প্রথম পর্ব – রক্তাক্ত এ শহরে

প্রথম পর্ব – রক্তাক্ত এ শহরে

ঘাম আর ধুলো মেশানো গন্ধে বুঁদ হয়ে রয়েছে শ্যামবাজার মোড়টা। সূর্য ঠিক মাথার উপরে। ঘড়িতে দুপুর দেড়টা হবে হয়তো। সামনেই পুজো। অথচ তাপমাত্রা গ্রীষ্মকেও হার মানায়। কাঠফাটা রোদে পিচগলা রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চটির সোল ভেদ করে পায়ের পাতায় জ্বালা ধরছে। আবহাওয়ার এই নিষ্ঠুরতায় রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় কমে গেছে। যারা আছে, তারাও দ্রুত পা ফেলে নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে।

আরভের ছোট্ট হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছি আমি। তার নরম তুলতুলে হাতের স্পর্শ পেলেই আমার মনে কেমন যেন ভয় জন্মায়। মনে হয়, এই পৃথিবীর সমস্ত অশুচি ছোঁয়া থেকে তাকে যে করে হোক আগলে রাখি। মাতৃত্বের এক অদৃশ্য বর্ম দিয়ে তাকে ঢেকে রাখতে ইচ্ছে হয়। সে এখনও এই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে অবহিত নয়। তার কাছে জীবন এখনও রঙিন কার্টুনের মতো, যেখানে ভালোবাসা আর হাসি ছাড়া আর কিছুই নেই।

আমিও আমার এই দেশ, এই শহরকে ভালোবাসি। তবু আসমুদ্র অভিযোগ রয়ে যায় অবলীলায়। রোজ শহরের অলিগলি ধুয়ে দেয় রক্তের স্রোত। রাত্রি নামলে একলা কিশোরী বারবার পেছনে তাকায়, সভয়ে। উলঙ্গ পথশিশু পড়ে থাকে ড্রেনের ধারে। এই কর্দমাক্ত শহরের আসল রূপ বোধহয় আমার থেকে বেশি ভালো করে খুব কম মানুষই চেনে।

‘মাম্মা, তাড়াতাড়ি চলো না! আইসক্রিমের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে তো!’ আরভের গলায় উৎকণ্ঠা।

আমি হেসে ফেলি, ‘হ্যাঁ রে বাবা। আগে একটা আন্টির সঙ্গে দেখা করে নিই। তারপর না হয় আইসক্রিম হবে। তোমার প্রিয় চকো-ভ্যানিলা। তাই তো?’

‘না না। বাবা বলেছে ম্যাঙ্গো। আলফানসো।’

‘আচ্ছা, বাবা আর আমার মধ্যে তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো?’

‘আইসক্রিমকে।’ সটান জবাব দেয় আরভ।

শ্যামবাজার মোড়ের চেনা দৃশ্য। গোলবাড়ির সামনে ভোজনরসিক মানুষের ভিড়। ফুলের দোকানে সাদা রজনীগন্ধার সুবাস বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। হাতে ধূপের প্যাকেটভর্তি ব্যাগ নিয়ে গাড়ির সারি তাড়া করছে অভাবী কিশোর। ব্যস্ত শহরে সময় তার আপন নিয়মে বহমান।

‘কই মাম্মা? আন্টি তো আসছে না!’

‘তাই তো বাবু। এখানেই তো দাঁড়াতে বলেছিল। এখনও এল না কেন? যাক গে, চলো আমরা ফিরি। আমি পরে ফোনে কথা বলে নেব আন্টির সঙ্গে।’

হঠাৎই একটা অদ্ভুত গুঞ্জন কানে এল। অনেকগুলো গলার তীব্র আওয়াজ, একসঙ্গে। সে কণ্ঠস্বরে মিশে আছে অস্বাভাবিক উত্তেজনা, রাগ আর হিংসা।

দেখলাম, হাতিবাগানের দিক থেকে একটা মিছিল এগিয়ে আসছে। দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছে ছোটখাটো মিছিল। মেরেকেটে তিরিশ কি পঁয়ত্রিশজন মানুষ হবে। হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা উর্দু, হিন্দিতে কিছু স্লোগান। আমি উর্দু না জানলেও হিন্দি পড়তে পারি। দেখলাম পোস্টারগুলোয় লেখা আছে বিভিন্ন দেশবিরোধী স্লোগান। ‘আজাদ কাশ্মীর’, ‘বিচ্ছিন্নতাই মুক্তি’, ‘ভারত হটাও’, ‘কাশ্মীর বাঁচাও’… মিছিলের জনতার গলার স্বর ক্রমশ চড়া হচ্ছে। তাদের চোখে-মুখে একরাশ ক্রোধ। আকাশের দিকে তুলে ধরা মুষ্টিবদ্ধ হাত। ধর্মীয় পোশাক পরিহিত কয়েকজনের সঙ্গে বেশ কিছু তরুণ-তরুণীও আছে।

