কাঙালসংঘ – ওবায়েদ হক
উৎসর্গ
পৃথিবীর অধিকাংশ কাঙাল বড় বড় অট্টালিকায় থাকে।
তাদের অভাব অন্তহীন, পুরো পৃথিবী গিলে ফেললেও তাদের পেট ভরবে না।
আর কিছু কাঙাল থাকে রাস্তায়, তাদের পেট ছোটো, পাঁচ টাকার একটা
রুটিতেই তাদের পেট ভরে যায়। পেটে ভাত তারা জুটিয়ে নেয় কিন্তু মাথায়
হাত তারা পায় না। পৃথিবীর সবাই কাঙাল, কেউ ক্ষমতার, কেউ মমতার
জগতের সকল কাঙালদের প্রতি উৎসর্গ করলাম।
.
ফ্ল্যাপের লেখা
নগরের প্রধান রাস্তায় একটা চড়ুই বিভ্রান্ত হয়ে উড়াউড়ি করছে। মানুষ আর যন্ত্রের চিৎকারে চড়ুইয়ের ডাক হারিয়ে যেতো এই শহরে। আজ নিজের ডাকের প্রতিধ্বনি শুনে চড়ুইটি বিস্মিত হয়। কালো, শান্ত পিচের উপর দুটো ভাত শালিক অবাক হয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। কোলাহল যার ধর্ম সে শহর হঠাৎ এমন নীরব হয়ে গেল কেন?
রাস্তার পাশে ধুলোয় আচ্ছাদিত, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত গাছগুলোর মুখে অনেকদিন পর হাসি দেখা যাচ্ছে। দুই একটা অতি আশাবাদী ফুল পাপড়ি মেলে ভ্রমরের প্রতীক্ষা করছে।
ফুটপাত খালি বুকে নিঃশ্বাস নিচ্ছে প্রাণভরে। অলস রাস্তায় দুই একটা খালি রিকশা প্রজাপতির মতো নিঃশব্দে ঘুরাঘুরি করে যাত্রী খুঁজছে। চায়ের দোকানের খালি বেঞ্চগুলো হা হুতাশ করছে। পার্কে মেদবহুল শরীরগুলো আজ দৌড়াতে আসেনি, সুগারের লাগাম ধরার জন্য হাঁটছে না কোনো ডায়বেটিস রোগী। প্রেমিক প্রেমিকারা আজ কি প্রেম ভুলে গেল? গাঢ় ঝোপের পাশে, বৃক্ষচ্ছায়ায় কিংবা রেস্টুরেন্টের আঁধারে তাদের আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্কুলের বন্ধ গেইটের সামনে অপেক্ষারত একজন মা-ও নেই। বড়ো কর্তা, ছোটো কর্তা সব কর্তার অফিস আজ খা খা করছে।
নেতার ড্রয়িংরুমে তেলতেলে চেহারাগুলোর হাত কচলাকচলি নেই আজ। মহাজনেরা কপাট বন্ধ করে কোথায় যে চলে গেছে! ক্রেতা বিক্রেতা শূন্য বাজারগুলোতে কুকুরের দল অবাধে ঘুরে বেড়ায়।
ট্রেন থেকে নেমে হট্টগোল না দেখে আগন্তুকদের ভ্রু কুঁচকে যায়। স্টেশন থেকে বের হয়ে তারা অবাক হতে থাকে, কোনো হাকডাক, হইচই নেই কোথাও। ব্যস্ত নগরীর স্থবিরতা দেখে তাদের অপরিচিত লাগে এই শহর। কেউ কেউ ফিরে তাকিয়ে স্টেশনের নাম পড়ে নিশ্চিত হয়। ক্যালেন্ডার দেখে দিন তারিখ হিসাব করে বিস্ময়াভিভূত হয়। ছুটি নেই, হরতাল নেই, দুর্যোগ নেই, তাহলে হঠাৎ এই শহরের লোকজন সব কোথায় গেল? এত জ্বলজ্যান্ত একটা শহর আচমকা কীভাবে মরে গেল?





Leave a Reply