॥ ১২ ॥
গতরাতে তিনটি বিভ্রান্ত প্রাণী বিনিদ্র রাত কাটায়। গুরুজির ঘর থেকে বেরিয়ে তারা মোহনদিঘীর পাড়ে এসে চুপচাপ বসে থাকে। গুরুজি কেন এমন করলো, টগরের কী হবে, এইসব প্রশ্নের জবাব তারা খুঁজে বের করতে না পেরে অবশেষে নিশ্চুপ হয়। দিঘির জলে প্রতিফলিত চাঁদ দেখে তারা আপ্লুত হয় না, জোছনায় তাদের গা ভাসে, তবুও তাদের প্রশান্তি হয় না। তাদের নীরবতা সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সূর্যের প্রথম কিরণ যখন তাদের মুখে পড়ে তাদের চোখগুলো জ্বলে ওঠে লজ্জায় এবং যন্ত্রণায় আবৃত হয় তারা, দিনের আলোতে একজন আরেকজনের মুখে চোখ রাখতে পারে না। এমনকি নিজের ছায়া দেখতেও গ্লানি বোধ করে। এই বেদনা থেকে মুক্তির উপায় না পেয়ে তারা বিচ্ছিন্ন হয়, বকুল চলে যায় সিনেমা হলের সামনের মন্দ দেয়ালে, সেখানে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে সে। ষষ্ঠীচরণ বাড়ি ফেরার বাসে ওঠে, যে চোখ দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিবে ভেবেছিল, সেই চোখে জল গড়িয়ে পড়ে অনবরত। ভেবেছিল মেয়ের জন্য কত উপহার নিয়ে যাবে, তীব্র অপরাধবোধ ছাড়া কিছুই নিয়ে যেতে পারছে না সে। মনা পার্কের জারুল তলায় এসে বেঞ্চটাতে বসে থাকে। সকাল এগারোটায় ময়লা থেকে কুড়িয়ে টাকা আনার কথা তারা সবাই ভুলে যায়, দুপুরের সময়টাতে ময়লার ভাগাড়টা ফাঁকা থাকে, বিকাল হলেই টোকাইরা এসে উচ্ছিষ্ট ঘাটবে।
নিজাম হায়দার তার গাড়িতে বসে আছে, গাড়ি ঢিমে তালে চলছে। টগর গাড়িতে যে পাশে বসে সে পাশটা খালিই আছে। মাথায় অজস্র দুশ্চিন্তা আর চেহারায় পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে চুপচাপ বসে আছে সে। তাকে কোনো কিছুই আর কখনো এভাবে পর্যুদস্ত করতে পারেনি। তারা বলেছিল একটা হলুদ পলিথিনে টাকা ভর্তি করে ফেলে আসতে, কিন্তু নিজাম হায়দারের মনে হয়েছে, একটা পলিথিন ভর্তি টাকায় যদি তারা তুষ্ট না হয়? নিজের ছেলের মূল্য সে নির্ধারণ করতে পারেনি, সে অপহরণকারীদের সন্তুষ্টি মেপেছে। তাই সে বেশ কয়েকটি পলিথিন ভরে টাকা ফেলে এসেছে ময়লার ভাগাড়ে। তবুও সে বিপন্ন বোধ করে।
ড্রাইভার জসিমও আয়নায় তার মনিবের বিপন্ন মুখটা দেখে। সে নিজেও গম্ভীর হয়ে আছে, আফসোসের মেঘে ঢাকা তার চেহারা। এতগুলো টাকা, সে নিজ হাতে ময়লায় ফেলেছে, দুই হাতের রগ ফুলে গেছে এগুলো ভাগাড় পর্যন্ত নিয়ে যেতে। নিজাম হায়দারের চেয়ে তার কষ্ট বেশি হয়। মনে মনে সে আফসোস করে, আগে জানলে অপহরণটা সে নিজেই করতো।
নিজাম হায়দারের গাড়ি শহরের বুকে এলোমেলো ঘুরে বেড়ায়। নিজাম ঠিক করেছে সারাজীবন রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে কিন্তু ছেলেকে না নিয়ে সে ঘরে ফিরবে না। গাড়ির পেছনের সিটে বসে সে চোখ পেতে রাখে রাস্তায়, রাস্তার টোকাইদের মধ্যে নিজের ছেলেকে খুঁজে বেড়ায়। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, প্রতিটা টোকাইয়ের সাথে সে টগরের সাদৃশ্য পায়। মাঝে মাঝেই ছেলের নাম ধরে ডাকে, কেউ সাড়া দেয় না। যে ডাকে কেউ সাড়া দেয় না, সে ডাক আর্তনাদের মতোই শোনায়।
নিজাম হায়দারের উদভ্রান্ত গাড়িটি রেল গেইটে এসে থামে। গাড়ির সাথে সাথে নিজাম হায়দারও কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। চোখ তার তবুও শান্ত হয় না, বেদনায়, হতাশায় সজল হয় কিছুটা। আর্দ্র চোখে সে দৃষ্টি পেতে রাখে রাস্তায়, রাস্তার মানুষে। হঠাৎ তার দৃষ্টি কাড়ে একটা লাল বেলুন। নীল আকাশের দিকে যাত্রা করেছে নিঃসঙ্গ বেলুনটি। নিজাম হায়দারের মন চঞ্চল হয়, বেলুন উড়ানোর শখ আছে টগরের। ড্রাইভার জসিমকে দ্রুত রেল স্টেশনের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেয় নিজাম হায়দার।
স্টেশনে ঢুকতেই জটলা দেখা যায় একটা, পতঙ্গ যেমন আগুনের দিকে আকৃষ্ট হয়, ড্রাইভার জসিমও মানুষের বৃত্তে গিয়ে ঢোকে। জনতার আক্রোশের কারণ সে জানে না, তবুও গিয়ে গণপিটুনিতে শামিল হয়।
নিজাম হায়দার জানে টগর ভীড় পছন্দ করে না, সে তাই নীরব জায়গাগুলোতে খুঁজতে থাকে। স্টেশন একটা অংশে সব মানুষ জমেছে, তাই বাকি স্টেশন পুরোটাই প্রায় ফাঁকা। নিজাম ব্যাকুল হয়ে তার ছেলেকে খুঁজতে থাকে। পুরাতন স্টেশনে প্রবেশ করতেই সে দেখে, দূরে প্ল্যাটফর্মের ছায়া পেরিয়ে রোদের মধ্যে একটা অর্ধনগ্ন ছেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রথম যেদিন একটা সাদা তোয়ালেতে জড়িয়ে ছেলেকে কোলে তুলে দিয়েছিল একজন নার্স, সেদিনের কথা মনে পড়ে তার। সেদিনও এমন নগ্ন ছিল তার ছেলে। আরেকবার বাবা হওয়ার অনুভূতি হয় তার।
নিজাম হায়দার অশ্রুসিক্ত দুই চোখে ছেলেকে দেখতে থাকে, তার দেখা শেষ হয় না। টগর গাড়িতে তার নির্দিষ্ট সিটে বসে, নিজাম হায়দার তাকে অনেক প্রশ্ন করে, মূলত অপহরণকারীদের তথ্য নেয়ার জন্য, টগর সেসবের উত্তর দেয় না। তাকে চুপ থাকতে দেখে নিজাম আর কিছু জিজ্ঞাসা করে না। একটু পরে টগর নিজেই বলে,
বাবা আমার নাম রেখেছে টগর।
নিজাম হায়দার বুঝতে পারে না, ছেলে হঠাৎ করে এমন কথা কেন বলে? তার নাম যে তার মা রেখেছে, এটা তো সত্য এবং এটা বলতেও সে আনন্দ পায়, এখন কেন সে এমন ভুল কথা বলছে। ছেলের প্রত্যাবর্তনের আনন্দে সে এই নিয়ে বেশি ভাবে না, বলুক তার যা খুশি। টগর বারবার বলতে থাকে, বাবা আমার নাম রেখেছে। যে লোকটি অদ্ভুতভাবে কাতরাতে কাতরাতে এই কথাটি তাকে বলছে, তাকে টগর বিশ্বাস করেছে। জীবনের বাকি দিনগুলো সে এই সত্যটি ভুলবে না।
ছেলেকে নিরাপদে বাড়িতে আনার পর নিজাম হায়দারের স্বস্তি ছাপিয়ে প্রতিহিংসা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সে মনে মনে এবং শব্দ করে বলে, যারা আমার কইলজাত হাত দিছে তাগো আমি দেইখ্যা নিমু। তার মুখের রেখাগুলো গভীর হয়, চোখে দেখা যায় অনন্ত ক্রোধ। টেলিফোন হাতে নিয়ে সে এসপি সাহেবের নম্বরটা ডায়াল করে।
সেদিন সন্ধ্যা থেকে রাত অব্দি পুরো শহর দাবড়িয়ে বেড়ায় পুলিশ। বস্তি থেকে, পুরাতন স্টেশন থেকে, ব্রীজের নিচ থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ করে, এবং সন্দেহজনক আঁধারের জীবগুলোকে আটক করে। মোট বত্রিশ জনকে তারা হাজতে পুরে রাখে। এই বত্রিশ জনের প্রায় সবারই পূর্বে হাজতবাসের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের মুখে তেমন বিচলতা নেই। তারা জানে এরপর কী হবে। শুধু একজনের কাছে সবকিছু নতুন এবং বীভৎস লাগে। হাজতে মলমূত্রের গন্ধে তার বমি পায়। তাকে দেখে বাকি সবাই হাসে, এবং একজন আরেকজনকে বলে, নতুন মাল। মনা হচ্ছে এই হাজতের একমাত্র অনভিজ্ঞ সদস্য।
হাজতে লোকগুলো বিড়ি সিগারেট ছাড়া থাকতে পারে না, এতজন মানুষের উষ্ণতায়, তাদের ঘাম, বিড়ি এবং মলমূত্রের গন্ধে টিকতে না পেরে মনা বমি করে দেয়। এবং যে উৎকট গন্ধটা হাজতে কুয়াশার মতো ছড়িয়ে আছে, তাতে নতুন উপাদান যুক্ত হয়। পরদিন সকালে একসাথে আটজনকে বের করে নিয়ে যাওয়া হলো, তারা আর ফিরে এলো না। তারপরে আরো আটজন গেল, তারাও ফিরে আসলো না। পরের আটজনের মধ্যে মনাকেও নিয়ে গেল।
আটজনকে ওসি সাহেবের ঘরে ঢুকিয়ে তাদের সরল রেখায় দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো, একটা টেবিলে ওসি সাহেব বসে আছে, তার সামনের চেয়ারে বসে আছে নিজাম হায়দার এবং তার ছেলে টগর। টগরকে দেখে মনার আধমরা ক্লান্ত শরীরেও স্বস্তি ফিরে এলো, একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে বুকটা হালকা হয়ে গেল। যে শঙ্কাটা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল, তা থেকে মুক্তি পেলো সে। ওসির ঘরে আসন্ন বিপর্যয়ের মুখেও তার মনে প্রশান্তি ফিরে এলো। ওসি সাহেব আটজনকে দেখিয়ে টগরকে বললেন, এদের মধ্যে কেউ ছিল? টগর মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারে না, কয়েকজনের মধ্যে একজনকে বাছাই করা তার জন্য অসম্ভব। কিন্তু সে দাগ চিনে, মনার কপালে যে দাগ একদিন তার মা তাকে কুনজর থেকে রক্ষা করার জন্য দিয়েছিল, সেই দাগটাই টগরের মনে ছিল। সে আঙ্গুল দিয়ে মনার দিকে দেখিয়ে দিয়েছিল। মনার মুখে তখনো প্রশান্তিময় হাসিটা লেগে ছিল। ওসি সাহেবের ঘরে চাঞ্চল্য হয়, একজনকে পাওয়া গেছে দেখে উদ্বেলিত হয় সবাই। মনার সরল, ভদ্র চেহারা এবং মুখের মৃদু হাসিটি দেখে নিজাম হায়দার বিভ্রান্ত হয়, মনার চেহারায় অনুশোচনার কোনো রেখা আবিষ্কার করতে না পেরে তার ক্রোধ উন্মত্ত হয়। মনা জানতে পারে, গুরুজি এবং জলিল মারা যাওয়ায় সে আসামি তালিকার এক নম্বর স্থানটি দখল করেছে। ড্রাইভার জসিম মিথ্যা বলে নিজের চরিত্র রক্ষা করেছে, ফলে নারী সংশ্লিষ্টতা কেউ জানতেও পারেনি।
মনা মোহনদিঘীর পাড়ে যে মৌনতা ধারণ করেছিল, পুলিশের লাঠিও তার সে মৌনতা ভাঙ্গতে পারেনি। অতঃপর ক্লান্ত হয়ে গভীর রাতে মনার আহত দেহটিকে তারা একটি গাড়িতে তুলে। আধবোজা চোখে মনা দেখতে পায়, শহরটাকে পেছনে ফেলে গাড়িটি ছুটতে থাকে। মনার পাশে যে হাবিলদার বসে ছিল, সে তাকে আলতো করে ধরে রাখে। ঘাড় নামিয়ে কালো পিচের উপর বিছানো জোছনা দেখে মনা, হাবিলদারটি তাকে একপাশে বসিয়ে ভালো করে দেখার সুযোগ করে দেয়, হাতে একটা পানির বোতল ধরিয়ে দিয়ে, নরম সুরে বলে, পিপাসা লাগলে খাও। পুলিশের এমন সৌজন্যে মনা বিস্মিত না হয়ে পারে না।
তারপর তারা এক বিস্তীর্ণ মাঠের পাশে দাঁড়ায়, কাছেই কোথাও নদী আছে, জলের ছলছল শব্দ শোনা যায়। জোছনাকে দূষিত করার মতো কোনো বিদ্যুতের আলো নেই এখানে, শীতল মৃদু বাতাস বইছে, বড়ো বড়ো ঘাসের ডগায় সমুদ্রের ঢেউ। মনাকে সেই সমুদ্রে নামিয়ে দেয়া হলো, মনা দাঁড়িয়ে দুই চোখ ভরে এই অপার্থিব দৃশ্য দেখতে লাগলো। কোথায় যেন কামিনী ফুটেছে, বাতাস সে সুবাস মাঠে এনে ছড়িয়ে
দিয়েছে। মনা শুনতে পেলো, বাতাসের হুহু করা উদাস গান, ঝিঁঝিঁদের সমবেত ডাকাডাকি, সঙ্গিনীর প্রতি ব্যাঙের অক্লান্ত আহবান। রাতের এইসব সঙ্গীতের মাঝে হঠাৎ নদীর পাড়ে, ঘাসের বনে দুটি প্রচণ্ড শব্দ হয়, কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ করে দেয় রাতকে। তারপর আবার শোনা যায় নিশীর মোহনীয় কোলাহল, শুধু কামিনী ফুলের সুবাসের সাথে মিশে থাকে বারুদের গন্ধ।
পরের দিন পত্রিকার ভিতরের দিকে সাদাকালো পৃষ্ঠায় চিকন কলামে একটা খবর বের হয়, ‘বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মনা নিহত’। পত্রিকার একটা কলামের একটু জায়গা নষ্ট হওয়া ছাড়া আর কারোরই কিছু হয় না এই খবরে। শুধু গভীর রাতে শহরের বস্তির মধ্য থেকে শোক সঙ্গীতের মতো করুণ কান্না শোনা যায়। সেই কান্নায় কারো নিদ্রাভঙ্গ হলে, তারা অবাক হয়ে ভাবে, কে এমন কাঁদে, কার জন্য কাঁদে? যাদের মন পাথর হয়ে গেছে, যারা খুব ঘুম কাতুরে তারা বলে, আরে কেউ কান্দে না, বিলাই কাইজ্জা করে।
এই বাংলাদেশের ভিন্ন কোনো এক শহরে ছিন্ন পোশাকে ধুলোয় মাখামাখি এক নারী শুয়ে থাকে ফুটপাতে। সে তার নাম বলতে পারে না, ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে, তার দেহ ভর্তি রোগ আর পেট ভর্তি ক্ষুধা। তবুও তার মুখে লেগে থাকে প্রচ্ছন্ন হাসি। সব স্মৃতি হারিয়ে গেলেও একটা নাম সে ভুলে না। মনে মনে সে একটা ভাবনাই ভাবে, আমার মনা ভালা আছে। ভাবতে ভাবতেই শহরের জঞ্জালের মধ্যে সে প্রশান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে যায় ৷
কয়েকদিন পর শহরে একটা খবর রটে যায়, ময়লার ভাগাড়ে নাকি টাকার খনি আছে, কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। তখন দেখা যায় শহরের দালান কোঠা ছেড়ে, রাস্তাঘাট ফাঁকা করে দিয়ে, পুরো শহরকে নির্জনতায় ডুবিয়ে, দলে দলে মানুষজন নেমে আসে ময়লার বড়ো স্তুপে। টোকাইরা অবাক হয়ে দেখে, যারা এতদিন তাদের দেখে নাকে কাপড় গুঁজতো, তারাও আজ তাদের সাথে ময়লা ঘাটছে। সব খেয়ে তারা এখন টোকাইদের উচ্ছিষ্টেও ভাগ বসাতে এসেছে, তখন টোকাইদের উপলব্ধি হয়, এই লোকগুলো তাদের চেয়েও বেশি কাঙাল। ময়লার ভাগাড়ে শত শত মানুষ নোংরা কীটের মতো কিলবিল করতে থাকে। ময়লা খুঁচিয়ে সেদিন পলিথিনে মোড়া নয়টি নবজাতকের লাশ আবিষ্কার করে তারা। তারপরও দমে না, টাকার সন্ধানে ময়লা খুড়তেই থাকে তারা। সেদিন শহরব্যাপী পচে যাওয়া মানুষের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
***
