ইনজুরি টাইম – দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায়
ইনজুরি টাইম – দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায়
Injury Time – Debanjan Mukhopadhyay
Thriller
প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০১৯
.
যারা জীবন বাজি রেখেছিলেন
নাগরিক জীবনকে বিপন্মুক্ত করতে
সেই মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন, হেমন্ত করকরে, বিজয় সালাসকর,
অশোক কামতে, তুকারাম ওম্বলে’দের
.
ভূমিকা
ইনজুরি টাইম! লেখকের জায়গা থেকে সরে এসে পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি দেখার চেষ্টা করি বিষয়টা, তাহলে যে প্রশ্নটা প্রথমেই মনে জাগা উচিত বলে মনে হয়, তা হল, একটি বাংলা ভাষায় লেখা উপন্যাসের ইংরিজি নামকরণ করা হল কেন? তাই গোড়াতেই সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করি।
‘ইনজুরি টাইম’ শব্দবন্ধটি আমরা কোথায় ব্যবহৃত হতে দেখি, সেটা সকলেই জানেন নিশ্চয়? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। এই শব্দবন্ধটি ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’-এর সঙ্গে জড়িত। আলোচ্য উপন্যাসটিতে সেই ফুটবল খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বলা যায় ফুটবল এই উপন্যাসের একটি পার্শ্বচরিত্র।
দ্বিতীয়ত, ইনজুরি টাইম বলতে কী বোঝায়? খেলার নির্ধারিত যে সময়, অর্থাৎ পঁয়তাল্লিশ মিনিট, তার কিছুটা নষ্ট হয় চোট, আঘাতজনিত ঘটনার জন্যে। ফলস্বরূপ কিছুটা অতিরিক্ত সময় খেলা চালিয়ে যান রেফারি নির্ধারিত সময়ের পরেও। এই অতিরিক্ত সময়টিকেই বলা হয় ইনজুরি টাইম। যদিও প্রথম ও দ্বিতীয়, দুই অর্ধেই এই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়, ইনজুরি টাইম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে। দুই দলের মধ্যে লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায় সে সময়। প্রবল সংঘর্ষ দেখা যায় মাঠে। যে দল পিছিয়ে থাকে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে ব্যবধান কমাতে এবং যারা এগিয়ে থাকে তারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলে সেই ব্যবধান বজায় রেখে খেলায় জয়ী হতে চায়।
এই উপন্যাসের শেষ ভাগে অনুরূপ একটি সংঘর্ষ অপেক্ষা করে আছে পাঠকদের জন্যে। শেষ অবধি পিছিয়ে পড়া দল ব্যবধান কমিয়ে একটি বাড়তি গোল করে অপ্রত্যাশিত জয় ছিনিয়ে নিতে পারবে নাকি খেলা অমীমাংসিত থেকে যাবে? নাকি পিছিয়ে পড়া দল শেষে পরাজয় স্বীকার করবে? সে প্রশ্নের উত্তরই দেবে এই উপন্যাস।
তৃতীয়ত, ইনজুরি বলতে আমরা কী বুঝি? শারীরিক চোট বা আঘাত। কিন্তু মানসিক আঘাত? বিশ্বাসে আঘাত, ভরসায় আঘাত? সমাজের বুকে নেমে আসা আঘাত? এগুলো কি ইনজুরি নয়? আমি তো মনে করি হ্যাঁ, এগুলোও ইনজুরি এবং শারীরিক চোটের চেয়েও বেশি এর অভিঘাত। আলোচ্য উপন্যাস সেরকমই একটি সময়ের গল্প বলে, যখন মানুষের বিশ্বাস, ভরসা, ভালোবাসা এবং সর্বোপরি সমাজের উপরে নেমে আসে আঘাত।
তাই, এই তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখে যখন উপন্যাসের নামকরণ করার চেষ্টা করেছিলাম, একদিন হঠাৎই মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছিল সেই শব্দবন্ধ… ইনজুরি টাইম।
ভূমিকাতেই গল্পের প্লট বলে দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়, বিশেষত কাহিনিটি যখন একটি ক্রাইম থ্রিলার। শুধু এটুকু বলব, একটি উপন্যাসকে গ্রন্থে পরিণত হতে গেলে অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে আসতে হয়। প্রতিটি ধাপে ছাপ রেখে যায় কিছু মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমি কৃতজ্ঞ ‘দ্য কাফে টেবল’-এর দুই কর্ণধার, অভিষেক আইচ ও অরিজিৎ ভদ্রের কাছে, যারা এই উপন্যাসকে কেবল আরেকটি লেখা হিসেবে দেখেননি। তাঁরা অসম্ভব যত্ন নিয়ে এর পাণ্ডুলিপি পড়েছেন এবং বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে আমাকে সাহায্য করে গেছেন অনবরত। তাই ফুটবল খেলা যেমন টিম গেম, সেই ফুটবলেরই ছোঁয়ায় বেড়ে ওঠা ইনজুরি টাইমকেও আমি একটি টিমওয়ার্ক বা দলগত প্রয়াসই বলতে চাইব।
ইনজুরি টাইম যে আজ কল্পনা থেকে বাস্তবে পরিনত হতে পেরেছে, তার পিছনে রয়ে গিয়েছে আরো কিছু মানুষের অবদান। যে মানুষটাকে যখনতখন ফোন করে বিরক্ত করেছি, বাড়ি গিয়ে তথ্য চেয়েছি এবং তিনি শত ব্যস্ততার মধ্যেও হাসিমুখে আমার আবদার মিটিয়েছেন, সেই সাংবাদিক দাদা সুরবেক বিশ্বাসের কথা এখানে না বললেই নয়। এরপরেই বলব মালদার প্রান্তিক দে ও কৃষ্ণেন্দু চ্যাটার্জীর কথা। এই দুজনের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ স্রেফ অসম্ভব ছিল। প্রান্তিকদা’র বাইকে চড়ে চষে বেরিয়েছি গোটা মালদা। ঘুরে দেখেছি গাজোল, কালিয়াচকের মতো জায়গা। শত ব্যস্ততা ও উদ্বেগের মধ্যেও সময় বের করে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন কৃষ্ণেন্দুদাও। ধন্যবাদ দিতে চাই ছোট বোন ঈশিতা কর্মকারকেও। এছাড়া পাভেল সেনের কাছেও যে সাহায্য আমি পেয়েছি, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
এই উপন্যাসে বর্ণিত সমস্ত ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক। জীবিত অথবা মৃত কোনো ব্যক্তির বা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে এই কাহিনির কোনো মিল পাওয়া গেলে তা নিতান্তই কাকতালীয়। আরও একটা কথা এখানে জানিয়ে রাখা প্রয়োজন অনিবার্য কারণে এই কাহিনিতে কিছু কাল্পনিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন ‘এনএটিসি’ (ন্যাশনাল অ্যান্টি টেররিস্ট সেল) এবং ‘রেবেটা’।
আর কি! সময় ঘনিয়ে এল! পরীক্ষার খাতা থেকে কলম তুললাম এখানেই। পাশ করলাম না ফেল; খাতা দেখে, থুড়ি বই পড়ে রেজাল্ট আউট করবেন আপনারা। স্কোরবোর্ডে চোখ রাখলাম কিন্তু।


Leave a Reply