কথাকলি কোথায় – ১

হাই তুলছে প্যাঁচারা। শেষ বাঁশিটা বাজিয়ে ঘরে ফিরছে নাইট গার্ড। ঘুম ভাঙেনি মেয়েটার। ঘুম ভাঙেনি, কারণ ভাঙার প্রয়োজনই হয়নি। সারারাত শুধু শেষ রাতের অপেক্ষায় জেগে থেকেছে। পিছনের বাঁশবন দিয়ে পালাতে হবে তাকে। সেইমতো একটা ব্যাগে যতটা সম্ভব জামাকাপড় আর কিছু টাকা ভরে বেরিয়ে পড়ল। পায়ের নিচে মচরমচর শব্দগুলো ভীষণ কানে লাগছে। বাদল বাইক নিয়ে দাঁড়াবে বলেছে স্কুল মাঠটার সামনে।

দাঁড়াবে তো? ঠকাবে না?

.

বাঁশবন পেরিয়ে রাস্তায় উঠতে যাবে সবে ঠিক তখনই রাতের প্রহরী পিচের রাস্তায় লাঠি ঠুকছে। দু-পা পিছিয়ে এল মেয়েটা। লোকটা সরে যেতেই রাস্তায় উঠে ব্যাগ নিয়ে দৌড় স্কুল মাঠের দিকে। একটু দেরিই হয়ে গেছে। ফরসা হয়ে উঠছে আশেপাশের জনবসতি। আলো ফোটার আগেই এলাকা ছাড়তে হবে। ওই, ওই তো কে যেন বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে। হ্যাঁ, ওটাই বাদল। হুড়মুড়িয়ে ছুটে গেল মেয়েটা তার ভালোবাসার মানুষটার কাছে। প্রেমিকার ব্যাগটি নিয়ে নিজের বুকের কাছে রেখে বলল, ভেবে দ্যাখ। ভুল করছিস না তো?

এক কথা কেন বলো?

মেয়েটি উষ্ণ প্রতিবাদ জানাল। ছেলেটি বলল, পরে আফশোস হবে না তো?

ভোর হয়ে যাচ্ছে বাদল। কেউ চিনে ফেললে সর্বনাশ হবে। চলো।

.

মেয়েটি বাইকে চাপল। পায়ের চাপে বাইক স্টার্ট দিল বাদল। মেয়েটিকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে দূরে হারিয়ে গেল ছেলেটি। এক নতুন ভোরের স্বপ্নে।

.

সোমেন সরকার ব্যাগ ভরতি টাকাটা অফিসের লকারে তুলে মিষ্টি করে হাসল। মেহগনি কাঠের সুদৃশ টেবিলের ওপারে বসে থাকা পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি হাইটের মোটা লোকটার দিকে তাকিয়ে বলল, চিন্তা নেই। সপ্তাখানেকের মধ্যে তোমার কাজ হয়ে যাবে।

পাশের ওইটুকু জমি না পেলে ছেলের দোকানটাই হবে না স্যার।

আমার উকিলকে পাঠিয়ে দেব। ওনাকে সব বুঝিয়ে দিয়ো। পাশের ল্যান্ড ওনারের সঙ্গে যা কথা বলার উকিলই বলবে।

ভীষণ টেটিয়া লোক স্যার।

সোমেনের বাঁ-দিকের ঠোঁটটা হাসিতে বেঁকে গেল। সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলল, যে কেউ এসে আমার জমি হাতিয়ে নিয়ে যাবে আর আমি টেটিয়াগিরি করব না তা কি হয় আবদুল? ফক ফক করে ধোঁয়া ছেড়ে হাত নেড়ে সোমেন বলল, ওসব নিয়ে ভেবো না। রাত হয়েছে বাড়ি যাও। আবদুল গদগদ ভাব নিয়ে শুকনো ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে গেল। সোমেন হাঁক দিল, বিন্টুউউউউ, এই বিন্টুউউউ। আট সেকেন্ডের মাথায় একটা লোক ঘরে ঢুকে এল। মাঝারি হাইট, কালো বর্ণ। চোখগুলো চকচক করছে যেন সব কিছুতেই সে লোভনীয় কিছুর সন্ধান করে চলেছে।

বলুন স্যার।

সন্দীপ উকিলকে কাল একবার আমার বাড়িতে আসতে বলিস। আবদুলের কাজটা সালটাতে হবে।

মালকড়ি তাহলে ছেড়েছে?

ছাড়বে না মানে? এই এম.এল.এ-কে ছাড়া ওর কাজ উদ্ধার হবে নাকি? সমস্যা শুধু ভবতোষ মান্নাকে নিয়ে। সন্দীপকে শক্ত হাতে হ্যান্ডেল করতে হবে।

হ্যাঁ স্যার। লোকটা আবদুলকে অলরেডি কোর্ট কাছারির ভয় দেখিয়ে রেখেছে।

.

কথাটা শুনে সোমেনের একটা ভুরু বেঁকে গেল। আনমনে কিছু ভাবতে ভাবতে ঠোঁট উলটাল। সিগারেটে একটা সুখটান মেরে বলল, ভবতোষের মেয়েটা কোন ক্লাসে পড়ছে রে?

এই তো সবে কলেজে উঠল।

বাহ! ভালো ভালো। বেশ লম্বা হয়েছে মেয়েটা। দেখছিলাম সেদিন পাড়ায় এসেছিল সুরজিৎদের বাড়ি। গানের রিহার্সাল ছিল।

হ্যাঁ স্যার। চেহারাটাও বেশ নজরকাড়া।

সোমেনের চোখদুটো ঝট করে বিল্টুর দিকে ঘুরে গেল। বিল্টু মুখ নামিয়ে লজ্জা পেল।

আজকের কোনো আপডেট আছে?

বিল্টু বুঝল ভবতোষের মেয়েকে নিয়ে কথা বলাটা এখানেই থামাতে হবে। বলল, দুবার ফোন করেছিলাম। অমিয়র ফোনটা বেজে গেল।

এটা এতক্ষণ জানাসনি আমায়?

তড়পে উঠল সোমেন। একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই… বাকি কথাগুলো গিলে নিল সোমেন। বিল্টুকে বলল, এখন যা। সন্দীপ উকিলের সঙ্গে কথা বল।

হ্যাঁ স্যার।

বিন্টু মোবাইলে সন্দীপের নম্বরটা খুঁজতে খুঁজতে বেরিয়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে সোমেনের মোবাইলটা ডাকাডাকি শুরু করল। বেশ উত্তেজিত হয়েই ফোনটা রিসিভ করল সোমেন, হ্যালো। হ্যাঁ বল।… কী হয়েছে? চোখ-মুখ মুহূর্তে পালটে যেতে থাকে সোমেনের। বাকিরা কোথায় মাড়াচ্ছিল? দাঁতের সঙ্গে দাঁত চেপে বলে ওঠে সোমেন। যা উত্তর আসে তাতে সোমেনের এলিয়ে থাকা শিরদাঁড়াটা সোজা হয়ে যায়। নিশ্বাস জড়ো হয়ে আসে গলার কাছে।

.

বাড়ির বেলটা বাজিয়েই চলেছে। গলদঘর্ম সোমেন সরকার। নিজের এসি গাড়ি চড়েই এসেছে বাড়িতে। নতুন অফিস থেকে নিজের বাড়ি আসতে মিনিট দশেকের বেশি লাগে না। এবার আর বেল না বাজিয়ে দুমদুম করে দরজা ধাক্কাল সোমেন। ভিতর থেকে সোমেনের স্ত্রী কস্তুরী দরজাটা খুলল। প্রায় হুমড়ি খেয়ে ভিতরে ঢুকে এল সোমেন। কস্তুরী আবার দরজাটা বন্ধ করে দিল।

কলি কোথায়? বাড়ি ফেরেনি?

উত্তেজিত অথচ নিচু গলায় প্রশ্ন করল সোমেন। কস্তুরী চোখ তুলে তাকাল না। সোমেন আবার প্রশ্ন করল, কলি কোথায় কস্তুরী? রাত হয়েছে তো। বাড়ি ফেরেনি এখনও? কস্তুরী এবারেও নির্বাক। মাটির দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে। দাঁতে দাঁত চিপে আবারও একই প্রশ্ন আওড়াল সোমেন, কলি কোথায়? উত্তর দাও। শেষটায় ধমকে উঠতে কস্তুরী কেঁপে উঠল। লাল চোখদুটো তুলে স্বামীর দিকে চাইল।

***

বাতাসের গায়ে ভোরের আলো লাগতেই স্বয়ম্ভু বেরিয়ে পড়েছে মর্নিং ওয়াকে। আজকাল আর রোজ মর্নিং ওয়াকে বেরোনো হয়ে ওঠে না। বেশিরভাগ দিনই শুতে শুতে রাত দুটো-তিনটে। ম্যাও কেসটা সলভ করার পর ডিপার্টমেন্টে যেমন স্বয়ম্ভু সেনের সম্মান বেড়েছে তেমনি পাশাপাশি দায়িত্বও বেড়েছে অনেক। উঠতে বসতে নানা বিভাগের লোকে খালি স্বয়ম্ভুর দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দেয়। একটা কেস স্বয়ম্ভুকে লালবাজারের মুশকিল আসান বানিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ আবার খিল্লি করে স্বয়ম্ভুকে ম্যাও গোয়েন্দা বলেও ডাকতে শুরু করেছে। লালবাজারের

করিডোরে কেউ যদি ম্যাও করে ডেকে ওঠে তাহলে চোখ-কান বুজে লোকে বুঝে ফেলে কাকে ডাকা হচ্ছে। অবশ্য কেউ কেউ আছেন যাঁদের স্বয়ম্ভুর এই সম্মানে বেশ ভালোই মটকা জ্বলছে, তাঁরা কোনো কেস না থাকলেও নিজেদের কাজগুলো স্বয়ম্ভুর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় সবসময় মুখিয়ে থাকে।

.

ছুটতে ছুটতে গালদুটো লাল হয়ে উঠেছে স্বয়ম্ভুর। পকেটে মোবাইলটা ডাইব্রেট করছে। ছোটা থামিয়ে ফোনটা হাতে নিতেই চক্ষু চড়কগাছ। খোদ জয়েন্ট সিপি শুভঙ্কর কাঞ্জিলালের ফোন।

গুড মর্নিং স্যার।

ফোনটা ধরেই স্বয়ম্ভু বলল। ওপার থেকে ঘুম জড়ানো গম্ভীর আওয়াজটা যা জানাল তাতে স্বয়ম্ভু বুঝল আবারও একটা বড়োসড়ো বাঁশ সাতসকালে ধেয়ে এসেছে তার দিকে। পরক্ষণেই তার মনে চলকে ওঠা এমন নেতিবাচক ভাবনাকে পায়ে পিষে মুচকি হেসে ওঠে সে। গোয়েন্দা হয়ে লাভ কী, যদি সে কোনো স্পেশ্যাল কেসই না পায়!

সকাল নটা ছয়। স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী এসে পৌঁছোল ঠাকুরপুকুরে এম.এল.এ সোমেন সরকারের প্রাসাদোপম বাড়ির সামনে। গাড়ি থেকে নেমেই সানগ্লাসের কাচ ঠেলে স্বয়ম্ভুর চোখ এপাশ-ওপাশ মেপে নিল। বেশ কয়েকটা টিভি চ্যানেল আর খবরের কাগজের রিপোর্টার অলরেডি ভিড় জমিয়ে তাদের হালুমহুলুম চালু করে দিয়েছে। হ্যাঁ, স্বয়ম্ভুর এগুলোকে হালুমহুলুম বলেই মনে হয়। মন্ত্রীর গায়ে মশা বসলেও সেই খবর এঁরা গলার শির ফুলিয়ে এমন উচ্চৈঃস্বরে তেড়েমেরে পরিবেশন করেন যেন মহাজাগতিক কোনো বিস্ফোরণ ঘটতে চলেছে। আর এখন তো এমনিতেই ধুন্ধুমার ঘটনা ঘটে গেছে।

খোদ এম.এল.এ-র একমাত্র মেয়ে উধাও। বেহালা পূর্ব বিধানসভার এম.এল.এ শ্রী সোমেন সরকারের একমাত্র মেয়ে কথাকলি সরকারকে কাল রাত থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। কাল সন্ধেবেলা এক বন্ধুর জন্মদিনে গিয়েছিল কথাকলি। সেখান থেকে তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। আজ সকালে বেহালা পূর্ব বিধানসভার এম.এল.এ নিজে এসে থানায় জানান ঘটনাটি। স্বভাবতই ভীষণ ভেঙে পড়েছেন তিনি।

মুহূর্তের মধ্যে কয়েকজন স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গীকে ছেঁকে ধরল। আগের কেসটা মিডিয়ার কাছে স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গীকে বেশ পরিচিতি দিয়েছে।

স্বয়ম্ভুবাবু, সোমেনবাবুর মেয়ের কিডন্যাপের পিছনে কার হাত আছে? আপনারা কাকে সন্দেহ করছেন?

সোমেনবাবুর মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না। কিডন্যাপ হয়েছে বলে তো আমাদের কাছে কোনো খবর নেই।

সঙ্গে সঙ্গে আরেক সাংবাদিক ঝাঁপিয়ে গুতিয়ে সামনে ঝুম ধরে শুধোল, এটা বিরোধীপক্ষের কোনো ষড়যন্ত্র বলে পুলিশ সন্দেহ করছে কি?

শুনুন, আমাদের কাছে সবে খবর এসেছে। এখনও কোনো তদন্তই শুরু হয়নি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না, সরি।

রিপোর্টারদের ঠেলে বেরিয়ে গেল স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী। সোমেনবাবুর মেরুন রঙের বর্ডার দেওয়া সাদা রঙের বাড়ি। সামনে বেশ বড়োসড়ো বাগান। বর্ষাকাল হলেও এখনও কিছু গাঁদা ফুটে আছে। সঙ্গে সূর্যমুখী, অপরাজিতা, সাদা আর লাল গোলাপ, তিন রকমের জবাফুল। মাঝবয়সি বেঁটেখাটো মালি মানুষটি গাছে জল দিচ্ছে। দুটো সিসিটিভি চোখে পড়ল স্বয়স্তুর। সানগ্লাসটা খুলে সোজা প্রবেশ দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

স্যার, মালির ঘাড়ে ট্যাটু।

স্বয়ম্ভুর ঘাড়ের কাছে কথাগুলো আওড়াল শিবাঙ্গী। সোজা যেতে যেতেই স্বয়ম্ভু জবাব দিল, শিয়োর? জরুল নয় তো?

ডিজাইন করা জরুল?

.

দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরী আটকাল স্বয়ম্ভুদের, কোথা থেকে আসছেন?

লালবাজার।

উত্তর দিতে দিতে পকেট থেকে আইকার্ডটা লোকটির সামনে মেলে ধরতেই লোকটির দৃষ্টি যেন একটু সজাগ হয়ে গেল। আসলে স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী দুজনেই সাধারণ পোশাকে এসেছে।

আপনি কি চব্বিশ ঘণ্টার গেটকিপার?

স্বয়ম্ভুর প্রশ্নে একটু বিরক্তই হল লোকটি। গম্ভীর গলায় জবাব দিল, আমি পার্টির লোক। গেটকিপার নই।

ওহ! সরি। একটু সোমেনবাবুর কাছে যাব।

ওনাকে ডক্টর দেখছেন।

ডক্টর কেন?

দাদার সঙ্গে এত বড়ো একটা ঘটনা ঘটে গেল। প্রেশার-টেশার বেড়ে শরীর খারাপ হয়েছে বোধহয়।

বেশ।

আর কোনো কথা না বলে স্বয়ম্ভু নিজেই দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে গেল। সঙ্গে শিবাঙ্গীও।

আরে আরে দাঁড়ান। ঢুকে যাচ্ছেন যে? দাদা পারমিশন দিলে তারপর…

পুলিশ পারমিশন নেয় না। পারমিশন দেয়। আমরা না বলা পর্যন্ত ভিতরে ঢুকবেন না। বাইরে দাঁড়ান।

কথাটা স্বয়ম্ভু নয়, শিবাঙ্গী বলল। যতই পুলিশ হোক, একটা মেয়েমানুষই তো। তার মুখে এমন লপরচপর কথা কোনো পুরুষসিংহেরই সহজে হজম হওয়ার নয়। তাই ঢ্যাঁটার মতো পথ আটকেই দাঁড়িয়ে রইল।

আপনার কি কানে প্রবলেম আছে? শুনতে পেলেন না?

কড়া গলায় মোচড় দিতে লোকটা শিবাঙ্গীকে মেপে নিয়ে বাইরে চলে গেল।

.

নিচের ডাইনিংটা শো-রুমের মতো করে সাজানো। চেয়ার, টেবিল, সোফা, শো-পিসের আলমারি সবই দামি কাঠের তৈরি। দেয়ালে ঝুলছে বড়ো একটা ফ্যামিলি পিকচার। সোমেন, কস্তুরী আর তাদের একমাত্র মেয়ের ছবি। তিনজনেই ভীষণ খুশি। তিনজনের মুখেই হাসি। শুধু কস্তুরীর মুখের হাসিটা যেন বড্ড মেকি ঠেকল স্বয়ম্ভুর চোখে। পাশে স্বামী সন্তান নিয়েও মহিলার মুখের হাসিটা এমন মেকি কেন? সারা ঘরটাতে স্বয়ম্ভু এক চক্কর চোখ বুলিয়ে নিল। শিবাঙ্গী বলল, এখানে সিসিটিভি নেই স্যার।

সামনে কি আর রাখবে শিবাঙ্গী? সোমেন সরকার যা ঝানু তাতে কোনো শো-পিসের পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা অসম্ভব কিছু না।

শো-পিসের আলমারির দিকে আরও একবার দৃষ্টি ফেলল শিবাঙ্গী। ঘরের মধ্যেও গোপন ক্যামেরা রাখা অসম্ভব কিছু না। বড় মানুষের বড় বড় ব্যাপার! কিন্তু দুজনেই কিছু খুঁজে পেল না।

ওপরে এসো।

শিবাঙ্গীকে ডেকে স্বয়ম্ভু তরতর করে দোতলায় উঠে গেল। বেশ কয়েকজন লোক ঘুরঘুর করছে। সকলেই হাঁ করে স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গীর দিকে তাকিয়ে। চার-পাঁচ জন লোকের দিকে তাকিয়েই প্রশ্ন ছুড়ে দিল স্বয়ম্ভু, সোমেনবাবু কোন ঘরে? একজন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সেই ঘর থেকেই রোগাসোগা একটি ছেলে, বয়স আঠাশ-ঊনত্রিশের বেশি নয়, চায়ের ট্রে হাতে বেরিয়ে এসে সিঁড়ি বেয়ে নিচে চলে গেল।

ঠক ঠক।

আসতে পারি?

দরজায় মৃদু টোকা মেরে প্রশ্ন করল স্বয়ম্ভু। বিছানায় শুয়ে ছিল সোমেন। বিছানার পাশে একটি চেয়ারে বসে ডাক্তার। প্রেসক্রিপশন লিখছে। ঘরে আর বাড়ির কেউ নেই। সোমেন সাড়া দিল, কে?

লালবাজার ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট থেকে স্বয়ম্ভু সেন।

দুপলক চুপ থেকে সোমেন আসতে বলল। স্বয়ম্ভু আলাপ করিয়ে দিল শিবাঙ্গীর সঙ্গে। সোমেন বসতে বলল।

না না আমরা ঠিক আছি। আপনার শরীর কি খারাপ হয়েছে?

আমার কথা বাদ দিন। আমি গেলেই বাঁচি। আমার মেয়েটাই…

গলা বুজে এল সোমেনের। ডাক্তার বললেন, প্লিজ সোমেনবাবু, আপনার প্রেশার কিন্তু যথেষ্ট হাই। এই সময়…

কথা শেষ করার ফুরসত না দিয়েই স্বয়ম্ভুর প্রশ্ন, প্রেশার কত ডাক্তারবাবু? ডাক্তার একটু হকচকিয়ে গেল, অ্যাঁ প্রেশার! ওই তো একশো আশি বাই একশো দশ।

বাবা এ তো অনেক বেশি! আপনি তো এমনিই হাই প্রেশারের রোগী, তাই না সোমেনবাবু?

আমার কথা বাদ দিন না। আমার মেয়েটাকে খুঁজে দিন। প্লিজ। কিছু একটা করুন।

স্বয়ম্ভুর প্রশ্নটা বেশ সযত্নে এড়িয়ে গেল সোমেন সরকার।

.

ঘরের মধ্যেই একটা কাচের সেন্টার টেবিল ঘিরে দুটো কাঠের চেয়ার রাখা ছিল। তার থেকে একটা টেনে এনে সোমেনের বিছানার কাছে বসল স্বয়ম্ভু। শিবাঙ্গী খাটের কোণাটায় এসে দাঁড়াল।

কিছু প্রশ্ন ছিল সোমেনবাবু

সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বলে উঠল, এই সময় ওনার কথা বলাটা কিন্তু ঠিক নয়। স্বয়ম্ভু চোখ বেঁকিয়ে ডাক্তারের দিকে চেয়ে বলল, তাহলে মেয়েটা নিরুদ্দেশ হয়েই থেকে যাবে।

আঃ ডক্টর সোম। আমি ঠিক আছি। আপনি বলুন স্বয়ম্ভুবাবু।

ঠিক কবে থেকে আপনার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না?

স্বয়ম্ভুর প্রথম প্রশ্নতেই ভুরু দুটো কুঁচকে গেল সোমেনের। একটা গভীর

শ্বাস নিয়ে সোমেন বলল, সারা কলকাতা শহর এখন সেটা জেনে গেছে স্বয়ম্ভুবাবু। আর আপনি জানেন না?

আমরা ভায়া খবরে বিশ্বাস বা ভরসা করি না সোমেনবাবু।

কাল।

গম্ভীর হয়ে উত্তর দিল সোমেন। পালটা প্রশ্ন করল স্বয়ম্ভু, থেকে পাওয়া যাচ্ছে না?

রাত সাড়ে এগারোটাতেও যখন বাড়ি ফিরল না তখন আমরা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি। পরশু সন্ধেবেলা ওর এক বন্ধুর জন্মদিন ছিল। সেখানেই গিয়েছিল। সারারাত পার্টি হবে বলে বন্ধুর বাড়িতেই থেকে গিয়েছিল। কাল ফিরবে বলেছিল। কিন্তু রাত হয়ে গেল, কলি ফিরল না। তখন বাড়ি থেকে আমায় খবর দেয়।

আপনি কোথায় ছিলেন?

আমার অফিসে।

কে খবর দেন?

কস্তুরী। আমার স্ত্রী। আমি বাড়ি চলে আসি।

তারপর? কোনো বন্ধুকে কল করেছিলেন?

আমার কাছে ওর বন্ধুদের নম্বর ছিল না। একজনের নম্বর ছিল কস্তুরীর কাছে। তাকে ফোন করে জানতে পারলাম সে যায়নি।

কী নাম তার?

কার?

ওই যে বন্ধুকে কল করেছিলেন।

আমি ঠিক….

খানিক আমতা-আমতা করে সোমেন বলল, আসলে আমি তেমন করে কাউকেই চিনি না। তাই নামও জানি না। কস্তুরী জানতে পারে।

জন্মদিন কার ছিল?

দুপাশে মাথা নেড়ে সোমেন বলল, জানি না। ও কখন কোথায় যায় কিচ্ছু বলে যায় না।

আপনারাও খোঁজ করেন না? একটা উঠতি বয়সের মেয়ে কী করছে, কোথায় যাচ্ছে?

বড়ো হয়েছে। সব কিছু বোঝার বয়সও হয়েছে। আমার সব কাজ বাদ দিয়ে ওর পিছনে পড়ে থাকার মতো সত্যিই আমার সময় নেই স্বয়ম্ভুবাবু। কিন্তু আজ বুঝছি কতখানি ভুল করেছি। কস্তুরীর হাতে সব কিছু ছেড়ে দেওয়া আমার উচিত হয়নি।

কস্তুরী ম্যাডাম কোথায়?

শেষ রাতেও যখন মেয়ের কোনো খবর পাওয়া গেল না, সেই তখন থেকে ও ঠাকুরঘরে বসে আছে। একবারের জন্যেও বেরোচ্ছে না। আমার যে শরীর খারাপ সেটাও ও জানে না।

কথাটা শেষ করেই অতিরিক্ত বিচলিত হয়ে উঠল সোমেন। সোজা হয়ে বসে স্বয়ম্ভুকে বলল, স্বয়ম্ভুবাবু, আমি সব ছেড়ে দেব। জ্ঞানত কারও কোনো ক্ষতি করিনি আমি। বরং উপকারই করতে চেয়েছি। তাও তো কম শত্ৰু নেই আমার। আমার কিচ্ছু চাই না বিশ্বাস করুন। এই পদ, এই সম্মান সব ছেড়ে দেব। প্লিজ আমার মেয়েটাকে সুস্থ জীবন্ত খুঁজে এনে দিন। প্লিজ।

.

এবার ডাক্তার আরও বিচলিত হয়ে সোমেনকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগল। সোমেন কেঁদে ফেলল। স্বয়ম্ভুও বোঝাবার চেষ্টা করল। শান্ত হতে বলল কিন্তু সোমেন আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠল। ডাক্তার বাধ্য হয়ে বলল, স্যার প্লিজ, আপনাদের যা প্রশ্ন করার পরে করবেন। আগে ওনাকে সুস্থ হতে দিন। স্বয়ম্ভু আসন ছেড়ে উঠে পড়ল। ডাক্তার সোমেনকে ধরে শুইয়ে দিল।

.

ঘরের বাইরে বেরোতেই একজন লোকের মুখোমুখি স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী। ছাইরঙা জিনসের ওপর সাদা হাফ পাঞ্জাবি। ঘরের ভিতরেই ঢুকতে যাচ্ছিল বোধহয়। লোকটি জিজ্ঞেস করল, দাদার আবার কি শরীর-টরির খারাপ করল?

হুম। আপনি পার্টির লোক?

স্বয়ম্ভুর কথা শুনে লোকটি হাসল। বলল, ভাই।

কী নাম?

ভূপেন সরকার।

কস্তুরীদেবী কি এখনও ঠাকুরঘরে?

শিবাঙ্গী জানতে চাইল। লোকটি ঘাড় নাড়ল। ওপরের দিকে আঙুল তুলে বলল, ওপরে। যেতে পারেন। স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী দুজনেই ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখল ঠাকুরঘর সংলগ্ন করিডোরের রেলিং ধরে সেই ছেলেটি দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে যে চায়ের ট্রে নিয়ে সোমেনের ঘর থেকে বেরিয়েছিল একটু আগে। ওপরের সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে যাবে অমনি একটি লোক এগিয়ে এসে বাধ সাধল, ম্যাডাম কাউকে অ্যালাউ করছেন না। পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। লোকটার মাথা থেকে পা পর্যন্ত একঝলক চোখ বুলিয়ে স্বয়ম্ভু আর শিবাঙ্গী দুজনেই সিঁড়ি ধরে তরতর করে উঠে চলে গেল। লোকটার চোখ-মুখ লাল হয়ে উঠল। ওপরের রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটিও ভিতরের দিকে চলে গেল।

একটা অসুস্থ লোকের ঘরে ডাক্তার ছাড়া কেউ নেই।

শিবাজী বলল।

অথচ সবাই আছে বাইরে দাঁড়িয়ে। কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। কেন?

সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে উত্তর দিল স্বয়ম্ভু।

শোকের যথেষ্ট কারণ আছে মানলাম। কিন্তু স্বামী অসুস্থ অথচ স্ত্রীর কোনো ভ্রূক্ষেপই নেই?

নিচের ডাইনিংয়ের দেয়ালে ফ্যামিলি পিকচারে কস্তুরীদেবীর হাসিটা ভীষণ ফিশি। কষ্ট করে হেসেছে।

ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা আমাদের দেখেই সরে গেল।

খবর দিতে গেল।

.

এদিক-ওদিক দেখে ঠাকুরঘর খুঁজে পেতে অসুবিধে হল না স্বয়ম্ভুর। সেই ছেলেটি ঠাকুরঘরের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ক্রমাগত বলে চলেছে, বউদি একটু কিছু খেয়ে নিন। গ্যাসের ব্যথা শুরু হলে আপনারই কষ্ট হবে।

এক্সকিউজ মি।

স্বয়ম্ভুর গলা শুনে ছেলেটি ফিরে চাইলেও ভিতরে স্থির হয়ে বসে থাকা মহিলাটির কোনো নড়াচড়া লক্ষ করা গেল না।

আপনারা?

ছেলেটি জিজ্ঞেস করল।

লালবাজার ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট থেকে স্বয়ম্ভু সেন আর শিবাঙ্গী বসু।

উত্তরটা ছেলেটিকে নয়, কস্তুরীদেবীকে শোনাল। শিবাঙ্গী ভারি আশ্চর্য হয়ে স্বয়ম্ভুর দিকে তাকাল। এবারেও মহিলাটির কোনো হেলদোল নেই।

উনি কখন থেকে এখানে বসে?

ছেলেটিকে প্রশ্ন করল স্বয়ম্ভু। রোগাপাতলা ছেলেটি উত্তর দিল, ঠিক জানি না। আমি এসে দেখি এই অবস্থা।

তুমি এ বাড়িতে থাকো না?

না স্যার।

কী নাম তোমার?

ঈশ্বর দাস।

এখানে কী কাজ করো?

ওই চা-জলখাবার দেওয়া। ঘর ঝাড়মোছ করা।

কদ্দিন করছ?

ছবছর হয়ে গেল। আমি আসি স্যার। আপনারা কথা বলুন।

.

কথাটা বলেই পিছন ফিরে তিন পা বাড়াতেই স্বয়ম্ভু থামাল, শোনো ঈশ্বর, বাইরের বাগানে যিনি ফুলগাছে জল দিচ্ছেন তিনি তোমার কে হন? জুলজুলে চোখ তুলে ঈশ্বর জানাল, বাবা। শিবাঙ্গী থ। স্বয়ম্ভু কীভাবে বুঝল ঈশ্বর মালির কেউ হয়? শিবাঙ্গীর মনের প্রশ্নটা ভালোই বুঝল স্বয়ম্ভু। তাই প্রশ্ন করার আগেই শিবাঙ্গীর কানের কাছে মুখ এনে বলল, ঈশ্বরের ঘাড়ের কাছেও একইরকমের ট্যাটু। মনে হয় জন্মদাগ। কখন আর কীভাবে যে ঈশ্বরের শার্টের কলারের ফাঁক দিয়ে জন্মদাগটা দেখে ফেলল কে জানে!

.

একটু ভিতরে আসছি ম্যাডাম।

স্বয়ম্ভু আর উত্তরের অপেক্ষা করল না। কারণ সে আশা করা যে বৃথা সেটা ভালোই বুঝে গেছে। পিছু পিছু শিবাঙ্গীও ভিতরে ঢুকে এল। শুধু জুতোটাকে বাইরে খুলে রাখল। ঠাকুরঘরের মেঝেটা সুদৃশ গালিচায় ঢাকা। দরজার সোজাসুজি লাল কাপড় মোড়া বেদির ওপর বেশ বড়োসড়ো পাথরের সিংহাসন। সেখানে বংশীধারী শ্রীকৃষ্ণ শোভা পাচ্ছেন। পাশে রাধা নেই। কৃষ্ণের পিছনে ময়ূরের পালক দিয়ে চালচিত্র মতো করা। ইষ্টের দিকে একমনে চেয়ে আছে কস্তুরীদেবী। গায়ে অত্যন্ত সাধারণ একটা শাড়ি পরা। হাতে শাঁখা পলা। গলায় তুলসীর কণ্ঠী। ছোট্ট সোনার একটা দুল কানের লতিতে কস্তুরীর মতোই নিষ্প্রাণ। চুলটা পিঠের ওপর খোলা। স্বয়ম্ভু কোনো দ্বিধা ছাড়াই পাশে এসে বসল। দুজনের মাঝে পিছনে হাঁটু মুড়ে বসল শিবাঙ্গী। খুব নরম স্বরে স্বয়ম্ভু বলল, কিছু কথা ছিল মিসেস সরকার। মানে কিছু প্রশ্ন।

এতক্ষণে কস্তুরীর মাথাটা পাশে স্বয়ম্ভুর দিকে ঘুরল। কস্তুরীর চোখের দিকে তাকিয়ে স্বয়ম্ভুর হাড়ে যেন বরফের হাওয়া লাগল। একটা জলজ্যান্ত মানুষের চোখ এতটাও হিমশীতল হতে পারে? যে তাকাবে তার চোখ দুটোই যেন জমে পাথর হয়ে যাবে।

.

ঈশ্বর দুধাপ সিঁড়িতে নেমেও আবার উঠে এল। ঠাকুরঘরের দিকে তাকাল। অত্যন্ত নীরবে হেঁটে দরজার পাশে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়াল। ভিতর থেকে স্বয়ম্ভুর গলা ভেসে এল।

কথাকলির সঙ্গে আপনার শেষ কখন দেখা হয়?

নিরুত্তর কস্তুরী। শিবাঙ্গীর দিকে স্বয়ন্তু চোখের ইশারা করতেই অত্যন্ত নরম স্বরে শিবাঙ্গী বলল, ম্যাডাম, আপনি চুপ করে থাকলে আমরা আপনার মেয়েকে কী করে খুঁজে দেব বলুন? আপনি মা। সন্তানের সব ভালো-মন্দের সবচেয়ে বড়ো সাক্ষী। প্লিজ, আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিন।

.

কস্তুরীর মুখে কোনো পার্থক্য হল বলে মনে হল না। মোবাইলটা বেজে উঠল স্বয়ম্ভুর। ফোন ধরে খুব সংক্ষেপে কথা সারল। শিবাঙ্গীকে বলল, সব রেলস্টেশন, এয়ারপোর্ট, বর্ডার এরিয়ায় স্পেশ্যাল পুলিশ পোস্টিং ডান। কেউ যদি কথাকলিকে কোনোভাবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে হাতেনাতে ধরা পড়বে। শিবাঙ্গী বলল, কিন্তু স্যার কথাকলি যদি কিডন্যাপড হয়ে থাকে তাহলে কবে করা হয়েছে? কাল হলে আমাদের হাতের মধ্যেই থাকবে আশা করি। কিন্তু যদি পরশু হয়…! কথার ধরতাই ধরে সরাসরি কস্তুরীকেই কথা ছুড়ে দিল স্বয়ম্ভু, সবই তো শুনলেন মিসেস সরকার। প্লিজ চটপট জবাব দিন। আপনার সঙ্গে কথাকলির লাস্ট কবে কখন কথা হয়েছে? কৃষ্ণের মূর্তির দিকে চেয়েই কস্তুরী বলল, পরশু দেখা হয়েছে। সন্ধেবেলা বেরোবার পর আর কথা হয়নি।

পরশু মানে বুধবার! তারপর? মানে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়ার পর কোনো ফোন কল হয়নি?

দুপাশে মাথা নাড়ল কস্তুরী।

শিবাঙ্গীর প্রশ্ন, সোমেনবাবু বললেন আপনি ওর কোনো বন্ধুকে ফোন করেছিলেন, তার নাম কী? কাইন্ডলি ফোন নম্বরটা এখুনি দিন আমাদের।

ফোনটা কোথায় আছে জানি না। হয়তো ঘরে।

সেটা এখুনি লাগবে আমাদের।

স্বয়ম্ভু বলল। কস্তুরী জানাল ঈশ্বর খুঁজে দিতে পারে। শিবাঙ্গী স্বয়ম্ভুকে বলে উঠে পড়ল ঈশ্বরকে খুঁজতে। বাইরে যেতেই থমকে গেল। ঈশ্বর দরজার পাশেই।

তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন?

শিবাঙ্গীর কথা শুনে স্বয়ম্ভু সতর্ক হয়ে তাকাল। ঈশ্বর আমতা-আমতা করছে দেখে কস্তুরীই জবাব দিল, আমার ওপর নজর রাখতে। আমায় না গেলাতে পারলে ওর শান্তি নেই। কথাটার ভিতর রাগ না স্নেহ আছে স্বয়ম্ভু ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। শিবাঙ্গী ঈশ্বরকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল।

.

এদিকে স্বয়ম্ভু বলল, আপনার মেয়ে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে তো?

হুম।

কোনো বিশেষ বন্ধু আছে কি?

জানি না। ওর ব্যাপারে সবাই নাক গলাক সেটা পছন্দ করত না। রিসেন্টলি মেয়ের মধ্যে কোনো চেঞ্জ লক্ষ করেছিলেন?

না।

কাল যখন সারাদিনে মেয়ে ফিরল না তখন আপনি ফোন করেননি?

করেছিলাম। তোলেনি।

কোনো সন্দেহ হয়নি?

প্রথমবার তো নয়।

তার মানে এর আগেও এমন অনেকবার দিনের পর দিন ফেরেনি এমন হয়েছে?

হুম।

স্ট্রেঞ্জ! তাহলে এবারে মাত্র একদিন ফিরল না বলে পুলিশে কমপ্লেন করলেন কেন? এবারে কি ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল? নাকি আরও অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে?

.

কস্তুরী নিরুত্তর। স্বয়ম্ভু চাপ দেয়, এইভাবে চুপ থাকলে আমরা কিন্তু আপনার মেয়েকে খুঁজে আনতে ব্যর্থ হব। প্লিজ সব সত্যিটা বলুন। এবারে কী এমন হল যার জন্য রাতারাতি কলি নিরুদ্দেশ বলে জানালেন?

কলির বাবাকে জিজ্ঞাসা করুন। উনি জানিয়েছেন। আমি তো কেবল আমার ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা জানিয়েছি।

আপনার কী মনে হয়? কলি এখন কোথায় আছে?

ইষ্টমূর্তির দিকে তাকিয়েই কস্তুরী জবাব দিল, কৃষ্ণ জানেন! গলাটা কেঁপে উঠল কস্তুরীর। হতাশ হয়ে মুখ নিচু করল স্বয়ম্ভু। ঈশ্বরের প্রতি ওর অশ্রদ্ধা নেই ঠিকই, কিন্তু অতি ভক্তি মাঝে মাঝে ভীষণ বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে জীবনে। এটাই স্বয়ম্ভুর বিরক্তির কারণ।

.

এই সময়ে কস্তুরীর ফোন হাতে শিবাঙ্গী এল, ম্যাডাম আপনার ফোনটা। কস্তুরী শিবাঙ্গীর দিকে না তাকিয়েই ডান হাতটা কাঁধের কাছে পাতল।

যার জন্মদিন ছিল তার ফোন নম্বরটা দিন।

স্বয়ম্ভু বলল। কস্তুরী জানাল, তার ফোন নম্বর নেই। শুধুমাত্র ঈশিতার ফোন নম্বরই আছে। অর্থাৎ যাকে ফোন করেছিলেন। স্বয়ম্ভু শিবাঙ্গীকে কল করতে বলল। যথারীতি নম্বর ডায়াল হল। সঙ্গে সঙ্গে শিবাঙ্গীর ভুরুটা কুঁচকে গেল। স্যার, এ তো সুইচড অফ বলছে। কস্তুরী একটু নড়ে উঠল যেন। স্বয়ম্ভু জানতে চাইল ওর বাবা-মায়ের নম্বর আছে কিনা। কস্তুরীর উত্তর যথারীতি হতাশার সৃষ্টি করল।

কোনো বন্ধু কখনও এই বাড়িতে এসেছে?

স্বয়ম্ভুর প্রশ্নে উত্তর দিল কস্তুরী, এসেছে।

নামগুলো জানেন?

তানিয়া, প্রিয়াঙ্কা, সুজন, রক। আরও এসেছে। নাম মনে নেই।

ধন্যবাদ। এবার প্লিজ কিছু খান। এইভাবে না খেয়ে থাকলেই কিন্তু আপনার ঠাকুর আপনার মেয়েকে ফিরিয়ে দেবেন না। তার জন্য আপনাকে সুস্থ থেকে আমাদের সাহায্য করতে হবে।

সপাট গম্ভীর জবাব এল কস্তুরীর, আপনাদের কথা হয়ে গেলে আসতে পারেন। আমি একটু আমার ঠাকুরের সঙ্গে নিভৃতে থাকতে চাই।

.

ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল স্বয়ম্ভু। ঠাকুরঘর থেকে বাইরে এসে ঈশ্বরকে প্রশ্ন করল, কথাকলির ঘরটা কোনটা?

.

সমুদ্রনীল রঙের লম্বা ঘাগরাটা নেমেছে কোমর থেকে। স্লিভলেস বক্ষাবরণী। এলোচুলে ঘাড়টা কাত করা। ওপরের পাটির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা নিচের ঠোঁটটা। এ যেন জোর করে বোঝানো, দ্যাখো শরীরে আমার যৌবন এসেছে। ছয় ফুটের ছবিতে আগুন ছড়াচ্ছে কথাকলি।

কথাকলি কি মডেলিং করত?

স্বয়ম্ভু ঠিক কার কাছ থেকে উত্তর চাইছে সেটা বোঝবার জন্য কয়েক সেকেন্ড চুপ রইল ঈশ্বর। স্বয়ম্ভু ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে ঈশ্বর বুঝল যে উত্তরটা তাকেই দিতে হবে। দিদি গানবাজনা করত।

দিদি! তুমি কলিকে দিদি বলো?

হ্যাঁ।

কিন্তু ও তো তোমার থেকে অনেকটাই ছোটো।

প্রথম একদিন ডেকেছিলাম। রাগ করেছিল। মালিকের মেয়েকে কি আর নাম ধরে ডাকা যায়?

বুঝলাম। তা দিদি কী গান গাইত?

স্টাডি টেবিল, খাট, ওয়্যারড্রবে চোখ বোলাতে বোলাতে জানতে চাইল স্বয়ম্ভু। ঈশ্বর বলল, ইংরেজি গান। মাটির দিকে চোখ বোলাল স্বয়ম্ভু। বেশ নতুন ঝকঝকে গালিচা পাতা। হাঁটলে চললে শব্দ হয় না।

ওদিকে অ্যাটাচড বাথরুমের দরজাটা খুলে ঢুকে পড়ল শিবাঙ্গী। সাবান, শ্যাম্পু সব কিছুই সাধারণের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। স্বাভাবিক। এম.এল.এ-র এক লতি বেটি বলে কথা।

.

ঘরের দেয়ালে আরও একটা দরজা দেখে অবাক হল স্বয়ম্ভু। এটা কীসের ঘর?

দিদির গানবাজনার ঘর।

দরজাটা খুলতে গিয়ে একটু থমকাল স্বয়ম্ভু। নিমেষের ভগ্নাংশে মাটির দিকে চেয়ে কী যেন দেখল। তারপরেই সোজা দরজা খুলে ঢুকে পড়ল। দরজাটা বেশ ভারী। সেটাই স্বাভাবিক। সাউন্ড প্রুফ ঘরের দরজা এমনই হয়। শিবাঙ্গীও এসে ঢুকল। বাবা! এ তো ছোটোখাটো একটা স্টুডিয়ো। সাউন্ড রেকর্ডিং ও মিক্সিংয়ের পুরো সেট আপ বাড়ির মধ্যে দেখে অবাক হয়ে বলল শিবাঙ্গী।

নিজের গান নিজেই হয়তো রেকর্ড করত। এক কাজ করো তো শিবাঙ্গী…

বলেই একটু থামল। ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে বলল, ঈশ্বর একটু চা খাওয়াবে? বড্ড তেষ্টা পেয়েছে।

হ্যাঁ স্যার, নিশ্চয়ই। আপনারা এখানেই থাকুন। আমি নিয়ে আসছি।

থ্যাংক ইউ।

ভারী দরজাটাকে টেনে বেরোতে ঈশ্বরকেও বেশ বেগ পেতে হল। ঘর ফাঁকা হতেই স্বয়ম্ভু বলল, চট করে কথাকলি সরকারের প্রোফাইলটা বের করো তো। ফেসবুক, ইন্সটা কোথায় কোথায় আছে একবার দ্যাখো। শিবাঙ্গী খুঁজতে লাগল। ততক্ষণে মিক্সারের সুইচগুলো ভালো করে দেখছে স্বয়ম্ভু। আসলে একটা সুইচ স্বয়ম্ভুর চোখ টেনে ধরল। মেশিন বন্ধ থাকলে মিক্সারের সব সুইচ নিচের দিকে নামানো থাকে কিংবা ঠিক মাঝখানটায় থাকে। কিন্তু মাঝের একটা সুইচ একটু অড পজিশনে। সেটাতে হাত দিতেই স্বয়ম্ভুর হাতে উঠে এল। অর্থাৎ সুইচটি ভাঙা। দুটো আঙুলের ফাঁকে সুইচটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কী যেন ভাবল আর দেখল স্বয়ম্ভু। তারপর ঘাড়টা একটু পিছনের দিকে কাত করে কাঠের সেট আপের পাশের অংশটায় চোখ রাখল। দেয়ালের নিচের দিকে সিস্টেমের মেন সুইচটা অন করা।

.

ফেসবুক আর ইন্সটা দুটোতেই কথাকলি আছে।

শিবাঙ্গীর কথায় কাত হয়ে থাকা শরীরটা সোজা করে স্বয়ম্ভু বলল, দুটোই সাইবার সেলে দাও। লাস্ট এক মাসের অ্যাক্টিভিটি চ্যাট সব বের করতে বলো।

ওকে স্যার।

এ বাড়িতে যারা কাজ করে তাদের সকলের সঙ্গে বসতে হবে। এখুনি। আলাদা আলাদা করে।

.

কিন্তু এর জন্যে বাড়ির মালিকের পারমিশন তো দরকার। সেটা নিতে গিয়েই স্বয়ম্ভুকে সোমেন সরকার বলল, এ বাড়ির কাজের লোকেরা এ বাড়ির মেম্বার। তাই এমন কিছু বলবেন না যাতে ওরা ভয় পেয়ে কাজ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

অপরাধ না করলে বা অপরাধের সাক্ষী না হলে তারা ভয় পাবেই বা কেন? আর পালাবেই বা কেন?

কথাটা জিভের ডগায় এসেও রাগে ফোঁসফাস করতে করতে গুটিয়ে গেল। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন এসে গেছে। সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তদন্ত যেন এমনভাবে হয় যেখানে সোমেন সরকার বা তার পরিবার বিব্রত বোধ না করে। আর বেশিক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করাও যাবে না। যদিও স্বয়ম্ভু এটাও খুব ভালো করে জানে যে এই খবরগুলো বাইরের মিডিয়া ঘুণাক্ষরেও জানতে পারবে না। কেন? তাহলে কি দলের লোকই এর সঙ্গে জড়িত? বাইরে মিডিয়ারা তো বিরোধীপক্ষকে আসামি বানিয়েই ফেলেছে। যাই হোক, অল্পক্ষণের জন্য হলেও আলাদা ঘরে এক একজন করে জিজ্ঞাসা করার অনুমতি মিলল। কিন্তু সেই ঘরেতেই হাজির থাকল ভূপেন সরকার অর্থাৎ সোমেন সরকারের ভাই। তাই জিজ্ঞাসাবাদ তাকে দিয়েই শুরু হল।

আপনি এ বাড়িতে থাকেন না?

স্বয়ম্ভুর প্রশ্ন।

না। তবে কাছেই থাকি। পাশের পাড়াতে।

বাড়িতে কে কে আছেন?

আমি, আমার স্ত্রী নন্দিনী আর আমার ছেলে শোভন। স্ত্রী হাউজ ওয়াইফ আর ছেলে সবে স্কুল টিচারিতে ঢুকেছে।

বাহ। তা কীভাবে ঢুকল? শিক্ষক পদে নিয়োগ তো বন্ধ হয়ে আছে। শিক্ষকরা এত ধরনায় বসছে।

ভূপেন বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে বোঝাই যাচ্ছে। গলা খাঁকরে নিয়ে বলল, গা সবে পেয়েছে মানে চাকরিটা অনেকদিনই হয়েছিল। এখন পোস্টিং পেল।

ওওও!

স্বয়ম্ভু এমনভাবে ভুরু উঁচিয়ে ও শব্দটি উচ্চারণ করল তাতে যেকোনো হাবাগোবাও বুঝে যাবে যে এই ডাহা ঢপের কেত্তনটি আদপেও বিশ্বাসযোগ্য হল না। যাই হোক, স্বয়ম্ভু আর ঘাঁটাল না। কথাকলি আপনাদের খুব আদরের শুনেছি।

অ্যাঁ? হ্যাঁ। আদরের তো হবেই। আমার দাদার একমাত্র মেয়ে। আমার একমাত্র ভাইঝি।

আপনাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল?

এটা কোনো প্রশ্ন হল? ভাইঝি তো যাবেই কাকার বাড়ি।

সে তো নিশ্চয়ই। কথাকলি কেমন মেয়ে ছিল?

ভালো। খুবই ভালো। ভদ্র। ভীষণ প্রাণখোলা। সবাইকে নিয়ে মেতে থাকতে খুব ভালোবাসত।

সে কী! কস্তুরী ম্যাডাম যে বললেন কথাকলি খুব রিজার্ভ। সব কথা সবাইকে বলত না।

না কই? আমাদের সঙ্গে তো ভালোই হাসিঠাট্টা করত। আসলে বউদি নিজে বরাবরই রিজার্ভ তাই হয়তো ওর সঙ্গে তেমন কমিউনিকেশন ছিল না।

কস্তুরীদেবীর গলায় দেখলাম তুলসীর মালা। উনি কি বৈষ্ণব?

আগে ছিল না। এই লাস্ট দশ বছর হল কোথা থেকে যেন দীক্ষা নিয়েছেন।

কোথা থেকে?

বলতে পারব না।

আচ্ছা, ঝগড়াটা ঠিক কী নিয়ে হয়েছিল?

ঝগড়া? কীসের? কার সঙ্গে?

কথাকলির সঙ্গে বাড়ির লোকের।

কে বলল ঝগড়া হয়েছিল?

তার মানে হয়েছিল।

ভূপেন একভাবে বসে এতক্ষণ কথা বলছিল। এবার একটু গা ঝাড়া দিয়ে সোজা হয়ে বসল। দেখুন আমি তো এই বাড়িতে থাকি না। ঝগড়া হয়ে থাকলেও আমার কাছে কোনো ইনফরমেশন নেই। হলে বউদির সঙ্গেই হতে পারে।

কেন?

আসলে বউদি খুব স্ট্রিক্ট। মেয়েকে সবসময় আগলে রাখত। আর কলির এত বাঁধন সহ্য হত না। ও একটু পার্টি-সার্টি, নাইট আউট করতে পছন্দ করত। সেই নিয়েই মাঝেমধ্যে মা মেয়ের ঝগড়া লাগত।

তার মানে মেয়ের সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক মোটেও স্বাভাবিক ছিল না।

কথাটা সোজাসুজিভাবে এড়িয়ে ভূপেন বলে ওঠে, স্বয়ম্ভুবাবু, অনেকটা সময় হয়ে গেল। এখানে প্রশ্ন না করে বরং বাইরে মেয়েটাকে খুঁজলে বেটার।

.

চিফ মিনিস্টারের দফতর থেকে ফোন আসার পর সোমেনের কথাগুলো স্বভাবের বিপরীতে গিয়ে হজম করেছে স্বয়ম্ভু। কিন্তু এখানে আর চুপ থাকল না। একমুখ হাসি নিয়ে ভূপেনের মুখের ওপর জবাব দিল, এখানে আমি গোয়েন্দা। কী করলে কী হয় সেটা আমি ভালো করেই জানি ভূপেনবাবু। বিচলিত হবেন না। এম.এল.এ-র ভাইয়ের গলা ফুলে ঢোল। শিবাঙ্গী স্পষ্ট দেখতে পেল কড়মড়ে রাগগুলো ভূপেনের গলার নলির কাছে বিজবিজ করছে।

.

কথাকলি পরশুদিন সন্ধেবেলায় কস্টায় বেরিয়েছিল?

সাতটা দশ-পনেরো।

যেন হঠাৎ করে মনে পড়ল এমন ভাব করে পরের প্রশ্নটা করল স্বয়ম্ভু। বলল, ও হো দেখেছেন, আসল কথাটাই জানা হয়নি। বলছি কথাকলি কী রঙের পোশাক পরেছিল একটু বলুন না। তাহলে আমাদের খুঁজতে সুবিধে হয় আর কি!?

ব্লু শেডের ওয়েস্টার্ন ড্রেস। স্ট্রাইপ দেওয়া মতন।

আর বেরোবার আগে কথাকলির সঙ্গে কার ঝামেলা হয়েছিল?

কী আশ্চর্য আমি তো এখানে থাকিই না। আমি কী করে বলব?

হালকা মেজাজ হারায় ভূপেন। স্বয়ম্ভু জিভের ডগায় কথা সাজিয়ে বসেই ছিল। টুক করে ছুড়ে দেয়, তাহলে কলি কী রঙের ড্রেস পরেছিল এত ডিটেলে বললেন কী করে? বেরোবার সময়টাই বা জানলেন কীভাবে? আচমকা হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে ভাবতে পারেনি ভূপেন। তুতলিয়ে উঠল সে। কথা হাতড়ে বলল, মেয়েটাকে খোঁজার সময় আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখনই বলেছে। দাদার সঙ্গে আমিই তো থানায় গেছিলাম। অকাট্য যুক্তি। তাহলে ঘাবড়ে গিয়ে তোতলাল কেন? এই নিয়ে আর কিছু বলল না স্বয়ম্ভু।

ঘরে বসেই ভূপেন হাঁক দিল, ভগবাআআআআন, ভগবাআআআন!

2 Comments

অধীশা সরকারের লেখা বিদ্যুৎলতা বটব্যাল সিরিজের তিনটি বই আত্মপ্রকাশ, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ দেওয়ার অনুরোধ রইল

Please upload 3 parts of বিদ্যুৎলতা বটব্যাল written by অধীশা সরকার

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *