাব?’
সে কিছু বলার আগেই দোকানদার বিশদে বুঝিয়ে বলল লোকটাকে। থ্যাঙ্কস বলে গাড়িটা গলির মধ্যে ঢুকে গেল। দোকানদার নবকুমারকে জিজ্ঞাসা করল, ‘রামকুমারের নাম শোনেননি? আমাদের পাড়ার গর্ব। বললাম না, এটা ভদ্রলোকদের পাড়া।’
ফিরে গেল নবকুমার। তার কেবলই মনে হচ্ছিল রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের নাম সে শুনেছে। কোথায় শুনেছে? চিৎপুরের গদির সামনে পৌঁছে সে দাঁড়িয়ে গেল। গঞ্জের কলেজের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে দুজন বিখ্যাত শিল্পী গিয়েছিলেন। পুরোনো দিনের বাংলা গান গেয়ে মাতিয়ে দিয়েছেন যে ভদ্রলোক তাঁর চেহারা ছোটখাটো কিন্তু খুব ফরসা, হাসি-হাসি মুখ। সেই মানুষটার নাম ছিল রামকুমার চট্টোপাধ্যায়। কী কপাল! সে যে পাড়ায় আশ্রয় নিয়েছে তার কাছাকাছি অত বড় শিল্পী থাকেন। যদি তাঁকে প্রণাম করতে সে যায় তাহলে তিনি কি ঢুকতে দেবেন না? মাস্টারদাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে।
এখনও গদিতে শিল্পীদের আসার সময় হয়নি। হলঘরের এককোণে মাস্টারদা স্নান সেরে এসে চুল আঁচড়াচ্ছিল। আড়চোখে তাকে দেখে বলল, ‘বেশ আছ।’
‘মানে?’
‘একটা আস্ত ঘর পেয়েছ, ভালোমন্দ পেঁদাচ্ছ অথচ যে কাজটা করতে বললাম সেই কাজটা—, আরে এতে তো তোমারও লাভ হবে।’
নবকুমার হাসল। কিন্তু তার একটু মজা করতে ইচ্ছে হল, ‘কাল একটা কাণ্ড হয়েছে।’
‘বলে ফেলো।’ চুল আঁচড়ানো শেষ করল মাস্টারদা।
‘তোমাকে তো পুলিশ টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তুলল।’
‘তোমাকে একথা কে বলল?’ থামিয়ে দিল মাস্টারদা।
‘আমি তো জানলা দিয়ে দেখতে পেলাম।’ নবকুমার হাসল।
‘বাবা নবকুমার। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, হয় তোমার চোখে ন্যাবা হয়েছে নয়তো কলকাতা কর্পোরেশনের জল পেটে পড়ায় গুল মারতে শুরু করে দিয়েছ। হুঁ:! কলকাতার পুলিশ আমাকে টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তুলবে। আমি কি মরে গেছি?’
‘কিন্তু—!’
‘কোনও কিন্তু নেই। দয়া করে এই গপ্পোটা হেদিয়ে বেড়িও না। অবশ্য করলে আমার ক্ষতি হবে না, উলটে লোকে তোমাকে মিথ্যেবাদী মনে করবে। সবে তো এখানে পা দিলে। এর মধ্যেই পাবলিকের কাছে মিথ্যেবাদী হয়ে যাবে?’
‘তাহলে আমি কি ভুল দেখলাম?’ অবাক হল নবকুমার।
হাসল মাস্টারদা, ‘ঘটনাটা ঠিক কী হয়েছিল শোন। শেফালি-মায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কয়েক পা যেতেই শুনলাম হাত কাটা ন্যাপা বোমচার্জ করছে। ন্যাপা আমাকে খুব খাতির করে। যাত্রা দেখার পাশ দিই তো। আমি তাই এগোচ্ছিলাম, কিন্তু একজন পুলিশ বলল, ‘দাদা, দয়া করে যাবেন না।’ বললাম, ‘এদিকে দিয়ে না গেলে আমাকে অনেকটা পথ বেশি হাঁটতে হবে।’ তখন আর একজন অফিসার এগিয়ে এসে বলল, ‘আপনি আমাদের ভ্যানে উঠে পড়ুন মাস্টারদা। আপনি যেখানে নামতে চান নামিয়ে দেব। উঠতে হল। আমি তখনই বুঝেছিলাম, ওই যে ভ্যানে উঠেছি এই নিয়ে ঠিক কেলো হবে। কলকাতার মানুষ দুটো গাড়িতে উঠতে ভয় পায়। এক হল ওই পুলিশের ভ্যান আর দুই হল মড়া নিয়ে যাওয়ার গাড়ি।…হ্যাঁ, কী যেন বলছিলে? কী কাণ্ড হয়েছে?’
‘আমরা যে শুনলাম, তুমি যাত্রার বিবেকের গান শুনিয়ে ভ্যান থেকে ছাড়া পেয়েছ?’
‘কে বলল, কে বলেছে এমন কথা?’ চটে গেল মাস্টারদা।
‘ওই ভ্যানে পুলিশ অন্য যাদের তুলেছিল তারা।’
‘বলবেই তো! হিংসে। এই কলকাতার লোকগুলোর বুকের অর্ধেকটা জুড়ে শুধু হিংসে। অফিসার বলল, মাস্টারদা, অনেকদিন আপনার গান শুনিনি, প্লিজ, শোনাবেন? তাই দু-চার লাইন শুনিয়ে দিলাম। শোন নবকুমার লোকে এখানে টুপি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। দয়া করে মাথা নীচু করবি না! সঙ্গে-সঙ্গে টুপি পরিয়ে দেবে।’
মাস্টারদা এগিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসল। ওটা পরিচালক সুধাকান্তবাবুর চেয়ার। হাসি পেল নবকুমারের। মাস্টারদা যখন দূরত্ব বাড়ায় তখন তাকে তুমি বলে, কাছাকাছি হতে চাইলেই তুই।
নবকুমার বলল, ‘তোমাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে শুনে শেফালি-মা আমাকে আর কবিতাদিকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন।’
‘অ্যাঁ?’ চোখ বড় হয়ে গেল মাস্টারদার। তারপর হাত বাড়িয়ে নবকুমারের হাত চেপে ধরে বলল, ‘একথা যেন এখানকার কেউ না জানতে পারে, তাহলে আমি মুখ দেখাতে পারব না।
নবকুমার মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
মাস্টারদা উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘তারপর?’
‘সেখানে একটা পুলিশের সঙ্গে খুব ঝগড়া হল শেফালি-মায়ের। লোকটা খারাপ-খারাপ কথা বলছিল। শেফালি-মাও চুপ করে থাকেনি। কিন্তু বড়বাবু লোকটিকে বকাবকি করে ক্ষমা চাইয়েছেন। তারপর থেকে শেফালি-মা খুব গম্ভীর হয়ে গেছেন।’
‘হুঁ! তা ওই কবিতাদিটি কে?’
‘মহিলা দুর্বার সমিতির একজন নেত্রী।’
‘না:। তোমাকে ওখান থেকে না সরিয়ে আনলে ভোগে চলে যাবে। যা করতে বলেছিলাম তা না করে সোনাগাছির মেয়েদের ইউনিয়নের মেয়েদের সঙ্গে মাখামাখি করছ? তুমি কি এইজন্যে কলকাতায় এসেছ? ও: হো!’ মাস্টারদা পকেট থেকে একটা পোস্টকার্ড বের করে এগিয়ে ধরল, ‘দয়া করে পড়ো।’
পোস্টকার্ড সামনে ধরল নবকুমার।
‘স্নেহের নবকুমার, শেষপর্যন্ত তোমার পত্র পাওয়ার পর দুশ্চিন্তার কিছুটা অবসান হইল। তোমার মা তো অন্নজল প্রায় ত্যাগ করিতে ইচ্ছুক ছিলেন। যাহা হোক, তুমি কলিকাতায় গিয়াই একটি চাকরি পাইয়াছ শুনিয়া তিনি আনন্দিত। তুমি ছাড়া আমাদের আর কেহ নাই। তোমার উপর ভরসা করিয়া বাঁচিয়া আছি। সামনের মাসে মাহিনা পাইলে মানি অর্ডার করিও। শরীরের যত্ন করিও। ইতি আশীর্বাদক তোমার বাবা।’
মাস্টারদা বলল, ‘কী প্যাথেটিক ডায়ালগ। পড়লেই চোখে জল আসে। আর তুই নিজের উন্নতির কথা ভাবছিস না। ভেরি ব্যাড।’
পোস্টকার্ড পকেটে ঢুকিয়ে নবকুমার বলল, ‘আমি শেফালি-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি।’
‘কবে?’
‘আজ।’ নবকুমার বলল, ‘উনি বলেছেন আমার যদি উপকার হয় তাহলে উনি আবার অভিনয় করার কথা ভাবতে পারেন।’
‘অ্যাঁ।’ হাঁ হয়ে গেল মাস্টারদা, ‘ত-তুই এতক্ষণ বলিসনি কেন?’ চিৎকার করে উঠে কয়েক পা এগিয়েই থেমে গেল মাস্টারদা, ‘নবকুমার, ঢপ মারছিস না তো ভাই?’
‘তার মানে?’
‘তোর মাথা!’ মাস্টারদা ছুটে বেরিয়ে গেল।
অভিনেতা অনিলবাবু গদিতে ঢুকছিলেন। মাস্টারদার ছোটা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেসটা কী ভাই? ওরকম উচ্চিংড়ের মতো লাফিয়ে কোথায় গেল বিবেকবাবু?’
নবকুমার বুঝতে পারল না, ঘটনাটা অনিলবাবুকে বলাটা ঠিক হবে কি না। সে হেসে মাথা নাড়ল। অনিলবাবু বললেন, ‘বুঝতে পেরেছি, টয়লেটে দৌড়াল। হুঁ:।’
.
বিপুল বিস্ময়ে যাত্রা দলের মালিক মাস্টারদার দিকে তাকিয়ে থাকলেন কয়েক সেকেন্ড। মাস্টারদা তখন টেবিলের এপাশে দাঁড়িয়ে আকর্ণ হাসছে।
‘উনি তোমাকে নিজের মুখে কথাগুলো বলেছেন?’
মাথা নাড়ল মাস্টারদা, ‘ইনডাইরেক্ট হয়েছে। মানে ভায়া মিডিয়া।’
‘ফাজলামি মারছ?’
‘না বড়বাবু! একেবারে সত্যি কথা।’
‘যদি মিথ্যে হয় তাহলে আজই দল থেকে তাড়িয়ে দেব।’
‘তাহলে বড়বাবু, নবকুমারকেও তাড়াবেন। সত্যি মিথ্যের দায় ওর।’
‘কোথায় সে? এসেছে?’
‘আজ্ঞে হ্যাঁ। সুখবরটা নিয়েই এসেছে।’
‘ডাকো তাকে। এখনই।’ তারপরেই মাথা নাড়লেন, ‘না। তুমি দাঁড়াও।’ বেল বাজালেন বড়বাবু। কাজের লোক ঢুকলে তাকে আদেশ দিলেন, ‘নতুন প্রম্পটারবাবুকে এখনই এখানে আসতে বল। আর আমি না বলা পর্যন্ত কাউকে ঘরে ঢুকতে দিবি না।’
লোকটি চলে গেলে বড়বাবু বললেন, ‘আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। নো। এটা তো প্রায় ইম্পসিবল হয়ে গিয়েছিল। যদি তোমার কথা মিথ্যে হয় তাহলে—’
‘আমার কোনও দোষ নেই বড়বাবু। ও যা বলেছে তাই নিবেদন করেছি।’
‘তাহলে ঘরে ঢুকে মাতব্বরি করে বললে এমন ভঙ্গিতে, যেন তুমিই রাজি করিয়েছ।
‘অন্যায় করেছি। ডায়ালগ থ্রোয়িং-এ ভুল করেছি।’ হাতজোড় করল মাস্টারদা।
দরজা টেনে নবকুমার মুখ বাড়াল, ‘আসব?’
বড়বাবু নি:শব্দে মাথা নেড়ে আসতে বললেন। নবকুমার ঘরে ঢুকে দেখল, মাস্টারদা হাতজোড় করে দাঁড়িয়েছিল। সে ঘরে ঢোকায় হাত নামিয়ে নিল।
‘তুমি কি ওকে কিছু বলেছ?’ বড়বাবু গম্ভীর গলায় জিজ্ঞাসা করলেন।
মাথা নাড়ল নবকুমার। তার হঠাৎ ভয়-ভয় করতে লাগল। বড়বাবু যদি জিজ্ঞাসা করেন, কখন থেকে শেফালি-মা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন তাহলে মাস্টারদার ভ্যানে ওঠার কথাও বলতে হবে। অথচ সেটা বলতে নিষেধ করেছে মাস্টারদা।
‘কী ভাবছ?’
‘না, কিছু না।’
‘শেফালি-মায়ের সঙ্গে আজ তোমার কথা হয়েছিল?’
‘হ্যাঁ।’
‘ঠিক কী কথা বলেছিলেন উনি?’
‘আমার যদি উপকার হয় তাহলে যাত্রায় আবার অভিনয় করার কথা উনি ভাবতে পারেন।’ নবকুমার সবিনয়ে জানাল।
‘তোমার কীসে উপকার হবে?’
‘উনি অভিনয় করলে আমাদের মাইনে বাড়বে।’
‘অ। তা কথা নেই বার্তা নেই, হঠাৎ একথা বললেন কেন?’
‘কাল রাত থেকে বোধহয় কিছু ভাবছিলেন, গম্ভীর হয়ে ছিলেন।’
সঙ্গে-সঙ্গে মাস্টারদা বলে উঠল, ‘আসলে শেফালি-মা নবকুমারকে খুব স্নেহ করেন। কাল রাত্রে ওর মুখে প্রস্তাবটা শোনার পর গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আর ফেলতে পারেননি বলে আজ সম্মতি দিয়েছেন।’
বড়বাবু মাথা নাড়লেন। মাস্টারদা যে তাকে কাল রাত্রের থানায় যাওয়ার ঘটনাটা বলতে দিতে চাইছে না তা বুঝতে পারল নবকুমার।
‘তুমি কি আমার কথা ওঁকে বলেছ?’ বড়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন।
‘না।’ নবকুমার মাথা নাড়ল।
‘আমার নাম শুনলে আবার বেঁকে না বসে। আচ্ছা, ঠিক করে বলো তো ভদ্রমহিলার চেহারাপত্তর এখন কেমন আছে?’
‘ভালো।’
‘আচ্ছা! ভালো মানেটা কী? বয়স তো হয়েছে। শরীর কি খুব ভেঙে গেছে? কুঁজো হয়ে গেছেন? চামড়া কি ঝুলে গিয়েছে?’
দ্রুত মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘না, না। একদম না।’
‘অ। তাহলে ওকে কোন বয়েসি মনে হয়? ঠাকুমা দিদিমা, না মা?’
নবকুমার একটু ভাবল। তার মনে শেফালি-মায়ের গতরাতের চেহারা ভেসে উঠল। বলল, ‘মাও ঠিক নয়। বড়দির মতো।’
‘অ্যাঁ? তাই? এখনও নিজেকে এত ফিট রেখেছেন ভদ্রমহিলা? গুড। শোনো, তুমি ওঁকে গিয়ে আমার কথা বলবে। যদি দ্যাখো কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না, তাহলে একটা অ্যাপয়ন্টমেন্ট ফিক্স করবে।’ বড়বাবু বলেই বাংলায় বোঝালেন, ‘ওঁর সঙ্গে দেখা করার সময় ঠিক করবে। গদিতে না আসুন, অন্য যে-কোনও জায়গায়। আর হ্যাঁ, কথাগুলো এই ঘরের বাইরে না যায়। কেউ যেন না জানে, বলে দিলাম। মাস্টার, তুমি বাইরে যাও।’ মাস্টারদা বেরিয়ে গেলে ড্রয়ার থেকে দুটো একশো টাকার নোট বের করে টেবিলে রাখলেন বড়বাবু, ‘এই অবধি যা করেছ তার জন্যে মিষ্টি খেতে দিলাম। বাকিটা হয়ে গেলে আরও পাবে। তুলে নাও। রিহার্সালের সময় হয়ে গেছে।’