আমি থমকে দাঁড়াই। কিছু বছর আগেও, কলকাতায় এসব দেখিনি। এই শহর মানুষের কাছে এক নিরাপদ আশ্রয় ছিল। এত রোদ্দুর, ধুলো, যানজট, দূষণ… তবুও, কলকাতা কখনওই ভয় পাইয়ে দেয়নি তার বাসিন্দাদের। বরং এই শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মানুষের সহনশীলতা, বুদ্ধিজীবী মহলের উদারতা, সবকিছু মিলিয়ে একটা নিরাপত্তার বোধ ছিল। কিন্তু আজ, এই শহরকে যেন সম্পূর্ণ অচেনা মনে হচ্ছে।

আরভ অবশ্য এসব কিছুই বুঝতে পারছে না। সে শুধু কৌতূহলী চোখে মিছিলটার দিকে তাকিয়ে আছে। তার নিষ্পাপ চোখে এখনও অবিশ্বাস। প্রকাশ্য রাস্তায় একদল মানুষ যে এইভাবে অসম্ভব জিঘাংসার সঙ্গে স্লোগান তুলতে পারে, এ তার ছোট্ট মস্তিষ্কের বোঝার আওতার বাইরে।

‘মাম্মা, ওরা কী বলছে? ওরা ওরকম ব্যাড বিহেভ করছে কেন? ওরা কি ব্যাড বয়েজ?’ প্রশ্ন করে আরভ। তার গলায় সরল কৌতূহল।

আমি কণ্ঠে জড়তা নিয়ে মাথা নাড়ি, ‘ও কিছু না সোনা। ওরা একটু বড়দের বিষয়ে কথা বলছে। তোমার শুনে কাজ নেই।’ মুখে বলি বটে, কিন্তু মনে মনে ভাবি, কী করে বোঝাব একটা শিশুকে যে, এই পৃথিবীতে মানুষে মানুষে কেন এত বিভাজন? কী করে বলব, যে রাজনীতি আর ধর্মের নামে মানুষ ঠিক কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?

মিছিলটা আরও কাছে এসে গেছে। এবার আরও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি তাদের স্লোগান। ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ!’, ‘কাশ্মীর বনেগা পাকিস্তান!’, ‘ভারতীয় কুত্তা কাশ্মীর সে ভাগো!’ শেষ স্লোগানটা শুনে আমার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। ছি! এই মিছিল, এই স্লোগান তো শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়। এতে আছে নিজের দেশবাসীর প্রতি বিদ্বেষের বিষ। এদের বুকের মধ্যে জ্বলছে ঘৃণার আগুন।

হঠাৎ একটা তীব্র শব্দে আমার মাথার মধ্যে সবকিছু কেমন যেন গোলমাল হয়ে যায়। মনে হয়, মাথার ভিতরের প্রত্যেকটা শিরা উপশিরা ফেটে যাচ্ছে। চোখ জলে ভরে উঠছে। টিয়ার গ্যাস! পরক্ষণেই সেই মিছিল থেকে ভেসে আসে অস্পষ্ট চিৎকার, ‘পুলিশ সে কোই ডর নেহি!’, ‘কোই নেহি ভাগেগা!’, ‘সামনে বাড়ো!’

সেই স্লোগান অগ্রাহ্য করেই ভিড় ছত্রভঙ্গ করে মানুষজন ছুটতে থাকে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে। কেউ দোকানের ভিতরে ঢুকে পড়ছে, কেউ গলিতে লুকোচ্ছে। আর তার মধ্যেই ভেসে আসছে কিছু অস্পষ্ট, দ্বেষে ভরা স্লোগান। আশেপাশের লোকেরা ছুটছে, দোকানের শাটার নামানো হচ্ছে সশব্দে। ঠং-ঠং শব্দে লোহার শাটার পড়ছে।

একজন হকার আমার পাশ থেকে ছুটে যাওয়ার সময় আমায় দেখে চেঁচিয়ে উঠল, ‘গোলি চল রাহা হ্যায়! ভাগিয়ে মাইজি!’ তার চোখে-মুখে আতঙ্ক।

চকিতে আমার সম্বিৎ ফিরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমার ভিতর যেন অন্য একটা মানুষ জেগে ওঠে। আমি আরভকে কোলে তুলে নিই। সে ভয় পেয়েছে। আমার কাঁধে মুখ গুঁজে কাঁপছে। তার ছোট্ট শরীর কুঁকড়ে আছে ভয়ে। আমি অনুভব করি তার হৃৎস্পন্দন। দ্রুত, অনিয়মিত।

আমায় এখনই একটা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হবে। তীক্ষ্ণ চোখে আমি চারিদিক দেখতে থাকি। আমাকে পাশ কাটিয়ে চারটে পুলিশ ভ্যান ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। সাইরেনের তীব্র শব্দে কান ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা। আধা-সামরিক বাহিনীও নেমে পড়েছে রাস্তায়। তাদের হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। গোটা শরীর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে মোড়া।

‘ড্রপ ইউর ওয়েপন!’ পুলিশের চিৎকার ভেসে আসে মাইকে।

ভিড়ের দিক থেকে ভেসে আসা স্লোগান আর গুলির আওয়াজ কিন্তু থামে না। বরং আরও তীব্র হয়। ‘ব্রুটাল ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্ট! শেম! শেম!’

হঠাৎ, নিজের খুব কাছে সেই শব্দটা শুনলাম। হ্যাঁ! এটা গুলিরই শব্দ। প্রথমে সেই শব্দ, তার পরেই একটা তীব্র পোড়া গন্ধ। বারুদের গন্ধ। আমার পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে একটা লোক। বয়স মেরেকেটে পঁচিশ-তিরিশ। হাতে উদ্যত আগ্নেয়াস্ত্র। কাঁধ থেকে টপটপ করে রক্ত ঝরছে। তার চোখে-মুখে পাশবিক হিংস্রতা। আরেকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ল সামনের পানের দোকানের পাশে। নিরীহ বয়স্ক মানুষ। তার পায়ে গুলি লেগেছে। রক্তে ভিজে যাচ্ছে তার সাদা কুর্তা। সশস্ত্র লোকটা এগিয়ে এসে বয়স্ক মানুষটাকে আবার গুলি করতে যায়, কিন্তু ব্যর্থ হয়। কারণ ততক্ষণে আমি রাস্তা থেকে একটা পাথর তুলে অব্যর্থ লক্ষ্যে আঘাত করেছি অস্ত্রধারীর মাথায়। হাতের অস্ত্র ফেলে লোকটা ততক্ষণে রাস্তায় বসে পড়েছে।

‘বাবু। তুমি চোখ বুজে থাকো। যতক্ষণ মাম্মা আছে, কেউ তোমার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।’

বুঝতে পারছি, দু’পক্ষ থেকেই গুলির লড়াই চলছে। ইতিমধ্যে দূরে একটা তীব্র বিস্ফোরণের আওয়াজ পেলাম। উফ! চারদিকে এত অরাজকতা! মানুষ ছুটছে। চিৎকার করছে। লুকানোর জায়গা খুঁজছে।

আমি আমার ওড়না দিয়ে আরভকে আমার শরীরের সঙ্গে বেঁধে নিলাম। এবার আর একটা শব্দ। সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশটা হঠাৎই ঘন ধোঁয়ায় ভরে গেল। সাদা ধোঁয়া। চোখ জ্বালা করছে আমার। নাক, গলাও জ্বলছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আরভও চিৎকার করে কাঁদছে। আমায় জড়িয়ে ধরে রেখেছে প্রাণপণে। চিৎকার, হাহাকার, কাচ ভাঙার শব্দ, গুলির শব্দ, বোমা ফাটার শব্দ—সবকিছু মিলেমিশে এক অদ্ভুত অর্কেস্ট্রা বেজে চলেছে আমাদের ঘিরে। এ যেন এক বিষাক্ত মৃত্যুর সিম্ফনি।

আমি একটা বন্ধ দোকানের সামনের সিঁড়িতে বসে পড়লাম। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে আমায় ছুটে যেতে হবে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় পেরিয়ে খান্নার দিকে। আরভ সঙ্গে না থাকলে এই পরিস্থিতিতে আমি অনায়াসেই আমার স্নায়ু স্থির রাখতে পারতাম। কিন্তু এখন আমার সারা শরীর অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপছে। চোখের সামনে ছুটছে রক্তাক্ত মানুষ। চিৎকার করছে তারা। রাস্তা ভেসে যাচ্ছে তাজা রক্তে। সেই রক্তের নোনতা আঁশটে গন্ধ এসে ধাক্কা মারছে আমার নাকে। তবে এসব ছাপিয়ে তখন একটাই চিন্তা আমার মস্তিষ্ককে তোলপাড় করে তুলছে। আরভকে আমাকে বাঁচাতেই হবে, যে কোনও মূল্যে।

আমার সামনে পড়ে আছে একটা প্রাণহীন দেহ। মাঝবয়সি পুরুষ। সাধারণ পোশাক। হয়তো কোনও দোকানদার, হয়তো কোনও চাকরিজীবী, হয়তো কারও বাবা বা কারও স্বামী। তার মাথাটা রাইফেলের গুলির আঘাতে পাকা বেলের মতো ফেটে ছড়িয়ে আছে রাস্তায়। হলুদাভ ঘিলু লাল থকথকে রক্তের সঙ্গে মিশে আলপনার মতো নকশা এঁকেছে। চ্যাটচ্যাটে রক্তের ফোঁটা ছিটকে এসে লেগেছে আমার সারা শরীরে। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া ঘিলুমিশ্রিত রক্তের ঠান্ডা ছোঁয়া অনুভব করতে পারছি আমি। পূতিগন্ধে গা গুলিয়ে বমি পাচ্ছে।

‘মাম্মা, ওই আঙ্কেল শুয়ে আছে কেন?’

আমি কী উত্তর দেব? কী করে বলব যে ওই মানুষটা আর কোনওদিন নিজের প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাবে না! কী করে বলব যে, এই পৃথিবীতে মানুষ হিংসার জন্য মানুষকে এইভাবে অবলীলায় রক্তে রাঙিয়ে শেষ করে দেয় চিরদিনের মতো?

‘উনি একটু ক্লান্ত তো। তাই বিশ্রাম নিচ্ছেন। তুমি ওদিকে তাকিও না।’ আমি উত্তর দিতে দিতেই বুকের মধ্যে একটা বিকট ঝাঁকুনি অনুভব করলাম। মনে হল, কেউ বুঝি ছুটে এসে আমায় ধাক্কা মারল সজোরে। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে আমি বুঝলাম না কী হল। শুধু বুঝতে পারলাম একটা গরম ধাতব স্পর্শ যেন পাঁজরের নীচে থেকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে আমার গোটা শরীর। যন্ত্রণা… তীব্র যন্ত্রণা! যেন কেউ লাল গরম লোহা দিয়ে ছেঁকা দিয়েছে আমায়।

অজান্তেই আমার হাত চলে গেল সেখানে। তাকিয়ে দেখলাম, আমার হাত লাল হয়ে উঠছে। লাল হয়ে উঠছে আমার সাদা চুড়িদারের বাঁ-দিকটা। গরম তরল পদার্থ নামছে চুঁইয়ে চুঁইয়ে। রক্ত!

‘মাম্মা! মাম্মা! কী হল তোমার?’ আমি বুঝতে পারছি আরভ কাঁদছে। তার গলায় আতঙ্কের সুর। সে তার মায়ের পোশাকে রক্ত দেখে ভয় পেয়েছে। আমি চেষ্টা করি কথা বলতে। তাকে অভয় দিতে। কিন্তু গলার কাছে যেন কিছু একটা দলা পাকিয়ে আছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ফুসফুসে বাতাস ঢুকছে না ঠিকমতো।

ওড়নার বাঁধন খুলে দিলাম কোনওমতে। তারপর আরভের ছোট্ট শরীরটায় তাড়াতাড়ি একবার হাত বুলিয়ে নিলাম। তার মাথায়, গালে, হাতে। নাহ! আমার ছেলে এখনও অক্ষত আছে।

তবে আমার চোখের দৃষ্টি ক্রমশ কেমন যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। অস্পষ্ট দেখাচ্ছে সবকিছু। রং ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি, আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। আমার শরীর থেকে জীবনীশক্তি বেরিয়ে যাচ্ছে ওই বয়ে যাওয়া ফোঁটা ফোঁটা রক্তের সঙ্গে।

আরভের হাতটা আমার বুকের ওপরে। ছোট্ট হাত। উষ্ণ। সেটা কাঁপছে উত্তেজনায়। রক্তে মাখামখি ছোট্ট দুটো হাত দিয়ে আমায় ঠেলা দিচ্ছে সে, ‘মাম্মা ওঠো! মাম্মা আমার সঙ্গে কথা বলো!’

হায় রে! এই পরিস্থিতিতে ওকে একা ফেলে আমি যাব কী করে? ও কি বুঝবে, কেন মা হঠাৎ কথা বলছে না? ভয় পাবে? হারিয়ে যাবে এই উত্তাল জন অরণ্যে? ও নির্ঘাত একা রাস্তা চিনে বাড়ি ফিরতে পারবে না। তখন কে দেখবে ওর খাওয়া-দাওয়া? কে শোনাবে ওকে রূপকথার গল্প? কে ওর মাথায় আদর করে হাত বুলাবে?

পেছনে গুলির আওয়াজ থেমেছে কি? নাহ, এখনও চলছে। মৃত্যুর এই উৎসব এখনও শেষ হয়নি। আমার শরীরটা ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে আসছে। অবশ হয়ে যাচ্ছে হাত-পা। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আরভ আমার মুখের ওপর ঝুঁকে পড়েছে, ‘মাম্মা, ওঠো! মাম্মা, চলো না। মাম্মা, কথা বলো!’ তার চোখে জল।

আমি ঘোলাটে চোখ মেলে তাকালাম। শেষবারের মতো দেখতে চাইলাম আমার সন্তানের মুখ। তার নিষ্পাপ চোখদুটো। মুখে এক টুকরো হাসি আনার চেষ্টা করছি প্রাণপণে। সন্তানের সামনে কাঁদতে নেই। মায়েরা কাঁদে না সন্তানের সামনে। বলতে চেষ্টা করলাম, ‘ভয় পেও না, মাম্মা তোমায় একা ফেলে কোথাও যাবে না।’

কিন্তু আমি জানি, আমি পারব না। এসবই মিথ্যা আশ্বাস।

অবশেষে আমার মুখটা একপাশে হেলে পড়ে গেল।

ঘষা কাচের এপার থেকে শেষ দৃশ্যটুকু দেখতে পেলাম। পুলিশ কতগুলো মুখঢাকা ছেলেমেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাঁদতে থাকা একজন যুবক একটা নিথর দেহকে কোলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমার প্রিয় শহরের ফুটপাত জুড়ে বয়ে যাচ্ছে তাজা রক্তের স্রোত।

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়ের দিনগুলো ঠিক একটা স্রোতহীন নদীর মতো। নিস্তরঙ্গ, সুনির্দিষ্ট এবং অনড় নিয়মে বাঁধা। প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটা, তার ঘুম ভাঙার সময়। ঠিক সেই সময় নিয়ম করে কেউ যেন অভ্যস্ত হাতে ছিপ ফেলে দেয় তার নিদ্রার ঝিলে। মোবাইলের অ্যালার্মের কড়া শাসনে বিদ্ধ হতে হতেই সে তন্দ্রা কাটিয়ে উঠে বসে। কুঁচকে থাকা বিছানার চাদরে হাত বুলিয়ে খোঁজে ফোনটা। মাথার পিছনে জানালার ফাঁক গলে যে নরম আলোটা ভেতরে আসে, তা কখনও রুপালি, কখনও সোনালি। তার ওপর ভর করে সকাল এসে দাঁড়ায় ঘরের কোণে।

অরিন্দমের চোখে এখনও ঘুমের ছাপ। মাথায় এলোমেলো চুলের রাজত্ব। সে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বিছানায় উঠে বসে। হাই তুলতে তুলতে চোখ কচলায়। এই মুহূর্তেও সে জানে না যে, আজকের দিনটা তার জীবনের চেনা গতিপথটাই বদলে দেবে।

লাগোয়া বাথরুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়া। হাতে ধরা টুথব্রাশ। মুখভরা ফেনা নিয়ে দাঁত মাজছে। প্রিয়ার দিকে অলস চোখে তাকিয়ে থাকে অরিন্দম। সকালের মিষ্টি আলোয় ভারি সুন্দর লাগছে তার মুখখানা। তবে চোখের নীচে জমে উঠেছে পুরু কালি। অরিন্দম বোঝে, রাতভর ছেলেকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে নিজের ঘুমটাকে কোথাও অযত্নে তুলে রেখেছে সে।

কাল আরভ মাঝরাত অবধি কিছু না কিছু নিয়ে বায়না করছিল। কখনও জল খাবে, কখনও সুসু করবে, কখনও বা গল্প শুনবে। ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুমের ভাঁজে ভাঁজেই অরিন্দম শুনেছিল সেসব কথা। কিন্তু শরীর ক্লান্তিতে ডুবে থাকায় সে তন্দ্রা ভেঙে উঠে বসতে পারেনি। কেবল চোখ বন্ধ রেখেই শুনেছে প্রিয়ার গলা, ‘শোনো বাবু, এখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। আর দুষ্টুমি নয়। তুমিও ঘুমাও!’ তারপর মৃদু কণ্ঠে গান গাওয়া, চুলে বিলি কেটে দেওয়া…

সকালের এই নিস্তব্ধতায় অরিন্দমের মনে এক টুকরো অপরাধবোধ জন্ম নেয়। প্রিয়া একরকম একাই সামলায় ছেলেকে। সারাদিন ব্যাঙ্কের চাপ সামলে দিনের শেষে এসে সে পরিবারকে ততটা সময় দিতে পারে না, যতটা দেওয়া প্রয়োজন। যেমন, গতকাল সারারাত সে নির্বিকারভাবে ঘুমিয়ে ছিল। তবে এ অপরাধবোধ ক্ষণস্থায়ী। কারণ সে জানে, অফিসে আজও সারাদিন যুদ্ধ চলবে। দিনশেষে হা-ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে সে আবারও সব ভুলে বিছানায় এলিয়ে দেবে শরীরটা।

অফিসের কথা মনে আসতেই খেয়াল হল, আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে। ক্যাশ রিকনসিলিয়েশনের কাজটা একটু জটিল। পরশু থেকে অডিট শুরু। আগে গিয়ে নিজের মতো করে ঠিকঠাক করে নিতে হবে সবকিছু।

ডাইনিং টেবিলে বসে একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট সারতে সারতে প্রিয়া বলে, ‘এভাবে গোগ্রাসে খাচ্ছ কেন? আজ দেরি হয়নি তো!’

অরিন্দম তখন খেতে খেতেই হাতে হাতঘড়ির স্ট্র্যাপ লাগাচ্ছিল। একটু হেসে বলল, ‘আরে যাহ! ভুলে গেলে নাকি? কালই তো বললাম যে আজ ক্যাশ রিকনসিলিয়েশন আছে। আগে গিয়ে সিঙ্গেল লকের খুচরোর হিসাবটা নিজে মিলিয়ে নেব। সমস্যা হলে ওখানেই হয়। তাই একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে।’

প্রিয়া মাথা নাড়ে। বলে, ‘ওহ হ্যাঁ, মনে পড়েছে। তুমি বলেছিলে কাল। কী যে হয়েছে, আজকাল কিছুই মাথায় থাকে না।’

‘বেশি স্ট্রেস নিচ্ছ নিশ্চয়ই।’

‘স্ট্রেস কেউ ইচ্ছে করে নেয় না মিস্টার। এরকম একটি রত্ন থাকলে স্ট্রেস নিজেই এসে ঘাড়ে চেপে বসে।’ চোখের ইশারায় ছেলেকে দেখিয়ে ফিক করে হাসে প্রিয়া।

আরভ ম্যাগি খাচ্ছিল। অরিন্দম দেখে, সে কী সুন্দর নিজে নিজেই ফর্কে ম্যাগি তুলে তুলে মুখে পুরছে। হাত নোংরা করছে না, এদিক-ওদিক ফেলছে না। অথচ ভাত খাওয়ার সময় তাকে খাইয়ে না দিলে ডাইনিং টেবিল কুরুক্ষেত্রের ময়দান হয়ে যায়।

সেদিকে তাকিয়ে প্রিয়া একটু কড়া গলায় বলে, ‘দ্যাখো আরভ, এবার থেকে ভাতও নিজে খাবে। ম্যাগি খাওয়ার সময় তো দেখছি কত সুন্দর নিজে নিজে খেতে পারো! ভাত খাওয়ার সময়েই তোমার যত বাঁদরামো।’

আরভ মায়ের কথায় কর্ণপাত করে না। বরং মুখ ঘুরিয়ে অরিন্দমের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘পাপা, আমি জু যাব। বাঁদর দেখব।’

প্রিয়া হেসে ওঠে। হাসতে হাসতেই বলে, ‘বাঁদর দেখতে চিড়িয়াখানায় যাওয়ার কী দরকার? আয়নার সামনে দাঁড়াও, দেখে নাও।’

‘পাপা!’ আরভ অভিযোগের সুরে বলে, ‘মাম্মা আমাকে ব্যাড ওয়ার্ডস বলছে।’

‘আরে!’ অরিন্দম ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে অন্যমনস্কভাবে বলে, ‘প্রিয়া, ব্যাড ওয়ার্ডস বোলো না।’

‘আমাকে জ্ঞান দেওয়ার আগে তুমি নিজের খাবারটা শেষ করো।’ প্রিয়া একটু বিরক্ত হয়ে বলে, ‘কতবার বলেছি, খেতে খেতে ফোন ঘাঁটবে না। বাবা-মা এসব করলে বাচ্চা কী শিখবে বলো তো?’

গজগজ করতে করতেই প্রিয়া রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। প্রেশার কুকারের সিটির শব্দ ভেসে আসে। বোধহয় দুপুরের জন্য মুসুর ডাল সেদ্ধ হচ্ছে।

‘পাপা!’ আরভ আবার বলে, ‘আইসক্রিম খাব।’

‘আমিও খাব।’ অরিন্দম ফোন রেখে ছেলের দিকে তাকায়, ‘কতদিন খাইনি বল তো! কী ফ্লেভার খাবি? চকোলেট?’

‘না না। ম্যাঙ্গো।’

‘ঠিক আছে। আমি অফিস থেকে ফেরার সময় নিয়ে আসব।’

‘আচ্ছা পাপা…। না না, ম্যাঙ্গো না। আলফানসো ফ্লেভার আনবে।’

অরিন্দম হেসে বলে, ‘আরে ওই তো একই জিনিস, গাধা!’

‘মাম্মা!’ আরভ চেঁচিয়ে ওঠে, ‘পাপা আমায় ডঙ্কি বলল।’

প্রিয়া রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে ধমক দেয়, ‘অ্যাই! এসব কী বলছ? ছেলেকে এভাবে বলতে আছে?’

‘আহা! তুমি বাঁদর বলতে পারো, আমি গাধা বললেই দোষ?’ বেজার মুখে কথাটা বলেই ছেলের দিকে ঘুরে অরিন্দম বলল, ‘শোনো, কমপ্লেইন করলে কিন্তু আইসক্রিম আনব না।’

‘আনতে হবেও না।’ প্রিয়ার গলা ভেসে আসে রান্নাঘর থেকে, ‘ছেলের নাম করে পুরো টাব নিয়ে আসবে। তারপর ক্রিকেট দেখতে দেখতে নিজেই সাবাড় করবে। দু’দিন আগে জ্বর থেকে উঠেছ। এখন একদম এসব আনবে না বাড়িতে।’

‘কিন্তু মাম্মা!’ আরভ অভিযোগের সুরে বলে, ‘আমার তো আর ফিভার নেই। আমি আইসক্রিম খাব!’

প্রিয়া রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, ‘ঠিক আছে। দুপুরে আমার সঙ্গে যখন বেরোবে, তখন আমি তোমায় আইসক্রিম কিনে দেব।’

অরিন্দম কৌতূহলী হয়ে জিগ্যেস করে, ‘দুপুরে তুমি আবার কোথায় বেরোচ্ছ?’

‘দুটো শাড়িতে ফলস পাড় আর পিকো করাতে দিয়েছিলাম সুনীতায়। সেগুলো নিয়ে আসতে হবে। এরপর পুজো শুরু হয়ে গেলে তো দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। আর ফেরার সময় একটু সব্জির বাজারটাও সেরে নেব।’

‘সুনীতা? সে তো শ্যামবাজার ক্রসিংয়ের কাছে। ওদিকে আজ কীসের যেন মিছিল আছে শুনছিলাম। ঝামেলা হতে পারে কিন্তু।’

‘তাতে আমার কী? আমি তো আর মিছিলে যোগ দিতে যাচ্ছি না, ওদের বাধাও দিতে যাচ্ছি না। নিজের কাজ সেরে চলে আসব। তুমি দেরি না করে এবার বেরোও। এরপর কিন্তু লেট হয়ে যাবে।’

অরিন্দম কব্জি উলটে ঘড়িটা দেখে। সাড়ে আটটা বেজে গেছে। তড়িঘড়ি করে টিফিন ক্যারিয়ারটা তুলে নিয়ে আরভের কপালে একটা চুমু দিয়ে বেরিয়ে যায়। সিঁড়িতে নামতে নামতে প্রিয়ার গলা শুনতে পায়, ‘সাবধানে যেও। পৌঁছে একটা ফোন করে দিও।’

প্রায় দরজার কাছে নেমে এসেছে অরিন্দম, হঠাৎ প্রিয়া পিছন থেকে ডেকে বলে, ‘আচ্ছা অরিন্দম, আমরা বিয়ের পর হানিমুন কবে গেছিলাম, তোমার মনে আছে?’

অরিন্দম অবাক হয়। তবু হেসে জবাব দেয়, ‘কেন মনে থাকবে না? অগাস্ট, দু’হাজার আঠেরো। জুলাইয়ে আমাদের বিয়ে হল, আর অগাস্টে আমরা হানিমুনে গেলাম। গিয়ে আমার যা পেট খারাপ! সেই মনে নেই?’

অরিন্দমের শেষ কথাটায় পাত্তা না দিয়ে প্রিয়া নিজের ডান হাত তুলে অরিন্দমের চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলে, ‘শুধু অগাস্ট বললে হবে না বাছাধন। বারোই অগাস্ট, দু’হাজার আঠেরো। এই দিনটা আমার জীবনের সবথেকে স্পেশাল দিন। মনে থাকবে তো?’

অরিন্দম কিছুটা অবাক হলেও বাধ্য ছাত্রের মতো ঘাড় নেড়ে প্রিয়ার গালে একটা চুমু খেয়ে বেরিয়ে আসে রাস্তায়। রাস্তায় নামা মানেই আবার এক অদ্ভুত অভ্যাসের লুপ। প্রতিদিন ঠিক এই সময় বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকে অরিন্দম বাসে ওঠে। সেই একই বাস। এমনকী কোনদিকের কোন জানালার পাশের সিটটায় কতটুকু রোদ পড়বে, তার মুখের ঠিক কতটুকু গ্রাস করবে অবাধ্য সূর্যরশ্মি, তাও সে প্রায় মুখস্থ করে ফেলেছে।

বাসে উঠেই অভ্যাসমতো ফোনে চোখ রাখে সে। ফেসবুকের ফিডে স্ক্রল করতে করতে নিউজ চ্যানেলগুলোর পোস্ট চোখে পড়ে। পরপর লেখা আছে, ‘এই মুহূর্তের প্রথম এবং সবথেকে বড় খবর, আর্টিকেল তিনশো সত্তর অবলুপ্তির প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় পর্যন্ত আজ বিশাল মিছিল হওয়ার কথা আছে। যানজটে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। দ্বিতীয় খবর হল, চিনের এক বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে সামরিক ড্রোন কিনছে ভারত সরকার।…’

সাধারণ, নিরীহ এক-একটা সংবাদ। এমন হাজারো সংবাদ রোজই আসে ফিডে। তারপর অগণিত অন্য পোস্টের ভিড়ে হারিয়ে যায়। অরিন্দম স্বভাবতই খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। পোস্টটা পেরিয়ে আরও নীচে স্ক্রল করতে থাকে। কিন্তু সে জানত না, এগুলোর মধ্যে একটা খবরই হয়ে উঠবে এমন একটা বীভৎস শাণিত হাতিয়ার, যা তার নিখুঁত দিনযাপনকে ছিঁড়ে ফালা ফালা করে দেবে এক লহমায়।

বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকায় অরিন্দম। জেগে উঠেছে কলকাতা শহর। রাস্তায় ভিড় বাড়ছে। অফিসগামী মানুষের ঢল। তাড়াহুড়ো। অরিন্দমও তাদেরই একজন। মধ্যবিত্ত জীবনের এক নিখুঁত নমুনা। তার কোনও বিশেষ স্বপ্ন নেই। কোনও বিশেষ উচ্চাশাও নেই। আছে কেবল নিরাপদ, সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার তৃপ্তি। প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। কোনও চমক নেই, কোনও অনিশ্চয়তাও নেই।

সেই একঘেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে দাঁড়িয়ে অরিন্দমের জীবনে কোনও অসামঞ্জস্য ছিল না। ছিল না কোনও ইশারা যে, আজ অন্যরকম কিছু ঘটবে। তবু ঠিক সেইদিন, শহরের রাস্তায়, সময় তার জন্য এমন এক ফাঁদ পাতছিল, যার গভীর গহ্বরে তলিয়ে যেতে চলেছিল তার ছাপোষা মধ্যবিত্ত জীবন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *