প্রতিশোধ – অর্পিতা সরকার

‘শহর জুড়ে রীতিমত আতঙ্ক তৈরি হয়ে গেছে অফিসার। ডু সামথিং। আরে আপনাদের আর কী? ওদিকে হর্ষবর্ধন স্যার আমাকে আজ আবার তলব করেছেন। ডিএসপি যখন ফোন করে বললেন, সন্ধের মধ্যে দেখা করুন সৌমিত্রবাবু, তখন বুঝতে পারলাম আমার হাঁটু দুটো কাঁপছে। আর তোমরা থানায় বসে রীতিমত খোশ গল্প জুড়েছো? লজ্জা করে না?’ বালিগঞ্জ থানার ওসি সৌমিত্রবাবু এমনিতে ভীষণ ঠান্ডা স্বভাবের মানুষ। বড়বাবু থেকে ছোটবাবু কাউকে অকারণে বকাবকি করেন না। কিন্তু সিরিয়াস কোনো সমস্যায় পড়লে অসম্ভব রেগে যান। নিজেও বেশ নার্ভাস ফিল করেন। বড়বাবু আদিত্য বললেন, ‘স্যার আপনি যেগুলো দেখে রাখতে বলেছিলেন সব দেখে রেখেছি। এরা স্যার বোসপুর বয়েজের স্টুডেন্ট ছিল। একই ব্যাচ। যে দুজন খুন হয়েছে তাদের মধ্যে বেশ বন্ধুত্ব ছিল বলে জানিয়েছে অন্য বন্ধুরা। এদের স্যার পাঁচজনের টিম আছে। এখন এই পাঁচজন আলাদা আলাদা কলেজে ভর্তি হয়েছিল। দুজন বোধহয় একই কলেজে পড়ত। বাকিরা অন্য কলেজে। কিন্তু স্কুলের বন্ধুত্বটা রয়ে গেছে। এরা প্রত্যেকে খুব অবস্থাপন্ন বাড়ির ছেলে। সকলের কাছে দামি বাইক আছে। এদের মধ্যে তিনজনের আবার স্টেডি গার্লফ্রেন্ডও আছে স্যার। মার্ডার হয়েছে যে দুটো ছেলে তাদের একজনের গার্লফ্রেন্ড বলল, প্রদীপ্ত নাকি ওইদিন সন্ধেতে ওর সঙ্গেই ছিল। রাত্রি নটা নাগাদ ওরা মুভি দেখে বেরোয়। তারপর প্রদীপ্ত মেয়েটাকে ডিস্কে যেতে বলে। মেয়েটা নাকি রাত হলে বাড়িতে বকবে বলে যায়নি। ফিরে এসেছে। প্রদীপ্ত একটু অভিমান করেছিল। ওকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে বাইক নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে যায়। রাত প্রায় সাড়ে দশটা। নাগাদ কোনো মেসেজ না পেয়ে কল করে সায়নী নামের মেয়েটা। ফোনটা রিং হয়ে হয়ে কেটে যায়। তখন সায়নী প্রদীপ্তর বাড়িতে কল করে। ওর মা জানায় প্রদীপ্ত এখনও বাড়ি ঢোকেনি। সেদিন রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ ওর বাবা এসে থানায় রিপোর্ট লেখায়। ততক্ষণে সব বন্ধুদের বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হয়ে গেছে। প্রদীপ্ত কোথাও নেই জেনে বাধ্য হয়ে ওর বাবা থানায় রিপোর্ট করে। আসার আগে ডিস্কে ঘুরেও আসে। ছেলেকে কোথাও পাওয়া যায়নি। ভোর তিনটে নাগাদ প্রদীপ্তর বাড়ি থেকে আবার ফোন আসে। ওদের বাড়ির পাশের নালায় নাকি প্রদীপ্তর বডি পাওয়া গেছে। নালার পাশে বাইকটা দাঁড় করানো ছিল। ওই পথেই প্রদীপ্ত রোজ বাড়ি ফেরে।

এটার তদন্ত করার আগেই স্যার তিন দিনের মধ্যে সপ্তর্ষি নামের প্রদীপ্তর বন্ধু খুন হয়ে গেল। সেও ওদের বাড়ির গলিতেই। দুটো খুনের মোটিভ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না স্যার। এদের নামে থানায় কেউ কখনও কোনো কমপ্লেইন করেনি। এমনকি পাড়ার লোকজনও কেউ খারাপ ছেলে বলছে না। এবারে স্যার এ যুগের ছেলে একেবারে স্বামী বিবেকানন্দ সুলভ আচরণ করবে এটা তো ভাবাই ভুল। শুনলাম মাঝে মাঝে নাকি বন্ধুরা একত্রিত হলে মদ্যপান চলত। সেটাকে তো আর গর্হিত অপরাধ বলা যায় না। তবে মদ্যপান করে কারোর দোকান ভাঙচুর করেছে, বা অসভ্যতা করেছে এমন রিপোর্ট কিন্তু কেউ করেনি।

এই সপ্তর্ষির বাবা আবার নামকরা ডাক্তার। এদের অবস্থা খুবই ভালো। রীতিমত এডুকেটেড ফ্যামিলি। ছেলেটার ছবি দেখেও তো খারাপ মনে হল না স্যার। এর কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই বর্তমানে। শুনলাম ব্রেকআপ হয়ে গেছে। কেন খুন হল বোঝা তো গেল না।’ সবটা বলে বড়বাবু বেশ লম্বা একটা দম নিলেন।

সৌমিত্রবাবু বললেন, ‘অন্য তিনজন বন্ধুকে ভালো করে জেরা করা হয়েছে? সর্ষের মধ্যে ভূত লুকিয়ে নেই তো? হয়তো এদের তিন জনের সঙ্গে ওই দুজনের ভিতরে ভিতরে কোনো ঝামেলা হয়েছিল। তাই দে এ দুটোকে উড়িয়ে। বন্ধু হয় তাই ওরা খুন করেছে এটা সন্দেহও করবে না।’

বড়বাবুর কপালে একটা গভীর ভাঁজ পড়ল। জোরে নিশ্বাস ফেলে বললেন, ‘এটা তো ভাবিনি। স্যার মানুষের মন পড়ার যন্ত্রটা বেরোলেই আমরা পুলিশরা টাকা জমিয়ে কিনে ফেলব ওটা। এদিকে স্যার এলাকার ওপর মহল থেকেও ফোন এসেছিল থানায়। আমরা কি বসে বসে ভুঁড়ি বাড়াচ্ছি? পর পর দুটো খুন হল একই এলাকায় তাতেও কিছু করতে পারলাম না। এখনও অবধি কাউকে গ্রেফতার করতে পারলাম না।’

সৌমিত্রবাবু ফরেনসিক রিপোর্টটা নিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন, ‘দুজনের খুনের টেকনিকই এক। প্রথম ঘাড়ে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তারপর শ্বাস বন্ধ করে। তার মানে ওই শক্ত জিনিসটি দিয়ে ছেলেটাকে আগে অজ্ঞান করে দেওয়া হচ্ছে। সেই অবস্থায় শ্বাসরোধ করে মারা হচ্ছে। কিন্তু মোটিভ কী?’

সৌমিত্রবাবু বললেন, ‘যাই ডিএসপির কাছে কৈফিয়ত দিয়ে আসি। দুদিনের মাথায় দুটো খুন রীতিমত শোরগোল ফেলে দিয়েছে যে। ওই তিনটে ছেলেকে ইমিডিয়েট থানায় হাজির করো। এদের ডেইলি রুটিন জেনে এদের ওপরে নজরদারি করতে হবে।’

দেবমাল্য বিমর্ষ মুখে বসে আছে। ওর পাশে সৃজন আর রুদ্রনীলও। তিনজন যে বেশ ভয় পেয়ে আছে সেটা ওদের মুখ দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছে। তিনজনের কেউই কোনো কথা বলছে না এই মুহূর্তে। রুদ্র হঠাৎ বলল, ‘ওই মেয়েটার বাড়িটা কোথায় ছিল রে জানিস তোরা? দেবমাল্য ঘাড় নেড়ে বলল, শিঞ্জিনির ক্লাসমেট ছিল। ওর বার্থডে উপলক্ষ্যে ওকে প্রথম দেখেছিলাম। কিন্তু নামটাও সেভাবে মনে নেই। আর শিঞ্জিনিকে জিজ্ঞাসা করলেই ও সন্দেহ করবে। এমনিতেই শিঞ্জিনি নানা কারণে বিরক্ত হয়ে আছে আমার ওপরে। দেবমাল্য বলল, তাহলে টাইম গোনা শুরু করে দে। আমাদের কার আগে টার্ন আসে। এর থেকে আমার মনে হয় পুলিশের কাছে সারেন্ডার করলে ড্রেনে পড়ে মরব না।’ সৃজন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘অন্য কিছু ভাব তোরা। কী করে নিজেদের বাঁচানো যায় সেটা ভেবে দেখ!’ রুদ্রনীল বলল, ‘সায়নী আজ ফোন করেছিল। প্রদীপ্তর জন্য কান্নাকাটি করছিল বুঝলি। বারবার জিজ্ঞাসা করেছিল, কে ওকে খুন করতে পারে, কেন কেউ খুন করবে?

মেয়েটা কিন্তু প্রদীপ্তকে ভালোবাসত। আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না। মনে হল ও আমাদের কাউকে সন্দেহ করছে। ওর গলায় একটু অবিশ্বাসের সুর ছিল। ও যদি গিয়ে থানায় আমাদের নামে কোনো কমপ্লেন ঠুকে আসে সন্দেহের বশে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।’

দেবমাল্য বলল, ‘থানা থেকে ফোন আসছে। ফোনটা রিসিভ করতেই বড়বাবু বললেন, থানায় এসো। কিছু কথা জানার আছে তোমাদের বন্ধুদের ব্যাপারে।’

দেবমাল্য বলল, ‘আমি বেরোলাম রে। যাই আবার কী জিজ্ঞেস করে দেখি। দেবমাল্যর বাইকের আওয়াজটা মিলিয়ে যাওয়ার আগেই রুদ্রনীল আর সৃজনও ফোন পেল থানা থেকে।’ সৃজন বলল, ‘চল একসঙ্গেই যাই। দেবমাল্য তো থানাতেই থাকবে।’ ওরা যখন থানায় পৌঁছল তখন ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় নটা। তিলোত্তমায় এটা সবে সন্ধে। ব্যস্ত কলকাতা শহরের জনজীবন। সবাই ছুটে চলেছে। কারোর সময় নেই কাউকে দেখার। ঠিক যেন ছোটবেলার স্কুলের দৌড় প্রতিযোগিতা। সবাই ছুটত যে আগে গিয়ে রেড লাইনটাকে ক্রস করতে পারে। অভিভাবকরা শিখিয়ে দিতেন, খবরদার পিছন দিকে তাকালেই কিন্তু দ্বিতীয় হয়ে যাবার সমূহ সম্ভবনা। তাই পিছনে প্রাণের বন্ধু থাকলেও পিছন ফিরে তাকাতো না কেউ। ঠিক সেভাবেই ছুটে চলেছে সিটি অফ জয়। সৃজন আর রুদ্রনীল থানায় ঢুকতেই বড়বাবু বললেন, ‘বসো। বসার পরেই শুরু হল র‌্যাপিড ফায়ার রাউন্ড।’

‘প্রদীপ্তর প্রেমিকা সায়নীকে তোমাদের মধ্যে কারোর পছন্দ ছিল?’

‘সপ্তর্ষির ব্রেকআপ কেন হয়েছিল?’

দুজনের মধ্যে কেউ একটু এলোমেলো বললেই মুশকিল। তাই ওরা যথেষ্ট সচেতনভাবে উত্তর দিচ্ছিল।

রুদ্রনীল বলল, ‘স্যার মেয়েটা সপ্তর্ষির থেকে বয়সে একটু বড় ছিল। সেটা নিয়েই বোধহয় ওদের মধ্যে একটা প্রবলেম ক্রিয়েট হয়েছিল। সেই থেকেই ব্রেকআপ।’

সৃজন বলল, ‘মেয়েটা মেডিক্যালে চান্স পেয়ে যায়। সপ্তর্ষির বাবা নামী ডক্টর হলেও ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয় এই নিয়েও নাকি মেয়েটার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। কিন্তু স্যার এর জন্য ওকে খুন কেন হতে হবে?’

বড়বাবু বললেন, ‘তার মানে ওই মেয়েটার সঙ্গে তোমাদের কারোর কোনো যোগাযোগ এখন নেই তাই তো?

আর প্রদীপ্তর গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে তোমাদের কেমন সম্পর্ক? মানে ওর লাভার এভাবে খুন হয়ে যাবার পরে তোমাদের মধ্যে কে ওর বেশি পাশে গিয়ে দাঁড়ালে?’

রুদ্রনীল বলল, ‘স্যার সায়নীর সঙ্গে বার কয়েক হাতে গুণে দেখা হয়েছে আমাদের। ওই কোনো পার্টিতে বা কখনও সিনেমা হলে সবাই মিলে মুভি দেখতে গেলে। তাই খুব যে বন্ধুত্ব আছে এমন নয়। প্রদীপ্তর মৃত্যুর পরে ও ফোন করে কান্নাকাটি করছিল আমাদের কাছে, এ পর্যন্তই। তাছাড়া স্যার আমাদের দুই প্রিয় বন্ধু চলে গেল সেটাও তো কম কষ্টের নয়।’ বড়বাবু বললেন, ‘আরেকজন এখনও এলো না কেন? কী যেন নাম ছেলেটার?’

রুদ্রনীল বলল, ‘স্যার দেবমাল্য। কিন্তু ও তো স্যার আমাদের আগেই বেরিয়ে এল আপনার কল পেয়ে। ওর তো আগেই ঢুকে যাবার কথা।’ রুদ্রর মুখটা ক্রমশ ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। সৃজনেরও ঠোঁটটা কাঁপছে। তাড়াতাড়ি দেবমাল্যকে ফোন করল। রিং হয়ে যাচ্ছে, কেউ রিসিভ করছে না দেখেই সৃজন উত্তেজিত হয়ে বলল, কল রিসিভ করছে না দেব।

বড়বাবুর কপালেও একটা ভাঁজ পড়ল। রুদ্র কাঁপা গলায় বলল, দেব তো জোরে বাইক চালায়। আমাদের আসার অনেক আগেই তো পৌঁছানোর কথা ছিল। ওদের আলোচনা শেষ হবার আগেই সৃজনের ফোনে দেবমাল্যর ফোনটা ঢুকছে। সৃজন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘দেব কল করছে।’ রিসিভ করতেই একটা অপরিচিত গলা শুনে থমকে গেল ও। ‘আপনার কলটাই ওনার ফোনে লাস্ট দেখছি। যার ফোন তিনি মারা গেছেন সম্ভবত।’ সৃজন কিছু বলতে পারছিল না দেখেই বড়বাবু ফোনটা হাতে নিয়ে বলল, ‘বলুন। বডি কোথায়? থানার পাশের নালার ধারে? আচ্ছা আসছি।’ বড়বাবু বললেন, ‘তোমরা কোথাও যাবে না। দুজন কনস্টেবল নিয়ে বেরিয়ে গেলেন উনি।’

সৃজন বলল, ‘রুদ্র এবারে কি আসল কারণটা বলে দেওয়া উচিত?’ রুদ্রর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ভয়ার্ত গলায় বলল, ‘তোর মনে হয় একটা মেয়ে সবাইকে খুন করেছে? রোগা চেহারার ওই মেয়েটা খুন করাচ্ছে বলে তুই বিশ্বাস করিস? তাছাড়া এত যদি ধক থাকত তাহলে আগে এসে সে থানায় কমপ্লেন লেখাতো। এ অন্য কেউ রে। আমাদের কোনো শত্রু যাকে আমরা চিনি অথচ মনে করতে পারছি না।’ সৃজন বলল, ‘তাহলে কি সুনয়ন? ওর আমাদের ওপরে বেশ রাগ আছে। সেই যে এক্সামের রুটিন ভুল দিয়েছিলাম আমরা। ওর সেই বছরটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ভেবে দেখ আমারা পাঁচজনই ছিলাম সেদিন। আর পাঁচজন মিলেই ওকে ভুল রুটিন দেওয়া হয়েছিল।’ রুদ্রনীল বলল, ‘ঠিক তাই। এটা সুনয়নের কাজ। পুলিশকে বলা দরকার। সুনয়নকে গ্রেফতার করলে আমাদের দুজনের প্রাণ বেঁচে যাবে মনে হচ্ছে।’

দেবমাল্যও একই রকমভাবে থানার পাশের গলিতে নালার ধারে পড়ে ছিল। একই পদ্ধতি। ঘাড়ে জোরে আঘাত, তারপর শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছে।

বড়বাবু ওসিকে ফোন করলেন। দেবমাল্যর বাড়িতে খবর দেওয়া হল। সৃজন আর রুদ্রনীল নিশ্চুপ হয়ে বসেছিল। হঠাৎই সৃজন বলল, ‘স্যার এটা সুনয়নের কাজ। ও আমাদের খুন করে দেবে।’ বড়বাবু বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘সেটা আবার কে?’

এই বডি ফরেনসিকে পাঠাতে হবে। এবারে মিডিয়া ঝাঁপিয়ে পড়বে। থানার পাশে খুন হয়ে গেল রাত নটায় আর পুলিশ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল! নিজেদের লাফড়ায় খুন হচ্ছে এরা এটা তো এই পাবলিক বুঝবে না। সব দোষ এসে পড়বে পুলিশের ওপর আর সরকারের ওপরে। আরে পুলিশ কি আর সকলের পিছনে সিসিটিভি অন করে রাখবে?

ওসি সৌমিত্রবাবু ঢুকে বললেন, ‘তিননম্বর খুনটা থানার পাশে এসে করার মধ্যে কেমন একটা ঔদ্ধত্যের চিহ্ন সুস্পষ্ট। যেন পুলিশ-প্রশাসনকে জাস্ট বুড়ো আঙুল দেখাতে চাইছে খুনি। বাইরে মিডিয়া রেডি হয়ে আছে দেখলাম। যাও গিয়ে জবানবন্দি দিয়ে এস।’

সৌমিত্রবাবু সৃজনকে বললেন, ‘এই সুনয়নের কেসটা কী?

একটা মিথ্যে বললে, চাপকে সোজা লকাপে চালান করব।’

রুদ্রনীল বলল, ‘স্যার সুনয়নরা খুব গরিব। ওর বাবা রিকশা টানত। কিন্তু ও আমাদের স্কুলের বেস্ট ছেলে ছিল। ওদের বাড়িতে টিভি পর্যন্ত ছিল না। ও টেস্টের কিছুদিন পরে এসে আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিল, এক্সামের রুটিন পেয়েছি কিনা আমরা। আমরা সবাই মিলে ওকে একটা ভুল রুটিন দিয়েছিলাম। জাস্ট মজার ছলেই। ভেবেছিলাম ওর কাছে হয়ত অরিজিনাল রুটিন আছে। কিন্তু পরীক্ষা হলে গিয়ে দেখেছিলাম ও আসেনি। ইনফ্যাক্ট শেষের দুটো এক্সামে এসে কান্নাকাটি করেছিল। আমাদের ধারণা ওর ওই বছরটা আমরা নষ্ট করে দিয়েছিলাম বলে ও আমাদের খুন করে দিতে চায়।’

সৌমিত্রবাবু বললেন, ‘তোমরা সকলে ভদ্র বাড়ির ছেলে বলে আজকেই বড়বাবু বলছিলেন। তখনই বুঝেছি এত সহজ নয় তোমরা। সুনয়নের অ্যাড্রেসটা দিয়ে যাও।’

থানার বাইরে বেরোতেই চোখে পড়ল দেবমাল্যর মা আর বাবা দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দেখেই দেবের মা ছুটে এসে বলল, দেব তো তোদের সঙ্গেই ছিল সন্ধেবেলা। আমি ফোন করেছিলাম চা-পাতা নিয়ে যেতে, ‘ও বলল তোদের সঙ্গে আছে। যাওয়ার সময় নিয়ে যাবে। এসব কী হল রে!’

ওর মায়ের কান্না, বাবার অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে আর একটু আগেই দেবের সঙ্গে বলা কথাগুলো মনে পড়ে সৃজন আর রুদ্রও কেঁদে ফেলল। মনের ভিতরে ভয় তোলপাড় করছে। এবারে ওদের দুজনের মধ্যে কার পালা? এটা ভেবেই গা শিউরে উঠছে রুদ্র। সৃজনের কান্নাভেজা চোখ দুটো আতঙ্কে সাদা হয়ে আছে যেন।

ওরা যে যার বাড়ির দিকে এগুলো। কে জানে আজ রাতটুকু বাড়িতে শেষ ঘুম কিনা। বড়বাবু ওদের রোজ থানায় হাজিরা দিতে বলেছে। রুদ্রর ধারণা প্রদীপ্তর গার্লফ্রেন্ড সায়নী কোনো রকম সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশের কাছে। তাই হয়ত বড়বাবু ওদের রেগুলার থানায় হাজিরা দিতে বলল।

দেবমাল্যর গার্লফ্রেন্ড শিঞ্জিনির বয়ান নিয়েছে পুলিশ। শিঞ্জিনি নাকি বলেছে, ‘সৃজন আর রুদ্রনীলের সঙ্গে ছিল দেবমাল্য থানায় আসার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত। তখনই নিশ্চয়ই এমন কিছু হয়েছে যার জন্য খুন হতে হল দেবমাল্যকে। আমি বহুদিন ধরেই দেবকে এদের সঙ্গ ছাড়তে বলেছিলাম। ও শুনেনি। তাই এই পরিণতি।’

সব দিক থেকেই সৃজন আর রুদ্রনীলের দিকে তির তাক করা আছে।

শহর জুড়ে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। তিন তিনটে তরতাজা ছেলে এভাবে খুন হয়ে যেতে পারে ও যেন কল্পনার বাইরে। শহরের বুকে একটা আতঙ্ক নেমে এসেছে যেন। আর মিডিয়া একনাগাড়ে বলে চলেছে পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি ছাড়া আর কিছুই নয়। এখনও কেন খুনির গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেল না! পুলিশ করছেটা কী?

সুনয়ন নামের ছেলেটা কলেজে ফিজিক্স অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছে। অত্যন্ত গরিবের ছেলে। টিউশনি করে, সরকার থেকেও সাহায্য পায়। সে স্বীকার করল ওই পাঁচজনের জন্য ওর একটা বছর নষ্ট হয়েছে। তাই কলেজে উঠে ও আর কোনো বড়লোকের ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা করে না। নিজের মতো করে চলে। এসব খুন সম্পর্কে কিছুই জানে না। তবুও পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে এসেছে। এখন যা অবস্থা, তাতে কাউকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। সুনয়নকে আপাতত দিন দুয়েক হাজতে রাখা হবে। সাবধানের মার নেই। সৃজন আর রুদ্রনীল যাতে খুন না হয় সেজন্যই এমন ব্যবস্থা।

সমস্ত খবরের কাগজের হেডলাইন এটাই এখন।

ওপর মহল নড়ে বসেছে। বেশ প্রেশারে আছেন ওসি সৌমিত্রবাবু থেকে থানার বড়বাবু অবধি।

সুনয়নের কাছ থেকে কিছু তথ্য বের করার জন্যই বড়বাবু ওর জেরা করছেন। সুনয়ন বলল, ‘দেখুন স্যার ওরা পাঁচজন সবসময় একসঙ্গে থাকত। আমরা একই ক্লাসের স্টুডেন্ট। ওরা পড়াশোনায় মন্দ ছিল না। বড়লোক বাবার ছেলে সবাই। তাই কষ্ট করে পড়াশোনা করছে কেউ এই বিষয়টাতেই ওদের রাগ ছিল। স্কুলে টিচাররা আমার প্রশংসা করলেও ওদের ভ্রুতে বিরক্তির চিহ্ন দেখতাম। তবে আমি এগুলোকে পাত্তা দিইনি কখনও। কারণ আমার বাবা রিকশা ভাড়ার টাকা একদিন মদ খেয়ে উড়িয়ে দিলে আমাদের বাড়িতে ভাত চড়ত না। তাই এসব দেখার সময় ছিল না। তবে এরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে আমার কাছ থেকে নোটগুলো নিত। দেবমাল্য আর সপ্তর্ষি দুবার আমাকে নোটবই কিনে দিয়ে সাহায্যও করেছিল। তারা যে উচ্চমাধ্যমিকের রুটিন নিয়ে এমন কান্ড করবে আমার ভাবনার বাইরে ছিল। আমি ওদের বিশ্বাস করেছিলাম। ওদের সঙ্গে আমি পেরে উঠব না জেনেই ভীষণভাবে ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পরও ওদের সঙ্গে একটাও বাগ-বিতণ্ডায় যাইনি। পরের বছর পরীক্ষায় বসে যথেষ্ট ভালো রেজাল্ট করে কলেজে ভর্তি হই। এদের কারোর সঙ্গে আমার দেখাই হত না। একমাত্র সপ্তর্ষি মাঝে মাঝে আমাদের পাড়া দিয়ে টিউশন পড়তে যেত তখন দেখা হত। আমি আর কথা বলিনি, বলতে ইচ্ছে করেনি। তবে সপ্তর্ষি নিজেই উপযাচিত হয়ে এসে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছিল, আমরা মজা করেছিলাম। সরি ইয়ার।

দেখুন স্যার, এদের কাছে এটা মজা হতে পারে। আমার কাছে নয়। তাই দূরে থাকি এদের থেকে।’

সুনয়নের কথা শেষ হবার আগেই কনস্টেবল জগন্নাথ হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলল, স্যার আবার খুন। লোকজন থানায় ভাঙচুর করতে আসছে। ওই দুটি ছেলেই খুন হয়েছে। থানায় হাজিরা দিতে আসছিল একসঙ্গে। থানা থেকে আবার একশো মিটার দূরে ওই ডাস্টবিনের ধারে দুটো বডি স্যার আরেকটা বাইক পড়ে আছে। কী হবে স্যার?

সুনয়ন বলল, ‘স্যার তাহলে প্রমাণ হল তো খুন আমি করছি না। আসল খুনিকে ধরার চেষ্টা করুন। আমার দিকে নজর দিতে গিয়ে সে হাত ফস্কে পালিয়ে গেল যে।’

সুনয়নকে ছেড়ে দিল পুলিশ। থানার সামনে পাহারা বসাল বড়বাবু।

সুনয়ন ভালো একটা মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কিনে সোজা গেল রেশমির বাড়িতে। ছোট দু-কুঠুরী ঘরের মধ্যে তখন মেয়ে বাবার রক্ত লাগা জামাটা ধুয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রেশমি দরজা খুলতেই বলল, কাকুর আজ একা কোনো অসুবিধা হয়নি তো? রেশমি দাঁত চেপে বলল, আজ সঙ্গে আমিও ছিলাম সুনয়ন। তোমায় পুলিশ তুলে নিয়ে গেল দেখেই বাবা বলল, জল মাথার ওপর দিয়ে বইছে। খুন দুটো আজকেই করতে হবে রেশমি। সুনয়নকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। হুইল চেয়ারে নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছে এককালের জাওয়ান শিবনাথ পাল। বর্ডার ফোর্সে জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই করতে করতে গুলি লেগে দুটো পা-ই হাঁটুর নীচে থেকে কাটা পড়েছিল। দেশের জন্য লড়াই করা প্রাণ বলেই হয়তো বেঁচে গিয়েছিলেন। স্ত্রী ক্যানসারে ভুগে মারা গেছেন বছর তিনেক হল। রেশমিকে সম্বল করেই জীবন কাটছে। একটা ছোট চাকরিও পেয়েছেন সরকারের আনুকূল্যে। একই ব্যাচে টিউশন পড়ার কারণেই সুনয়নের সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেম রেশমির। দুজনেই পড়াশোনায় ভালো। দুজনের একটাই লক্ষ্য চাকরি পেতে হবে। নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সুনয়নকে খুব ভালোবাসে শিবনাথ। নিজের ছেলের মত। মেয়ের পছন্দের তারিফ করে মনে মনে। খাঁটি সোনা বেছেছে রেশমি। সেই সুনয়ন যখন বন্ধুদের ভুল রুটিন দেবার কারণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে পারল না তখনই বাড়িতে বসে খুব কেঁদেছিল রেশমি। শিবনাথ বলেছিল, কাঁদিস না। ও ঠিক জিতবে।

শিঞ্জিনির সঙ্গে রেশমির বন্ধুত্ব হয় কলেজে উঠে। তবুও শিঞ্জিনি যখন বলেছিল, ওর বার্থ-ডে পার্টিতে আসতে তখন না করতে পারেনি রেশমি। বার্থ-ডে পার্টিতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল। শিঞ্জিনি বলেছিল, ডোন্ট ওরি দেবমাল্যকে বলছি তোকে পৌঁছে দিতে। দেবমাল্যর চারচাকায় ও একা নয় আরও চারজন ছিল সেদিন। সপ্তর্ষি, সৃজন, রুদ্রনীল ও প্রদীপ্ত। গাড়িটা সপ্তর্ষি চালাচ্ছিল। সবাই যে অল্প বিস্তর ড্রিংক করেছে সেটা বুঝতে সময় লাগেনি রেশমির। ভয়ে সিঁটিয়ে বসে ছিল ও। নামগুলো ও জেনেছিল কারণ ওরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল। আচমকাই একটা অন্ধকার জায়গায় গাড়িটা থেমে গেল। রেশমি কিছু বোঝার আগেই মুখটা কেউ একজন বেঁধে দিল রুমাল দিয়ে। পর পর পাঁচজনের পুরুষাঙ্গ ঢুকল ওর যোনি ভেদ করে। তারপর আর কিছুই জানে না ও। শুধু মনে আছে একটা ড্রেনের ধারে ওকে ফেলে দিয়ে চলে গিয়েছিল ওরা।

সেদিন রাতেই বাবা হুইল চেয়ারে করে থানায় গিয়েছিল রিপোর্ট লেখাতে, তখনও রেশমি হসপিটালে যমে-মানুষে যুদ্ধ করতে।

পুলিশের বড়বাবু বলেছিলেন, ‘মেয়ে হঠাৎ এত রাতে পার্টি করে ফিরছিল কেন? এরা কারা? আগে মেয়ের কাছে জানুন টাকার রফা হয়েছিল কিনা।’ শিবনাথ ফিরে এসেছিল। রেশমি দিন তিনেক পরে সুস্থ হয়ে ফিরছিল। কিন্তু চুপ হয়ে গিয়েছিল একদম। সুনয়ন অনেকবার জিজ্ঞাসা করায় নামগুলো বলতেই চমকে উঠেছিল সুনয়ন। বলেছিল এরাই সেই ছেলে যারা আমায় ভুল রুটিন দিয়েছিল। কিন্তু শিবনাথ কাকু এদের বাবাদের অনেক টাকা, এদের আমরা ছুঁতেও পারব না।

শিবনাথ মুঠো শক্ত করে বলেছিল, ‘মেরে দেব এদের। বাঁচার অধিকার নেই এদের।’ সুনয়ন একেকজনকে ফলো করে জেনেছিল এদের দৈনন্দিন জীবনযাপন। প্রদীপ্তর বাড়ি ফেরার রাস্তায় হুইল চেয়ার থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল শিবনাথ। প্রদীপ্তকে ডেকেছিল একটু তুলে দেওয়ার জন্য। তারপরেই বলেছিল, ‘ওই গলিতে আমার ফোনটা পড়ে গেল বাবা, খোঁড়া মানুষ খুঁজতেও পারলাম না, একটু খুঁজে দেবে বাবা?’ নিরিবিলি গলিটায় প্রদীপ্ত ঢুকতেই আঘাতটা করেছিল শিবনাথ নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে। মেয়ের ক্ষতবিক্ষত যোনিদ্বারের কথা মনে করে। মেয়ের মানসিকভাবে মৃতপ্রায় মনের কথা ভেবে। ঠিক তখনই হাতে থাকা ক্রাচের বাড়ি পড়েছিল প্রদীপ্তর ঘাড়ে। অজ্ঞান প্রদীপ্তকে মুখে প্লাস্টিক দিয়ে শ্বাস রোধ করে মেরে দিতে অসুবিধা হয়নি শিবনাথের। প্রতিটা খুনই একই পদ্ধতিতে করেছে ও। একটু দূরে দাঁড়িয়ে থেকেছে সুনয়ন। চারিদিকে লক্ষ রেখেছে তীক্ষ্ন।

সুনয়ন যেদিন জেলে বসে ছিল, সেদিন প্রথম জেদ নিয়ে কথা বলেছে রেশমি। ওই বলছে, ‘চলো বাবা সুনয়নকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে হবে। আজ আমি লক্ষ রাখব, আর একজনকে অন্তত আমি নিজের হাতে শাস্তি দিতে চাই।’ থানায় হাজিরা দিতে যাবে খবরটা শিঞ্জিনিই বলেছিল ওকে। কারণ রেশমি প্রতিটা খুনের খবরের পরে ফোন করে শিঞ্জিনিকে বলত, ‘দেবমাল্যদাকে এদের থেকে সরিয়ে রাখ। এরা কোথায় কী যে করেছে কে জানে!’ শিঞ্জিনিও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে দেবমাল্যর সঙ্গে হওয়া সব কথাই বলে ফেলত রেশমিকে। তাই ওদের যে থানায় হাজিরা দিতে হচ্ছে সেটা জানত রেশমি। সৃজনকে সেদিন শিবনাথ খুন করলেও রেশমি মেরেছিল রুদ্রনীলকে। প্রত্যেককে নালার পাশে ফেলেছিল শিবনাথ। ঠিক যেভাবে রেশমিকে মৃতপ্রায় অবস্থায় ড্রেনের পাশে ফেলে রেখেছিল ওরা। একজন বয়স্ক লোক দেখতে পেয়ে রেশমির ফোন থেকে সেদিন ফোন করে জানিয়েছিল বাড়িতে।

হুইল চেয়ারটা ঘুরিয়ে নিয়ে শিবনাথ বলল, ‘একদিন এই হাত দিয়ে দেশের শত্রুদের মেরেছি। আজ নাহয় কটা আবর্জনা সাফ করলাম এ সমাজের। কোনো লজ্জা নেই, কোনো গ্লানি নেই আমার। এখন যদি পুলিশ আমায় ধরতেও পারে তাহলেও জানব আমার মেয়েটার ওপরে হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলাম।’ মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কাঁদছে শিবনাথ। ‘মা রে তোকে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না আমি। অক্ষম বাবা আমি।’ সুনয়ন বলল, ‘কাকু আমি আছি তো। নিজের সবটুকু দিয়ে ওকে আমি আগলে রাখব।’ রেশমির শুকনো চোখ দুটোতে অঝরে জল নেমেছে। এই দুজন পুরুষের জন্য ও আত্মহত্যা করতে পারবে না কোনোদিন।

সুনয়ন কানে কানে বলল, ‘ভালোবাসি ভুলে যেও না কখনও।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *