১৩. প্রত্যেকের হাতে একখানা বই

১৪. ভবিষ্যৎকে পাল্টিয়ে দেয়া

তোমরা যতই বড়ো হবে ততই তোমাদের সামনে
অনেক চ্যালেঞ্জ ও সযোগ আসবে যার দ্বারা তোমরা অনেক
মানবিক সমস্যার সমাধান করবে।

.

আমি দেখতে পাচ্ছি, আমার তরুণ বন্ধুদের কয়েকজন মহাশূন্যচারী হবে। তাদের মধ্যে কেউ প্রথম মঙ্গল গ্রহে পা রাখবে। এমনকি শনি গ্রহের উপগ্রহ টাইটানেও প্রথম পা রাখতে পারে। তোমরা হতে পার অন্য গ্রহগুলোতে আমাদের বসবাসের জন্য প্রথম মানুষ। তোমাদের কেউ হয়তো গ্রহের বাইরে প্রথম বসবাসযোগ্য জোন সৃষ্টি করতে পারো। বন্ধুরা, অসাধারণ জেনেটিক বিজ্ঞানীরা রোগব্যাধি নিরাময় করতে পারবেন, যার ফল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলবে। এমনকি তোমাদের কেউ কেউ পৃথিবীর সমস্ত ধরনের রোগব্যাধি থেকে কেমন করে মানুষকে নিরাপদ করবে তার সমাধানও দিতে পার। এখানে আমার আলোচনার বিষয় হবে ভবিষ্যতের জন্য মানুষের সভ্যতার রূপান্তরকারীদের সম্বন্ধে।

ভবিষ্যতের জন্য বৈজ্ঞানিক চ্যালেজ্ঞ সম্বন্ধে তোমরা শুনেছ, তোমরা আলোচনা করবে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তোমাদের স্বপ্নাবলি নিয়ে। পরিষ্কার একটি বার্তা মনে রাখবে যে আমাদের সর্বাধিক অগ্রাধিকার হচ্ছে কীভাবে মানুষদের জীবন ও পৃথিবীর উন্নতি সাধনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে।

পুনরায় আমার মনে পড়ে, আমি ২০১৪ এ যখন চীনের রাজধানী বেজিং এ ছিলাম তখন এপেক (এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন) শীর্ষ সম্মেলন – ২০১৪ এর জন্য বিশ্ব নেতাদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য নগরী প্রস্তুত হচ্ছিল। বেজিং এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। আমার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের যে মতবিনিময় হয়, তা ছিল চিত্তাকর্ষক তথ্যপূর্ণ নগরীর দূষণের লেভেল খুবই বেশি থাকায় রাস্তায় অর্ধেক কার চলাচলের অনুমতি দিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

অবশ্যই, চীনা সরকার সহজভাবেই এই আদেশ দিয়েছিল, যা আমাদের দেশের মতো গণতান্ত্রিক দেশে করা কষ্টকর ছিল। আমি উল্লেখ করতে চাই, ওখানকার দূষণ ঘটে ফসিল ফুয়েল ব্যবহারকারী বিভিন্ন ধরনের মোটরযানের কারণে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ইন্ডিয়াতে শুধুমাত্র ইলেক্ট্রিক কার বা সম্পূর্ণরূপে ইলেক্ট্রিক পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ক্লিনার ফুয়েল ব্যবহারে উদ্যোগী হয়ে।

প্রত্যেক বছর ফ্যাক্টোরিগুলো ধোঁয়া ও ভস্ম ত্যাগ করে। গাড়িগুলো ফুয়েল পোড়ায় এবং অন্যান্য মানুষের কার্যকলাপ ৩০ বিলিয়ন টনের অধিক কার্বনডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে থাকে। তা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঘটায়, সমুদ্রের পানির স্তর স্ফীত হয়ে ওঠে এবং মেরুপ্রদেশে বরফ গলতে শুরু করেছে তা সবাই জানেন। তরুণদের এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

২০৫০ এর মধ্যে একটি সমৃদ্ধিশালী ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়তে মানব সভ্যতার জন্য আমার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে :

১. প্রত্যেক নাগরিকের ভোগ, সেনিটেশন ও সেচের অধিকার দিতে হবে।

২. কৃষি জমিন অবিরত নবায়ন ও সমৃদ্ধ করতে হবে।

৩. সারা পৃথিবীতে প্রচুর শক্তির অধিকার দিতে হবে ও সেই শক্তি আসবে গ্রীন উৎস থেকে।

৪. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে ও মানুষের উদ্যমকে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সামর্থ্য দান করতে হবে।

৫. শিক্ষা হতে হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক।

৬. স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেকের চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে। সমাজ হবে রোগব্যাধি মুক্ত এবং মানুষকে দীর্ঘজীবী করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

৭. প্রত্যেক গ্লোবাল নাগরিকের জীবনকে কমপক্ষে গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ার গ্যারান্টি দিতে হবে।

৮. গ্লোবাল গ্রীন হাউস গ্যাসের ভারসাম্য অর্জন করতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দূরীভূত করতে হবে।

৯. পৃথিবীকে মানুষের বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। বহুমাত্রিক গ্লোবাল নেতাদের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি রূপকল্প থাকতে হবে।

হিসাব মতে, ২০৫০ এ ভারতের লোক সংখ্যা হবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ। তাই, মানব সভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য আমাদের ওই রূপকল্প সফল করতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।

বন্ধুগণ, তোমরা বেড়ে উঠছ, তোমাদেরকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। তোমাদেরকে সমস্যাবলি সমাধানের সুযোগও গ্রহণ করতে হবে। মহাকাশ বা সমুদ্রতলদেশে নতুন নতুন জগৎ আবিষ্কার করতে হবে। তোমাদেরকে ফসিল ফুয়েল ব্যবহারের পরিবর্তে সূর্য, বাতাস ইত্যাদি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।

আজকের দিনে আমরা নীচের বড়োসড়ো অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি।

১. জমির পরিমাণের সম্ভাব্যতা ১৭০ থেকে ১০০ হেক্টরে নেমে এলেও কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ মিলিয়ন টন থেকে ৩৪০ মিলিয়ন হয়েছে। পানির প্রাপ্যতা হ্রাস এবং কৃষি খামারে কাজ করা লোকের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

২. পরিচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডলের জন্য ফসিল ফুয়েলের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।

৩. মানুষের শরীরের অনুসন্ধান, বিশেষ করে প্রোটিওমিকস প্রোজেক্টের মাধ্যমে বংশগত বিশ্লেষণ করে বংশতালিকা ভিত্তিক ড্রাগসের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

৪. সঠিক আবহাওয়া ও ভূমিকম্পের পূর্বাভাষ পেতে হবে।

৫. যোগাযোগের প্রয়োজনে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যান্ডওইথ মোবাইল ওয়ারলেস মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনের বিবর্তন ঘটাতে হবে।

৬. ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরির বিবর্তন ঘটাতে হবে। তার ফলে জানা সম্ভব হবে পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল ও মানুষ কীভাবে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিল।

৭. পৃথিবীর বাইরে বসতি গড়ার জন্য বিবর্তন ঘটাতে হবে। পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে হবে হিলিয়াম-৩ এর মতো নতুন বস্তুকে। বিকল্প বসতিও সৃষ্টি করতে হবে এবং সৌরশক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

(২০১৫ এর ৪ জানুয়ারি ১০২ ন্যাশনাল চিল্ড্রেন’স সায়েন্স কংগ্রেস, মুম্বাই এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ থেকে। )

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *