শ্রীময়ী মা – নবকুমার বসু
প্রথম সংস্করণ: এপ্রিল ২০০৯
প্রচ্ছদ: সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়
.
আমার পরমাত্মীয়া শ্রীমতী চারুশীলা দেবী
ও তস্য কন্যা আমার সহধর্মিণী
শ্ৰীমতী রাখী বসু-র করকমলে—
নিবেদন
শ্রীমা সারদাদেবী আমার আজীবনের বিস্মিত শ্রদ্ধা ও ভালবাসার নারী। কোনও দার্শনিক চেতনা, আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি অথবা দেবীত্ব আরোপ করে তাঁর মূল্যায়নের পরিবর্তে, বরাবর তাঁর নিপাট আটপৌরে সহজ অথচ তীব্র নীরব প্রতিবাদী মানুষি জীবনযাপনই, আমার মাথাটিকে তাঁর শ্রীচরণের দিকে টেনে রেখেছে। কী অচিন প্রাণশক্তিতে, প্রীতি-মমতা-ক্ষমা-উদারতা-ভালবাসায়, সহ্যে, নিজের সঙ্গে সঙ্গে একটি পরাধীন জাতিকেও তিনি নিঃশব্দ আন্দোলনে সামিল করেছিলেন, এই ভাবনা ও বোধ আমার চিরবিস্ময় উদ্রেক করেছে। চাহিদাহীন নিরাড়ম্বর জীবনযাপনে, খুব ছোট ছোট কথায় শ্রীমা মানুষকে বড় বড় বাধার প্রাচীর অতিক্রম করার দিশা দেখিয়েছিলেন।।
তাঁকে নিয়ে আমার নিজের মতো করে রচনার আগ্রহ ছিল আকৈশোর। কিন্তু সেটা যে উপন্যাস লেখার দুঃসাহসে পর্যবসিত হবে প্রথমে ভাবিনি। তাঁর মনুষ্যজীবন অবলম্বন করে উপন্যাস রচনার ঝুঁকি সম্পর্কে আমি সচেতন ছিলাম, কিন্তু ভাবনাটা ছাড়িনি। অতঃপর শুরু করে প্রতিনিয়ত অনুভব করেছি, মায়ের আশীর্বাদ স্নিগ্ধ করুণাধারার মতো আমায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। অনেক ঘোরাঘুরি, শ্রম, তথ্য সংগ্রহের টানাপোড়েন সত্ত্বেও যে নিবিড় আনন্দে ভেসেছি, ভিজেছি, তার কোনও তুলনা নেই।
রচনার শুরুতেই ভেবেছিলাম শ্রীমায়ের জীবনে মূলত দুটি পর্ব। প্রথম, সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে শ্রীরামকৃষ্ণদেব-এর সঙ্গে তাঁর অলৌকিক বিবাহ থেকে ঠাকুরের প্রয়াণ; দ্বিতীয়, বৈধব্যের সূচনা থেকে নির্বাণ পর্যন্ত তাঁর একক জীবদ্দশা। প্রথমপর্ব নিয়ে উপন্যাস ‘লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’ আগেই প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয়পর্ব ‘কেউ পর নয়’ ধীরে সুস্থে সমাপ্ত করেছি আরও পরে। দুটি উপন্যাসই যেহেতু শ্রীমায়ের একটি অনিঃশেষ জীবন অবলম্বন করে, সেইহেতু ‘শ্রীময়ী মা’ এই নামের একটি গ্রন্থে উভয়ের ঠাঁই হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই সুচিন্তিত শোভন যুগ্ম প্রকাশনার পরিকল্পনা ও আয়োজন করে আনন্দ পাবলিশার্স আমায় কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন।
নবকুমার বসু
.
গ্রন্থতালিকা
প্রয়োজনবোধে যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি:
শ্রীশ্রীমায়ের কথা (অখণ্ড)— উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা।
চিরন্তনী সারদা— স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ।
শ্রীমা সারদা-প্রসঙ্গ— ড. সচ্চিদানন্দ ধর।
সারদা দেবী: আত্মকথা সংকলন— অভয়া দাশগুপ্ত।
শ্রীরামকৃষ্ণ-বিভাসিতা মা সারদা— স্বামী বুধানন্দ।
দক্ষিণেশ্বরে মা সারদা— শ্ৰীপ্রণবেশ চক্রবর্তী।
শতরূপে সারদা— সম্পাদক স্বামী লোকেশ্বরানন্দ।
মাতৃতীর্থ পরিক্রমা— নির্মলকুমার রায়।
কলকাতা: এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস— শ্ৰীঅতুল সুর।
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত— শ্রী ‘ম’।
শ্রীশ্রীমায়ের স্মৃতিকথা— স্বামী সারদেশানন্দ।
করুণারূপিণী জননী শ্রীসারদাদেবী— স্বামী ধর্মদানন্দ।
শ্রীশ্রীসারদা মহিমা— স্বামী প্রভানন্দ।
ধন্য বাগবাজার— সম্পাদক স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ।
পরমপদকমলে— সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়।
কলিকাতার পুরাতন কাহিনী ও প্রথা— মহেন্দ্রনাথ দত্ত।
রানি রাসমণির জীবনবৃত্তান্ত— নির্মলকুমার রায়।
রামকৃষ্ণ মঠের আদিকথা— স্বামী প্রভানন্দ।
Holy Kamarpukur— Swami Tejasananda.
The Story of Sister Nivedita— Pravrajika Atmaprana.
On the Bengal Renaissance— Susobhan Sarkar.
Hinduism—Swami Vivekananda.
কালের যাত্রার ধ্বনি—হীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
মমতাপ্রতিমা সারদা— স্বামী আত্মস্থানন্দ।
শ্রীশ্রীমা ও জয়রামবাটি— স্বামী পরমেশ্বরানন্দ।
শ্রীশ্রীমা ও ডাকাতবাবা— তড়িৎকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
যুগজননী সারদা— সম্পাদক, স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ।
ভারতের প্রাগিতিহাস— দিলীপকুমার চক্রবর্তী।
সারদামণি— পরিব্রাজিকা বেদহৃদয়া।
সবার মা সারদা— স্বামী প্রভানন্দ।
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ (দুই খণ্ড) — স্বামী সারদানন্দ।
শ্রীশ্রীমা ও সপ্তসাধিকা— স্বামী তেজসানন্দ।
মায়ের মহিমায় উদ্ভাসিত দক্ষিণাপথ— স্বামী প্রভানন্দ।
স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি— ভগিনী নিবেদিতা।
সেই সময়— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত মহানির্দেশিকা— ড. জলধিকুমার সরকার।
নিবেদিতা লোকমাতা— শঙ্করীপ্রসাদ বসু (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।
শ্রীমা সারদা দেবী— স্বামী গম্ভীরানন্দ।
স্বামী বিবেকানন্দ— স্বামী বিশ্বায়ানন্দ।
গিরিশচন্দ্র— শেখর সমাদ্দার।
প্রকৃতিং পরমাং— স্বামী অপুজানন্দ।
শিবের শক্তি জীবের জননী— সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়।
শ্রীমা সারদাদেবী— আলোকচিত্রে জীবনকথা (বাংলা সংস্করণ)।
বিবেকানন্দ— ভাস্কর চক্রবর্তী।
ভগিনী নিবেদিতা— স্বামী তেজসানন্দ।
মাতৃদর্শন— সংকলক, স্বামী চেতনানন্দ।
জননী সারদাদেবী— স্বামী অপূর্বানন্দ।
কলিকাতা দর্পণ— রাধারমণ মিত্র।
সংক্ষিপ্ত এই তালিকাটি ছাড়াও আরও বিভিন্ন বই, পত্রিকা থেকে নানান সময়ে শ্রীমা-র জীবনের ছোটখাটো ঘটনা, তথ্য ডায়রিতে লিখে রেখেছিলাম। ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েনের সেই তালিকা দিতে না পারার জন্য দুঃখিত। অনেক পরিচিত-অপরিচিত, বন্ধু, আত্মীয় কখনও পরামর্শ কখনও বই অথবা মতামত জানিয়ে এই গ্রন্থ রচনায় সাহায্য করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।
নবকুমার বসু


Leave a Reply